Home Authors Posts by Ekush News Desk

Ekush News Desk

5140 POSTS 0 COMMENTS

২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেনঃ তরুনরা এই নতুন...

২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত, মৃত্যুহারে ঝুঁকিতে ষাটোর্ধ্বরা

[caption id="attachment_24360" align="aligncenter" width="720"] রূপায়ণ সিটি ভূইগড়ের রেডজোনে সোমবার মধ্যরাতে তরুনেরা - একুশ[/caption]

দেশে সবচেয়ে বেশি ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর বেশি মৃত্যু হয়েছে যাদের বয়স ৬১ বছরের বেশি। এছাড়া নারী-পুরুষ বিবেচনায় কোভিড-১৯ রোগীদের ২৯ শতাংশ নারী ও বাকি ৭১ শতাংশ পুরুষ।

শুক্রবার (৫ জুন) করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শনাক্ত রোগীদের বিশ্লেষণে ওপরের তথ্যগুলো জানান। তিনি বলেন, ‘গত ৪ জুন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আর মৃত্যু বেশি হচ্ছে ষাটোর্ধ্বদের।’

বয়স বিবেচনায় শনাক্তের হার (৫ জুন পর্যন্ত) * ৬০ বছরের বেশি: ৭ শতাংশ * ৫১-৬০ বছর: ১১ শতাংশ * ৪১-৫০ বছর: ১৭ শতাংশ * ৩১-৪০ বছর: ২৭ শতাংশ * ২১-৩০ বছর: ২৮ শতাংশ * ১১-২০ বছর: ৭ শতাংশ * ১-১০ বছর: ৩ শতাংশ। কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। এরপরেই ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি (২৭ শতাংশ)। এসব বয়সীদের বেশি সচেতনতা ও সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি মনে করেন, তারা কর্মস্থলে বেশি থাকেন। ফলে তাদের বাইরে বেশি বের হতে হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘কাজ কিংবা বয়স যে কারণেই হোক, তরুণরা সচেতনতা বা সতর্কতা ঠিকভাবে গ্রহণ করেন না। এজন্য ২১ থেকে ৩০ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করি। আপনাদের কারণে পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’ বয়স বিবেচনায় মৃত্যুর হার * ১-১০ বছর: দশমিক ৮২ শতাংশ * ১১-২০ বছর: ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ * ২১-৩০ বছর: ৩ দশমিক ৪ শতাংশ * ৩১-৪০ বছর: ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ * ৪১-৫০ বছর: ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ * ৫১ থেকে ৬০ বছর: ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ * ৬১ বছরের বেশি: ৩৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ষার্টোর্ধ্বদের মধ্যেই মৃত্যুর হার বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই বয়োজ্যেষ্ঠদের অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি এবং জিংক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। তার মন্তব্য, শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়ামসহ মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে হবে। বাইরে বের হলে আবশ্যকভাবে মাস্ক পরতে বলেছেন অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তার পরামর্শ, বারবার সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার পাশাপাশি জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনার ওপর পরিবারের অন্যদের সুস্থ থাকা নির্ভর করছে। কাজেই সতর্ক ও সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন।’

ভারতের ৫০ কোটি ডলারের ত্বক ফর্সাকারী পণ্য বাজার!

ভারতের ৫০ কোটি ডলারের ত্বক ফর্সাকারী পণ্য বাজার!

আর এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় তারকাদের দেখানো হয়, যারা এই ক্রিম ব্যবহার করে ত্বক সাদা করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, এই তারকাদের মতো তারাও উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে চলছে আন্দোলন। 'ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার' স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে মিছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদী পণ্য বিক্রি বাড়াতে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বুনে দেওয়া হয়েছে বর্ণবাদী চিন্তা।

এই পণ্যের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ত্বক ফর্সা বা সাদা করার ক্রিম। বাংলাদেশ, ভারত তো বটেই, এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও ত্বক ফর্সা করা ক্রিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এসব পণ্যের প্রচারে প্রায়শই ভালো চাকরি, সাফল্য, বিয়ের মতো বিষয়গুলোর জন্য ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম অত্যন্ত জরুরি বলে প্রচারণা চালানো হয়। এসব ক্রিমের বিজ্ঞাপনগুলোয় প্রায়ই এরকম কথা প্রচার করতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য হয় এরকম - ভালো চাকরির জন্য চাই 'সাদা ত্বক'৷ আপনার যে যোগ্যতাই থাকুক না কেন, যদি ত্বক ফর্সা করতে পারেন, তবেই আত্মবিশ্বাস আসবে৷ আর তাই সাক্ষাৎকার দেবার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কালো মেয়েরা ব্যবহার করুন ত্বক ফর্সা করা ক্রিম৷

আর যদি বিয়ের প্রশ্ন হয়, তবে তো কথাই নেই৷ বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় ছেলেদের সবসময় পছন্দ ফর্সা মেয়ে। ফলে বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে চিন্তিত, ভাবেন কীভাবে তাদের সামান্য চাপা গায়ের রঙের মেয়েটির ত্বক আরো ফর্সা করে তুলবেন! আর উদ্ধারকারী হিসেবে তখনই হাজির করা হয় ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমকে৷ বলা হয় এই ক্রিম ব্যবহারে ত্বক দ্রুততম সময়ে ফর্সা হয়ে যাবে।

এক ভারতেই বর্তমানে ত্বক ফর্সাকারী এইসব পণ্যের বাজার রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ত্বক ফর্সা করে তথাকথিত সুন্দর হওয়ার চেষ্টা?

অনেকে মনে করেন ভারতীয়দের মধ্যে ত্বক ফর্সা করার এই ধারণাটি এসেছে মূলত বর্ণপ্রথা থেকে। সাধারণত ব্রাহ্মণ বা উঁচু জাতের লোকদের ত্বক ছিল ফর্সা আর নিঁচু জাতের মানুষের ত্বক চাপা। এমনকি ভারতের চলচ্চিত্রগুলোতেও গায়ের রঙের এমন তারতম্য দিয়ে উঁচু-নিচু জাতের পার্থক্য দেখানোর প্রবণতা এখনো বজায় আছে।

অন্য আরেকটি কারণেও এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ফর্সা ত্বক প্রীতি এসেছে। অনেক বছর এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ব্রিটিশদের অধীনে ছিল৷ ব্রিটিশদের ত্বক ছিল সাদা এবং তারা এখানে এসেছিল দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে। তাই সাদা ত্বকের প্রতি ভক্তি তখন থেকেও।

ভারতবর্ষসহ এশিয়ার অঞ্চলগুলো মূলত গ্রীষ্মপ্রধান, এখানে বছরের বেশিরভাগ সময়ই গরম আর তীব্র রোদ থাকে। এই অঞ্চলের মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় রোদে কঠিন পরিশ্রম করে থাকে, যার কারণে তাদের ত্বকের রঙ কালো হয়। বিপরীতে ফর্সা ত্বক সমাজে বহুকাল ধরেই সমাদৃত। বর্ণ প্রথায় আগেই উচ্চবর্ণ বলে স্বীকৃত। আর ভারতীয় সমাজে উচ্চবংশীয়দের রোদে পুড়ে মাঠেঘাটে কাজ করতে হয় না। শ্রমিকশ্রেণীকে সব সময়ই খোলা আকাশের নিচে রোদজলে পুড়তে হয়। ফলে এভাবেও এখানে গায়ের রঙ নির্ধারিত হয়ে পড়ে। সুন্দর, ফর্সা ত্বকের আকাঙ্ক্ষারও জন্ম এখান থেকেই।

ত্বক ফর্সাকারী পণ্যের প্রচারণায় উজ্বল ত্বকের এই ধারণা এখন শুধু মেয়ে নয় ছেলেদের মধ্যেও বিরাজমান৷ তাই ছেলেদের জন্য ত্বক ফর্সা করার ক্রিমও বেশ কিছুদিন হলো বাজারে এনেছে কোম্পানিগুলো৷

আর এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় তারকাদের দেখানো হয়, যারা এই ক্রিম ব্যবহার করে ত্বক সাদা করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, এই তারকাদের মতো তারাও উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান। কিন্তু বাস্তব জীবনে তারকারা কি এই রঙ ফর্সা করার প্রসাধনী ব্যবহার করেন!

