উনিশ শতকের বিপ্লবীঃ ফিদেল ক্যাস্ট্রো

November 26, 2016 4:08 pmComments Off on উনিশ শতকের বিপ্লবীঃ ফিদেল ক্যাস্ট্রোViews: 44
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube
fidel-n-bongabandhu

১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন যে কজন মহান মানুষ ফিদেল আলেজান্দ্র ক্যাস্ট্রো রুজ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। কিউবায় তাঁর বিপ্লব শুধু কিউবার মধ্যে নয় সারা পৃথিবীর শোষিত মানুষের মাঝে ছিল মুক্তির অনুপ্রেরণা। বিশ্ব সমাজকে ভেঙ্গে চুরে বদলে দিয়েছেন। চোখ খুলে দিয়েছেন শত কোটি শোষিত মানুষের।

১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট ফিদেল জন্ম গ্রহণ করেন কিউবার হলগুইন প্রদেশের মায়ারি শহরের থেকে দুরে বাইরান গ্রামে ২৩ হাজার একর শস্যক্ষেত্রের মালিক তাঁর সামন্তীয় কৃষক বাবার ঘরে। ফিদেলের বাবা এঞ্জেল ক্যাস্ট্রো স্পেনের গ্যালিসিয়া থেকে অভিবাসী হয়ে এসে বাইরান গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তার পর লাস মানাকাস ফার্ম গড়ে তুলে ইক্ষু চাষাবাদ করে প্রভূত অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা লাভ করেন। এসময়ে এঞ্জেল ক্যাস্ট্রোর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত ফিদেলের মা লীনা রুজ গঞ্জালেজ ছিলেন বাবা এঞ্জেল ক্যস্ট্রোর গৃহ পরিচারিকা এবং পরবর্তিতে দ্বিতীয় স্ত্রী। লীনা আর এঞ্জেলের ঘরে ফিদেল সহ সাত সন্তান জন্ম লাভ করে।

ফিদেলের ছয় বছর বয়সের সময় তাঁকে তাঁর টিচারের সাথে স্যান্ডিয়াগো ডি কিউবায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আট বছর বয়স হলে রোমান ক্যাথলিক চার্চে খৃষ্ট ধর্মে দীক্ষা দিয়ে স্যান্ডিয়াগোতেই লা শ্যালে বোর্ডিং স্কুলে পাঠান হয়। আশৈশব রাফ এন্ড টাফ ক্যাস্ট্রো পড়াশোনায় বেশি আগ্রহী ছিলেন না বরং খেলাধুলায় ছিল তার আগ্রহ। সহপাঠীদের সাথে ঝগড়া বিবাদ আর মারপিট লেগেই থাকত বলে অভিযোগের অন্ত ছিলনা। হাভানার অভিজাত কলেজে পড়তে এসে তিনি ইতিহাস এবং ভুগোলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন, কিন্তু ১৯৪৫ সালে হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন আইন পড়ার জন্যে। এখানেই তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন গোড়ে তোলেন এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও স্বোচ্চার হন। আমেরিকার সাহায্য ও মদদপুষ্ট ফুলজেন্সিও বাতিস্তা’র স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ও সক্রিয় হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ছিলেন গ্যাংষ্টারদের মত। নিজে স্বশস্ত্র থাকতেন এবং স্বশস্ত্র বন্ধু-বান্ধবদ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে চলা ফেরা করতেন। ১৯৪৭ সালে তিনি ঝানু রানীতিক এদুয়ার্ডো শিভাস এর দল পার্টিডো ওর্টোদক্সোতে যোগ দেন।

১৯৪৮ সালে প্রচণ্ড রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যেই ফিদেল ভালবেসে বিয়ে করেন এক ধনকুবেরে কন্যা মার্টা ডায়াজ ব্যালার্ডকে। বিয়েতে দুই পরিবারেরই অমত ছিল তবু মার্টার বাবা তাদের দশ হাজার ডলার দেন নিউ ইয়র্ক এ হানিমুন করার জন্য। এসময়েই ফিদেল কার্ল মার্ক্স, ফ্রেড্রিক এঙ্গেলস ও ভ্লাদিমির লেনিন এর লেখা লেখির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন। ১৯৪৯ সালে জন্ম হয় তার পুত্র সন্তান ফিডেলিটো। ১৯৫০ সালে তিনি গ্রাজ্যুয়েশন শেষ করে ল ফার্ম খুলে হাভানায় আইন পেশা শুরু করেন। এবং হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনা পয়সায় আইনি সহায়তা প্রদান করতে থাকেন।

