Home Authors Posts by Ekush News Desk

Ekush News Desk

5140 POSTS 0 COMMENTS

আরএসএফ শ্রদ্ধা জানাল কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ৩০ জনকে

করোনাকালীন সাংবাদিকতা

আরএসএফ শ্রদ্ধা জানাল কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ৩০ জনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো
১৮ জুন ২০২০
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) কারাবন্দী কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরসহ ৩০ সংবাদকর্মী, সংবাদমাধ্যম ও হুইসেল ব্লোয়ার বা সতর্ককারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। আরএসএফ বলছে, এসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সাহস, ঐকান্তিকতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা মহামারিতে বিশ্বাসযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রসারে কাজ করেছেন। আর এ জন্য তাঁদের দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। প্যারিসভিত্তিক স্বাধীন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরএসএফ এই ত্রিশকে বলছে ‘ইনফরমেশন হিরোজ’। এ উপলক্ষে আরএসএফ ‘করোনাভাইরাস: ইনফরমেশন হিরোজ—জার্নালিজম দ্যাট সেভস লাইভস’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তারা বলেছে, মহামারির সময় মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের কেউ কেউ জেল খেটেছেন, কেউ কারারুদ্ধ হয়েছেন, কেউ আর কখনোই সাংবাদিকতা করতে পারবেন না, কেউ আবার এই করোনার কালেই দেশান্তরি হয়েছেন। বাংলাদেশের আহমেদ কবীর কিশোর সম্পর্কে আরএসএফ বলেছে, তিনি করোনাকালের রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে ফেসবুকে ‘লাইফ ইন দ্য টাইম অব করোনা’ নামে একটি কার্টুন জার্নাল প্রকাশ করছিলেন। গত ৫ মে থেকে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আছেন, তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ফেসবুকে গুজব ও মিথ্যে তথ্য ছড়িয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশি আরেক সাংবাদিক
তালিকায় স্থান পেয়েছেন সালিম আকাশ নামের আরেক বাংলাদেশি সাংবাদিক। জর্ডানে বসবাসকারী সালিম করোনাকালে বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন। তিনি দেখান কীভাবে অভিবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তাঁদের ভাগ্য যে এখন দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে, তারও উল্লেখ করেন সালিম। তাঁর এ প্রতিবেদনটি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়। ১৪ এপ্রিল সাদাপোশাকে জর্ডান পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নেওয়া হয়। এখন তিনি আছেন জর্ডানের আল সল্ট কারাগারে।জর্ডান কারাগারে আছেন বাংলাদেশি সাংবাদিক সালিম আকাশ। ছবি: আরএসএফের ওয়েবসাইটজর্ডান কারাগারে আছেন বাংলাদেশি সাংবাদিক সালিম আকাশ। ছবি: আরএসএফের ওয়েবসাইট জর্ডান থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিলে সেলিম আকাশকে আটকের পরপরই জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে দূতাবাস। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। সালিম আকাশ যেন বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সে জন্য দূতাবাস তাঁর জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া তিনি ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান, পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কমোরোজ, বাহরাইন, টোগো, আইভরি কোস্ট, এসোয়াতিনি (সোয়াজিল্যান্ড), ব্রাজিল, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, ইকুয়েডর, আলজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও বেলারুশের সাংবাদিক ও সতর্ককারী, রাশিয়ার ২৫ গণমাধ্যমের মঞ্চ সিন্ডিকেট-১০০, হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, রেডিও করোনা ইন্টারন্যাশনাল, ইকুয়েডরের প্রেস ফ্রিডম গ্রুপ ফান্ডামেন্ডিয়সকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আরএসএফ। আহমেদ কবীর কিশোরের এই ছবি ওয়েবসাইটে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ করেছে আরএসএফআহমেদ কবীর কিশোরের এই ছবি ওয়েবসাইটে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ করেছে আরএসএফ কিশোর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর আর্থিক খাতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির আক্রোশের শিকার বলে জানিয়েছেন তাঁর এক স্বজন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিশোরকে মন্ত্রী বা এমপিদের নিয়ে কার্টুন করার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কার্টুন কেন এঁকেছে, সে প্রশ্ন করা হয়েছে হাজারবার। কিশোর ছাড়াও ওই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। মিনহাজের সঙ্গে আর্থিক খাতের ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। কিশোরকে বারবার প্রশ্ন করা হয় ওই ব্যক্তির কার্টুন আঁকতে মিনহাজ তাঁকে কত টাকা দিয়েছেন।’ ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের বেশ কিছু কার্টুন প্রকাশিত হয়। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভার্চ্যুয়াল আদালত কিশোরের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের।

করোনা পরীক্ষার লম্বা সারি, উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পথে সরকার

করোনা পরীক্ষার লম্বা সারি, উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পথে সরকার

তানভীর সোহেল, ঢাকা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনা পরীক্ষার জন্য অনলাইনে সিরিয়াল নিতে হয়। প্রতিদিনের পরীক্ষার জন্য যে কোটা বরাদ্দ থাকে, তা অনলাইনে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পূরণ হয়ে যায়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলছিলেন, করোনার উপসর্গ থাকা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এত মানুষকে পরীক্ষা করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। একই অবস্থা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের। সেখানে প্রতিদিন লম্বা লাইন পড়ছে। কয়েক দিন ঘুরতেও হচ্ছে নমুনা দিতে। সিরিয়াল থেকে নমুনা দেওয়ার জন্য তিন দিন একই স্থানে অবস্থান করার চিত্র দেখা গেছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তাঁরা করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ যত বেশি শনাক্ত হবে, তত বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন, এখন তাঁরা উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের বলেছেন। আর করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল বাড়ানোরও কাজ করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘এখন দিনে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এটা যথেষ্ট নয়, তা আমরা বুঝি। উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করার লাইন দিন দিন বড় হচ্ছে। এটা আরও বাড়তে থাকবে। কিন্তু এটা যতটা বাড়ানো দরকার, সেই পরিমাণ বা তার কাছাকাছি যাওয়ার মতো সামর্থ্য এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’ প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ৫০ হাজার বা তার বেশি নমুনা পরীক্ষা করা গেলে ভালো হতো। কিন্তু আমাদের যে সামর্থ্য, তাতে ২০ হাজার নেওয়াটাই তো কঠিন। তবে চেষ্টা চলছে নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়িয়ে, লোকবল যুক্ত করে শিগগিরই তা দিনে ২৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা নিজেই বললেন, করোনার উপসর্গ আছে, এমন ব্যক্তিরা পরীক্ষার জন্য যেভাবে তদবির করেন, দালাল ধরেন; তাতে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, যাঁদের পরিচিত লোক নেই বা অর্থ খরচের উপায় নেই, তাঁদের কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই কর্মকর্তা জানালেন, এখন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী শনাক্তের পাশাপাশি উপসর্গ দেখে ব্যক্তিকে শুরু থেকে করোনার চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকদের বলা হয়েছে। কেননা উপসর্গ থাকা ব্যক্তি চাইলেই পরীক্ষা করাতে পারছেন না, ফল পেতেও দেরি হচ্ছে। এতে কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এ কারণে তাঁরা মৌখিকভাবে চিকিৎসকদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠা ৪০ হাজার ১৬৪ জনের প্রত্যেককে কমপক্ষে তিনবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করতে হয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসের উপসর্গ (মূলত জ্বর, গলাব্যথা) নিয়ে আসা একক ব্যক্তির (ইউনিক পারসন) নমুনা পরীক্ষা ধরলে, এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখের কিছু বেশি বলে মনে করছেন অধিদপ্তর ও বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন। বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ বা রোধে পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যত বেশি পরীক্ষা করে শনাক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশন করা যাবে, তত দ্রুত এই ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জ্যেষ্ঠ এই চিকিৎসক বলেন, বাংলাদেশে পরীক্ষা কম হচ্ছে। আরও বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা দরকার। বাংলাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের পরীক্ষা হচ্ছে না। সারা দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার পর যাঁরা সুস্থ হচ্ছেন, তাঁদের কিন্তু পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে রোগীর সংখ্যা যে শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি, এটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে আইসিডিডিআর,বির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, শুধু ঢাকাতেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ। তবে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, পরীক্ষা বাড়লে শনাক্ত বাড়বে, এটা তো ঠিক। তবে সেটা কত, তা বলা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ব রাজাবাজার লকডাউনের আগে সেখানে ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। লকডাউনের পর পরীক্ষার সুযোগ বাড়লে এই কয়েক দিনে আরও ২৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মানে সেখানে আরও আক্রান্ত আছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তিনটি হটলাইন নম্বরে উপসর্গের কথা বলে, রোগটি সম্পর্কে জানতে, পরীক্ষা করাতে চেয়ে ১ কোটি ১২ লাখ কল এসেছে। তবে আলাদাভাবে উপসর্গ আছে বা পরীক্ষা করানোর জন্য কত ফোন এসেছে, তা তাঁদের জানা নেই। কিন্তু এতসংখ্যক ফোন কল আসায় এটা বোঝা যায়, পরীক্ষা এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার চেয়ে চারগুণ বেশি হলে আরও বেশি মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যেত।

অ্যাপ দিয়ে ছবি বদলাচ্ছেন, তথ্য দিচ্ছেন কাকে?

অ্যাপ দিয়ে ছবি বদলাচ্ছেন, তথ্য দিচ্ছেন কাকে?

