হেফাজতের সঙ্গে কোনও সুষ্ঠু বিতর্ক সম্ভব না – সুলতানা কামাল

June 2, 2017 2:29 pmComments Off on হেফাজতের সঙ্গে কোনও সুষ্ঠু বিতর্ক সম্ভব না – সুলতানা কামালViews: 51
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

[youtube=https://youtu.be/mFDqA13nreg] 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মৃণাল হকের তৈরি দেবী থেমিসের ভাস্কর্য স্থানান্তরের বিষয়ে টকশো প্রচারিত হয়। ওই টকশোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের  সাবেক  উপদেষ্টা সুলতানা কামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জের ধরে শুক্রবার হেফাজত নেতারা তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘সুলতানা কামালের পরিণতি নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের মতো হবে।’ এ বিষয়ে শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘হেফাজতের সঙ্গে কোনও সুষ্ঠু বিতর্ক সম্ভব না। তারা কোনও যৌক্তিক তর্ক মানেন না। সাধারণ নাগরিকদের এভাবে শারীরিক আক্রমণের হুমকি বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, বেসরকারি টিভি চ্যানেলে টকশো’র উপস্থাপক ছিলেন রুবায়েত ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে সুলতানা কামাল ছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অপু উকিল,  গণজাগারণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও হেফাজত প্রতিনিধি মুফতি সাখাওয়াত হোসেন।

টকশোর আলোচনার প্রসঙ্গে সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘সে দিনের টকশোতে হেফাজতের একজন ছিলেন। সেখানে প্রশ্ন উঠেছিল, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ভাস্কর্য থাকলে আপত্তিটা কিসের? তিনি (হেফাজতের প্রতিনিধি) বলেছিলেন, ‘এটা মূর্তি, ধর্মীয় স্থাপনা। কোর্ট এলাকায় কেন ধর্মীয় স্থাপনা থাকবে?’ এটি ছিল তার কথা। তখন তার জবাবে বলেছি, ‘আমিও আপনার কথায় একমত। আমিও মনে করি, কোর্ট এলাকায় কোনও ধর্মীয় স্থাপনা থাকা উচিত না। মূর্তি যেমন ধর্মীয় স্থাপনা, তেমনি মসজিদও। আপনার কথা অনুযায়ী সেখানে মসজিদও তো থাকা উচিত না। এটা আমি বলে ফেলেছি ঠিকই। কিন্তু তার এই কথার পরিপ্রেক্ষিতেই। কথাটা এভাবেই হয়েছে।’’

এই টকশোকে কেন্দ্র করে হেফাজতের হুমকির বিষয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘এই দেশে কোনও কথাবার্তাই বলা যাবে না। কোনও যৌক্তিক তর্ক বা ডিবেট সম্ভব না। আমরা বরাবরই বলে এসেছি, এসব মানুষের (হেফাজত নেতাদের) সঙ্গে কোনও সুষ্ঠু ডিবেট সম্ভব না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুঃখটা হলো, তাদের সঙ্গে কোনও সুষ্ঠু বিতর্কই সম্ভব না। যৌক্তিক কোনও আলোচনাই সম্ভব না।’

এ ধরনের হুমকির বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও দাবি আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, সরকার দেখুক, তারা (হেফাজত) প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। তারা (সরকার) এত লোককে গ্রেফতার করছে, এত কিছুতে। যারা শারীরিক আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে কিছু বললে তো তাকে ধরে নেয়। তারা প্রধান বিচারপতি সম্পর্কেও বলছে। তারা (হেফাজত) সবাইকেই হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এখন প্রশাসনের  উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি, তিনি একজন সম্মানীত ব্যক্তি। তার বিষয়ে বিরূপ কিছু বলা আইনগত নিষিদ্ধ। যারা একটি বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এভাবে সাধারণ মানুষকে শারীরিক আক্রমণের হুমকি দেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

আপনি কোনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কিনা? এর উত্তরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এখনও এ রকম কিছু চিন্তা করিনি। কারণ আমাকে তো সরাসরি কিছু বলেনি।’

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য স্থানান্তর নিয়ে গত সপ্তাহে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরে ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ নামের একটি টকশো প্রচারিত হয়। ওই টকশোতে অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌসের উপস্থাপনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অপু উকিল, গণজাগারণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও হেফাজত ইসলামের প্রতিনিধি মুফতি সাখাওয়াত হোসেন।

