হুমকির মুখে চলচ্চিত্রশিল্প:

October 12, 2015 11:42 pmComments Off on হুমকির মুখে চলচ্চিত্রশিল্প:Views: 47
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

হুমকির মুখে চলচ্চিত্রশিল্প:
চলচ্চিত্র ব্যবসায় ধস, পাইরেসি, দর্শক সংকট, শিল্পীদের পেশাদারত্বের অভাব এবং মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণে ব্যর্থতার কারণে চলচ্চিত্রশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি একযোগে কাজ করতে হবে..
লচ্চিত্রশিল্প আজ হুমকির মুখে রয়েছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এভাবে আরো কিছুদিন চলতে থাকলে দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্প বন্ধ হতে খুব বেশি দিন সময় লাগবে না। বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা দেখে সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়িক ব্যর্থতা, পাইরেসি, দর্শক সংকট, শিল্পীদের পেশাদারত্বের অভাব এবং মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণে অযোগ্যতার কারণে চলচ্চিত্রশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা লগি্নকারী প্রযোজকের সংখ্যা দিনকে দিন কমছে। দু-একটি ছবি ফ্লপ করার পরই অনেকে প্রযোজক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছেন। ফলে দিন দিন ছবির সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে জাজ মাল্টিমিডিয়া, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, অমি বনি কথাচিত্র, মনসুন ফিল্মস, বাংলা এক্সপ্রেস, এস কে ফিল্মস, সন্ধানী কথাচিত্র, টাইগার মিডিয়া লিমিটেড এবং পারসেপচুয়াল পিকচার্সসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে ছবি নির্মাণ করছে। এর বাইরে আরো কিছু ছবি নির্মিত হচ্ছে, তবে সেসব প্রযোজকের মধ্যে ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, একাধিক প্রযোজকের সমন্বয়ে কিছু কিছু ছবি নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রশিল্পের নেতারা হাত গুটিয়ে বসে থাকায় মূলত সংকটটা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এখন যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এই শিল্পকে সচল করার চেষ্টা করছেন, তাদেরকেও ছবি মুক্তি নিয়ে নানা রকম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে নির্মাতারা চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহটা হারিয়ে ফেলছেন।

এদিকে, দেশের অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহ যুগোপযোগী না হওয়ায় দিনকে দিন চলচ্চিত্রের দর্শক কমছে। এ কারণে থানা ও জেলা শহরের প্রেক্ষাগৃহ একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ডিজিটাল সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, কিছুদিন ধরে প্রযোজকরা তাদের ছবির গানের সিডি বিক্রি করতে পারছেন না। এ নিয়ে তারা অনেকটাই হতাশার মধ্যে রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ছবি মুক্তির আগে প্রযোজকরা অডিও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে গানের সিডি বিক্রি করে তিন থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত পেতেন। ছবিতে লগি্নকৃত অর্থ আসুক আর না আসুক, গান বিক্রির টাকা ঠিকই পেতেন। কিন্তু ইদানীং এটাও বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক ধসের কারণে এখন আর অডিও প্রতিষ্ঠানগুলো চলচ্চিত্রের গানের অ্যালবাম প্রকাশে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাছাড়া উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির কারণে তরুণ দর্শকরা খুব সহজেই উন্নতমানের বিনোদন হাতের নাগালে পাচ্ছেন। ইন্টারনেটের কল্যাণে তারা মুহূর্তেই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের চলচ্চিত্র দেখতে পারছেন। এর ফলে দর্শকরা কম মানসম্পন্ন দেশীয় ছবি দেখতে চাইছেন না। এর প্রভাব বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে পড়েছে। এ নিয়েও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

এ সম্পর্কে নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পকে বাঁচাতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাছাড়া পরিচালক-প্রযোজকদের মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণ করতে হবে। এখনো ভালো গল্পের অভাব নেই। তবে দক্ষ চিত্রনাট্যকারের অভাব রয়েছে। এখনকার নির্মাতাদের অনেকেই গল্পের বিষয়টি নিয়ে ভাবেন না। ফলে মনের মতো গল্পের অভাবে দর্শকরা ছবি দেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন। এর ফলে চলচ্চিত্রশিল্প অনেকটাই হুমকির মুখে পড়েছে।

চিত্রনায়িকা ববিতা বলেন, চলচ্চিত্রের মান ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, এখন যারা নির্মাণে আসছেন, তাদের বেশিরভাগই প্রকৃত চলচ্চিত্রকার নন; নাটক নির্মাতা। তারা স্বল্প বাজেটে চলচ্চিত্রের নামে নাটক নির্মাণ করে দর্শকদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি করছেন। এ ব্যাপারে সচেতন না হলে সত্যিকারের চলচ্চিত্রের অভাব থেকেই যাবে এবং মন্দাবস্থা কাটানো যাবে না।
বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আমজাদ হোসেন বলেন, দর্শকরা সব সময়ই মৌলিক গল্পের ছবি দেখতে চান। কিন্তু ইদানীং নকল ছবির সংখ্যা বাড়ছে। ভারতীয় ছবি নকল করে অনেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। এর ফলে দর্শকরা ছবি দেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মৌলিক গল্পের ছবির বিকল্প নেই। তাছাড়া বর্তমানে শিল্পীদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের আরো সচেতন হতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.