উদিসা ইসলাম

| জুন ১৯, ২০২০ |

কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে সকলে একটি অ্যাপ ব্যবহার করে প্রোফাইল বা কাভার পিকচার তৈরি করছেন। হলুদাভ আভাযুক্ত ই ছবিতে এখন ফেসবুক সয়লাব।

আপনিও যদি ট্রাই না করেন তাহলে অন্য বন্ধুদের থেকে পিছিয়ে পড়েছেন ভাবছেন? কেবল সাম্প্রতিক এই অ্যাপই নয়, কত বছর বয়সে আপনি দেখতে কেমন হবেন, আপনার নাম দিয়ে আপনার সম্পর্কে কী জানা যায় এমন নানা অ্যাপ হুটহাট সামনে এলেই হুমড়ি খেয়ে তার ব্যবহার শুরু হয়।– এই আচরণকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক এসব ছেলেমানুষিতে মজা করছেন বটে কিন্তু এর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত নানা তথ্য চলে যাচ্ছে অ্যাপ এর মালিকের হাতে। এতে ব্যবহারকারীর জীবন ও অ্যাকাউন্ট দুই-ই পড়তে পারে ঝুঁকিতে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২০১৯ সালের তথ্য মতে, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার এবং প্রায় সাড়ে ৯ কোটি গ্রাহক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল অ্যাপ ব্যবহারের কারণে তাদের গোপনীয় সব তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বেচ্ছায় তুলে দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি হিসেবে চিহ্নিত হয় যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কেলেঙ্কারির ঘটনা। বিবিসি সংবাদ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফেসবুক থেকে তারা ৮কোটি ৭০ লাখ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে। এদের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ অ্যাকাউন্ট যুক্তরাজ্য ভিত্তিক। এই কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেয়া ক্রিস্টোফার ওয়াইলির বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রায় ৫ কোটি মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণে ২০১৮ সালে এপ্রিলে মার্ক জাকারবার্গকে কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নিতে হয়। ফেসবুক ডেভেলপার গ্রুপ নিয়ে কাজ করে আরিফ নিজামী। এধরনের অ্যাপ ব্যবহারের ঝুঁকি বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই অ্যাপ থার্ডপার্টি অ্যাপ। ফেসবুক বা গুগলের না। তারা এই তথ্য ব্যবহার করে যে কারো কাছে বিক্রি করতে পারে। মনে রাখবেন একবার তথ্য নিলে সেটা সারাজীবনের জন্য কোথাও না কোথাও সংরক্ষিত থাকছে। যদি এই মুহূর্তে তারা কোনও পার্টির কাছে বিক্রি নাও করে, পাঁচ বছর পরে করবে। তিনি বলেন,বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয় বলে প্রচারণা থাকলেও সেটা প্রমাণিত নয়। এধরনের অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে ফেইস ডিটেকশন (চেহারার বর্ণনার মাধ্যমে চিহ্নিত করা) গুরুত্বপূর্ণ। এটি নাগরিকদের নজরদারির জন্য ব্যবহার হয়। আমরা এটা নিয়ে মোটেই সচেতন না। কোন অ্যাপে আপনি যখন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গ্রহণে অনুমতি দিচ্ছেন তখন কখনো যদি সেই অ্যাপ হ্যাক হয় আপনার একাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে। এগুলো থেকে দূরে থাকাই একমাত্র ‍উপায়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, যেকোন অ্যাপ যারা এধরনের বিষয় কেন্দ্রিক সেগুলো যদি ‘ট্রাস্টেড অ্যাপ’না হয় তাহলে যে তথ্যগুলো নেয় সেগুলো বিপদের কারণ হতে পারে। ধরুন মোবাইল ডায়ালার অ্যাপ। তারা আপনার মোবাইলের ক্যামেরা ইউজ করতে চাইবে। আপনার একটা ছবিটা তুলে পাঠাতে হবে। এনআইডি কার্ড পাঠাতে হবে। এসব হয়তো তারা সংরক্ষণ করছে। কোন দুষ্টু লোক যদি ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজে লাগায় তখন কিছু করার নেই। যখন ব্যবহারকারীর সকল ব্যক্তিগত তথ্য আপনার হাতে তখন আপনার পাসওয়ার্ড ব্রেক করা হ্যাকারদের জন্য সহজ হয়ে যায়। তারচেয়ে ট্রাস্টেড অ্যাপ ব্যবহার করুন। ট্রাস্টেড অ্যাপ বলেতে কী বুঝান হচ্ছে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যারওপর আস্থা রাখা যায়। ধরুন ব্র্যান্ডের পণ্য নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়, বাকিগুলো ভেজার কিনা সেই চিন্তা করি। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই। নাম না জানা কোম্পানি দেখলে এড়িয়ে চলতে হবে। মাল্টি মিডিয়া কনটেন্ট অ্যাণ্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড এর রিসার্চ অ্যাণ্ড ইনোভেশন এর মেহেদি হাসান সুমন মনে করেন টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস না জেনে এসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। আমরা ওই অংশটুকু পড়েও দেখি না। একটার পর একটা স্তর অনুসরণ করি। এতে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো চলে যায়। এর ফলে ব্যবহারকারী কত বিপদে পড়তে পারে এটা সে নিজেও জানে না। আর এই জানানোর কাজটা একইসাথে পরিচালনা করাটাও জরুরি। এরজন্যই বারবার ইন্টারনেট শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়। এর বাইরেও সবসময় তথ্য কাউকে না কাউকে দিচ্ছি আমরা। তা না হলে ফেইসবুকে যার যেইটা প্রয়োজন সেই বিজ্ঞাপন সামনে আনা হয় কীভাবে? তথ্য নিরাপদ রাখা এসময়ে খুবই কঠিন। ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের’ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলামও মনে করেন তথ্য নিরাপদ রাখা এসময়ের বড় চ্যালেঞ্জ এবং কঠিন কাজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক অ্যাপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি করে। সচরাচর এসব দেখলেই ব্যবহারকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কোনটা খারাপ বা ভাল সেটা খালি চোখে সবসময় দেখা যায় না। তাই নিজেকে বিরত রাখাটাই শ্রেয়।

গ্র্যাচুইটির টাকার হিসাব – প্রতিষ্ঠান ভুল করলে পেনশন-গ্র্যাচুইটির টাকায় কর দিতে...

১৭ জুন ২০২০
প্রতীকী ছবি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে ২০ বছর চাকরি করেছেন। বয়সও হয়েছে। ছেলে বিদেশে থাকেন। এখন সপরিবার ছেলের কাছে স্থায়ীভাবে চলে যাবেন। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এত দিন চাকরি করার ফলে গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পেলেন।

এই টাকা করমুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি যখন টাকাটা তুলতে গেলেন, তখন বিপত্তি বাধল। সেই টাকার ২৫ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হলো। কারণ, রফিকুল ইসলামের সাবেক প্রতিষ্ঠান গ্র্যাচুইটির টাকা যে তহবিলে আলাদা করে রেখেছেন, তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিঅার) থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে রফিক সাহেব হাতে পেলেন সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। ভাবুন তো, রফিক সাহেবের মনের অবস্থা তখন কেমন হয়েছিল? এই টাকায় কত কিছু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

শুধু প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে অবসরে যাওয়া কিংবা চাকরি ছেড়ে দেওয়া কর্মীদের এমন ভোগান্তি হয়ে থাকে, তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অথচ যেই টাকা করমুক্ত থাকার কথা, সেটির দায়ভার কর্মীকে নিতে হবে প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে।

 আগামী ২০২০–২১ অর্থবছরের বাজেটে গ্র্যাচুইটি ও পেনশন নিয়ে আয়কর খাতে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থবিলের দফা ৫১তে বলা হয়েছে, সরকার বা অন্য কোনো অনুমোদিত গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত গ্র্যাচুইটির টাকা পেলে কোনো কর দিতে হবে না। তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে যে তহবিল বা ব্যাংক হিসাবে গ্র্যাচুইটির টাকা রাখা হয়, তা এনবিআরের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। বার্ষিক রিটার্নে ওই তহবিলের লেনদেন আলাদা করে দেখাতে হবে। তা না হলে গ্র্যাচুইটির টাকা করমুক্ত হবে না।

একইভাবে পেনশনের টাকা প্রদানের ক্ষেত্রেও তহবিলের অনুমোদন নিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে পেনশনের টাকার ওপরও কর বসবে। গ্র্যাচুইটির টাকার মতো অবশ্য পেনশনের টাকায় কোনো সীমা দেওয়া হয়নি। এত দিন শুধু বলা হয়েছিল, যেকোনো গ্র্যাচুইটি বা পেনশন ফান্ড থেকে চাকরিজীবীকে টাকা দিলে কর দিতে হবে না। এখন তহবিল অনুমোদনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এনবিআর এই শর্ত দিয়েছে।

গ্র্যাচুইটি ও পেনশন তহবিল এনবিআরের অনুমোদিত হলেই কেবল করমুক্ত সুবিধা মিলবে। প্রতিষ্ঠানের দায় পড়বে কর্মীর ওপর।

এর পেছনের কারণ কী—এটা জানার চেষ্টা করা হয়। এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা দেয়, এমন বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই আলাদা তহবিলে বা ব্যাংক হিসাবে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির টাকা রাখা হয়। এসব তহবিল মালিকপক্ষই পরিচালনা করে থাকে। তাই এই তহবিল থেকে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা টাকা তুলে নেন, আবার হয়তো জমাও করেন। এতে ওই সব তহবিলের স্বচ্ছতা থাকে না। ঝুঁকিতে পড়ে তহবিল ব্যবস্থাপনা। গ্র্যাচুইটি–সুবিধা থাকলেও বহুদিনের জন্য টাকা আটকে যাওয়ার শঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠানের এমন আলাদা তহবিল নেই।

তহবিল ব্যবস্থাপনা

পেনশন বা গ্র্যাচুইটি তহবিল এনবিআর থেকে অনুমোদন করিয়ে নিলে কর্মীদের করে যেমন ছাড় আছে, তেমনি তহবিল পরিচালনায় নজরদারিও বাড়ানো সম্ভব হয়। যেমন এনবিআর থেকে তহবিল বা ব্যাংক হিসাব অনুমোদন করিয়ে নিলে শর্ত অনুযায়ী তহবিলটি ট্রাস্টের মাধ্যমে চলবে, যেখানে মালিক ও কর্মী—উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবেন। ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনা কিছুটা নজরদারিতে চলবে।

অন্যদিকে আলাদা তহবিলে গ্র্যাচুইটির টাকা রাখার ফলে প্রতিবছর এনবিআরে ওই প্রতিষ্ঠান যে বার্ষিক কর বিবরণী জমা দেবে, সেখানে এই তহবিল থেকে কত টাকা, কোথায় খরচ হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানের কতজন কর্মীকে পেনশন বা গ্র্যাচুইটির টাকা দেওয়া হলো, তা জানা যাবে। এই তহবিলের টাকা অন্য খাতে খরচ হলে সেই তথ্যও প্রকাশ পাবে। টাকা লেনদেনের বিস্তারিত জানতে পারবে এনবিআর।

