নতুন বছরে আশায় বুক বাঁধতে চায় ২৮ লাখ বিনিয়োগকারী

December 26, 2013 1:12 amComments Off on নতুন বছরে আশায় বুক বাঁধতে চায় ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীViews: 40
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

নতুন বছরে আশায় বুক বাঁধতে চায় ২৮ লাখ বিনিয়োগকারী

ডিএসই সিইসি
 ঢাকা: পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত ২৮ লাখ বিনিয়োগকারী চার বছর পর একটি মন্দের ভালোর বছর পার করতে যাচ্ছে। তারা ২০১৪ সালে নতুন আশায় বুক বেঁধেছে। কারণ ২০১০ সাল থেকে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো না থাকলেও চলতি বছর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও লোকসান পোষাতে পেরেছে।

বিএসইসি, ডিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক, সর্বোপরি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষ থেকে এসেছে বিভিন্ন প্রণোদনা। হয়েছে একাধিক আইনের পরিবর্তন। এ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন।

বিএসইসি উন্নীত হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। হয়েছে আরও কয়েকটি সংস্কার। আর এ কারণে নতুন বছর তাদের জন্য নতুন বার্তা বয়ে আনবে এমন প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীসহ অনেকে।

ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন: এ বছর পুঁজিবাজারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন বা ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথকীকরণ। বছরের শেষদিকে এসে ২১ নভেম্বর ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের সনদ পায় উভয় স্টক একচেঞ্জ।

ফলে আইননানুসারে এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হলো দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। আইননানুসারে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ডিএসই ও সিএসইর ১৩ সদস্যের বোর্ড হবে।

১৪ কোম্পানির তালিকাভুক্তি: ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে আসার অনুমোদন পায় মোট ১৬ কোম্পানি। তথ্যানুযায়ী এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০৯২ কোটি টাকা সংগ্রহ করার অনুমতি পায়। যার মধ্যে প্রিমিয়াম বাবদ তোলা হয়েছে ৬৩৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ অর্ধেকেরও বেশি প্রিমিয়াম। বিষয়টি নানা উত্তরহীন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রণোদনার ৩০০ কোটি টাকা: শেয়ারবাজারে পুনঃঅর্থায়নের ঋণ সুবিধা বাবদ চলতি বছর ৯০০ কোটি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। যার ৩০০ কোটি ছাড় করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩টি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রায় পাঁচ হাজার বিনিয়োগকারী এ টাকার জন্য আবেদন করেছে। অচিরেই তারা এ টাকা তারা হাতে পাবেন। তহবিলের বাকি ৬০০ কোটি টাকা পরে সমান দুই কিস্তিতে ছাড় করা হবে।

ডিএসইতে নতুন সূচক: দীর্ঘদিন ধরে প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ভুল সূচক প্রতিষ্ঠিত ছিল। বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে বছরের শুরুতে ২৭ জানুয়ারি এ সূচক সংশোধন করা হয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি নির্ভুল সূচক পায়।

সিএসইতে টি+২ চালু: বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য ৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩ দিনের পরিবর্তে ২ দিনে লেনদেন নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থাত্ সেটেলমেন্ট সাইকেল টি+৩ থেকে কমে নিষ্পত্তি হয় টি+২ তে।

সূচক: বছরজুড়ে বাজারের উত্থান-পতন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে। বছরের শুরুতে সূচকের অবস্থান ছিল ৪০৫৫ পয়েন্টে। সর্বশেষ যা স্থির হয়েছে ৪২৮৮ পয়েন্টে। অর্থাত্ এই সময়ের মধ্যে মোট সূচক বেড়েছে ২৩৩ পয়েন্ট।

বাংলা ওয়েবসাইট: পুঁজিবাজারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই ইংরেজিতে দুর্বল। ফলে তাদের জন্য ইংরেজি ওয়েবসাইট দেখে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের সুবিধার জন্য ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে বাংলায় ওয়েবসাইট চালু করা হয়— যা ছিল বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি।

লেনদেন চিত্র: কয়েক বছর পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা নাজুক হলেও এ বছর মন্দের ভালো বলে মন্তব্য করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বছরের শুরুতে লেনদেন ২০০ কোটির ঘরে থাকলেও (২৪৯ কোটি) থাকলেও বছর শেষে তা ৭০০ কোটির ঘরে পৌঁছে। বেড়েছে বাজার মূলধনও।

মহাপরিকল্পনা: শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ২০১২ সালে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করে বিএসইসি। ‘ক্যাপিটাল মার্কেট মাস্টার প্ল্যান’ নামে এ পরিকল্পনা আগামী ২০২২ সালে শেষ হবে। এর মধ্যে রয়েছে কমিশনের সক্ষমতা বাড়ানো, নিজস্ব অর্থে বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা, অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে অধিকতর সমন্বয়, শক্তিশালী সার্ভেলেন্স সিস্টেম প্রণয়ন, আইপিওর জন্য দীর্ঘমেয়াদি গাইড লাইন প্রণয়ন, আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং বন্ড মার্কেটের প্রসারের সিদ্ধান্ত।

অমনিবাস: পুঁজিবাজারে ভুতুড়ে অ্যাকাউন্ট বা অমনিবাস অ্যাকাউন্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট করছে— কয়েক বছর ধরে বাজারে এমন প্রশ্ন ছিল। এ বছর এর অবসান হয়েছে।

অমনিবাস ভেঙে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বিএসইসি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত: বছরের শেষে এসে (আইওএসসিও) পক্ষ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার সনদ পায় বিএসইসি। এখন থেকে আন্তর্জাতিক এনফোর্সমেন্টেন বৃহত্তর সহযোগিতা পাবে বিএনইসি।

এর পাশাপাশি এখন থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আইওএসসিও এর বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও নির্বাচনের অংশ নিতে পারবে। এছাড়া সংস্থাটির প্রতিনিধি আইওএসসিও এর নীতিনির্ধারণীতে থাকতে পারবে। যা ছিল ১৮ বছরের কাঠখড় পোড়ানোর ফসল।

প্রভিশনিং সুবিধা: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে স্টক ব্রোকার-ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণে এক বছর সময় বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন লোন এবং ডিলার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনার্জিত মূলধনী ক্ষতির প্রভিশন করার সময় ডিসেম্বর, ২০১৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়।

এছাড়া চলতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ করা হয়। তাদের সুবিধার্থে আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়। করা হয় বিএসইসির ভবন নির্মাণের কাজ। বিএসইসিতে সংযোজন করা হয়েছে সার্ভিলেন্স সফটওয়ার।

অন্যদিকে বছরজুড়ে দুর্বল কোম্পানির আধিপত্যের জন্য সমালোচিত হয়েছে বিএসইসি। কোম্পানির কারসাজির নাম মাত্র জরিমানাকে লোক দেখানো বলে বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। বছরজুড়ে দেখা গেছে প্রিমিয়ামের দাপট।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম আজকের বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০১৩ সালে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনসহ অন্যান্য কিছু কাজ করা হয়েছে, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ বছর বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগবান্ধব প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। একই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন সিএসইর প্রেসিডেন্ট আল মারুফ খান।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.