স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা: ঘটনাক্রম

November 3, 2016 1:17 pmComments Off on স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা: ঘটনাক্রমViews: 45
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার ফসল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা: মানবাধিকার কমিশন

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়।

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়। Image copyrightBBC BANGLA

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের বাড়ীঘর এবং মন্দিরে ব্যাপক হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বিবিসিকে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন সেদিন যে ভূমিকা পালন করেছিল, কোনভাবেই তারা এই ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না।

ফেসবুকে ইসলামধর্মকে অবমাননার এক কথিত অভিযোগকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত রোববার হিন্দুদের বহু ঘরবাড়ী এবং মন্দিরে শত শত মানুষ হামলা চালায়।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, যেভাবে আগে থেকে পরিকল্পনা করে সেদিন এই হামলা চালানো হয়, সেটা মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

“শনিবারে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তারা মাইকিং করেছে, তারা মানুষদের উত্তেজিত করেছে। আর যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে ঠিক তখনই দুটো ইসলামী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চায় এবং স্থানীয় প্রশাসনও তখন তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে”।

এমন কঠিন উত্তেজনাকর সময়ে স্থানীয় প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে যে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে এটাকে প্রশাসনের অদূরদর্শীতা বা অপরিপক্কতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন মি: হক।

তিনি আরও জানান, কেন সে সমাবেশে যথেষ্ট পরিমাণ পুলিশ রাখা হয়নি-কমিশনের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছে পুলিশ দেয়ার দায়িত্ব ওসির।

যখন কোনও এলাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় তখন তখন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন আলোচনা করে সে অনুমতি দেয়া হয়, কিন্তু এখানে এমন কোনও লক্ষণ দেখেননি বলে জানান তিনি।

‘এক মুসলমান হামলা করছে, আরেক মুসলমান বাঁচাইছে’

  • ২ নভেম্বর ২০১৬
নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়।

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়। Image copyrightBBC BANGLA

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের জীব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের জীবনে এমন ভয়ানক দিন স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে কখনো আসেনি।

শতশত মানুষ যখন বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে নাসিরনগরের হিন্দু বাড়ি এবং মন্দিরগুলোতে ভাংচুর এবং লুটপাট চালায়, তখন আতঙ্কিত হিন্দুদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে প্রাণ রক্ষার জন্য পালাতে শুরু করে।

 

কিন্তু এসময়ই হামলাকারীদের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এলাকার কয়েকজন মুসলমান যুবক।

হিন্দুবাড়ি এবং মন্দির বাঁচাতে তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন।

এদেরই একজন জামাল উদ্দিন – তিনি নাসিরনগর সদর হাসপাতালে স্টোরকিপারের চাকুরী করেন।

হিন্দুদের বাড়িগুলোতে যখন আক্রমণ শুরু হয়, জামালউদ্দিন তখন হাসপাতালে বসে থাকতে পারেননি।

তিনি দৌড়ে যান কিছুটা দূরে অবস্থিত দত্তবাড়িতে।

তার সাথে আরো কয়েকজন মুসলমান যুবক দত্তবাড়ির প্রধান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছিলেন। আট থেকে দশজন মুসলমান যুবক দত্তবাড়ির সামনে সারিবদ্ধ হয়ে আক্রমণকারীদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

কিন্তু আক্রমণকারীদের সংখ্যার তুলনায় জামালউদ্দিন ও সহযোগীদের শক্তি ছিল খুবই নগণ্য।

হামলাকারীদের কারো কারো হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠি। তারা জামালউদ্দিনকে রড় দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

শেষ পর্যন্ত দত্তবাড়ির পূজামণ্ডপ রক্ষা করতে পারেননি জামালউদ্দিন।

জামালউদ্দিন ও তার সহযোগীদের আঘাত করে হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে যায়। তারপর হামলাকারীরা সে পূজামণ্ডপ গুড়িয়ে দেয়।

শতশত আক্রমণকারীর সামনে নিজের জীবন বাজি রেখে জামালউদ্দিন কেন এগিয়ে গিয়েছিলেন?

জামালউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি তখন নিজের জীবনের চিন্তা করি নাই। ওরা আমার ভাই, এটা আমার গ্রাম। ওরা তো নিরপরাধ লোক। এ বর্বরোচিত হামলা কেন এদের উপর হবে?”

