Home Authors Posts by Ekush News Desk

Ekush News Desk

5142 POSTS 0 COMMENTS

ভার্চুয়াল কোর্টের অভিজ্ঞতা: প্রায়োগিক সমস্যা ও সমাধান অনুসন্ধান

ভার্চুয়াল কোর্টের অভিজ্ঞতা: প্রায়োগিক সমস্যা ও সমাধান অনুসন্ধান

ড. মো. রাশেদ হোসাইন | মে ২৭, ২০২০

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং করোনা প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতে বিচারপ্রার্থীদের সুবিচার নিশ্চিতকল্পে মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে, ২০২০ সাল ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ (২০২০ সালের ১ নং অধ্যাদেশ) জারি করলে ওই অধ্যাদেশের ৫ ধারার ক্ষমতাবলে গত ১০ মে, ২০২০ সাল উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে জরুরি জামিন শুনানির জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় রেজিস্ট্রার জেনারেল কর্তৃক স্বাক্ষরিত ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ মোতাবেক গত ১১.০৫.২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথম ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের অংশীদার হতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশে এটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি হওয়ায় প্রথম দিনে প্রত্যেক জেলা আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু না হলেও পরের দিন থেকে কিছু জেলা ব্যতীত প্রায় সব জেলায় এর কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকটি জেলার আইনজীবী সমিতি ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখলেও পরবর্তী সময়ে তারা বিচারপ্রার্থীর দুর্দশার কথা চিন্তা করে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি সেসব আইনজীবী সমিতিকে ধন্যবাদসহ ভার্চুয়াল কোর্টে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী গত ১১.৫.২০২০ সাল থেকে ২০.৫.২০২০ সাল পর্যন্ত ৮ কর্মদিবসে সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৩৪৯টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে মোট ১৮ হাজার ৫৮৫ জন আসামি জামিনে মুক্ত হন। এটি নিঃসন্দেহে ই-জুডিশিয়ারি চালুর প্রারম্ভিক সফলতা হিসেবে পরিগণিত হয়, যার অংশীদার বাংলাদেশ সরকার বাহাদুরসহ ভার্চুয়াল কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ এবং আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। তাছাড়া ভার্চুয়াল কোর্টের এমন সফলতায় বিভিন্ন মহল থেকে পর্যায়ক্রমে বিচার প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতি চালু করার দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। যদি সব আদালতে ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থা চালু করা যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিচারপ্রার্থীরা অভাবনীয়ভাবে উপকৃত হবেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমার এ লেখায় ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যবহারিক যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তাসহ এসব সমস্যার আশু প্রতিকার কী হতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি। আমরা এরই মধ্যে অবগত হয়েছি যে ভার্চুয়াল কোর্টে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুধু জরুরি জামিন বিষয়ে শুনানি করা যায়। জামিন আবেদন শুনানির জন্য আপাতত একজন বিজ্ঞ আইনজীবীকে দুটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে জামিন আবেদন করতে হলে বিজ্ঞ আইনজীবীর একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস, একটি স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপ অথবা ওয়েবক্যাম সংযুক্ত ডেস্কটপ কম্পিউটার সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে। mycourt.judiciary.org.bd এই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে লগইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে কাগজপত্র সংযুক্তির (অ্যাটাচমেন্ট) মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট আদালতের ই-মেইল অ্যাড্রেসে জামিনের দরখাস্ত ও ওকালতনামা সংযুক্ত করে জামিন আবেদন করা যাবে। ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জামিন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে হলে আপনাকে মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে Microsoft teams অ্যাপসটি আগেই ইনস্টল করে নিতে হবে। যথাযথভাবে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ফিরতি মেইলে শুনানির তারিখ ও সময় উল্লেখে আপনাকে একটি ভিডিও লিংক প্রদান করা হবে। প্রদত্ত ভিডিও লিংকে শুনানির তারিখ ও সময়ে প্রবেশ করে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুনানি করতে হবে। অপরদিকে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে শুনানি করতে হলে মোবাইল অথবা কম্পিউটারে Zoom cloud meetings বা Google meet অ্যাপসটি ইনস্টল থাকতে হবে। এক্ষেত্রেও ফিরতি মেইলে একটি ভিডিও লিংক দেয়া হবে শুনানির জন্য। ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন অপেক্ষাকৃত কম ঝামেলাপূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছে এ পদ্ধতি অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে ধীরে ধীরে বিজ্ঞ আইনজীবীদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুনানিতে অভ্যস্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। কেননা ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে UNDP-এর কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করেছে। ওই দুই মাধ্যমে আবেদন করা গেলেও ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে মোট ছয়টি ভার্চুয়াল কোর্টে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন বেশি দাখিল হচ্ছে, যা প্রাথমিক অবস্থায় সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো রকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য ময়মনসিংহ বার সমিতিসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। গত ১৩.৫.২০২০ তারিখ থেকে ২০.৫.২০২০ পর্যন্ত ময়মনসিংহে মোট ছয়দিন ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আমি ৪ নং ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার আশু করণীয়সহ আলোচনা করতে চাই, যা পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের উপকারে আসতে পারে। আমি মূলত দুভাবে আলোচনা সাজিয়েছি। প্রথমত, বিজ্ঞ আইনজীবীদের ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত জামিন আবেদন সম্পর্কিত সমস্যা ও আশু করণীয় এবং দ্বিতীয়ত, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানি করাকালে পরিলক্ষিত সমস্যা ও এর আশু করণীয় বিষয়ের আলোচনা। তবে এ আলোচনাকে কোনোভাবেই পরিপূর্ণ বলা যাবে না।

ই-মেইলে আবেদন দাখিল সম্পর্কিত সমস্যাবলি ও আশু করণীয়:

