ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে বাণিজ্যিকভাবে

May 14, 2017 11:46 amComments Off on ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে বাণিজ্যিকভাবেViews: 14
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে বাণিজ্যিকভাবে

তাওহীদুল ইসলাম

সব কিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িও চলবে বাণিজ্যিকভাবে। এ সেবার আওতায় থাকবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারও। কাক্সিক্ষত গন্তব্যে যাওয়া যাবে বিশেষ অ্যাপসের সহায়তায়। এ ছাড়া সুবিধা মিলবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রেও। এর ফলে পরিবহন সেক্টরে বড় পরিবর্তন আসবে, যাত্রী ও রোগী পরিবহনে দুর্ভোগও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য শিগগিরই চালু হচ্ছে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আউটসোর্সিং পদ্ধতির সেবা মিলবে। এ জন্য সফটওয়্যার ও ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাইছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মূলত উবারের মাধ্যমে চলমান পদ্ধতিকে বৈধতা দিতে একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় বিআরটিএ। একই ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে গঠিত কমিটি।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান আমাদের সময়কে বলেন, পরিবহন সেক্টরকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে একটি বড় সুবিধা হচ্ছেÑ ট্যাক্সিক্যাব ও অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে হয়রানির অভিযোগ থাকবে না। দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারবেন যাত্রীরা। এ জন্য কমিটির কাজ চলছে।

বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কার্যক্রম শুরু হলে ফিটনেস নিয়ে আর অভিযোগ উঠবে না। তা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় অনেকে গাড়ির বাণিজ্যিক সেবা দিতে পারবেন।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, সফটওয়্যার ও ডিভাইস স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে। বর্তমানে ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোর মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু এ দুটো বাহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং গন্তব্যে না যাওয়ার অভিযোগ পুরনো। দীর্ঘ সময় স্টপেজে দাঁড়িয়ে মেলে না অটোরিকশা। পাওয়া যায় না ট্যাক্সিক্যাব। আর বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে যে কেউ এ সুবিধা নিতে পারবেন। আর এ নিয়ে হয়রানির সুযোগ কম। কারণ অনলাইনে সুবিধাদাতা সব যানবাহনের তালিকা থাকবে বিআরটিএর কাছে। তা ছাড়া অনলাইন সেবা দেওয়ার আগে নিতে হবে অনুমোদন। উবারের মাধ্যমে এ সেবা কিঞ্চিত চললেও তা অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছে বিআরটিএ। নীতিমালার আওতায় এসে উবারকেও অনুমোদন নিতে হবে। অবশ্য এ নিয়ে উবার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে সংস্থাটি।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নিতে হলে উবারকেও অনুমতি নিতে হবে। নীতিমালার পর সব ধরনের সফটওয়্যার সেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। একচেটিয়া আধিপত্য ঠেকাতে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই এককভাবে কাজ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘টপ আইআই’ এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান ট্যাক্সিক্যাব নীতিমালায় প্রাইভেটকার বাণিজ্যিকভাবে চলাচলে বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য পরীক্ষাপূর্বক কমিটি করে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া সকল মহানগরী এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল পরিচালনার চিন্তা করেছে বিআরটিএ। এজন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি যাচ্ছে। এ ছাড়া অটোরিকশায় বিশেষ সফটওয়্যার ও ডিভাইস সংযোজনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা ছাড়া রোগী ও লাশ পরিবহনের সুবিধার্থে একই উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিএ।

সূত্র আরও জানায়, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিটনেস সনদ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএ অফিসে ভিআইসি (ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টার) চালু করে বিআরটিএ। মাত্র দুটি লেনে বাণিজ্যিক গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হয় এখন। তাও দিনে বড়জোর ৫০-৬০টি গাড়ি পরীক্ষা করা যায়। বাকি গাড়ি দেখতে হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এজন্য আউটসোর্সিং পদ্ধতির কথা চিন্তা করছে বিআরটিএ। প্রাথমিকভাবে ঢাকার মিরপুর, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া, উত্তরার দিয়াবাড়ীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ সার্কেল অফিস এ সেবার আওতায় আনতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘টপ আইআই’ নামের প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় প্রথম দিকে এ কার্যক্রম হাতে নিতে চায় বিআরটিএ। তাই ডিজিটাল ফিটনেস, ডিভাইসের মাধ্যমে যাত্রীসেবার সুবিধা নিয়ে গত ১৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টশন করে এ প্রতিষ্ঠানটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে গত বছরের ২৪ মে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ‘টপ আইআই’।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার তারেক শামস হিমু আমাদের সময়কে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এ সেবায় পরিবহন খাতের উন্নতি হবে। সরকারনির্ধারিত বিদ্যমান ভাড়ার চেয়েও কম টাকায় ট্যাক্সিক্যাব-অটোতে চড়তে পারবেন যাত্রীরা। প্রতিযোগিতার কারণে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে প্রথম এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান নতুন করে এ পদ্ধতিতে যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র: আমাদের সময়

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.