সূত্র: টিআরটি

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন থেকে চীনা যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স নিষিদ্ধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন থেকে চীনা যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স নিষিদ্ধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন থেকে চীনা যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিমান চলাচলের কথা রয়েছে। খবর-সিএনবিসি। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন সংস্থার পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। এটি ১৬ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, করেনা মহামারী নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে দুই শক্তিশালী অর্তনীতি সমৃদ্ধ দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক অবনতি হয়। চীনকে শাস্তি স্বরুপ এমন আদেশ জারি করা হয়েছে। এই আদেশটি এয়ার চায়না (৬০০১১১১ এসএস), চীন ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স কর্পরেশন, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স কোম্পানি (৬০০০০২৯ এসএস) এবং হায়ানান এয়ারলাইন্স হোল্ডিং কোম্পানি (৬০০২২১ এসএস)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে ডেলটা এয়ার লাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স করোনা পরিস্থিতিতে বিরতি দিয়ে এ বছরেই বেইজিংয়ের সঙ্গে পুনরায় বিমান চলাচল শুরুর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। খবরে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর সময়েও চীনা বিমান পরিবহন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ফ্লাইট নিয়মিত চালিয়ে গেছে। বুধবার ডেলটা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা আমাদের অধিকার প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পদক্ষেপের সমর্থন ও প্রশংসা করছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Trump administration bans Chinese passenger airlines from flying to U.S.

আঙুলের নখ খান? ভাবতেও পারবেন না কী হবে!

মনের সুখে কিংবা দুঃখে আঙুলের নখ খান? ভাবতেও পারবেন না কী হবে!

[caption id="attachment_24416" align="aligncenter" width="1024"] Photo credit: Steven Vacher on VisualHunt / CC BY-NC-ND[/caption] এক্সক্লুসিভ ডেস্ক:  আপনি মনের সুখে অথবা দুঃখে মুখের মধ্যে পুরে দিলেন আঙুল! কা'মড়ে কে'টে নিলেন নখ বা আঙুলের চার পাশের চামড়ার একটুখানি! এরকম সময়ে হামেশাই কেউ না কেউ বলে থাকেন, এই বদ অভ্যেসটা ছাড়তে! কখনও কখনও উপদেশের সঙ্গে জুটে যায় মৃদু বকুনিও! তখন যিনি ব্যাপারটাকে বদ অভ্যেস বলছেন, তার উপর একটু বিরক্তি এসে যায়। বিরক্তি এলে তাঁদের আমরা হয় এড়িয়ে যাই, নয় তো তাঁদের উপস্থিতিতে দাঁত দিয়ে নখ কা'টা বা আঙুলের চার পাশের চামড়া ছেঁ'ড়াটা থামিয়ে দিই! তার পর আবার যে কে সেই! ব্যাপারটা বদ অভ্যেস জেনেও! কিন্তু, বদ অভ্যেস কেন? সেটা কি কেউ বলেছেন? সেই রহস্যই এবার ফাঁ'স করল এক বিদেশি পত্রিকা। বলল, এই বদ অভ্যেসটার পোশাকি নাম ডার্মাটোফেজিয়া। কী এই ডার্মাটোফেজিয়া? বিদেশই ওই পত্রিকার বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত উদ্বে'গ থেকে এই দাঁত দিয়ে নখ কা'টা বা আঙুলের চার পাশের চামড়া কা'টার বদ অভ্যেস তৈরি হয়। খুব ছোট বয়স থেকেই। সেটাকেই চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হচ্ছে ডার্মাটোফেজিয়া।তা, দীর্ঘ দিন যদি এই অভ্যেস বজায় থাকে, তাহলে কী হয়? সেখানেই আসল সমস্যা! কী হয়, জানলে আঁ'তকে উঠবেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধ'রে এভাবে নখ এবং চার পাশের চামড়া কা'টতে কা'টতে এক সময়ে নেল বেড ন'ষ্ট হয়ে যায়। মানে, নখের নিচে যে নরম চামড়ার আ'স্তরণ থাকে, তা আর তৈরি হয় না। নখ তখন বসে যেতে থাকে ত্বকের গভীরে। ব্যাপারটা কতটা ব্য'থাদায়ক, বুঝতে পারছেন আশা করি! এখানেই শেষ নয়। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে কা'মড়ে আঙুলের মাথার কাছটা বেশ ক্ষ'তবি'ক্ষ'ত করে ফে'লেছেন। এ সব ক্ষেত্রে জীবা'ণু সং'ক্রমণের একটা আশ'ঙ্কা থেকে যায়। পাশাপাশি, মুখের লালা থেকেও হতে পারে ব্যাকটেরিয়া সং'ক্রমণ।সে রকম হলে? আঙুল কে'টে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। তাই, উদ্বে'গকে প্রশ'মিত করতে শেখাই বরং ভাল হবে! খামোখা অ'ঙ্গহা'নি কে বা চান!

সংবাদ প্রতিদিন

দেশের ৩০-৪০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে: ড. বিজন

দেশের ৩০-৪০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে: ড. বিজন

দেশের ৩০-৪০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে: ড. বিজন
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের ধারণা, দেশে করোনার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। আগামী এক মাসে করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।
শনিবার (৩০ মে) রাতে একটি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে তিনি তার এ ধারণার কথা তুলে ধরেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের দেশে এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেছেন। তবে তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তারা যে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা হয়তো জানেন না। হয়তো সামান্য জ্বর হয়েছে, কাশি হয়েছে, দুর্বলতা অনুভব করেছেন। ইউরোপ-আমেরিকাকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে করোনাভাইরাস। সে তুলনায় সরকারি-বেসরকারি হিসাব মেলালে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব সেই আকারে দেখা যাচ্ছে না, এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। ইউরোপের মানুষের ইমিউন ব্যবস্থা ‘স্ল্যাগিশ’। ইউরোপে যখন করোনা সংক্রমিত হয় তখন তাপমাত্রা কম ছিল এবং বাতাস চলাচলও কম ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের তীব্রতা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কমে গেছে। এখানে ইমিউন সিস্টেমসহ কিছু বিষয় কাজ করেছে। তবে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস যদি জানুয়ারিতে আসত তাহলে এর তীব্রতা আরও বেশি হতো। মার্চে যেহেতু এসেছে, সে কারণে এখানে এর তীব্রতা কম দেখা যাচ্ছে। বিজন কুমার শীল বলেন, হার্ড ইউমিনিটিতে পৌঁছাতে হলে ৮০ ভাগ মানুষকে আক্রান্ত হতে হবে। যা আগামী এক মাসের মধ্যে ঘটতে পারে বলে আমি মনে করি। হার্ড ইমিউনিটি হচ্ছে এক ধরনের ‘কমিউনিটি ইমিউনিটি’, যখন সমাজের অনেক বেশি জনগোষ্ঠীর মাঝে কোনো সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই কিংবা দুর্বল, তাদেরও ওই রোগ হতে পরোক্ষভাবে সুরক্ষা দেয়া যায়। তিনি বলেন, করোনা যেহেতু ছড়িয়েছে, সেহেতু আমরা যতই ঘরে লুকিয়ে থাকি, কাউকেই ছাড়বে না। ঝড় হলে যেমন প্রত্যেক গাছকেই টাচ করে যায়, করোনাও আমাদের প্রত্যেককে আক্রান্ত করবে। এক্ষেত্রে যাদের বয়স বেশি, অন্য অসুস্থতা আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। যারা শক্ত-পোক্ত, মনোবল দৃঢ়, তাদের ভয় কম। করোনার এই দুঃসময়ে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মনে চলার পাশাপাশি মনোবল দৃঢ় রাখার পরামর্শ দেন। ড. বিজন বলেন, মনোবল শক্ত থাকলে ইমিউন সিস্টেম দৃঢ় হয়, তাতে ভাইরাস ততটা শক্ত আক্রমণ করতে পারে না। তাছাড়া নিয়ম করে গার্গল করতে হবে। ভিটামিন সি খেতে হবে, জিঙ্কসহ।

