বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী

September 29, 2015 12:48 amComments Off on বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসীViews: 16
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube
সুপার মুন:
বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী
আকাশের চাঁদ তো সবাই দেখে। কিন্তু অন্যান্য দিনের চেয়ে রোববারের আকাশে চাঁদের আকার, সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চাঁদকে জড়িয়ে থাকা লাল আভায় যেন ঢাকা পড়েছিল চাঁদের কলঙ্ক। ৩৩ বছর পর চাঁদের অপার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ বিশ্ববাসী, সৌন্দর্য যেন ঠিকরে পড়েছিল পৃথিবীতে। সে এক বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী। বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথিবীর মানুষ দেখল । কিন্তু এ গ্রহণ সাধারণ কোন নয়। এ গ্রহণ হলো ের গ্রহণ। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম একই সঙ্গে এবং চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘটল। পৃথিবীর মানুষ আবার বিরল এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে ২০৩৩ সালে।চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে কাছে যখন চলে আসে তখন পৃথিবী থেকে একে দেখতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বড় দেখা যায়। এই পূর্ণিমাকে ‘’ বলা হয়। কিন্তু এই সংজ্ঞা নিয়ে জ্যোতির্বিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আর যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। ফলে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে; সেই ছায়ায় চাঁদকে রক্তাভ লাল দেখায়। আর তা দেখার জন্য সাড়া পড়েছে বিশ্বজুড়ে সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের মধ্যে। এবারের বিশেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ নর্থ আমেরিকা, সাউথ আমেরিকা এবং আফ্রিকা ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দেখা গেছে। নর্থ আমেরিকার পশ্চিমাংশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাকি অংশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে দেখা গেছে আংশিক গ্রহণ। যুক্তরাজ্যে সোমবার ভোরবেলায় পৃথিবীর ছায়ার নিচে হালকা ঢাকা পড়েছিল চাঁদ। আর নর্থ ও সাউথ আমেরিকায় গ্রহণ দেখা গেছে রোববার সন্ধ্যায়। বাংলাদেশ থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা না গেলেও দেখা গেছে রোববার। গতকালও সেই বিশাল চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করছে দেশবাসী।
১৯৮২ সালের পর এক বিরল দৃশ্যের দেখা মিলল রোববার রাতের আকাশে। বাংলাদেশের আকাশে বড় চাঁদ দেখা গেছে। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও এই চাঁদ দেখতে পেয়েছে বিশ্ববাসী। মহাজাগতিক ঘটনার একপূর্ণিমার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় চাঁদ লালচে আভায় ধরা দেয় বিশ্ববাসীর কাছে, যাকে বলা হয় ‘সুপার মুন’। এমন দৃশ্য দেখতে আবার ২০৩৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর গত ১শ’ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র পাঁচবার। যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকট কক্ষপথে চলে আসে ও স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় দেখায় তখন তাকে ‘সুপার মুন’ বলা হয়।

সুপার মুন সম্পর্কে আইরিশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এটি খুবই বিরল ঘটনা। কিছুসংখ্যক মানুষ যারা এ দৃশ্য দেখতে পাবেন তারা ভাগ্যবান। রাতে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চাঁদ কমলা থেকে গাঢ় লাল রংয়ে রূপ নেবে। পৃথিবীর সব স্থান থেকে সুপার মুন অবলোকন করা নাও যেতে পারে। এটা নির্ভর করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপর।

জানা গেছে, চাঁদ সম্পূর্ণ গোলাকার নয় বলে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৯ হাজার ৯০০ কিলোমিটারের কম-বেশি হয়। আর একমাত্র এ উপগ্রহটি প্রতি ২৭ দিন অন্তর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের যে বিন্দুতে (পেরিজি) চাঁদ আসে, তার দূরত্ব ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১০৪ কিলোমিটার। আর সবচেয়ে দূরে (অ্যাপোজি) যে বিন্দুতে চাঁদ অবস্থান করতে পারে তার দূরত্ব ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৯৬ কিলোমিটার। পেরিজির সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখনই ঘটনাচক্রে হলে চাঁদকে স্বাভাবিকের থেকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এটিই ‘সুপার মুন’ বা ‘পূর্ণচন্দ্র গ্রহণ’।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, একই সঙ্গে সুপার মুন ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা এবার ৩০ বছরের বেশি সময় পর ঘটছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে না। আর একই সঙ্গে সুপার মুন-চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০৩৩ সালে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.