৫ বছরের ছুটি চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস

October 27, 2013 11:21 amComments Off on ৫ বছরের ছুটি চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসViews: 11
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

সোলায়মান তুষার: সরকারের শেষ সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মন্মথরঞ্জন বাড়ৈ ৫ বছরের ছুটি চেয়েছেন। তার আবেদন অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৩ বছরের ছুটি অনুমোদনের জন্য ফাইলটি সচিবের দপ্তর ঘুরে মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ছুটি চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা বাড়ৈ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ বছরের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেছেন বাড়ৈ। লোভনীয় ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও কোন ব্যবস্থা নেননি মন্ত্রী। তার নেতৃত্বেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দুর্নীতি হয়। সেই টাকার ভাগ চলে যায় নানা পকেটে। শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে ২০১০ সালের জুনে। মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষক নেতার নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ওই বছরের এপ্রিলে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেনি। ওই অভিযোগে মাউশি’র তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান-উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসসহ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। ২০১০ সালের ৩০শে জুন ওই অভিযোগ দায়েরের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। কিন্তু শিক্ষা সচিবকে এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দেয়া হয়েছিল, সে চিঠি তার (সচিবের) কাছে পৌঁছেনি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় বিষয়টি অবগত হয়ে পরে ওই বছরেরই ১৮ই আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ফের শিক্ষা সচিবকে চিঠিটি পাঠায়। তাতে সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরই তিনি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মাউশি এনসিটিবি, ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম), ইইডি, ডিআইএ, বিভিন্ন প্রকল্পসহ মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেকটা লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আর ঘোরতর অভিযোগ হলো, দুর্নীতির ব্যাপারে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হলেও মাসের পর মাস ফাইল ফেলে রাখা কিংবা ফাইল ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা রয়েছে। এমন একটি ঘটনা হচ্ছে, রাশিদুজ্জামান নামে জনৈক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে কেবল স্টেশনারি কাগজ কেনাকাটায়ই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার জন্য ফাইল পাঠানো হয়। কিন্তু সেই ফাইল প্রায় একবছর এই এপিএস মন্ত্রীর দপ্তরে আটকে রাখেন। এরপর প্রকল্পটিতে অর্থায়নকারী বৈদেশিক সংস্থাটি অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিলে তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। কিন্তু এক বছরের মাথায় ওই কর্মকর্তাকে অপেক্ষাকৃত আরও ভাল পদে পদায়ন করা হয়। আবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজের কন্যার ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হলে তা ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ। তিনি প্রভাষক হয়েও বসে আছেন সহযোগী অধ্যাপকের পদে। বিভিন্ন দুর্নীতি তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার আবুল বাসার নামে মাউশি’র তৎকালীন এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার বাইরে এক কলেজ থেকে আরেক কলেজে বদলির ক্ষেত্রে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি জানার পর তাকে নোয়াখালীতে বদলি করা হয়। কিন্তু সেই বদলির আদেশ কার্যকর হয়নি। বর্তমানে অপেক্ষাকৃত ভালো পদে ওই কর্মকর্তা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে কর্মরত রয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে আরও যাদের নাম শোনা যায় তারা হলেন- মাউশি’র কর্মকর্তা অদ্বৈত কুমার রায় (বর্তমানে ঢাকা বোর্ডে), মইনুল হক, শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী, মাউশি থেকে সদ্য বদলি হওয়া জসিমউদ্দিন, সৈয়দ জাফর আলী, ইমরুল হাসান, সায়মা, শাহিদা, ফারহানা হক, জাহাঙ্গীর হোসেন, ছিদ্দিকুর রহমান, ডিআইএ’র মফিজুল ইসলাম, এনামুল হক, নাজমুল হক, ঢাকা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক শাহেদুল খবির, কলেজ পরিদর্শক শ্রীকান্ত চন্দ্র চন্দ, কর্মকর্তা মাসুদা বেগম, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন প্রমুখ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি আমেরিকায় শেভরনের একটি ম্যানেজারিয়াল পদে যোগদানের লক্ষ্যে লিয়েন (ছুটি) চাচ্ছেন। ৫ বছরের জন্য ছুটি চাওয়া হলেও প্রাথমিকভাবে ৩ বছর ছুটি দেয়ার প্রস্তাবনার ফাইল চালাচালি চলছে। একজন কর্মকর্তা

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.