শিকা ছিঁড়িবে কাহার?

October 5, 2015 6:33 amComments Off on শিকা ছিঁড়িবে কাহার?Views: 30
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

সাহিত্যে নোবেল ২০১৫

শিকা ছিঁড়িবে কাহার?

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী |

জয়েস ক্যারল ওটস, মিলান কুন্ডেরা, ফিলিপ রথ, আদোনিস, নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোহুমায়ূন আহমেদ বাঁচিয়া থাকিলে কি ের জন্য বিবেচিত হইতেন? অন্তত ২০১৫-এ নহে। ইহার পশ্চাতে তাঁহার রচনার সাহিত্য গুণ নহে বরং প্রায়োগিক কারণগুলিই প্রধান। বৎসরের শুরুতে ১ ফেব্রুয়ারি বা তৎপূর্বে একাডেমির কমিটি পৃথিবীব্যাপী ২৫৯ জন মনোনয়নকারীর নিকট হইতে সাহিত্যের ের জন্য মনোনয়ন লাভ করিয়াছে। ২৫৯ মনোনয়নকারী ১৯৮ জন কবি-সাহিত্যিক-নাট্যকারের নাম সুপারিশ করিয়া মনোনয়নপত্র প্রেরণ করিয়াছেন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি (মতান্তরে ১৭ কোটি) মানুষের মধ্যে কাহাকেও মনোনয়নপত্র প্রেরণের জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয় নাই। একদা সৈয়দ আলী আহসানকে সাহিত্যের ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্যের জন্য মান্য করিয়া ের জন্য মনোনয়নকারী নির্বাচন করা হইত। জনশ্রুতি অনুযায়ী খান সারওয়ার মুর্শিদও এই রূপ আমন্ত্রণ কখনো পাইয়া থাকিবেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কি এইরূপ আমন্ত্রণ পাইয়াছেন? নির্দ্বিধায় বলিতে পারি, জীবিত বাঙালিদের মধ্যে অন্তত অমর্ত্য সেনের মনোনায়নকারীর মর্যাদা রহিয়াছে, কারণ তিনি নিজেই নোবেলধারী (‘’); কিন্তু সাহিত্যের জন্য তিনি মনোনয়ন প্রেরণ করিবেন না।
বঙ্গকুলের পণ্ডিত শিরোমণি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বা সলিমুল্লাহ খান হয়তো কখনো সুইডিশ কমিটির নজরে আসিবেন। কিন্তু তাহাই তো যথেষ্ট নহে; নাম পাঠাইলেই কার্য সমাধা হইবে না। হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থাদি ইউরোপীয় ভাষায় লভ্য হইতে হইবে। কেবল গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সঙ অফারিং-এর ওপর ভিত্তি করিয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হইয়াছিল। ইহার পশ্চাতে যাঁহারা কলকাঠি নাড়িয়াছিলেন, তাঁহাদের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করি। বাঁচিয়া থাকিলে হুমায়ূন আহমেদের জন্য কলকাঠি কে নাড়িতেন? অধিকন্তু বর্তমানে, প্রতিযোগিতার যুগে একজন লেখকের আন্তর্জাতিক বাজারে কাটতি থাকা খুবই আবশ্যক। হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি মধ্যাহ্ন বা জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প এখনো ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয় নাই। তাহা হইলে দেখা যাইতেছে বাঁচিয়া থাকিলেও হুমায়ূন আহমেদ নোবেল সাহিত্যে পুরস্কারের জন্য অন্তত ২০১৫ িখ্রষ্টাব্দে মনোনীত হইতেন না। নোবেলের দীর্ঘ তালিকাতেও তাঁহার নাম উঠিত না। তাঁহার সক্ষম উত্তরসূরিরাও নোবেল কমিটির দৃষ্টিগোচর হইবেন না যতকাল না তাঁহাদের সাহিত্যকর্ম ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হইয়া বিশ্বের দরবারে আলোচনার লক্ষ্যে পরিণত হয়। এই বিবেচনায় যে সকল বাংলাদেশি ইংরেজিতে লিখিয়া থাকেন—যেমন, , বা কাজী আনিস আহমেদ—তাঁহাদের সম্ভাবনা কিছুটা রহিয়াছে। বাঙালির নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

