বাঘের পশ্চিমবঙ্গ বেড়ানো তত্ত্ব :: সুন্দরবন ধ্বংসের পক্ষে সাফাই

August 13, 2015 9:36 amComments Off on বাঘের পশ্চিমবঙ্গ বেড়ানো তত্ত্ব :: সুন্দরবন ধ্বংসের পক্ষে সাফাইViews: 7
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ের পশ্চিমবঙ্গ বেড়ানো তত্ত্ব :: সুন্দরবন ধ্বংসের পক্ষে সাফাই

এম জাকির হোসেন খান

Dis 2‘সুন্দরবনের বাঘ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গেছে। তাই বাঘের সংখ্যা কম হওয়ায় হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। বেড়াতে যাওয়া বাঘগুলো ফিরে এলে তাদের সংখ্যা বাড়বে’ – সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০০ এর কাছাকাছি নেমে আসার খবরের প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন বন ও মন্ত্রী এ নির্মম রসিকতাটি করেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে বাঘের সংখ্যা হ্রাস পেলেও বাঘ ও এর বাসস্থান সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কোনো তথ্য উপাত্ত ছাড়াই এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে বাঘ নিধণে নিয়োজিতদের পরোক্ষভাবে মদদ দিলেন কি? কে বা কারা বাঘ চোরাকারবারিতে নিয়োজিত বা প্রশ্রয় দিচ্ছে তা সবারই জানা। সুন্দরবনের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য বা কার্যক্রম এই প্রথম নয়। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শেলা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবে সুন্দরবনে ক্ষতিকারক ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষমতাসীন মন্ত্রী শাজাহান খানের ভাষ্য ছিলো, ‘জংলা অপেক্ষা মংলা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সবাই খালি কয় পরিবেশ পরিবেশ’।

, রামসার সচিবালয়সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে ে সুন্দরবন বিনাশী ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের জেদ আমরা দেখছি। এটা সবাই জানে সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্ব না থাকলে সুন্দরবন অচিরেই ধ্বংস হবে। বাঘ থাকার কারণেই সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। কর্পোরেটরা যেভাবে , লাউয়াছড়া বা পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ধ্বংস করে তথাকথিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নজির স্থাপন করছে সুন্দরবনেও যে তার পনরাবৃত্তি হবে তাতো অনায়াসে বলা যায়। আর বাঘ রক্ষায় সরকার যতই নিজেদের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করুক না কেনো, প্রকৃত সত্যটি বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ তুলে ধরেছেন, ‘২০১১ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল, তা যদি বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আজকের বাঘের সংখ্যা এত কমতো না। বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল করার কথা ছিল না। বাঘ রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনের ভেতরে এসব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে’। এ সত্যটির প্রতিধ্বনি করেছেন বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান বন সংরক্ষকও এবং তার তথ্যানুযায়ী, ‘সুন্দরবনের পাশের এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, বন বিভাগের নিচু স্তরের কিছু কর্মকর্তাসহ অনেকেই বাঘ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে’। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতাহীন বন বিভাগের কি সামর্থ্য রয়েছে মদদপুষ্ট এসব চোরাকারবারিদের পাকড়াও করার। যতই দাবি করা হোক যে, বাঘ পাচারে বন বিভাগের নিচের স্তরের কর্মকর্তারা জড়িত, কিন্তু বাস্তবতা হলো- এ পর্যন্ত যে কয়েকটি বাঘ পাচারের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে তাতে পরিস্কার যে, সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক এটার সাথে জড়িত। তাই শুধুমাত্র এক শ্রেণীর কর্মচারীর ওপর দায় চাপিয়ে দিলে বা কথার ফুলজুড়ি দিয়ে বাঘ বা সুন্দরবন কোনটাই রক্ষা করা যাবেনা।