নতুন বাস্তবতায় পুরনো রূপে ফিরেছে ঢাকা

নতুন বাস্তবতায় পুরনো রূপে ফিরেছে ঢাকা

কেউ আপাদমস্তক সুরক্ষা সামগ্রীতে মুড়ে, কেউবা মাস্ক ও গ্লাভস পরে রাস্তায় নেমে এসেছেন নতুন বাস্তবতায়। আর তাদের পদভারেই স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী। যদিও গণপরিবহন চালু না হওয়ায় প্রথম কর্মদিবসে ছন্দপতন হয়েছে অনেকের। বাহন না থাকায় অফিসগামী মানুষের জন্য অঘোষিত লকডাউন শেষে প্রথম সকালটি ছিল ভোগান্তির। বিকল্প হিসেবে যারা গাদাগাদি করে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়েছেন তাদের জন্য ছিল স্বাস্থ্যঝুঁকিও। আর মিটারের অতিরিক্ত টাকা গুনাতো পুরানো কাসুন্দি।

৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পরে রাজপথের দীর্ঘ যানজট সামাল দিতে আবারও হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। সবার কাছে পিপিই, মাস্ক আর গ্লাভস এখন দৈনন্দিন চলার পথের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সোমবার চালু হবে রাজধানীর গণপরিবহন। ৬০ ভাগ বেশি ভাড়াগুণে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার মূল্য চুকাতে হবে যাত্রীদের। তারপরও যাত্রা ঝুঁকিমুক্ত হবে কিনা সে সংশয় রয়েই গেছে নগরবাসীর মনে। https://youtu.be/Rl_QAd-v7Ds  

সংকটাপন্ন খোরশেদের স্ত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি

সংকটাপন্ন খোরশেদের স্ত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জে করোনাসহ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৬১ জনের মরদেহ দাফন করে দেশব্যাপী আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি তার ও তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। রোববার (৩১ মে) বিকেলে খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনার অবস্থা বেশি খারাপ হলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নারয়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ কাঁচপুরে অবস্থিত সাজেদা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান খোরশেদ। তবে রাতে আইসিইউ সাপোর্ট চাইলেই সেটি সম্ভব হয়নি। সাজেদা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার (পিআরও) ওবায়দুল্লাহ জানান, এমপি সাহেব সকাল থেকেই কয়েকবার ফোন দিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর রেখেছেন। তার স্ত্রীকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া, সকাল থেকেই বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তর থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার ও তার স্ত্রীর খোঁজ-খবর রাখছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর রাখছেন। খোরশেদ জানান, আমার স্ত্রী অবস্থা সংকটাপন্ন। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার ৯০ শতাংশ শ্বাসকার্য এখন অক্সিজেন সাপোর্টে সম্পন্ন হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সুস্থতা কামনা করি। গত ২৩ মে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা। তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদিকে, শনিবার (৩০ মে) নিজেও করোনায় আক্রান্ত হন খোরশেদ। গত ৮ এপ্রিল শহরের জামতলা এলাকায় আফতাবউদ্দিন (৬০) নামে বৃদ্ধের মরদেহ পড়েছিল বাড়িতে। মৃত্যুর পর মরদেহ ফেলে পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন একজন। এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মৃত্যুভয়কে আলিঙ্গন করে মৃতের মরদেহ তুলে নেন কাঁধে। মকাসদাইর কবরস্থানে নিয়ে গোসল দেয়ার পর তিন সহযোগীকে নিয়ে জানাজা পড়েন। এরপর নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফন করেন। শুধু আফতাবউদ্দিন নয়, নিজ ওয়ার্ডে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এমন ৬১ জনকে দাফন করেছেন তিনি। সনাতন ধর্মের মারা যাওয়া কয়েকজনের মুখাগ্নীও করেছেন নিজহাতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসা এই জনপ্রতিনিধি ইতোমধ্যে ‘করোনা বীর’ উপাধী পেয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন মানবতার ফেরিওয়ালা। করোনার আগ্রাসনের শুরু থেকেই মানুষকে শুধু সচেতন করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। নিজ উদ্যোগে স্ত্রী-সন্তান, স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে রাতের পর রাত জেগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন, বিলি করেছেন এবং এর কৌশল অন্যদের শিখিয়েছেন। নিজ ওয়ার্ডের অনেক জায়গায় মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। এরই মধ্যে ওয়ার্ডবাসীকে কমমুল্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, সরকারী ও নিজস্ব সহায়তার পাশাপাশি করোনায় সুস্থ হওয়াদের প্লাজমা সংগ্রহেও কাজ করছিলেন এই করোনা বীর। এ ছাড়া টিম খোরশেদেভ উদ্যোগে মেডিক্যাল টিমও ওয়ার্ডবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে। সস্তা প্রচার কিংবা লোক দেখানোর জন্য নয়, নিজের প্রাণের তাগিদ, জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এসব কাজ নিজ হাতে করছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন কাউন্সিলর খোরশেদ।

করোনায় মৃতদের দাফন করে আসা কাউন্সিলর খোরশেদ করোনায় আক্রান্ত

করোনায় মৃতদের দাফন করে আসা কাউন্সিলর খোরশেদ করোনায় আক্রান্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৩০ মে, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্তসহ সাধারণভাবে মারা যাওয়া মৃত ব্যক্তিদের দাফনে এগিয়ে এসে দেশ-বিদেশে আলোচিত হন। স্ত্রীর পর এবার তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। শনিবার (৩০ মে) কাউন্সিলর খোরশেদের করোনায় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজিটিভ আসে। বিকেলে কাউন্সিলর খোরশেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুকের আইডিতে করোনা পজিটিভ রিপোর্টের স্ট্যাটাস দেন। কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, শনিবার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়েছি। এতে আমার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে আছি। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেব। সবাই আমার সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। তিনি জানান, আমি আক্রান্ত হলেও আমার সব কার্যক্রম চলবে। আমার টিম সব সময় সক্রিয় থাকবে, আমার ফোনও চালু থাকবে। আমি যতদিন বেঁচে আছি করোনা যুদ্ধ থেকে এক বিন্দুও নড়বো না। আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ করেন এবং আগের মতো মানুষের সেবা করতে পারি আল্লাহ যেন সেই তৌফিক দান করেন।আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট। আমি আল্লাহর ইচ্ছায় করোনা পজিটিভ হয়েছি। তাই আগামী ৪ দিন আমি স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আমাদের দাফন, টেলিমেডিসিন, প্লাজমা সংগ্রহ, সবজি বিতরণ, মধ্যবিত্তের জন্য ভর্তূকি মূল্যে খাবার বিক্রি ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আর শুক্রবার (২৯ মে) পর্যন্ত ৬১টি মরদেহ দাফন করেছেন বলে তিনি জানান।

বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ বাস ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কারণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে  স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস মালিকদের অর্ধেক যাত্রী বা ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মোল্লা শনিবার (৩০ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, “সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন মালিকদের দাবি ছিল যাত্রী সংখ্যা যেহেতু কমছে তাই ভাড়া ১০০ ভাগ বাড়ানোর জন্য। আমরা সেটা না করে ৮০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। এই ভাড়া সবধরণের পরিবহনের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকার যদি এটি কার্যকর করে তাহলে পরিবহনগুলোকে তাদের পূর্বে ভাড়ার যে দর ছিল সেই দর থেকে ৮০ ভাগ বাড়াবে।’ দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চালু হওয়া গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির শর্তগুলো যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে বন্ধ থাকা গণপরিবহন খুলতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার ১ জুন থেকে সড়ক পরিবহন শুরু হচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হেল্ডারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। গণ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনে সকলেই সম্মতি দিয়েছে। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। সামান্য উপেক্ষা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আতে পারে। ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। এগুলো হলো- বাস টার্মিনালে ভিড় করা যাবে না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হবে, বাসে উঠার আগে শরীরের তাপমাত্র পরীক্ষা ও হাত ধুতে হবে, বাসে স্যানিটাইজার রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না, ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখতে হবে, চালক শ্রমিক  ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, যাত্রার আগে ও পরে বাস জীবাণুমুক্ত করতে হবে, চালক-শ্রমিককে একটানা ডিউটি দেওয়া যাবে না, মহাসড়কে বিরতি দেওয়া যাবে না এবং মালামাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক আদেশে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। এরপরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস খুলছে আগামীকাল রবিবার

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস খুলছে আগামীকাল

ঢাকা, ৩০ মে, ২০২০ (বাসস) : করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে চলমান সাধারণ ছুটি শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল রোববার থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ ও ট্রেন বা গণপরিবহনও চালু হচ্ছে। তবে দূরপাল্লার বাস ও ৪ টি অভ্যন্তরিন রুটের বিমান চলাচল আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে।

আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে সেই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এসব প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গত ২৩ মার্চ জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহনকে বের করে আনা হয়েছে। এ সময়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধিনিষেধ নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী ও সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। জরুরি অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজন করতে হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ইতিমধ্যে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে এক মাস রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। চলমান এ ছুটি শেষ হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এ নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞাকালে জনগণকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার এসব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময়ই মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জনসাধারণ ছাড়াও সব র্কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাটে কেনা-বেচার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। শপিং মলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিং মলে যাওয়া যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিং মল বাধ্যতামূলকভাবে বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থার অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দর, নদীবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরের মতো জরুরি পরিষেবা কার্যক্রমও নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এমনকি টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন ট্রাক, লরি ও কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন। ওষুধ, কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প এবং উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের কারখানা চালু রাখতে পারবে। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স বা ডিসটেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসমূহ নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এদিকে, আগামীকাল থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হচ্ছে। পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকের লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর লেনদেন পরবর্তী ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য শাখা ও প্রধান কার্যালয় বিকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিএসইসির অনুমতি সাপেক্ষে রবিবার থেকে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন হবে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, 'জীবনের পাশাপাশি জীবিকার গতি সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

নিষেধাজ্ঞাকালে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদগুলোয় জনসাধারণের জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

সরকারি-বেসরকারি অফিস চালুর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ১৩ নির্দেশনায় বলা হয়েছে —

১. দফতরের বাইরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

২. অফিস চালু করার আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিস কক্ষ, আঙিনা, রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৩. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার, থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে।

৪. অফিস পরিবহনগুলো অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।

৫. সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যাবে।

৬. যাত্রার আগে এবং যাত্রাকালে পথে বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

৭. খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব (ন্যূনতম তিন ফুট) বজায় রাখতে হবে।

