ভারতে সরকারি কেনাকাটায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসের পরিকল্পনা

December 1, 2016 4:20 pm0 commentsViews: 1
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

ভারতে সরকারি কেনাকাটায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসের পরিকল্পনা

ডিসেম্বর ০২, ২০১৬ 

সরকারি ক্রয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মতো অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের মোদি সরকার। পরিকল্পনার আওতায় পেপার ক্লিপ থেকে শুরু করে পাওয়ার প্লান্ট টারবাইন— সবকিছু কেনা হবে অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২ লাখ কোটি ডলার অর্থনীতির এ দেশের অনলাইন মার্কেটের আকার দাঁড়াবে ৪০ হাজার কোটি ডলারে, যা দেশটির পুরো অর্থনীতির এক-পঞ্চমাংশ। খবর ব্লুমবার্গ ও এনডিটিভি।

মোদি সরকার গত ৮ নভেম্বর আকস্মিকভাবে দেশটির ৮৬ শতাংশ নগদ অর্থ প্রতিস্থাপনের ঘোষণা দেয়। দুর্নীতি  রোধ ও নগদ অর্থহীন অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ফলও পাওয়া যায় তত্ক্ষণাত্। মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের অব্যবহিত পরই বেড়ে যায় অনলাইনে কেনাকাটার পরিমাণ। জানা গেছে, গত আগস্ট থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনলাইন মার্কেট প্লেসে মোট ৫৭ লাখ ডলারের কেনাকাটা হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রিতা টিওটিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ডিজিটাল রূপান্তরের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্ত যে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে এসেছে, তা অত্যন্ত উত্সাহব্যঞ্জক। এরই মধ্যে কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনে সরকারের অন্তত ১০ শতাংশ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন এ মার্কেট প্লেসটির মাধ্যমে ভারতের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ২০ শতাংশের লেনদেন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এজন্য দেশটির সব রাজ্যের সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী এবং রেলওয়েকে অনলাইনে আসতে হবে।

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক বিশাল সিং বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। প্লাটফর্মটি তৈরি করবে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগ। দেশটির সব রাজ্য সরকার, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোম্পানি, ইউটিলিটি, প্রতিরক্ষা ও রেলওয়ে বিভাগ অনলাইনে এলেই এ উদ্যোগ সফল হবে।

দেশটির সাপ্লাই ও ডিসপোজাল বিভাগের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা বিনয় কুমার জানান, বর্তমানে সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে প্রথাগত দরপত্র পদ্ধতি অনুসৃত হয়। এতে সারা দেশের দরদাতারা অংশ নিতে পারেন না। এছাড়া বিষয়টি অনলাইনে না হওয়ায় দুর্নীতিরও সুযোগ থাকে বেশি। এর বিপরীতে অনলাইনে দরপত্র জমা ও প্রদানের বিষয়টি হলে দুর্নীতির পাশাপাশি সেরা দরদাতা খুঁজে পাওয়াও সম্ভব হবে সহজে। সারা দেশ থেকে দরদাতারা অংশ নিতে পারায় সরকারি অর্থও সাশ্রয় হবে। প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয়-সংশ্লিষ্ট এ বিভাগের মাধ্যমে ভারত সরকার প্রতি বছর অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলারের সরঞ্জাম ক্রয় করে থাকে।

গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হলো, ভারতের মাত্র ২০ শতাংশ নাগরিকের ইন্টারনেটসেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় চাকরিদাতা সংস্থা দেশটির সরকারও বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেট খাতের প্রসারে তার কর্মীবাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ফিন্যান্স, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, পুলিশ, হাসপাতাল ও পোস্ট অফিস বিভাগের বিপুল সংখ্যক কার্যালয় গ্রামে অবস্থিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়তই বিদ্যুত্ সরবরাহ সমস্যায় পড়তে হয়। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি ভারত সরকারের জন্য অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বব্যাংকের ‘২০১৪ এন্টারপ্রাইজ সার্ভে’ অনুযায়ী, ভারতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি ধারার সূচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি। এক্ষেত্রে উন্নতি করতে না পারলে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির সূচকে ১৬৭ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৭৬তম। এক্ষেত্রে উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে ডিজিটাল রূপান্তর।

মোদি সরকার গৃহীত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ই-মার্কেট। দেশকে ডিজিটাল করতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগেই। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেশির ভাগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মোদি সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। উদ্যোগটির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম প্রসার করতে পারে, সেজন্য অবৈধ অর্থ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মোদি সরকারের মন্ত্রিসভা তিন বছরের মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ১ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার নিযুক্ত করে।

সূত্রঃ বনিক বার্তা অনলাইন 

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.