তিনি বলছিলেন হিন্দু গ্রামবাসীদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তিনি মৃত্যুর জন্য তৈরি ছিলেন।

রবিবার সকালে হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে জামালউদ্দিনের শরীর এখনো শিউরে ওঠে।

ভয়ঙ্কর এক সাম্প্রদায়িক আক্রমণ দেখেছেন জামালউদ্দিন। এ ধরনের আক্রমণের কথা তিনি কখনো ভাবতেও পারেননি।

নাসিরনগর উপজেলার দত্তবাড়ি, নমশূদ্র পাড়া, কাশিপাড়া এবং ঘোষ পাড়ায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে উগ্র ইসলামপন্থীদের একটি গোষ্ঠী।

জামালউদ্দিন বলছিলেন, “ওইদিন আমার নিজের প্রতি একটুখানিও মায়া ছিল না। আমার এক ভাই অন্যায় হামলার শিকার হবে, আমাদের মা বোনদের ইজ্জত যাবে – তাহলে আমাদের থেকে লাভ কী?”

জামালউদ্দিন

জামালউদ্দিন, দত্তবাড়ির প্রধান ফটকে দাড়িয়ে হামলাকারীদের বাধা দিচ্ছিলেন এবং তাঁর সাথে ছিল আরও আট থেকে দশজন মুসলমান যুবক। Image copyrightBBC BANGLA

জামাল উদ্দিনের সাথে হিন্দুবাড়ি রক্ষা করতে আরো এগিজামাল উদ্দিনের সাথে হিন্দুবাড়ি রক্ষা করতে আরো এগিয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল মজিদ। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলের লাইব্রেরিয়ান। মি: মজিদ জানালেন আক্রমণকারীদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে বলে তাদের মনে হয়েছে।

মি: মজিদ বলছিলেন, যে হিন্দু যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কাবাঘরকে অবমাননা করে ছবি দেয়া হয়েছে তার বিচার হোক। কিন্তু তারা কখনোই চাননি নির্বিচারে হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে হামলা হোক।

তিনি বলেন, “যারা হামলা করছিল, তারা মুসলমান নামের কলঙ্ক। এরা অন্য কোন হাসিল আদায় করার জন্য এ ঘটনা ঘটাইয়া গেছে। আমরা বলছি বাড়িতে ঢুকতে হইলে আমাদের মাইরা তারপরে ঢুকতে হইব”।

হামলাকারীরা মি: মজিদকে ইট এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ করেছিল।

মি: মজিদের বর্ণনায় নাসিরনগরে হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাইয়ের মতো বহু বছর ধরে একসাথে বাস করছে। উভয় ধর্মের উৎসবে গ্রামের সবাই যোগ দেয় এবং সহযোগিতা করে।

নীলিমা দত্ত

নীলিমা দত্ত – Image copyrightBBC BANGLA

রবিবার সকালে শতশত আক্রমণকারীর মাঝে কয়েকজন মুসলমান যুবক যেভাবে হিন্দুদের রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন, সেটিকে কৃতজ্ঞতার সাথে বর্ণনা করছেন স্থানীয় দত্তবাড়ির বাসিন্দারা।

দত্তবাড়ির বাসিন্দা নীলিমা দত্ত বলেন, “এক মুসলমান হামলা করেছে, আরেক মুসলমান বাঁচাইছে। ওরা যদি আমাদের রক্ষা না করতো, তাহলে এখানে লুটপাট হইতো”।

তিনি বলছিলেন যে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক আক্রমণ তিনি তার জীবনে কখনো দেখেননি। হামলাকারীরা পূজামণ্ডপ ভাংচুর করলেও মুসলমান যুবকদের বাধার কারণে বাসস্থানের ঘরে ঢুকতে পারেনি। তবে বাইরে থেকে ঢিল ছুঁড়েছে।

এমনকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দত্তবাড়িতে এ ধরনের আক্রমণ হয়নি বলে নীলিমা দত্ত উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও মুসলমানদের সহযোগিতায় হিন্দুরা দত্তবাড়িতে পূজার আয়োজন করেছিল বলে এখানকার বাসিন্দারা জানালেন।

নীলিমা দত্ত বলেন, যে হিন্দু যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কাবাঘরকে অবমাননা করে ছবি দেয়া হয়েছিল, তার কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।

