জীবনের জানালাগুলো: সুজিত মোস্তফা

September 1, 2015 5:21 amComments Off on জীবনের জানালাগুলো: সুজিত মোস্তফাViews: 54
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

জীবনের জানালাগুলো

জাহিদ হোসাইন খান |

১৫তম নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন: ৩০ আগষ্ট ২০১৫ তে সুজিত মোস্তফা

১৫তম নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন: ৩০ আগষ্ট ২০১৫ তে

মেয়ে অপরাজিতা মোস্তফার সঙ্গে দারুণ সখ্য তাঁর, পাঞ্জাবিতেই স্বচ্ছন্দনজরুলসংগীত শিল্পী, সংগঠক ও গবেষক সুজিত মোস্তফা। ভালোবাসেন ঘুরতে, রান্না করতে আর আড্ডা দিতে। হাল প্রযুক্তির যন্ত্রের প্রতি আছে প্রবল আগ্রহ।

আড্ডাপ্রিয় মানুষ তিনি। কৌতুক আর নানা গল্প-কাহিনির মিশেলে বাসার বসার ঘরকে আড্ডার হেঁশেল বানিয়ে ফেলতে তাঁর জুড়ি নেই। তিনি নজরুলসংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা। যে ঘরে রেয়াজ করেন, সেই ঘরেই বসান তাঁর আড্ডা। সংগীতাঙ্গনের মানুষ থেকে শুরু করে আড্ডাপ্রিয় হাসিমুখের অনেক মানুষই আসেন তাঁর আড্ডায়। সুজিত মোস্তফা বলেন, ‘জীবনটাই তো সুর। আর আড্ডা তার প্রাণ।’

সাইকেল চালানো সুজিত মোস্তফার শখ। ছবি: সুমন ইউসুফপেশা আর মনেপ্রাণে সংগীতের সাধক হলেও আধুনিকতায় সব সময় হালনাগাদ থাকেন তিনি। নিজেকে ‘গ্যাজেটফ্রিক’ বলে জানান। ‘প্রতিদিনকার প্রযুক্তিপণ্যের প্রতিই আগ্রহ আমার। নিত্যনতুন প্রযুক্তির মুঠোফোন আর ল্যাপটপ কেনার বাতিক আছে আমার।’ ঢাকার কলাবাগানে সুজিত মোস্তফার বাসায় গিয়ে তাঁর রেয়াজের ঘরে তাই দেখা গেল একদিকে তানপুরা, হারমোনিয়াম আর আরেক দিকে অ্যাপল ম্যাক কম্পিউটার। অ্যাপলের আইফোন, স্যামসাং, এলজি আর এখন গুগলের স্মার্টফোন নেক্সাসের কারিগরি কী সুবিধা বেশি, তা নিয়ে আগ্রহ তাঁর।

কিশোর বয়সে মাসুদ রানা হওয়ার শখ ছিল বলেই হয়তো ঘোরাঘুরি আর বই পড়া টানে তাঁকে। তিনি বলেন, ‘দিগন্তবিস্তৃত আকাশ আর নদী টানে আমায়। দেশে-বিদেশে সব জায়গাতেই ঘুরতে ভালো লাগে আমার।’ নিজে গাড়ি চালাতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান।

পোশাক নিয়ে বলেন, ‘আমার প্রিয় পোশাক টি-শার্ট। নানা রঙের টি-শার্ট পরার আনন্দ অন্য রকম।’ গাঢ় রঙের টি-শার্টই পরতে পছন্দ করেন সুজিত মোস্তফা।
ঘড়ি পরতে পছন্দ করেনপ্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত সংগীত নিয়ে কাটালেও মাঝেমধ্যে হেঁশেলে তিনি পা রাখেন। স্ত্রী মুনমুন আহমেদের চেয়েও গরুর মাংস ভালো রান্না করেন বলে তাঁর পরিচিত মহলে সুনাম আছে। আর প্রিয় খাবার খিচুড়ি আর গরুর মাংস পেলে দুনিয়ার সব কাজ ভুলে যাওয়ার বাতিক আছে তাঁর। আইসক্রিমের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও গলাভাঙার ভয়ে তা জিবে নেন না তিনি।

প্রযুক্তির কল্যাণে তাঁর প্রতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোয় চোখ থাকে। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগের সাইটে আমি সরব। আমার বয়স শরীরে একটা আর মনে আরেকটা, সেটা তরুণ।’

শুটিং, নাচ-গান আর নানা সংস্কৃতির কাজ নিয়ে পরিবারের সবাই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকলেও সন্ধ্যার পরে নিয়মিত সবাই এক হন। মেয়ে অপরাজিতা মোস্তফার সঙ্গে দারুণ সখ্য তাঁর। মেয়ের সঙ্গে সিনেমা দেখা, নানান গল্প করেই সময় কাটে তাঁর। ‘হালের স্টিফেন হকিংয়ের জীবনী নিয়ে দ্য থিওরি অব এভরিথিং থেকে শুরু করে সব ধরনের থ্রিলার আর অ্যাকশন সিনেমার পাগল আমি।’ বলেন তিনি। মেয়ের পড়াশোনা আর নাচের দুনিয়ার সব খোঁজখবর নেওয়া চাই তাঁর।

প্রতিদিন সকালে উঠেই রেয়াজ করেনসিনেমার মতোই থ্রিলার বইয়ের ভক্ত তিনি। আর নিয়মিত খেলার দুনিয়ার খবর না নিলেই চলে না তাঁর। ছোটবেলায় ফুটবল-হকি-ক্রিকেট খেলে বাসায় পুরস্কার হিসেবে পাওয়া হারিকেন জমানোর শখ ছিল তাঁর, এখন না খেললেও খেলার খবর রাখা চাই-ই-চাই।

ঘড়ি পরার শখ আছে সুজিতের। ফসিল, রাডো ব্র্যান্ডের ঘড়ি নিয়মিত পরেন। উৎসবে-আনন্দে নানা অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি পরার চেষ্টা করেন তিনি। নৃত্যশিল্পী স্ত্রী মুনমুন আহমেদের কিনে দেওয়া যেকোনো পাঞ্জাবিতেই স্বচ্ছন্দ তিনি। মাঝেমধ্যে সাইকেল চালানোর শখ আছে তাঁর।

প্রতিদিন সকালে উঠেই রেয়াজের ঘরে চলে যান। সঙ্গে যায় এক কাপ চা। বন্ধুমহলে সুজিতের চা বানানোর খ্যাতি আছে। সংগীতজীবন মানেই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বলে তিনি মনে করেন। নিয়ম আর মনন এক করেই মানুষ সামনে এগিয়ে যেতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস। তরুণদের নিষ্ঠা, সততা আর একাগ্রতা নিয়ে সংগীতসাধনার পরামর্শ দিয়ে তিনি নিজেই বসে যান ত্রিশ বছরের পুরোনো তানপুরার ছন্দে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.