ময়লা জ্বালানি কয়লার দুষণের কারণে শিল্পোন্নত দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়াচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মায়ের মতো রক্ষা করছে যে সুন্দরবন- তার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে সুন্দরবনের কাছেই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে আমাদের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।এটা কি সত্য যে, দেশি-বিদেশি একটি কর্পোরেট চক্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবন রাখার দরকার নেই, শুধু ভারতীয় অংশের সুন্দরবনটা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রাখতে চাচ্ছে। তারা পরিকল্পনা করছে, ৬,৫০০ বর্গ কিলোমিটার এ এলাকা তথা ‘জংলা পরিস্কার’ করে শিল্পোৎপাদন করা হলে এবং সুন্দরবনের নিচে বিশাল মজুদকৃত তেল-গ্যাস উত্তোরনের মাধ্যমে দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। এটা অবিশ্বাস করাও কঠিন কারণ বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে সব সম্ভব।

তবে, এর সত্যতা যাচাই করা কঠিন হলেও গত কয়েক বছরে শুধু কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয় ধারাবাহিকভাবে সুন্দরবনকে ঘিরে পুরো ঐ অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনে দেশি বিদেশি কোম্পানি যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ভারতের সাথে নৌসহ সব ধরনের ট্রানজিট চুক্তির পর পরই এটা আরো দ্রুত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ৭১০ কিলোমিটারের মধ্যে সুন্দরবন ১২৫ কিলোমিটার এবং টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত নদী রায়মঙ্গল-কালিন্দী পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলায় বিস্তৃত বাংলাদেশের উপকূলেই দেশের প্রধান দুটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মংলা, এবং বিশ্বেও সেরা গহিন গরানবন সুন্দরবন। দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ জনগণ এ উপকূল অঞ্চলে বসবাস করে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে (জিডিপি) উপকুল অঞ্চলের অবদান প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ। যতই বলা হোক,রামপালে বিদ্যুৎকে›ন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ফারাক্কা বাধের কারনে উত্তরাঞ্চলে ক্রমেই দৃশ্যমান মরুময়তা। উজান থেকে পানি কম আসার ফলে প্রতি বছরই আশংকাজনক হারে নামছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর এবং এর ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে ইতিমধ্যে সুন্দরী গাছ ব্যাপকভাবে মরছে।

বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানই এমন যে, প্রায়ই সমুদ্র উত্তাল থাকে, আর সুন্দরবন বরাবরই মাথা পেতে নিয়ে উপকুলের লাখ লাখ মানুষ এবং তাদের জীবন- জীবিকাকে রক্ষা করে চলেছে। ১৭৯৭ থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের আইলা পর্যন্ত সময়ে ৪৭৮ টি মাঝারি ও বড় জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিজড় তোমেন, গোর্কি, সিডর, নার্গিসরা বাংলাদেশের উপকূলকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। ১৭৯৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ১৭৩ বছরে প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে ৩২৯টি এবং স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৪৯টি ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। সুন্দরবন না থাকলে জাতীয় অর্থনীতির জন্য কত ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতো এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ তার হিসাব কি কোন কষেছেন নীতি নির্ধারকরা।

সমস্যাটা হচ্ছে, প্রায়ই আমাদের নীতি নির্ধারকরা কোনো প্রকল্পের লাভ-লোকসান হিসাব করতে আর্থিক ব্যয়কেই চোখে দেখেন কিন্তু পরোক্ষ বা সুযোগ ব্যায় তারা বিবেচনা করেন না। এজন্য প্রায়ই শুনা যায় সবচেয়ে সস্তা জ্বালানি হলো কয়লা। অথচ বলছে শুধুমাত্র কয়লার দূষণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় শুধুমাত্র মৎস্য খাতেই ২.৩২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়। আর রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকার প্রায়ই আল্ট্রা সুপার প্রযুক্তির ধোয়া তুললেও বিশ্বের প্রধান প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭টি স্টেটে এক বছরেই ২০৭টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটে। আর যে পিডিবি দুষণ রোধে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলছে,তারা রামপালের তুলনায় ১০ ভাগের এক ভাগ ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামান্য ছাই নিয়েই মহাবিপাকে। ছাই বাতাসে ও বৃষ্টির পানিতে ছড়িয়ে স্থানীয় তিলাই নদীর পানি যা স্থানীয় লোকজন ‘কেরোসিন পানি’ বলে অভিহিত করে- সে পানি ব্যবহার করতে পারছে না স্থানীয়রা; মাছও বাঁচাতে পারছে না, কৃষি উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় তারা কতখানি করতে পারবে তা বর্তমানের পারফরমেন্সেই বলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন এখন অবৈধভাবে বাঘ, এবং কাঠ পাঁচারের অন্যতম উৎস হিসাবে দাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়,বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় সমুদ্রবক্ষে নিরাপত্তা প্রদানের নামে সুন্দরবনের ভেতরে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান নষ্ট করতে সরকারিভাবেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর রামপালে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা অন্যান্য শিল্প স্থাপনা নির্মাণ হলে সুন্দরবন ও পশুর নদীর জীববৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারাবে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশের অবস্থানকেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

