দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১৭ লাখ

May 30, 2017 9:57 amComments Off on দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১৭ লাখViews: 14
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১৭ লাখ:
বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদন স্যাম্পল ভাইটাল সার্ভে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির সর্বশেষ হিসাবে বতর্মানে বাংলাদেশে পুরুষ ও মহিলা প্রায় সমান। বর্তমানে দেশে পুরুষ ৮ কোটি ১০ লাখ এবং মহিলা ৮ কোটি সাড়ে ৭ লাখ।

গতকাল বিকেলে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিবিএসের যুগ্ম পরিচালক একেএম আশরাফুল হক। ২০১৬ সালে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৮৭২টি খানাকে নমুনা হিসেবে ধরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিবিএস। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৭ লাখ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৮ লাখে। গত ছয় মাসে জনসংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্ম, মৃত্যু, শিশু মৃত্যুহার, মাতৃমৃত্যু অনুপাত, জন্মনিয়ন্ত্রয়ণ পদ্ধতি ব্যবহার, আয়ুষ্কাল সূচকে বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে উন্নতি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র শ্রীলঙ্কা এসব সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুত্ ব্যবহার, স্যানিটারি টয়টেল ব্যবহার, সাক্ষরতা সূচক, শিক্ষার হারও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

বয়স অনুসারে জনসংখ্যা : জরিপে দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই যুবক ও কর্মক্ষম। দেশে শূন্য থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা রয়েছে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৫ থেকে ৪৯ বছরের জনসংখ্যা ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ৫০ থেকে ৫৯ বয়সের জনসংখ্যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং দেশে ৬০ ঊর্ধ্ব বয়সের জনসংখ্যা ৮ দশমিক ১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে লিঙ্গানুপাত কমেছে। নারী-পুরুষের লিঙ্গানুপাত ২০১২ সালে যেখানে ১০৪ দশমিক ৯ ছিল, তা ২০১৬ সালে ১০০ দশমিক ৩ অনুপাতে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে শিশু ও নারী অনুপাত (প্রতি হাজার জনসংখ্যা) ৩২০ জন। ২০১২ ও ২০১৩ সালে যা ছিল যথাক্রমে ৩২৭ এবং ৩৫৬ জন। ২০১৫ সালে শিশু ও নারী অনুপাত ছিল ৩২৫ জন। জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১ হাজার ৯০ জন। এর আগের বছর যা ছিল ১ হাজার ৭৭ জনে। ২০১২ সালে ছিল ১ হাজার ৩৫ জন।

প্রজনন : জরিপে দেখা গেছে, এখন দেশে স্থূল জন্মহার (প্রতি হাজারে) ১৮ দশমিক ৭ জন। গ্রাম এলাকার এ হার ২০ দশমিক ৯ এবং শহর এলাকায় ১৬ দশমিক ১ জন। ২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে স্থূল জন্মহার ছিল ১৮ দশমিক ৯। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ১০ শতাংশ। পল্লী এলাকায় এ হার ২ দশমিক ৩৮ এবং শহর এলাকায় ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে একই প্রজনন হার ছিল ২০১৫ সালেও। ২০১২ সালে এ হার ছিল ২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের সাধারণ প্রজনন হার ৬৯ শতাংশ। গ্রাম ও শহরে যা যথাক্রমে ৭৯ এবং ৫৭ শতাংশ। ২০১২ সালে সাধারণ প্রজনন হার ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে ৭৬ এবং শহরে ৬০ শতাংশ।

মরণশীলতা : এ সূচকে বাংলাদেশ আগের অবস্থানে রয়েছে। পর পর দুই বছর (২০১৫-২০১৬) প্রতিহাজারে বাংলাদেশে স্থূল মৃত্যুহার ৫ দশমিক ১ জন। পল্লী এলাকায় মৃত্যুহার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শহর এলকায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১২ সালে জাতীয় মৃত্যুহার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে) এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ২৮ জন হয়েছে। ২০১৫ সালে যা ছিল প্রতি হাজারে ২৯ জন। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ৩৩ এবং ৩১ জন। এক মাসের কম বয়সের শিশু মৃত্যুহারে (প্রতি হাজারে) একটু এগিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে এ হার ১৯ জন। ২০১২ সালে ছিল ২১ জন। ২০১৫ সালে হার কমে হয় ২০ জন। পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে ৩৫ জন। ২০১২ সালে যা ছিল ৪২ জন।

আয়ুষ্কাল : বর্তমানে বাংলাদেশির আয়ু ৭১ বছর ৬ মাস। নারীর আয়ু ৭২ বছর ৯ বছর এবং পুরুষের আয়ু ৭০ দশমিক ৩ মাস।

বিবাহের গড় বয়স : প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে পুরুষদের বিবাহের গড় বয়স ২৬ বছর ৩ মাস। পল্লী এলাকায় হার ২৫ বছর ৮ মাস এবং শহর এলাকায় ২৭ বছর ৪ মাস। ২০১৫ সালে পুরুষদের গড় বয়স ছিল ২৬ বছর ৪ মাস। অন্যদিকে মহিলাদের বিবাহের গড় বয়স ১৮ বছর ৮ মাস। গ্রামে ১৮ বছর ৩ মাস এবং শহরে ১৯ বছর ৯ মাস। ২০১২ সালে মহিলাদের বিবাহের গড় বয়স ছিল ২০ বছর ১ মাস।

স্থানান্তর : বর্তমানে দেশে স্থানান্তর হার (প্রতি হাজার জনসংখ্যা) ১৬ দশমিক ৭ জন। পল্লী এলাকার স্থানান্তর হার ৩৯ দশমিক ৫ জন। গ্রাম থেকে শহরে আসে ৯২ দশমিক ৬ জন। গ্রাম থেকে বিদেশ গমনের হার ৪৭ দশমিক ৫ জন। এবং শহর থেকে বিদেশ যাচ্ছে প্রতি হাজারে ১১৭ দশমিক ২ জন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ : দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার গত ৫ বছরে প্রায় একই জায়গায় আটকে রয়েছে। বর্তমানে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। শহরে এ হার ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্রামে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবন্ধী : বর্তমানে দেশে প্রতি হাজারে প্রতিবন্ধীর হার ৯ জন। বাংলাদেশে প্রতিটি খানা বা পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৪ দশমিক ৩ জন। এসব খানার ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষ।

বতর্মান খাবার পানির উত্স হিসেবে ট্যাপ বা নলকূপ ব্যবহার করে শতকরা ৯৮ জন, ২০১২ সালে এ হার ছিল ৯৮ দশমিক ৩ জন।

বিদ্যুত্ ব্যবহার করে ৮১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ, ২০১২ সালে যা ছিল ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সোলার বিদ্যুত্ ব্যবহার করেছে। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কোরোসিন ব্যবহার করছে ১৩ শতাংশ মানুষ, ২০১২ সালে কোরোসিন ব্যবহার করত ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ।

স্যানিটারি টয়লেট সুবিধা পাচ্ছে ৭৫ শতাংশ মানুষ। ২০১২ সালে ৬৩ দশমিক ৮ মানুষ এ সুবিধা পেত। দেশে এখনও ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ উন্মুক্ত টয়লেট ব্যবহার করে।

সাক্ষরতা : ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১৫ বছর তা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার শিক্ষার হার ৭২ শতাংশ।

ধর্ম : মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশই মুসলমান। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমানে অন্যান্য ধর্মের লোক রয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৮ এবং ২০১৩ সালে ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.