থায়রয়েড গ্রন্থি ও হরমোনের সমস্যা

May 27, 2016 3:43 amComments Off on থায়রয়েড গ্রন্থি ও হরমোনের সমস্যাViews: 42
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ের সমস্যা

image

থায়রয়েড গ্রন্থি ও হরমোনের সমস্যা
বিশ্ব দিবস ২৫ মে। এবারে এ দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‍‘Screening for Thyroid Dysfunction to Asymptomatic’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে থাকে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাহজাদা সেলিমের একাধিক লেখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে। এরই অংশ হিসেবে প্রকাশিত হলো : ‘থায়রয়েড গ্রন্থি ও হরমোনের সমস্যা’।

থায়রয়েড গ্রন্থি থেকে সাধারণত দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, গঠনগত ও কার্যগত। গঠনগত সমস্যায় থায়রয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়, যেটাকে গয়টার বলা হয়। কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়, হাইপারথায়রয়ডিজম ও হাইপোথায়রয়ডিজম। হাইপারথায়রয়ডিজমে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে, আর হাইপোথায়রয়ডিজমে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করে না।

কারণ

হাইপোথায়রয়ডিজম মূলত তিনটি কারণে দেখা যায়। সদ্যোজাত শিশুদের মধ্যে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড তৈরি না হলে, কনজেনিটাল হাইপোথায়রয়ডিজম দেখা যায়। এ ছাড়া অটোইমিউন হাইপোথায়রয়ডিজম দেখা যায়। থায়রয়েড গ্ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে, থায়রয়েড গ্ল্যান্ড খারাপ হয়ে যায়। তখন থায়রয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করে না। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড বাদ দিতে হলে বা ‘রে’ দেওয়ার কারণে থায়রয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে।
অ্যান্টিবডি অতিরিক্ত মাত্রায় থায়রয়েড গ্ল্যান্ডকে স্টিমুলেট করলে হাইপারথায়রয়ডিজমের সমস্যা দেখা যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ের পর ওষুধের ডোজ বেশি হলে, তার থেকে হাইপারথায়রয়ডিজম হতে পারে। থায়রয়ডাইটিসে রক্তে থায়রয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ইনফেকশন হলে তাৎক্ষণিকভাবে থায়রয়েড গ্ল্যান্ড ভেঙে হরমোন বেরোতে শুরু করে, ফলে রক্তে থায়রয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে, সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথায়রয়ডিজম দেখা যায়।
লক্ষণ

হাইপোথায়রয়ডিজমে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, সেগুলো হলো-

ভাল না লাগা, সঙ্গে লেথার্জিভাব
ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
পা অল্প ফুলে যায়
খিদে ভাব কমে যায়
চুল পড়তে শুরু করে
ওজন অল্প বেড়ে যায়। ৫-৬ কিলো ওজন বাড়তে পারে
স্মৃতিশক্তি কমে যায়
খিটখিটে ভাব
কনস্টিপেশনের সমস্যা হয়
ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে
বন্ধ্যাত্বর সমস্যা হতে পারে
প্রেগনেন্সির সময় অ্যাবর্শন হতে পারে
কনজেনিটাল হাইপোথায়রয়ডিজমে শিশুর ব্রেনের বিকাশ হয় না
শীত শীত ভাব দেখা যায়
পিরিয়ডসে সমস্যা হতে পারে।
হাইপারথায়রয়ডিজমে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, সেগুলো হলো-

খিদে বেড়ে গেলেও ওজন কমতে থাকে
প্রচণ্ড গরম লাগে
বুক ধড়ফড় করে
মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে
পিরিয়ডের সমস্যা হয়
ত্বক কালো হয়ে যায়
হার্টের সমস্যা হতে পারে
ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়
হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। বেশি বয়সে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে
চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসে
বন্ধ্যাত্ব হতে পারে
চিকিৎসা

থায়রয়েডের সমস্যা নির্ধারণের জন্যে ব্লাড টেস্ট করা হয়।
হাইপোথায়রয়ডিজমের চিকিৎসা ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। হাইপারথায়রয়ডিজমের চিকিৎসায় ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধে কাজ না করলে, তখন সার্জারি বা রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপির কথা ভাবা হয়।
গয়টারের সমস্যা হলে ফোলা অংশ ম্যালিগনেন্ট কি না তা নির্ণয় করা হয়। ম্যালিগনেন্ট নির্ধারিত হলে এবং শুরুর দিকে ধরা পড়লে রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন পদ্ধতির মাধ্যমে থায়রয়েড ক্যানসার নিরাময় সম্ভব।
আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে থায়রয়েডের সমস্যা হলে আয়োডাইজড সল্ট খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট কী কাজ করে

আমাদের শরীরে কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও জল শুষে নিয়ে ইউরিন তৈরি করে। প্রতিদিন এই ইউরিন আমাদের শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিডনি থেকে বেরিয়ে ইউরিন এক সরু টিউবের মধ্যে দিয়ে গিয়ে ইউরিনারি ব্লাডারে জমা হয়। বাচ্চার বয়েসের ওপর নির্ভর করে কতটা ইউরিন ব্লাডারে জমা থাকবে। এরপর ব্লাডার থেকে জমা ইউরিন ইউরেথ্রার মধ্যে দিয়ে গিয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

কেন ইনফেকশন হয়?

