দেশে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাভিত্তিক কোম্পানি আসছে

December 2, 2016 10:59 pmComments Off on দেশে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাভিত্তিক কোম্পানি আসছেViews: 21
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

chaloদেশে ‘’, ‘’, ’র মতো প্রযুক্তি তথা অ্যাপনির্ভর সেবাভিত্তিক কোম্পানি আসতে শুরু করেছে। এতদিন দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য থাকলেও সম্প্রতি এই সেবায় নতুন যুক্ত হয়েছে অ্যাপ বা স্মার্টফোনভিত্তিক সেবা ‘’। একই ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান ‘ওলা ক্যাব’ও ঢাকায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 

এ ধরনের আধুনিক কার বা ট্যাক্সি সার্ভিসগুলোর বেশিরভাগই স্টার্টআপ বা প্রযুক্তি উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পেতে শুরু করেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং দেশীয় বিনিয়োগ। আর নতুন এই কোম্পানিগুলো আসার ফলে দেশের গণপরিবহন বা পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 chalo4সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বেশ ওপরের দিকেই আছে। নতুন সব প্রতিষ্ঠান ে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটি বেশ পরিচিত হলেও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই হয়তো এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছিল না। তারা জানত না এটা থেকে কী ধরনের সেবা পাওয়া যেতে পেতে পারে। কিংবা জানলেও সেবা গ্রহণ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা ছিল না বা নেই।

প্রযুক্তিনির্ভর এই ট্যাক্সি সেবা হলো অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি ক্যাব সেবা। যাত্রীরা তাদের স্মার্টফোনে গুগল প্লে থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ডাউনলোড করে ডাকতে পারবেন ট্যাক্সি। সেই ট্যাক্সিতে যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া মেটাতে পারবেন নগদ টাকা বা কার্ডের মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠান অন-ডিমান্ড কার বা ট্যাক্সি সার্ভিস দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কোনও গাড়ি থাকে না। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও চালককে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করিয়ে যাত্রীসেবা দিয়ে থাকে। গাড়ি ও যাত্রীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দিয়ে অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন বা সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে গাড়ির মালিকের কাছ থেকে।

chalo-3অ্যাপভিত্তিক এ ধরনের পরিবহন ব্যবস্থায় রাস্তায় কোনও নতুন গাড়ি নামানোর প্রয়োজন নেই। যেসব গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে সেগুলোর মধ্য থেকে আগ্রহী গাড়িগুলোকে (গাড়ির চালক) নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হয়। সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পান যাত্রীরা। সারাবিশ্বে মোটামুটিভাবে এভাবেই পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি করে সেবা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে বছর দুয়েক আগে কাজ শুরু করেছে ‘চলো’। এই প্রতিষ্ঠান চাওয়ামাত্র গ্রাহককে গাড়ি সরবরাহ করে। গাড়ি চাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে হাজির হবে গাড়ি। আর এই সেবা গ্রহণ করতে হয় ‘চলো’র নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে। অ্যাপ চালু করতে গেলে অনলাইনে থাকতে হবে। এর বাইরে শুধু এসএমএস দিয়েও গাড়ি ডাকা যাবে।

‘চলো’র উদ্যোক্তা এবং প্রধান নির্বাহী দেওয়ান শুভ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখার পাশাপাশি নানা ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেখানেই ‘উবারে’র কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান তিনি। পরে বাংলাদেশেও এরকম একটি সেবা চালু করার চিন্তা করেন। সেই চিন্তা থেকেই যাত্রা শুরু করে ‘চলো’। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে নিজের অফিসে বসে দেশে ‘চলো’ সেবা চালুর পরিকল্পনা করেন দেওয়ান শুভ।

chalo-2শুভ জানান, ‘চলো’র চালকদের প্রথমেই ‘চলো’ অ্যাপ ইনস্টল করা আছে এমন স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এরপর তাদের দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। কারণ এই অ্যাপের মাধ্যমেই ‘চলো’র কারগুলোকে ‘কন্টোল রুম’ থেকে ট্র্যাক করা হয়। প্রতিনিয়ত কারগুলোর গতিবিধি ট্র্যাক করার কারণে যাত্রীরা থাকেন নিরাপদে। এরই মধ্যে সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে বলে জানায় ‘চলো’ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহের কেন্দ্রে আছে ‘চলো’। সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর পাশাপাশি তাইওয়ান ও জাপানের বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশি প্রতিষ্ঠানও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বড় হচ্ছে অ্যাপভিত্তিক এই সেবার বাজার। ‘চলো’ বর্তমানে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকা এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এর সেবা সারাদেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি যেকোনও ধরনের সেবার আগমনকে স্বাগত জানাই। এটি একটি সার্ভিস, জনগণকে দেওয়ার জন্যই। কোনও আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই যে এমন অ্যাপ চালু করা যাবে না। অ্যাপটি জনগণের জীবনকে সহজ করে তুলছে, ফলে এটা চালু রাখতে হবে।’

