অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ বালি

July 8, 2015 8:04 pmComments Off on অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ বালিViews: 8
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ

ফেরদৌস জামান :রাইজিংবিডি ডট কম
হোটেলে বসেই হবে সূর্যস্নান এবং সমুদ্র দর্শন

হোটেলে বসেই হবে সূর্যস্নান এবং সমুদ্র দর্শন

ফেরদৌস জামান

বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অন্যান্য দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মৌসুম ছাড়াও দুই ঈদ হলো প্রধান সময়। এ সময় অনেকেই পরিবার নিয়ে কিছুটা বিশ্রাম বা বেড়ানোর জন্য দেশের বাইরে বিভিন্ন দর্শণীয় স্থানে যান। , , , থাকে অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে সে তালিকা থেকে ইন্দোনেশিয়াও বাদ যায় না। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আকর্ষণ বালি দ্বীপ। এই লেখায় থাকছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটননগরী বালি দ্বীপের বিস্তারিত। বালি ভ্রমণে প্রধান আট থেকে দশটি স্পট ঘুরে দেখতে পারলে আপনি স্বার্থক হয়েছেন বলে ভাবতে পারেন। কারণ সেখানে দেখার জন্য রয়েছে অনেক কিছু। আসলে এক বা দুই বারের ভ্রমণে সেগুলো দেখে শেষ করা সম্ভব না।

পর্যটন শহর বালি দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আন্তরিক। পর্যটন শিল্পকে প্রাধান্য দিয়েই শহরটি গড়ে উঠেছে। দ্বীপটিকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাই অত্যন্ত আন্তরিক। পর্যটকদের অগ্রাধিকার এখানে সব কিছুতে। বসবাসের হোটেল এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক দোকান পর্যন্ত নেই। বালি দ্বীপ ভ্রমণের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসেন বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক রূপে নিজেদের সিক্ত করতে।বলিতে কী দেখবেন চলুন জেনে নেই।
উলুয়াতু টেম্পল :  ভেবে দেখুন, সমুদ্রের বুকে খাড়া উঁচু অথচ ঝুকে পরা একটি পাহাড়। আর তার উপর স্থাপিত একটি মন্দির। মন্দিরটি বুকিট উপদ্বীপে পাহাড়ের ৭০ মিটার উপরে অবস্থিত। এর পাশে রয়েছে বালির কিছু বিখ্যাত সৈকত ও দরুণ সার্ফিং স্পট। স্থাপত্য নিদর্শনটি সেই এগারো শতক থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বমহিমায়। তার আশপাশে একটুখানি বেশি উচ্চতায় আরোহণ করতে পারলে মন্দির গৃহের উপর অসাধারণ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। এ দৃশ্য ভোলার নয়।

পুরা তানাহ্ লোট :  রাজসিক প্রস্তরশৈলী, যা প্রকৃতপক্ষে তীর্থযাত্রীদের জন্য পবিত্রতম একটি জায়গা। এটি এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো মন্দিরের নির্মল ও শান্ত পরিবেশ। অধিকন্তু একে নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকথা। আপনি অবশ্যই ভাটার সময় সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন। তাহলে হেঁটে ভালোভাবে সবকিছু দেখতে পাবেন।

দেখা যাবে আদিবাসীদের জীবন-যাপন
পুরা উলুন দানু ব্রাতা :  এটিও একটি মন্দির। যাকে স্থানীয়ভাবে ‘লেক টেম্পল’ বলা হয়ে থাকে। লেকের একেবারে কিনারে অবস্থিত। সুনিপুণ গঠনশৈলীর এই মন্দিরের প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে লেকের শান্ত স্বচ্ছ জলের বুকে। যা দেখার জন্য ভ্রমণপিপাসুরা অধির আগ্রহে সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করে।

