স্মার্ট—মানে মোটামুটি স্মার্ট—থাকবার ৫ উপায়

January 13, 2016 6:15 amComments Off on স্মার্ট—মানে মোটামুটি স্মার্ট—থাকবার ৫ উপায়Views: 59
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

স্মার্ট—মানে মোটামুটি স্মার্ট—থাকবার ৫ উপায়

image

আপনি একজন বুদ্ধিমান মানুষ—ঠিক?

অন্তত নিজেকে আপনি তাই মনে করেন। আমরা অধিকাংশই তাই করি। আমরা সবসময় এমন লেখা খুঁজি যা পড়ে নিজের সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়ে। এটা আসলেই খুব বড় ব্যাপার।

আমাদের ধারণা আপনার বন্ধুরাও খুব বুদ্ধিমান। আপনার আশেপাশের বন্ধুরা এতটাই বুদ্ধিমান যে, যখন আপনার এমন কারো সাথে দেখা হয় যে আসলে ক্রিটিক্যালি চিন্তা করে না, তখন আপনি অবাক হন। আর আপনি তার সাথে কিছু সময় পার করার পর আপনার মনে হয় যে আপনার ক্রিটিক্যালি চিন্তা না করা বন্ধুটা আসলে স্মার্ট না।

এই ক্ষেত্রে আপনার বিরক্তির চেয়েও খারাপ ব্যাপার কোনটা জানেন? যখন আপনাকে কেউ এরকম চোখেই দেখে যে আপনিও স্মার্ট না।

আমাদের মধ্যে বেশির ভাগই মনে করা বুদ্ধিমান, শিক্ষিত, অন্তত মডারেটলি নার্সিসিস্টিক। কিন্তু কিছুটা নির্মম হলেও সত্যি যে আমরা আমাদের আশেপাশের অধিকাংশ মানুষের মতই কমন। আমাদের কোন জিনিসটা সবার চেয়ে আলাদা তা আবিষ্কার করতে হলে আমাদের নিজেদেরকে পুনরায় বুঝে নিতে হবে।

নিজের ইউনিকনেস খোঁজার ব্যাপারে আপনি যে কয়টা বিষয়কে সামনে আনতে পারেন তার কয়েকটি এখানে থাকছে।

১. আপনি আসলে যেটা গ্রহণ করেন সেটাই মূল

গড় বুদ্ধির বেশিরভাগ লোকই আন্না কারেনিনা পড়ে। তারা এটা পছন্দও করে। তারাও অনেক বিখ্যাত উপন্যাস আপনার মতই সহজেই হাতে পায়। তারা শুধু এর ভিতরে কী আছে তা খুব একটা দেখে না।

বুদ্ধি নির্ভর করে বুঝতে পারার ধরনের ওপর। একটা অসাধারণ আইডিয়া অসাধারণ এর ভিতরের যুক্তির স্তরের কারণে, যে যত স্মার্ট তার আইডিয়ায় স্তর তত বেশি বা পুরু। আপনি হয়ত অনেক বই পড়ে এর মাত্র ৩০ পারসেন্ট বুঝতে পারেন। বই শেষ করার পর অন্য আরেকজনের সাথে কথা বললে দেখবেন সে আলাদা কিছু ভাবে। বইয়ের কিছু বিষয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, মতামত দেয়। আপনি চিন্তা করে দেখেন, এর সাথে আপনি একমত হতে পারছেন কিনা।

কিছু মানুষ আসলেই অন্যদের চেয়ে বেশি দেখে। চেষ্টা করুন আপনার চেয়ে স্মার্ট মানুষের সাথে বেশি সময় কাটাতে। আপনি হয়ত তাদের সম পর্যায়ের নাও হতে পারেন, কিন্তু তারা আপনাকে উন্নতি করতে সাহায্য করবে। তারা আপনাকে কিছু শেখাতে চাইবে। আমরা আসলেই ভাগ্যবান যে মানুষের স্বভাবই এমন যে সে অন্যের সাথে নিজের জ্ঞান শেয়ার করে আনন্দ পায়।

