সাম্প্রতিক খবর

দ্রুত রূপ বদলাচ্ছে করোনা, দাবি বিজ্ঞানীদের

দ্রুত রূপ বদলাচ্ছে করোনা, দাবি বিজ্ঞানীদের

[caption id="attachment_24539" align="aligncenter" width="411"] This scanning electron microscope image shows SARS-CoV-2 (yellow)—also known as 2019-nCoV, the virus that causes COVID-19—isolated from a patient in the U.S., emerging from the surface of cells (blue/pink) cultured in the lab.
Credit: NIAID-RML[/caption]

করোনা ভাইরাস এমন একটি ভাইরাস যা বারবার রূপ বদলায়।  যুক্তরাষ্ট্রে শুরুতে এই ভাইরাস যেমন ছিল এখন আর তা তেমন নেই। এবার ফিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের এগন অজার স্থানীয় রোগীদের শরীরে সম্পূর্ণ আলাদা এক জিনগত গঠনের করোনাভাইরাস দেখেন। সবাইকে অবাক করে দিচ্ছে এই ভাইরাসের পরিবর্তন। ভাইরাসের পৃষ্ঠে প্রোটিনের বিল্ডিং ব্লক হিসেবে প্রায় ১৩০০ অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। কিন্তু পরিবর্তনের ফল মিউটেন্ট ভাইরাসে অ্যামাইনো অ্যাসিড ৬১৪। অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রকারও ডি থেকে জি হয়ে যেতে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। পরিবর্তনের স্থানও লক্ষ্যনীয়। প্রোটিনের যে পরিবর্তন হচ্ছে সবই স্পাইক প্রোটিনে। স্পাইক প্রোটিনের জন্যই মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে এই নোভেল করোনাভাইরাস। এই জি-অ্যামাইনো অ্যাসাইডের করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জি ভাইরাস আরও বেশি শক্তিশালী ও দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। ভাইরাসটি নিজের প্রতিলিপিকরণের সময় এই মিউটেশন ঘটাচ্ছে। যার দরুন স্পাইক প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা গেলেও এখনও এই জিনগত পরিবর্তন, ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যে কী কী পরিবর্তন আনছে তা বুঝতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভাইরাসের ট্রান্সমিশন বুঝতে পারলে ভাইরাসের সঙ্গে যুঝতে সুবিধা হবে। এমনই মত বিজ্ঞান মহলের। সূত্র: জিনিউজ।

করোনা সংকট উত্তরণে প্রণোদনা চান জনশক্তি ব্যবসায়ীরা

করোনা সংকট উত্তরণে প্রণোদনা চান জনশক্তি ব্যবসায়ীরা

করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনশক্তি রপ্তানি খাত। এ সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে দুই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে জনশক্তি ব্যবসায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। মঙ্গলবার ‘কোভিড-১৯ সৃষ্ট বৈশ্বিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনশক্তি রপ্তানি সেক্টরের উত্তরণের উপায় ও সরকার কর্তৃক প্রণোদনা’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে এসব দাবি জানান জনশক্তি ব্যবসায়ীরা। সেমিনারে বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে জনশক্তি ব্যবসায়ীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে গত এপ্রিল মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। আমরা এ খাতের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দাবি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এ সংকটকাল অতিক্রমে সরকারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। করোনাকাল অতিক্রমের পর যাতে আমরা দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারি সে জন্য আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বায়রার ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছি।’ বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা আমাদের রক্ত চুষে গোলায় ধান ভরেছে। সিন্ডিকেটকে সব সময় ঘৃণা করি এবং ঘৃণা করে যাব। এ সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। যদি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট না হতো, সব এজেন্সিকে ব্যবসা করতে দেয়া হতো তাহলে আমাদের আজ ভিক্ষা চাইতে হতো না, সরকারের কাছে প্রণোদনা চাইতে হতো না। আপনারা সবাই ১০ সিন্ডিকেটকে বয়কট করুন।’ রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক টিপু সুলতান বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ। গত তিন-চার মাস হলো অফিস ভাড়া দিতে পারি না। অথচ এ খাতে আমরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি।’ তিনি সরকারের কাছে বায়রার চাওয়া দুই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দ্রুতই সদস্যদের জন্য বরাদ্দের দাবি জানান। ডিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মোক্তার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘করোনাকালে আমাদের প্রবাসীরাও ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন। কয়েক লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। অনেকে আটকা পড়েছেন। তারা ফিরে যেতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন। কোন দেশ থেকে কতজন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন এবং কতজন আটকা পড়েছেন তাদের অ্যাপের মাধ্যমে ডাটাবেজ তৈরি করা উচিত। এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রা উদ্যোগ নিতে পারে।’ বায়রার সাবেক মহাসচিব রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ‘করোনার করুনায় আমরা জনশক্তি ব্যবসায়ীরা আটকে গেছি। এ সংকট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে জন্য সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে।’ রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আরিফুর রহমান বলেন, যেখানে মন্ত্রণালয় করোনা বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে এ সেক্টর রক্ষার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে কীভাবে প্রণোদনা দিয়ে বাঁচানো যায়, বাজারগুলো রক্ষা করা যায়, নতুন শ্রম বাজার খোজা যায় সেই চেষ্টা করবে, তা না করে হঠাৎ ডাটাবেজ থেকে কর্মী নেয়া ও কর্মীর টাকা ব্যাংক-বিএমইটি’র মাধ্যমে লেনদেন করার বিষয়টি এ সময়ে খুবই অপ্রাসঙ্গিক। ‘ঐক্যবদ্ধভাবে এসব বন্ধ করতে হবে এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বাঁচানোর জন্য প্রণোদনা আদায় করতে হবে,’ যোগ করেন আরিফুর রহমান। সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এমএস শেকিল চৌধুরী বলেন, ‘জনশক্তি খাত একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন আপনারা। হাজার হাজার লোকের ভিসা হলেও আটকে গেছে। কোন দেশের কী পরিমাণ ভিসা আটকে আছে তার ডাটাবেজ করুন, সরকারকে দেন। আশা করছি সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ফের এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে।’ রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক টিপু সুলতানের সঞ্চালনায় অনলাইন সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী, রিপোটার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টসের (আরবিএম) সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কোভিড-১৯: চীনের তৈরি ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ

