ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় : সিস্টেমে ধস ও ‘আরব বসন্তে’র আর্থিক ক্ষতি ৮৩ হাজার কোটি ডলার

November 15, 2016 8:12 pmComments Off on ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় : সিস্টেমে ধস ও ‘আরব বসন্তে’র আর্থিক ক্ষতি ৮৩ হাজার কোটি ডলারViews: 22
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় : সিস্টেমে ধস

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়কে বিশ্লেষকেরা নজিরবিহীন হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে এটাকে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক ঘটনা । কিন্তু ট্রাম্পের জয় কি সত্যিই পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল? সাম্প্রতিক  সময়ে মার্কিন রাজনীতিতে যেসব সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলো বিবেচনায় নিলে ট্রাম্পের জয়কে একেবারে স্বাভাবিক পরিণতিই বলা যায় ।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেম’ এতোদিন ধরে প্রচার-প্রচারণাসহ নানা মাধ্যমে ধামা-চাপা দিয়ে আসছিল যে, ওই সমাজটিতে কোনো বিভক্তি নেই, বিভাজন নেই, কোনো ভাঙ্গন নেই। কিন্তু এই নির্বাচনের অনিবার্য ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত বিভক্তি, ভাঙ্গন আর ফাটল এখন স্পষ্টাকারে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ঐক্যবদ্ধ সমাজ নয়; বিভক্ত । এই বিভক্তি আর ফাটল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ সব ক্ষেত্রেই। ওই সমাজটিতে ধনী-গরীবের, সাদা-কালোর অর্থাৎ বর্ণবৈষম্যের, নারী-পুরুষের, বিশ্বাস আর আস্থার এমনকি সামগ্রিকভাবে  বিভক্তি বিদ্যমান । ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সংকট কবলিত সমাজেরই সত্যিকারের একজন প্রতিনিধি, এক বড় মাত্রার উদাহরণ, প্রতিচ্ছবি।

যদিও আশ্বাস রয়েছে, আশ্বস্ত করা হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রকে ‘‘গ্রেট এগেইন’’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে; কিন্তু বহু মার্কিনীর এতে রয়েছে অবিশ্বাস আর অনাস্থা । এ জন্যই তারা মাঠে নেমেছেন, প্রতিবাদ করছেন । যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভোটের ইতিহাসে এ ধরনের অবিশ্বাস অনাস্থা রীতিমতো অবিশ্বাস্য বলেই তারা মনে করছেন । সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নির্বাচনের ফলাফল হচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত সিস্টেমে ধস ।

আর এই সিস্টেমের ধস উপলব্ধি করে, ভাঙ্গন কবলিত সমাজের প্রতিচ্ছবি দেখে সমগ্র বিশ্ব এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ।

এসব সঙ্কট প্রকটভাবে চোখে পড়েনি; বরং চাপা পড়ে ছিল । বার্নি স্যান্ডার্সদের চোখে অবশ্যই পড়েছিল এবং তারা প্রবলভাবে তা বলেছিলেন । স্যান্ডার্স তৃতীয় কোনো ধারার সৃষ্টি করে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয় আগে-ভাগে নিশ্চিত না করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্ধারে নেমেছিলেন । কিন্তু দুর্ভাগ্য তার এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির; সেইসাথে আমেরিকা ও বিশ্ববাসীরও । তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলাফল এখন সবার সামনে ।

স্যান্ডার্স সঙ্কটগুলো চাপা না রেখে সমাধানের কথা বলেছিলেন । তিনি মনোনয়ন লাভের প্রয়াসে যেসব প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, তাতে মার্কিন যুবসমাজে চমক সৃষ্টি হয়েছিল। এসব প্রশ্ন ছিল তাদের মনেও। ফলে তাদের মধ্যে জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল। হিলারি ক্লিনটন কিন্তু এসব সঙ্কট সমাধানের দিকে যাননি । ফলে ভোটাররাও তার সাথে চলতে মন থেকে উৎসাহ পায়নি । হিলারি বরং নতুন নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করেছেন । একদিকে নিজের অবৈধ উপার্জন, ই-মেইল কেলেঙ্কারিতে বিশ্বাসযোগ্যতা খুইয়েছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের উল্টা-পাল্টা কথা ও কাজ থেকে ফায়দা হাসিলের সহজ পথে চলতে থাকায় নতুন নতুন জটিলতায় পড়েছেন।

