মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প

June 5, 2017 11:34 amComments Off on মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্পViews: 5
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট ছয়টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ওপর আরোপিত তাদের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নিম্ন আদালতে এটি বারবার নাকচ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তারা এ আহ্বান জানানো হলো।

উচ্চ আদালতে সরকারের আবেদনের পর বিচার বিভাগের মুখপাত্র সারাহ ইজগুর ফ্লোরেস বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করতে আমরা সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি এবং এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে আমাদের জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি তার আইনি কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত।’

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলো থেকে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য হোয়াইট হাউস আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়জন বিচারকের একটি বেঞ্চে তাদের আবেদন পেশ করেছে।

নিম্ন আদালত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আটকে দিয়েছিল এটি বৈষম্যমূলক এই যুক্তিতে।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমেরিকার সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে দুটি আবেদন পেশ করেছে।

বিতর্কিত এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও বিতর্ক হয়।

‘আমরা সুপ্রিম কোর্টকে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি শোনার আবেদন জানিয়েছি এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে এবং জনগণকে সুরক্ষা দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে তার আইনি অধিকারের মধ্যে থেকেই কাজ করছেন সে ব্যাপারে আমাদের আস্থা আছে,’ বলেছেন বিচার বিভাগের মুখপাত্র সারা ইসগার ফ্লোরেস।

‘যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদ লালন করে বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়, সেসব দেশ থেকে প্রেসিডেন্ট কাউকে ঢুকতে দিতে বাধ্য নন, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে এবং আমেরিকার জন্য সে নিরাপত্তা হুমকি নয় সেটা নিশ্চিত হচ্ছে।’

ট্রাম্প প্রশাসন এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুনর্বহাল করার জন্য আদালতকে জরুরি ভিত্তিতে অনুমতি দেয়ার আবেদন জানিয়েছে।

আদালত এখন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ আবেদন শুনবে কিনা। তারা যদি সেই সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা হবে অক্টোবরে।

এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধীরা তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েছে।

আমেরিকান সিভিল লির্বাটিস ইউনিয়ন টুইট করেছে : ‘আমরা একবার এই বিদ্বেষপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রদ করেছি, আবার তা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।’

ন্যাশানাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারের আইন বিষয়ক পরিচালক ক্যারেন টামলিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, ‘বারবার আমাদের দেশের আদালতগুলো বলছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুসলিমদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে ভয়মুক্ত স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখব।’

ট্রাম্প জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই এই নির্বাহী আদেশে সই করেন।

এই আদেশে বলা হয় সোমালিয়া, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য আমেরিকায় ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং সবরকম শরণার্থী কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আমেরিকার বেশ কিছু শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়।

এরপর ওয়াশিংটন স্টেট এবং মিনেসোটা থেকে প্রাথমিকভাবে আনা আইনি চ্যালেঞ্জের পর এর বাস্তবায়ন বন্ধ করা হয়।
ট্রাম্প এরপর মার্চ মাসে আইনি ইস্যুগুলো আমলে নিয়ে পরিবর্তিত আদেশে সই করেন এবং তাতে ইরাককে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।

কিন্তু ১৬ মার্চ এই আদেশ কার্যকর হওয়া বাধাগ্রস্ত হয় যখন মেরিল্যান্ডের একটি স্থানীয় আদালত রায় দেয় এই নির্দেশ সাংবিধানিক অধিকারের লংঘন।

হাওয়াই-এর আদালতও এটি বৈষম্যমূলক বলে রায় দেয় এবং বলে জাতীয় নিরাপত্তার যে যুক্তি সরকার দেখাচ্ছে ‘তা প্রশ্নসাপেক্ষ’।

গত মাসে ভার্জিনিয়ার কেন্দ্রীয় আপিল আদালত এই নির্দেশ জারি করার বিপক্ষে মত দিয়ে বলে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তার স্বপক্ষে দেয়া যুক্তি ‘পরোক্ষ যুক্তি – প্রাথমিকভাবে এটি দেশটিতে মুসলিমদের ঢোকা বন্ধ করার লক্ষ্যে এবং ধর্মীয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’

এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের এই নয় সদস্য বেঞ্চের পাঁচজন বিচারককে এটি সমর্থন করতে হবে।

ট্রাম্পের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মুসলমানদের বৈষম্য করার কারণে নেওয়া হচ্ছে কিনা বিচারকদের সে বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.