টকশোর শুরুতে হেফাজত নেতা মুফতি সাখাওয়াত বলেন, ‘কেউ ভাস্কর্য বলেন, কেউ বলেন মূর্তি। আমি মূর্তি বলি। গ্রিক গড অব জাস্টিস।  এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট-এই মূর্তিটি থেমিসের। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, এটি থেমিসের মূর্তি। আর থেমিস হচ্ছে গ্রিক দেবী। তারা সেটিকে উপাসনা করে, পূজা করে। আর সেই মূর্তি স্থাপিত হয়েছে, এটা কখনও কোনও মুসলমান মেনে নিতে পারেন না।’

জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, ‘যিনি এতক্ষণ কথা বললেন, আমি তার মতো প্রবক্তা নই। আমি যেভাবে বিষয়টি দেখি, তিনি কিছু কিছু জায়গায় খুবই গুলিয়ে ফেলেছেন। মূর্তি সেটাকেই বলা হয়, যেটা হিন্দু ধর্মের লোকজন পূজা করেন। তবে অনেকে করেন না। হিন্দুদের মধ্যেও নানা তরিকা আছে। মুসলমানদের মধ্যেও নানা তরিকা আছে। আমাদের এই উপমহাদেশে আমরা দেখি, সব জায়গায় একই মূর্তি প্রধান দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না। সেটাও তাদের ব্যাপার। হ্যাঁ, ঠিকই তো তিনি (মুফতি সাখাওয়াত) ইসলাম ধর্ম নিয়ে যে কথা বলেছেন, একশত ভাগ সত্য। মুসলমানরা তাদের ধর্ম মানবে। কেউ তো বলছে না, সেখানে যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, সেটাকে পূজা করতে হবে বা সেটাকে মূর্তি নাম দিয়ে সামনে গিয়ে মুসলমানদের সেখানে কোনও রকম ধর্মের আচরণ করতে হবে। সে রকম কথা তো আসেনি। অনেক দিন ধরে ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে বিচারের যে প্রতীক, সেটাকে একটা জায়গা প্রতিস্থাপন করা হয়। সেখানে মানুষ সেটাকে দেখে। না থাকলেও কোনও ক্ষতি নেই। সেটা যে থাকতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। আমাদের বিষয়টি ছিল সেটাকে ধর্মের নাম দিয়ে, ধর্মকে ব্যবহার করে যেভাবে অপসারণ করা হলো, সেটা মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা ছিল, তার সঙ্গে যায় না। এটা তো ঠিকই, বাংলাদেশে শুধু মুসলমান জাতি বাস করে না। এখানে বিভিন্ন জাতের ও ধর্মের মানুষ বাস করে। থেমিসের যে মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছিল, এটার সঙ্গে ধর্মেরও কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্ম দিয়ে এটাকে থাকা না থাকার তর্কগুলো তোলা হচ্ছে। যেভাবে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে, ১৩ দফা দাবি তো আমরা জানি। মেয়েদের ক্লাস ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না। হেফাজত ইসলামের যিনি সর্বোচ্চ স্তরের নেতা, তিনি নারীদের সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন, আমি জানি না, ইসলামে যদি সেটার কোনও অনুমোদন থাকে, খুবই দুঃখ পেতে হবে।’

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে, একটা ভাস্কর্যকে মূর্তি বানানো হচ্ছে।’

‘এখানে মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন মুফতি সাখাওয়াত।

জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমার কথা হলো, সেটা যদি মূর্তিও হয়, সেটা সেখানে থাকলে অসুবিধা কী? মুসলমানরা সেটা পূজা না করলেই হলো।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুফতি সাখাওয়াত বলেন, ‘অসুবিধা আছে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত।’

‘তার মানে কি কিছুই থাকবে না?’ বলে প্রশ্ন রাখেন সুলতানা কামাল। এর উত্তরে সাখাওয়াত বলেন, ‘সব থাকবে।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘তাহলে মসজিদও থাকার কথা না।’ এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুফতি সাখাওয়াত বলেন, ‘এই মূর্তি সাম্প্রদায়িক। আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনও সাম্প্রাদায়িক কিছু থাকতে পারে না।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘থাকতে পারে, ওখানে ঈদগাহও আছে কেন? সেখানে যদি মসজিদ থাকতে পারে, মূর্তি থাকতে পারবে না কেন?’

