জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাজার দরের দেড় গুণ থেকে বাড়িয়ে তিন গুণ

জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাজার দরের দেড় গুণ থেকে বাড়িয়ে তিন গুণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদের বৈঠকে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল বিল-২০১৭’ পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিকাল পাঁচটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্যের দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়।১৯৮২ সালের অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড রিকুইজিশন অব ইমুভেবল প্রোপার্টি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে নতুন এই আইনটি করা হয়েছে। সামরিক শাসনের সময় জারি করা ওই অধ্যাদেশ উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাংলা করে নতুনভাবে এই আইনটি পাস হলো।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় ১২ মাসের জমি কেনাবেচার দলিলের গড় বিবেচনায় নিয়ে জমির দাম নির্ধারণ করা হবে। সরকারি প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করলে বাজার দরের ওপর অতিরিক্ত ২০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করলে বাজার দরের ওপর অতিরিক্ত ৩০০ ভাগ দাম দিতে হবে। বিলে বলা আরও হয়, ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশানের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে জনপ্রয়োজনে বা জনস্বার্থে একান্ত অপরিহার্য হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থে স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণ সাপেক্ষে কেবল ওই ধরনের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা যাবে।

বিদ্যমান আইনে অতিরিক্ত জেলা বা দায়রা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আরবিট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হতো। প্রস্তাবিত আইনে যুগ্ম জেলা জজ বা সাব-জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে আপিলে থাকবেন জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে ভূমিমন্ত্রী বলেন,‘বর্তমান অধ্যাদেশে অধিগ্রহণ পদ্ধতি সময়োপযোগী না হওয়ায় এবং অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে ক্ষতিপূরণের বিধান না থাকায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন-২০১৭ সময়োপযোগী বিধিবিধান ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত করে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।’

By Ekush News Desk on September 14, 2017 · Posted in অর্থনীতি

Sorry, comments are closed on this post.