চির রহস্যময় এক কিংবদন্তী-খনা!

March 9, 2015 10:48 pmComments Off on চির রহস্যময় এক কিংবদন্তী-খনা!Views: 179
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

চির রহস্যময় এক কিংবদন্তী-খনা!

image

জাভিদ হাসান: অবাক হওয়া আর মুগ্ধ হওয়ার সেই ছেলেবেলা থেকেই আমি এই দুই বিশেষ রোগে আক্রান্ত। আমার বাসার মানুষজন, আতœীয়-স্বজনেরা আমার সেই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে এতই ওয়াকিবহাল যে আমি যদি আমার কোনো পরম বিস্ময়কর ঘটনা নিয়ে চরম বিস্মিত হয়ে কাউকে কিছু বলতে যাই বা অসম্ভব মুগ্ধ হয়ে কাউকে তা জানাতে যাই, শোনার আগেই সবাই দূর দূর করে ওঠে, “যা যা হইছে! এইটা কোনো অবাক হবার মত ব্যাপার হলো?” যাইহোক, তারপরও আমি নিশ্চিৎভাবে বলতে পারি ছোটবেলায় যে কেউই আমার মতই বিস্মিত হয়েছিলেন তার কথা শুনে। আমার অসংখ্য চিরবিস্ময়, চির ভালোলাগার, ভালোবাসার অদেখা অজানা সেই মানুষটি একজন নারী। পৃথিবীর অসংখ্য রহস্যময়ী নারীকুলের মাঝেও তিনি আমার চোখে অনন্যা একজন। আমার চোখে তার শ্রেষ্ঠত্বের দিকটি তার বুদ্ধিমত্তা। তার সম্পর্কে আমি যতটুকু জেনেছি, তাতে তাকে আমার ‘অলৌকিক’ কোনো রহস্যময়ী নারী বলেই মনে হত। আমার ছোট্ট মাথায় কিছুতেই ঢুকতোনা কি করে এমন অবলীলায় ভবিষ্যৎ গণে বলে দেয়া যায়। তাও আবার শুধু আগামীর কথা বলে দেয়াই নয়। রীতিমত তা ছড়া ও ছন্দে! তার মানে একাধারে তিনি ছড়াকার, জ্যোতিষী, অতীব বুদ্ধিমতী, রহস্যময়ী একজন রমণী। এতক্ষণে নিশ্চয় সবাই বুঝে গেছেন কার কথা বলতে আমিও এত রহস্য করলাম। তিনি বিরল প্রতিভার অধিকারী, রহস্যের আঁধার, নিখুঁত ভবিষ্যৎ বক্তা, ছড়াকার খনা বা ক্ষণা। তার আবহাওয়া , জ্যোতিষ ও ভূ-তত্ব ভেদে শস্যের ক্ষয়ক্ষতি ও ফলন সম্পর্কে বলা বচনগুলো সবই অদ্ভুত রকমের নির্ভুল এক বিস্ময়। খনা এক কিংবদন্তীর নাম। তাকে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানারকম কাহিনী। তার আবির্ভাব সম্পর্কে সঠিকভাবে তেমন তথ্য জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয় ৮শ’ থেকে ১২শ’ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তার আবির্ভাব ঘটেছিল। কিংবদন্তী অনুযায়ী তাঁর বসবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাতের দেউলি গ্রামে। শোনা যায় তাঁর পিতার নাম ছিল অনাচার্য । সে সময় চন্দ্রকেতু রাজার আশ্রম চন্দ্রপুরে বাস করতেন খনা। এক শুভক্ষণে জন্ম হওয়ায় তার নাম দেওয়া হয় ক্ষণা বা খনা। কথিত আছে তার আসল নাম লীলাবতী আর তার ভবিষ্যত বাণীগুলোই খনার বচন নামে বহুল পরিচিত। আবার আরও এক কিংবদন্তী বলে খনা ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা। তখন বিক্রমপুরের রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহ (উপমহাদেশের প্রাচীন রাজ্য অবন্তী তথা উজ্জয়নীর রাজা হর্ষ-বিক্রমাদিত্যের রাজপ্রাসাদে প্রধান জ্যোতির্বিদ ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত বরাহ) তার শিশুপুত্র মিহিরের জন্ম লাভের পর গণনা করে দেখেন যে তাঁর আয়ু মাত্র এক বছর। তাই শিশুটিকে তিনি একটি পাত্রে করে সাগরের জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌঁছায় এবং সিংহল রাজ তাকে লালন-পালন করেন। বড় হবার পর সিংহল রাজা যুবক মিহিরকে খনার সাথে