মুফতি সাখাওয়াত বলেন, ‘মসজিদ থাকবে, মুসলমানরা সেখানে নামাজ পড়বে, হিন্দুরা তাদের মতো করে পূজা করবে। ইসলামের এ জায়গায় বক্তব্য স্পষ্ট-কোনও ধর্মের ওপর আঘাত হোক, ইসলাম সেটা বরদাশত করে না।’ 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মৃণাল হকের তৈরি গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য স্থানান্তর ইস্যুতে একটি টকশো প্রচারিত হয়। ওই টকশোতে  সুলতানা কামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জের ধরে শুক্রবার হেফাজত নেতারা তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। তারা বলেছেন, ‘সুলতানা কামালের পরিণতি নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের মতো হবে।’[youtube=https://youtu.be/QecMmlU7BwE]

ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের প্রতিবাদের হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুলতানা কামালকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। সংগঠনের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মসজিদগুলোয় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মসজিদ বানাবেন ঘোষণা দিন। সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করুন। না হয় তাকে তসলিমা নাসরিনের মতো দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন। সুলতানা কামালের দেশ বাংলাদেশ নয়।’ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।    

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘সাহস কত সুলতানা কামালের! তিনি বলেছেন, ভাস্কর্য  থাকতে না দিলে মসজিদ থাকতে দেওয়া হবে না। সুলতানা কামাল রাজপথে নেমে দেখুন, হাড্ডি-গোস্ত রাখা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বদরের যুদ্ধ কিন্তু রমজান মাসে হয়েছে। মক্কায় যত মূর্তি সরানো হয়েছে, সেটা রমজান মাসেই সরানোর হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি মূর্তি কি এখান থেকে সরাবেন? নাকি আমরা আসব? যদি আমাদের আসতে হয়, বাংলাদেশে পূজা মণ্ডপ ছাড়া আর কোথাও মূর্তি রাখা হবে না।  প্রশাসন ও সরকারকে বলতে চাই, আমরা যে আসতে পারি, আপনাদের নিশ্চয় তা জানা আছে। ২৪ ঘণ্টায় কোটি মানুষ ঘেরাও করবে হাই কোর্ট। মেহেরববানি করে আমাদের আসতে বাধ্য করবেন না। আমরা যে দিন আসব, পুলিশ ঠেকাতে পারবে না। আমরা যে দিন  আসব, কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে আসব।’ 

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে দু’টি শিবিরে বিভক্ত। একটি মূর্তির পক্ষে, অন্যটি মূর্তির বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। সুপ্রিম কোর্টের কোন স্থানেই মূর্তি থাকতে দেওয়া হবে না।’  হেফাজতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন,  ‘সেদিনের জন্য প্রস্তুত থাকুন, প্রয়োজনে আল্লামা আহমদ শফী ডাক দেবেন। এ দেশের আলেম সমাজ রাজপথে নামবে। থেমিসের গলা রশি বেঁধে প্রয়োজনে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হবে।’

সুলতানা কামালসুলতানা কামাল

ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি কলা ঝুলিয়ে মুলা খাওয়ালেন। তিন চারজন লোকের কারণে আপনার ভোট বাক্স কমছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে আশা করবেন না। আগামী নির্বাচনে স্বয়ং মোদি  এসে আপনাকে ক্ষমতায় বসাতে পারবেন না।’

সংগঠনটির সহ-সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন,  ‘প্রধান বিচারপতি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তিনি বিচারপতি থাকতে পারেন না।  সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করতে হবে। যদি অপসারণ না করা হয়, তবে তৌহিদি জনতা ঈদের পর বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে মূর্তি আর মূর্তি পূজকদের বাংলাদেশ থেকে তাড়াতে বাধ্য হবে।’

মাওলান ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ওরা বলে ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস না। মূর্তির চেয়ে ভাস্কর্য আরও খারাপ। মূর্তির পূজা করে সামান্য গুটি কয়েক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের।  আর ভাস্কর্য পূজা করে মৃণাল হক, সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির, ইমরান এইচ সরকাররা। এসব নাস্তিক-মুরতাদ ভাস্কর্য পূজা করে। এসব ডিজিটাল নাস্তিককে বাংলার জমিন থেকে ভাস্বর্যসহ ভারতে পাচার করে দেওয়া হবে। মৃণাল হক সুপ্রিম কোর্টের সামনে জঙ্গিবাদ শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের  সামনে দেবীর হাতে তরবারি দিয়েছে। এদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, ‘গ্রিক দেবী অপসারণের কারণে আমার গত শুক্রবার ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু  অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আজ আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত হতে হয়েছি। মূর্তি অপসারণের পর আবার প্রতিস্থাপন তামাশা, এছাড়া আর কিছু নয়। অনতিবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করা হোক, না হলে রমজানের পরে বৃহৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী, জ্বালাও-পোড়াওয়ে বিশ্বাসী না।’

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ সভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক, মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী, গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, আতাউল্লাহ আমিন, হাকিম আব্দুল করিম প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.