মালিকদের লাভ কী

মালিকদেরও লাভ আছে। গ্র্যাচুইটির তহবিলে মালিকপক্ষ কর্মীর মূল বেতনের বিপরীতে টাকা রাখেন। বছর শেষে এই টাকা আয়কর বিবরণী প্রস্তুত করার সময় খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, একটি প্রতিষ্ঠান তার ৫০০ কর্মীর বিপরীতে বছরে ১ কোটি টাকা গ্র্যাচুইটি হিসেবে রাখল। ওই প্রতিষ্ঠান নিজের আয় থেকে এই টাকা গ্র্যাচুইটি তহবিলে রাখে। কিন্তু বছর শেষে যখন ওই প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দেবে, তখন এই টাকা খরচ হিসেবে দেখাবে। এতে ওই ১ কোটি টাকার ওপর কোনো করপোরেট কর বসবে না।

একইভাবে প্রভিডেন্ড ফান্ডের ক্ষেত্রেও কর্মীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও সমপরিমাণ অর্থ প্রভিডেন্ড তহবিলে প্রতি মাসে রাখে। প্রতিষ্ঠানের সেই টাকাও করমুক্ত থাকবে।

গ্র্যাচুইটির টাকা কীভাবে হিসাব করা হয়

গ্র্যাচুইটি–সুবিধা হলো চাকরিজীবীর একধরনের সামাজিক সুরক্ষাসুবিধা। চাকরিজীবন শেষে গ্র্যাচুইটির টাকা কোথাও বিনিয়োগ করে সংসার চালান অনেক অবসরভোগী। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের গ্র্যাচুইটি–সুবিধা দেয়। কর্মীর জন্য প্রতিষ্ঠান এই টাকা আলাদা করে রাখে। অবসর নেওয়ার সময় কিংবা চাকরি ছাড়ার সময় চাকরির মেয়াদ অনুসারে গ্র্যাচুইটির টাকা হিসাব করা হয়। প্রথম দু-তিন বছর বাদে সাধারণত চাকরিজীবীর প্রতি এক বছরের জন্য দুই মাসের মূল বেতনের সমান গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এর ব্যতিক্রমও আছে।

 জানতে চাইলে এনবিআরের প্রথম সচিব (আয়করনীতি) ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন প্রথম আলোকে বলেন, গ্র্যাচুইটি ও পেনশন তহবিল এনবিআরের অনুমোদিত হলে প্রতিষ্ঠান ও কর্মী—উভয়েই লাভবান হবে। প্রতিষ্ঠানের কর কমবে, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আবার কর্মী যখন এই টাকা পাবেন, তখন তাঁকে কর দিতে হবে না।

৯৩ লাখ লোক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৭ অনুযায়ী, দেশের মোট ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন ৯৩ লাখ নারী-পুরুষ। আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ২০ লাখের মতো। বাকি ৭০ লাখ বেসরকারি খাতে কাজ করেন। যেহেতু আনুষ্ঠানিক খাতের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাঁদের গ্র্যাচুইটি, পেনশন, প্রভিডেন্ড ফান্ডসহ সব ধরনের সুবিধা থাকার কথা। তবে বহু প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করে সুবিধা সীমিত করে দেয়। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে দেড় লাখের মতো কোম্পানির নিবন্ধন আছে।

১১-৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছেঃ গণস্বাস্থ্যের কিট রোগ শনাক্তে...

করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয়: বিএসএমএমইউ

মহামারি করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত এন্টিবডি কিট কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএসএমএমইউ জানায়, এটি রোগ শনাক্তে কার্যকর নয়, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে।

করোনা শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয়। প্রথম দুই সপ্তাহে কিট ব্যবহার করে শুধু ১১-৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার কনক কান্তি বড়ুয়া।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বিএসএমএমইউ-এর মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া সম্প্রতি বলেন, কমিটির রিপোর্টই শেষ কথা। এটা আর অন্য কোনো কমিটিতে যাবে না।

এর আগে সকালে গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় অধ্যাপক শাহিনা তাবাসসুমের নেতৃত্বে গঠিত পারফরমেন্স কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রসঙ্গত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিয়ে শুরু থেকে অনেক বিতর্কের পরে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বা আইসিডিডিআরবিতে উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর গত ১৩ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে প্রথম দফায় কিট জমা দেয় গণস্বাস্থ্য। একইসঙ্গে পরীক্ষা খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা দেয় তারা। এরপরও বিভিন্ন সময় কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তে র‍্যাপিড টেস্টিং কিট দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে গত ২৫ মে জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত। বিএসএমএমইউর পরীক্ষায়ও ২৮ মে তাঁর করোনা পজিটিভ আসে। ১৩ জুন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত র‍্যাপিড ডট ব্লট কিটের পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা ‘নেগেটিভ’ আসে। পরে পিসিআর পরীক্ষাতেও তাঁর করোনা নেগেটিভ এসেছে। তিনি এখন করোনামুক্ত। তবে এখন তিনি নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী শিরীন হক এবং ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী সুস্থ আছেন। তাঁরা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে দুজনেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্ত্রী পরে করোনামুক্ত হন।

‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

শর্ত সাপেক্ষে পাবেন বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গেল ১৫ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত আগমনী (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) সুবিধা স্থগিত করে সরকার। এই সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়িয়ে সবশেষ ১৫ জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সুবিধা স্থগিত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব দেশের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সোনিয়া রহমান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, কভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকল দেশের নাগরিকদের জন্য জন্য বাংলাদেশে আগমনী ভিসি (ভিওএ) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত। তবে শুধুমাত্র বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশে আগমী ভিসা দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভিসা প্রার্থীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যুকৃত পিসিআর ভিত্তিক কভিড-১৯ মুক্ত স্বাস্থ্য সনদ (ইংরেজিতে অনুবাদকৃত)  দেখাতে হবে। সেই সঙ্গে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী যে বাংলাদেশে প্রকৃত বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ী এমন প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ইমিগ্রেশন কাউন্টারে জমা দিতে হবে।

বিদেশ ভ্রমণ কোটায় ১২ হাজার ডলারের পুরোটাই খরচ করতে পারবেন

আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড চালুর পথ খুললো

featured-image
ক্রেডিট কার্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও, তবে এর সুদের হার নিয়ে চলছিল অসন্তোষ
দেশে প্রথমবারের মত ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড চালু করার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড দিতে পারবে ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ডের মত এক্ষেত্রেও বার্ষিক ভ্রমণ কোটার ১২ হাজার ডলারের বেশি বিদেশে খরচ করতে পারবেন না গ্রাহক। এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে মঙ্গলবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ। এই বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে গিয়ে এই আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড দিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মতই কেনাকাটা, যাতায়াত, হোটেলের বিল পরিশোধসহ অনুমোদিত সবকিছু করা যাবে। সেজন্য বিদেশে যাওয়ার আগে বার্ষিক ভ্রমণ কোটার প্রাপ্য ডলার এন্ডোর্স করিয়ে নিতে হবে। “তবে বছরে একজন ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করা যাবে না। তবে সুবিধা হল, ক্রেডিট কার্ডে যেমন খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়, এক্ষেত্রে তা থাকবে না। নিজের অ্যাকউন্টে টাকা থাকলে গ্রাহক ভ্রমণ কোটার ওই ১২ হাজার ডলারের পুরোটাই খরচ করতে পারবেন।” যে অ্যাকাউন্টের বিপরীতে কার্ড ইস্যু হবে তাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হবে। সেখান থেকে ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে সমন্বয় করে নেবে। তবে কোনোভাবেই যেন গ্রাহক ভ্রমণ কোটার অতিরিক্ত বিদেশি মুদ্রা ব্যয় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড ইস্যুর সুযোগ দিলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংকের এ মুহূর্তে সেই সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি মালিকানার কয়েকটি ব্যাংকেরই কেবল এই কার্ড ইস্যুর উপযুক্ত প্রযুক্তি রয়েছে। তবে দেশি ব্যাংকগুলোও শিগগিরই নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করে নেবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে। বর্তমানে বিশ্বের যে কোন দেশে ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য বছরে মাথাপিছু সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ খরচ করতে পারেন বাংলাদেশিরা। একেই বার্ষিক ভ্রমণ কোটা বলা হচ্ছে। প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

উপসর্গহীনদের লালায় যে পরিমাণ করোনাভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই: ড....

গবেষণায় উপসর্গহীনদের লালায় যে পরিমাণ করোনাভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই: ড. বিজন

• যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন। • মাস দুয়েকের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে। • মাস্ক পরা আবশ্যক। • সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। • ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানও চেয়েছিল। • ইউরোপিয়ান কমিশনকে অনুরোধ করলে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে। • প্লাজমা থেরাপি ভালো, তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ‘জিআর-কোভিড-১৯ র‍্যাপিড টেস্ট’ কিট উদ্ভাবক বিজ্ঞানী-গবেষক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীলের থেকে মানুষের অনেক কিছু জানার আছে। জানার আগ্রহ আছে ড. বিজন সম্পর্কেও। দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে প্রথম কথা বলেছিলাম গত ৩০ মে। তিনি বলেছিলেন অনেক কিছু। কিন্তু পাঠকের আরও বহুকিছু জানার বাকি রয়ে গেছে। ফেসবুকে-ফোনে-ইমেইলে আমরা পাঠক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সে কারণে আবারও তার মুখোমুখি হয়েছিলাম গত ৭ জুন। বেশ কয়েকজন পাঠকের প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন ড. বিজন কুমার শীল। করোনা নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মনে আতঙ্ক এবং বহুবিধ প্রশ্ন। এটি কি দুর্বল হয়ে গেছে? নাকি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে? প্রাণহানির সংখ্যা কি আরও বাড়বে? মানুষের করণীয় কী? আমরা ঠিক কোন অবস্থানে আছি? আমার পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচ ধরনের মানুষ আছেন। প্রথম সেই সৌভাগ্যবান মানুষরা যারা এক সময় নিজেদের দুর্ভাগ্যবান মনে করতেন। তারা সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর এই রোগে আক্রান্ত হবেন না। কিছু মানুষ আছেন যারা আক্রান্তদের কাছ থেকে কিছুটা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। কিন্তু, তারা আক্রান্ত। আরেকটি গ্রুপ আছে যারা প্রকৃতি থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। তারা বাতাস বা পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের লক্ষণের পরিমাণ কম ছিল। হয়তো তাদের সামান্য জ্বর ছিল বা স্বাদ পাচ্ছিলেন না। করোনাভাইরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জানেন, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে মুখে স্বাদ থাকে না। এর কারণ হচ্ছে, জিহ্বায় যে স্বাদ বোঝার স্নায়ুগুলো থাকে তাতে এই ভাইরাস ইনফেকশন তৈরি করে। এমন যারা ছিলেন তাদেরও অনেকেই সুস্থ হয়ে গেছেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। তাদের আর সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরও একটি গ্রুপ আছে, যাদের শরীরে কোনো প্রকার লক্ষণ নেই। কিন্তু, তাদের লালাতে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এই মানুষগুলো আমাদের জন্য ভয়ের কারণ। তারা অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু, তাদের কথা বলার সময় বা বিভিন্ন ভাবেই থুতুর সঙ্গে ভাইরাসটি আমাদের মাঝে ছড়াচ্ছে। আর শেষ গ্রুপ হচ্ছে যারা এখনও ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসেননি। তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদেরও অনেকের মধ্যেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হবে, অনেকের হয়ত কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না। তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়াবে। যাদের বয়স একটু বেশি, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। এটা যেহেতু মহামারি আকার ধারণ করেছে, তাই আমরা কখনোই ভাবতে পারব না যে ভাইরাসটি থেকে আমরা দূরে থাকতে পারব। আমি মনে করি যারা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে আবার সুস্থ হয়েছেন তাদের যদি খুঁজে বের করতে পারি তাহলে ১০০ ভাগ লকডাউন থেকে মুক্তি হওয়া যাবে। আমাদের পুলিশ ভাইদের রাস্তায় দেখি গরমের মধ্যে পিপিই পরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এটা কিন্তু দুঃসহ। তাদের মধ্যে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। এটা সত্য যে অনেকের দেহেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে লক্ষণসহ, আবার অনেকেই আছেন যাদের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে বের করার জন্যে তো পরীক্ষা করতে হবে। আমাদের তো পরীক্ষার সক্ষমতা অত্যন্ত কম। আপনার কি ধারণা, আমরা  এই প্রক্রিয়াতে এত মানুষের পরীক্ষা করতে পারব? না পারার কোনো কারণ নেই। আমাদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন তাদের তো আমরা চিনি। তবে যাদের মধ্যে লক্ষণহীনভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল তাদের কিন্তু আমরা চিনি না। এই মানুষগুলোর শরীরে কিন্তু এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন র‌্যাপিড টেস্ট। এর মাধ্যমে খুঁজে বের করা যাবে কারা লক্ষণ না দেখিয়েও অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। এদের শনাক্ত করার উপায় আছে। কিন্তু তার জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার যে আমরা কি করতে চাই। এটা করা গেলে ১০০ ভাগ লকডাউন না করে কিছু মানুষকে সামনে আনা যাবে, যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। আপনাদের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, লেখালেখি, তর্ক হয়েছে। এখনও সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে। আপনি কি এখনও আশাবাদী যে আপনাদের কিটের সুফল দেশের জনগণ পাবে? আমি এখনও আশাবাদী। কারণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিকে এর ট্রায়াল চলছে, অপর দিকে আমরাও নিজেরা এখানে এর ট্রায়াল দিচ্ছি। আমরা আশা করি এই কিটটি আলোর মুখ দেখবে। এ দেশের মানুষ এই কিটের সুফল পাবে। এই কিটের মাধ্যমে আক্রান্তদের যেমন শনাক্ত করা সম্ভব তেমনি যারা আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ হয়ে গেছেন তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব। তাদের শনাক্ত করার মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্মুখ সারিতে এনে করোনা মোকাবিলায় কাজে লাগানো যেতে পারে। তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন। আমাদের কিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, আমরা অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি দুটোকেই একসঙ্গে শনাক্ত করি। থুতুর ভাইরাসটি অত্যন্ত মারাত্মক। হাঁচি দিলে যে ভাইরাসটি বের হয় তা বাতাসে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। কিন্তু, থুতুর মাধ্যমে যে ভাইরাসটি বের হচ্ছে তা মাটিতে পড়ে তার চারপাশে একটি বলয় তৈরি করে। যার মাধ্যমে এই ভাইরাস দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। ধুলা, পানি বা অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ জন্যই যারা সংক্রমিত হয়েছে কিন্তু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না তাদের শনাক্ত করা খুব দরকার। আমি মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ পরিকল্পনা করে এটা করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারা নির্ভয়ে সামনে এসে কাজ করতে পারেন। এমনকি তারা মাস্ক না পরেও কাজ করতে পারবেন। যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তাদের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কয়েকদিন আগে বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটে ত্রুটি নিয়ে। এ সম্পর্কে কি একটু বলবেন? আসলে আমাদের অ্যান্টিজেন কিটে কোনো ত্রুটি নেই। সমস্যা নমুনা সংগ্রহে। কিট আমরা নিয়মিত পরীক্ষা করে যাচ্ছি। আমরা পরীক্ষার জন্য যে কিট দিয়েছি, সেই একই লটের কিট আমরা রেখেছি। সমস্যা হচ্ছে লালা সংগ্রহ নিয়ে। রক্ত সংগ্রহ করার একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি আছে। কিন্তু, লালা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, লালা চাওয়া হলেও অনেকে লালার সঙ্গে কফ দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে লালা সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হলো। আশার কথা আমরা একটি পদ্ধতি বের করে ফেলেছি, যার মাধ্যমে যেখানেই লালা সংগ্রহ করা হোক না কেন প্রায় ৯০ শতাংশ সঠিকভাবে তা সংগ্রহ করতে পারবে। এটার ট্রায়াল আমরা দিয়েছি। প্রথমেই ডা. জাফরুল্লাহ স্যারের নমুনা নিয়েছি। ১০০ নমুনার ট্রায়াল আমরা করেছি এবং বেশ ভালো ফলাফল পেয়েছি। পরীক্ষার জন্য নতুন এই পদ্ধতি আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেব। এরই মধ্যে অ্যান্টিবডি কিটের ট্রায়াল সম্ভবত সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা অনুরোধ করেছি এর অনুমোদন দিতে। এর জন্য হয়তো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। একজন দর্শক আপনার কাছে প্রশ্ন করেছেন কোডিভ-১৯ কতদিন থাকতে পারে। সে বিষয়ে কোনো ধারণা করা যায় কিনা? ভাইরাসটি কতদিন থাকবে এটা বলা খুব মুশকিল। এই ভাইরাস যতদিন বাড়তে পারবে ততদিন থাকবে। যতদিন সে বাড়ার জন্য পর্যাপ্ত উপাদান পাবে ততদিন বাড়বে। যখন উপাদান পাবে না তখন আর বাড়বে না। মানুষের মধ্যে যত বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হবে ভাইরাসটি তত দ্রুত দুর্বল হবে, নির্মূল হবে। আমার ধারণা মাস দুয়ের মধ্যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে, যা ভেদ করে এই ভাইরাসটি আর সামনে এগোতে পারবে না। আপনি এর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভাইরাসটির তীব্রতা ইতিমধ্যে কমে গেছে। এই তীব্রতা বলতে কি বুঝিয়েছিলেন? ভাইরাসটি যে হারে ছড়াতে থাকে সেখানে কোনো বাধা পেলে তার তীব্রতা হারাতে থাকে। একটা পর্যায়ে সেভাবে আর আক্রমণ করতে পারে না। এটা ইউরোপে প্রমাণ হয়েছে। সেখানে ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশের যে তাপমাত্রা, এখানে বাতাসে হিউমিডিটি অনেক বেশি। এই ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং উচ্চ হিউমিডিটিতে টিকতে পারে না। আমার কাছে যেসব নমুনা এসেছে সেখানেও আমি কিছু বিষয় পেয়েছি। প্রথম দিকে ভাইরাসের যে অবস্থান ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে অচিরেই ভাইরাসটি তার শক্তি আরও হারাবে। আমরা এই ভাইরাসে তাণ্ডবলীলা থেকে মুক্তি পাব। আমাদের দেশে ক্রমশই বৃষ্টি বাড়ছে, হিউমিডিটিও বাড়ছে। আমরা কি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসটি নিয়ে যথাযথ গবেষণা করতে পেরেছি? আমাদের দেশে বেশ কিছু জিনোম সিকোয়েন্স হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক এবং নার্সরা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। এই সংখ্যাটা কম না। ইতালিতে হয়তো সংখ্যা আরও অনেক বেশি ছিল। ডাক্তারদের মৃত্যুর বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ কী? করোনা মোকাবিলায় একেবারেই সম্মুখে যারা থাকেন তারা হচ্ছেন চিকিৎসক এবং নার্স। তারা সার্বক্ষণিকভাবে ভাইরাসটি মোকাবিলা করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হয় মারা গেছেন। এই বিষয়টি কিন্তু নির্ভর করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সুরক্ষা ছিল কিনা, ভাইরাস সম্পর্কে তারা কতটা জানতেন বা কি করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে তাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। হতে পারে তারা অনেক সংবেদনশীল ছিলেন। ভাইরাসের