বিয়ে দেন। সেখানে ধীরে ধীরে মিহির ও খনা জ্যোতিষ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করতে থাকেন। আবার আরেক কাহিনীতে শোনা যায়, সাগরে ভাসতে ভাসতে শিশু পুত্রটি চলে যায় অনেক দূরের এক রাজ্যে, সাগর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাক্ষস সম্প্রদায়। বড় হতে থাকে রাক্ষসদের মধ্যে। ষোল বছর বয়সে ক্ষুরধার বুদ্ধির এক রাক্ষস মেয়ের প্রেমে পড়ে ও বিয়ে করে তাকে। মেয়েটি তার জ্যোতির্জ্ঞান প্রয়োগে জানতে পারে তার স্বামী মিহির উজ্জয়নীর বিখ্যাত পন্ডিত বরাহের পুত্র। একদিন দুজন মিলে রওয়ানা দেয় উজ্জয়নীর পথে। পুত্র-পুত্রবধূর পরিচয় পেয়েও রাজপ্রাসাদে তাদের গ্রহণ করতে চাইলেন না বরাহ। কারণ তিনি তার গণনায় অনেক আগেই জানতে পেরেছিলেন যে, এক বছর বয়সেই তাঁর পুত্র মিহিরের মৃত্যু ঘটবে। খনা তখন তাঁর একটি বচন দিয়ে শ্বশুরের গণনা ভুল প্রতিপন্ন করেন- ‘কিসের তিথি কিসের বার, জন্ম নক্ষত্র কর সার কি করো শ্বশুর মতিহীন, পলকে আয়ু বারো দিন।’ তার মানে এ গণনায় মিহিরের আয়ু ১শ’ বছর। পন্ডিত বরাহ তখন উৎফুল্ল চিত্তে খনা ও মিহিরকে গ্রহণ করেন। কৃষিকাজে খনার ছিল অগাধ জ্ঞান আর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে আবহাওয়ার চমৎকার পূর্বাভাস দিতে পারত সে। উজ্জয়ীনির কৃষকরা ব্যাপক উপকার লাভ করে তার কাছ থেকে, আর তা দেখে রাজা বিক্রমাদিত্য মেয়েটিকে তার রাজ্যের দশম রতœ হিসেবে আখ্যা দেন। মেয়েটির জ্ঞানে সারা রাজ্য, রাজপ্রাসাদের অমাত্যবর্গ মুগ্ধ হয়ে পড়ে, পন্ডিত বরাহের মূল্য কমে যায়। একদিন বরাহ জনসমক্ষে এক বিতর্কে পুত্রবধূর হাতে পরাস্ত হন। ঈর্ষাপরায়ণ বরাহ চতুর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুত্রকে আদেশ দেন মেয়েটির জিহ্বা কেটে ফেলতে যাতে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার কন্ঠ। পরম পিতৃভক্ত পুত্র সে আদেশ পালন করেন। শোনা যায় খনার সেই কর্তিত জীহ্বা টিকটিকি খেয়ে ফেলায় টিকটিকির মাঝেও খনার সেই অপরিসীম গুণাবলীর কিছু ছায়া আমরা আজও দেখতে পাই। যে কোন কথার মাঝে টিকটিকি যখন বলে ‘টিকটিক, তার মানে ঠিকঠিক ’। বিজ্ঞজনের মত, সে সায় দিয়ে যায় সে কথাটির সত্যতায়।এছাড়াও এমনটিও কথিত আছে যে, বৌ- শাশুড়ির দ্বন্ধও খনার জীহ্বা কেটে নেয়ার জন্য আরও একটি কারণ হতে পারে। সে যাই হোক, পরবর্তীতে নাকি খনা আর বেশি দিন বাঁচেনি। এমন একজন বুদ্ধিমতী রমণীর এমন মর্মান্তিক অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নেবার মত নয় ও রীতিমত দুঃখজনক ঘটনা। তারপরও তার মৃত্যু কেড়ে নিতে পারেনি তার যথার্থ সম্মানকে । গ্রাম বাংলা ও শহুরে পরিবেশে প্রায়ই আমরা খনা ও তার বচনকে আজও স্মরণ করি। কলকাতা শহরের ৪০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে বারাসাত নগরীর কাছে বীরচম্পা নামক স্থানে দেখা যায় প্রাচীন এক ভগ্নাবশেষ! ধারণা করা হয়, এখানেই ছিল রাজা চন্দ্রকেতুর প্রাসাদ। কৃষিকাজ বা অন্যান্য খননকাজে মাটির নীচ থেকে প্রায়ই বেরিয়ে আসে নানা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন মুদ্রা, পুঁতি, পাথর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য। এখানেই, মহাসড়কের উত্তর পাশে শায়িত সমাধিফলকের মত শুয়ে রয়েছে এক ইটের