প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থান

June 5, 2017 10:51 amComments Off on প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থানViews: 24
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থান:
মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। বিপুল সংখ্যক নারী এখনও শ্রমশক্তির বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্পাদন খাতে কর্মসংস্থান কমছে আশঙ্কাজনক হারে। কর্মসংস্থানে পোশাক শিল্প বরাবর বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হলেও নতুন প্রযুক্তির কারণে এ খাতেও কর্মসংস্থান স্থবির। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নে সামষ্টিক কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। রাজধানীর একটি হোটেলে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমের সঞ্চালনায় কর্মশালার প্রথম পর্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পালাকার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি, আইএলওর সিনিয়র এমপ্লয়মেন্ট স্পেশালিস্ট নোমান মজিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট থমাস ফারলো এবং সিনিয়র ইকোনমিস্ট ওনইয়ং চো।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাপক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের গতি কমে এসেছে। ২০০৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান বাড়লেও ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এর হার নেমে এসেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশে। পোশাক খাতে নতুন নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কর্মরত আছেন। শ্রমজীবী তিন নারীর মধ্যে অন্তত একজন কাজ করেন পারিশ্রমিক ছাড়া। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে দ্রুত ব্যাপক হারে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অনুষ্ঠানে রাজশ্রী পালাকার বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে শ্রমবাজারের পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, শ্রমের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দ্রুত সামষ্টিক জাতীয় শ্রমকৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব আরোপ করেন। শ্রীনিবাস রেড্ডি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার বোনাসকাল চললেও এর সুফল মিলছে না। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। সরকারি খাতে কর্মসংস্থার স্থবির থাকায় মূল ভূমিকা নিতে হবে বেসরকারি খাতকে। এজন্য পোশাক খাতের বাইরে রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যায়ন করতে হবে। ড. শামসুল আলম বলেন, প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমাতে সরকার ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। থমাস ফারলো বলেন, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উত্পাদন ও সেবা খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে রফতানি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আহরণে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

দ্বিতীয় পর্বে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালন করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিয়া আবদুল্লাহ মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ফয়সাল আহমেদ, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ। আলোচনায় মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি, কর্মে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, তরুণদের কর্মের বাজারে প্রবেশে প্রতিযোগিতা কমানো ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গন্তব্য বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশের অভাব, পোশাক খাতে নতুন প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ব্যবসা-বাণিজ্যের উচ্চ ব্যয় ও কর্ম উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে উত্পাদনশীলতার মাধ্যমে। উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। যেহেতু এর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা জড়িত। কিন্তু অর্থনীতিতে যে ধরনের বৈচিত্র্যায়ন দরকার, যার মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষকে কর্মসংস্থান দেওয়া যাবে, সেখানে বড় ধরনের বিচ্যুতি রয়েছে। এজন্য রফতানি বৈচিত্র্যায়ন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। দক্ষ শ্রমিক বাড়াতে হবে। রাজস্ব পলিসি, প্রণোদনা পলিসি, রেগুলেটরি পলিসি, ডুয়িং বিজনেস কস্ট কমাতে হবে।
সূত্রঃ সকালের খবর 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.