২০১৫ িখ্রষ্টাব্দের জন্য যে ১৯৮ জন কবি-সাহিত্যিক-নাট্যকারের নাম সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হইতে সুইডিশ একাডেমিতে প্রেরণ করা হইয়াছিল প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর, নানা বিবেচনা-অন্তে নোবেল কমিটি এপ্রিল নাগাদ ২১ জনের এবং মে মাস নাগাদ পাঁচজনের একটি হ্রস্ব তালিকা প্রস্তুত করিয়াছে বলিয়া শোনা যাইতেছে। ইহাদেরই একজন শেষাবধি সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যমানের পুরস্কারটি লাভ করিবেন। নোবেল কমিটির এই হ্রস্ব তালিকাভুক্ত কবি-নাট্যকার-কথাসাহিত্যিকদের রচনাদি পাঠ করিয়া সুইডিশ একাডেমির একুশজন সদস্য গ্রীষ্মাবকাশ কাটাইয়াছেন। এমনও হইতে পারে এই তালিকায় অজ্ঞাত-অখ্যাত কোনো উপযুক্ত লেখক রহিয়াছেন, এবং যথেষ্ট অনুবাদ না থাকায় প্রয়োজনীয় অনুবাদ করাইয়া লওয়া হইয়াছে, যথেষ্ট খ্যাতি না থাকায় তাঁহার সম্পর্কে বিশেষভাবে গবেষণাও করা হইয়াছে। অতীতে নোবেল কমিটি এমন অনেক লেখককে বলিতে গেলে দূরদর্শন-যন্ত্রের সাহায্যে খুঁজিয়া বাহির করিয়াছেন, যাঁহাদের নাম না হালে উচ্চারিত হয়, না তাঁহাদের বই বাজারে লভ্য। প্রথমোক্ত ১৯৮ জন, দ্বিতীয়োক্ত ২১ জন বা হ্রস্ব তালিকার পাঁচজনের কী নাম, কাঁহারা তাঁহাদের মনোনয়ন করিয়াছেন, সুইডিশ কমিটি কিসের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্বাচন করিলেন, কী কারণে হ্রস্ব তালিকাভুক্ত পাঁচজনের চারজন শেষাবধি বাদ পড়িলেন ইত্যাদি গাল-গল্প আগামী পঞ্চাশ বৎসর অর্থাৎ ২০৬৫ িখ্রষ্টাব্দ অবধি জগতের অগোচরে থাকিবে; ইহাই নোবেল নির্বাচন প্রক্রিয়ার আইন।

সেপ্টেম্বর শেষ হইতে চালিয়াছে। সুইডিশ একাডেমি অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে পুরস্কার ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করিলেও অদ্যাবধি সাহিত্যের পুরস্কার ঘোষণার দিনক্ষণ স্থির করে নাই। বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক। যাহা হউক, আমরা সংগত কারণে বিশ্বাস করিব অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৮ অক্টোবর ২০১৫ বাংলাদেশে সময় অপরাহ্ণে সুইডিশ কমিটি তাহাদের সিদ্ধান্ত জনবহুল সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ঘোষণা করিবে। অতঃপর সুইডিশ কমিটির নবনিযুক্ত স্থায়ী সচিব সারা দানিয়ুস ভাগ্যবান সাহিত্যিককে ফোন করিয়া তাঁহার ভাগ্যে নোবেল পুরস্কারের শিকা ছিঁড়িবার সুসংবাদটি জানাইবেন। এই সুবাদে আরও দুই-একটি কথা হইবে, যাহার একটি হইল—আপনার এখন কেমন বোধ হইতেছে?

আমি জুয়াড়ি নহি। বাজি ধরি না, লাডব্রোক কোম্পানির বাজিতে আস্থাও বিশেষ নাই। গত একশত বৎসরে সুইডিশ কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্তত শতকরা ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সকল অনুমান ব্যর্থ করিয়া দিয়াছে। কেহ যদি সঠিক অনুমানে আগ্রহী হন তাহাকে যে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করিতে হইবে তাহা হইল—ক. সুইডিশ একাডেমি যাঁহাকে চূড়ান্তভাবে নিবার্চত করিবে তিনি নারী না পুরুষ; খ. জন্মসূত্রে তিনি দূরপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ না আমেরিকাবাসী; গ. কথাসাহিত্য, কবিতা, নাটক—সাহিত্যের কোন শাখাটি চলতি বৎসর প্রাগ্রাধিকার লাভ করিবে; ঘ. একাধিক ব্যক্তির যৌথভাবে পুরস্কারটি লাভ করিবার সম্ভাবনা কি আছে? ১৯০৪, ১৯১৭, ১৯৬৬ এবং সর্বশেষ ১৯৭৪-এ—এই চার দফায় সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগি হইয়াছিল।

