প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি

May 10, 2017 10:44 pmComments Off on প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপিViews: 1
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

সুনীতি-সুশাসন-সুসরকার সমন্বয় করবে বিএনপি : খালেদা জিয়া


বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে জাতিকে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি। এ জন্য সুনীতি, সুশাসন ও সুসরকারের ৩ জি সমন্বয় ঘটানো হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘ভিশন-২০৩০’ উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। লিখিতভাবে তিনি এ রূপকল্পটি পড়ে শোনান। 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরচারী একনায়তান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থা অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।’

গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপি সংবিধানের গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করবে। বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চায় বিভক্ত হয়ে পড়া এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। তাই সকল মতাদর্শের ঐক্যতান রচনার জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় এবং পারস্পারিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধন রচনাই হবে বিএনপির প্রয়াস।’

‘প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। এজন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে বিএনপি সচেষ্ট হবে,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জাবাদিহি নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালাকানুন শাসন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি সকল প্রকার কালাকানুন বাতিল করবে। সকল প্রকার নিষ্ঠুর আচরণ থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে বিএনপি।’
৫৭ ধারা বাতিল করা হবে
খালেদা জিয়া বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্খিত মর্যাদা অধিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি জাতির শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবে। সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করবে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়েনের নামে দুর্নীতির অবসান ঘটানো হবে। বিএনপি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করবে।
সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না
বিএনপি প্রধান বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ সকল রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো রকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে না। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা অর্জন গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক এই ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের সক্রিয় সমর্থন জানাবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিশেষ সর্ম্পক গড়ে তুলবে বিএনপি
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করবে না। একইভাবে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকার করছে যে অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, আমাদের সীমান্তের বাইরে বাংলাদেশের বন্ধু রয়েছে, কোনো প্রভু নেই। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। বিএনপি মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমুহের সাথে বিশেষ সর্ম্পক গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, আমরা যে ভিশন উপস্থাপন করলাম তা অর্জন কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আমরা লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশটাকে উন্নত ও মর্যাদাবান দেশে পরিণত করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা আশা করি এই ভিশন বাস্তবায়নে আমরা দেশবাসির সক্রিয় সমর্থনের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহেরও সহযোগিতা পাবো।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.