মিডিয়া বিশ্লেষকেরা এখন এই ফলাফল নানাভাবে বিশ্লেষণ করে বোঝাতে চাইছেন কেন এমনটা হলো। তারা মোটামুটিভাবে বিভিন্ন বর্ণগত ও পরিচিতিমূলক গ্রুপে ভোটারদের বিভক্ত করে তাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা এই সত্যটা অগ্রাহ্য করছেন, নির্বাচনটা পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপর্যস্ত সামাজিক সঙ্কট ও পঙ্কিলতার ব্যাপারে একটা গণভোট। আর তাতে ট্রাম্প ঝোপ বুঝে কোপ দিতে পেরেছেন এবং বাজিমাত করেছেন।

ট্রাম্প কিন্তু নিজে কোনো ফ্যাক্টর নয়। তিনি বরং একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই গোষ্ঠীটি হলো যুদ্ধবাজদের দল। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবাজ অর্থনীতি হিসেবে দেখতে চায়। যুদ্ধের ‘ম্যাকানিজম’ বহাল রাখতে হলে তাদের এমন একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল। ট্রাম্পকে নির্বাচনী প্রচারকালে প্রায়ই আবোল-তাবোল বকতে দেখা যেত। একটু ভালোভাবে বিচার করলে দেখা যাবে, এগুলো মোটেই প্রলাপ ছিল না। অনেকের মনের কথাই তিনি এভাবে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

কাজেই ট্রাম্পের বিজয় সত্যিকার অর্থে কোনো অঘটন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পরাশক্তিটি যেভাবে চলছিল, তার স্বাভাবিক পরিণতি ফুটে ওঠেছে এই ফলাফলে।

এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শ্রেণী যুদ্ধ, উগ্র জাতীয়তাবাদ, সামরিকবাদ এবং পুলিশি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকবেন। নির্বাহী শাখা ছাড়াও কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, সুপ্রিম কোর্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান চলে যাবে চরম ডানপন্থীদের হাতে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা ‘আবার গ্রেট’ হবে না, ঐক্যবদ্ধ থাকবে না, বরং নানাভাবে বিভক্ত হয়ে জঘন্য ধরনের পঙ্কিলতায় ডুবে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে সীমিত ভোটাধিকার, গর্ভপাতের অধিকার, অভিবাসন এবং এমনকি ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও সম্ভবত আর থাকলো না।

এই কিছু দিন আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়া নিয়ে হৈ চৈ হয়েছিল। এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভেঙে যাচ্ছে বলেও অনেকে মনে করেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রই ভয়ঙ্করভাবে এমনটা প্রত্যক্ষ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছর আগে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আসলে সেটা এখনো থামেনি। ধনী-গরিব লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রকাশ্য রাজপথে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের কৃষ্ণাঙ্গদের গুলি করে হত্যার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, পুলিশি কুকুরের হানা, মরিচ স্পে, টেসার বুলেট নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ ইত্যাদি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় আফ্রিকান আমেরিকানদের দিকে তাক করা হয় তিন গুণ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি রাজ্যে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয় না। এর ফলে এসব রাজ্যে আয় বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। এসব রাজ্যেই শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।

অনেক রাজ্যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফ্লোরিডা। সেখানে এখনই ১০ লাখের বেশি লোকের ভোটাধিকার নেই। বঞ্চিতদের বেশির ভাগই আফ্রিকান আমেরিকান। নানা বিধিনিষেধের বেড়াজাল দিয়ে এসব লোককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

এসব সমস্যার আর সুরাহা হচ্ছে না, এমনটাই ধরে নেওয়া যায়। অনিশ্চয়তার পথে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েই সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে না। তারা অবিশিষ্ট বিশ্বকেও একই দিকে নিয়ে যেতে পারে। সেটা আরো বড় ভয়ের কারণ।

‘আরব বসন্তে’র আর্থিক ক্ষতি ৮৩ হাজার কোটি ডলার

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও বিবিসি অবলম্বনে বুধবার-এর বিশ্লেষণ

