নির্ভুল মেধাস্বত্ব নিবন্ধন আবেদনের জন্য ১১ সুপারিশ

ট্রেডমার্কসহ মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের নির্ভুল আবেদনের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) প্রতিনিধির সঙ্গে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) একটি সভায় এ তাগিদ জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরকে (ডিপিডিটি) আরো আধুনিক করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন বিষয়ে ১১টি সুপারিশ উঠে আসে। ডব্লিউআইপিও প্রতিনিধিরা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আরো বেশি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রঞ্জন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের সভায় সংগঠনটির উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম ছাড়াও ডিপিডিটি, এফবিসিসিআই, এবিএফবি, বিএবি ও সিআইএস-বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডব্লিউআইপিওর প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন লিউ উন ইয়ান ও লুইস চ্যান।

সভায় উত্থাপিত ১১টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— ট্রেডমার্কসহ মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের আবেদন নির্ভুলভাবে দাখিলের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সহায়তা প্রদানের জন্য মেধাস্বত্ব অধিদপ্তরে সহায়তা বিভাগ স্থাপন করা, আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ডিজাইন নিবন্ধন প্রদানের সময়সীমা কমানোর লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত, প্রক্রিয়াগত ও ব্যবস্থাগত দুর্বলতাসহ যাবতীয় সমস্যা চিহ্নিত করা, এসব সমস্যা প্রতিকারের সুপারিশ উল্লেখপূর্বক ডিজাইন অধিদপ্তর কর্তৃক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা ও প্রতিবেদনে প্রদত্ত প্রস্তাবনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এছাড়া ট্রেডমার্ক-সংক্রান্ত জার্নাল বিজি প্রেসের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব বিভাগ কর্তৃক প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ, তৃণমূল থেকে মেধাস্বত্ব উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে একাধিক উদ্ভাবক শনাক্তকরণে উপপরিষদ গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ, উপপরিষদ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান এবং উদ্ভাবনগুলো যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিবন্ধনযোগ্য উদ্ভাবনগুলো চিহ্নিত করে নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব বিভাগের উচ্চপদস্থ ও অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মকর্তা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্য সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাস্বত্ব-সহায়ক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে সভায়। এ উদ্দেশ্যে যেন জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয় ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় আরো বলা হয়, সহায়ক কেন্দ্রগুলোর পূর্বঘোষিত সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে ছয় মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট বিভাগে কার্যবিবরণী দাখিলের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নিবন্ধিত মেধাস্বত্ব বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিআইডিএ, এফবিসিসিআই, বিসিআই, ডিসিসিআই ও এমসিসিআইসহ সংশ্লিষ্ট চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে এক বা একাধিক মেধাস্বত্ব বাণিজ্যিকীকরণ উপপরিষদ গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া গবেষণা কার্যক্রম ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। সুপারিশে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্ব চুক্তির ৬৬(২) ধারার বিধান মোতাবেক সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মেধাস্বত্ব নিবন্ধনে বাংলাদেশে দুটি মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি প্রতিষ্ঠানকে একটি মন্ত্রণালয় অথবা একটি সংস্থার অধীনে আনা জরুরি বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

সূত্র: বনিকবার্তা

By Ekush News Desk on August 23, 2017 · Posted in অর্থনীতি

Sorry, comments are closed on this post.