২. আপনি অনেক কিছু জানেন কিন্তু সেগুলি ধারণ করতে পারেন না

আমরা এমন লোকদের সাথে কথা বলতে চাই যারা আমাদেরকে চ্যালেন্জ করে থাকে। কিন্তু আপনি আপনার চেয়ে কম স্মার্ট বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন কনসেপ্ট নিয়ে কথা বলতেই পারেন। আপনার শুধু ব্যাপারটা শুরু করতে হবে। যখন আলোচনা শুরু হবে তখন আপনার সেই বন্ধুটিই ওই বিষয়ের ব্যাপারে ভালো কিছু দৃষ্টিভঙ্গি হাজির করবে।

আমরা যতটা ব্যবহার করতে পারি, বা যতটা কাজে লাগাতে পারি তার চেয়ে বেশি জ্ঞান আমাদের আছে। কিন্তু সেগুলি একেবারে স্পষ্ট না। যখন আপনি আগের চেয়ে বেশি স্মার্ট হতে থাকবেন তখন আপনি আপনার একটা চিন্তার সাথে আরেকটা চিন্তা যোগ করে সেগুলি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

আপনি এটা নিয়ে কাজ করতে পারেন। আপনি যত পড়বেন আপনার জ্ঞানের ভিত্তি তত মজবুত হবে। যত আপনি শিখবেন ততই আপনি বুঝতে পারবেন আসল ব্যাপারটি, যে—আপনি অনেক কিছু জানেন না।

৩. আপনার নিজের মাথায় কখনোই মৌলিক কোনো চিন্তা নেই

খুব কম মানুষেরই নিজের মৌলিক চিন্তা আছে। খুব কম মানুষের। আমরা শুধু কোনো বিষয়ের ডিটেইলগুলিকে আমাদের মত করে বার বার সাজাই এবং রূপক ব্যবহার করি। আপনি যদি আগে থেকেই জানা কোনো আইডিয়ার সামান্য একটু উন্নতি ঘটাতে পারেন, তাহলে আপনি জিনিয়াস। মার্ক জাকারবার্গ কী করেছে? সে আসলে ফ্রেন্ডস্টার/ মাই স্পেস ফরম্যাটকে আরো সহজ করেছে।

আর আপনি যদি আরো জটিল কোনো আইডিয়া সহজেই বুঝতে পারেন তাহলে আপনি আসলেই ভালো উন্নতি করছেন। সম্ভবত অধিকাংশ স্মার্ট মানুষই মৌলিক কিছু করতে চায়।

আমরা অসাধারণ বা গ্রেট কিছু করতে চাই। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা স্কেল রাখতে হবে। আর এই স্কেল আমাদের একটা জিনিস বুঝতে সাহায্য করবে যে বুদ্ধির আসলে নানান ধরন রয়েছে।

৪. বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে

একেবারে কম বুদ্ধি বা জড় বুদ্ধির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরন রয়েছে। বেন কার্সন খুব ব্রিলিয়ান্ট একজন নিউরোসার্জন, কিন্তু তিনি নিজেকে বেশি প্রকাশ করতে পারার মত সৌভাগ্যবান হন নি। মার্ক্স তার থিওরিকে ব্যাকআপ দেয়ার জন্য জটিল কোনো নাম্বার ব্যবহার করায় পারদর্শী ছিলেন না। তার থিওরি থেকে যে মানবাধিকার বিষয়ের আইডিয়া দাঁড়া হয়, তিনি সেগুলিও প্রকাশ করতে পারেন নি।

আরো ধরেন, আপনি হাতে যে গ্লাভস পরেন সেটিও কোনো একজন মিলিয়ন সংখ্যক তৈরি করেছে। কিন্তু সে কি ব্রিলিয়ান্ট? সম্ভবত না। সে মার্কেটে একটি সুযোগ দেখে সেখানে এই আইডিয়া নিয়ে ঢুকে পড়েছে।

