সুস্থ হৃদয়ের জন্য

September 1, 2015 4:32 amComments Off on সুস্থ হৃদয়ের জন্যViews: 9
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

সুস্থ হৃদয়ের জন্য

রাফিয়া আলম |

.ভোজনবিলাসী মনের চাই সুস্বাদু খাবার। তৈরি ও পরিবেশনের নানান ধাপে তাই রন্ধনশিল্পীরা মাথায় রাখেন স্বাদের ব্যাপারটা। তবে স্বাদের পাশাপাশি ভুলে যাওয়া যাবে না সুস্বাস্থ্যের বিষয়টিও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই রক্তনালির সংকোচন হতে থাকে, তবে আমাদের নিজেদের কিছু কাজের ফলে এ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি
শুরু হয়ে যায় অনেক আগেই, এর ফলে বাড়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি।’
খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ জেনে নিন।

* সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। প্রচুর শাকসবজি ও তাজা ফল খেতে হবে। তবে ওজন বাড়ার ভয়ে খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
* ভাত ও গমের পাশাপাশি অন্য যেসব খাবারে শর্করা রয়েছে (যেমন আলু), সেগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে ভাত ও গমের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। আলু থেকে যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করলেন, সেই পরিমাণ ক্যালরি ভাত বা রুটি থেকে কমাতে হবে।
* সব ধরনের মাছ খাওয়া যেতে পারে, মাছের ভেতরের তৈলাক্ত অংশ খাওয়া ভালো। তবে মাছের গায়ে লেগে থাকা বাড়তি চর্বি বাদ দিয়ে খেতে হবে। পাঙাশ মাছের পেটের চর্বি খাওয়া ঠিক নয়।
* গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার চর্বি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জমে যায়। যেসব চর্বি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জমে যায়, সেগুলো যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।
* পনির, মাখন ও মেয়োনেজ কম খেতে হবে।
* পাতে বাড়তি লবণ খাবার অভ্যাস পরিহার করুন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার মো. নূরুস সাবাহ বলেন, খাদ্যতালিকায় স্নেহজাতীয় খাবারের অংশ যতটা থাকবে, তার বেশির ভাগই হওয়া উচিত ভেজিটেবল ওয়েল।’
খাদ্যাভ্যাস প্রসঙ্গে তিনি আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
* সূর্যমুখী বা জলপাই তেল থেকে পেতে পারেন প্রয়োজনীয় স্নেহজাতীয় উপাদান।
* কম স্নেহযুক্ত (লো ফ্যাট) দুধ বা এ ধরনের দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেন। মাঠা এবং লো ফ্যাট দইও খেতে পারেন। আঁশসমৃদ্ধ বীজ (যেমন শিম) খাওয়া যেতে পারে।
* চীনাবাদাম, অ্যাভোকাডো খেতে পারেন।
* ঢেঁকিছাঁটা চাল খাওয়া ভালো।
* টিনজাত খাবারে সোডিয়াম কম আছে, এমন খাবার বেছে নিতে হবে।
* সপ্তাহে চারটির বেশি ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত নয়।
যাঁরা কোন ধরনের হৃদ্রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করার সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার নাহিদ জানালেন, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার সুস্বাদু হয়। তবে খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত করতে হলে ভেজিটেবল ওয়েল, ভেজিটেবল মাখন অথবা বনস্পতি ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের বিষয়ে আরও পরামর্শ দিয়েছেন রান্নাবিদ সিতারা ফিরদৌস।
* প্রায় সব রান্নাতেই অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
* ফ্রায়েড রাইস, তন্দুরি চিকেন, ফ্রায়েড চিকেন তৈরিতে বা মাছ ভাজার সময় তিলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি এটি খাবারে আনবে ভিন্ন স্বাদ।
* গরু বা খাসির মাংসের কাবাব তৈরি করতে চাইলে অল্প পরিমাণ মাংসের সঙ্গে ছানা মিশিয়ে নিতে পারেন, এতে খাবারে চর্বির পরিমাণ কমে আসবে।
* অল্প তেলে খাবার ভাজতে পারেন। সবগুলো রান্না ভাজাপোড়া জাতীয় না করে কিছু খাবার সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
* কয়লার আগুনে খাবার সেঁকে নিতে পারেন। এতে রান্নায় তেলের ব্যবহার কমে আসবে।
* ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে কম তেলেই রান্না করে ফেলতে পারবেন। ওভেনে রান্না করলেও এ সুবিধা পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.