গল্পঃ কখনও কেউ একজন প্রেমে পড়েছিল কুৎসিত এক ফটোগ্রাফারের!

October 27, 2013 7:57 amComments Off on গল্পঃ কখনও কেউ একজন প্রেমে পড়েছিল কুৎসিত এক ফটোগ্রাফারের!Views: 9
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube
শুঁটকি মাছ

গল্পঃ কখনও কেউ একজন প্রেমে পড়েছিল কুৎসিত এক ফটোগ্রাফারের!

একটা মানুষ এতটা নির্বিকার হয় কিভাবে তা আমার জানা নেই।আমার তো রূপের অন্ত নেই।অথচ সামান্য এই লোকটা কখনও আমার দিকে ফিরেও তাকায় না।আমার প্রতি অবহেলা আমি সইতে পারিনা।এ আমার বেহিসাবি অহংকার নয়।আমি জানি আমার কতটা সৌন্দর্য,আমি জানি,আমি কতটা যৌবনবতী,আমি জানি আমি কতটা রহস্যময়ী! অথচ এই মানুষটা দিনের পর দিন আমাকে অগ্রাহ্য করে চলেছে।

এই সামান্য লোকটা কোনোদিন আমার দিকে ফিরে তাকায়নি।আমার নারীসত্তাকে সে দিনের পর দিন অগ্রাহ্য করে চলেছে। আমাকে গ্রাহ্য না করে এমন সব মেয়েদের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে,যারা সৌন্দর্যে কোনোদিন আমার নখের কাছেও আসতে পারবেনা।
তবু আমি এই লোকটার প্রেমে পড়েছি।এই কুৎসিত গরীর ফটোগ্রাফারটাকে ভালবেসেছি যে কিনা শিল্প-সৌন্দর্যের ধার ধরে ছবি তোলে না,বরং ছবি তোলে সামান্য কটা টাকার বিনিময়ে।

মেয়েদের দেখলেই কি যে ন্যাকামো করে বলে, “একটা ছবি তুলবেন আপু?”
মেয়েগুলোও আমার সামনেই ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে যায়।আমি মাঝে মাঝে এই মেয়েগুলো আহাম্মকি দেখে বিস্মিত হই। ওরা নিজেদের কোন সাহসে সুন্দরী ভাবে? কোন আস্পর্ধায় আমার মত সুন্দরীর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে?

সব মিলিয়ে আমি একটা অদ্ভুত অবস্থায় আছি। এর আগে আমি কখনও এতটা ঈর্শান্বিত হইনি,আমি এর আগে কোনোদিন এত আবেগী হইনি।কিন্তু আজ এই কুৎ্সিত ফটোগ্রাফারটা যেন আমাকে মোহগ্রস্থ করে ফেলেছে।আমি মুগ্ধদৃষ্টি নিয়ে মাঝে মাঝে এই লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকি। কুৎসিত মুখটাকে ভীষন মায়াময় মনে হয়। মাঝে মাঝে ওর কাছে কেউ ছবি তুলতে আসে না। বারবার ডেকেও ও কারো সারা পায় না। বিষন্ন হয়ে একটা পাথরের উপর বসে বসে কি যেন চিন্তা করতে থাকে। আমার বড় মায়া হয়। আমার ইচ্ছে হয় আমি ওর মাথায় একটূ হাত বুলিয়ে দেই।

সকাল-দুপুর এই ফটোগ্রাফার আমাকে অবজ্ঞা করে একের পর এক ছবি তুলে যায়। এই মানুষটা কোনো দিন একটা বারের জন্যেও আমার ছবি তোলেনি। শুধু আমার একার ছবি যে তোলেনি তা অবশ্য ভুল। আরো একজনের ছবি এই ফটোগ্রাফার তোলেনি। সেই মানুষটা হল ফটোগ্রাফারের স্ত্রী! ফটোগ্রাফারের স্ত্রীও কুৎসিত! তবু আমি এই কুৎসিত নারীকে ঘৃণা করি। এই নারীকে ফটোগ্রাফার ভালোবাসে। ফটোগ্রাফার আমার মত অনন্ত যৌবনাকে উপেক্ষা করায় সাহস পায় কেবল এই নারীকে ভালবাসে বলেই। আমার শরীরে নীল আকাশের ছায়া জড়ানো শাড়ী,আমার ঢেউয়ের আমন্ত্রণ,আমার বিশালতাকে ফটোগ্রাফার দিনের পর দিন উপেক্ষা করে চলেছে এই নারীর কেবল এই নারীর প্রেমে অন্ধ হয়ে।

হ্যা,আমিই সাগর কুমারী!আমার সৌন্দর্যে দিশেহারা হয়ে প্রেমিকের দল ছুটে আসে,আমার মোহে পড়ে ভারী হয় মোহগ্রস্থ কবির কবিতার খাতা,আমাকে এক নজর দেখতে না পেয়ে কত মানুষের সারাজীবনের আফসোস থেকে যায়! আর সেই আমি অবহেলিত হলাম এক কুৎসিত ফটোগ্রাফারের কাছে।এই অদ্ভুত নিয়তি!

উৎসঃ  সামহোয়ারইনব্লগ

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.