১৯৫২ সালে গোড়ে তোলেন দ্য মুভমেন্ট নামে নিজস্ব দল। গোপন পত্রিকা এল একুসেডোর এর মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করতে থাকেন। বছর ঘুরতেই ১২০০ সদস্য সংগ্রহ হয়ে যায় যার প্রায় বেশিরভাগই দরিদ্র শ্রেণির থেকে আসা। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী হয়েও তিনি অন্যান্য কম্যুনিস্ট দলগুলোর সাথে দূরত্ব বজায় রাখতেন বটে কিন্তু ব্যাক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করতেন অনেক কম্যুনিস্ট নেতাদের সাথে। বিপ্লবের প্রয়োজনে অস্ত্র সংগ্রহ করতে ১৯৫৩ সালের ২৬ জুলাই শতাধিক সহযোদ্ধা নিয়ে মনকাডা ব্যারাকে হামলা করেন। সেনাবাহিনীর কাউন্টার এটাকে অনেক সহযোদ্ধা নিহত হয়, অনেকে আহত হয়ে ধরা পড়ে। পরে ফিডেলও ধরা পড়ে জেল খাটেন কিছুদিন। ১৯৫৩ সালে জেল থেকে বেরিয়ে দলের নাম বদলে রাখের ২৬থ অব জুলাই মুভমেন্ট ( এমআর-২৬-৭)। ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে ফিদেলের ভাই রাউলের সাথে বন্ধুত্ব হয় চিকিৎসক আর্নস্টো চে গুয়েভারার। চে তখন মেক্সিকোতে ফটোগ্রাফার ও সাংবাদিকতা করছিলেন এজেন্সিয়া ল্যাটিনা ডি নোটিসিয়াস পত্রিকার। রাউল ফিদেলের সাথে চে কে পরিচয় করিয়ে দিলে দুজনের দীর্ঘ আলাপের পর ফিদেল চে কে পছন্দ করে ফেলেন। এবং চে পরবর্তিতে ফিদেলের বিপ্লবী সহযোদ্ধা হয়ে যায়। তারপর দীর্ঘ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরশাসক বাতিসটার পতনের পর ১৯৫৯ সালের শুরুতেই ফিদেল কিউবার বৈপ্লবিক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে একটানা ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বহাল থাকেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সালে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কিউবান কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্ববুর্জোয়া মোড়ল আমেরিকার পেটের ভেতরে থেকে আমেরিকার সবরকম রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তিনি কিউবাকে নেতৃত্ব দিয়ে কিংবদন্তি হয়ে গিয়েছেন। তাঁকে হত্যা এবং উৎখাতের জন্য অন্তত ৬৩৮ বার তাঁকে হামলা করেছে আমেরিকা ও তার সিআইএ। সুবৃহৎ এক কর্মবহুল জীবনের পর ২০০৮ সালে স্বেচ্ছাবসরের পর থেকে তিনি কিছুটা নিভৃতেই জীবন যাপন করতেন। তাঁর এই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার কারণেই বেশ কয়েকবারই তার মৃত্যুর ভুল খবর প্রচারিত হয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যমে। প্রতিবার তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছেন। অবশেষে গত ২৫ নভেম্বার ২০১৬ নব্বই বছর বয়সে তিনি মহাপ্রয়াণে গেলেন। বিপ্লবীদের যেহেতু মৃত্যু হয় না সেহেতু এই মৃত্যুতে আমরা শোকাহত হবোনা বরং পৃথিবীর সাথে প্রতীক্ষায় থাকব তাঁর প্রত্যাগমনের।

ফেসবুকে বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ট্রোর মৃত্যু…

স্যালুট কমরেড…

তুষার আব্দুল্লাহ, হেড অব নিউজ, সময় টেলিভিশন

স্যালুট কমরেড… ফিদেল ক্যাস্ত্রো

বিদায় বিপ্লব!

