বছরে ৪০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারাচ্ছে বেসরকারি টেলিভিশন

December 1, 2016 4:17 pm0 commentsViews: 19
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

মিডিয়া ইউনিটির দাবি

বছরে ৪০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারাচ্ছে বেসরকারি টেলিভিশন

ডিসেম্বর ০২, ২০১৬ 

বছরে ৪০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারাচ্ছে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া বিজ্ঞাপনের বিপরীতে এ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এর বেশির ভাগই যাচ্ছে অবৈধভাবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িতদের জোট ‘মিডিয়া ইউনিটি’ আয়োজিত সংহতি সমাবেশে গতকাল এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ সংহতি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বেসরকারি চেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট মিডিয়ার চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বাংলা ভিশনের আবদুল হক, এশিয়ান টেলিভিশনের হারুনুর রশীদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু, চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও সময় টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়ের।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে প্রতি বছর নতুন চ্যানেল সম্প্রচারে আসছে। এসব টেলিভিশন চ্যানেলের টিকে থাকার একমাত্র উত্স বিজ্ঞাপন। টেলিভিশন চ্যানেলের বিজ্ঞাপনের বাজার কমবেশি হাজার কোটি টাকা। গত দুই বছরে এর পরিমাণ কমে এসেছে। গত বছর ৪০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হারিয়েছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। এ পরিমাণ অর্থ ও বিজ্ঞাপন বিদেশী চ্যানেলে প্রচার বাবদ দেশের বাইরে চলে গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর টিকে থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকরা বলেন, কঠিন শর্তের কারণে দেশীয় বেসরকারি চ্যানেলগুলো বিদেশে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারছে না। এ অসম প্রতিযোগিতায় দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবার দেশীয় চ্যানেলে আছে বিদেশী অনুষ্ঠানের দৌরাত্ম্য। দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান নির্মাণে রয়েছে বাজেট ঘাটতি। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় নির্মাতা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণে পিছিয়ে পড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও দেশীয় শিল্প তথা দেশের স্বার্থরক্ষার আহ্বান জানান তারা।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কর্ণধার এ কে আজাদ বলেন, ভারতীয় চ্যানেলের আগ্রাসনে আমাদের চ্যানেল দুর্বল হচ্ছে। এসব চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বছরে ৪০০ কোটি টাকা ভারতে চলে যাচ্ছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, এরই মধ্যে বিশেষ পন্থায় বিজ্ঞাপন প্রচার কমে এসেছে। যেকোনো উপায়ে আমাদের দেশীয় শিল্প ও ট্যালেন্ট প্রোটেক্ট করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে মোজাম্মেল বাবু বলেন, শিল্প হিসেবে ঘোষণা হলেই ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। শিল্প ঘোষণা হলে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, বিকাশমান শিল্পের সঙ্গে দেশের সংস্কৃতি জড়িত। সংস্কৃতি রক্ষায় একসময় বহু ব্যবস্থা থাকলেও এখন নেই। ফলে নাটকের মান, বাজেট, টেলিভিশনের স্বাস্থ্য— সবকিছু নিয়েই সংকটের মধ্যে পড়ে গেছে চ্যানেলগুলো। এতগুলো চ্যানেল টিকিয়ে রাখার মতো বিজ্ঞাপন বাজারে নেই। ভালো কন্টেন্ট তৈরি করার মতো বাজেট নেই। সব মিলিয়ে আমরা একটা কলুষিত চক্রের মধ্যে প্রবেশ করেছি।

গত দুই বছরে ৪০০ কোটির টাকার বিজ্ঞাপন কমে গেছে জানিয়ে মোজাম্মেল বাবু বলেন, বিদেশী চ্যানেলগুলোয় বিজ্ঞাপন দেয়ার বিশেষ কৌশল অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়।

উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দেশজ সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার ও রুটি-রুজির বিষয়টি আমরা দেখব।

মিডিয়া ইউনিটির দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কোনো কারণে অনৈক্য সৃষ্টি ঠিক নয়। যদি কেউ ভুল করে, তাতে সংশোধনী আনতে হবে। দেশীয় মিডিয়া তথা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু করা যাবে না।

সূত্রঃ বনিক বার্তা অনলাইন 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.