কোভিড-১৯: চীনের তৈরি ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ


ঢাকার চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সফলভাবে কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে সহযোগিতা ও সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছে চীন। ঢাকার চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান রবিবার ইউএনবিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে।’ তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন নিবিড়ভাবে কাজ করছে।’ করোনাভাইরাসটির ভ্যাকসিন তৈরির জন্য পাঁচটি চীনা সংস্থা কাজ করছে বলে জানান তিনি। চাইনিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের অধীনে ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘ক্লিনিকাল ট্রায়ালে’ আছে বলে শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে ভ্যাকসিনটির দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে ভ্যাকসিনটির মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করে এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও এর সুরক্ষা বিষয়টি আরও বিশদভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সংবাদ সংস্থা সিংহুয়া অনুসারে, সেদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে বিশ্বব্যাপী ক্লিনিকাল ট্রায়ালে থাকা মোট ভ্যাকসিনের ৪০ শতাংশ চীনের। চীনে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য এখন পর্যন্ত পাঁচটি ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে থাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনায়, চীনের প্রেসিডেন্ট কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সত্যিকারের বন্ধু হিসাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের সাড়ে তিন বছরে বিশ্ববিচ্ছিন্ন যুক্তরাষ্ট্র করোনায় কোণঠাসা আমেরিকা, নেতা সংকটে...

[caption id="attachment_24529" align="aligncenter" width="1024"] Photo credit: DonkeyHotey on VisualHunt / CC BY[/caption]

ট্রাম্পের সাড়ে তিন বছরে বিশ্ববিচ্ছিন্ন যুক্তরাষ্ট্র

করোনায় কোণঠাসা আমেরিকা, নেতা সংকটে বিশ্ব

কয়েক বছর ধরে বিশ্ব থেকে নিজেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনা মহামারীর সংকটের মধ্যে দেশটি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এমন বিচ্ছিন্নতা দেশটির প্রায় সাড়ে তিনশ’ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়নি। যেন এক অচেনা পথে ছুটে চলেছে বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি এ দেশটি।

একদিকে কোভিড-১৯-এর অভিশাপে এক ‘অচ্ছুত রাষ্ট্র’ হয়ে উঠছে। আরেকদিকে মিত্র দেশগুলোর কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।

মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হযবরল নেতৃত্বের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের এই হাল। করোনাকালে নিজ দেশের জনগণের প্রতি যেমন উদাসীনতা দেখিয়েছেন ট্রাম্প, ঠিক একইভাবে বাকি বিশ্ব বিশেষ বন্ধু দেশগুলো থেকে নজর ফিরিয়ে নিয়েছেন। সিএনএন, এনপিআর ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস।

এনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোভিড-১৯-ই যুক্তরাষ্ট্র এমনকি পুরো বিশ্বের জন্যই একটা বড় সংকট তৈরি করেছে।