পরিমাণের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। কারও শরীরে যদি এক লাখ ভাইরাস প্রবেশ করে আর কারও শরীরে যদি ১০ হাজার ভাইরাস প্রবেশ করে তাহলে দুজনের মধ্যে কিছু বেশ খানিকটা পার্থক্য হবে। এক লাখ ভাইরাস যে হারে বৃদ্ধি পেয়ে শরীরে ক্ষতি করবে, ১০ হাজার ভাইরাস তো আর সেই হারে করবে না। এসবের পাশাপাশি তাদের যদি অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেটাও একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আমি আশা করব যারা কাজ করছেন তারা আরও বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করবেন। একবার আক্রান্ত হলে আবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এই ব্যাপারটি অফিসিয়ালি শুনতে পাচ্ছি না কেন? ২০০৩ সালে যখন সার্স করোনাভাইরাস এলো তখন সেটা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়নি। মাঝে মার্স নামে মধ্যপ্রাচ্যে এসেছিল। এ ছাড়া প্রায় ১৭ বছর ভাইরাসটি ছিল না। ডেঙ্গু নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা না হওয়ার কারণে আমরা এ বিষয়ে অনেক কিছুই জানি না। আপনারা হয়তো লক্ষ করছেন, আমি কিন্তু এই ভাইরাসটি নিয়ে কাজ করছি। করোনা আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ স্যারেরও অনেক কাছে থাকি। কিন্তু আমি এখনও ভালো আছি। আমার ধারণা আমার ইমিউনিটি ২০০৩ সালেই তৈরি হয়েছে। অ্যান্টিবডি তৈরি হলে কতদিন একজন নিরাপদ থাকতে পারবেন? আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের ধারনার চেয়ে বেশি সক্রিয়। সাধারণত কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে তা এক বছরেরও বেশি সময় শরীরে থাকে। অন্তত এক বছর তো থাকবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি কিটের অনুমোদন দিয়েছে। আপনাদের কিট এবং এফডিএর অনুমোদিত কিটের মধ্যে পার্থক্য বা সামঞ্জস্য আছে কিনা? কোভিড ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বের করার অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। আমরা লালা থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করছি। এটা সম্ভবত এখন পর্যন্ত শুধু আমরাই করতে পেরেছি। অন্যগুলো থেকে আমাদের পার্থক্য এটাই যে আমরা অত্যন্ত কম সময়ে ফল পাচ্ছি। মাস্ক পরাটা কতটা জরুরি? কাপড়ের তৈরি মাস্ক কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে? মাস্ক পরা আবশ্যক। আমি মনে করি পরতেই হবে। আমি গণস্বাস্থ্য থেকে একটি মাস্ক ডিজাইন করেছিলাম যার তিনটি লেয়ার। কাপড়েরই তৈরি সেটাও। তিনটি লেয়ার ভেদ করে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না। এই মাস্কের সুবিধা হচ্ছে সাবান দিয়ে ধুয়ে ইস্ত্রি করে আবার পরতে পারবেন। যেকোনো মাস্ক পরলেই কাজ হবে তা নয়, মোটামুটি মানের মাস্ক পরতে হবে। কাপড়ের তৈরি তিন লেয়ারের মাস্ক অনেক ভালো কাজে দেবে। বাসায় থেকে কতটা সুস্থ থাকা সম্ভব? বাজার বা অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাসায় আনতেই হচ্ছে। ভাইরাসটি বাতাসেও থাকতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে বাসার জানালা দরজা বন্ধ করে থাকতে হবে। দুই চারটা ভাইরাস যদি বাতাসের সঙ্গে আপনার ঘরে আসেও তা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমার সবচেয়ে বেশি ভয় আমাদের পানি নিয়ে। পানির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি তাহলে আমাদের সুস্থ থাকা অনেকটাই সম্ভব। যদি দু-চারটা ভাইরাস শরীরে ঢুকেই যায় তাহলে সেটা ভ্যাকসিনের মত কাজ করবে। ধরে নিলাম আপনাদের কিট অনুমোদন পেয়ে গেল। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার কত দিনের মধ্যে আপনারা তা বাজারে দিতে পারবেন? লাখ লাখ মানুষের পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ কিট প্রয়োজন হবে তা তৈরির কাঁচামাল কি আপনাদের কাছে আছে? খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। আমরা অনুমোদন পেয়ে গেলেই পরের দিন কিট দিতে পারব না। এটা সম্ভব না। আমরা এখন যে অনুমোদন পেয়েছি তা হলো পরীক্ষামূলক কিট তৈরি করার। যখন বাজারে দেওয়ার জন্য আমরা কিটটি তৈরি করতে যাব তখন অনেক কাঁচামাল লাগবে। তার জন্য আলাদা অনুমোদন লাগবে। অনুমোদন পেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। আর সেই সঙ্গে কাঁচামাল আনতে আরও এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। কাঁচামাল পেয়ে গেলে প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কিট তৈরি করতে পারব। সেই ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়ে রেখেছি। শুধুমাত্র অনুমোদন পেলেই আমরা জনবল নিব এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেব। বেশ কিছু দেশ আপনাদের সঙ্গে কিটের জন্য যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছিলাম। সেগুলো কি অবস্থায় আছে? যোগাযোগ হয়েছিল। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, কানাডা থেকে আমাদের কাছে কিট চেয়েছে। জাপানের কাছে যখন কিট ছিল না তখন তারাও আমাদের কাছে চেয়েছিল। আরও কিছু দেশ যোগাযোগ করেছিল। বাজারের অন্যান্য কিটের থেকে আমাদের কিটের একটি পার্থক্য আছে। এটা ব্যবহার করলে বোঝা যায়। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যেহেতু সময় লাগছে, ফলে আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না। এই কিটটি নিয়ে আপনারা অনেক গবেষণা করেছেন, অর্থ লগ্নি করেছে। বাইরের অনেক দেশ আপনাদের কাছে এই কিট চেয়েছে। ধরেন, আপনাদের কিটটি অনুমোদন পেল না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন? অনুমোদন না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। আমাদের কিটটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা করছে। তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী আমরা তাদের অনুরোধ করেছি পরীক্ষার উপাদান সংরক্ষণ করার জন্য। যাতে প্রয়োজনে আমরা পুনরায় সেগুলো পরীক্ষা করতে পারি। আপনাদের কিট কি দেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করা সম্ভব? বাংলাদেশের আইন কি? অবশ্যই করা যায়। ইউরোপিয়ান কমিশনকে আমরা অনুরোধ করলে তারা কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দিতে পারে। আমি যখন সিঙ্গাপুরে কাজ করেছি, তখন সেই দেশের আগেই আমরা অনুমোদন নিয়েছিলাম ইউরোপিয়ান কমিশনের। আমরা চাইছি এই অনুমোদন আমাদের দেশ থেকে আসুক। আপনারা হয়ত জানেন, কিটের বিভিন্ন তথ্য আমরা সহজে প্রকাশ করতে চাই না। আমরা বিজ্ঞানীরা কখনোই ১০০ শতাংশ তথ্য প্রকাশ করি না। সব তথ্য কোথাও লেখাও থাকে না। এটা যদি দেশের থেকেই অনুমোদন পায় তাহলে আমাদের সাহস থাকে। প্লাজমা থেরাপি একটা বড় আলোচনার বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই থেরাপি নিয়ে খুব একটা ইতিবাচক অবস্থায় নেই। কিন্তু, আপনি এই থেরাপি নিয়ে ইতিবাচক। আপনার অবস্থানটা একটু পরিষ্কার করবেন? আমি আমার আগের অবস্থানেই আছি। যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন তাদের জন্য প্লাজমা থেরাপি খুবই দরকার। যেমন ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি যে অনেকটা সুস্থ আছেন তা এই প্লাজমা থেরাপির জন্যই। যাদের শরীরে অন্যান্য সমস্যা আছে তাদের পক্ষে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। এই ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সময় আপনি যদি কারও শরীরে অ্যান্টিবডি দিয়ে দিতে পারেন তাহলে তা অবশ্যই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে গ্রুপিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলব, সঠিক গ্রুপিং করে যদি রক্ত দেওয়া যায় তাহলে সেটা আরও ভালো। কারণ, রক্তের অ্যান্টিবডি ‘ভাইরাস যাতে বাড়তে না পারে’ তা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের প্লাজমা সেল অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রতি সেকেন্ডে তা দুই হাজার অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীরে আরেকটি সেল থাকে, তা হলো মেমরি সেল। এটি খুব দ্রুত প্লাজমা সেল তৈরি করে। যার কারণে প্লাজমা থেরাপি ভালো হলেও তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া। এর ফলে ত্রিমুখী আক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাবে অনেক কিছুই। তারা অনেক পরে অনেক কিছু স্বীকার করে। এখন তারা বলছে, উপসর্গ না থাকা রোগীরা সংক্রমণ ঘটায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিসের উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছে, আমি জানি না। এই বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছি। গবেষণায় প্রমাণ মিলছে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের লালায় প্রচুর পরিমাণে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। তাদের লালায় যে পরিমাণ ভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই। উপসর্গহীনরাও ভাইরাস ছড়ায়, তারা অবশ্যই সংক্রমণের কারণ। আমার ধারণা অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে। আমি মনে করি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিছু নয়। যদি হতো তাহলে আজ ভ্যাকসিন থাকত। ২০০৩ সালে সার্স করোনাভাইরাস এসেছিল। আজ ২০২০ সাল। এত দিনেও কেন করোনাভাইরাসে ভ্যাকসিন তৈরি হলো না? এই প্রশ্ন আমি তাদের বারবার করেছি। করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি কেউ প্লাজমা ডোনেট করতে পারবেন? নাকি এটা জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে? যাদের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা গিয়েছে তাদের শরীরে ২১ দিনের মধ্যেই খুব ভালো পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সুস্থ হওয়ার সাধারণত একমাস বা ৪৫ দিন পর প্লাজমা দিলে ভালো হয়। প্লাজমা ডোনেশনের আগে ডোনারের প্লাজমা খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যাদের খুব সামান্য পরিমাণে করোনা সংক্রমণ হয়েছে তাদের প্লাজমা এ ক্ষেত্রে কাজে দেবে না। কারণ তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি খুব কম থাকে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে এমন রোগী যদি বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হন তাহলে তার চিকিৎসা কী? এ বিষয়ে ভালো উদাহরণ ডা. জাফরুল্লাহ স্যার। তিনি দীর্ঘ দিন কিডনি ডায়ালাইসিস করছেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ওষুধ নিতে হয়। সে ধরনের পরিস্থিতি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে এমন রোগীদের সাবধানে থাকাই ভালো। মনের জোরটা অনেক বড় বিষয়। কখনো রোগকে ছাড়বেন না। করোনাকে আপনাকে জয় করতে হবে। একে কখনো ভয় পাবেন না। আপনার আশপাশ দিয়ে এটা চলে যাবে, আপনি টেরও পাবেন না। তবে সতর্ক থাকুন। আশপাশে যদি করোনা রোগী থাকে তাহলে সতর্ক থাকব কীভাবে? মাস্ক অবশ্যই পরবেন। আজকের শেষ প্রশ্ন। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কোথায় এবং কিভাবে করব? অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হচ্ছে না। বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার জন্য একমাত্র পিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বাংলাদেশে এখনও অনুমোদন পায়নি। করোনা চিকিৎসার জন্যে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কিট দিয়ে যা তিন থেকে পাঁচ মিনিটে করা সম্ভব। আশা করছি আমরাই প্রথম তা করতে পারব, অনুমোদন পাব। গণস্বাস্থ্যের প্রতিটি কর্মী এবং দেশের মানুষ আশা করছেন তারা এই কিটের সুফল পাবেন।