স্থাপনা। বহুভুজাকৃতির উঁচু এই স্থাপনাটি কৌতূহল জাগানোর মত উত্তর-দক্ষিণে সুবিন্যস্ত , এছাড়া পাশে রয়েছে আরো কিছু স্থাপনা। এটিই খনা-মিহিরের থান নামে পরিচিত। খনা সম্পর্কে যত রকম গল্পই প্রচলিত থাকুক না কেনো সব গল্পের শেষেই তার করুণ মৃত্যুর কারণ তার অসাধারণ প্রজ্ঞা। যার কারণে ঈর্ষার শিকার হতে হয়েছিলো এই অসাধারণ মানুষটিকে। খনার কিছু বচন…. ১)মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা ২)কলা রুয়ে না কাটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত ৩)ব্যাঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান ৪)আকাশে কোদালীর বাউ। ওগো শ্বশুর মাঠে যাও।। মাঠে গিয়া বাঁধো আলি। বৃষ্টি হবে আজি কালি।। ৫)যদি হয় সুজন এক পিঁড়িতে নয় জন। যদি হয় কুজন নয় পিঁড়িতে নয় জন ৬) শোল বোয়ালের পোনা যার যারটা তার তার কাছে সোনা। ৭))পরের বাড়ির পিঠা খাইতে বড়ই মিঠা ৮)কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস! ৯)চোরের মার বড় গলা লাফ দিয়ে খায় গাছের কলা ১০)নদীর জল ঘোলাও ভালো, জাতের মেয়ে কালোও ভালো ১১) দক্ষিণ দুয়ারি ঘরের রাজা উত্তর দুয়ারি তাহার প্রজা। পূর্ব দুয়ারির খাজনা নাই পশ্চিম দুয়ারির মুখে ছাই।। ১২)ডাক দিয়ে বলে মিহিরের স্ত্রী, শোন পতির পিতা, ভাদ্র মাসে জলের মধ্যে নড়েন বসুমাতা। রাজ্য নাশে, গো নাশে, হয় অগাধ বান, হাতে কাটা গৃহী ফেরে কিনতে না পান ধান। ১৩)কি করো শ্বশুর লেখা জোখা, মেঘেই বুঝবে জলের রেখা। কোঁদাল কুড়–লে মেঘের গাঁ, মধ্যে মধ্যে দিচ্ছে বা। কৃষককে বলোগে বাঁধতে আল, আজ না হয় হবে কাল। ১৪)সাত পুরুষে কুমারের ঝি, সরা দেইখা কয়, এইটা কি? ১৫) ফল খেয়ে জল খায় যম বলে আয় আয়।
(ক)
‘খনা বলে শুন কৃষকগণ/ হাল লয়ে মাঠে বেরুবে যখন/ শুভ দেখে করবে যাত্রা/ না শুনে কানে অশুভ বার্তা।/ ক্ষেতে গিয়ে কর দিক নিরূপণ/ পূর্ব দিক হতে হাল চালন/ নাহিক সংশয় হবে ফলন।’
(খ)
‘খনা বলে শুনে যাও,/ নারিকেল মূলে চিটা দাও।/ গাছ হয় তাজা মোটা,/ তাড়াতাড়ি ধরে গোটা।’
(গ)
‘পূর্ণিমা অমাবস্যায় যে ধরে হাল,/ তার দুঃখ হয় চিরকাল।/ তার বলদের হয় বাত,/ তার ঘরে না থাকে ভাত।/ খনা বলে আমার বাণী,/ যে চষে তার হবে জানি।’
(ঘ)
‘খনা বলে চাষার পো,/ শরতের শেষে সরিষা রো।’
(ঙ)
‘বৎসরের প্রথম ঈষাণে বয়,/ সে বৎসর বর্ষা হবে খনা কয়।’
(চ)
‘উঠান ভরা লাউ শসা,/ খনা বলে লক্ষ্মীর দশা।’
(ছ)
‘খনা ডাকিয়া কন,/ রোদে ধান ছায়ায় পান।’
(জ)
‘ডাক দিয়ে বলে মিহিরের স্ত্রী, শোন পতির পিতা,/ ভাদ্র মাসে জলের মধ্যে নড়েন বসুমাতা।/ রাজ্য নাশে, গো নাশে, হয় অগাধ বান,/ হাটে কাটা গৃহী ফেরে কিনতে না পান ধান।’
(ঝ)
‘ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা,/ তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান।/ খনার বচন, মিথ্যা হয় না কদাচন।’
(ঞ)
‘মাঘ মাসে বর্ষে দেবা,/ রাজায় ছাড়ে প্রজার সেবা।/ খনার বাণী,/ মিথ্যা না হয় জানি।’
(ট)
‘ধানের গাছে শামুক পা,/ বন বিড়ালী করে রা।/ গাছে গাছে আগুন জ্বলে,/ বৃষ্টি হবে খনায় বলে।’
(ঠ)
‘কচু বনে ছড়ালে ছাই,/ খনা বলে তার সংখ্যা নাই।’
(ড)
‘যে গুটিকাপাত হয় সাগরের তীরেতে,/ সর্বদা মঙ্গল হয় কহে জ্যোতিষেতে।/ নানা শস্যে পরিপূর্ণ বসুন্ধরা হয়,/ খনা কহে মিহিরকে, নাহিক সংশয়।’