ভালো বা মন্দ হোক, প্রায় প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই দিকনির্দেশনা, সহযোগিতা ও পদক্ষেপের আশা করেছে বিশ্ব। মার্কিন কর্তারাও সংকট উত্তরণে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু করোনা মহামারীর মতো একটা বড় সংকটকালে সেটা আর ঘটেনি। অন্য দেশ দূরে থাক, নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ দেশগুলোর জন্যও নয়। ফলে নেতা সংকটে পড়েছে বিশ্ব।

সিএনএন বলেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের এই পতন এখন ক্রমেই একটা ‘হরর শো’তে পরিণত হচ্ছে। আর্থিক ও সামরিক এই পরাশক্তি এখন নিজ দেশের করোনা সামলাতেই ব্যস্ত।

কিন্তু এক্ষেত্রেও বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব ও প্রশাসন। সেকথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন শীর্ষ সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি।

চলতি সপ্তাহেই তিনি বলেছেন, ‘করোনার কারণে মহাসংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র।’ বিশ্বের ভয়াবহ করোনাপীড়িত দেশগুলোর তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে আমেরিকা।

কিন্তু সব দিক দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সংক্রমণ ২৫ লাখ পার হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষের। এর জন্য ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অযোগ্যতা ও উদাসীনতাকেই দায়ী করছে মার্কিন সচেতন মহলের একাংশ।

সিএনএন বলেছে, মূলত ট্রাম্পের সাড়ে তিন বছরের শাসনই আমেরিকার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও মর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এর ভবিষ্যৎ ভূমিকাও বড় এক অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর একের পর এক যেসব পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন, তাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে মার্কিন নেতৃত্ব। আর এসব কিছু তিনি করেছেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা আগে) নীতির নামে।

প্রথমেই সীমান্ত সুরক্ষার নামে অসংখ্য দেশের সঙ্গে মার্কিন সীমান্ত বন্ধ করেছেন। এরপর একে একে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ইরান পরমাণু চুক্তি, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরপর ইউরোপের সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটো এবং এশিয়ার সামরিক জোটগুলো থেকে প্রত্যাহারের পাঁয়তারা করছেন।

করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রেও চরম অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রে বহু বিশেষজ্ঞই করোনা নিয়ে তার বাজে দৃষ্টিভঙ্গি ও অ্যাপ্রোচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন।

যেমন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবেত্তা ও গবেষক টিমোথি গার্টন অ্যাশ এনপিআরকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিশ্বের প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে করোনা মহামারীর মোকাবেলায় চীনের চেয়ে একটা ভালো দৃষ্টান্ত রাখতে পারত যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু বাস্তবতায় তেমনটা ঘটেনি।’ অ্যাশের মতে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অনেক ইউরোপীয় দেশের চেয়ে বাজে পারফরম্যান্স মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং দেশটির রাজনীতিকদের।

উল্টো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চীনের বিরুদ্ধে গরল উগরে দিতে ব্যস্ত ট্রাম্প প্রশাসন। এতে উঠতি বিশ্বশক্তি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে।

তাতেও বিপদ দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, চীন-আমেরিকা ঠাণ্ডা লড়াই বিশ্বের জন্য ভাইরাসের থেকে বড় হুমকি।

সক্ষমতা হারাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা, ভুগছেন বাড়িওয়ালারা

সক্ষমতা হারাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা, ভুগছেন বাড়িওয়ালারা

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং প্রায়ই নতুন নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় যাওয়ায় নতুন করে বাসা খোঁজা বা বাসা বদল করাটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে নগরের বাসিন্দাদের জন্য।

মাসের শুরুর দিকে নগরের অলিতে-গলিতে দেয়ালে দেয়ালে ছেয়ে যেত 'ভাড়া হবে' লেখা বিজ্ঞাপনে। এই শহরে প্রতিমাসেই হাজারো ভাড়াটিয়া তাদের বাসা বদলান, সেই বাসায় উঠেন নতুন ভাড়াটিয়া। কিন্তু মহামারিকালে অনেকটাই বদলে গেছে সে চিত্র।

তাহলে কি হচ্ছে এখন?

আগ্রহ নিয়ে বাড়ি ভাড়ার ওই বিজ্ঞাপনগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, আগের মতোই সেখানে লেখা আছে, 'ভাড়া হবে। দুই বেড রুম, এক রুম এটাচ বাথরুমসহ। ড্রয়িং-ডাইনিং একসাথে। রান্নাঘর ও বারান্দা আলাদা, ঠিকানা, যোগাযোগ...'। কিন্তু যে মাস থেকে ভাড়া হবে তা একাধিকবার সংশোধন করা।

এই বাসাগুলো কি কয়েকমাস ধরেই খালি? কিন্তু কেন?