কিন্তু সে ছবির জের ধরে সব হিন্দুবাড়ি এবং মন্দিরে কেন হামলা চালানো হলো, সে প্রশ্নের উত্তরটাই খুঁজে পাচ্ছেন না নীলিমা দত্ত।

নাসিরনগরে ভাঙা একটা মূর্তি

নাসিরনগরে ভাঙচুরের পর মন্দিরের অবস্থা -Image copyrightBBC BANGLA

ভিডিও: নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার সরেজমিন রিপোর্ট

  • ১ নভেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে ফেসবুকে মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের জন্য অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার জের ধরে হিন্দুদের অন্তত পাঁচটি মন্দির ও বহু বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার পর সেখানে কর্তৃপক্ষ সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী নাসিরনগর উপজেলা সদরে রোববার এই হামলার ঘটনা ঘটে।

তারা বলছেন, দুর্বৃত্তরা অন্তত ২০টি ঘর ও পাঁচটি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে।

তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, আক্রান্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা আরো বেশী।

বিবিসি সংবাদদাতা আকবর হোসেন নাসিরনগরের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখেছেন।

তিনি সেখান থেকে জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে শত শত মানুষের মিছিল এবং সেই সাথে ভাঙচুর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আতঙ্কিত ও দিশেহারা করে তোলে।

তাদের অনেকেই ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে কেন তারা এই ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় হিন্দুদের অনেকেই অভিযোগ করছেন সেখানকার মাদ্রাসাগুলোর অনেক ছাত্র এই হামলায় অংশ নিয়েছে।

আক্রান্তদের একজন, স্থানীয় স্কুল শিক্ষক নীলিমা দত্ত বলছেন, হামলার সময় যে আতঙ্ক তারা অনুভব করেছেন তার মাত্রা বলে বোঝানো কঠিন।

তিনি বলেন, দু’দিক থেকে এই হামলা ঘটে। আক্রমণকারীরা দরোজা জানালা ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।

তবে তিনি বলেন এলাকার মুসলমান প্রতিবেশীরা তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন।

বিবিসির সংবাদদাতা যে কয়েকটি গ্রাম ঘরে দেখেছেন সেখানে বহু বাড়িতে যেমন ভাঙচুর হয়েছে তেমনি স্বর্ণ এবং নগদ অর্থ লুঠের ঘটনাও ঘটেছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন বক্তব্য-ছবি পোস্ট না করার আহ্বান পুলিশের

ফেসবুকফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য এবং ছবি পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ও ব্যাঙ্গাত্মক আপত্তিকর ছবি এবং মন্তব্য পোস্ট করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ ধরনের কাজ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছে। কোন ব্যক্তি যদি ধর্মীয় উস্কানিমূলক ও ব্যাঙ্গাত্মক ছবি এবং মন্তব্য পোস্ট করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

নাসিরনগরে আ. লীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলানাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার আগে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশগুলোতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের অনেকে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সদর আসনের এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী জানিয়েছেন, উসকানি দেওয়ার সঙ্গে দলের লোকজন জড়িত থাকলে তারা রেহাই পাবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সুরুজ আলী তার সমর্থকদের নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর একটি প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন। তার সঙ্গের কিছু লোকের হাতে লাঠিসোটা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও তৌহিদি জনতার পৃথক দুটি সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান। তাদের মধ্যে সুরুজ আলী বক্তব্য দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও উসকানিমূলক কিছু বলেননি বলে দাবি করেছেন।

নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলানাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এলাকার একাধিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য অভিযোগ করেন, ‘যাদেরকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছিলাম হামলার দিন তারা যেন কেমন অচেনা হয়ে গেলেন। আবার হামলার পরদিন যখন বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি-বেসরকারি এবং রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসলেন, তখন সবার সামনে তোষামোদি করা হচ্ছে।’ নেতাদের এই ভূমিকা ভবিষতে ভোট চাওয়ার সময় মনে রাখবেন বলেও জানান তারা। তাদের দাবি,  জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণের কারণ অনুসন্ধান করে আইনের আওতায় আনতে হবে।  

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ আলী। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রসরাজের (যার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত ছবি আপলোডের অভিযোগ রয়েছে) ফাঁসি দাবি করেছি।’