দিনে জল রাতে তারা, এই দেখবে খরার ধারা।

অর্থঃ বর্ষার শুরুতে যদি দিনে বৃষ্টিপাত হয় আর রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে সে বছর খরা হবে।

আষাঢ় নবমী শুক্ল পক্ষা, কি কর শ্বশুর লেখা জোখা

যদি বর্ষে মুষল ধারে, মাঝ সমুদ্রে বগা চড়ে

যদি বর্ষে ছিটে ফোটা, পর্বতে হয় মীনের ঘটা

যদি বর্ষে রিমঝিমি, শস্যের ভার না সহে মেদেনী

হেসে সূর্য বসেন পাটে, চাষার বলদ বিকোয় হাটে।

অর্থঃ আষাঢ় মাসের প্রথম চাঁদের শুক্ল পক্ষের নবমীর দিন অর্থাৎ চন্দ্র মাসের নয় তারিখে যদি মুষল ধারে বৃষ্টি হয় তাহলে বর্ষা কম হবে। যদি সামান্য ছিটে ফোটা বৃষ্টি হয় তাহলে বর্ষা বেশী হবে। সেদিন মাঝারী বৃষ্টিপাত হলে ফসলের উৎপাদন ভালো হবে আর যদি আদৌ বৃষ্টি না হয় তাহলে সেবছর ভালো ফসল হবেনা।