ঢাকার ফার্মগেটের মণিপুরীপাড়ার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে একজন বাড়িওয়ালা বলেন, "আমার বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাট গত এপ্রিল থেকে খালি পড়ে আছে। পুরনো ভাড়াটিয়ারা সস্তায় বাসা খুঁজে সেখানে চলে গেছেন। গত তিনমাস ধরে নতুন কোনো ভাড়াটিয়াও আর আসেননি।"

তিনি জানান, তার বাড়ির প্রতিটি ফ্ল্যাট সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিতেন তিনি। চাহিদাও ছিলো বেশ। কিন্তু ভাড়াটিয়ার এমন আকাল এর আগে কখনো দেখেননি তিনি।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং প্রায়ই নতুন নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় যাওয়ার ফলে নতুন করে বাসা খোঁজা বা বাসা বদল করাটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে নগরের বাসিন্দাদের জন্য। এরমধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো, মহামারির কারণে চাকরি হারানোর ফলে শহরে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ায় অনেকেই এখন আর বেশি ভাড়াওয়ালা বাসায় থাকতে চাচ্ছেন না।

মিরপুরের রূপনগরের বাসিন্দা রুনিকা পারভীন জানান, তার বাড়িতে ১৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে যার মধ্যে চারটি গত তিনমাস ধরেই খালি পড়ে আছে। এরমধ্যে আরও কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানিয়েছেন জুলাই মাসে তারাও বাসা ছেড়ে অন্যকোথাও চলে যাবেন। অন্য ভাড়াটিয়ারাও ভাড়া পরিশোধ করতে দেরি করছেন।

"আমার বাসায় একজন ভাড়াটিয়া ছিলেন যিনি একটা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। করোনার কারণে উনার মাদ্রাসার আয়-রোজকার সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মে মাসে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। গত মাস থেকে উনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাদ্রাসারই একটি রুমে থাকছেন," বলছিলেন রুনিকা।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এই বাড়িওয়ালা বলেন, এই বাড়িটি বানানোর সময় তিনি ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতিমাসেই কিস্তিতে ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয় তাকে। একে একে ভাড়াটিয়ারা চলে যাওয়ায় এবং নতুন ভাড়াটিয়া না আসায় দুর্ভাবনায় পড়েছেন রুনিকা পারভীন।

রাজধানীর ফার্মগেট, খিলগাঁও এবং জিগাতলা এলাকার বেশ কয়েকজন বাড়িওয়ালা করোনাকালীন এই সময়ে ভাড়াটিয়া খুঁজে না পাওয়ার সংকটের কথা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অনেক বাড়িওয়ালাই ভাড়ার টাকায় নিজেদের সংসার চালান। আবার ব্যাংকের ঋণও তাদের অনেককে দুর্ভাবনায় ফেলেছে।

তারা সবাই বলেছেন, এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের দিক থেকে সহায়তার প্রয়োজন তাদের।

মহামারিতে বাড়িওয়ালারা কতোটুকু ক্ষতিগ্রস্ত? 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশজুড়ে গত তিনমাসের স্থবিরতায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী যারা হয়েছেন তাদের তালিকায় নেই বাড়িওয়ালারা।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তানভীর সোবহান জানান, সাধারণত ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দুই মাসের ভাড়া অগ্রীম নিয়ে রাখেন।

তিনি বলেন, "মহামারির কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটে স্বচ্ছল লোকেদের তাৎক্ষণিক লাভ ক্ষতির হিসাব করা উচিত না। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জায়গা থেকে ভাড়াটিয়াদের কষ্টের বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।"

নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে মোহাম্মদপুরের চন্দিমা-উদ্যান ভবনের একজন ভাড়াটিয়া জানান, তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় বাড়িওয়ালা কয়েকদফায় দারোয়ানকে পাঠিয়ে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের শাসিয়ে গেছেন।

৩০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি রাজধানীর একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বেতন পেলেই সময়মতো বাড়িভাড়া পরিশোধ করতেন বলে তিনি জানান।

"এপ্রিলে যখন আমাদের ফার্ম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকেই আমার আয় বন্ধ হয়ে যায়," বলছিলেন তিনি।

বকেয়া পরিশোধের জন্য বাড়িওয়ালা বারবার চাপ দিলেও নতুন করে অল্প ভাড়ায় যে অন্যকোথাও বাসা নেবেন সেই সুযোগও নেই এই ব্যাক্তির।

তিনি বলেন, "বাসার আমার বয়স্ক বাবা-মা, স্ত্রী এবং ছোটভাই থাকে। হঠাৎ করেই চাকরি হারিয়ে ফেলেছি। নতুন করে বাসা নিতে যে অ্যাডাভান্স দিতে হবে সেটাও আমার কাছে নেই। অন্যদিকে কখন আবার চাকরি পাবো সেটাও জানি না। তাই অন্যকোথাও যাওয়ারও সুযোগ এখন নেই।"

তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে পরিবারের সদস্যদের খুলনায় তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন।

তার অনেক প্রতিবেশীও ইতোমধ্যে বাসা বদলে অন্য এলাকায় চলে গেছেন বলে তিনি জানান।

"আমি যে বাড়িতে থাকি সেখানে এখনো পাঁচ ছয়টা পরিবার আছে যারা ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি। বাড়িওয়ালাও সবাইকে বলে দিয়েছে, বকেয়া ভাড়া ও অন্যান্য বিল কয়েকদিনের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।"

তার মতে, এই মুহুর্তে কিস্তিতে বকেয়া ভাড়া পরিশোধের সুযোগ থাকা উচিত।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও অদূর ভবিষ্যতের ভঙ্গুর অর্থনীতির দিকটি তুলে ধরেছে তাদের নানা গবেষণায়। করোনার কারণে বেশি বিপদে পড়া সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সংকটের দিকটি স্পষ্ট থাকায়, বাড়িওয়ালাদের লাভ-ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা।

তানভীর সোবহান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়া দুই পক্ষকেই একটা ভালো বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এইচ -১বি সহ একাধিক কাজের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল ট্রাম্প, হতাশ...

এইচ -১বি সহ একাধিক কাজের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল ট্রাম্প, হতাশ পিচাই

ওয়াশিংটন: যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ -১বি সহ একাধিক কাজের ভিসা দেওয়া আপাতত বন্ধ করে দিল তা দেখে হতাশ হয়েছেন গুগল এবং আলফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। এই বছরের শেষ অবধি এইচ-১বি, এইচ-৪,এল-১ এবং জে-১ ভিসা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন। এমনটা ঘটছে তার ইঙ্গিত গত শনিবারেই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। [caption id="" align="alignnone" width="688"] https://www.kolkata24x7.com/disappointed-says-sundar-pichai-as-trump-pauses-work-visas/[/caption] সোমবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। সেই মতোই দেখা গেল সোমবার হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের জানাল, প্রেসিডেন্ট সাময়িক ভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিসার ক্ষেত্রে রাশ টানার ব্যাপারে। এর ফলে এই বছরের শেষ পর্যন্ত আর কোনও ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হবে না। যার ফলে মার্কিনীরা দেশে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নয়া ভিসা নীতিতে মেধার ভিত্তিতে ভিসা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে সর্বোচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন এবং উচ্চ বেতনের কর্মীদের ভিসা পেতে অসুবিধা হবে না এবং মার্কিন কর্মক্ষেত্রে কোনও বিরূপ প্রভাব পডবে না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যাই আশা করুক না কেন, বিভিন্ন মহলে বিশেষত শিল্পমহলের এই নিয়ে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুগল কর্তা সুন্দর পিচাই এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, এমন ঘোষণায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি সবসময় অভিবাসীদের পাশে থাকবেন এবং তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। শুধু সুন্দর পিচাই নন তথ্যপ্রযুক্তি জগতের আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যেমন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের বক্তব্য,‌ এখন এটা সময় নয় এদেশকে পৃথিবীর মেধা থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং একটা অনিশ্চিত ও দুশ্চিন্তার পরিবেশ সৃষ্টি করার। যেখানে অভিভাসনকারীরা‌ এ দেশের সংস্থা এবং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে যখন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকা বংশোদ্ভূত আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে গোটা মার্কিন মুলুকে ‌ প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে তখন আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের সরব হতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় নিহত ফ্লয়েড এবং প্রতিবাদকারীদের পাশে থেকে সংহতির বার্তা দিয়েছিলেন সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, টিম কুকের মতো বাণিজ্যের দুনিয়ার নেতৃবৃন্দরা। এবার আবার‌সেই সুন্দর পিচাই সহ আরও কেউ কেউ মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে সরব হতে দেখা যাচ্ছে।