আর অন্যদিকে, ভারতের ইআইএ নোটিফিকেশন ২০০৬ এবং ভারতের রক্ষা আইন, ১৯৭২-এর অধীন সংরক্ষিত ঘোষিত কোন এলাকার ১০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না। অথচ ভারতীয় কোম্পানি ‘এনটিপিসি’ রামপালে ৯.৫ কিলোমিটার দুরত্বের মাঝে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এমনকি ভারতের পরিবেশ অধিদপ্তরের গাইড লাইন অনুসারে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করার নিয়ম ভঙ্গ করা। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে কোন তথ্যের ভিত্তিতে তা ১০ কি.মি. এ নামিয়ে আনা হলো। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি ভারতীয় অংশের সুন্দরবন রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের হাইকোর্ট। এমনকি সুন্দরবন সুরক্ষায় ভারত সরকার কি করছে তা জানতে জাতীয় পরিবেশ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে বলেছে, ‘সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ নষ্ট হতে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যানগ্রোভের বর্তমান চেহারা কেমন, নদী বা খাঁড়িতে দুষিত ডিজেল ব্যাবহার হয় কি-না, সেখানে বেআইনী ইটভাটা চলছে কিনা, বন এলাকায় অবৈধ হোটেল রেস্তোরা বন্ধ করা হয়েছে কিনা, ইত্যাদি বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান জানানো হোক। একই সাথে আদালত সরকারের বক্তব্যের সমর্থনে অবশ্যই ছবি থাকতে হবে’। আমরা আশা করি,বাংলাদেশের উচ্চ আদালত এ ধরনের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ নিয়ে জনগণকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদানকারী সুন্দরবনকে রক্ষায়ও উদ্যোগী হবে।

সুন্দরবন রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশ সরকার গত ২০১১ এর সেপ্টেম্বর মাসে যৌথ চুক্তি করলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারত সরকারের পক্ষে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) গত ২৯ জানুয়ারি, ২০১২ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ন্যায় প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এর বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় গবেষণা সংস্থা সায়েন্স এন্ড এনভায়রেনমেন্ট সেন্টার (সিএসসি) কর্তৃক ৪৭টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে দিল্লীতে অবস্থিত এনটিপিসি’র কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বোচ্চ পরিবেশ দূষণকারী বা প্রথম কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়াও তথ্য বিকৃতি ও জালিয়াতি এবং প্রতারণার দায়ে, গত ১৩ মার্চ ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল কর্ণাটক রাজ্যে এনটিপিসি‘র প্রস্তাবিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশ ছাড়পত্র স্থগিত করেছে। সুতরাং এনটিপিসি’র হয়ে পিডিবির ত্রুটিপূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব যাচাই প্রতিবেদনের মাধ্যমে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবেনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন,প্রকৃতপক্ষে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের নিম্নমানের কয়লা বাংলাদেশে ডাম্পিং করা হবে এবং এর ফলে বাংলাদেশের সুন্দরবন ঝুকির মধ্যে পড়লেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ সার্ক গ্রিডের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হবে।

গুম বা বিচার বহির্ভূত হত্যার ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হলেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তহবিল যোগানোর কথা ফ্রান্সের এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিএনপি প্যারিবাস ইতিমধ্যে তহবিল প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, ‘The analysis shows that serious deficiencies in project design, planning, and implementation and due diligence obligations render the project non-compliant with the minimum social and environmental standards established by the Equator Principles, as well as the International Finance Corporation’s Performance Standards’। আশা করি ক্ষমতাসীনদের বোধোদয় হবে এবং তাদের দেশপ্রেম এবং চেতনার স্বরুপ শুধুমাত্র মুখে নয় বাস্তবেও প্রমাণিত হবে।।

প্রকাশক: আমাদের বুধবার

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.