বিদায় কিংবদন্তি ফিদেল

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি প্রবাসী, কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

আমাদের ফ্রিজ ম্যাগনেটের মতো দুনিয়ার দেশে দেশে ঘরে ঘরে তোমার অস্তিত্ব। পৃথিবী বদলায়নি যেভাবে তোমরা চেয়েছিলে। তবু বিপ্লবের স্বপ্নজনক তুমি। মোড়লের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলা সমাজতন্ত্রের সেনাপতি তোমাকে জুতোয় বিষ দিয়েও মারতে পারেনি আমেরিকা।

আমাদের বঙ্গবন্ধুকে তুমি হিমালয় বলে সম্বোধন করেছিলে। সঙ্গে ছিল মুক্তিযুদ্ধের। বিদায় কিংবদন্তি ফিদেল। ফিদেল ক্যাস্ত্রো তোমায় লাল সালাম।

আমাদের  চেতনায় এবং হৃদয়ে তিনি অবিনশ্বর

ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন, চিকিৎসক ও কলামিস্ট

শোষিতের অধিকার যখন যেখানে হয়েছে লুট

ঘুরে দাঁড়াবার তুমি শিখিয়েছো মন্ত্র

ফিদেল কাস্ত্রো,তোমাকে স্যালুট।

কিউবার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো মারা গছেন। যদিও এ কেবল শারীরিক অন্তর্ধান। ফিদেল কাস্ত্রোর আসলে মৃত্যু নেই। আমাদের  চেতনায় এবং হৃদয়ে তিনি অবিনশ্বর।

তোমার মহাপ্রয়াণে আমাদের শ্রদ্ধা অকুণ্ঠ…

মনজুরুল আলম পান্না, সাংবাদিক

প্রিয় বিপ্লবী ক্যাস্ত্রো, চলে তো যাবার কথা ছিল আরও আগেই। অবশেষে যেতেই হলো। বিপ্লবের দারুণ মন্ত্রে কে আমাদের দীক্ষিত করবে, জানি না! আমরা নিপীড়িতরা যে দিন দিন বড্ড বেশি অসহায় হয়ে পড়ছি। তোমার মহাপ্রয়াণে আমাদের শ্রদ্ধা অকুণ্ঠ…। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।

লাল সালাম, কমরেড

শরিফুজ্জামান শরিফ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ফিদেল ক্যাস্ট্রো মারা গেছেন। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেÑ মানবমুক্তির সংগ্রামে পৃথিবীর প্রতি প্রান্তে তিনি জ্বালিয়ে যাবেন আলোর মশাল। যুগ-যুগান্তর…। বিপ্লবের কখনো মৃত্যু হয় না…। লাল সালাম, কমরেড।

ফিদেল, তোমার ট্রেইল থাকুক এ পৃথিবীতে

রহমান শেলী, কথাসাহিত্যিক ও এডিশনাল এসপি

ফিদেল, তোমার ট্রেইল থাকুক এ পৃথিবীতে। আর অপেক্ষায় থাকলাম আমরা। দেখতে, কে আসে পরাশক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে!

স্যালুট দ্য লায়ন ইন উইন্টার

শরিফুল হাসান, সাংবাদিক

স্যালুট ফিদেল কাস্ত্রো। গত ৯০ বছর আপনি পৃথিবীতে ছিলেন সশরীরে। আগামী দিনের পৃথিবীতেও আপথাকবেন বিপ্লবের শক্তি হয়ে। বঙ্গবন্ধুকে আপনি বলেছিলেন হিমালয় কিন্তু আপনি নিজেও আরেক হিমালয় হয়ে থাকবেন এই পৃথিবীতে। আবারও স্যালুট দ্য লায়ন ইন উইন্টার।