৩৫০০ টাকায় মহাখালীর আইসিডিডিআর’বিতে করোনা পরীক্ষা করা যাবে

৩৫০০ টাকায় মহাখালীর আইসিডিডিআর’বিতে করোনা পরীক্ষা করা যাবে

ইউএনবি, ঢাকা

ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআর’বিতে বিশ্ববিখ্যাত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোভিড-১৯ রোগের সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য আগামী শুক্রবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য রোগীরা http://covid19test.icddrb.org ওয়েবসাইট ভিজিট করে নিবন্ধন ফরম পূরণের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে পারবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। টেস্টের ফি ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড অথবা অনলাইন ব্যাংকিং/মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে। এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টার সময় নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত হবে। প্রতি টেস্টের খরচ সর্বসাকুল্যে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। টেস্টের জন্য ব্যক্তির গলা এবং নাকের গভীর থেকে থেকে শ্লেষ্মা সংগ্রহ করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করা হবে। আইসিডিডিআর’বির ল্যাবরেটরি সায়েন্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. দীনেশ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের রোগীদের এবং কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয় এবং তাই কোভিড-১৯ রোগীদেরকে উন্নত মানের সেবা প্রদান করার জন্য আমরা আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিকে পুনঃসংস্কার করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টেস্টের প্রক্রিয়া চালু করলেও পরবর্তী পর্যায়ে আমরা এটিকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য আরও সহজতর প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করব। আমাদের অত্যন্ত দক্ষ ও নিষ্ঠাবান বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক এবং অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসমূহ এখন থেকে রোগীদেরকে উচ্চ-মানসম্পন্ন রোগনির্ণয় সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে, যার ওপর তারা সব সময়ই আস্থা রেখে এসেছেন।’ রোগীর সঙ্গে কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি টেস্টের জন্য নির্ধারিত স্থানে যেতে পারবেন। তাদের উভয়কে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরতে হবে এবং সরকারের স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আইসিডিডিআর’বি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে আরটি-পিসিআর প্রক্রিয়ায় কোভিড-১৯ টেস্ট করার অনুমোদন প্রদান করেছে। এই বাণিজ্যিক টেস্টিং সেবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আইসিডিডিআর’বির দেওয়া চলমান কোভিড-১৯ টেস্টিং সহায়তা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক, আইসিডিডিআর’বি মার্চ মাস থেকে বিনামূল্যে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টেস্টের জন্য কিট সহায়তা দিয়ে থাকে) সরকার প্রদত্ত নমুনা পরীক্ষা করে আসছে এবং এ পর্যন্ত ২৭ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য http://covid19test.icddrb.org ভিজিট করুন। নমুনা সংগ্রহের স্থান: আইসিডিডিআর’বি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৬৮ শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সরণি, মহাখালী, ঢাকা।

নোয়াখালীতে গণধর্ষণ মামলার আসামি সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার, রাতে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত

নোয়াখালীতে গণধর্ষণ মামলার আসামি সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার, রাতে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত

নোয়াখালীর সেনবাগে সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন এক শিশু গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি।
নিহত মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৪০) সোনাইমুড়ী পৌরসভার নাওতলা মহল্লার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আজ ভোররাত ২টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজার সোনাকান্দি এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মিজানুর রহমানকে সেনবাগের মাহতাবপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে সেনবাগ থানা পুলিশ। নিহত মিজান সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় সিএনজি থেকে চাঁদা তুলতো। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশের দাবী বন্দকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপ গান, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও একটি ছোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেনবাগ থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, গত শনিবার বিকেলে সোনাইমুড়ী উপজেলা শহরের মা-মনি বেকারিতে কর্মরত এক শ্রমিক (১৫) বেকারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার গ্রামের বাড়ি কবিরহাট উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। রাত ৮টার দিকে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়ক এলাকায় পৌঁছার পর সিএনজি শ্রমিক মিজান তাকে নিরাপদে কবিরহাট পৌঁছে দেবে বলে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। রাত ১টার দিকে ওই শিশুকে নিয়ে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজারে কানা শহিদের গ্যারেজে এনে অস্ত্রের মুখে মিজান, কানা শহিদ ও সিএনজি চালকসহ রাতভর গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তারা পালিয়ে গেলে রোববার সকালে ওই শিশু সেনবাগ থানায় গিয়ে মিজানকে প্রধান আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ রোববার সন্ধ্যায় সেনবাগের মাহতাবপুর গ্রাম থেকে মামলার প্রধান আসামি মিজানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিজান নিজের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। আজ ভোররাত রাত ২টার দিকে সেনবাগ থানা পুলিশের একটি দল মিজানকে নিয়ে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজার সোনাকান্দি এলাকায় যায়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিজানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে মিজানের সহযোগীরা পিছু হটে চলে যায়। এ সময় মিজানের সহযোগীদের ছোড়া গুলিতে মিজান গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ছোড়া উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মিজানের সহযোগীদের হামলায় রসূল মীর, পিয়াস সরকার ও পিপুল নামের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে করতে পুলিশি অভিযান চলছে।’ সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, ‘বন্ধুকযুদ্ধে একজন নিহত হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে খোঁজ নিয়েছি। শুনেছি তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তবে ডাকাত কিনা তা বলতে পারছি না। তবে তার নামে নারী নির্যাতনের মামলা আছে বলে জেনেছি।’ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘আজ ভোরে সেনবাগ থানা পুলিশের কয়েক জন সদস্য মিজানুর রহমান নামের একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তিনি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। দুপুরে হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।’ নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বন্দুকযুদ্ধে গণধর্ষণ মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও সে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি। জেলাকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, জঙ্গিবাদ ও ধর্ষণ মুক্ত করতে পুলিশের অভিযান চলবে। অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। নোয়াখালী জেলাবাসীকে শান্তি, শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