ক) আপনি ই-মেইলে জামিন আবেদন করলে ফিরতি মেইলে আপনাকে ভিডিও লিংক দেয়া হয়। শুনানি চলাকালে আমাকে পুনরায় নতুন অ্যাড্রেসে সেই লিংক প্রেরণ করতে হয়েছে, কারণ বিজ্ঞ আইনজীবী ফোন করে বলেছেন লিংকটি হারিয়ে গেছে। এজন্য বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রত্যেকের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস খুলে নেয়া উচিত। আমি ট্রাভেল এজেন্সির মেইল অ্যাড্রেস থেকেও জামিনের আবেদন পেয়েছি। এক্ষেত্রে দেখা যায় বিজ্ঞ আইনজীবী শুনানির সময় সেখানে অবস্থান না করায় পুনরায় নতুন অ্যাড্রেসে লিংকটি পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। যেহেতু ফিরতি মেইলে আপনাকে ভিডিও লিংকটি দেয়া হবে, সেহেতু আপনার নিজস্ব মেইল অ্যাড্রেস থাকলে প্রদত্ত লিংকে সহজেই প্রবেশ করে শুনানি করতে সুবিধা হবে। খ) আমি একই মেইল অ্যাড্রেস থেকে একই আবেদন তিন-চারবার পেয়েছি। হয়তো বিজ্ঞ আইনজীবী ভেবেছিলেন তার আবেদনটি যথাযথভাবে পৌঁছেছে কিনা। একই আবেদন একাধিক থাকলে তা বাছাই করতে সমস্যা হয়। আপনি আদালতের মেইল অ্যাড্রেস ঠিকভাবে লিখে সেন্ডে ক্লিক করে সেন্ট লেখা দেখা গেলে পুনরায় পাঠানোর আর দরকার নেই। তবে আপনার দরখাস্ত, ওকালতনামা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যদি থাকে) সেগুলো সেন্ড করার আগেই অবশ্যই অ্যাটাচড করে নেবেন। আমি ডকুমেন্টস অ্যাটাচড করা ছাড়াও মেইল পেয়েছি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এটি অস্বাভাবিক নয়। গ) আমি অ্যাটাচড ডকুমেন্টসগুলো এমনও পেয়েছি যা অস্পষ্ট; প্রিন্টের পর পড়া যায় না। শুধু মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে প্রেরণ করার কারণে এমনটা হতে পারে। এসব ছবি তুলতে গিয়ে হাতসহ আশপাশে রাখা বস্তুও দেখা যায়, যা দৃষ্টিকটুও বটে। আপনি মোবাইলে ইনস্টল করা স্ক্যানার দিয়ে ডকুমেন্টস ছবি তুলে ক্রপ করে জেপিজে অথবা পিডিএফ ফরম্যাটে সেভ করে পাঠালে তা সহজেই বোধ্য হয়। তবে অনেকেই সেই পদ্ধতিতে আবেদন করছেন যা প্রশংসনীয়। ঘ) যে থানার জামিন শুনানি করার এখতিয়ার আমার নেই, সেই থানার জামিন আবেদনও পেয়েছি। আপনি সংশ্লিষ্ট আদালতের সঠিক ই-মেইল অ্যাড্রেস জেনে নিতে পারেন। বিজ্ঞ সিজেএম/সিএমএম বা অন্যান্য আদালত এরই মধ্যে ই-মেইল অ্যাড্রেসসহ আদেশ করেছেন, যার কপি নিজের কাছে সংগ্রহে রাখুন। ঙ) জামিনের দরখাস্ত, ওকালতনামা এবং জামিননামা কোর্ট ফি ব্যতীত পেয়েছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে কোর্ট ফি মওকুফ না থাকায় আপনাকে অবশ্যই প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সঠিক কোর্ট ফি দিতে হবে। একই কোর্ট ফি বিভিন্ন দরখাস্তে ব্যবহার করা আইনবিরোধী। সেক্ষেত্রে কোর্ট ফির ওপর তারিখসহ স্বাক্ষর করে সংযুক্ত করা উচিত হবে। আশা করি অচিরেই কোর্ট ফি প্রদান পদ্ধতি ডিজিটালাইজড হবে। চ) ওকালতনামাসহ জামিনের দরখাস্তে মামলার জিআর নম্বর এবং থানার নম্বরও ভুল পেয়েছি। আবার মামলার জিআর নম্বর থাকলেও থানার নম্বর ছিল না বা থানার নম্বর থাকলেও জিআর নম্বর ছিল না, এমনটিও পেয়েছি। এক্ষেত্রে নথি খুঁজে বের করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। জামিনের দরখাস্ত ও ওকালতনামায় ঠিকভাবে মামলার জিআর ও থানার নম্বর থাকলে নথি সহজেই বের করা যায়, ফলে সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হয়। ছ) অনেক সময় মেইলের সাবজেক্ট ও বডিতে কিছুই লেখা থাকছে না। সেটি না থাকায় বোঝার জন্য বারবার ওই অ্যাড্রেসে ঢুকতে হতে পারে, যার ফলে প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হয়। যদি সুনির্দিষ্টভাবে মেইলের সাবজেক্টে অথবা বডিতে মামলার জিআর নম্বর, থানা নম্বর, আসামির নামসহ জামিনের দরখাস্ত, জামিননামা ইত্যাদি উলে­খ থাকে, তাহলে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। জ) একই মামলার একাধিক আইনজীবীর ওকালতনামাসহ দরখাস্ত পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো দরখাস্তই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না। সেজন্য এর আগে ক্লায়েন্ট অন্য কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন কিনা তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। ঝ) জামিনের আবেদনে মামলার পরবর্তী অথবা পূর্ববর্তী ধার্য তারিখ উলে­খ থাকছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি খুঁজে বের করা দুরূহ হয়ে যায়। তাই আপনার জামিনের দরখাস্তের পাশে স্পষ্টভাবে মামলার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী ধার্য তারিখ উল্লেখ করবেন, যা নথি খুঁজে বের করতে সুবিধা হবে। ঞ) যদি কোনো আবেদনে সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে ফিরতি মেইলে তা সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়। বিজ্ঞ আইনজীবী ফিরতি মেইল চেক না করায় সংশোধিত আবেদন আর পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে নথি না থাকায় শুনানি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আপনারা অবশ্যই ফিরতি মেইল চেক করবেন। প্রশ্ন হলো ফিরতি মেইল কয়টায় পাঠানো হবে? সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো না গেলেও রাত ৯-১০টার মধ্যে চেক করা যেতে পারে। দরখাস্তের পরিমাণের ওপর শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হয়। আগের রাত ৮টার মধ্যে অবশ্যই দরখাস্ত দাখিল করবেন। এক্ষেত্রে জেলায় জেলায় ভিন্নতা থাকতে পারে। ট) আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর হলে জামিননামা একাধিকবার অ্যাটাচড করার কোনো দরকার নেই। একবার অ্যাটাচমেন্টই যথেষ্ট হবে। কেননা একটি জামিননামা থেকে একাধিকবার প্রিন্ট করা সম্ভব হবে। ঠ) যেহেতু আপনি আদালতে জামিনের দরখাস্ত, ওকালতনামা, জামিননামা বা অন্যান্য দাখিলি কাগজপত্রের সফট কপি দাখিল করছেন, সেহেতু পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য সফট কপিগুলোর হার্ড কপিও আলাদা ফাইলে যদি সম্ভব হয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন। ড) যেসব মামলার মূল নথি উচ্চ আদালতে আছে, সেসব মামলার জামিন আবেদন শুনানির আগে মূল নথি ভার্চুয়াল কোর্টে প্রেরণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ঢ) ভার্চুয়াল কোর্টের আদেশের নকল পেতে আগের নিয়মে আবেদন করলে জটিলতা এড়ানোর জন্য কম সময়ের মধ্যে আদেশের প্রত্যয়িত ফটোকপি সরবরাহ করা হচ্ছে। ণ) তাছাড়া জামিন আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেনো/পেশকারের প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সময় পরিলক্ষিত সমস্যা ও আশু করণীয়:

অ) আদালত কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও লিংকে শুনানির তারিখ ও সময় বিজ্ঞ আইনজীবী ঢোকার পর তার কথা শোনা যায় না। এক্ষেত্রে কয়েকবার অডিও মিউট (mute) আনমিউট (unmute) অপশনে ক্লিক করলে কথা শোনা যাবে। আবার অডিও এবং ভিডিও অপশন অফ থাকায় কথা শোনা যায় না বা একে অপরকে দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে অডিও এবং ভিডিও অন করে নিতে হবে। অথবা বিজ্ঞ আদালত আপনাকে ভিডিও অন করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠালে সেটি অন করতে হবে। আ) Zoom cloud meetings অ্যাপসের মাধ্যমে শুনানি একবার শুরু হলে পরবর্তী ৪০ মিনিট একটানা করা যাবে। ৪০ মিনিট অতিবাহিত হলে অটোমেটিক ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পুনরায় লিংকে ঢুকে মিটিং শুরু করার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ই) একদিনে অনেকগুলো জামিনের আবেদন শুনানি থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে একই সঙ্গে একাধিক আইনজীবী লিংকে ঢোকার চেষ্টা করলে এক বা একাধিক আইনজীবীকে ওয়েটিংয়ে থাকতে হতে পারে। তাই এ সময় ধৈর্য ধারণ অত্যন্ত জরুরি মনে করি। ঈ) ভিডিও কনফারেন্সের সময় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট থাকা আবশ্যক। যদি আপনি নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না পাওয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে কোর্টের ড্রেস পরে যেখানে নেট লাইন পাওয়া যায় সেখানে শুনানি করবেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অনেক সময় লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেকে ভার্চুয়াল আদালতে শুনানির কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করে আদালতের কার্যক্রমকে হেয় করার চেষ্টা করছে। সবাইকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। তাছাড়া আদালতের কার্যক্রম হেয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপন করা প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে আমাদের সবার অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। উ) ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সময় আপনি হেডফোন ব্যবহার করলে সব পক্ষের কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পাবেন। এক্ষেত্রে সময় এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। ঊ) ভিডিও কনফারেন্সের সময় আপনার আশপাশের শব্দ যেন অন্যপক্ষ শুনতে না পায়, কিংবা শুনানিতে সমস্যার সৃষ্টি না করে সেজন্য অডিও অপশন মিউট করা যেতে পারে। তবে আপনি যখন কথা বলবেন তখন অবশ্যই সেটি আনমিউট করে নেবেন। ঋ) কোনো কারণে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে না পারলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেনোগ্রাফার/পেশকারের প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যেতে পারে। উপর্যুক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় কিছু সমস্যা থাকলেও তা সহজেই সমাধানযোগ্য। আমি ভার্চুয়াল কোর্টের সার্বিক সফলতা কামনা করছি এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে, তা উতরিয়ে ভার্চুয়াল কোর্ট তার প্রত্যাশিত লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছাবে। জয়তু ভার্চুয়াল কোর্ট। ড. মো. রাশেদ হোসাইন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ ইমেইল: rashedjdg@gmail.com

