যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাবৃত্তি

September 18, 2014 10:33 pmComments Off on যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাবৃত্তিViews: 6
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

image

স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা ডক্টরেট ডিগ্রি যা-ই হোক না কেন সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সনদকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। তাছাড়া এখানকার শিক্ষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মান, শিক্ষাপদ্ধতি যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো। এখানে অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার পাশাপাশি স্নাতক প্রোগ্রামগুলোতে গবেষণার নিবন্ধ লেখা ও উপস্থাপনের উপর জোরারোপ করা হয়। শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করতে উৎসাহিত করেন এবং তাদের সাথে কোর্স নিয়ে আলাপ করতে তাগিদ দেন। এখানে দলগত প্রজেক্ট ও প্রেজেন্টেশন করা হয় যা টিমওয়ার্ক করতে শেখায়। এছাড়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশা করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সেসব দেশের জনগণ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এখানে বিভিন্ন দেশের ছাত্র সংগঠন আছে। নানান দেশের নানান উৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। যাদের ইংরেজি ভাষায় সমস্যা আছে তাদের সহযোগিতা করার জন্য ে আলাদা ভাষা প্রোগ্রাম আছে। আবার ক্লাবগুলোর মাধ্যমে অন্যান্য ভাষা শিক্ষারও সুযোগ আছে। প্রত্যেক ে বিদেশি ছাত্রদের জন্য সার্ভিস অফিস আছে। এরা ভিসা স্ট্যাটাস আর জরুরি পেপারওয়ার্ক বহাল রাখতে ছাত্রদের সহায়তা করে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ে বাংলাদেশি ছাত্র রয়েছে। তারা একে অপরকে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র শুধু তার অর্থনীতি, সামরিক শক্তি দিয়েই বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে না— যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি জ্ঞানবিজ্ঞান। বিশ্বের সেরা সব ও বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে। যেকোনো ভালো শিক্ষার্থীর জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের দরজা খোলা।

স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল ডিগ্রিতে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই আপনার স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। গবেষণা সহকারী বা শিক্ষা-সহকারী হিসেবে বৃত্তি পেতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রাম ভেদে সিজিপিএ-তে আপনাকে ৪-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ পেতে হবে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ফল (Fall) সেমিস্টারের জন্য বৃত্তি ঘোষণা করে। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্ম ও বসন্তকালীন সেমিস্টারেও বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। সব কিছুই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা ও সুপারভাইজারের বাজেট সাপেক্ষে।

প্রকৌশল ও বিজ্ঞান শিক্ষাক্রমে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের জিআরই, টোফেল, আইইএলটিএস করতে হয়। এসবের জন্য অনলাইনেই আবেদন করতে পারেন। অনলাইনে আবেদন করার ঠিকানা:

GRE: http://www.ets.org/gre
TOEFL: http://www.ets.org/toefl
IELTS:https://ielts.britishcouncil.org/bangladesh
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র ও প্যাকেজের তালিকা পাওয়া যায়।

কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে দিতে হয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে প্রিন্ট কপি ডাকে পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সময়সীমা থাকে। আবেদন পত্রের সাথে নিম্নের তথ্যাদি পাঠাতে হয়:

১. স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাশের ইংরেজিতে রূপান্তরিত কপি (সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সত্যায়ন থাকতে হবে)।
২. জিআরই, টোফেল, আইইএলটিএস-এর স্কোর। এসব সরাসরি ব্রিটিশ কাউন্সিল বা ইটিএস থেকে পাঠাতে হবে
৩. প্রয়োজনীয় আবেদন ফি
৪. ২-৩টি সুপারিশ পত্র (বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সদের)
৫. উদ্দেশ্য বর্ণনা ( Statement of purpose):আপনি কেন সেখানে পড়তে চান, আপনি কী অর্জন করতে চান, গবেষণায় আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে।
৬. আপনার জীবনবৃত্তান্ত