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘এই অ্যাপভিত্তিক সেবার যাত্রা আমাদের দেশে কিছুদিন হলো চালু হয়েছে। শুরুতে ‘চলো’র মতো একটা দেশি কোম্পানি এগিয়ে এসেছে। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। দেশি কোম্পানি বরাবরই প্রাধান্য পাবে। শুধু ‘চলো’ নয়, আরও দুয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সেবা দিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। এই ধরনের সেবা আরও চালু হতে দেওয়া উচিত। তাহলে একটি প্রতিযোগিতামূলক সেবা নেটওয়ার্ক চালু হবে। যাত্রীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত সেবা গ্রহণ করতে পারবে।’

দেশে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘উবারে’র প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্র্যান্সিসকোতে। পাশের দেশ ভারতেও এর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে কলকাতাতেও। বিশ্বের ৭৪টি দেশের ৪৫০টি শহরের মানুষ বর্তমানে এর সেবা পাচ্ছে। অন‌্য পেশায় থেকেও সুবিধাজনক সময়ে ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে বাড়তি রোজগারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবং যাত্রীদের জন‌্য সেবা পাওয়া সহজ হওয়ায় বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উবার।

এটা মূলত স্মার্টফোন অ‌্যাপভিত্তিক ট‌্যাক্সি সেবার নেটওয়ার্ক। ‘উবার’ ম‌্যাপে যাত্রীরা চালকদের তাৎক্ষণিক অবস্থান জেনে নিয়ে তাকে ডাকতে পারবেন। গাড়ির গতি, দূরত্ব, সময় হিসাব করে উবার ম‌্যাপ তাদের মাণদণ্ড অনুযায়ী ভাড়া হিসাব করে দেবে।

একই ধরনের ভারতীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ওলা ক্যাব’ও বাংলাদেশে আসছে বলে জানা গেছে। শহরের মানুষদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেটাই মূল উদ্দেশ্য ওলার। ভারতে এই সেবা গ্রহণকারীরা যাত্রা করার কয়েকদিন পরও টাকা দিতে পারে। এটা অনেকটা পোস্ট-পেইড পরিসেবার মতো।

বাংলাদেশেও এ ধরনের কয়েকটি সেবা চালু রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক সেবা ‘ট্যাক্সিওয়ালা’। ঢাকার মানুষের জন্য মিনিটেই ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান।

ঢাকার মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় যাতায়াত নিয়ে। রাত করে অফিস থেকে বাসায় ফিরতে অনেকেই শত চেষ্টা করেও সিএনজি ভাড়া করতে পারেন না। নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য খুব সমস্যার হয়ে দাঁড়ায় এই বিষয়টি। এমন সমস্যার সমাধানেই এগিয়ে আসেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা। ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দুই ছাত্র ওসমান মাকসুদ এবং ফারাজ রাহমান চালু করেন ‘ট্যাক্সিওয়ালা’। এই সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হয় তমা ট্যাক্সি। কল সেন্টারে ফোন করার ঝামেলা মুক্ত থেকে কাজ করে এই অ্যাপ্লিকেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশীয় অন্তত দুটি বড় বড় প্রতিষ্ঠান ঢাকার রাস্তায় এ ধরনের সেবা চালু করতে আগ্রহী। ‘চলো’র নিরব সেবাদান এবং ‘উবারে’র প্রচার-প্রসারের কারণেই তারা আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে সূত্র জানায়। সরকার এই বিষয়ে নতুন করে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ না করলে বা চলমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিরবচ্ছিন্ন থাকলে প্রতিষ্ঠান দুটি শিগগিরই মাঠে নামতে পারে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রক্রিয়ায় রাস্তায় নতুন গাড়ি নামছে না বা গাড়িগুলো প্রচলিত ট্যাক্সির মতো সেবা দিচ্ছে না, সেবা দিচ্ছে কেবল অ্যাপের মাধ্যমে। তাই ওই অর্থে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে সরাসরি অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা একটা ডিজিটাল সার্ভিস। এই সেবা ইন্টারনেট মাধ্যমেই দেওয়া হয়। যদিও বিআরটিএ’র পরিচালক (প্রকৌশল) মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘শুধু উবার কেন, কেউই এই সেবা চালুর আগে বিআরটিএ থেকে অনুমতি নেয়নি। এটা গুরুতর অন্যায়। এই ধরনের ট্যাক্সি সার্ভিস বাংলাদেশের আইনে (ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন-২০১০) অনুমোদিত নয়। আমরা চাই সবাই আইন মেনে নিয়মের মধ্যে থেকে সেবা চালু রাখুক।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.