কানাডায় লিবারেল জয়ের নেপথ্যে পাঞ্জাবিরা!

October 21, 2015 5:43 pmComments Off on কানাডায় লিবারেল জয়ের নেপথ্যে পাঞ্জাবিরা!Views: 29
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube
কানাডায় লিবারেল জয়ের নেপথ্যে পাঞ্জাবিরা!
যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৫
কানাডার নির্বাচনে লিবারেল পার্টির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ভারতের পাঞ্জাবি সম্প্রদায়। দেশটিতে পাঞ্জাবি অভিবাসন ফিরে দেখতে গেলে ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক পাতা খুলে যায়। ১৯১৪ সালে একদল পাঞ্জাবি জাহাজে করে কানাডায় যেতে চাইলে ভাংকুয়ার থেকে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।

কঠোর অভিবাসী আইনের কারণে ৩৭৬ জন থেকে মাত্র ২৪ জনকে গ্রহণ করে দেশটি। বাকিরা কলকাতা বন্দরে ফিরে আসার পথে ব্রিটিশদের গুলিতে ১৯ ভারতীয় নিহত হয়। ওই ঘটনার ১০০ বছর পর সোমবার কানাডার পার্লামেন্টে ঠিক ১৯ জন ভারতীয় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির হাউস অব কমন্সে এটাই সর্বোচ্চ ভারতীয় প্রতিনিধিত্বের ইতিহাস। এর মধ্যে ১৭ জনই পাঞ্জাবি। ২০১১ সালের নির্বাচনে মাত্র ৮ জন পাঞ্জাবি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কানাডার এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচন নানা কারণে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির ১০ বছরের রক্ষণশীল শাসনের অবসান ঘটেছে লিবারেল জাস্টিন ট্র–ডিউর জয়ে। লিবারেল পার্টির নির্বাচিত এমপিদের ১৫ জন বা ১৮৪ এমপির ৮.১৫ শতাংশই পাঞ্জাবি। কানাডার সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার ৩ শতাংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। পার্লামেন্টের ৩৩৮ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৭০টি আসন।

আর পাঞ্জাবিদের জয়ে সহজেই সেই কোটা পূরণ করতে পেরেছে লিবারেল পার্টি। নির্বাচনে জেতার পর ভারত-কানাডা সংগঠন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিনকে ভারতের সঙ্গে ফার্স্ট ট্রাক বাণিজ্য চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদে সমানসংখ্যক নারী-পুরুষ রাখবেন ট্র–ডিউ : কানাডার নির্বাচনে বিজয়ী পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র–ডিউ নভেম্বরে তার সরকারের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করার ব্যাপারে মঙ্গলবার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদে সমানসংখ্যক নারী-পুরুষ রাখারও প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ৪৩ বছর বয়সী এ নেতা তার মন্ত্রিপরিষদ গঠনে নারী-পুরুষের সমতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সরকারের মন্ত্রিপরিষদে এটি রক্ষা করা হবে বলে মঙ্গলবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমি অনেক আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নির্বাচনে আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া সবকিছু পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৪ নভেম্বর কানাডার নতুন মন্ত্রিপরিষদের নাম ঘোষণা করা হবে। আগের প্রশাসনের ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ওই একই দিন ট্রুডিউ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।

কানাডার এবারের জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রায় এক দশক ধরে রক্ষণশীলদের শাসন শেষ হয়েছে এবং শুরু হয়েছে উদারপন্থীদের যাত্রা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কনজারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছে লিবারেল পার্টি। দেশটির প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ত্রুদ্যুর ছেলে, জাস্টিন ত্রুদ্যু নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারো সেই বাড়িতেই ফিরছেন, কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে, যেখানে তিনি বড় হয়েছিলেন। কানাডার সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের কনজারভেটিভ পার্টিকে সোমবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, সত্যিকারের পরিবর্তন চেয়েই কানাডীয়রা ভোট দিয়েছে। জাস্টিন ত্রুদ্যুর নেতৃত্বে মধ্যপন্থী লিবারেল পার্টি নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিল তৃতীয় অবস্থানে থাকা দল হিসেবে। তাই নির্বাচনের এই ফল চমকে দিয়েছে গোটা কানাডাকেই। পরাজয় মেনে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন স্টিফেন হার্পার, অভিনন্দন জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রীকেও। মোট ৩৩৮টি আসনের মধ্যে লিবারেল পার্টি জয়ী হয়েছে ১৮৪টি আসনে। এছাড়া কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৯৯টি আসন এবং অন্যান্য দল পেয়েছে বাকি ৫৫টি আসন।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.