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের উপজেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক মুফতি ইসহাক আল হোসাইনও স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ আলী তাদের সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তিনি কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি ইসহাক আল হোসাইন বলেন, ‘সম্ভবত তার (সুরুজ আলী) বক্তব্য রেকর্ড আছে। সেটা না শুনে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের সমাবেশ থেকে কেউ গিয়ে হামলা চালায়নি। ইসলাম সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না। অন্য ধর্মের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলামে স্পষ্ট করে বলা আছে।’

এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এটি এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই দিন সমাবেশে অংশ নিলেও আমি প্রতিবাদকারীদের থামানোর চেষ্টা করেছি। উসকানিমূলক কিছু বলিনি।’

নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলানাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা

বুধবার দুপুরে হরিপুর গ্রাম পরিদর্শনকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বলেন, ‘তদন্তে কারও নাম বের হয়ে আসলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে দলেরই হোক বা বাইরের হোক।’ এ সময় তিনি ব্যর্থতার জন্যে নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান। 

আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ‘উসকানি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, ঘটনার উৎপত্তিস্থল হরিপুর। যে রসরাজ দাসের ফেসবুক থেকে কাবা শরিফ অবমাননার কথা বলা হচ্ছে, সে পেশায় একজন জেলে এবং হরিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ওই সংগঠনের সভাপতি হলেন ১৯৭১ সালের রাজাকার তাইজুদ্দিন এর ছেলে ফারুক মিয়া। ফারুক আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ফেসবুকে ঘটনার পর রসরাজকে ফারুক বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।’

এ ঘটনার পেছনে দূরভিসন্ধি রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উসকানিদাতা চিহ্নিত করতে হলে আগে ফারুককে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে ঘটনার প্রকৃত উসকানিদাতারা বের হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভাবে একের পর এক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’। তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক নাসিরনগরে আসেন। তবে তিনি বুধবার সারাদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি। স্থানীয় ডাক বাংলোয় অবস্থান করেন।  এ নিয়েও এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলানাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা

এদিকে মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনায় গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে মঙ্গলবার সকাল থেকে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার নেপথ্যে কারা, কী কারণে এমন হলো এ বিষয়ে তারা খোঁজ নিতে শুরু করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং পুলিশের তদন্ত টিমের প্রধান মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার ব্যাপারে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সময় মতো সব কিছু জনানো হবে।’

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। তবে আক্রান্তদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক এখনও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মোট ১৪টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি ব্যক্তিগত মন্দিরকে পাঁচ হাজার টাকা করে ও নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বজনীন তিনটি মন্দিরকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।  এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১০টি মন্দিরকে ১০হাজার টাকা এবং ২৯টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রসরাজ দাস নামক এক যুবকের  ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় গত রবিবার হামলা চালিয়ে মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এর আগে শনিবার উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের ওই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা: কি করেছেন এমপি, স্থানীয় নেতারা

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরের ওপর হামলার দুদিন পরেও সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । স্থানীয়দের মন থেকে শঙ্কা এখনও কাটেনি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচুর সদস্যও।

মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের প্রতি অবমাননাসূচক একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার জেরে গত রোববার নাসিরনগর উপজেলায় একদল বিক্ষুব্ধ লোক হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলা করে।

বিবিসির সংবাদদাতা সেখানে ঘুরে দেখেছেন, শতাধিক বাড়ি এবং দশটিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এর আগেও গত বছর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুটি ক্ষেত্রেই অভিযোগের তীর মাদ্রাসার ছাত্রদের বিরুদ্ধে।

এই এলাকায় বেশ কিছু মাদ্রাসা রয়েছে, অন্যদিকে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাই এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে এ জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কতোটা ভূমিকা রাখেন, এ নিয়েও একটা প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশ

নাসিরনগরে আক্রান্ত একটি বাড়ি – Image copyrightMASHUK HRIDOY

এ নিয়ে কথা হচ্ছিল নাসিরনগরের বাসিন্দা বলাই দত্তর সাথে। তিনি বলছিলেন, এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন ছিল খুবই সুন্দর। পূজা-পার্বণ সবকিছুতেই স্থানীয় মুসলিমদের সহযোগিতা তারা পেয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিরাও সহযোগিতা করেন।

“কিন্তু এ ধরণের ঘটনা এখানে কখনো ঘটেনি। জনপ্রতিনিধিরা বা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে কি করেছে তা আমরা বুঝতে পারি নি।”

“শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য জনপ্রতিনিধিরা তৎপর থাকেন, কিন্তু এ ঘটনার সময় তারা তৎপর ছিলেন কিনা তা বলতে পারলাম না। তারা যদি থাকতো তাহলে অবশ্যই কিছু মানুষ রক্ষা পেতো । ” – বলছিলেন মি. দত্ত।

এখানে মাদ্রাসার আধিক্যের বারণে এগুলোর সাথে সম্পৃক্তরা রাজৈনৈতিকভাবে শক্তিশালী বলে ধারণা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে সে জন্য কোন হামলার সময় মাদ্রাসার ছাত্ররা জড়িত থাকলে জনপ্রতিনিধিরা তার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিতে পারেন না। কিন্তু নাসিরনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার এ অভিযোগ মানতে রাজি নন।

“আমরা সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এখানে উপস্থিত ছিলাম। দৌড়াদৌড়ি করেও আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি নি। বিচ্ছিন্ন কিছু লোকজন মন্দিরে হামলা করেছে। তাদের হাতে রামদা,শাবল, বাঁশের মতো অস্ত্র ছিল- তাই কেউ এটা প্রতিহত করতে পারে নি। ”

তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেবার জন্য তারা সব সময়ই সক্রিয়।

তবে মাদ্রাসাগুলোর ছাত্র শিক্ষকরা বলছেন যে কোন কিছু ঘটলেই তাদের ওপর দোষ চাপানো হয়, এবং তাদের মতে এটা রাজনীতির অংশ।

এখানকার সবচেয়ে বড় মাদ্রাসার শিক্ষক এবং হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি এনামুল হাসান বলছেন, সহিংসতা নয়, ইসলাম আক্রান্ত হলেই তারা কেবল প্রতিবাদ করেন।

” আসলে ইসলাম আগে থেকেই আক্রান্ত। নোংরা রাজনীতির কারণেই ওলামায়ে কেরাম , বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোর ওপর আক্রমণ হয়, এবং ‘ব্লেম গেম’ করা হয়।”

” এ ধরণের ঘটনা যখন ঘটে , তখন আমরা সচেতন লোকজনের সাথে পরামর্শ করি যেন ভবিষ্যতে এ ঘটনাগুলো আর না হয়। যে একসিডেন্টগুলো হয়ে যায়, তাকে তো আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। ” বলেন মুফতি এনামুল হাসান।

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়।

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়। – Image copyrightBBC BANGLA

তবে স্থানীয় মুসলমানদের কেউ সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা রোধ করতে এগিয়ে আসেন -এ নিয়ে পক্ষেবিপক্ষে যত বিতর্কই থাকুক না কেন। রোববারের হামলার সময়ও হিন্দু বাড়ি রক্ষা করতে জীবন বাজি রেখেছিলেন স্থানীয় যুবক জামাল উদ্দিন।

“আমি তখন আমার জীবনের কথা চিন্তা করি নি। আমার ভাই, আমার গ্রাম, আমার সমাজ – ওদের তো কোন দোষ ছিল না। ওরা তো একেবারে নিরপরাধ লোক, এরকম বর্বরোচিত হামলা কেন ওদের ওপর হবে? এরা তো কোন অন্যায় করে নি।”

জামাল উদ্দিন বলছিলেন,”আমার এক ভাই এরকম অযাচিত হামলার শিকার হবে, আমার মা-বোনের ইজ্জত যাবে – তাহলে আমাদের থেকে লাভ কি? আমরা একটুখানিও নিজের প্রতি মায়া ছিল না।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের জেলার বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব থাকে, তাদের কথাই শেষ কথা। কিন্তু এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ভুমিকা রাখতে পারছেন না কেন?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আল-মামুনকে এ প্রশ্ন করাতে তিনি বললেন, “আসলে আকস্মিক ভাবে এসব ঘটনা ঘটে। এটা মোবাইল ফোনের যুগ। গত বছরের ঘটনাটা কেউ বুঝতে পারে নি, বা টের পায় নি। বুঝতে পারলে , টের পেলে তা প্রতিহত করার মতো রাজনৈতিক শক্তি আমাদের আছে। ”

দুটো ঘটনা ঘটে যাবার পর তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

আরো সচেতন হবার তাগিদ অনুভব করছেন তারা।

সূত্রঃ বিবিসি অনলাইন

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.