তুমি, নির্মল কর

কোয়েল তালুকদার, লেখক

ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি।‘ কথাটা এখন প্রায় কিংবদন্তি। ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মুজিব তোমার মতো আমারও শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের সংগ্রাম।’ কিউবার এই সাড়া জাগানো বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে শোষিত মানুষগুলোর কাছ থেকে আজ বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। পৃথিবী আর কখনো ফিরে পাবে না কাস্ত্রোর মতো এই রকম একজন মহান কমরেডকে? হে ধরিত্রী, হে ঈশ্বরÑ ‘তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে। তব, পূণ্য-কিরণ দিয়ে যাক, মোর মোহ-কালিমা ঘুচায়ে।’

মানবাধিকার বলতে তাই কাস্ত্রোকেই বুঝি

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি, লেখক ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মাইক্রোসফট

একজন রাজনৈতিক নেতা ঠিক কতটা বিখ্যাত হলে এত হাজার মাইল দূরের একটা মানুষের চোখে পানি চলে আসতে পারে তাকে নিজ চোখে না দেখতে পারার দুঃখে, এটা আজ বুঝলাম যখন শুনলাম, ফিদেল কাস্ত্রো মারা গেছেন। কয়েক বছর আগে কিউবান একটা ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল, যে গর্ব করে জানিয়েছিল তাদের প্রেসিডেন্ট বেতন পায় ৩১ ডলার, সে নিজেও বেতন পায় ৩১ ডলার। আমি অর্থনীতির মূর্খ ছাত্রী, ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে কীভাবে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে নোবেল প্রাইজ বাগিয়ে নেওয়া যায়Ñ সেই জ্ঞান আমার অজ্ঞাত। তবে একটা মানুষ ঠিক কতটা জনপ্রিয় হলে সে দেশের মানুষ প্রেসিডেন্টের সততার সঙ্গে নিজের সততার মিল খুঁজে পায় সেটি ভালোই বুঝতে পারি।

আমেরিকার মতোন ধুরন্ধর দেশের পাশে থেকে নিজেদের দেশে আমেরিকাকে নাক গলাতে না দেওয়ার দুঃসাহস যিনি সম্ভব করে দেখিয়েছেন সেই মানুষটি ফিদেল কাস্ত্রো। নোবেল বিজয়ী কিংবদন্তি লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ছিলেন ফিদেলের খুব ভালো বন্ধু। ফিদেলের মাথার কাছে সবসময় থাকত হেমিংওয়ের স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইÑ ‘ফ্রম হুম দ্য বেল টোলস’! কতটা সংস্কৃতিবান হলে দূর দেশের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি দেশের প্রেসিডেন্টের নিজ গরজে শোভা পেতে পারে সেদেশে?

ফিদেল কি কি করে দেখিয়েছেন সেই লিস্ট শোনাতে গেলে শেষ হবে না। তবে সত্যিই করে দেখিয়েছেন সত্যিকারের সমতা কাকে বলে। মানবাধিকার বলতে তাই কাস্ত্রোকেই বুঝি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি’। আমার কাছে তাই সমতা মানে কিউবা, অধিকার মানে কিউবার সত্যিকারের সমাজতন্ত্র আর বঙ্গবন্ধু মানে ফিদেল কাস্ত্রো।

LuTfun Nahar Lata
ফিদেল ক্যাস্ত্রো আর নেই! পৃথিবী হারালো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Al-Haj Mizanur Rahman MP
আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়। ” এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন সেই মহান মানুষটি কিউবার অবিসংবাদিত নেতা কিউবার দীর্ঘদিনেরর প্রেসিডেন্ট ফিদল কাস্ত্রো আর নেই।
তার মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। তার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনা করছি।

Sheela Mostafa
একটা দেশে তরুন সমাজ হচ্ছে সে দেশের ইন্জিন।
ফিডেল কাস্ট একজন স্বৈরশাসক, সমাজতন্ত্রের নামে দেশে মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বাক স্বাধীনতা, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা। বাকি সব ইতিহাস। তার মৃতুতে কিউবা সহ সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ রাস্তায় নেমে celebrate করছে, মায়ামি Florida তে বিজয় উৎসব চলছে আর ঐদিকে রাশিয়া এবং বাংলাদেশ কেঁদে কেটে আকুল। এই internet র যুগেও মানুষ এত পিছিয়ে কেন?
“When you break that down by generation, 80 percent of people aged 18 to 34 want to leave,” Amandi noted. “That’s not a brain drain, it’s a brain exodus.”