লোভিনা : ডলফিন দেখার জন্য লোভিনা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো স্থানগুলোর একটি। সেখানে ডলফিন দেখার জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকার ব্যবস্থা। আপনার ভ্রমণ তালিকায় লোভিনা যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে থাকলে রওনা করতে হবে একেবারে ভোরে। এর চেয়ে অধিক স্মরণীয় স্মৃতি আর কিছুই হবে না, যখন দেখবেন ঝাকে ঝাকে ডলফিন আপনার সামনে লাফালাফি করছে ও সাঁতার কাটছে।
উবুদ : উবুদ বালির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত। এটি এমন একটি জায়গা যা মিস করার নয়। কী নেই সেখানে? নির্মল প্রকৃতি, ভিন মানুষের বর্ণিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বিশ্বখ্যাত ও মনোমুগ্ধকর মন্দির, জাদুঘর ইত্যাদি। অজস্র ফুলের বাগান ও পার্ক তো সেখানকার সৌন্দর্যের বিশেষ অংশ। আশপাশে ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে বাইকের ব্যবস্থা। এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং করা। ইয়োগা ও মেডিটেশনের মাধ্যমে রিল্যাক্সেশনের সুব্যবস্থাও রয়েছে। এ সবের বাইরে  উপভোগের জন্য রয়েছে নানা শিল্পকর্ম ও নাটকের প্রদর্শনী। শপিংয়ের  জন্যও জায়গাটি উপযুক্ত বটে।

কুতা সৈকত : কুতা সামুদ্রিক সৈকত হলো বালির সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকত। প্রকৃত তথ্য হলো, কুতা ও তার সমকক্ষ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন সৈকতের কারণেই বালি পৃথিবীখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পার্টি আয়োজনের জন্য কুতার খ্যাতি একটু আলাদাভাবে হলেও রয়েছে। ভাবছেন সবার পক্ষে সেই পার্টিতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব কি না? হ্যাঁ, সম্ভব। কারণ প্রত্যেকের সামর্থের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ব্যবস্থা। রয়েছে হার্ড রক ক্যাফে ও পাব। আপনাকে কেবল বেছে নিতে হবে আপনার চাহিদা উপযোগী পার্টি।

নুসা দুয়া সৈকত :  ভ্রমণের বাজেট যদি একটু বেশি হয়ে থাকে তাহলে নুসা দুয়া সৈকতের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারেন। সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে নীরব, নিঝুম একেবারে আদিম এক প্রকৃতি। হোটেলে বসেই আপনি মন ভরে সূর্য ও সমুদ্রস্নান দুটোই সারতে পারবেন। এই সৈকত মধুচন্দ্রীমার জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তামানি মাউন্ট বাতুর :  জায়গাটি বালির পূর্বে অবস্থিত। ১৭০০ মিটার উঁচু এই পর্বতে একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি দেখার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রম। অনেকে এই উচ্চতা থেকে সূর্যোদয়ও দেখেন। এখান থেকে চারদিকের দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে আপনি বিমোহিত হবেন এ কথা বলা যায়। এ ছাড়াও আপনি চাইলে পুলিনা ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে কফি প্লান্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। কীভাবে কফি তৈরি হয় দেখে আসতে পারেন নিজ চোখে।

পাঠক, আপনি নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পেরেছেন ভ্রমণের জন্য বালি কেন এত বিখ্যাত? এবার চলুন জেনে নেই এই ঈদে বালি ভ্রমণে কোন ট্রাভেল এজেন্সি কী অফার দিয়ে রেখেছে। এভারেস্ট হলিডেজ সিঙ্গাপুরসহ বালির প্যাকেজ অফার করেছে। খরচ পড়বে জনপ্রতি ৫৭,৮০০ টাকা। পাঁচ দিন চার রাত্রি।
ফোন : ০১৯৫৬২৯৯৬৮৯, ০১৯১২৪৬৯৭৮৯। www.everestholidays.net

লেজার টুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস্ লিমিটেড বালি ভ্রমণের আয়োজন করেছে।
ফোন : ০১৭১৪৫৫৫৫৫৫, ৯৯৩৪৮১৭৯

ক্যাপ্টেন হলিডেজ বালিতে ৩ দিন ২ রাত্রির প্যাকেজ টুরের আয়োজন করেছে। খরচ পড়বে ৫৫,০০০ টাকা।
ফোন : ০১৯৭৭০৫৮৪৫২

রাইজিংবিডি//তাপস রায়

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.