অটোমোবাইল খাতের খুচড়া যন্ত্রাংশের আমদানি একবছর শুল্কমুক্ত করার দাবী বামা নেতাদের

চলতি অর্থবছরে অটোমোবাইল খাতের সব ধরনের খুচড়া যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন-বামার নেতারা। মঙ্গলবার (২৩ জুন)অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বামার সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ডলারের সংকট তৈরী হবে এবং এ কারণে নতুন গাড়ি আমদানিতে বিঘ্ন হবে। তাই বাংলাদেশের চলমান গাড়িগুলোই যাতে আগামী দুই, তিন বছর চলতে পারে সেজন্যে খুঁচড়া যস্ত্রাংশ আমদানি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার দাবি করেন। মাতলুব আহমাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০২০ সালকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বছর ঘোষণা করেছেন তখন চীন ও ভারত থেকে আসা লাইট ট্রাকগুলোকে পিক আপ বলে ভুল রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। অবিলম্বে দেশের স্বার্থে এটা বন্ধ করার দাবী জানান তিনি এবং একই সাথে বিআরটিএ কর্তৃক পিক আপের সঠিক সংজ্ঞায়নের দাবি করেন তিনি। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তিনমাসে অটোমোবাইল খাতে আনুমানিক ছয় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বামার সাবেক সভাপতি ও রানার গ্রপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। গ্রামীণ জনপদের পরিবহনের ক্ষেত্রে থ্রি হুইলারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এগুলোর রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করার কথা বলেন। এতে সরকার প্রতি বছর শুল্ক, কর ও ভ্যাট বাবদ ২ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুল মাতলুব আহমাদ, বাংলাদেশে শিগগিরই ইলেকট্রিক কার তৈরী করতে পরবে বলে আশা করেন । এ ব্যাপারে বিডা এখন আগের চেয়ে অনেক ইতিবাচক বলেও জানান, বামার সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

Meet the Press- Role of Automobile Sector in Bangladesh (ইউটিউব ভিডিও)

https://www.youtube.com/watch?v=yJpBhF-id7A

নাগরিক টিভির কাভারেজঃ

[video width="400" height="224" mp4="http://ekush.info/wp-content/uploads/2020/06/104715106_266367977787086_7305550295390588092_n.mp4"][/video]      

ঢাকা ছাড়ছে অসহায় মানুষ

ঢাকা ছাড়ছে অসহায় মানুষ

উদিসা ইসলাম | জুন ২২, ২০২০ ২০০৭ সালে ঢাকায় আসেন কালাম মিয়া। ১৩ বছরের এই সময়ে কখনও ব্যক্তিগত গাড়িচালক, কখনও মাইক্রো চালানো এবং সর্বশেষ উবার চালিয়ে জীবন নির্বাহ করেছেন। গত এপ্রিলের এক তারিখ থেকে কাজ নেই। কিন্তু খরচ তো থেমে থাকে না। আয় না থাকা এই মানুষটি গত দুই মাসে জমানো সামান্য কিছু টাকা আর চেয়ে-চিন্তে চলে জুনের ১৫ তারিখ সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে ফিরে যাবেন। যদি ঢাকার পরিস্থিতি কোনোদিন ভালো হয়, হয়তো আবারও ফিরে আসবেন।

শুধু কালাম মিয়া নন শহরের নিত্য ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন হাজারও কর্মহীন মানুষ। তারা ফিরছেন একেবারে নিঃস্ব হয়ে। প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, মালপত্র ভর্তি বাহনে করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। তাদের মধ্যে কেউ দিনমজুর, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কেউ গার্মেন্টস শ্রমিক, ছাত্র-প্রাইভেট শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।

একদিকে যেমন সব ছেড়ে মানুষ গ্রামে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে আরেকদিকে বাসা ছেড়ে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার বাসা খুঁজছেন অনেকে। বেসরকারি সংস্থায় অফিস সহকারীর কাজে কর্মরত গাইবান্ধার হাসান থাকতেন ছোট একটা ফ্ল্যাটবাড়িতে বাড়ি। ভাড়া ১২ হাজার। বউ কাজ করতেন আয়া হিসেবে এক বাসায়, ৮ ঘণ্টা বাচ্চা রাখার কাজ। দুজনে মিলে আয়-রোজগার ভালোই ছিল। করোনা শুরু হওয়ার পরে বউয়ের কাজ চলে গেলে বাড়ি ভাড়াটাই হয়ে ওঠে গলার কাঁটা। গত মাসে বাড়ি খুঁজে ৩শ’ ফিট থেকে ভেতরের দিকে একটা ছোট্ট টিন-শেডে উঠে পড়েছেন এই মাসের শুরুতে।