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান আপনার উচিত সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে ভর্তি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেখে নেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ইমেইল এড্রেসসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া থাকে। এসব দেখে আপনি সিদ্ধান্ত নিন কার অধীনে পিএইচডি করবেন। আপনি যে অধ্যাপকের অধীনে পিএইচডি করতে চান তার সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে তাকে বৃত্তির জন্য সহযোগিতা করারও অনুরোধ করতে পারেন।

আবেদন ও ভর্তি-প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তাই অন্তত এক বছর আগে থেকেই আবেদন-প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে আবেদন করা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভর্তির সময় আলাদা আলাদা হতে পারে।

ভর্তির হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ভিসা(I-20) পাঠায়। তখন ভিসার আবেদন করতে হয়। আমেরিকান দূতাবাসের অনলাইনেhttp://dhaka.usembassy.gov/evaf.htmlভিসার আবেদন করতে পারবেন। আমেরিকার ভিসা সংক্রান্ত সহযোগিতা পাবেন:http://www.saimongroup.com/-এ।

ল্যাবরেটরিতে গবেষণাকর্মে নিয়োজিত লেখক।

আমেরিকায় পড়াশোনা ও বৃত্তি সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য পেতে আমেরিকান সেন্টার খুবই সহায়ক। আমেরিকান সেন্টারের ঠিকানা:

দি আমেরিকান সেন্টার
জে ব্লক, প্রগতি সরণী (আমেরিকান দূতাবাসের উল্টা দিকে, নতুন বাজারের পরে)
বারিধারা, ঢাকা ১২১২
ফোন: (৮৮০) (২) ৮৮৫৫৫০০, ফ্যাক্স: (৮৮০) (২)৯৮৮১৬৭৭
ইমেইল; DhakaPA@state.gov

আমেরিকান সেন্টারে অসংখ্য সেমিনার হয়। ছাত্ররা এসব সেমিনারে বিনা খরচে অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতি বার সকাল দশটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আমেরিকান সেন্টার খোলা থাকে।

আমেরিকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হচ্ছে ফুলব্রাইট। এই বৃত্তির জন্য আবেদন ও অন্যান্য তথ্য পাবেন এই ঠিকানায়:http://eca.state.gov/fulbright/country/bangladesh
অনলাইনে ভিসা আবেদন করবেন:http://dhaka.usembassy.gov-এ

আমেরিকায় শিক্ষাক্রম চলে ৩টি সেমিস্টারে। ফল ও বসন্তকালীন সেমিস্টারই প্রধান। আর গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টার ঐচ্ছিক। এই সেমিস্টারে আপনি কোনো কোর্স না করলেও চলবে। যারা স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে এখানে আসে তারা মাস্টারস প্রোগ্রামে নিবন্ধিত হলে সাধারণত ৮টা কোর্স করতে হয়। প্রতিটি কোর্স ৩ ঘন্টার, অতএব মোট ২৪ ঘন্টার ক্রেডিটের সাথে আছে অন্যান্য সন্দর্ভ বা প্রজেক্ট। সবকিছু নির্ভর করে আপনি মাস্টারস অব সাইন্স নাকি মাস্টারস অব ইঞ্জিনিয়ারিং(নন-থিসিস) করছেন তার উপর।

স্নাতক ডিগ্রি নিয়েও সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা যায়। সেক্ষেত্রে ১৬টি কোর্স করতে হয়। আর মাস্টারস ডিগ্রি থাকলে ৮টি কোর্সই করতে হয়।

উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারে না। অতএব বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক যেকোনো শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দই হওয়া উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

লেখিকা: তাসনুভা আশরাফী।।

তাসনুভা আশরাফী ১৯৯৭ সালে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৯ সালে ভিকারুননেসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ৮ম স্থান পেয়ে স্নাতক (২০০৪-২০০৫) এবং প্রথম শ্রেণিতে ৩য় স্থান পেয়ে স্নাতকোত্তর(২০০৬-২০০৭) ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষকতা করেছেন ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে। স্কলারশিপ নিয়ে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ই‌‌‌ঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরাল ডিগ্রি করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৃত্তি, আবেদনের নিয়ম ও শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে লিখেছেন বাংলা ট্রিবিউনে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.