৮. প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

১০. কর্মস্থলে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

১১. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

১৩. কোনও কর্মচারী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

‘প্লাজমা ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

‘প্লাজমা ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বলতা অনুভব করায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গিয়ে এক ব্যাগ রক্ত নেন। নিয়মিত কিডনি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ডায়ালাইসিসও করান তিনি। নিয়েছেন প্লাজমা থেরাপিও। প্লাজমা থেরাপি নেওয়ার পর এর কার্যকারিতা দেখে ভাবেন, দেশের সব মানুষেরই প্লাজমা থেরাপি সুবিধা পাওয়া দরকার। তাই ‘প্লাজমা ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। নিজে এটা নিয়ে তা বুঝতে পারছি। গতকাল শারীরিকভাবে বেশ দুর্বলতা অনুভব করছিলাম। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এসে এক ব্যাগ রক্ত নিতে হয়েছে। নিয়মিত কিডনি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ডায়ালাইসিস করতে হয়েছে। কিন্তু, প্লাজমা থেরাপি নেওয়ার পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছি। প্লাজমা থেরাপি সব করোনা রোগীর পাওয়া দরকার। শুধু আমরা কয়েকজন সুবিধা পাবো, আর দেশের অন্যরা বঞ্চিত থাকবে, তা হতে পারে না। গতকাল বিকালে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গিয়ে রক্ত নিয়ে, কিডনি ডায়ালাইসিস করে ও থেরাপি নিতে নিতে রাত ২টা বেজে যায়। সে কারণে রাতে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালেই ছিলেন। আজ সকালে যখন তার সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি বলছিলেন, হাসপাতালের কিছু অফিসিয়াল কাজ আছে,  সেগুলো করে প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য কী করতে হবে, সেই বিষয়ে কিছু কাজ করে আবার বাসায় ফিরে আইসোলেশনে থাকবেন তিনি। কেউ করোনা শনাক্ত হলে বা সাধারণ রোগে যারা অসুস্থ হচ্ছেন, তারাই  তো ঠিকমতো চিকিৎসক পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে দেশের সব মানুষ প্লাজমা থেরাপি পাবে এই ভাবনাটা এখনকার পরিস্থিতিতে কতটুকু বাস্তবিক? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা খুবই সম্ভব। সব মানুষকে এই সুবিধা দেওয়া আকাশকুসুম কল্পনা না। এটা বাস্তব। আমার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর প্রফেসর ডা. মহিউদ্দিন খান ফোন করে প্লাজমা থেরাপি  নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আমি প্লাজমা থেরাপি নেই। প্রথমবার প্লাজমা থেরাপি নিয়েই বুঝতে পারি, করোনা রোগের জন্য এটা অত্যন্ত কার্যকর। এখন প্লাজমা ডোনেট করার জন্য দেশের মানুষকে বোঝাতে হবে। যদি সবাই মিলে উদ্যোগ নেওয়া, বোঝানো হয়, তাহলে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে গেছেন ও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে, তারা খুব সহজে ডোনেট করতে পারবে। আমাদেরকে এটাই এখন মানুষকে বোঝাতে হবে। এর জন্য কিছু সরঞ্জামও লাগবে। আমরা এখন উদ্যোগ নিচ্ছি। প্রফেসর ডা. মহিউদ্দিন খান ঢাকা মেডিকেলে কাজ করছেন। শিশু হাসপাতালে কাজ করছেন ডা. হারুন। এটা অত্যন্ত মহৎ কাজ। তারা অত্যন্ত মহৎ কাজ করছেন। তাদেও সেই কাজের অংশ হিসেবেই আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে একটি ‘প্লাজমা ব্যাংক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। এর জন্য কিছু সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। কিছু অর্থও লাগবে। অর্থের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে গণস্বাস্থ্যের সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক  থেকে লোন নিয়ে নেবো। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো যদি উড়োজাহাজে করে আনি, তাহলে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না। সবকিছু মিলিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সরঞ্জাম এনে স্থাপন করে ফেলতে পারব। দেশে প্লাজমা ডোনেট করার মতো প্রচুর মানুষ আছে। সবকিছু মিলিয়ে কাজটা অত কঠিন কিছু নয়। আমাদের যে সামর্থ্য-সক্ষমতা, তা দিয়েই দ্রুত এটা করে ফেলতে পারবো। এতে দেশের মানুষ খুব উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, এর জন্য এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, কাদের করোনা হয়েছে, কারা এখন করোনায় আক্রান্ত, কারা সুস্থ হয়ে গেছেন, কারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে গেছেন, কিন্তু হয়তো নিজেও বোঝেননি, তার শরীরেও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, এই মানুষগুলোকে খুঁজে বের করা। কীভাবে তাদের খুঁজে বের করা যাবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের  বের করতে হলে পরীক্ষা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এখানেই আবারো আসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের প্রসঙ্গ।  যে কিট আমাদের হাতে আছে, তা দিয়ে আমরা মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটে সঠিকভাবে একজন করোনা রোগীকে শনাক্ত করতে পারি। আমাদের কিট যে সঠিক ফল দেয়, আমাদের কিটের সাফল্য যে প্রায় শতভাগ, সেই কথা আমরা পূর্বে বারবার বলেছি। এখন আবারও বলছি। আমি নিজে করোনা শনাক্ত হওয়ার পরে আমাদের অ্যান্টিজেন কিট সঠিক ফল দিয়েছে। আমাদের অ্যান্টিবডি কিট সঠিক ফল দিয়েছে। আমার নমুনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সংগ্রহ করে তারা যে পরীক্ষা করেছে, সেখানেও একই ফলাফল এসেছে। শুধু এই একটি ঘটনা দিয়েও প্রমাণ হয় যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত কিট কতটা মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য। আমাদের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলরা, আমরা এতদিন ধরে যে সাফল্যের কথা বলছিলাম, আমাদের ‘জি র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের সাফল্য তার চেয়ে বেশি ছাড়া কম নয়। তিনি বলেন, ‘প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য, যেসব সাধারণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবেন, তাদের দোরগোড়ায় ‘প্লাজমা থেরাপি’ সুবিধা  পৌঁছে দেওয়ার জন্য, আমাদের কিট অতি দ্রুত অনুমোদন দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তর্ক-বিতর্ক বহু হয়েছে। বিএসএমএমইউতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা চলমান। তারা আরও পরীক্ষা করুক, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা আমাদেরকে পরামর্শ দিবে, সেই পরামর্শও আমরা পালন করার  চেষ্টা করবো। এখন পর্যন্ত যে পরীক্ষা তারা সম্পন্ন করেছে, তার ভিত্তিতেই এটির অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, অনুরোধ করছি।  দেশ ও জনমানুষের স্বার্থে আমাদের কিট উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমতি দিন। আমরা এই কিট দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করবো না কিংবা অর্থ আয় করবো না। আমরা এই কিট দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করব। বেশি পরিমাণে উৎপাদনে যেতে পারলে, বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ পেলে, আমাদের এই কিটের মূল্য আরও অনেক কমে যাবে। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা এখন যত দ্রুত সম্ভব এই কিটের অনুমোদন চাই। উল্লেখ্য, কিট উদ্ভাবনের ঘোষণার পর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ‘গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল-২’ নামে বিশেষ করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আকিজ গ্রুপের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায়। তেজগাঁওয়ে নিজেদের জায়গায় হাসপাতাল উপযোগী ভবনও তৈরি করে দিয়েছিল আকিজ গ্রুপ। বেশকিছু মেডিকেল সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। কিন্তু, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লোকজন নিয়ে করোনা হাসপাতাল বিরোধী সমাবেশ-মিছিল করে। হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও হাসপাতালের কাজ আর এগোয়নি। পিছিয়ে গেছে আকিজ গ্রুপ। কিট অনুমোদনের দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই ডা. জাফরুল্লাহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো ভাবছেন সেই জনমানুষের কথা, গড়ে তুলতে চাইছেন ‘প্লাজমা ব্যাংক’। সূত্রঃ নিউজ টোয়েন্টিফোর

সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি

https://youtu.be/TA_2Wt9GebQ

বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সীমিত আকারে বাস, রেল ও লঞ্চের মতো গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে প্রথমে জানিয়েছেন, ৩০শে মে'র পর থেকে থেকে সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো হবে না। তবে ৩১শে মে থেকে ১৫ই জুন পর্যন্ত সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। এই সময়ে সব ধরণের বাস, রেল ও লঞ্চসহ সবধরণের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে বিমান সংস্থাগুলো বিমান চলাচল চালু করতে পারবে।

তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন জেলায় বাস, লঞ্চ ও রেল চলাচল ৩১ মে থেকেই চালু করা হবে। বিভিন্ন জেলায় পরিবহনে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করতে পারবেন।

তিনি বলছেন,'' সীমিত বলতে আমরা বোঝাচ্ছি, গণপরিবহন চললেও তা নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।''

তবে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ই জুন পর্যন্ত ছুটি থাকবে। তবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস ও দূরশিক্ষণ চলবে।

গণপরিবহন বলতে বাস, রেল ও লঞ্চ চলাচল বোঝানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিমান চলাচল চালুরও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

''স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিমান চলাচল শুরু করতে পারবে। ব্যক্তিগত পরিবহন চলবে।'' জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

''বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবর্তী মহিলারা কর্মস্থলে যোগদান থেকে বিরত থাকবেন। অন্যান্য কর্মকর্তারা ১৩টি স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করবেন।'' তিনি বলছেন।

কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কোন অফিস সীমিত আকারে পরিবহন চালু করবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত ওই প্রতিষ্ঠান নেবে। সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত বন্ধ থাকবে। মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ ও ধর্মীয় প্রার্থনা চলবে।

তিনি জানান, রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত মানুষজনের বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা বহাল থাকবে। এই সময়ে অকারণে বাইরে বের হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরনের দোকানপাট সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে সীমিত পরিসরে সব অফিস খোলার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। পরবর্তীতে ছয় দফা বাড়িয়ে এই ছুটি শেষ হচ্ছে ৩০শে মে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ

২৩৩ বাংলাদেশীসহ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ। ২৬ মে মঙ্গলবার রাত ১১টায় প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে নিউইয়র্ক স্টেটে ২৩ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতেই মারা গেছে ১৬ হাজার ৪১০ জন। অর্থাৎ বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটি হচ্ছে করোনাভাইরাসেরও প্রধান টার্গেট।[caption id="attachment_24271" align="aligncenter" width="1024"]Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND[/caption] এ প্রসঙ্গে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞসহ নিউইয়র্কের স্টেট গভর্নর এ্যান্ড্রু ক্যুমো বহুবার অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারিতেই যদি ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে আসা ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হতো তাহলে এমন মহামারির কবলে হয়তো নিউইয়র্ক অঞ্চলের মানুষদের পড়তো হতো না। স্টেট গভর্নর যুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, চীন থেকে এই ভাইরাস ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সব দেশের লোকজন জেএফকে এবং নিউয়ার্ক এয়ারপের্ট হয়ে এ অঞ্চলে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, মার্চের শেষ সপ্তাহে এ দুটি এয়ারপোর্ট বন্ধ করা হয়। আরো উল্লেখ্য, ২১ মার্চ থেকে নিউইয়র্ক অঞ্চলে ‘ঘরে থাকার নির্দেশ’ জারি করা হয় যা এখনও বহাল রয়েছে। এদিকে, ২৬ মে সোমবারও নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে করোনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। হাসপাতাল এবং স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, নিহতরা হলেন হবিগঞ্জের সন্তান এবং ব্রঙ্কসের বাসিন্দা শামসুল ইসলাম জীবন (৫০) এবং মোহাম্মদ আলম (৪৮)। এর একদিন আগে অর্থাৎ ঈদের দিনও দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ৫ চিকিৎসকও রয়েছেন। এদিকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পুনরায় শংকা প্রকাশ করেছেন যে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ একেবারেই থমকে দাঁড়ায়নি, তেমন স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্টভাবে অভিমত পোষণ করেছেন যে, লকডাউন শিথিলের মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তবে এসব আহবানে ন্যুনতম পাত্তা না দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত হবার জন্যে। এমনকি, সোমবার ‘মেমরিয়্যাল ডে’ উইকেন্ডেও চার্চ, আগেরদিন রবিবার মসজিদে ঈদ জামাত করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিছু কিছু মানুষ এতে সাড়া দিলেও অধিকাংশই তা বর্জন করেছে। আর যারা মসজিদে ঈদ জামাত করেছেন তারাও স্বাস্থ্যনীতি মেনেই তা করেছেন। এমনকি প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করার সাংবিধানিক এখতিয়ার হচ্ছে স্টেট গভর্নরদের। একারণে বাস্তবতার আলোকে স্টেট গভর্নররা পদক্ষেপ নিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। নিউইয়র্ক সিটি ছাড়া প্রায় পুরো স্টেটে লকডাউন শিথিলের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। সিটিতেও মৃত্যুর হার এবং হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির হার কমছে গত দেড় সপ্তাহ থেকে। এটি অব্যাহত থাকলে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে লকডাউন শিথিলের পথ সুগম হবে বলে ২৬ মে প্রেস ব্রিফিংকালে আশা পোষণ করেছেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো। অপরদিকে, মিশিগানে মামলা-মোকদ্দমা সত্বেও লকডাউনের মেয়াদ জুনের ১২ তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্টেট গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার। নিউইয়র্কে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ মে বৃহস্পতিবার। জনজীবন এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করার অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে করোনা টেস্টকে বলা হচ্ছে। অথচ এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিসাধিত হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র এক কোটি ৪৬ লাখ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার (৩৩০ মিলিয়ন) শতকরা  ৪.৪ ভাগের টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জোন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে। সোমবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, লকডাউন দ্রুত শিথিলের যে প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যেই অনেক স্টেটে শিথিল করাও হয়েছে, এর ফলে পুনরায় এই ভাইরাস মহামারি আকারে বিস্তৃত হতে পারে। এই সংস্থার হেল্থ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড. মাইক রায়ান ভার্চুয়াল ব্রিফিংকালে আরো বলেছেন, আমরা যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রমণের শংকা প্রকাশ করছি, সে সময়ে চলমান সংক্রমণেরই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তার বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে এই রোগ যে কোন সময় ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। সংক্রমণের হার কমছে বলে এটি মনে করার কোনই কারণ যে, তা দুর্বল হয়ে চলে যাচ্ছে।[caption id="attachment_24273" align="aligncenter" width="1024"] Army Chaplain (Major) Ivan Arreguin leads the procession as military and civilian personnel working at the Javits New York Medical Station, erected at the Jacob Javits Convention Center in New York City, form a cordon to render military honors to a veteran who died of COVID19 while a patient at the medical station on April 19, 2020. Members of the Active military and the New York National Guard Military and civilians with prior service members of the military took part in the recognition.( U.S. Air National Guard photo by Major Patrick Cordova)[/caption] এমন পরিস্থিতিতে সকলকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অর্থাৎ বাসার বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে, ৬ ফুট অন্তর অবস্থান করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই মাস্ক পরতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি, ২৫ মে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যো বাইডেন জনসমক্ষে এলে তাকে মাস্ক পরিহিত দেখে টিটকারি দিয়েছেন ট্রাম্প। উপহাস করেছেন রীতিমত। এর জবাবে বাইডেন বলেছেন যে, নাগরিকেরা সাধারণত: প্রেসিডেন্ট অথবা জাতীয় নেতাকে অনুসরণ করেন। অথচ আমেরিকার দুর্ভাগ্য তাদের প্রেসিডেন্ট তারই প্রশাসনের রীতি অনুসরণ করেন না। করোনা টেস্টিং কিটের সংকট ছিল। তা কেটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেও এখন পর্যন্ত টেস্টিং পরিক্রমা একেবারেই হতাশার পর্যায়ে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা-সরঞ্জাম তথা পিপিইর সংকট লাঘবেও যথাযথ পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত গৃহিত হয়নি। এভাবে ঘরে থাকার নির্দেশ ক্রমান্বয়ে উঠিয়ে নিলে বা শিথিল করা হলে লাখো আমেরিকানের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে বলে আশংকা চিকিৎসা-বিজ্ঞানী এবং সচেতন জনগোষ্ঠির। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