ইউরিনারি ট্র্যাক্টে এমনিতে কোনো ব্যাক্টেরিয়া থাকে না। কোনো কারণে ব্যাক্টেরিয়া ব্লাডারে ঢুকে গেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হতে পারে। ব্লাডার ফুলে যায়, পেটের নিম্নাংশে যন্ত্রণা হতে পারে। যদি ব্যাক্টেরিয়া কোনো ভাবে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তা হলে কিডনিতেও ইনফেকশন হতে পারে। সাধারণত এ্যানাস বা ভ্যাজাইনার আশপাশে এই ধরনের ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া যায়। কোনো কারণবশত যদি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ঠিকমতো কাজ না করতে পারে তা হলে ব্যাক্টেরিয়া ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ঢুকে যায়। ফলে ইনফেকশন হতে পারে।

কিছু বাচ্চার মধ্যে জন্ম থেকেই ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স বলে এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যায় ইউরিন ব্লাডার থেকে বেরিয়ে ইউরেটার হয়ে আবার কিডনিতে পৌঁছে যায়। ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকটেড হয়ে পড়ে।
মায়েলোমেনিঙ্গোসিল, হাইড্রোসেফালসের মতো ব্রেন বা নার্ভাস সিস্টেমের অসুখ থাকলে ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে পারে না। স্পাইনাল কর্ডে চোট লাগলেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। এর থেকে ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হয়।
জন্ম থেকেই যদি ইউরিনারি ট্র্যাক্টের গঠনে কোনো ত্রুটি থাকে, তা হলে ব্যাক্টেরিয়া সহজেই ইউরিনারি ট্র্যাক্টকে ইনফেক্টেড করে দিতে পারে।
বাচ্চার যদি বাথরুম যেতে অনীহা থাকে, বাথরুম যাওয়ার পর যদি কেউ নিজেকে ঠিকমতো পরিষ্কার না করে, তা হলে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
ঘন ঘন বাবল বাথ নিলে ইনফেকশন হতে পারে। খুব বেশি টাইট জামাকাপড় পরলেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
উপসর্গ

ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হলে ব্লাডার ইউরেথ্রা, ইউরেটার ও কিডনিতে অস্বস্তি (ইরিটেশন) হয়। ঠিক যেমন ঠাণ্ডা লাগার পর নাক ও গলায় ইরিটেশন হয়। যেহেতু বাচ্চারা সব সময় বলে বোঝাতে পারে না, তাই বাচ্চার ব্যবহারে যদি হঠাৎ পরিবর্তন দেখেন, তা হলে বুঝবেন যে বাচ্চার শরীরে কোনো অস্বস্তি হয়ে থাকতে পারে। ইউটিআই হলে সাধারণত কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা যায়-

জ্বর হতে পারে, বাচ্চা অকারণে বিরক্তি প্রকাশ করে, খেতে চায় না, বমি করে।
ইউরিনে দুর্গন্ধ হতে পারে।
বারবার বাথরুমে যেতে হয়। বাথরুম করার সময় ব্যথা হতে পারে বা জ্বালা করতে পারে।
তলপেটে বা পিঠের নিম্নাংশে ব্যথা হয়
অনেক সময় ইউরিনে রক্ত বেরতে পারে।
টয়লেট ট্রেনিং থাকলেও বাচ্চা ইউরিন কন্ট্রোল করতে পারে না, অনেক সময়ই বিছানা ভিজিয়ে ফেলে।
যদি কোনোভাবে কিডনিতে ইনফেকশন ছড়িয়ে যায় তা হলে,

– বাচ্চার কাঁপুনি হতে পারে।

– খুব বেশি জ্বর আসে।

– ত্বক লাল হয়ে যায়।

– মাথা ঘোরে, বমি হয়,

– পাজরে ব্যথা হতে পারে।

প্রিভেনশন

বাচ্চাকে বেশি বাবল বাথ করতে দেবেন না। ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ও জামাকাপড় পরা ভাল।
বাচ্চা যাতে প্রচুর পরিমাণ জল খায়, সে দিকে নজর দেবেন।
বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব বোঝান। বাথরুম করার পর জেনিটাল পরিষ্কার করা জরুরি।
বাচ্চাকে দিনে একাধিকবার বাথরুম যাওয়া শেখান।
রোগ নির্ণয়

ইউরিনের স্যাম্পল টেস্ট করা হয়।
কেন ইনফেকশন হয়েছে বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, দেখার জন্য কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। এ ছাড়া ইউরিনেশনের সময় বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা এক্স-রে করা হয়।
বাচ্চার মেডিকেল হিস্ট্রি নেওয়া হয়। ডাক্তাররা জানতে চান বাচ্চার বয়েস কত, আগে কখনো ইনফেকশন হয়েছে কি না, ইনফেকশন কতটা জটিল, বাচ্চার আর কোনো অসুখ আছে কি না, স্পাইনাল কর্ড বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো সমস্যা আছে কি না। এর ওপর নির্ভর করে ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেন যে চিকিৎসার ধরন ঠিক কীরকম হবে।
চিকিৎসা

প্রথমেই বাচ্চাকে এ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় যাতে ইনফেকশন কিডনি পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে। একদম ছোট বাচ্চাদের হসপিটালে ভর্তি করে ইনজেকশনের মাধ্যমে এ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। বড় বাচ্চাদের অবশ্য ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। ইনফেকশন কতটা জটিল তার ওপর নির্ভর করে এ্যান্টিবায়োটিক কতদিন খেতে হবে।
ইউটিআই হলে বাচ্চাকে প্রচুর পানীয় খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা।
লেখক
ডা. শাহজাদা সেলিম
এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম), এমএসিই (ইউএসএ)
সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
কমফোর্ট ডক্টর’স চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীন রোড, ঢাকা
ফোন: ৮১২৪৯৯০, ৮১২৯৬৬৭
মোবাইল: ০১৭৩১৯৫৬০৩৩, ০১৫৫২৪৬৮৩৭৭
Email: selimshahjada@gmail.com

– সূত্র: thereport24.com

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.