উবার বন্ধের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে যায় না: সেতুমন্ত্রী

December 1, 2016 4:05 pm0 commentsViews: 4
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

বন্ধের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে যায় না: সেতুমন্ত্রী

ডিসেম্বর ০২, ২০১৬

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বলছি। আবার নতুন প্রযুক্তি এলে তাকে নিরুত্সাহিত করছি। এটা আমাদের বক্তব্যের সঙ্গে স্ববিরোধী ও দ্বিমুখী আচরণ। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল ‘নিরাপদ সড়ক চাই’য়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইনভিত্তিক পরিবহন সেবাদাতা নেটওয়ার্ক উবার বাংলাদেশে তাদের সেবা চালু করে। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক এ ট্যাক্সিসেবাকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিআরটিএ।

উবারের সঙ্গে সরকারের যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধানের আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিএর সঙ্গে তাদের যে ঝামেলা তৈরি হয়েছিল, আমি তা বন্ধ করেছি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে এক দফা বৈঠক করেছে বিআরটিএ। এ ব্যাপারে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান অবশ্যই হবে এবং আমি সেটা চাই।

এ সময় উবারকে নিরুত্সাহিত করা হলে গণপরিবহনের সংকট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সড়ক ও যোগাযোগ খাতে অবকাঠামো নির্মাণের দিক থেকে নিজেকে যতটা সফল মনে করি, দুর্ঘটনা কমিয়ে আনায় ততটা বলতে পারব না। আজো দেশের বিভিন্ন স্থানে একই পরিবারের একাধিক সদস্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ক্ষতি মর্মান্তিক, এ ক্ষতি অপূরণীয়।

মন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ গাড়িচালক বেপরোয়া। তারা সড়কগুলোকে জনগণের সম্পদ মনে করে না। তারা সড়কে ফ্রিস্টাইলে গাড়ি চালায়।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সহসভাপতি রোটারিয়ান সৈয়দ এহসানুল হক জামালের সভাপতিত্বে সভায় মূল বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মিজু আহম্মেদ প্রমুখ।

এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, একসময় সড়ক দুর্ঘটনাকে রোগ মনে করা হতো। কিন্তু সেখান থেকে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। দুর্ঘটনাও অনেক কমেছে। আমার প্রত্যাশা, সরকারের অন্যান্য সাফল্যের সঙ্গে একদিন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার বিষয়টিও একই কাতারে দাঁড়াবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই গণপরিবহন লোকসানি খাত। কিন্তু শহরে মানুষের কর্মসংস্থানের কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বেশি থাকায় সব দেশেই গণপরিবহনে ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা গণপরিবহনকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে বাণিজ্যের সুযোগ দিচ্ছি। তাই চালক ও মালিকদের বাড়তি আয়ের নেশায় দুর্ঘটনা বেড়ে চলছে। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে বিআরটিএর পরীক্ষা পদ্ধতিও সেকেলে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ২৩ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী হারানোর পর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের নামে আন্দোলন শুরু করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

সূত্রঃ বনিক বার্তা অনলাইন 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.