আয় নেই, ভাড়া বাকি

পিকআপে মালপত্র নিয়ে বসে আছেন সাহেরা ও তার মা আয়নুরা বেগম। একটি খাট, ছোট টেবিল, টিভি, বেডিং, রান্নার জিনিস বস্তাবন্দি। মিরপুরের পাইকপাড়ায় টিন-শেডে দুই রুমে থাকতেন। স্বামী গুলিস্তানে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। কাজ থেকে বাদ পড়েছেন মার্চের ২৬ তারিখ। সাধারণ ছুটি শেষ হলে  যদি আবার সব স্বাভাবিক হয় এই আশায় ঢাকায় ছিলেন। কিন্তু ঢাকার বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট জুনের শুরুতে খোলা হলেও, ছাঁটাই করা হয় তাকে। ত্রাণ নিয়ে এই কয় মাস খাওয়ার সংস্থান হলেও বাড়ি ভাড়া, বিভিন্ন বিল দিতে যে নগদ টাকা লাগে তা হাতে নেই। স্ত্রী সন্তান ও শাশুড়িকে গ্রামে রেখে এসে কোনও মেসে উঠে কাজের সন্ধান করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মালিবাগের একটি টিন-শেডের মালিক ফয়সাল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার এদিকটায় গার্মেন্টস শ্রমিক বেশি থাকায় কখনও এই দশটা ঘর খালি থাকেনি। প্রথমে মার্চে ঘর ছেড়ে চলে গেলো শ্রমিকরা। এপ্রিল মে ফাঁকা থাকলো। মে মাসের শেষে ফেরত আসলো কিন্তু এখন আবার নোটিশ দিয়েছে জুলাই থেকে ছেড়ে দেওয়ার। কাজ নেই, ছাঁটাই করা হয়েছে। ফলে আবার টু-লেট ঝুলিয়েছি।

দুই মাসে কিস্তি পরিশোধে ফুরালো শেষ সম্বল

এক বাসায় চারজন রোজগারের মানুষ। মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। মেয়ে গার্মেন্টসে, মেয়ের জামাই ব্যক্তিগত গাড়িচালক, ছেলে ভ্যানে সবজি বিক্রেতা। মেয়ের ঘরে দুই কন্যা, ছেলের এক শিশু। চারজনের আয় ছিল প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা। এখন সবাই বেকার, সবজি বিক্রেতা ছেলের হঠাৎ টিবি ধরা পড়ায় তার কাজও বন্ধ। সচ্ছল একটি পরিবারে এখন একবেলা খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে গেছে। ৯ হাজার টাকা দিয়ে যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেখানে বাকি পড়েছে এই মাসে প্রথম। ঘরের ফ্রিজ কিনেছিলেন মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে, বাকি পড়েছে সেই কিস্তির টাকা। কোনোমতে বাড়ি ভাড়ার টাকা চেয়ে নিয়ে শোধ করেছেন। মুদির দোকানের ঋণ, কিস্তির বাকি টাকা ফেরত না দিয়ে লুকিয়ে ফিরে গেছেন গ্রামে।

একদম খালি হাতে গ্রামে ফিরেই বা কী করবেন প্রশ্নে প্রাইভেট গাড়িচালক দিদারুল বলেন, গ্রামের দিকে কিছু একটা করে খাওয়া যাবে। আত্মীয়রা প্রথম কয়দিন জায়গা দিলে ব্যবস্থা একটা হবে। এই শহরে কখনও খাবারের জন্য হাত পাততে হবে ভাবিনি, করোনা আমাদের সেটাও করিয়েছে। সন্তানের ক্ষুধার্ত চেহারা দেখতে কার ভালো লাগে। তার ওপর আছে মাস শেষে বাড়ি ভাড়ার তাগাদা।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, এমন হবে সেটা শুরুতেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল। এখন পর্যন্ত আমাদের হিসেবে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ কেবল ভাড়া দিতে না পেরে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বলছিলাম, তিন মাসের ভাড়া মওকুফ, বিল মওকুফের ব্যবস্থা করা হোক। সরকার কানে তোলেনি। এমন খবরও আমাদের পরিষদে এসেছে যে, কেউ কেউ যাওয়ার সময় আসবাব বিক্রি করে ভাড়া পরিশোধ করে গেছে।