এইবার গত কয়েক বৎসরের ধারাটি বিশ্লেষণ করা যাইতে পারে:
ক. ২০১০-এ কথাসাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করিয়াছেন মারিয়ো বার্গাস ইয়োসা। ইত্যবসরে মাত্র চার বৎসর অতিক্রান্ত হইয়াছে। অতএব ২০১৫ িখ্রষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কারের জন্য দক্ষিণ আমেরিকা বা স্পেনীয় কোনো কবি-লেখক নির্বাচিত হইবেন, এই রূপ আশা যুক্তিযুক্ত হইবে না।
খ. ২০১১ িখ্রষ্টাব্দে কবিতার জন্য নোবেল লাভ করিয়াছেন সুইডেনের কবি টমাস ট্রান্সটোমার। ইহার পূর্বে টানা ১৫ বৎসর কোনো কবিকে নোবেল প্রদান করা হয় নাই। যদিও সিরিয়ার কবি আদোনিসের কথা কয়েক বৎসর যাবৎ বেশ শোনা যাইতেছে—তবু এমত অনুমান অযৌক্তিক হইবে না যে ২০১৫-এ কোনো কবির ভাগ্যে নোবেলের শিকা ছিঁড়িবে না। আদোনিসকে আরও কিছুকাল অপেক্ষা করিতে হইবে।
গ. ২০১২–তে চীনা লেখক মো ইয়ানকে কথাসাহিত্যের জন্য নোবেল দেওয়া হইয়াছে। কেবল এই কারণেই জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির সম্ভাবনা ২০১৫-এর জন্য ক্ষীণ হইয়া গিয়াছে। মুরকামি সত্যই ভালো লেখক; বয়সও খুব বেশি নহে। আগামী চার-পাঁচ বৎসরের মধ্যেই তিনি নোবেল ছিনাইয়া লইবেন—এইরূপ আশা অসংগত নহে।
ঘ. ২০১৩-তে নোবেল লাভ করিয়াছেন অ্যালিস মুনরো। ছোটগল্প রচয়িতা হিসাবে তিনি বিশ্বের দরবারে সমাদৃত। অ্যালিস মুনরো কানাডার মানুষ। তাই ২০১৫-তে উত্তর আমেরিকার কাহারো ভাগ্যে নোবেলের শিকা ছিঁড়িবার আশা ক্ষীণ; যদিও মার্কিন ঔপন্যাসিক ফিলিপ রথের ব্যাপারে বিশ্ববাসীর—অন্তত মার্কিন জনগণের সোচ্চার সমর্থন রহিয়াছে।
ঙ. ২০১৪-তে নোবেল ছিনাইয়া লইয়াছেন ফরাসি ঔপন্যাসিক প্যাত্রিক মোদিয়ানো। প্যাত্রিক মোদিয়ানোর মাত্র কয়েক বৎসর পূর্বে ফ্রান্সের ঔপন্যাসিক লে ক্লেযিও ২০০৮-এ আচমকা নোবেল বগলদাবা করিয়াছেন। পরের বৎসরই ব্রিটেনের ডোরিস লেসিং। তাই প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ২০১৫-এর নোবেল ইউরোপের বাহিরে যাইবে; যদিও বিগত ১১৪ বৎসরের ইতিহাস সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে যে সাহিত্যের নোবেল ইউরোপের বাহিরে লইয়া যাওয়া কঠিন।

এই সব বিবেচনায় সম্ভাব্য নোবেল লরিয়েটের সন্ধানে যদি আমরা কৃষ্ণ আফ্রিকার দিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করি, তাহা অযৌক্তিক হইবে না। বিংশ শতাব্দীর অনেক বড়মাপের লেখক-কবি নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হইবার আগেই পরলোকগমন করিয়াছেন। যেমন: লিও তলস্তয়, আন্তন শেখভ, হোর্হে লুই বোর্হেস, মার্সেল প্রুস্ত, বেটল্ট ব্রেখট, যোসেফ কনরাড, টমাস হার্ডি, ডব্লিউ এইচ অডেন, ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, হেনরিক ইবসেন, জেমস জয়েস, ফ্রানৎস কাফকা, ফার্নান্দো পেসোয়া, পল ভ্যালেরি, কার্লোস ফুয়েন্তেস প্রমুখ। এই তালিকায় যে আরেকজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের নাম অবশ্যই যোগ করিতে হইবে তিনি নাইজেরিয়ার চিনুয়া আচেবে। দুই বৎসর পূর্বে ২০১৩ িখ্রষ্টাব্দে তিনি দেহ ত্যাগ করিয়াছেন। নোবেল পুরস্কারের জন্য তিনি বৎসরের পর বৎসর উপযুক্ত বলিয়া সারা বিশ্বে বিবেচিত হইয়াছেন। এমনকি তাঁহাকে মরণোত্তর নোবেল প্রদানের দাবিও উঠিয়াছিল। নাইজেরিয়ার ভাগ্যে নোবেলে শিকা প্রথম ১৯৮৬-এ ছিঁড়িয়াছে, পুরস্কৃত হইয়াছিলেন ওলে সোয়িঙ্কা। আচেবের লেখালিখির পরিমাণ কম; তিনি সত্যই বড়মাপের লেখক কি না, তাহা লইয়া একটি বিতর্কের ধারাও দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবহমান। সেই তুলনায় কেনিয়াবাসী নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর সম্ভাবনা তীব্রতর। সুইডিশ একাডেমির সদস্য পার ওয়াস্টবার্গ আফ্রিকী সাহিত্য বিষয়ে সুপণ্ডিত। ২০০৩-এ জন ম্যাক্সওয়েল কোয়েটজের নোবেলজয়ে তাঁহার বিশেষ অবদান ছিল বলিয়া জনশ্রুতি রহিয়াছে। তিনি কি নগুগির জন্য বিশেষ তদবির করিতেছেন?

নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো নোবেল পুরস্কার লাভ করিলে বাংলাদেশের যাঁহারা সর্বাপেক্ষা গৌরব বোধ করিবেন তাহার মধ্যে সংস্কৃতিকর্মী ও লেখক চট্টগ্রামনিবাসী আলম খোরশেদ অন্যতম। এই আফ্রিকান লেখকের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করিয়া তিনি প্রায় দুই দশক আগে তাঁহার গির্জায় বিয়ে নাটিকাটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়াছিলেন, এবং যাহা প্রকাশ করিবার লঘুভার আমাকে বহন করিতে হইয়াছিল; যদিও তজ্জন্য যথেষ্ট ধন্যবাদ পাইয়াছিলাম এই রূপ স্মরণ হয় না। কেনিয়ার এই লেখকের নাম ২০১৪-এ জোরেশোরে উচ্চারিত হইয়াছিল। এইবারও অনেকের প্রতীতি, তিনিই সাহিত্যের নোবেলটি কব্জা করিবেন। কিন্তু সুইডিশ কমিটির সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াইবে তাহা অভ্রান্তভাবে অনুমানের চেষ্টা বৃথা।

বিশ্বব্যাপী পাঠককুল যাঁহাকেই উপযুক্ততম মনে করুন না কেন, সুইডিশ কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি প্রদান করিবে। নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো, ফিলিপ রথ, মিলান কুন্ডেরা, জয়েস ক্যারল ওটস, আদোনিস, সেভেতলানা আলেক্সিভিচ প্রমুখের সম্ভাবনাই সুইডিশ একাডেমি সদস্যদের ব্যক্তিগত অভিরুচির যুক্ত–বিবেচনার ওপর নির্ভর করিতেছে। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যাইতে পারে, ইতোমধ্যে সুইডিশ কমিটির স্থায়ী সচিবের পদে তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটিয়াছে। পিটার ইংল্যান্ডের স্থলাভিষিক্ত হইয়াছেন সারা দানিয়ুস। সুইডিশ কমিটির দুই শত উনত্রিশ বৎসরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সচিব। তাঁহার পছন্দ-অপছন্দ অবশ্যই ওজন বহন করিবে। তিনি কি কবিতার প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত? তিনি কি ইউরোপ-আমেরিকা বাদ দিয়া দূরপ্রাচ্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধে আগ্রহী? নিজে নারী বিধায় তিনি কি একজন নারী লেখককে প্রাধান্য দিবেন? এই সব ব্যক্তিগত বিষয়গুলো অনুপেক্ষণীয় নহে।
সর্বশেষে আমার প্রিয় কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যাঁহারা নোবেল পুরস্কার লাভ করেন নাই তাঁহাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করিতেছি: বাংলাদেশের জীবনানন্দ দাশ ও হুমায়ূন আহমেদ, ইসরালের অ্যামোস ওয, চেক ঔপন্যাসিক মিলান কুন্ডেরা, মেক্সিকোর কার্লোস ফুয়েন্তেস, ইতালির উমবার্তো একো এবং জাপানের হারুকি মুরাকামি। কথাসাহিত্যিক হিসাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হইলেও নোবেল লাভের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য উমবার্তো একোর লেখকদর্শনে অনুপস্থিত। আমি নিশ্চিত, সুইডিশ কমিটির হ্রস্ব তালিকায় তাঁহার নাম নাই। অন্যদিকে কবি জীবনানন্দ দাশ এবং কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও কার্লোস ফুয়েন্তেস গত হইয়াছেন। শেষাবধি আমার প্রতীতি হয় যে নগুগির পরিবর্তে মিলান কুণ্ডেরা এই বৎসর নোবেল পুরস্কার লাভ করিলে অন্যায্য হইবে না। সেই ক্ষেত্রে নগুগি ২০১৬-এর জন্য বাঁচিয়া থাকিবেন—জগদীশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা থাকিবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.