পুলিশের গোপন তথ্য ফাঁসের তদন্তে সাংবাদিক হয়রানি নয়

পুলিশের গোপন তথ্য ফাঁসের তদন্তে সাংবাদিক হয়রানি নয়

কামাল আহমেদ
করোনাকালে পুলিশ জনগণকে সেবা দেওয়ায় মানুষের প্রশংসা, সমর্থন পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ (যাঁরা পুলিশের সমালোচনা করতেন, তাঁরাও আজ পক্ষে বলছেন, ইত্তেফাক, ১৫ জুন ২০২০)। তাঁর এই কথায় কিছুটা সত্যতা যে আছে, তা মানতেই হয়। কিন্তু একই সঙ্গে এ কথাও বলতে হবে যে তাঁর কথায় তিনি পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন এত দিন তাঁর বাহিনীর এ ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। কী কী কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছিল, মহামারির কালে সেই অপ্রিয় আলোচনা তুলতে চাই না। বরং বাহিনীটির যাঁরা দায়িত্ব পালনের সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং যে কয়েক হাজার সদস্য অসুস্থ হয়েছেন, এখনো চিকিৎসাধীন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তবে এই সংকটকালেও তাঁদের যেসব পদক্ষেপ নিবর্তন বা হয়রানিমূলক এবং আইনসম্মত নয়, সেগুলোর বিষয়ে নীরব থাকা সম্ভব নয়। এ রকম একটি পদক্ষেপ, যাকে হয়রানি বা ভীতি প্রদর্শনও বলা চলে, তা হচ্ছে খবরের সূত্র জানার জন্য সাংবাদিকদের পুলিশের দপ্তরে তলব করা। সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে একজন সদ্য সাবেক যুগ্ম কমিশনার ইমাম হোসেনের ঘুষের অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে আইজিকে দেওয়া একটি চিঠির কথা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে শিরোনাম হয়েছে। আইজির কাছে ডিএমপি কমিশনারের লেখা ৩০ মের চিঠির বিষয়টি খবর হিসেবে প্রকাশ পায় ৫ জুন। একজন পদস্থ কর্মকর্তার অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজের খবর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর, সন্দেহ নেই। সুতরাং, অপরাধের বিচারের বদলে পুলিশ কর্তাদের কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে অপরাধের তথ্য কীভাবে ফাঁস হয়েছে, তা খুঁজে বের করা। ইংরেজি প্রবাদ ‘শুটিং দ্য মেসেঞ্জার’ অনুসরণের মতো তাঁরা এখন বার্তা প্রদানকারীকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। যে সাংবাদিকেরা খবরটি প্রকাশ করেছেন, তাঁদের এখন পুলিশি তদন্ত কমিটি তলব করেছে। আগামীকাল ও পরশু ডিএমপি সদর দপ্তরে যুগ্ম কমিশনারের (অপরাধ) নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য অন্তত অর্ধডজন সাংবাদিককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একজনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। পুলিশ এখনো এমন কোনো দাবি করেনি যে খবরটি মিথ্যা বা ভিত্তিহীন। বরং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিএমপি থেকে মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই বাহিনীতে কারও বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন ও অপরাধ করার অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত বা বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর মতো ব্যবস্থা নিতে প্রায় কখনোই দেখা যায় না। অন্য দপ্তরে বদলি বা দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারই হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের পছন্দ। আর বাহিনীর বাইরের কেউ এসব অভিযোগের তদন্ত করুক, তা তাঁরা হতে দিতে রাজি নন। অথচ অধিকাংশ গণতন্ত্রে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পালন করে পুলিশ বাহিনীর বাইরের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান—পুলিশ কমপ্লেইন্টস কমিশন বা স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি। সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ‘গোপন পত্রের তথ্যাদি’ প্রকাশের বিষয়ে ‘সুষ্ঠু অনুসন্ধানের নিমিত্তে’ নির্ধারিত সময়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। গোপন তথ্য কীভাবে প্রকাশ পেল, সে বিষয়ে পুলিশ বাহিনী অভ্যন্তরীণ তদন্ত করতেই পারে। তাতে আমাদের আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু সেই তদন্তে সাংবাদিকদের তলব করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের পদক্ষেপ স্পষ্টতই পুলিশের আইনবহির্ভূত ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রথমত, পুলিশের এত উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগের জনস্বার্থ-সম্পর্কিত গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং, খবর হিসেবে ওই তথ্য প্রকাশের যৌক্তিকতা প্রশ্নাতীত। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন ছাড়া কোনো অপরাধ করেননি। সুতরাং, তাঁদের কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা ও হয়রানি বৈ অন্য কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রচলিত আইনে সাংবাদিকদের কাছে তথ্যের সূত্র জানতে চাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা একজন সাংবাদিকের মৌলিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিষয়ে তদারকিমূলক অথবা আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া আছে যে প্রতিষ্ঠানকে, সেটি হচ্ছে প্রেস কাউন্সিল। এমনকি, সেই প্রতিষ্ঠানটিকেও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪-এ তথ্যের সূত্র জানতে চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের বিধানগুলো ওই আইনের ১৩ ধারায় বিস্তারিত আছে। সেই ১৩-এর ২ উপধারায় স্পষ্ট করা বলা আছে, কোনো সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক ও সাংবাদিককে প্রকাশিত তথ্যের সূত্র প্রকাশে বাধ্য করা যাবে না। ১৩-এর ৩ ধারায় বলা আছে, কাউন্সিলের তদন্ত ও বিচারকাজ বিচারিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং, বিচারিক কার্যক্রমে যা নিষিদ্ধ, সে রকম কিছু দেশের অন্য কোনো সংস্থার জন্য বৈধ হতে পারে না। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রত্যাশা, ডিএমপি সাংবাদিকদের তদন্তে হাজির হওয়ার যে চিঠি দিয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেবে। সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স, আরএসএফ মাত্র গেল সোমবার বিশ্বজুড়ে করোনাকালে সাংবাদিকতার জন্য নিগৃহীত ৩০ জন সাংবাদিককে করোনাকালের তথ্য-নায়ক হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। একজন হলেন কার্টুনিস্ট কিশোর, যাঁকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক রাখা হয়েছে। অপর বাংলাদেশি সেলিম আকাশ অবশ্য আটক আছেন জর্ডানে মহামারির সময়ে লকডাউনে প্রবাসীদের জীবন কীভাবে কাটছে, সেই খবর দেওয়ার অভিযোগে। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে প্রায় দুই মাসের অজ্ঞাতবাসের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক রাখার বিষয়েও দেশের ভেতরে-বাইরে প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। দেশের আরও কয়েকটি জেলায় কথিত মানহানির মতো ঠুনকো অভিযোগে আটক হয়ে আছেন আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। মুক্ত গণমাধ্যমের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে। আশা করি, মহামারির কালে পুলিশ বাংলাদেশকে শীর্ষ সাংবাদিক নিপীড়ক দেশে রূপান্তরের পথে ঠেলে দেবে না। কামাল আহমেদ, সাংবাদিক  

এয়ারলাইনসে ট্রাভেল করার আগে সেফটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন

Guidelines for safe travelটার্কিশ এয়ারলাইনস বা অন্যান্য এয়ারলাইনসে ট্রাভেল করার আগে সেফটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

https://youtu.be/kJJVVkCV-mQ

বিস্তারিত জানতে তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

https://www.turkishairlines.com/en-tr/guidelines-for-safe-travel/?utm_campaign=1861_EN&utm_medium=email&utm_source=crm&utm_content=en&utm_term=en

আমেরিকা রুটে আবার চালু হচ্ছে টার্কিশ এয়ারলাইনসঃ  অন্যান্য গন্তব্যগুলির মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যাবে এই এয়ারলাইন্স।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৯ জুন ও  ২৪শে জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের পথে যাত্রা শুরু করবে।

এই সকল রাউটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট চলবে। ১২ ই জুন এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইটে তা ঘোষণা করা হয়।

নিজস্ব ওয়েবসাইটের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিমান সংস্থা জানিয়েছে যে তারা ১৯ শে জুন থেকে সাংহাইয়ে সাপ্তাহিক বিমান শুরু করবে এবং ২৪ শে জুন থেকে হংকং ও সিওলে দু'বার সাপ্তাহিক বিমান চলবে।

১১ ই জুন থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনস  ব্রিটেন, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসে ফ্লাইট শুরু করেছে।

তরুণদের করোনায় আক্রান্তের হার বেড়েছে

তরুণদের করোনায় আক্রান্তের হার বেড়েছে

|জাকিয়া আহমেদ|

দেশে তরুণ ও যুবকদের করোনা আক্রান্তদের হার বেড়েছে। তবে মৃত্যুর হার বেশি ষটোর্ধ্বদের বেশি। নমুনা পরীক্ষা করা, ধূমপান, নিয়ম না মানার প্রবণতা, উপাজর্নক্ষম ব্যক্তি, লেখাপড়াসহ নানা কারণে তরুণদের বাইরে যেতে হয় বলে ২১-৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।  এছাড়া নারী-পুরুষ বিবেচনায় করোনা রোগীদের ২৯ শতাংশ নারী এবং ৭১ শতাংশ পুরুষ।

গত ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে মোট আক্রান্তের ১০ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব। ১৫ শতাংশ ৫১-৬০ বছর বয়সী, ১৮ শতাংশ ৪১-৫০ বছর বয়সী, ২২ শতাংশ ৩১-৪০ বছর, ২৪ শতাংশ ২১-৩০ বছর বয়সী এবং ১১-২০ বছর বয়সী আট শতাংশ। এছাড়া ১০ ও দশের নিচেও আক্রান্তের হার তিন শতাংশ।

