১৩ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে

November 23, 2014 1:05 pmComments Off on ১৩ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছেViews: 7
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

image

দেশে কার্যরত ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। চাহিদার অভাবে এসব টাকা তারা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে পড়ে থাকা অলস টাকা ইসলামী ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। বিশেষ করে পল্লী এলাকায় এসব টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর- এই সময়ে বেড়েছে ২ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অলস অর্থ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। এরপরের অবস্থানে আছে ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলোর। এরপরই রয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান।

ব্যাংকাররা মনে করেন, দেশের অনেক মানুষ সুদভিত্তিক লেনদেন করেন না। এ কারণে তারা সঞ্চয়ী টাকা শরীয়াভিত্তিতে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রাখতে উৎসাহিত হন। যে কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। এদিকে বিনিয়োগ কম হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে অলস টাকার পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ও ইসলামী অর্থনীতি শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলজার নবী এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিনিয়োগে মন্দা থাকলেও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনও মন্দা ওইভাবে ঝেঁকে বসেনি। বরং ইসলামী ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের আমানত ও বিনিয়োগের অনুপাত ছিল ৮৬ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে তা ১ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের সাড়ে ১৯ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। বাকি সাড়ে ৮০ শতাংশ তারা বিনিয়োগ করতে পারে। ইসলামী ব্যাংকগুলো এই বিধি থেকে কিছুটা ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বেশিরভাগ ইসলামী ব্যাংকই এখন ওই সীমার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে। কয়েকটি ব্যাংক শতভাগের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তাদের আমানত বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ, বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ এবং অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ বেড়ে সোয়া ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামী ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে এককভাবে ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে সাড়ে ৩৯ শতাংশ। এর পরই রয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান। তারা নিয়ন্ত্রণ করছে সাড়ে ১২ শতাংশের বেশি ব্যবসা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। তারা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। এর পরে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সোয়া ১২ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি এবং ইসলামী ব্যাংকিং জানালার (উইন্ডো) নিয়ন্ত্রণে দেড় শতাংশের বেশি ব্যবসা।

দেশে ২৫টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম করছে। এর মধ্যে ৮টি পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংক, প্রচলিত ধারার নয়টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং শাখা খুলেছে এবং ৮টি প্রচলিত ধারার ব্যাংক আলাদা ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগ খুলেছে। এদের মোট শাখার সংখ্যা ৯০০। এর মধ্যে পল্লী শাখা ২৭৬টি এবং শহুরে শাখা ৫৮৪টি। সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। বর্তমানে ৩টি বিদেশী, ৩টি সরকারি এবং ১৯টি বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করছে। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলো হচ্ছে- ইসলামী, আইসিবি, সোস্যাল, আল আরাফাহ, এক্সিম, শাহজালাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। শুধু বিশেষ শাখা খুলে যারা ইসলামী ব্যাংকিং করছে সেগুলো হচ্ছে- সিটি, এবি, ঢাকা, প্রিমিয়ার, প্রাইম, সাউথইস্ট, যমুনা, আল ফালাহ এবং এইচএসবিসি। ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খুলেছে সোনালী, অগ্রণী, পূবালী, ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, এশিয়া এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। জনতা ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিলেও এখনও তারা কাজ শুরু করেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। এখন তাদের আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগের বিষয়ে আরও বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও ইসলামী ব্যাংকগুলোর শাখা এখনও সারাদেশে সম্প্রসারিত হয়নি।

উৎসঃ   যুগান্তর

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.