৩১ মে থেকে জেলা ভিত্তিক কর্মকান্ড শুরুঃ বাড়ছেনা আর সাধারণ ছুটি

সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিসে কাজ করবে। তবে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তার আগ পর্যন্ত অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকবে। বুধবার (২৭ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। ১৫ জুন পর্যন্ত সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফতরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে সীমিত আকারে চালু থাকবে। বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলারা অফিসে আসবে না, গণপরিবহন চলবে না। আপাতত স্কুল, কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ১৫ জুন পর্যন্ত। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে যোগ দিতে হবে।’ এর আগে সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সারাংশে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেন। রাত আটটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের মতো চলাচল সীমিত থাকবে। হাটবাজার দোকানপাটে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গণপরিবহন, নৌযান ও রেল চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রাইভেট কার জাতীয় বাহনসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন সব ধরনের যানবাহন চলবে। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কোনও অফিস সীমিত আকারে পরিবহন চালু করবে কিনা সে সিদ্ধান্ত  তারা নিজেরাই গ্রহণ করবে। নিজ ব্যবস্থায় বিমান চালাচল করতে পারবে। সভা-সমাবেশ গণজমায়েত বন্ধ থাকবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে সীমিত পরিসরে সব অফিস খোলা রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাগরিক জীবনের সুরক্ষার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। জেলার পবেশমুখে চেকপোস্ট থাকবে।
© cc visual hunt

লকডাউনের সময় বাড়িতে ড্রিংকিং বেড়েছে

বিয়ার, ওয়াইন ও স্পিরিট অ্যালকোহল

বোজ বুম: লকডাউনের সময় বাড়িতে ড্রিংকিং বেড়েছে

মঙ্গলবার, মে 26, 2020
  • মহামারী চলাকালীন বিয়ার ও ওয়াইনের বিক্রি অনেক বেড়েছে, তবে নীলসেনের তথ্য অনুসারে স্পিরিট অ্যালকোহল  বিক্রি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
  • নীলসেনের তথ্য অনুযায়ী, জিনের খুচরা বিক্রয় গত ২২ মে অবধি নয়-সপ্তাহে 42.5% বেড়েছে।
  • অ্যালকোহল উত্পাদনকারীরা লকডাউনের সময় কাজ করতে অক্ষম বারটেন্ডারদের সহায়তা করার প্রচেষ্টায় অনুদান দিচ্ছেন।
© cc visual huntকরোনা ভাইরাস মহামারীর সময়ে পশ্চিমা  দেশের প্রায় সব বারগুলি বন্ধ করতে হয়েছিল। যদিও বা কেউ কেউ টেকআউটের জন্য ককটেল মিশ্রিত করছে , কিন্তু খুচরা আউটলেটগুলি থেকে এই বছর স্পিরিট অ্যালকোহলের বিক্রি অনেক বেশি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ার এবং ওয়াইন বিক্রয় গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে লকডাউনের সময় মার্কিনীরা ক্রমশ: স্পিরিট অ্যালকোহলের দিকে বেশী ঝুকেছে।

নীলসনের তথ্য অনুসারে, মে মাসে শেষ হওয়া নয়-সপ্তাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহলের অফ-প্রোমিজ বিক্রয় গত বছরের তুলনায় 34.1% বেড়েছে, একই সময়ে ওয়াইনের বিক্রি 30.1% বেড়েছে। বিয়ার বিক্রয় বেড়েছে 12.6%।

© cc visual huntব্যাকার্ডির মালিকানাধীন জিন ব্র্যান্ড বোম্বাই সাফায়ারের ব্র্যান্ড ডিরেক্টর টম স্পেনের মতে লোকেরা ঘরে তৈরি ককটেলগুলির দিকে ঝুঁকছে। তিনি সিএনবিসিকে বলেন, "সহজভাবে  সাধারণ দুই থেকে তিনটি উপাদান দিয়ে ককটেল প্রিমিয়াম মিক্সারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।" ভার্চুয়াল ককটেল আওয়ার হোস্ট করে অনেকেই এখন  তাদের প্রিয় ককটেল রেসিপিগুলি পুনরায় তৈরি করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অ্যালকোহল পান করা কোভিড -১৯ বন্ধ করার উপায় নয় এবং ঘন ঘন বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আমাদেরই সবার আগে এই কিট বিশ্ববাসীর সামনে আনার সুযোগ ছিল: ড....

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল। গত কিছুদিন ধরে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন করোনাভাইরাস শনাক্তের ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ কিট উদ্ভাবন করে। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদের গবেষণার সুফল এই কিট।

