বাংলাদেশি যুবক ১৪ বছরের শ্বেতাঙ্গ ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত

September 20, 2013 2:36 pmComments Off on বাংলাদেশি যুবক ১৪ বছরের শ্বেতাঙ্গ ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্তViews: 80
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ব্রিটেনে পড়ালেখা করতে এসে বাংলাদেশি ফেরদৌস হাসান ইংলিশ গার্লকে রেইপ মামলায় দোষী সাব্যস্ত

টানা তিনদিনব্যাপী নিউক্যাসল ক্রাউন কোর্টে ১৪ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে হিয়ারিং চলছে, বাংলাদেশি ছাত্র ফেরদৌস হাসান ও অপর তিন সহযোগীর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগÑ গত ফেব্র“য়ারি মাসে ইংল্যান্ডের নর্থইহেমঃ¡র সাউথ শিল্ডসের বিউফন্ট রোডের বাড়িতে পাশের রুমের এক শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে উচ্চ মাত্রায় ভদকা মিশিয়ে অপ্রকৃতিস্থ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। মেয়েটি পরে প্র্যাগন্যান্টের অভিযোগ এনে পুলিশে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে।

জানা যায়, ২২ বছর বয়স্ক হাসান ফেরদৌস গত জানুয়ারি মাসে নর্থ টাইনসাইড কলেজে নটিক্যাল সাইন্সে এইচএন্ডডি করার জন্য ব্রিটেনে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেন। ব্রিটেনে প্রবেশের একমাসের মাথায় তিনি তার সঙ্গী আবু সুফিয়ান (২১) ও রাফসান খান (১৯) মিলেমিশে ১৪ বছরের শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে।

হাসান ফেরদৌস বিউফন্টের যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেখানে ও এর আশপাশে আরী শতাধিক ছাত্র অবস্থান করেন।

দীর্ঘ তিন ঘণ্টা নিউক্যাসল ক্রাউন কোর্টে হিয়ারিং শেষে জুরি তাদের ভারডিক্ট শুনান। ওই সময় হাসানের আইনজীবী টম মোরান হাসানের অতীত রেকর্ডে এরকম কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকার বিষয়ে জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টেন্স প্রদানের যুক্তি তুলে ধরেন। জাজ সায়মন হাইকী তখন টম মোরানকে বলেন, হাসান অবশ্যই সাজাপ্রাপ্ত হবেন প্রবেশন অফিসারের রিপোর্ট তৈরির পর থেকেই।

ক্রাউন কোর্টে জুরি হাসান ফেরদৌসকে দোষী সাব্যস্ত করেন, তবে তার সঙ্গী অপর দুজনকে নট গিল্টি হিসেবে আদেশ প্রদান করেন অন্য এক শ্বেতাঙ্গকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকেও, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার কারণে।

বাংলাদেশি এ যুবকের ১৪ বছরের শ্বেতাঙ্গ ধর্ষণের এ মামলার হিয়ারিংয়ের সময় কট্টরপন্থি দল ইডিএলএফ ক্রাউন কোর্টের বাইরে সারাক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগানের মধ্যে ছিলÑ রেপিস্ট হাসানসহ ওদেরকে এখনি ডিপোর্ট করে ফেরত পাঠাতে হবে। ভিকটিমের মা এ সময় প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করেন, এ রেইপের ফলে তার ছোট মেয়েটি জীবনের গতিপথ থেকে ছিটকে পড়েছে, সে যেন তার চলার পথের খেই হারিয়ে ফেলেছে।

কোর্টে হাসান স্বীকার করে, সে পুলিশের কাছে প্রথমে স্বীকার করেনি ধর্ষণের ব্যাপারে। কারণ সে ভয় পেয়ে গিয়েছিল এবং কি করা উচিৎ বুঝতে পারছিল না। যে কারণে সে শুরুতে পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা হাসান ফেরদৌস ও সঙ্গীয়দের অল্প বয়সী শ্বেতাঙ্গ ধর্ষণের এ মামলা ও কাহিনী সাউথ শিল্ডস, ওসেন রোড (হাসানসহ অন্যরা যেখানে থাকেন) ও নিউক্যাসল সিটিতে এখন আলোচনা খুব সরগরম। কমিউনিটিতে এখন এ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন। ইতোমধ্যে এ ঘটনা ব্রিটেনের মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় ফ্রন্ট পেজে বাংলাদেশি ছাত্রের রেইপ তুলকালাম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, ডেইলি মেইল তাদের ছবিসহ দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেক শ্বেতাঙ্গ ও ইডিএলএফ বিষয়টিকে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে প্রচারণা হিসেবে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত দেখে স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা, ইডিএলএফ এ ঘটনা নিয়ে শপিং সেন্টার ও রাস্তাঘাটে, ট্রেনস্টেশনে একা কোনো কালো বাঙালি পেলেই আক্রমণ ও হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক নারীর হিজাব টেনে টান দেওয়ার অভিযোগও ইতোমধ্যে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

নিউক্যাসল ক্রাউন কোর্ট পরবর্তী হিয়ারিংয়ে হাসানের সেন্টেন্স প্রদান করবেন। হাসান ব্যতিরেকে সুফিয়ান ও রাবসান খান পুলিশি এসকর্টের মধ্য দিয়ে কোর্ট বিল্ডিং ত্যাগ করেন। কেননা, ওই সময় ইডিএলএফ কোর্ট বিল্ডিংয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল।

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ | সূত্রঃ আমাদের অর্থনীতি

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.