ত্বক ফরসায় ‘ম্যানেজ’ ব্যবসা

October 20, 2013 3:27 pmComments Off on ত্বক ফরসায় ‘ম্যানেজ’ ব্যবসাViews: 18
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ফরসা হতেই হবে। কুচকুচে কালো কিংবা শ্যামলা হলে চলবে না, ফরসাই হতে হবে। তাছাড়া বাবা-মা কিংবা পাত্র-সবারই চিন্তা থাকে ফরসা কোনো মেয়ের। আর এ ধারণার ওপর নির্ভর করে এখন ত্বক ফরসা করা ক্রিম বা লোশনের বাজার রমরমা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মেয়েদের মাঝে এ ক্রিম ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। কিন্তু সত্যিই কি এ ক্রিমে ত্বক ফরসা হয়?

মানুষের এ অসহায়ত্ব পুঁজি করে রাতারাতি ত্বক ফরসা করার প্রলোভন দেখিয়ে হরেক নামের প্রসাধন সামগ্রী বাজারে ছেড়ে তাদের বিপদে ঠেলে দিচ্ছে কিছু প্রতারক চক্র। নামি-দামি তারকা দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাজার ধরতে মরিয়া তারা। অল্প সময়ে ‘ভেলকি’ দেখাতেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। এছাড়া ত্বক ফরসা করা ক্রিমের বিজ্ঞাপনগুলো এমন, সেখানে বলাই থাকে ভালো চাকরির জন্য চাই ‘সাদা ত্বক’। আর তাই ব্যবহার করা উচিত এ ক্রিম। অথবা আপনার যে যোগ্যতাই থাক না কেন, যদি ত্বক ফরসা করতে পারেন, তবে আত্মবিশ্বাস সে কোনো বিষয়ই নয়। আর তাই সাক্ষাৎকার দেয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কালো মেয়েরা ব্যবহার করুন ত্বক ফরসা করা ক্রিম। এছাড়া যদি বিয়ের প্রশ্ন আসে, তবে তো কথাই নেই। ছেলেদের একদিকে যেমন পছন্দ ফরসা মেয়ে, তেমনি বাবা-মাও চিন্তায় পড়েন, কীভাবে কন্যাকে আরো ফরসা করে তোলা যায়। তখন উপদেশ আসে, ত্বক ফরসাকারী ক্রিম ব্যবহারের। অবশ্য সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো মানুষের ধ্যান-ধারণা এবং মানসিকতাকে পুঁজি করে চালাচ্ছে এ ব্যবসা।

মুদি দোকানেও মেলে এসব পণ্য। আর কসমেটিকস দোকানের বাইরে বিউটি পার্লারগুলো বিশেষ টার্গেট। বিএসটিআই, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগে পার পেয়ে যান এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। অভিযোগ রয়েছে, অনেককে ‘ম্যানেজ’ করেই চলে রকমারি এ ব্যবসা। এমনকি দেশি-বিদেশি নামি-দামি পণ্যের নকল পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের সঙ্গেও একই চক্র জড়িত বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এসব ক্রিম ব্যবহারে অল্প সময়ে ত্বকের পরিবর্তন ঘটলেও কিডনি, হাত-পা অবশ হওয়া, গর্ভবতী মায়ের সন্তানের মস্তিষ্ক গঠন বাধাগ্রস্ত হওয়া, প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্ম, মুখমণ্ডলের ত্বক পুড়ে যাওয়া এবং চর্মসহ নানা রোগে, এমনকি ক্যান্সারেও আক্রান্ত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
বিএসটিআই সূত্র মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রিম কিনে সাদা কৌটায় ভরে বিউটি পারলারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি করা হয় এসব। অনেক সময় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, পন্ডস ও নোভা ক্রিম একসঙ্গে মিশিয়ে নতুন নামে বিক্রি করা হয়। নামি-দামি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোম্পানিগুলোর ক্রিমও নকল হচ্ছে। অধিকাংশ হারবাল কোম্পানির নেই কোনো একাডেমিক স্বীকৃতি, নেই কোনো লাইসেন্স। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক জরিপে বলা হয়েছে, শতকরা ৪৫ ভাগ প্রসাধন পণ্যের বিএসটিআইয়ের সনদ নেই, ৭৫ ভাগ পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নেই। নগরীর ভেজাল সামগ্রীর পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রিমের মধ্যে নিভিয়া লোশন, ডাভ লোশন, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিল লোশন, ফেডআউট ক্রিম, ওলে ক্রিম, গার্নিয়ার লোশন, জার্জিনস লোশনের নকল পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। আসলের মতো দেখতে কিন্তু নকল বা ভেজাল পণ্য তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন কায়দায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, ভেজাল প্রসাধন ব্যবহারে ত্বকের সাধারণ লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ডারমাটাইসিস হয়। এতে চামড়া লাল হয়ে যায়। পরে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি করে। ভেজাল প্রসাধন ব্যবহারে ত্বকে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.