ড. বিজন ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া নাটোরের কৃষক পরিবারের সন্তান ড. বিজন সামনে এসে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে জানা যায়, তার সকাল-দুপুর-রাতের অনেকটা সময় কাটে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে। ড. বিজন বনপাড়া সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেটেরিনারি সায়েন্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক পাস করেছিলেন। অণুজীব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। কমলওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ‘শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি’ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তিনি সুপরিচিত গবেষক-অণুজীব বিজ্ঞানী। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বহুল আলোচিত কিট ও করোনাকালে মানুষের করণীয়সহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে এই প্রথম সরাসরি কথা বললেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে। উদ্ভাবনের এতটা সময় পরেও কিটের সুফল মানুষ না পাওয়ায়, একটা কষ্ট হয়ত ভেতরে জমে আছে। যদিও তা প্রকাশ করতে নারাজ। তাকিয়ে আছেন সামনের আলোর দিকে। উদ্ভাবিত কিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতেই ড. বিজন কুমার শীল বললেন- করোনাভাইরাস শনাক্তের ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট কিট’ নিয়ে আমাদের দিক থেকে যা করার ছিল তা আমরা সম্পন্ন করেছি। নিজেরা পরীক্ষা করে অত্যন্ত সন্তোষজনক ফল পেয়েছি। কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্যে বিএসএমইউকে ৪০০ কিট দিয়েছি। তারা ট্রায়াল শুরু করেছে। ধারণা করছি তারা ভালো রেজাল্ট পাচ্ছে। শুরু থেকেই আপনারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, আপনাদের উদ্ভাবিত কিট প্রায় শতভাগ সফল। এতটা আত্মবিশ্বাসের কারণ কী? আমরা অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন দুটি পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছি। এই দুটি পরীক্ষা যদি সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রায় সব রেজাল্ট সঠিক পাওয়া যায়। শতভাগ হয়ত বলা যায় না। সামান্য এদিক সেদিক হতে পারে। যদিও আমরা প্রায় শতভাগ সাফল্য পেয়েছি। যে কথা ডা. জাফরুল্লাহ স্যার বারবার বলেছেন। ডায়াগনস্টিকের দুটি উইন্ডো থাকে। একটি ভাইরাল উইন্ডো, অন্যটি হোস্ট উইন্ডো। হোস্ট মানে মানব শরীর। কোনো ব্যক্তি যখন ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হন, তখন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী যে অঙ্গগুলো থাকে তারা একটি বায়োমার্কার তৈরি করে। এই বায়োমার্কার শরীর থেকে ভাইরাস দূর করে। আমাদের কিট দিয়ে অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন অর্থাৎ দুটি উইন্ডোই পরীক্ষা করা যাবে। আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি বা শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতাম তাহলে সব ভাইরাস শনাক্ত করতে পারতাম না। যেহেতু আমরা দুটি পরীক্ষাই করতে পারছি, সেহেতু আমাদের সাফল্যের হার অনেক বেশি। একটি উদাহরণ দিয়ে বললে হয়ত বুঝতে সুবিধা হবে। গত রোববার একটি ডাক্তার পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাবা-মা-ছেলে তিনজনই ডাক্তার। ছেলে গত ১০ মে হাসপাতাল থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১২ মে পিসিআর পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। তার বাবা-মাও পজিটিভ। তাদের নমুনা আমাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম ছেলের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বাবার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সামান্য, যা শনাক্ত করা যায় না বললেই চলে। কিন্তু তার অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। মায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি, অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। এই তিনজনের ক্ষেত্রে আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতাম, তবে শনাক্ত হতো একজন। যদি শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হতো, তাহলে শনাক্ত হতেন দুইজন। যেহেতু আমরা অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন দুটিই পরীক্ষা করতে পেরেছি বলে তিনজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছি। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্ভাবিত গণস্বাস্থ্যের কিটের বিশেষত্ব। সে কারণেই শতভাগ সাফল্যের প্রসঙ্গ আসছে। আমরা করোনাভাইরাস শনাক্তের পূর্ণাঙ্গ একটি কিট মানে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শনাক্তের একটি পদ্ধতি দেশকে, বিশ্ববাসীকে দিতে যাচ্ছি। এটা হচ্ছে আমাদের আনন্দ। https://youtu.be/VUvtuKUP-M0 কিন্তু দেশের মানুষ বা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে কি একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে? করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা আমরা প্রথম দিয়েছি। আমেরিকা, ইউরোপ আমাদের অনুসরণ করেছে। সেনেগালসহ আরও অনেক দেশ আমাদের পরে শুরু করে কিট তৈরি করে ফেলেছে। তবে সেনেগালেরটা শুধু অ্যান্টিবডি, অ্যান্টিজেন না। আমাদের মতো অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন শুধু আমেরিকার একটি কোম্পানি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা সবার আগে উদ্ভাবন করলেও, বাজারে আনতে পারিনি। অন্যরা বাজারে নিয়ে এসেছে। শুরু থেকে আপনাদের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে বারবার লিখেছি। সে কারণে হয়ত গত দুই-তিন দিনে বেশ কয়েকজন প্রশ্ন করেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের কী হলো? ধন্যবাদ যে আমাদের উদ্ভাবন নিয়ে ইতিবাচকভাবে বারবার লিখেছেন। বাজারে আসতে দেরি হওয়াই হয়ত এই প্রশ্নের কারণ। বেশ দেরি হয়ে গেল। আমাদেরই সবার আগে এই কিট বিশ্ববাসীর সামনে আনার সুযোগ ছিল, সম্ভাবনা ছিল। যাই হোক, এখন বিএসএমএমইউতে কিটের ট্রায়াল চলছে। ধারণা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে তারা রিপোর্ট দিতে পারবে। তাদের হয়ত একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। সময় লাগে। প্রথমে ২০০ অ্যান্টিবডি এবং পরে ২০০ অ্যান্টিজেন কিট দিয়েছি। আরও ৬০০ কিট প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের দেওয়ার জন্যে।আশা করছি ঈদের ছুটির মধ্যে তারা কিট পরীক্ষা অব্যাহত রাখবেন। বিএসএমইউতে জায়গা-সংরক্ষণের স্বল্পতা আছে। সে কারণে সব কিট একবারে দিতে পারছি না। অল্প অল্প করে দিচ্ছি। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ত তারা রিপোর্ট দিয়ে দিবে। বিএসএমইউ’র ট্রায়ালেও ভালো রেজাল্টই আসছে বলে ধারণা করছি। কারণ সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা-জ্ঞান এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের সেই অভিজ্ঞতা কি একটু বলবেন? আমি ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলাম। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তখন সিঙ্গাপুর সরকার সার্স ভাইরাস শনাক্তকরণ, ক্যারেকটারাইজেশন এবং ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব দিয়েছিল আমাদের ল্যাবকে। আমরা ল্যাবে সার্স ভাইরাস তৈরি করি। লক্ষ্য করি ভাইরাসটি অতি দ্রুত তৈরি হয়। ১২ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ভাইরাস তৈরি হয়। আমরা বিস্মিত হয়ে পড়ি, একটি ভাইরাস এত দ্রুত কীভাবে বৃদ্ধি পায়! বুঝতে পারি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের ভেতরে কীভাবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ক্ষতি করছে সার্স ভাইরাস। সিঙ্গাপুর সরকারকে আমরা ভাইরাসটির ভয়াবহতার রিপোর্ট দেই। গবেষণা চলতে থাকে। ভাইরাস শনাক্তকরণের কিট উদ্ভাবন করি। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের খুব একটা পার্থক্য নেই। এখন যে পিসিআর টেস্ট হচ্ছে সেটা তখন আমরা সিঙ্গাপুরে ডেভেলপ করেছিলাম। সর্বশেষে উদ্ভাবন করেছিলাম ডট ব্লট কিট, যেটা এখন গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে করছি। ডট ব্লট কিটে খুব দ্রুত মাত্র ১৫ মিনিটে রেজাল্ট পাওয়া যেত। যেটা আমার নামে পেটেন্ট করা। ডট ব্লট পদ্ধতিতে এখন রেজাল্ট পাওয়া যাবে তিন থেকে পাঁচ মিনিটে। অন্য পদ্ধতির পরীক্ষায় রেজাল্ট পেতে দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগত। সিঙ্গাপুরে যত মানুষ সার্সে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের সবাইকে আমরা পরীক্ষা করেছিলাম। ২০০৩ সালের ৩১ মে পৃথিবী থেকে সার্স ভাইরাস দূর করা হয়েছিল। তারপর এটা নিয়ে আর কাজ করিনি। আপনার গণস্বাস্থ্যে যোগ দেওয়া ও করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াটা নিয়ে জানতে চাই। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে এসেছি। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। তখন চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তখন এটা নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমি তখন ডাক্তার জাফরুল্লাহ স্যারকে বললাম, আমার এই ভাইরাস নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এটা একটা ভয়াবহ ভাইরাস। এই ভাইরাস শনাক্তের কিট বিষয়ে আমি জানি। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তাকে জানালাম। তিনি আমাদের করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করতে বললেন। আমরা গবেষণা শুরু করলাম ফেব্রুয়ারি মাসে। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের আসলে মিল কতটা? মূলত একই ভাইরাস। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের মিল প্রায় ৮২ শতাংশ। সার্স ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা গিয়েছিল, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যায়নি। সার্সের বিস্তার রোধ করা না গেলে তখনও এখনকার মতো অবস্থা হতো। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে করোনাভাইরাস নিয়ে তো তেমন আতঙ্ক দেখা দেয়নি। এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আপনি কি তা বুঝতে পেরেছিলেন? চীনে যে সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলছিল, সেই সময়টা ছিল ভাইরাস বিস্তারের জন্যে অত্যন্ত উপযোগী। চীনা নববর্ষের কথা বলছি। এটা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। চীনা নববর্ষে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ কোটি চাইনিজ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়। এভাবে করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আমি ধারণা করছিলাম। এটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে যাচ্ছে তাও অনুধাবন করছিলাম। কারণ পৃথিবীর এমন কেনো দেশ নেই যেখানে চীনারা কাজ করেন না। ২০০৩ সালের পৃথিবীতে মানুষের এতটা যাতায়াত ছিল না। বাজেট এয়ারলাইন্স পৃথিবীতে মানুষের যাতায়াত বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আবার সিঙ্গাপুরে যাই এবং ফিরে আসি ১৭ ফেব্রুয়ারি। ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল করোনাভাইরাসের উপর একটি মিটিংয়ের আয়োজন করে। সেই মিটিংয়ে যোগ দেই। সেখানে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের ডাক্তার, বিশেষজ্ঞদের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। সেই মিটিংয়ে বলেছিলাম, করোনাভাইরাসকে যদি আমরা ছোট করে দেখি তবে ভুল করব। এটা কিন্তু ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়বে। আপনারা এখনই একটি ইমারজেন্সি প্লান নেন, যাতে প্রতিরোধ করা যায়। আসলে হয়েছে কি, খোদ আমেরিকা বা ইউরোপও বুঝতে পারেনি ভাইরাসটি এত দ্রুত ছড়াতে পারে। সবাই হয়ত ধারণা করেছিল ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাসের মতো, এটারও হয়ত বিস্তার ঠেকানো যাবে। আমার সিঙ্গাপুরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় ভয়াবহতার বিষয়টি বুঝতে পারছিলাম। সতর্কও করেছিলাম। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে কিট উদ্ভাবনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর পৃথিবী লকডাউনে চলে গেল। অনেক বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে সহায়তা পেয়েছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সহায়তা পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাতেই আমাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজটি এগিয়েছে। কিন্তু তারপরও এত দেরি হয়ে যাচ্ছে কেন? অনেক বিষয় আছে। এখন আর সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। বিএসএমইউ কিট পরীক্ষা করছে। আমরা গবেষণা অব্যাহত রেখেছি। প্রতিদিন কিছু কিছু উন্নতি করছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কিটের অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাওয়ার আশা করছি। আর পেয়ে গেলে এটা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের কাজে লাগবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্যে এমন একটি কিট অত্যন্ত জরুরি। অনেক মানুষ সম্ভবত আক্রান্ত হয়ে গেছে। পরীক্ষার অভাবে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সেখানে আমাদের কিট দিয়ে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা যাবে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা হয়ত অনেক। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বিচারে সরকারি, বেসরকারি হিসেব মিলিয়েও তো অনেক কম। এর কারণ কী? এ ক্ষেত্রে আশার দিকটি হলো, বাংলাদেশে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই শরীরে ভাইরাসের ক্ষতির দিকটি খুব দুর্বল। যে ডাক্তার পরিবারের কথা বললাম তারাও খারাপভাবে আক্রান্ত হননি। অর্থাৎ জীবনের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শনাক্তের দুর্বলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা কম। কত মানুষ যে আক্রান্ত হয়েছে, আবার সুস্থ হয়ে গেছে-তা হয়ত তারা নিজেরাও জানেন না। তাদের থেকে হয়ত অনেক মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। এ কারণেই শনাক্ত করা খুব জরুরি। যারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। দুই চার বছরের মধ্যে তার আর আক্রান্তের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ায় দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় দফায় আবার সংক্রমণ হচ্ছে। একটি জায়গায় হয়ত ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো গেছে। কিন্তু অন্য আরও বহু জায়গায় তো রয়ে গেছে। আপনি দেয়াল তৈরি করে পানি ঠেকাতে পারবেন। আবার কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় পানি আসতেও পারে। আক্রান্ত কেউ হয়ত সেসব জায়গায় যাচ্ছে। সবার তো আর উপসর্গ থাকে না। তাদের থেকে অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছে। আপনাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা হবে কোথায়? এর জন্য কি ল্যাব দরকার হবে, না যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করা যাবে? এটা নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা করা অত্যন্ত সহজ। দেখিয়ে দিলে যে কেউ তা করতে পারবে। এর জন্য ল্যাব জরুরি না। যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করা যাবে। কিন্তু এর একটি ঝুঁকির দিক আছে। যদি খুব সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা না হয়, তবে যারা পরীক্ষা করবেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সে কারণে ভাবছি, অ্যাপ্রুভাল পেয়ে গেলে প্রথমাবস্থায় আমরা ল্যাবেই পরীক্ষা করব। যত্রতত্র পরীক্ষার দিকে শুরুতেই যেতে চাচ্ছি না। পর্যায়ক্রমে আমরা যত্রতত্র পরীক্ষা করব। সেভাবেই পরিকল্পনা করছি। ল্যাবেই যদি পরীক্ষা করা হয়, তবে কি গণহারে পরীক্ষা করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। পিসিআরে একটি পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে দুই দিন লেগে যাচ্ছে। একটি ল্যাবে যদি ৫০০ স্যাম্পল আসে, পরীক্ষা করতে হয়ত ১০ দিন লাগছে। সেখানে আমাদের কিট গিয়ে একদিনেই ৫০০ পরীক্ষা করে রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। একটি ল্যাবে একদিনে কয়েক হাজার পরীক্ষা করা যাবে। একটি পরীক্ষায় সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট। এক্ষেত্রে আরেকটি কথা বলে রাখা দরকার, পরীক্ষায় শনাক্ত করা গেল কিনা তা অনেকটা নির্ভর করে, কে কখন পরীক্ষার জন্যে যাচ্ছেন তার উপর। একজনের হয়ত সামান্য কাশি হলো, প্রথম দিনই তিনি পরীক্ষার জন্যে গেলেন। আরেকজন হয়ত কাশির সাত দিন পরে গেলেন। প্রথম দিন যিনি গেলেন পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক আসবে। সাত দিনের দিন যিনি গেলেন, পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক নাও আসতে পারে। আমাদের কিটের টেস্টে দুইজনের রেজাল্টই সঠিক আসবে। প্রথম দিনের জনের অ্যান্টিজেন ও সাত দিনের জনের অ্যান্টিবডি টেস্ট সঠিক আসবে। ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমের কারণে গবেষক-বিজ্ঞানী হিসেবে আপনার একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে দেশের মানুষের উদ্দেশে কিছু বলবেন? মানুষ কী করবে বা কী করা উচিত? করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের সবাইকে এর মুখোমুখি হতে হবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই মারা যাওয়া। এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে, তার ক্ষতিকর দিকটি বেশ দুর্বল। আক্রান্তের পর আপনি যদি আতঙ্কিত হয়ে নার্ভাস না হন, ভাইরাস আপনার তেমন ক্ষতি করতে পারবে না। যদি একটু খারাপ লাগতে থাকে, জ্বরজ্বর বা অল্প কাশি অনুভূত হয়, তবে দিনে তিন চারবার হালকা রং চায়ে গোলমরিচ, লং দিয়ে খাবেন এবং তা দিয়ে তিন চারবার গার্গল করবেন। এতে ভাইরাস ফুসফুসে ঢোকা ঠেকানো যাবে। আর ভিটামিন-সি’র কোনো বিকল্প নেই। এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের সকালে ২৫০ রাতে ২৫০ মোট ৫০০ এমজি ভিটামিন সি খাওয়া দরকার। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন সি’র দাম বেশি না। আমলকিসহ এ জাতীয় যা এখন পাওয়া যায়, সেগুলো খেতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র একটি ভিটামিন সি জিঙ্ক তৈরি করছে। এটা খুবই ভালো। জিঙ্ক ট্যাবলেটও এ ক্ষেত্রে উপকারী। সব মানুষের আরেকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখা দরকার, থুথু যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও কেন থুথু বিষয়ে বলছে না, বুঝতে পারছি না। হাঁচি বা কাশির চেয়ে থুথু অনেক বেশি বিপদের কারণ হতে পারে। থুথু শুকিয়ে ডাস্টে পরিণত হয়ে ভাইরাস অনেক দিন টিকে থাকতে পারে। থুথু বা কফ থেকে পানির মাধ্যমে ভয়াবহভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সবার সতর্ক হওয়া দরকার। কোনো আক্রান্ত রোগীর প্রস্রাব বা পায়খানা যদি পানির লাইনে সংমিশ্রণ ঘটে যায়, সেটাও হতে পারে বড় বিপদের কারণ। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। আর সাধারণ সবজি-ফল পরিষ্কার পানি দিয়ে দুইবার ধুয়ে নিলেই চলবে। সতর্ক থাকতে হবে। কোনো কিছু নিয়েই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আতঙ্কিত হলে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। https://youtu.be/xQCyvJSjuU0
  • A new antibody test has been approved by the UK after an independent evaluation showed it had a high degree of accuracy and specificity.
  • The test, developed by Roche, is one of a number approved for use internationally.
  • Such tests are a key feature in many governments’ plans to relax lockdown.
  • But uncertainty remains over how much protection from the virus is provided by past infection.
According to its developer, Swiss pharma giant Roche, the antibody test “has a specificity greater than 99.8% and sensitivity of 100%”, pinpointing antibodies to COVID-19 present in blood samples. After independent testing by Public Health England found the Roche test to be highly specific and accurate it became the first coronavirus antibody test approved in the UK. A second test, from Abbott Laboratories, has since also been approved in the UK. Both also have approval for use from the US Food and Drug Administration.
গোলাম মোর্তোজা
CC Visual Hunt ©