আসল কথা হলো, আমরা বুদ্ধিকে যেভাবে উপলব্ধি করি, বুদ্ধি তার থেকেও আলাদা এবং নির্দিষ্ট একটা বিষয়। এর অর্থ হলো বুদ্ধির কাঠামো খুব জটিল নয়, সিম্পল। যেমন, আপনাকে বুদ্ধিমান হওয়ার জন্য দর্শন বা কোনো বিষয়ে নিজেকে কালজয়ী কোনো চিন্তাবিদ হিসেবে প্রমাণ করতে হবে না, আপনি ড. মারিও বা আইনস্টাইন বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখুন। সব জ্ঞান রাখতে হবে এমন না, যথেষ্ট রাখুন।

৫. বুদ্ধি মানে প্রজ্ঞা নয়

একটা আফ্রিকান প্রবাদ এরকম—আপনি যে স্মার্ট বা বুদ্ধিমান না, তা জানার জন্য হলেও আপনাকে বুদ্ধিমান বা স্মার্ট হতে হবে। এটা আসলে সত্য না। আপনাকে জ্ঞানী বা প্রজ্ঞাবান হতে হবে। ইংরেজিতে এই শব্দ হলো, ওয়াইজ।

প্রজ্ঞাবান হওয়ার অর্থ হলো আপনার যা বুদ্ধি আছে তা ব্যবহার করা শিখে ফেলেছেন আপনি। আপনি কী গ্রহণ করতে চান আর কী পরিবর্তন করতে চান সে ব্যাপারে আপনার স্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত নিজস্ব অবস্থান থাকতে হবে। একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি সবচেয়ে সেরা জিনিসটাই খোঁজে। অন্তত সে এটা জানে যে কখন নিষ্ক্রিয় থেকে যা ঘটছে তাকে ঘটতে দিতে হয়।

ব্যাপারটা এমন নয় যে আপনার ব্রেইন বা বুদ্ধির চেয়ে প্রজ্ঞা ভালো ব্যাপার। প্রজ্ঞা কখনো কোনো নতুন আইডিয়া নিয়ে আসে না। কিন্তু প্রজ্ঞা আইডিয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় থাকে। যেসব লোক নিজেদের বুদ্ধির ব্যাপারে অহঙ্কারী এবং রক্ষণশীল তারা নতুন চিন্তা গ্রহণ করতে চায় না। কারণ তারা আতঙ্কিত থাকে যে কেউ তাদের আইডিয়া বা চিন্তাকে ভুল প্রমাণিত করছে।

***

আপনাকে ব্রিলিয়ান্ট হতেই হবে, এমন না। নিজের প্রতি কঠোর হবেন না। হীনম্মন্যতায়ও ভুগবেন না। আপনি অবশ্যই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি। অন্য বুদ্ধিমান লোকরা যা বলেছে এবং যা করেছে তা থেকে শিখেই আপনার পৃথিবী আনন্দময় করে তুলতে পারেন।

আপনি একজন মৌলিক মানুষও। আপনি আপনিই। আপনি আপনি হিসাবেই পৃথিবীর সেরা, অন্য কেউ আপনি হয়ে আপনার মত সেরা হতে পারবে না। এটা অনেকটা অতিশয়োক্তির মত। আসলে হয়ত তাই। কিন্তু দেখুন, শুধুমাত্র অস্তিত্বের কারণেই আপনি মৌলিক কিছু করে ফেলেছেন, কারণ প্রতিটি অস্তিত্বই মৌলিক। আর আপনি নিজেকে চ্যালেন্জ করলে এবং আপনার মন খোলা রাখলে আপনার নিজস্বতা নিয়ে আবির্ভূত হওয়ার চান্স আপনার সবসময়ই থাকছে। এই মহাবিশ্বে আপনি আপনার জায়গাটুকু আপনার পছন্দমত রঙ দিয়ে পছন্দের আকৃতিতে সাজিয়ে নিন, পৃথিবীর আর কেউ চেষ্টা করলেও যার প্রতিলিপি তৈরি করতে পারবে না।

একদিন আমরা হয়ত নিজেকে নিয়ে গর্ব করার মত ম্যাচিউর হতে পারব।

(গোয়েন্ডিলিন কানসেন-এর ‘5 Struggles Of Being Smart, But Not That Smart’ থেকে অনুবাদ, সূত্র: সাম্প্রতিক )

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.