ভার্চুয়াল কোর্টের অভিজ্ঞতা: প্রায়োগিক সমস্যা ও সমাধান অনুসন্ধান

ভার্চুয়াল কোর্টের অভিজ্ঞতা: প্রায়োগিক সমস্যা ও সমাধান অনুসন্ধান

ড. মো. রাশেদ হোসাইন | মে ২৭, ২০২০

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং করোনা প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতে বিচারপ্রার্থীদের সুবিচার নিশ্চিতকল্পে মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে, ২০২০ সাল ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ (২০২০ সালের ১ নং অধ্যাদেশ) জারি করলে ওই অধ্যাদেশের ৫ ধারার ক্ষমতাবলে গত ১০ মে, ২০২০ সাল উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে জরুরি জামিন শুনানির জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় রেজিস্ট্রার জেনারেল কর্তৃক স্বাক্ষরিত ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ মোতাবেক গত ১১.০৫.২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথম ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের অংশীদার হতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশে এটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি হওয়ায় প্রথম দিনে প্রত্যেক জেলা আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু না হলেও পরের দিন থেকে কিছু জেলা ব্যতীত প্রায় সব জেলায় এর কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকটি জেলার আইনজীবী সমিতি ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখলেও পরবর্তী সময়ে তারা বিচারপ্রার্থীর দুর্দশার কথা চিন্তা করে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি সেসব আইনজীবী সমিতিকে ধন্যবাদসহ ভার্চুয়াল কোর্টে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী গত ১১.৫.২০২০ সাল থেকে ২০.৫.২০২০ সাল পর্যন্ত ৮ কর্মদিবসে সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৩৪৯টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে মোট ১৮ হাজার ৫৮৫ জন আসামি জামিনে মুক্ত হন। এটি নিঃসন্দেহে ই-জুডিশিয়ারি চালুর প্রারম্ভিক সফলতা হিসেবে পরিগণিত হয়, যার অংশীদার বাংলাদেশ সরকার বাহাদুরসহ ভার্চুয়াল কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ এবং আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। তাছাড়া ভার্চুয়াল কোর্টের এমন সফলতায় বিভিন্ন মহল থেকে পর্যায়ক্রমে বিচার প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতি চালু করার দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। যদি সব আদালতে ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থা চালু করা যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিচারপ্রার্থীরা অভাবনীয়ভাবে উপকৃত হবেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমার এ লেখায় ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যবহারিক যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তাসহ এসব সমস্যার আশু প্রতিকার কী হতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি। আমরা এরই মধ্যে অবগত হয়েছি যে ভার্চুয়াল কোর্টে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুধু জরুরি জামিন বিষয়ে শুনানি করা যায়। জামিন আবেদন শুনানির জন্য আপাতত একজন বিজ্ঞ আইনজীবীকে দুটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে জামিন আবেদন করতে হলে বিজ্ঞ আইনজীবীর একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস, একটি স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপ অথবা ওয়েবক্যাম সংযুক্ত ডেস্কটপ কম্পিউটার সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে। mycourt.judiciary.org.bd এই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে লগইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে কাগজপত্র সংযুক্তির (অ্যাটাচমেন্ট) মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট আদালতের ই-মেইল অ্যাড্রেসে জামিনের দরখাস্ত ও ওকালতনামা সংযুক্ত করে জামিন আবেদন করা যাবে। ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জামিন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে হলে আপনাকে মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে Microsoft teams অ্যাপসটি আগেই ইনস্টল করে নিতে হবে। যথাযথভাবে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ফিরতি মেইলে শুনানির তারিখ ও সময় উল্লেখে আপনাকে একটি ভিডিও লিংক প্রদান করা হবে। প্রদত্ত ভিডিও লিংকে শুনানির তারিখ ও সময়ে প্রবেশ করে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুনানি করতে হবে। অপরদিকে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে শুনানি করতে হলে মোবাইল অথবা কম্পিউটারে Zoom cloud meetings বা Google meet অ্যাপসটি ইনস্টল থাকতে হবে। এক্ষেত্রেও ফিরতি মেইলে একটি ভিডিও লিংক দেয়া হবে শুনানির জন্য। ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন অপেক্ষাকৃত কম ঝামেলাপূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছে এ পদ্ধতি অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে ধীরে ধীরে বিজ্ঞ আইনজীবীদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুনানিতে অভ্যস্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। কেননা ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে UNDP-এর কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করেছে। ওই দুই মাধ্যমে আবেদন করা গেলেও ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে মোট ছয়টি ভার্চুয়াল কোর্টে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন বেশি দাখিল হচ্ছে, যা প্রাথমিক অবস্থায় সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো রকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য ময়মনসিংহ বার সমিতিসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। গত ১৩.৫.২০২০ তারিখ থেকে ২০.৫.২০২০ পর্যন্ত ময়মনসিংহে মোট ছয়দিন ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আমি ৪ নং ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার আশু করণীয়সহ আলোচনা করতে চাই, যা পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের উপকারে আসতে পারে। আমি মূলত দুভাবে আলোচনা সাজিয়েছি। প্রথমত, বিজ্ঞ আইনজীবীদের ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত জামিন আবেদন সম্পর্কিত সমস্যা ও আশু করণীয় এবং দ্বিতীয়ত, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানি করাকালে পরিলক্ষিত সমস্যা ও এর আশু করণীয় বিষয়ের আলোচনা। তবে এ আলোচনাকে কোনোভাবেই পরিপূর্ণ বলা যাবে না।

ই-মেইলে আবেদন দাখিল সম্পর্কিত সমস্যাবলি ও আশু করণীয়:

ক) আপনি ই-মেইলে জামিন আবেদন করলে ফিরতি মেইলে আপনাকে ভিডিও লিংক দেয়া হয়। শুনানি চলাকালে আমাকে পুনরায় নতুন অ্যাড্রেসে সেই লিংক প্রেরণ করতে হয়েছে, কারণ বিজ্ঞ আইনজীবী ফোন করে বলেছেন লিংকটি হারিয়ে গেছে। এজন্য বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রত্যেকের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস খুলে নেয়া উচিত। আমি ট্রাভেল এজেন্সির মেইল অ্যাড্রেস থেকেও জামিনের আবেদন পেয়েছি। এক্ষেত্রে দেখা যায় বিজ্ঞ আইনজীবী শুনানির সময় সেখানে অবস্থান না করায় পুনরায় নতুন অ্যাড্রেসে লিংকটি পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। যেহেতু ফিরতি মেইলে আপনাকে ভিডিও লিংকটি দেয়া হবে, সেহেতু আপনার নিজস্ব মেইল অ্যাড্রেস থাকলে প্রদত্ত লিংকে সহজেই প্রবেশ করে শুনানি করতে সুবিধা হবে। খ) আমি একই মেইল অ্যাড্রেস থেকে একই আবেদন তিন-চারবার পেয়েছি। হয়তো বিজ্ঞ আইনজীবী ভেবেছিলেন তার আবেদনটি যথাযথভাবে পৌঁছেছে কিনা। একই আবেদন একাধিক থাকলে তা বাছাই করতে সমস্যা হয়। আপনি আদালতের মেইল অ্যাড্রেস ঠিকভাবে লিখে সেন্ডে ক্লিক করে সেন্ট লেখা দেখা গেলে পুনরায় পাঠানোর আর দরকার নেই। তবে আপনার দরখাস্ত, ওকালতনামা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যদি থাকে) সেগুলো সেন্ড করার আগেই অবশ্যই অ্যাটাচড করে নেবেন। আমি ডকুমেন্টস অ্যাটাচড করা ছাড়াও মেইল পেয়েছি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এটি অস্বাভাবিক নয়। গ) আমি অ্যাটাচড ডকুমেন্টসগুলো এমনও পেয়েছি যা অস্পষ্ট; প্রিন্টের পর পড়া যায় না। শুধু মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে প্রেরণ করার কারণে এমনটা হতে পারে। এসব ছবি তুলতে গিয়ে হাতসহ আশপাশে রাখা বস্তুও দেখা যায়, যা দৃষ্টিকটুও বটে। আপনি মোবাইলে ইনস্টল করা স্ক্যানার দিয়ে ডকুমেন্টস ছবি তুলে ক্রপ করে জেপিজে অথবা পিডিএফ ফরম্যাটে সেভ করে পাঠালে তা সহজেই বোধ্য হয়। তবে অনেকেই সেই পদ্ধতিতে আবেদন করছেন যা প্রশংসনীয়। ঘ) যে থানার জামিন শুনানি করার এখতিয়ার আমার নেই, সেই থানার জামিন আবেদনও পেয়েছি। আপনি সংশ্লিষ্ট আদালতের সঠিক ই-মেইল অ্যাড্রেস জেনে নিতে পারেন। বিজ্ঞ সিজেএম/সিএমএম বা অন্যান্য আদালত এরই মধ্যে ই-মেইল অ্যাড্রেসসহ আদেশ করেছেন, যার কপি নিজের কাছে সংগ্রহে রাখুন। ঙ) জামিনের দরখাস্ত, ওকালতনামা এবং জামিননামা কোর্ট ফি ব্যতীত পেয়েছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে কোর্ট ফি মওকুফ না থাকায় আপনাকে অবশ্যই প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সঠিক কোর্ট ফি দিতে হবে। একই কোর্ট ফি বিভিন্ন দরখাস্তে ব্যবহার করা আইনবিরোধী। সেক্ষেত্রে কোর্ট ফির ওপর তারিখসহ স্বাক্ষর করে সংযুক্ত করা উচিত হবে। আশা করি অচিরেই কোর্ট ফি প্রদান পদ্ধতি ডিজিটালাইজড হবে। চ) ওকালতনামাসহ জামিনের দরখাস্তে মামলার জিআর নম্বর এবং থানার নম্বরও ভুল পেয়েছি। আবার মামলার জিআর নম্বর থাকলেও থানার নম্বর ছিল না বা থানার নম্বর থাকলেও জিআর নম্বর ছিল না, এমনটিও পেয়েছি। এক্ষেত্রে নথি খুঁজে বের করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। জামিনের দরখাস্ত ও ওকালতনামায় ঠিকভাবে মামলার জিআর ও থানার নম্বর থাকলে নথি সহজেই বের করা যায়, ফলে সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হয়। ছ) অনেক সময় মেইলের সাবজেক্ট ও বডিতে কিছুই লেখা থাকছে না। সেটি না থাকায় বোঝার জন্য বারবার ওই অ্যাড্রেসে ঢুকতে হতে পারে, যার ফলে প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হয়। যদি সুনির্দিষ্টভাবে মেইলের সাবজেক্টে অথবা বডিতে মামলার জিআর নম্বর, থানা নম্বর, আসামির নামসহ জামিনের দরখাস্ত, জামিননামা ইত্যাদি উলে­খ থাকে, তাহলে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। জ) একই মামলার একাধিক আইনজীবীর ওকালতনামাসহ দরখাস্ত পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো দরখাস্তই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না। সেজন্য এর আগে ক্লায়েন্ট অন্য কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন কিনা তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। ঝ) জামিনের আবেদনে মামলার পরবর্তী অথবা পূর্ববর্তী ধার্য তারিখ উলে­খ থাকছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি খুঁজে বের করা দুরূহ হয়ে যায়। তাই আপনার জামিনের দরখাস্তের পাশে স্পষ্টভাবে মামলার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী ধার্য তারিখ উল্লেখ করবেন, যা নথি খুঁজে বের করতে সুবিধা হবে। ঞ) যদি কোনো আবেদনে সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে ফিরতি মেইলে তা সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়। বিজ্ঞ আইনজীবী ফিরতি মেইল চেক না করায় সংশোধিত আবেদন আর পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে নথি না থাকায় শুনানি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আপনারা অবশ্যই ফিরতি মেইল চেক করবেন। প্রশ্ন হলো ফিরতি মেইল কয়টায় পাঠানো হবে? সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো না গেলেও রাত ৯-১০টার মধ্যে চেক করা যেতে পারে। দরখাস্তের পরিমাণের ওপর শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হয়। আগের রাত ৮টার মধ্যে অবশ্যই দরখাস্ত দাখিল করবেন। এক্ষেত্রে জেলায় জেলায় ভিন্নতা থাকতে পারে। ট) আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর হলে জামিননামা একাধিকবার অ্যাটাচড করার কোনো দরকার নেই। একবার অ্যাটাচমেন্টই যথেষ্ট হবে। কেননা একটি জামিননামা থেকে একাধিকবার প্রিন্ট করা সম্ভব হবে। ঠ) যেহেতু আপনি আদালতে জামিনের দরখাস্ত, ওকালতনামা, জামিননামা বা অন্যান্য দাখিলি কাগজপত্রের সফট কপি দাখিল করছেন, সেহেতু পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য সফট কপিগুলোর হার্ড কপিও আলাদা ফাইলে যদি সম্ভব হয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন। ড) যেসব মামলার মূল নথি উচ্চ আদালতে আছে, সেসব মামলার জামিন আবেদন শুনানির আগে মূল নথি ভার্চুয়াল কোর্টে প্রেরণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ঢ) ভার্চুয়াল কোর্টের আদেশের নকল পেতে আগের নিয়মে আবেদন করলে জটিলতা এড়ানোর জন্য কম সময়ের মধ্যে আদেশের প্রত্যয়িত ফটোকপি সরবরাহ করা হচ্ছে। ণ) তাছাড়া জামিন আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেনো/পেশকারের প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সময় পরিলক্ষিত সমস্যা ও আশু করণীয়:

অ) আদালত কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও লিংকে শুনানির তারিখ ও সময় বিজ্ঞ আইনজীবী ঢোকার পর তার কথা শোনা যায় না। এক্ষেত্রে কয়েকবার অডিও মিউট (mute) আনমিউট (unmute) অপশনে ক্লিক করলে কথা শোনা যাবে। আবার অডিও এবং ভিডিও অপশন অফ থাকায় কথা শোনা যায় না বা একে অপরকে দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে অডিও এবং ভিডিও অন করে নিতে হবে। অথবা বিজ্ঞ আদালত আপনাকে ভিডিও অন করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠালে সেটি অন করতে হবে। আ) Zoom cloud meetings অ্যাপসের মাধ্যমে শুনানি একবার শুরু হলে পরবর্তী ৪০ মিনিট একটানা করা যাবে। ৪০ মিনিট অতিবাহিত হলে অটোমেটিক ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পুনরায় লিংকে ঢুকে মিটিং শুরু করার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ই) একদিনে অনেকগুলো জামিনের আবেদন শুনানি থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে একই সঙ্গে একাধিক আইনজীবী লিংকে ঢোকার চেষ্টা করলে এক বা একাধিক আইনজীবীকে ওয়েটিংয়ে থাকতে হতে পারে। তাই এ সময় ধৈর্য ধারণ অত্যন্ত জরুরি মনে করি। ঈ) ভিডিও কনফারেন্সের সময় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট থাকা আবশ্যক। যদি আপনি নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না পাওয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে কোর্টের ড্রেস পরে যেখানে নেট লাইন পাওয়া যায় সেখানে শুনানি করবেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অনেক সময় লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেকে ভার্চুয়াল আদালতে শুনানির কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করে আদালতের কার্যক্রমকে হেয় করার চেষ্টা করছে। সবাইকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। তাছাড়া আদালতের কার্যক্রম হেয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপন করা প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে আমাদের সবার অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। উ) ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সময় আপনি হেডফোন ব্যবহার করলে সব পক্ষের কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পাবেন। এক্ষেত্রে সময় এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। ঊ) ভিডিও কনফারেন্সের সময় আপনার আশপাশের শব্দ যেন অন্যপক্ষ শুনতে না পায়, কিংবা শুনানিতে সমস্যার সৃষ্টি না করে সেজন্য অডিও অপশন মিউট করা যেতে পারে। তবে আপনি যখন কথা বলবেন তখন অবশ্যই সেটি আনমিউট করে নেবেন। ঋ) কোনো কারণে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে না পারলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেনোগ্রাফার/পেশকারের প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যেতে পারে। উপর্যুক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় কিছু সমস্যা থাকলেও তা সহজেই সমাধানযোগ্য। আমি ভার্চুয়াল কোর্টের সার্বিক সফলতা কামনা করছি এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে, তা উতরিয়ে ভার্চুয়াল কোর্ট তার প্রত্যাশিত লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছাবে। জয়তু ভার্চুয়াল কোর্ট। ড. মো. রাশেদ হোসাইন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ ইমেইল: rashedjdg@gmail.com

৩১ মে থেকে জেলা ভিত্তিক কর্মকান্ড শুরুঃ বাড়ছেনা আর সাধারণ ছুটি

সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিসে কাজ করবে। তবে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তার আগ পর্যন্ত অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকবে। বুধবার (২৭ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। ১৫ জুন পর্যন্ত সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফতরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে সীমিত আকারে চালু থাকবে। বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলারা অফিসে আসবে না, গণপরিবহন চলবে না। আপাতত স্কুল, কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ১৫ জুন পর্যন্ত। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে যোগ দিতে হবে।’ এর আগে সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সারাংশে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেন। রাত আটটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের মতো চলাচল সীমিত থাকবে। হাটবাজার দোকানপাটে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গণপরিবহন, নৌযান ও রেল চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রাইভেট কার জাতীয় বাহনসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন সব ধরনের যানবাহন চলবে। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কোনও অফিস সীমিত আকারে পরিবহন চালু করবে কিনা সে সিদ্ধান্ত  তারা নিজেরাই গ্রহণ করবে। নিজ ব্যবস্থায় বিমান চালাচল করতে পারবে। সভা-সমাবেশ গণজমায়েত বন্ধ থাকবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে সীমিত পরিসরে সব অফিস খোলা রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাগরিক জীবনের সুরক্ষার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। জেলার পবেশমুখে চেকপোস্ট থাকবে।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.