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!CC Visual Hunt ©

গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ১২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে মারা গেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনায় দিন দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই।

এদিকে যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে, সেসব দেশে শিগগিরই দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

ডাব্লিউএইচও'র জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, সারাবিশ্বজুড়ে প্রথমবার সংক্রমণের মধ্যবর্তী অবস্থায় আছি আমরা। আমরা এমন এক অবস্থায় আছি, যখন এটি যে কোনো সময় ফিরে আসতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এ বছরের শেষের দিকেই আবারো করোনার প্রকোপ দ্বিতীয়বার শুরু হতে পারে। এমনকি যে সব দেশে করোনার প্রকোপ কমে গেছে, সেসব দেশেও দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে যে কোনো সময়।

সে কারণে তিনি বলেছেন, যে কোনো সময় এই ভাইরাসের হানা বেড়ে যেতে পারে। প্রকোপ কমে যাচ্ছে দেখে ভাবলে চলবে না যে, এটি এখন কমেই যাবে। দ্বিতীয়ঝড়ের জন্য বেশ কয়েকমাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সম্ভবত আমরা দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরুর খুব কাছাকাছি রয়েছি।

বিডি-প্রতিদিন  নিউজ লিংক

বেতন কমবে সব সেক্টরের শ্রমিকদের

বেতন কমবে পোশাক শ্রমিকদের

| গোলাম মওলা |
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে দেশের গার্মেন্টস সেকটরসহ বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় কমে গেছে। লকডাউনের কারণে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে আছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পথে। এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারছে না বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, বেতন-ভাতা দিতে না পেরে শ্রমিকদের ছাঁটাই করার ঘটনাও ঘটেছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। গার্মেন্টস মালিকরা বলছেন, যেসব শ্রমিক ঈদে বাড়িতে চলে গেছেন, তারাতো চাকরি হারাবেনই, যারা ঠিক মতো কাজ করেন না, তারাও চাকরি হারাবেন।