প্রায় দেড় মাস পর ৬ জুন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে করোনাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২১-৩০ বছর বয়সীরা। তারপরেই রয়েছেন ৩১-৪০ বছর বয়সীরা। এপ্রিলে ২১-৩০ বছর বয়সীদের হার ২৪ শতাংশ থাকলেও এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ২৮ শতাংশ। এপ্রিলে ৩১-৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে ৪১-৫০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে সেটা ১৭ শতাংশ।  ৫১-৬০ বছরের বয়সীদের আক্রান্তের হার এপ্রিলে ১৫ শতাংশ ছিল, চলতি মাসে সেটা হয়েছে ১১ শতাংশ, ১১-২০ বছর বয়সীদের হার এপ্রিলে ছিল ৮ শতাংশ, যেটা এখন ৭ শতাংশ। আবার এপ্রিলে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হলেও এখন সেটা কমে হয়েছে ৭ শতাংশ। আর এক থেকে ১০ বছরের শিশুদের আক্রান্তের হার তিন শতাংশই রয়ে গেছে। তরুণ ও যুবকদের সচেতনতা ও সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তার মতে, তারা কর্মস্থলে বেশি থাকেন। ফলে তাদের বাইরে বেশি বের হতে হয়। তিনি বলেন, ‘কাজ কিংবা বয়স যে কারণেই হোক, তরুণরা সচেতনতা বা সতর্কতা ঠিকভাবে গ্রহণ করেন না। এজন্য ২১-৩০ এবং ৩১-৪০ বছর বয়সীদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আপনাদের কারণে পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’ তরুণরা নিয়ম মানছে না মন্তব্য করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘তরুণরা মাস্ক পরছেন না, সামাজিক দূরত্ব মানছে না, নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব একেবারেই মানছেন না।’ তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে কম বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ এই বয়সের রোগী বেশি। তবে এই চিত্র প্রকৃত চিত্র নয়। এইটা কোনও রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পল নয়। কষ্ট করে লাইন ধরে নমুনা দিতে পারার তালিকাতে তরুণদের সংখ্যা বেশি, বৃদ্ধদের নয়। তাই রোগী শনাক্তে তাদের হার বেশি, কিন্তু এই এই তালিকা কমিউনিটিতে কী হচ্ছে সেটা প্রকাশ করে না।’ আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তরুণরা পেশাগতসহ নানা কারণে বাইরে যেতে হয়। কিন্তু সিনিয়র সিটিজেনদের খুব একটা বের হতে হয় না।’ কম বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি কেন জানতে চাইলে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘সুশৃঙ্খল জীবন যাপন না করাই এর প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি। তারা সামাজিক দূরত্ব মানে না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়, কারও মুখে মাস্ক থাকে না, মাস্ক থাকলেও সেটা খুলে ফোন কথা বলছে, ধূমপান করছে, বাসায় ফিরে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। যার কারনে তরুণ-যুবকদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। তবে বিপদ হচ্ছে তরুণদের বোঝা উচিত তাদের কারণে ঘরে বৃদ্ধরা যারা আগে থেকেই অন্য রোগে আক্রান্ত তারা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। তরুণরা আক্রান্ত হলে হয়তো সারভাইভ করে যায়, কিন্তু বৃদ্ধদের সে সুযোগ নেই।’

চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখালে দায়ী ব্যক্তি আইনের আওতায়: হাইকোর্ট

চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখালে দায়ী ব্যক্তি আইনের আওতায়: হাইকোর্ট

পৃথক তিনটি রিটের উপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি ভার্চুয়াল বেঞ্চ দশ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে, প্রতিদিনই গণমাধ্যমের খবরে উঠে আসছে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। সেজন্য কোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনীহা দেখালে এবং তাতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে এ ঘটনা অবহেলাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাশপাশি এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নের্তৃত্বাধীন হাইকোর্টের  ভার্চুয়াল বেঞ্চ  সোমবার (১৫ জুন) যুগান্তকারী এই আদেশ দেন।

এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের বিশেষত ঢাকা মহানগর ও জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলাসহ বিভাগীয় শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ যাতে কোভিড-১৯ ও নন কোভিড সব রোগীকে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেসব নির্দেশনা প্রদান করেছে তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা এবং যদি না করে থাকে তাহলে সেসব ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কি ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তাও প্রতিবেদন আকারে ৩০ জুন হাইকোর্টকে অবহিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি রিটের উপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের এই ভার্চুয়াল বেঞ্চ দশ দফা নির্দেশনা জারি করে।

করোনাকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক স্মারকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবমত কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্মারকের ধারাবাহিকতায় ৫০ শয্যা ও তদুর্ধ্ব শয্যাবিশিষ্ট সব সরকারি ও বেসারকারি হাসপাতালসমূহে কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নিদের্শনা প্রদান করে হাইকোর্ট।

সার্বিক বিবেচনায় আদালতের নির্দেশনাসমূহ হল:

আইসিইউ ব্যবস্থাপনাকে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কর্যক্রমকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক ও বিস্তৃত করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে এ সেবা দ্রুত ও সহজভাবে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো হাসপাতালে আইসিইউ-তে কত জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিইউ শয্যা কি অবস্থায় আছে তার আপডেট প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন সেজন্য পৃথকভাবে 'আইসিইউ হটলাইন' নামে পৃথক হট লাইন চালু এবং হটলাইন নাম্বারগুলো প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষতঃ টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় মনিটরিং বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছে, আইসিইউ-এ চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগী চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।

হাইকোর্ট অক্সিজেনের মূল্য প্রদর্শনের বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছেন। অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আদালত আদেশে বলেছে, খুচরা বিক্রেতাদের অক্সিজেন সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য প্রতিষ্ঠান/দোকানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃত্রিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং রোগীর পরিচয়পত্র ব্যতীত অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রয় বন্ধের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। হাইকোর্ট, অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থা মনিটরিং জোরদার করতেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা পালনের প্রতিবেদন দিতে হবে। আদালত বলেছে, বর্তমান প্রেক্ষপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাসমূহ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ যথাযথ ভাবে প্রতিপালন করছে কিনা সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পর পর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রেরণ করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

ঐ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৫ দিন পর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এই আদালতে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৪ মে তারিখে জারিকৃত নির্দেশনা অনুসারে ঐ তারিখের পর ৫০ শর্য্যার অধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহে ১৫ জুন তারিখ পর্যন্ত কত জন কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ৩০ জুন আদালতে দাখিল করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে ৫০ শয্যার অধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের একটি তালিকা পাঠাতে হবে।

জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসহ পাঁচ আইনজীবীর দায়েরকৃত পৃথক তিন রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেয়।

‘ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার থেকে স্টার’, বাস্তব জীবনের নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুত

‘ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার থেকে স্টার’, বাস্তব জীবনের নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুত

সুচিস্মিতা তিথি
হৃত্বিক রোশান কিংবা শাহরুখ খানের মতো বলিউড সুপারস্টারদের পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই স্টার হিসেবে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তার জীবনের গল্পটা অনেকটা ছবির মতোই। পড়াশুনায় বরাবরই ক্লাসের প্রথম সারিতে ছিলেন সুশান্ত৷ ভারতের বিহারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। ২০০২ সালে মায়ের মৃত্যুর পর শোকাহত পরিবারটি দিল্লিতে পাড়ি জমায়। দিল্লি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (অল ইন্ডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রান্স এক্সাম) প্রবেশিকা পরীক্ষায় গোটা ভারতে সপ্তম স্থান অর্জন করেন সুশান্ত। ভারতের ‘ফিজিক্স ন্যাশনাল অলিম্পিয়ার্ডে’ বিজয়ীও হন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার যাত্রাপথে হঠাৎ থিয়েটার নিয়ে আগ্রহী হন সুশান্ত। মোটা মোটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বইয়ের ফাঁকে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। বলিউডে ‘স্বজনপ্রীতি’র জয়জয়কার— একথা জানা সত্ত্বেও নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত সব পরীক্ষায় সামনের সারিতে থাকা সুশান্ত হঠাৎ করেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অভিনয় ও নাচের ক্লাসে যোগ দেন। তার নাচের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ভারতের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার শামক দাভরের তাকে কমনওয়েলথ গেমসে ও ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার অনুষ্ঠানে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে পারফর্ম করার সুযোগ দেন। একজন ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার সুশান্ত মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ‘স্টার’ হিসেবে অসংখ্য অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চলে আসেন। মঞ্চে তার অভিনয় দেখে বালাজি টেলিফিল্মসের একজন কাস্টিং ডিরেক্টর মুগ্ধ হয়েছিলেন। নিজের প্রতিভার জোরেই তিনি জায়গা করে নেন টেলিভিশন ধারাবাহিকের পর্দায়। ‘কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’ ধারাবাহিকের নায়কের এক ভাই হিসেবে পর্দায় আসেন সুশান্ত। ছোট ওই চরিত্রটি কিছুদিন পর সরিয়ে দেওয়া হলেও দুর্দান্ত পারফর্মেন্স ও দর্শকপ্রিয়তার কারণে পরে তাকে আবারও ফিরিয়ে আনা হয়৷ পরবর্তীতে ‘পবিত্র রিশতা’ টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই অভিনেতা। ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন সুশান্ত। ব্যতিক্রম এই অভিনেতা কেবল প্রতিভার জোরেই একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়েছেন। শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স (২০১৩), পিকে (২০১৪), ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সি (২০১৫), এমএস ধোনি জীবনীচিত্র (২০১৬), কেদারনাথ (২০১৮), ড্রাইভ (২০১৯) সহ ১৬টি ছবিতে ছোট-বড় চরিত্রে অভিনয় করেন সুশান্ত। বলিউডের সবচেয়ে ব্যবসাসফল জীবনীচিত্র ‘এমএস ধোনি’তে সুশান্ত অভিনয় করেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধনীর চরিত্রে। ছবিতে তার দুর্দান্ত অভিনয় এখনো দর্শকমনে আলাদা জায়গা তৈরি করে আছে। তাকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ছিঁছোড়ে’তে। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আন্নির ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ছবিতে তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মহত্যা কোন সমাধান না।’ গতকাল রোববার মুম্বাইয়ে নিজের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুশান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাণোজ্জ্বল এই অভিনয়শিল্পীর এমন করুণ মৃত্যুতে যেন দুঃস্বপ্ন দেখছেন ভক্তরা। তার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনেতার পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। অভিনেতার আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি টুইটে বলেন, ‘সুশান্ত সিং রাজপুত... এক উজ্জ্বল তরুণ অভিনেতা, খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। টিভিতে ও ছবিতে তিনি নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিনোদন জগতে তার উত্থান অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বেশ কয়েকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমি শোকাহত।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সয়লাব হয়ে আছে ভক্তদের হাহাকারে। দ্য ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেইজে তার মৃত্যুর সংবাদে সানজিদা আলম নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘২০০৯ সালে আমি হিন্দি সিরিয়াল “পবিত্র রিসতা” দেখতাম। তখন থেকেই তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। সেটি তার সেরা কাজ ছিল না। কিন্তু ,সিরিয়ালের সেই দুর্বল কাহিনী দিয়েও সুশান্ত আমার হৃদয়ে জায়গা অর্জন করতে পেরেছিল। মৃত্যুর পর হয়তো তিনি শান্তি খুঁজে পাবেন।’ প্রাথমিকভাবে সুশান্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হলেও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধারণাকে জোরালোভাবে অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার শেষ পোস্টটি ছিল প্রয়াত মাকে নিয়ে। মায়ের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘চোখের জলে অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া অতীত। অন্তর্নিহিত স্বপ্নগুলো হাসির সিন্দুক খোদাই করছে। ক্ষণস্থায়ী জীবন নিয়ে চলছে দুজনের মধ্যে আলোচনা, মা...।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ বাড়ল ৬ আগস্ট পর্যন্ত – লাল জোনে অফিস বন্ধ...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ বাড়ল ৬ আগস্ট পর্যন্ত