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো ‘আরব বসন্ত’। সবচেয়ে স্থবির, স্বৈরতান্ত্রিক, জটিল একটি অঞ্চল হঠাৎ করেই জেগে ওঠেছিল ওই সময়টাতে। অবশ্য, এখন আর সেই সময় নেই; ওই বসন্তের পর এখন ভয়াবহ শীত নেমেছে। তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র কোনোভাবে টিকে থাকলেও মিশরে আরো ভয়াবহ মাত্রায় একনায়কতন্ত্র চেপে বসেছে, লিবিয়া, ইয়েমেন আর সিরিয়ায় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে বৈদেশিক আগ্রাসী শক্তির সার্বিক সহায়তায়। জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে সরকারের বজ্রমুষ্টি আরো জোরালো হয়েছে।

অবশ্য কেবল রাজনৈতিকই নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও কম ছিল না আরব বসন্তের। দুবাইয়ে প্রকাশিত আরব স্ট্র্যাটেজি ফোরামের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ২০১১ সালের ওই ঘটনার জের ধরে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮৩০ বিলিয়ন ডলার বা ৮৩ হাজার কোটি ডলার। এটা ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমান।

বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্যের আলোকে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তারা চার বছরের স্টক ও বিনিয়োগ, জিডিপি, অবকাঠামোগত ক্ষতি, হতাহত, পর্যটন খাতে মন্দা এবং উদ্বাস্তু জটিলতাগুলো হিসাবে নিয়েছে।

তবে এই হিসাবের মধ্যে প্রাণহানিজনিত ক্ষতি কিংবা উদ্বাস্তুদের মানসিক বিপর্যয়ের মূল্যটি হিসাব করা হয়নি। সেটা সম্ভবও নয়। তাছাড়া কোন দেশে ঠিক কত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটাও এই প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব বসন্তের নামে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে তাতে বিনাশ হয়েছে ৬১৪ বিলিয়ন ডলার বা ৬১ হাজার ৪শ কোটি ডলার। আর এই অর্থের পরিমাণ ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সমগ্র আরব জামানার দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ৬ শতাংশের সমান। জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের হিসেবে বলা হয়েছে, এই আরব বসন্ত ৪টি দেশে যুদ্ধ বয়ে এনেছে। সাথে সাথে গোটা এলাকায় এনে দিয়েছে ঋণ নির্ভরতা, চরম বেকারত্ব, উচ্চ মাত্রার দুর্নীতি, দারিদ্র্য এবং ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া শরণার্থী পরিস্থিতির। যদিও কতিপয় অর্থনীতিবিদ আরব বসন্তের আগে উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধির নানা গল্প আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করেছিল নির্দ্ধিধায়।

আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিউনিশিয়ায়। মোহাম্মদ বুআজিজি নামের এক তরুণ ফলবিক্রেতা বেকারত্ব আর সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যায় তার দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটে। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করে নির্বাসনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই আগুন মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার আরো কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মিশর, ইয়েমেন, বাহরাইন, লিবিয়া, ওমান, জর্ডান ও মরক্কোতে প্রবলভাবে তা অনুভূত হয়। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা কার্যকর আর দুর্নীতি অবসানের দাবিতে জনসাধারণ রাজপথে নেমে আসে। মিশরে গণতন্ত্রের জয় হয়। আরো কয়েকটি দেশ প্রয়োজনীয় সংস্কারে রাজি হয়।

তবে নানা কারণে গণমানুষের জয়টি বহাল থাকেনি। স্বৈরতন্ত্রী আরো জোরালোভাবে চেপে বসে। লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়া এখনো গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। মিশরে স্বৈরাচার আরো কঠোরভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।

হয়তো শীতের অবসান হবে। আবার বসন্ত আসবে। তবে তার মাঝখানে ক্ষতি হয়ে গেল বিপুল।

তবে এতোদিন পরে এসে আরব বসন্তের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এটি ছিল একটি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য। আর এর বৈরী হাওয়া বিশ্বকেও করেছে টালমাটাল। দুর্ভাগ্য এই কারণে, যে উদ্দেশ্য নিয়ে, স্বাধীন, মুক্ত, স্বচ্ছল জীবনের আশা-আকাঙ্খা নিয়ে আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল-তা আসলে আখেরে বৈদেশিক আগ্রাসী শক্তিকেই বড় মাপের এক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.