Firoz Alam
ভুখা নাঙ্গাদের খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিয়েছিল এই বীর বিপ্লবী তখন এই নৃত্য ওয়ালাদের বাক স্বাধীনতার প্রয়োজনীতা ছিলনা ৷ আজীবন সংগ্রামী এই মহানায়ক নিপীড়িত মানুষের পক্ষে ছিলেন ৷ ওবামা বাক সর্বস্ব নেতা !
পশ্চিমা মিডিয়া যে একটি প্রোপাগান্ডা সেল তাতো মার্কিন নির্বাচনেই দেখলেন !

সাইফুল আলম চৌধুরী
আমাদের পুর্বাপর সময়টা থমকে গেল ! আমরা প্রতীক্ষায় থাকব, আমাদের সন্তানেরাও প্রতীক্ষায় থাকবে তোমার প্রত্যাগমনের।
সাইফুল আলম চৌধুরী's photo.সাইফুল আলম চৌধুরী's photo.
 

ফিদেল কাস্ট্রোর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও বিশ্বনেতাদের শোক

বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ট্রোর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলের নেত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক পৃথক শোকবার্তায় ফিদেল কাস্ট্রোর মৃত্যুতে শোক জানান তারা।

শোক বার্তায় আবদুল হামিদ বলেন, ফিদেল কাস্ট্রোর মৃত্যু বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রামের কথা বিশ্ববাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি শোকবার্তায় কিউবার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার সঙ্গে কিউবার এই নেতার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ফিদেলের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার স্বামীর সঙ্গে কাস্ট্রোর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, আদর্শনিষ্ঠ, দৃঢ়চেতা ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি অত্যন্ত সহমর্মী এই মানুষটির সাথে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ছিল গভীর সম্পর্ক। একাত্তরে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ট্রোর অবদানের কথা বাংলাদেশিরা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে।

এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবিসহ অন্য কমিউনিস্ট দলগুলোও কিউবার বিপ্লবী নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।

৪৯ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে আইসেন হাওয়ার থেকে বারাক ওবামা মোট ১১ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শাসনকাল দেখেছেন ফিদেল। কিন্তু তাকে সরাতে পারেননি কেউই। ফিদেলের অবসরের পরও কিউবা শাসন করছে তারই প্রতিষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টি। এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুতে বিশ্বনেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় বলেন, বিংশ শতাব্দীতে ফিদেল ক্যাস্ট্রো ছিলেন একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। ভারত তাদের একজন মহান বন্ধুকে হারাল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে আধুনিক বিশ্ব ইতিহাসে ‘যুগের প্রতীক’ অভিহিত করে বলেন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো চলে গেলেও কিউবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অটুট থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াবে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ক্যাস্ট্রোকে বর্বর একনায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ শনিবার ফিদেল ক্যাস্ট্রোর প্রশংসা করেছেন। তিনি ক্যাস্ট্রোকে ‘শক্তিশালী’ কিউবার জনক বলে অভিহিত করেছেন। রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স গর্বাচেভের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ‘আমেরিকানদের কঠোর অবরোধ সত্ত্বেও ফিদেল তার দেশকে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। ওই সময় তার ওপর ব্যাপক চাপ ছিল এবং সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি তার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। ক্যাস্ট্রো তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কিউবাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।’

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো বলেন, ক্যাস্ট্রো মেক্সিকোর বন্ধু ছিলেন। সেইসঙ্গে তিনি ছিলেন সম্মান, সংলাপ ও সংহতির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রবর্তক।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে চীনের জনগণ ভাল ও সত্যিকারের একজন কমরেড হারালো। ইতিহাস ও মানুষ তাকে স্মরণ করবে।

এছাড়া ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, জনপ্রিয় ফুটবল তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাফেদ জারিফসহসহ অন্যান্য বিশ্বনেতা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.