আড়িয়াল বিলহঠাৎ একদিন আমরা অফিসের কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম কোনো এক ছুটির দিনে ‘আড়িয়াল বিল’ দেখতে যাব। সুতরাং যেমন কথা তেমনি কাজ, দিনক্ষণও ঠিক করে ফেললাম। আর সেই মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠল ঢেউবিহীন বিশাল এক পানির সাম্রাজ্য, যেই বিলের জলে গোলাপী, সাদা রঙের অজস্র শাপলা ফুলের কলি ফুটে থাকে। আর যেখানে সারাক্ষণ আকাশজুড়ে উড়ে বেড়ায় জানা-অজানা নানা প্রজাতির পাখিরা। তারপর একদিন রওনা দিলাম এই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়া ঘাটের গাড়িতে উঠলাম।

যেহেতু শরৎকাল তাই শ্রীনগর বাজারের চারপাশটা পানিতে ভরপুর আর নদীর দু’ধারে প্রচুর কাশ ফুল ফুটে আছে। কালভার্টের নিচ দিয়ে বিলের দিকে ছুটছে খালের পানি। সেদিকে তাকিয়েই মনটা আনন্দে নেচে উঠল। সেখানে পৌঁছে ভেজবাজার নামের এক জায়গা থেকে ট্রলার নিলাম আমরা। দিনচুক্তি ভাড়া হয়। আমাদের বিকেলে আবার এখানে নামিয়ে দিয়ে যাবে। ট্রলারঘাট থেকে ছোট্ট একটা খাল পেরিয়ে মূল বিলে যেতে হয়। আড়িয়াল বিলে শুরুর দিকের পানিটুকু অনেক ঘোলা। কিছুদূর যাবার পরই বদলে যেতে থাকে বিলের দুপাশের দৃশ্যপট। সবুজের মিছিলে একটু একটু করে জানান দিতে থাকে নীলচে রঙের পানি। সেই পানির ওপর সাদাটে তুলার মতো মেঘের চেহারা ফুটে উঠেছে। চোখের সামনে শুধু সবুজ কলমিশাক আর নীলচে পানি।

একসময় অজানা লতায় আটকে গেল আমাদের ট্রলারের প্রপেলার। এরপরই আবার যখন ট্রলার চলা শুরু হলো, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠল সুন্দর সব দৃশ্য। খোলা জলাপ্রান্তর পেরোতেই হঠাৎ কচুরিপানার ঘেরে ঢুকে পড়লাম। সেখান থেকে বের হয়েই শাপলা ফুলের অরণ্যে ঢুকে পড়ি আমরা। হঠাৎ সামনে এসে পড়ল একটা হিজলগাছ। তারপর কিছুদূর যেতেই সামনে পড়ল স্বচ্ছ পানি। চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভুবনচিল আর চিংড়ির দৌড়ঝাঁপ। অনেক নদ-নদী-খাল আর সাগর দেখা শেষে এবার স্মৃতিতে গেঁথে রাখলাম বাংলাদেশের একটা ‘আড়িয়াল বিল’।

ঢাকা থেকে এই আড়িয়াল বিলে একদিনেই ঘুরে আবার দিনে দিনে ফিরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে ‘ইলিশ বাসে’ করে মাওয়া ফেরিঘাটের দিকে রওনা দেবেন। মাঝপথে শ্রীনগরের ভেজবাজারে নামতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা করে। চাইলে দুপুরের খাওয়াটা সেখানেই সেরে নিতে পারেন। আড়িয়াল বিল ঘোরার জন্য ভেজবাজার থেকে ভালো একটা ট্রলার দেড় হাজার টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য যে সকল দর্শনার্থীরা যান তাদের সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ- আমাদের দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্র এবং অপার সৌন্দর্যের এই জলাভূমিকে রক্ষা করুন। এখানে ঘুরতে যাওয়ার পর জায়গাটি পরিষ্কার রাখার দিকে বিশেষ নজর দিন। যাতে ভবিষ্যতে এই বিলটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শুধুমাত্র দেশীয় দর্শনার্থীই নয় যেন বিদেশী পর্যটকরাও এখানে ভিড় করে।
সূত্রঃ বিডিএনভায়রনমেন্ট ডট কম