তৈরি পোশাক রফতানিতে কর বাড়ছে ৫ গুণ

May 26, 2015 4:37 pmComments Off on তৈরি পোশাক রফতানিতে কর বাড়ছে ৫ গুণViews: 4
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

image

তৈরি পোশাক রফতানিতে কর বাড়ছে ৫ গুণ:
শাহ্জাহান সাজু :
বাড়তি কর আদায়ের চাপ সামলাতে আসছে ে সব ধরনের পণ্য রফতানির ওপর উেস কর হার বাড়ানো হচ্ছে। তার মধ্যে রফতানির প্রধান খাত গার্মেন্ট রফতানির উেস কর হার পাঁচগুণ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সারচার্জের স্তর। প্রস্তাব থাকছে প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর কর আরোপের। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বোনাস-ভাতাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব থাকছে আসছে ে। তবে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য করপোরেট করে বড় ধরনের ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের উেস কর হার দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হতে পারে।

বর্তমানে গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে এ করের হার দশমিক ৩০ শতাংশ। আর অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে তা দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যমান কর হার আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থির রাখার দাবি জানিয়ে আসছে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে গত বাজেটের আগে গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে কর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়। মূলত গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন ইস্যুতে মালিকপক্ষকে আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা রেহাই দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর আগে সব রফতানি খাত পণ্য রফতানিতে দশমিক ৮০ শতাংশ কর দিত। কিন্তু রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর হিসাব করে দেখেছে, এতে সরকারকে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আদায় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায় হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আদায় নেমে এসেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায়।

এদিকে আসছে বাজেটে রফতানিতে উেস কর হার বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি বিভিন্ন আলোচনা সভায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রফতানি খাতকে সরকার অনেক কিছু দিয়েছে। এবার সরকারকে তাদের দেওয়ার পালা। সম্প্রতি অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইআরএফের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা। গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, সরকার এ খাতকে যা দিয়েছে-শুল্ক, কর আর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট মিলিয়ে সরাসরি অন্তত ৯ গুণ বেশি দিয়েছে সরকারকে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, পোশাক মালিকরা সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা হিসেবে পায় ৭১২ কোটি টাকা। অন্যদিকে গার্মেন্ট খাত গত অর্থবছরে সরকারকে ভ্যাট আর কর দিয়েছে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করপোরেট কর সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা, ভ্যাট প্রায় এক হাজার কোটি টাকা এবং রফতানিতে উেস কর বাবদ দিয়েছে সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, প্রাক-বাজেট আলোচনা সভাগুলোতে ব্যবসায়ী মহল থেকে জোর আপত্তি তোলায় সারচার্জের স্তর পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সারচার্জের সীমা আড়াই কোটি টাকা করা হতে পারে। এ ছাড়া সারচার্জের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদশালীদের নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ হিসেবে দিতে হয়। ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে, ২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ হারে এবং ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে ২৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা অনেক আগেই দিয়ে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সেজন্য মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস-ভাতার ওপর কর আরোপ করার প্রস্তাব থাকবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়। এতদিন শুধু বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পুরো বেতনের ওপর কর আদায় করা হতো। অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তারা মূল বেতনের ওপর কর দিতেন। বর্তমানে ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০ হাজার কর্মকর্তা আয়কর বিবরণী জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আসছে বাজেটে কর আরোপ করা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর। এ সিদ্ধান্ত সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে থাকলে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রাতিষ্ঠানিক সব প্রাইভেট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর নেই। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর হার কমানো হতে পারে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ করমুক্ত। আসন্ন বাজেটে এটিকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.