মালিকদের অনেকেই বলছেন, আগামী জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা আরও বাড়বে। আর যারা চাকরিতে থাকবেন, তাদেরও অনেকের বেতন কমে আসবে। এরইমধ্যে গার্মেন্টস মালিকরা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক কমানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএ’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘করোনার এই দুঃসময়ে শিল্প-প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক— এই তিন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, উৎপাদন নেই, এমন কারখানা শুধু বসিয়ে বসিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের শ্রম আইন তিন বছরের জন্য স্থগিত করেছে। আমাদেরও সেই পথেই এগোতে হবে। সিদ্দিকুর রহমান জানান, শ্রমিকরা কত টাকা বেতনে চাকরি করবে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকেই এ ধরনের প্রপোজাল আসতে হবে। তা না-হলে আপনা-আপনিই গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। আর কারখানা বন্ধ থাকলে এমনিতেই শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে অধিকাংশ মালিক শ্রমিকদের বোনাস দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে।’ আগামী জুনের পর থেকে কেবল অতি প্রয়োজনীয় শ্রমিক দিয়েই উৎপাদনে থাকতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন,  ‘উৎপাদন ঠিক রাখার পাশাপাশি শ্রমিকরা যাতে করোনা বিস্তারের কারণ না হয়, সে জন্য এই ঈদে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়িতে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করে কেউ গ্রামে গেলে, তার শাস্তিতো তাকে পেতেই হবে। কোনও মালিকই গ্রাম থেকে ফিরে আসা শ্রমিককে ১৪-১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে বেতন দেবেন না। তবে কে গ্রামে গেছে, আর কে যায়নি, সেটা বের করা কঠিন।’ তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার অংশ হিসেবে কিছু শ্রমিক কমাতে হবে। এছাড়া ক্রয়াদেশ না থাকার কারণেও শ্রমিককে বিদায় দিতে হবে। সেটা আগামী দু-এক মাস থেকেই। সে ক্ষেত্রে যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারাই আগে ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়বেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে আমরা এপ্রিল ও মে— এই দুই মাস শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়েছি। এরপর যারা বাড়ি গিয়ে করোনা নিয়ে আসবেন তাদেরকে ১৪/১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে কেউ বেতন দেবে না।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান বলেন, ‘শ্রমিকরা গার্মেন্টস মালিকদের দাস নয়। বাড়ি থেকে ফিরে কারখানায় জয়েন করতে পারবে না কেন? এটা কোন আইনে আছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ঈদ সবার জন্য। শ্রমিক বলে কি তাদের ঈদ নেই? তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন বন্ধ থাকা কারখানার শ্রমিকরা মজুরি-ভাতা পাননি। কারখানাগুলোর মালিকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র মুখপাত্র কামরুল আলম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বাড়ি যেতে নিষেধ করেছি। যদি কোনও শ্রমিক বাড়ি গিয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এবার শ্রমিকরা হয়তো বাড়ি যাবেন না। যাদের হাতে কাজ আছে, সেসব কারখানা হয়তো ২৬-২৭ তারিখেই খুলবে। ফলে এই তিন-চার দিনের জন্য যাওয়া-আসার চেষ্টা হয়তো কেউ করবেন না। বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকদের বলে দেওয়া আছে— ঈদের তিন দিন কোনও শ্রমিক বাড়ি যাবেন না।’ তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা খোলার দিন সব শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করতে হবে বাড়ি গিয়েছিলেন কিনা। যদি বলেন যে, বাড়ি যাইনি। তাহলে তিনি জয়েন করবেন। বাকিরা জয়েন করতে পারবেন না।’ এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য নির্দেশ ছিল— তারা যেন বাড়িতে না যায়। কিন্তু কারা গেলো, বা কারা গেলো না, তা চিহ্নিত করা মুশকিল।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্যাক্টরি চালাতে হবে। গ্রামে যাওয়া-আসার কারণে করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা থাকে। কাজেই বাড়িতে যাওয়া শ্রমিকের কারণে অন্য শ্রমিকরা যাতে আক্রান্ত না হয়, সেই দিকটা খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দিনগুলোতে কী হবে তা বলা মুশকিল। অর্ডারের কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে শ্রমিকের চাকরি। তার ওপর নির্ভর করছে কারখানার মালিকের টিকে থাকা।  সর্বপরি দেশের অর্থনীতি সচল থাকার বিষয়। শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমানে চালু থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানা এখনও এপ্রিল মাসের মজুরি দেয়নি। পোশাক শ্রমিকদের মজুরি দিতে গত মার্চে মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে সরকার, যেখান থেকে মাত্র দুই শতাংশ সুদে পোশাক শিল্প মালিকদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এপ্রিলে মজুরি কমিয়ে ৬৫ শতাংশ ও ঈদ বোনাস অর্ধেক পরিশোধ করছেন মালিকরা। শুধু গার্মেন্টস নয়, অন্যান্য সেক্টরেও শ্রমিক কমানোর পরিকল্পনা করছেন মালিকরা। জানতে চাইলে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রির মালিক কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমার কারখানা তিন মাস ধরে বন্ধ। এই তিন মাস বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়েছি। কিন্তু অর্থের অভাবে শ্রমিকদের এবার বোনাস দিতে পারিনি। আগামী মাস থেকে হয়তো বেতনও দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে জুন থেকে হয়তো কিছু শ্রমিককে বিদায় দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানের মালিকই এখন অর্থ সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। আর অর্থ সংকটে পড়লে প্রথম আঘাতটা আসে শ্রমিকের ওপর। বিস্তারিত বাংলা ট্রিবিউনের সরাসরি নিউজ লিংক   

করোনায় মারা গেলেন গাইনি চিকিৎসক আমেনা খাতুন

করোনায় মারা গেলেন গাইনি চিকিৎসক আমেনা খাতুন

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের আমেনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আমেনা খাতুন মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আমেনা খাতুনের ছেলে এম আবুল বাশার সিদ্দিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস) হিসেবে অবসর নেওয়ার পর থেকে মা বাড়ির নিচতলায় আমেনা জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখতেন। সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হলেও সেখানে নিয়মিত যেতে হতো না। ১৫ দিন আগে তার করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। নয় দিন আগে আইইডিসিআরের রিপোর্টে জানা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত। বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।’ ‘আগে থেকেই তার সিভিয়ার অ্যাজমার সমস্যা ছিল। তার বয়স ৬৩ বছর। গত মঙ্গলবার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আজ সকালে তার ‍মৃত্যু হয়। আমরা বার বার বলেছি, ক্লিনিক বন্ধ করে দাও। মা বলতেন, ক্লিনিক বন্ধ করে দিলে রোগীরা কোথায় যাবে? তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন। আমাদের ধারণা, হাসপাতাল থেকেই তিনি আক্রান্ত হয়েছেন’— বলেন এম আবুল বাশার সিদ্দিক। নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমেনা জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ /দ্য ডেইলি স্টার

বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা: মাস্ক তৈরির বিকাশমান কুটির শিল্প

বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকা: মাস্ক তৈরির বিকাশমান কুটির শিল্প

দাতব্য সংস্থা, এনজিও ও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো চেষ্টা করছে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে। তারা করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সুরক্ষা সামগ্রী তৈরির চেষ্টা করছে। এতে একদিকে যেমণ এক শ্রেণীর মানুষের উপার্জনের পথ তৈরি হচ্ছে, তেমনি বাজারে সুরক্ষা সামগ্রীও সহজলভ্য হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে কুটির শিল্প হিসেবে মাস্ক তৈরি শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। মাস্ক তৈরি এবং বিক্রয়ের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনের কর্মী, ড্রাইভার, দোকানদার থেকে সাধারণ মানুষ সবাই এসব মাস্ক ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, শপিং মল এবং গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। দেশটির রফতানির ৮৪ শতাংশ হয় এই গার্মেন্ট খাতে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলায় একটি মানবিক সহায়তামূলক সংস্থা পানি বিশুদ্ধকরণ উপকরণ তৈরির জন্য স্থাপিত তাদের কারখানাটি এখন মাস্ক তৈরির শিল্পে রূপান্তরিত করেছে। শ্যামলাপুর গ্রামে মূলত জেলেদের বসবাস। এখানকার ছোট ছোট কারখানা থেকে তৈরি মাস্ক সরবরাহ করা হয় কক্সবাজার জেলায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। সপ্তাহখানেক আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম করোনা আকান্ত রোগী শনাক্ত হন। সাহায্য সংস্থাগুলো এরপর থেকে ক্যাম্পে কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শংকায় আছেন। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড স্টেশন, সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা রেজিনা ক্যাটর‌্যাম্বোন বলেন, “বিভিন্ন দেশে দ্রæতগতিতে মহামারী ছড়িয়ে পড়া দেখে আমরা চিন্তা করি কীভাবে আমাদের সামর্থ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশে কভিড-১৯ মহামারীর ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়। আমরা বিভিন্ন সমীক্ষা করি এবং মাস্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। আমরা মাস্কের প্রাথমিক নকশা করে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনকে দেখাই।” রেজিনা বলে চলেন, “এরপর আমরা ৭০ জন দর্জির একটা দল তৈরি করে সুতী কাপড়ের মাস্ক তৈরি শুরু করি। সেগুলো জীবানুমুক্ত করে আমরা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন এর সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করি। এগুলো সার্জিকাল মাস্ক বা এন৯৫ নয়, কিন্তু যখন অন্য কোনো উপায় নেই তখন এগুলোই অনেক কাজে লাগে।” আফ্রিকার রাখালদের কাছে মাস্ক পৌঁছে দিচ্ছে জেব্রা ট্রাস্ট নামের একটি দাতব্য সংস্থা ২৫ মার্চ এই মাস্ক তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড স্টেশন এর উদ্যোগে স্থানীয় দর্জিরা প্রায় ৯০ হাজার মাস্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় সহযোগী ‘নোঙ্গর’ এর সহায়তায় মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড কক্সবাজারেও মাস্ক তৈরির কারখানা চালুর পরিকল্পনা করছে। আগামী তিন মাসে তাদের লক্ষ্য ২ লাখ মাস্ক তৈরি করা। রেজিনা বলেন, ‘কাজটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে উপার্জনের কোনো পথ নেই, তাই দর্জিরা মাস্ক তৈরির মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।’ কেনিয়াতেও বাংলাদেশের মতো মাস্ক তৈরির কুটির শিল্প বিকশিত হচ্ছে। কেনিয়াতে মাস্ক ছাড়া পাবলিক প্লেসে বের হলে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তি চালু করা হয়েছে। আগামী এক বছরে আফ্রিকার ৫টি দেশে ৫০ কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। আফ্রিকায় বহুদিন ধরে কাজ করছেন এইড ওয়ার্কার এমিলি সেরালটা। তিনি এপ্রিল থেকেই কঙ্গোতে মাস্ক তৈরির কারখানা চালু করেছেন। তারা কঙ্গোসহ কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগালে মাস্ক সরবরাহের পরিকল্পনা করছেন। দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে শানজিদ অর্ণব | সূত্রঃ বনিকবার্তা

