পাসপোর্টের লাইনে সিরিয়রা

September 14, 2013 2:12 amComments Off on পাসপোর্টের লাইনে সিরিয়রাViews: 11
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা করার সিদ্ধান্ত আপাতত বিলম্বিত হলেও, স্বদেশে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না দেশটির জনগণ। যুদ্ধের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির আশঙ্কায় উল্লেখযোগ্য সংখক সিরীয় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন পাসপোর্ট আবেদনকারীরা ভিড় জমাচ্ছে দামেস্কের পাসপোর্ট সংক্রান্ত কার্যালয়ে। মঙ্গলবার, কয়েক ডজন লোককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষমাণ দেখা যায়। এর মধ্যে অনেকেরই এটা দ্বিতীয়বারের মতো পাসপোর্ট কার্যালয়ে আগমন। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে উদ্ভূত সঙ্কটময় পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে, সিরীয় ভূখণ্ডে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে তেমনটাই আশঙ্কা দেশবাসীর। দীর্ঘসময় ধরে চলমান সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে, বলাই বাহুল্য। গত আড়াই বছরের গৃহযুদ্ধে কমপক্ষে ১ লাখ লোক মারা গেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এ সময়ের ব্যবধানে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ সিরীয় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছে। দামেস্কে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করার দায় বাশার আল আসাদের বাহিনীর বলে ওয়াশিংটনের বিশ্বাস। সঙ্কটময় পরিস্থিতি নিরশনে রাশিয়ার দেয়া প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছে সিরিয়া। দেশটির যাবতীয় রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র আকাশ পথে সামরিক হামলা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। অবশেষে সিরিয়া পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নির্ণয় করা দুরূহ। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর পরিবার স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংঘাতমুক্ত দেশে পাড়ি দেয়া ব্যতীত আর কি বা করণীয় আছে সিরিয়াবাসীর। প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া এমনই একজন রাঘাদ। তিন সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননে যাবেন তিনি। লেবানন আশ্রয় নেয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়াবানীর জন্য সব থেকে সুবিধাজনক ছিল। কেননা, সহিংস পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় নেয়া সিরিয়দের ভীন দেশে ভ্রমণে বৈধতার কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করার সুযোগ ছিল। কিন্তু অন্তত পাসপোর্ট না থাকলে লেবানন থেকে অন্য কোন দেশে যেতে চাইলেও কোন সুযোগ নেই। রাঘাব বললেন, লেবাননে আশ্রয় নেয়ার পর যদি সিরিয়াতে কখনও ফেরত আসার পরিস্থিতি না থাকে সেক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের অন্য কোন দেশে পাড়ি দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সেজন্য পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। রাঘাবের মতো একই রকম চিন্তা করছেন আরও অনেকেই। এদিকে পাসপোর্ট কার্যালয়ে, ইতিমধ্যে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে হচ্ছে কর্মকর্তারা। বাচ্চাদের কান্না আর চঞ্চল শিশুদের চেঁচামেচির সঙ্গে এক রকম প্রতিযোগিতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের। এদের কোন পক্ষকেই দোষ দেয়ার সুযোগ নেই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সৃষ্ট কাগজপত্র অনুমোদনে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শিকার তারা সবাই।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.