স্বর্গে দেখি কোদাল কোদাল মধ্যে মধ্যে আইল

ভাত খাইয়া লও শ্বশুর মশাই বৃষ্টি হইবে কাইল।

অর্থঃ যদি ছোট ছোট খন্ড খন্ড মেঘে আকাশ ভর্তি থাকে তাহলে পরদিন বৃষ্টি হবে।

চৈতে কুয়া ভাদ্রে বান, নরের মুন্ড গড়াগড়ি যান।

অর্থঃ চৈত্র মাসে কুয়াশা অথবা ভাদ্রমাসে বন্যা দেখাদিলে মহামারী হয়।

যদি ঝরে কাত্তি, সোনা রাত্তি রাত্তি

যদি ঝরে আগন, হাতে কুলায় মাগন।

অর্থঃ কার্তিক মাসে বৃষ্টি হলে ধানের উৎপাদন ভালো হয়। আর অগ্রহায়ণে বৃষ্টি হলে ধান নষ্ট হবে।

জৈষ্ঠ্যে শুখা আষাঢ়ে ধারা, শস্যের ভার সহে ধরা।

অর্থঃ জৈষ্ঠ্যমাসে প্রচন্ড খরা হলে আষাঢ় মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সে বছর প্রচুর ফসল ফলবে।

পশ্চিমে ধনু নিত্য খরা, পূর্বে ধনু বর্ষে ধারা।

অর্থঃ পশ্চিমে রংধনু দেখা গেলে সেটা খরার লক্ষণ আর পুবে রংধনু দেখা গেলে বৃষ্টিপাতের লক্ষণ।

দূর সভা নিকট জল, নিকট সভা রসাতল।

অর্থঃ চন্দ্রসভা বা চাঁদের চারিদিকে মেঘের বৃত্ত বড় হলে তাড়াতাড়ি প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আর চন্দ্রসভা ছোট আকৃতির হলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।

ধানের গাছে শামুকের পা, বন বিড়ালী করে রা

গাছে গাছে আগুল জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে।

অর্থঃ শামুক ধান গাছ বেয়ে উপরে উঠতে থাকলে শিঘ্রই প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে।

আমে ধান, তেতুলে বান।

অর্থঃ যে বছর আম বেশী ফলে সেবছর ধানও বেশী হয়। যেবছর তেতুল বেশী ফলে সে বছর ঝড় বন্যা বেশী হয়।

বিয়ানে আউলি বাউলি, দুপুরে বাউ, দিনে বলে খরানের ঘর যাও।

অর্থঃ সকালে মেঘলা আকাশ দুপুরে প্রবল বাতাস খরার লক্ষণ।

চাঁদের সভায় বসে তারা, জল পড়ে মুষল ধারা।

অর্থঃ চন্দ্রসভার ভেতরে তারা দেখা গেলে মুষল ধারায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগে পাছে ধনু চলে মীন অবধি তুলা

মকর মুম্ভ বিছা দিয়া কাল কাটায়ে গেলা।

অর্থঃ পৌষ মাসের ৩০ দিন কে ১২ ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগে আড়াই দিন করে পরে। এর প্রথম ও শেষ সোয়া দিন পৌষের জন্য রেখে প্রথম সোয়া দিনের থেকে প্রতি আড়াই দিন ক্রমে মীন অর্থ্যাত চৈত্র মাস থেকে প্রতি মাসের জন্য গণনা করতে হবে। পৌষের এই ভাগ সমুহের ক্রমে যে আড়াই দিনে যেরুপ আবহাওয়া থাকবে সেই মাসেও তদ্রপ আবহাওয়া হবে।

সবশেষে বলি, মূলত এই বচনটি থেকেই খনাকে চেনার সূচনা আমার। মনে পড়ে, খুব ছোটবেলায় এই বচনটি দিয়েই দাদীর মুখে শুনেছিলাম প্রথম তার কথা। আর এটাও জানি তার এত শত অমর বচন ছড়িয়ে রয়েছে আজও গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে, যার শেষ কখনও হবেনা যতদিন পৃথিবী জেগে রইবে। প্রখর বুদ্ধিমতী, জ্যোতিষবিদ, কিংবদন্তীর এই জ্ঞানী-গুণী মানুষটির প্রতি তাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সূত্র: পত্রদূত

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.