৫৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি!

প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি: গত বছরের তুলনায় কেনাকাটা কমেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকার!

গোলাম মওলা

পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পুরো মাস রোজা রাখার পর নিজের সেরা পোশাক পরে, সুগন্ধী ব্যবহার করে, মিষ্টান্ন খেয়ে ঈদের নামাজে অংশ নেওয়ার কথা বলা আছে ধর্মীয় রীতিতে। সংখ্যাগুরু মুসলমান তাই এই ঈদ উপলক্ষে নিজের ও পরিবার সদস্য-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে ভালোবাসে। আর এ কারণেই এই উৎসবে সাধারণত নতুন পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, নারীদের গহনা, প্রসাধনী, অলঙ্কার ও বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, খাদ্যপণ্য সামগ্রী কেনাকাটার ধুম পড়ে। তার সঙ্গে এটা-ওটা দরকারি জিনিস যোগ হতে হতে নাড়াচাড়া পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। তবে এ বছর এর পুরো ব্যতিক্রম। প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার এই ঈদের অর্থনীতি করোনা ভীতিতে এবার প্রায় পুরোটাই স্থবির ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি,  ঈদে কেনাকাটা কমেছে অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকার। অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আরেকটি সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখের সময় বন্ধ থাকার পর এই ঈদ উৎসবেও বন্ধ ছিল দেশের বেশিরভাগ শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট। ফলে যে ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাজার ও দেশের অর্থনীতি চাঙা করতো এবার তার প্রায় কিছুই নেই।  বন্ধ শপিং মল, দোকানপাটগুলোর দিকে চেয়ে এবার শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন সেই ব্যবসায়ীরা- অন্যান্যবার একই জায়গায় বেচাকেনায় যাদের দম ফেলার অবকাশ থাকতো না। যারা দোকানপাট খুলতে পেরেছেন, হতাশ তারাও। করোনা ঝুঁকি নিয়েও সরকারের বিশেষ অনুমতিতে গত ১০ মে থেকে সারা দেশে যেসব শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট খুলেছিল সেগুলোর প্রথম শর্ত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং বিকাল চারটার মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। ফলে বেঁধে দেওয়া সময় থাকায় এসব নিয়মের প্রায় কিছুই পূরণ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ক্রেতাদের ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশ না মানার প্রবণতা। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় খোলার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ জেলার এসব দোকানপাট। সব মিলিয়ে হতাশায় পুড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোতে বেচাকেনা হয়েছিল অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। এবারের ঈদে এই সামান্য সময়ে বেচাকেনা হয়েছে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত রমজানের  ঈদের তুলনায় এবার অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, গত রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল, এবার সে ধরনের ব্যবসা একেবারেই হয়নি। এবার সব ধরনের ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ঈদের আগে সরকার দোকান, মার্কেট খুলে দেওয়ায় সারা দেশের ৫৬ লাখ ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কোনোমতে আত্মসম্মানটা বাঁচাতে পেরেছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের কারণে ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীকে কারও কাছে হাত পাততে হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ১০ মে থেকে সরকার দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার অনুমতি দিলেও তাতে ভোক্তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি মার্কেট চালু করার সুযোগ পেয়েও করোনা সংক্রমণ রোধ করতে বড় বড় শপিং মলগুলো বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় রীতি আর সমাজবদ্ধ জীবনের অভ্যাসগত কারণেই ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা মুসলিম সমাজে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। পরম্পরা ধরে চলে আসা এই রেওয়াজের কারণে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয়-জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে কেনাকাটা করতো সাধারণ মানুষ। ১৫ রোজার পর এই কেনাকাটার মাত্রা বেড়ে যেত বহুগুণ। আগের বছরগুলোয় ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসতো ততই নগরীর মার্কেটগুলোয় ভিড় বাড়তো। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ধারণা, গত বছর পর্যন্ত ঈদের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু, করোনার কারণে এ বছর ঈদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অন্যান্য বছর ঈদ উপলক্ষে অর্থের বড় একটা জোগান আসতো সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস, গতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, জাকাত ও ফিতরা থেকে।  এ ছাড়াও অন্যতম একটি উৎস ছিল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স), যা চাঙা করতো গ্রামীণ অর্থনীতি। তবে এবছর বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বোনাস দিতে পারেনি, অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে অর্ধেক। বেতন বকেয়া রেখেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বোনাস হলেও অনেকে কেনাকাটা করতে পারেননি। আর নিম্ন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় নিত্য দরকারি খাদ্যপণ্য জোগাড়েই ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে তাদের। কেনাকাটার চিন্তাও করতে পারেনি তারা। দরিদ্র ও দুস্থরা তো পুরোপুরি সরকারি বেসরকারি ত্রাণ ও সহায়তার ওপরে এখনও নির্ভরশীল। মার্কেটের সামনে কেনাকাটা নয়, সাহায্য পাওয়ার আশায় ভিড় জমিয়েছিল তারা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে এবার ঈদের অর্থনীতি হতাশার। এ বছর ঈদে শ্রমিক, উদ্যোক্তা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ, এবার কেনাকাটার মানসিকতা ছিল না মানুষের। ফলে এ বছর ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি বহুলাংশে থমকে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিপণিবিতানগুলো। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন | ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন কবি নজরুল, অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও

সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন কবি নজরুল, অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও

May 25, 2020

যিনি কবিতা লেখেন, যিনি গান লেখেন সেই মানুষটিকে আবার কখনও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছিল তা ভাবতে অনেকেরই অবাক লাগবে। কিন্তু এটা ঘটনা বিদ্রোহী কবি নজরুলকে একটা সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হয়েছে।এপার ওপার দুই বাংলাতেই কাজী নজরুল এবং তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। বাঙালি কবি এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েছেন তিনি। কিন্তু এই মানুষটির জীবনের প্রথমদিকে একটা অংশ কেটেছে সেনাবাহিনীতে।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫মে। ১৯১৭ সালের শেষদিকে অর্থাৎ তখন তার বছর আঠারো বয়স, তখন নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তী কালে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশে যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। উক্ত রেজিমেন্টের পাঞ্জাবী মৌলবির কাছে তিনি ফার্সি ভাষা শিখেছিলেন। এছাড়া সহ-সৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন, আর গদ্য-পদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সঙ্গে। করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। করাচি সেনানিবাসে থাকাকালীন তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। সেই সব পত্রিকাগুলির মধ্যেরয়েছে প্রবাসী, ভারতবর্ষ, ভারতী, মানসী, মর্ম্মবাণী, সবুজপত্র, সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। এই সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল। এ সূত্রে বলা যায় নজরুলের সাহিত্য চর্চা চলতে থাকে এই করাচি সেনানিবাসেই‌ । সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর তিনি সেখানে যাননি। ১৯২০ সালে যুদ্ধ শেষে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।আর তিনিও তার সৈনিক জীবনের ইতি টানেন। ফিরে আসেন কলকাতায়।

বাংলাদেশ বৃহৎ আকারে পিপিই বানাতে সক্ষম, এই বিষয়টিকে অভিনন্দন জানায় যুক্তরাষ্ট্র

