অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদ আর নেই

May 20, 2017 6:27 pmComments Off on অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদ আর নেইViews: 2
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube


মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাভবনের সামনের ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ আর নেই। শনিবার (২০ মে) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ভাস্করের সন্তান সৈয়দ আব্দুল্লাহ জহি বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট। এপ্রিলের শেষের দিকে সেখানে একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান বাবা। ওইসময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরিবারের সবাই এখনও হাসপাতালে এসে পৌঁছাননি। তারা পৌঁছালেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তার মরদেহ বারডেম থেকে রাত ৩টার দিকে পান্থপথের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসময় স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে স্বামী উপস্থিত ছিলেন। রবিবার সকাল ১০টা চারুকলা, পরে শহীদ মিনার নেয়া হবে। এরপর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দাফন করা হবে

গত ২ মে থেকে আব্দুল্লাহ খালিদ হাপানিসহ বার্ধক্যজনিত কারণে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত ভাস্কর্যের কর্মকার সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। দেশ স্বাধীনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। পচাত্তর পরবর্তী ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় একটি ট্যাংকের মুখ সবসময় তাক করা থাকতো আংশিক নির্মিত ’র দিকে। সেনাদের যত ক্ষোভ ছিল এই স্বাধীনতার স্মৃতির উপর। এরপর ১৯৭৯ সালে এর কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। কয়েকজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এর উদ্বোধন করেন। সেকাল থেকে একাল থেমে থাকেনি এই ভাস্করের পথচলা। তাঁর তৈরি ভাস্কর্যের মধ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত মুরাল আবহমান বাংলা এবং ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান দপ্তরের সামনে অবস্থিত টেরাকোটার ভাস্কর্য উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তাঁর আরো কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ হল অঙ্কুর, অঙ্গীকার, ডলফিনএবং মা ও শিশু। তাঁর কাজের জন্য সম্মাননা হিসেবে শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’এ ভূষিত হন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.