এমপি, মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের তুলোধোনা করল তৃণমূল 

May 20, 2017 6:20 pmComments Off on এমপি, মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের তুলোধোনা করল তৃণমূল Views: 7
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube


সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান তার এলাকার সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে বলেছেন, সিলেটে ১৯টি সংসদীয় আসনে এমপিরা বিজয়ী হওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশাল ব্যবধানের সৃষ্টি হয়। জনগণ ও সাধারণ নেতাকর্মীরা এমপিদের কাছে যেতে পারে না। গতকাল গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এভাবেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি জেলা ও মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে, যে পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দুঃখী মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা থেকে বাঁচতে জামায়াত-শিবির দলে যোগ দেয়। এরা হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তিনি জামায়াত-শিবিরকে দলে না ভেড়ানোর নির্দেশ দেন। একাধিক জেলার নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তৃণমূলের কমিটি উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন বর্ধিত সভায় উপস্থিত নেতারা। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য দেন তাতে ভয় পাওয়ার কারণ আছে। রংপুর জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন কমিটি কীভাবে করা হচ্ছে, তা তিনি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, কমিটি ঢাকা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটিতে জামায়াত-শিবিরের নেতারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন রেজাউল করিম রাজু। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের ঘিরে একটি বলয়ের সৃষ্টি হয়। ওই বলয়ের বাইরে তারা আসতে পারেন না। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় ওবায়দুল কাদের দলের নেতাদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে টাকা-পয়সা নিয়ে পালাতে হবে। চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদও সহযোগী সংগঠন সম্পর্কে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সহযোগী সংগঠনগুলোকে এখান (ঢাকা) থেকে বিপরীতমুখী করা হলে অসুবিধা হয়। সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমপি সাহেব থানা আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে আওয়ামী লীগের সভাপতিকে রাখতে চান না। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করে মোসলেম উদ্দিন বলেন, অনেক সংগঠনকে দোকান বলা হয়। কেন্দ্রীয় নেতারাই তাদের ১৫-২০ জনকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক খোকা বলেন, আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খন্দকার মোশতাক ঢুকে গেছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে জাতির জনকের খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করেছিলেন। কোন্দল নিরসনের উপায় বের করার তাগিদ দিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, উনি প্রধানমন্ত্রী থাকলে আমরা ১৬ কোটি লোক থাকব। অপরদিকে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনর রশীদ বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি যদি শৃঙ্খলার বাইরে যাই, তাহলে আমাকেও চিরতরে বহিষ্কার করে দেন। সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ উল্লেখ করে সেগুলো পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। দলের বক্তব্য এক স্থান থেকে আসার পক্ষে মত জানিয়ে শেখ হারুনর রশীদ বলেন, স্পোকসম্যান যেন একজন হয়। অনেকে হলে আমাদের জন্য অসুবিধা। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ দলের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়ে ময়মনসিংহের জহিরুল হক খোকা বলেন, আপনি যদি মাফ করে দেন তাহলে অনেকে মনে করবে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে মাফ পাওয়া যায়। তারপর একই কাজ করবে। আর মাফ করবেন না। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সদস্যদের মধ্যে ‘অশুভ প্রতিযোগিতার’ কথা উল্লেখ করে তার অবসান ঘটাতে বলেন তিনি। সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন করছেন। এমপিরা কী করছেন, তাও দেখতে হবে।       প্রথম বর্ধিত সভায় উপস্থিত নেতাদের সবার কথা শোনার পর শেখ হাসিনা সমাপনী বক্তব্যে সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে দলের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে বলেন, নিজস্ব অফিস থাকা চাই। আপনারা উদ্যোগ নেন, আমরা সহযোগিতা করব। কার্যালয়গুলো সচল রেখে সরকারের উন্নয়নের প্রচার চালাতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশনা দেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি দলীয় সংসদ সদস্যদের জেলা নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে বলেন। সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিকল্পিতভাবে করার পরামর্শ দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সদস্য সংগ্রহে জেলা কমিটিকে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সাব-কমিটি করে দিতে হবে। মুড়িবই ফেরত দিতে হবে। আমি এবার হিসাব নেব। জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, পেশিশক্তি বৃদ্ধিতে অনেকেই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী এবং সন্ত্রাসীদের দলে টেনেছেন। এরা এসে দলের ক্ষতি করে, খুন করে। দয়া করে দল ভারি করার জন্য এদের টানবেন না। মামলা থেকে বাঁচতে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগীদার হতে এরা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এরা দলের মধ্যে খুন করে। তারা এতটাই শক্তিশালী হয়ে যায় যে, তাদের কনুইয়ের গুতায় আমার নেতাকর্মীরা টিকতে পারে না। গণভবনে প্রথম বর্ধিত সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা পার্টিকে আরও স্ট্রঙ্গার, আরও সুশৃঙ্খল, আরও স্মার্ট করব। স্মার্টার আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করতেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার বক্তব্যের পর ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। তারপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.