এমিরেটস’র একটি বিমানে বেক্সিমকোর তৈরি দেড় লাখ পিপিই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরি করা অল্প সংখ্যক দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হলো। আজ সোমবার করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য বেক্সিমকোর তৈরি পিপিই’র প্রথম চালান (দেড় লাখ) পাঠানো হলো যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র দু’মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত বাজারে ৬৫ লাখ পিস পিপিই গাউন তৈরি করে রপ্তানির কার্যাদেশ পায় বেক্সিমকো। তার প্রথম চালান নিয়ে এমিরেটস’র একটি বিমান আজ দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। এই যাত্রার আগে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। বেক্সিমকো থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড হেনস’র মাধ্যমে ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকোর অবদানের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো আমরাও সমস্যায় পড়েছি এবং কীভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছি।’ ‘এই কঠিন সময়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার বা ২০ হাজার পিস নয়, ৬৫ লাখ পিস উন্নত মানের স্পর্শকাতর স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিয়ন্ত্রিত বাজারে আমরা পাঠাতে সক্ষম হচ্ছি’, বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পিপিই পাঠানোর এটি প্রথম বড় চালান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ বৃহৎ আকারে পিপিই বানাতে সক্ষম, এই বিষয়টিকে অভিনন্দন জানায় যুক্তরাষ্ট্ তিনি বলেন, ‘এই দুই দেশ কীভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে সক্ষম, বেক্সিমকো-হেনস অংশীদারিত্ব তার বড় উদাহরণ।’ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র দুই মাস আগে অনুরোধ এসেছে এবং এরমধ্যে বেক্সিমকো তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে আমাদের জন্য জরুরি পিপিই তৈরি করেছে। আমলাতান্ত্রিক বা উদ্যোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আলোর গতিতে কাজ হয়েছে।’ বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান, ‘সারা বিশ্বে পিপিইর ঘাটতি রয়েছে এবং এ জন্য আমরা এটি প্রস্তুত করছি। আমরা এটি স্থানীয়ভাবে জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বাজারে রপ্তানি করছি।’
Photo credit: The National Guard on VisualHunt / CC BY

করোনায় লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু এক লাখ ছুঁই ছুঁই

Photo credit: The National Guard on VisualHunt / CC BYকোভিড-১৯ মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছেও নেই কোনো দেশ। করোনায় মৃত্যু প্রায় এক লাখ ছুঁই ছুঁই।

করোনাভাইরাসে প্রাণহানি ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখা ওয়াল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বিকাল ৪ টা পর্যণন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৯৯ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭০২ জন।আক্রান্তদের মধ্যে ৫ লাখ ৫১ হাজার ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আর জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ৬৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। তাতে দেশটিতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৬৮৬ জন, যা দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ। চব্বিশ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২০ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে। তাতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৫ জন, যা বিশ্বের মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এদিকে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৪ লাখ; মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার। সুস্থ হয়েছেন ২১ লাখ ৬৮ হাজার। আক্রান্তের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ব্রাজিল, ৩ লাখ ৬৪ হাজার। তৃতীয়স্থানে রাশিয়া, ৩ লাখ ৪৪ হাজার। চতুর্থস্থানে আছে যুক্তরাজ্য, ২ লাখ ৬১ হাজার ছুঁই ছু্ঁই। পঞ্চমস্থানে স্পেন ২ লাখ ৩৫ হাজার। ছয় হাজার আক্রান্ত কম নিয়ে ষষ্ঠস্থানে ইতালি। মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য, ৩৬ হাজার ৮০০। তৃতীয়স্থানে ইতালি ৩২ হাজার ৭০০। চতুর্থস্থানে আছে স্পেন, ২৮ হাজার ৭০০। চারশোর মতো মৃত্যু কম নিয়ে পঞ্চমস্থানে আছে ফ্রান্স। ষষ্ঠস্থানে আছে ব্রাজিল ২২ হাজার ৬০০। ভারতে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০; মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৪ হাজার।

ঈদ: করোনা কালে নেই উৎসবের আমেজ

ঈদ: উদযাপনে নেই উৎসবের আমেজ

রিয়াজুল করিম
25 May, 2020
Visualhunt.com

ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর আসছে নিস্বর্গ

বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর আসছে নিস্বর্গ - বাংলাদেশের দেয়া নাম Visualhunt.com

জেনে নিন কিভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়ঃ

১৬ বছর আগে ২০০৪ সালে আমফানের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড৷ নিয়ম হল, যে মহাসাগর বা সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার আশপাশের দেশগুলিই নামকরণ করে ঝড়ের৷ ২০০০ সালে নামকরণের নিয়মটি তৈরি করা হয়৷ আমফান তছনছ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে৷ তিন দিন হতে চলল৷ এখনও রাজ্যের বহু এলাকা বিদ্যুত্‍হীন, জল নেই৷ মানুষের মাথার উপর ছাদ নেই৷ মৃত বাড়ছে লাফিয়ে৷ কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, আমফানের মতোই আরও বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে বঙ্গোপসাগরে৷ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি তৈরি হয়, সেগুলি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন৷ ঘূর্ণিঝড়েরও একটি জীবনশৈলী থাকে৷ গড়ে একটি সাইক্লোন সক্রিয় থাকে ৯ থেকে ১০ দিন৷ তিনটি স্টেজ থাকে, ফর্ম্যাটিভ বা ইমম্যাচিওর, ম্যাচিওর ও ডিকে৷ ঘূর্ণিঝড়ের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল তাপ৷ সমুদ্র স্তরের একটা বড় অংশে তাপের সঞ্চার হলে বা গরম হয়ে গেলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় শক্তিশালী হাওয়া৷ ওই হাওয়া সমুদ্রের তেতে যাওয়া অংশটি পূরণ করতে ছোটে৷ ওই অংশটিকে বলা হয় চোখ৷ এই সময়েই ঝড়টি সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়৷ তৃতীয় পর্যায়টি হল প্রাপ্তবয়স্ক বা ম্যাচিওর৷ এই স্টেজেও সাইক্লোনটি সাগরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে৷ এরপরের স্টেজ হল ডিকে৷ এবার সাইক্লোনটি স্থলভাগের দিকে যাত্রা শুরু করে৷ কিংবা সাগরের ঠান্ডা জলের অংশের দিকে দৌড়তে শুরু করে৷ যদি আমফানের মতো স্থালভাগের দিকে দৌড়য়, তা হলে তুমুল ধ্বংসলীলা চালাবেই৷ এবং ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রবল বৃষ্টি৷ ১৬ বছর আগে ২০০৪ সালে আমফানের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড৷ নিয়ম হল, যে মহাসাগর বা সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার আশপাশের দেশগুলিই নামকরণ করে ঝড়ের৷ ২০০০ সালে নামকরণের নিয়মটি তৈরি করা হয়৷ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ ঠিক করার গোষ্ঠী দেশগুলির মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড রয়েছে৷ ২০১৮ সালে এই সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ে৷ যুক্ত হয় আরও ৭টি দেশ৷ আমফানের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম নিস্বর্গ৷ নাম দিয়েছে বাংলাদেশ৷ তারপরের ঝড়টির নাম গতি৷ নাম দিয়েছে ভারত৷ তারপর আসবে নিভার৷ এই নামটি দিয়েছে ইরান৷ সূত্রঃ নিউজ ১৮

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হচ্ছে, মানব সভ্যতা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে...

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হচ্ছে, মানব সভ্যতা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে !

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হচ্ছে, মানব সভ্যতা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে !
একের পর এক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে বিশ্বে। ২০২০ সাল শুরু না হতেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ, যা গোটা বিশ্বকে প্রায় স্তব্ধ করে দিয়েছে। ফের বিশ্বে আসতে পারে নতুন বিপর্যয়। এবার কোনো রোগ বা ঘূর্ণিঝড় নয়। বরং তার চেয়েও আরও বড় দুর্ভোগের খবর জানালো ইউরোপিয়ান স্পেশ এজেন্সি ও তাদের তোলা কিছু স্যাটেলাইট ছবি। সেই ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দুর্বল হয়ে আসছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র। এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র এমন এক ধরনের চৌম্বক ক্ষেত্র যা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূপৃষ্ঠে এর আয়তন ২৫ থেকে ৬৫ মাইক্রোটেসলা। এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণেই মহাবিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ধরনের মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা পাচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র যদি কোনো দিন শূন্য হয়ে যায় তাহলে এ গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব টিকে থাকাটাই কঠিন হবে। বিজ্ঞানীরা জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। গবেষকদের ধারণা, ভূচৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে যাওয়া পৃথিবীর মেরুর পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। গোলমাল হতে পারে ম্যাগনেটিক নর্থ ও ম্যাগনেটিক সাউথের। আজ থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার বছর আগেও একইভাবে একবার পৃথিবীর মেরু পরিবর্তন ঘটেছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা। তবে আশার আলো একটাই, এই ঘটনা ঘটতে লাগবে বহু বছর।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.