লাল জোনে অফিস বন্ধ থাকবে ৩০ জুন পর্যন্ত

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ বাড়িয়ে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই আমরা এই সংক্রান্ত আদেশ জারি করবো।’ ‘গ্রীষ্মের ও ঈদুল আজহার ছুটি এই বন্ধের অন্তর্ভুক্ত থাকবে’, বলেন তিনি। করোনা মহামারির কারণে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর কারণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছ এইচএসসি পরীক্ষাও। একইসঙ্গে প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক ও মাধ্যমিকের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে।

করোনাভাইরাস বিস্তারের মাত্রা অনুসারে ঘোষিত লাল জোনের সব ধরনের অফিস বন্ধ রাখতে বলেছে সরকার। এই এলাকাগুলোর বাসিন্দাদেরকে এবং এসব এলাকায় যারা কাজ করেন তাদেরকেও এ সময় ছুটি পালন করতে বলা হয়েছে। আর, হলুদ ও সবুজ জোন হিসেবে ঘোষিত এলাকার অফিসগুলো সব ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। জোনভিত্তিক অফিস খোলা রাখার এই আদেশ ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের মোট পাঁচটি জেলার বেশ কিছু এলাকাকে লাল জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি। এর মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় এখন পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি এলাকা ও দক্ষিণের ২৮টি এলাকা লাল জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১১ এলাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে লাল জোনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘লাল জোন’ হিসেবে চিহ্নিত হলো যেসব এলাকা

ঢাকা উত্তর সিটি:

উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ১৭ এলাকাকে লাল জোন হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো: বসুন্ধরা, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রায়েরবাজার, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর। ঢাকা দক্ষিণ সিটি: দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকার মধ্যে আছে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা। চট্টগ্রাম সিটি: চট্টগ্রাম সিটির ১০ এলাকা রয়েছে লাল জোনের মধ্যে। সেগুলো হলো, চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। আরও তিন জেলা: ঢাকার বাইরের তিন জেলার মধ্যে গাজীপুরের সব কটি উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর নরসিংদীর সদর মডেল থানা, মাধবদী ও পলাশ রয়েছে লাল জোনের মধ্যে।

মহামারি কোভিড-১৯: নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে যা জানা জরুরি

মহামারি কোভিড-১৯: নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে যা জানা জরুরি

কোভিড-১৯ মহামারি প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এখনো ধ্বংসলীলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষের অসুস্থতা হয়ে পড়ার শঙ্কা আরও বাড়ছে। গরমের তীব্রতার মধ্যে বিশাল বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, অফিস এবং বাসার মধ্যে থাকাও অসহনীয় হয়ে উঠছে। চলমান কোভিড-১৯ এর এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের শীতল রাখতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার কতটুকু নিরাপদ সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্ক চলছে। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আসুন জেনে নেই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ে কীভাবে নিরাপদে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কিত কিছু নির্দেশনা।

কোভিড-১৯ মহামারিতে এসি চালানোর নির্দেশিকা

আমাদের উপমহাদেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে, করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন কীভাবে নিরাপদে এসি চালাবেন সে সম্পর্কে কিছু নির্দেশনার সুপারিশ করেছে আইএসএইচআরএই (দ্য ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স)। বাংলাদেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানায়, অফিসে ও অন্যান্য স্থানে এসি ব্যবহারের জন্য এ পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারে।

যথাযথ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ঠিক করুন:

কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন আপনার ঘরের এয়ার কন্ডিশনের আদর্শ তাপমাত্রা কী হবে? আইএসএইচআরএই এবং সিপিডব্লিউয়ের সুপারিশ অনুসারে, কোনও ঘরের এসি যেমন রুম এসি, স্প্লিট এসি বা উইন্ডো এসির জন্য তাপমাত্রার ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। সেইসাথে, ঘরের ভেতরে যথাযথ আর্দ্রতা ঠিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছে আইএসএইচআরএই। আপনার স্মার্টফোনে যেকোন ‘ওয়েদার অ্যাপ’ ডাউনলোড করে নিয়ে আপনার বসবাসের স্থানটির আর্দ্রতা সহজেই মেপে নিতে পারেন। আইএসএইচআরএই তাদের দেয়া নির্দেশিকায় বলছে, যে বাসা বা অফিসের ভেতরের আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। অতএব, আপনি আর্দ্র আবহাওয়ায় বাস করে থাকলে আপনার এসি ‘কুল’ মোডে রাখুন এবং তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তার কাছাকাছি রাখতে হবে। আর, আপনি শুষ্ক আবহাওয়ার অঞ্চলে বাস করলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা এর কাছাকাছি রাখতে হবে।

বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করুন

আইএসএইচআরএই তার প্রতিবেদনে বলছে, শুকনো বায়ুতে আমাদের ফুসফুসের শ্লেষ্মা ঝিল্লি শুকিয়ে যায়। যা কোষের আস্তরণের ওপরে তরলকে ঘন করে ফেলে এবং আমাদের দেহে থাকা সিলিয়ার (ছোট চুল যা ফুসফুসে ক্ষতিকারক এবং অন্যান্য কণা আস্তর পড়া থেকে রক্ষা করে)কার্যক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে, এলিয়েন কণা আমাদের ফুসফুসের আরও ভেতরে চলে যেতে পারে। আইএসএইচআরএই বলছে, এমন শুকনো আবহাওয়ার অঞ্চলে এ জাতীয় পরিস্থিতি রোধে  এসির বায়ু সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানোর পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ঘরের ভেতরের গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেয়ার জন্য ফ্যানও ব্যবহার করতে পারেন। তবে, আপনি অন্দর বাতাস ভালো রাখতে ঘন ঘন ফ্যানের পাখা পরিষ্কার করতে হবে।

বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন:

এসি ব্যবহারের সময় কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? বাসার ভেতরের বাতাস বের করে দেয়া এবং বাইরের সতেজ বায়ু ভেতরে আসার সুযোগ করে দিতে জানালার কপাট কিছুটা খোলে রাখার পরামর্শ দেয় আইএসএইচআরএই। আপনি যখন কোনো ঘরের ভেতরে অবস্থান করবেন, শীতল বাতাসের ক্রস সার্কুলেশনের জন্য বিপরীত দিকে থাকা জানালাটি কিছুটা খোলা রাখুন। যদিও জানালা বা দরজা খোলা রাখলে আপনার এসির কক্ষ ঠান্ডা কম হবে এবং মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের পরিমান কিছু বেশি হবে। তারপরও এটি আপনার অন্দরের বাতাসকে প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করবে।

আপনার এসির ফিল্টার ঠিক রাখুন:

ইব্যাপুরেটিভ কুলার বা ডেজার্ট কুলার ব্যবহারে আপনার কোন ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য, ধূলিবালি থেকে দূরে থাকতে এবং অন্দরের পরিবেশের স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে ইব্যাপুরেটিভ কুলারের এয়ার ফিল্টার ঠিক করে রাখতে পারেন। তবে, আপনার কুলার সঠিক বায়ুচলাচলে সহায়তা করতে বাইরের বাতাস আসার সুযোগ রাখুন। আর্দ্রতা কমাতে বিপরীতমুখী জানালা ও দরজা অবশ্যই কিছুটা খোলা রাখতে হবে। শেষ করার আগে, প্রকৌশলী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস চলাকালীন সময়ে আবাসিক বাসস্থানে উইন্ডো এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার নিরাপদ হতে পারে। তবে, আপনি সেন্ট্রাল কুলিং কোনো বিল্ডিংয়ে বসবাস করেন তাহলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি করোনা সংক্রামিত কোনো ব্যক্তি ভবনের ভেতরে থাকে, তবে সেন্ট্রাল এয়ার কুলারে যদি  বহিরাগমন বায়ুচলাচল, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, এসি ফিল্টারিংয়ের পদ্ধতি যথাযথভাবে না নেয়া হয় তবে এর মাধ্যমে সেখানে থাকা অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত শপিংমল, সরকারি অফিস, হাসপাতাল, করপোরেট অফিস, শিল্প-কারখানা ইত্যাদিতে এ ধরনের সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই, এসব স্থানে যাওয়ার আগে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবুন!
  • ইউ.এন.বি নিউজ
  • রিফাত তাবাসসুম

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.