ই-কপিরাইট সেবার যাত্রা শুরু

August 24, 2017 6:17 amComments Off on ই-কপিরাইট সেবার যাত্রা শুরুViews: 6
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

কপিরাইট আইনে নিবন্ধন, মামলা দায়েরসহ কপিরাইট সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক কাজ সহজ করে তুলতে এবার কপিরাইট অফিস নিয়ে এসেছে ই-কপিরাইট সেবা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের এই ই-কপিরাইট সেবা কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস ও এটুআই প্রোগ্রামের যৌথ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বুধবার দুপুরে এই ই-কপিরাইট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড-এর কারিগরী সহায়তায় এটুআই প্রোগ্রামের সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় ই-কপিরাইট সেবা ব্যবস্থা চালু করেছেন তারা।

এর মাধ্যমে এখন বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি সাহিত্যকর্ম, নাট্যকর্ম, সংগীতকর্ম, রেকর্ডকর্ম, শিল্পকর্ম, চলচ্চিত্র বিষয়ক কাজ, বেতার সম্প্রচার, টেলিভিশন সম্প্রচার, কম্পিউটার-সফটওয়্যার কর্ম ইত্যাদি নিবন্ধনের জন্যে সহজেই বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের ওয়েবসাইট www.copyrightoffice.gov.bd/ -এ গিয়ে কপিরাইটের জন্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে।

প্রত্যেকটি আবেদন স্বয়ংক্রিয় উপায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসএমএস এর মাধ্যমে নোটিফিকেশন প্রদান করা হবে এবং নির্দিষ্ট তারিখে কপিরাইট সার্টিফিকেট বিতরণ করা হবে। প্রয়োজনে ই-সার্টিফিকেটও পাওয়া যেতে পারে, যা পরবর্তীতে অনলাইনে যেকোনো সময় যাচাই করা যাবে।

এই ই-সেবার মাধ্যমে কপিরাইট সংশ্লিষ্ট যেকোনো ফিও প্রদান করা যাবে। তবে এই সেবাটি চালু করতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান জাফর রাজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এর আগে কপিরাইটের অফিস শুধুমাত্র ঢাকায় থাকায় সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে কপিরাইট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া কেবল ঢাকায় সম্ভব ছিল। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সম্পর্কে আবেদনকারীর কাছে তথ্য না থাকায় কাগজপত্র জমা দেওয়ায় ক্ষেত্রে ভুল হত এবং একাধিকবার অফিসে আসতে হত।

“এতে করে আবেদনকারীর খরচ ও যাতায়াত দুটোই বেড়ে যেত। আবেদনের সব কাজ হাতে-কলমে সম্পন্ন হত বলে আবেদনকারীকে অনেক ভোগান্তির স্বীকার হতে হত। এছাড়া আগে সনদপ্রাপ্ত কর্মের কোনো প্রকার ডিজিটাল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল না বলে বাছাই প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যেত।”

ই সেবা চালুর মাধ্যমে কপিরাইট নিবন্ধনের হার বাড়বে আশা প্রকাশ করে জাফর রাজা বলেন, “পাইরেসি ইস্যুতে কাজ করাও সহজ হয়ে যাবে অনেকটাই।”

সৃজনশীল ব্যক্তি তাঁর মেধা প্রয়োগ করে যা কিছু সৃজন করেন তাই মেধাসম্পদ। মেধাসম্পদের মালিকানা নিবন্ধনের লক্ষ্যে কপিরাইট অফিস ১৯৬২ সালে  প্রতিষ্ঠিত হয়। কপিরাইট অফিস একটি আধা-বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান। এর কার্যাবলী কপিরাইট আইন-২০০০ (২০০৫ সালে সংশোধিত) ও  কপিরাইট বিধিমালা ২০০৬ মোতাবেক পরিচালিত হয়। এ অফিস যে প্রধান ৪টি কাজ করে থাকে  তা হল : ১) সৃজশীল মেধাস্বত্বের কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন প্রদান ; ২) আপিল মামলা নিষ্পত্তিতে কপিরাইট বোর্ডকে সহায়তা প্রদান ; ৩) পাইরেসি বন্ধকরণে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা  ও ৪) World Intellectual Property Organization, WIPO এর ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন।

কপিরাইট অফিস সাহিত্যকর্ম, নাট্যকর্ম, সংগীতকর্ম, রেকর্ডকর্ম, শিল্পকর্ম, চলচ্চিত্র বিষয়ককর্ম, বেতার সম্প্রচার, টেলিভিশন সম্প্রচার, কম্পিউটার-সফটওয়্যারকর্ম ইত্যাদি নিবন্ধন করে থাকে। মেধাসম্পদের আর্থিক অধিকার হস্তান্তরযোগ্য। কপিরাইট নিবন্ধন করা হলে সৃজন কর্মের নৈতিক ও আর্থিক অধিকার অর্থাৎ মালিকানা সংরক্ষণ সহজ হয়। কপিরাইট নিবন্ধন আইনানুযায়ী বাধ্যতামূলক না হলেও, সৃজন কর্মের মালিকানা নিয়ে আইনগত জটিলতা দেখা দিলে ‘কপিরাইট নিবন্ধন সনদ’ প্রমাণপত্র হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে ব্যবহৃত হতে পারে। কপিরাইট অফিস বাংলাদেশ সর্বদা আন্তরিক সেবা প্রদান করে থাকে।

কপিরাইট অফিসটি জাতীয় গ্রন্থাগার ভবন আগারগাঁও, ঢাকা এ অবস্থিত। কপিরাইট অফিসের সাথে ই-মেইল : Copyrightoffice_bangladesh@yahoo.com, ওয়েবসাইট : www.copyrightoffice.gov.bd; Facebook ID : copyrightoffice; ফোন : ০২-৯১১৯৬৩২, ফ্যাক্স : ৮১৪৪৮৯৫; Helpline : ০১৫১১-৪৪০০৪৪ মারফৎ যোগাযোগ করা যায়। হেল্পডেস্ক ও হেল্পলাইনটি অফিস চলাকালে সর্বক্ষণ উন্মুক্ত থাকে।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.