দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় ৬ প্রকল্পের কাজ চলছে

June 1, 2017 11:29 pmComments Off on দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় ৬ প্রকল্পের কাজ চলছেViews: 13
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় ৬ প্রকল্পের কাজ চলছে

আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ২০১৮-সালের জুন মাসের মধ্যে এ ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে। আর তাতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩ ৮৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) ২য় সংশোধিত প্রকল্প, ২৮টি জেলায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ প্রকল্প, সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান, অধঃস্তন আদালত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাস্টিস রিফর্ম এন্ড করাপশন প্রিভেনশন প্রকল্প এবং জাস্টিস সেক্টর ফ্যসিলিটিস প্রকল্প। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪২টি সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এদের মধ্যে ১২টির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ১২টির মধ্যে টাঙ্গাইল, ঝিনাইদহ, জামালপুর, জয়পুরহাট, সিলেট এবং কুড়িগ্রাম এ ৬টি উদ্ধোধন করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারী ২০১৭-এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং মানিকগঞ্জ জেলার সিজেএম আদালত ভবন উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে ২৭টি জেলায় জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। এদের মধ্যে ১৩টি জেলার সম্পসারণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ১৪ টি জেলার জজ আদালত ভবনের কাজ ৮৫-৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন ২০১৭-এর মধ্যে সবগুলির সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হবে। এ সকল কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ১৬২ কোটি টাকা। বিচার কার্যক্রমকে দ্রুত সম্পন্ন ও সঠিক করার লক্ষ্যে কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি এবং যুক্তরাজ্য সরকারের সংস্থা ডিএফআইডি-এর সহায়তায় ‘জাস্টিস সেক্টর ফ্যসিলিটিস’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাস্টিস সেক্টর রিফর্ম এবং দুর্নীতি দমনে কারিগরী সহায়তা প্রদানের জন্য জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় জাস্টিস রিফর্ম এন্ড করাপশন প্রিভেনশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে বিনামূল্যে সরকারি আইনি পরামর্শ সেবা এবং স্বচ্ছ এবং দ্রুততার সাথে আইনি সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান’’ প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (ঘখঅঝঙ) ডিজিটাল টাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে ও ন্যাশনাল হেলপ লাইন চালু করা হয়েছে। এছাড়া অধঃস্তন আদালতের বিচারকগণকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অধঃস্তন আদালত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী জুন ২০১৯ সময়ের মধ্যে ৫৪০ জন বিচারককে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা প্রদানের জন্য অষ্টোলিয়ায় ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হবে। এজন্য সরকারের ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসমূহকে ভৌত অবকাঠামো সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ‘‘দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ (২য় পর্যায়)’’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৩ জেলা রেজিষ্ট্রি অফিস এবং ৯৮ টি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নির্মাণ করা হবে। এজন্য সরকারের ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এদিকে দেশে চৌকি আদালতগুলোর অবকাঠামো জরাজীর্ন বিধায় এগুলোকে অবকাঠামো সুবিধা প্রদান করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে বিচারকগণের আবাসনের তীব্র সমস্যা রয়েছে। এ কথা বিবেচনায় বিচারকগণের জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিগণের এজলাস এবং চেম্বারের অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্তমান এনেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে খালি জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য সরকারের ১৭৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিগণকে বিনোদন এবং রিক্রেশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিগণের বিনোদন এবং রিক্রিয়েশন সেন্টার নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রকল্পটির প্রাকমূল্যায়ন (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য সরকারের ১৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সুপ্রিম কোর্টের ২টি প্রকল্প চলতি অর্থবছরেই শুরু করা যাবে। অননুমোদিত এ সকল প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৪৬ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

সাক্ষিদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ চান প্রধান বিচারপতি

 

আজ সংসদে উপস্থাপন হতে যাচ্ছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট। আর এ বাজেটে সাক্ষিদের জন্য বরাদ্দ চান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ নিয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়, এদেশে ফৌজদারি মামলা বিচার নিষ্পত্তি বিলম্বের ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অন্তরায় হচ্ছে সাক্ষী সময়মতো আদালতে উপস্থিত না হওয়া। সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না থাকায় বহু ঘৃণিত ও জঘন্যতম অপরাধের বিচার কার্য দ্রুত সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর অনেকগুলো মামলাও সাক্ষীর অভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। আর সাক্ষী অনুপস্থিত থাকার মূল কারণ হলো সাক্ষীকে নিজ খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেলা শহরে এসে সাক্ষ্য দিতে হয়। এতে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে জেলা শহরে এসে হোটেলে অবস্থান করে নিজ খরচে সাক্ষ্য দেওয়া অনেক কষ্টকর ও ব্যয়সাধ্য। এছাড়া অনেক সরকারি সাক্ষী বিশেষ করে পুলিশ চাকরি থেকে অবসরের পর ভিন্ন জেলায় গিয়ে নিজ খরচে সাক্ষ্য প্রদানে অনীহায় থাকেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দি কোড অব ক্রিমিনিাল প্রসিডিউর’ ১৮৯৮ এর ৫৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার ফরিয়াদি বা সাক্ষীর খরচ সরকার কর্তৃক ব্যয় নির্বাহে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাক্ষীর যাতায়াত এবং জেলা শহরে অবস্থানের জন্য ব্যয়িত অর্থ সরকারিভাবে বহন করা হলে তারা সাক্ষ্য প্রদানে উৎসাহিত হবেন। এতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

চিঠিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে বর্তমানে সাক্ষীর ব্যয় সংক্রান্ত কোন অর্থনৈতিক কোড নেই। তাই উক্ত বিভাগের অনুকূলে সাক্ষীর ব্যয় নির্বাহের জন্য নতুন অর্থনৈতিক কোড সৃষ্টিকরে উক্ত খাতে অথবা ৪৮৯৯-অন্যান্য ব্যয় (সাক্ষীর খরচসহ) খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কোন দেশের শিল্পায়নে বিদেশী বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে তার অন্যতম একটি হলো ওই দেশের বিচার বিভাগের দক্ষতা ও কাঙ্খিত সময়ে বিচার প্রদানের সক্ষমতা। বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতার উপর একটি দেশের সভ্যতার প্রকৃত চরিত্র পরিস্ফুট হয়ে উঠে। যে কোন দেশের সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল রাখতে বিচার বিভাগের ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

আইন ও বিচার বিভাগে বরাদ্দ ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা, সুপ্রিম কোর্টের জন্য ১৬৫ কোটি

2a877fde878f9aba3b19b61492c0107b-592fd886169b8

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবের মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ৯১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৫০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

`২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৪২৬ কোটি ৯০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।`

এছাড়া আগামী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ১৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ প্রস্তাবের মধ্যে অনুন্নয়ন খাতেই এ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য জন্য অনুন্নয়ন খাতে ১৬৭ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রার্থীদের কাছে আইনের সেবা সহজগম্য করতে অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নতুন নতুন আদালত ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে জনগণকে বিচারিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে দেশের সকল জেলায় ই-মোবাইল কোর্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে দুর্ধর্ষ ও দাগী আসামিদের আদালতে হাজির না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে দেশে-বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসন ভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলেও জানান মন্ত্রী।

-আমাদের অর্থনীতি

সূত্র:/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.