Home Authors Posts by Local Desk

Local Desk

367 POSTS 0 COMMENTS

ধর্ষণের নীলছবি ছাত্রদের পছন্দ

ধর্ষণের নীলছবি ছাত্রদের পছন্দ

ওবামা প্রশাসনে প্রথম বাংলাদেশি

ঢাকা: প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ওবামা সম্প্রতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. এন নিনা আহমদকে নিয়োগের ঘোষণার দেন। তিনি প্রেসিডেন্টের এশিয়ান-আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। ১৪ সদস্যের ওই কমিশনে তিন জন ভারতীয়কেও মনোনীত করা হয়। মার্কিন সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেদেশে বসবাসরত এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্সদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের জীবনমানের উন্নয়নে এই কমিশন কাজ করবে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে যে ১৪ সদস্যের নাম প্রস্তাব করা হয় সেখানে নিনা আহমেদের নাম সবার ওপরে। নীনা আহমদ ১৯৯০ সালে ইউনিভার্সিটি অব যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভ্যানিয়া থেকে  প্রাণ রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অভিবাসীদের সহায়তার জন্য ১৯৯৪ সালে গড়ে ওঠা ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক রিয়েল এস্টেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কানসালটিং কোম্পানি-জেএনএ ক্যাপিটলের অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। ‍ স্বামী আহসান নসরতউল্লাহ এবং দুই মেয়েকে নিয়ে ফিলাডেলফিয়ার উত্তরপশ্চিমের মাউন্ট এয়ারিতে বসবাস করছেন নীনা আহমদ। বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৬, ২০১৪

শাহবাগ-লীগ বিরোধ ও শাহবাগের ভবিষ্যৎ

(কিংবা প্রজন্ম চত্ত্বর) এখন নিদারুণ ক্রান্তিকালে। অন্তর্দ্বন্দ্বে-বহির্দ্বন্দ্বে মঞ্চ এখন জর্জরিত-জরাগ্রস্ত-জীবন্মৃত। এই ক্রান্তিকালে প্রয়োজন কিছু নির্মোহ বিশ্লেষণ, আয়নার সমুখে দাঁড়িয়ে আত্মসমালোচনা ও মঞ্চের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজাকার কাদের মোল্লার বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগে অনলাইনকর্মীদের আহ্বানে বিকেলে যে জমায়েত হয়েছিল, সন্ধের পর সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে সেই জমায়েতে এসে যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের একঝাঁক নেতা-কর্মী। বলা চলে ৫ তারিখের শুরুর দিককার সেই জমায়েতের একটি বিরাট অংশই ছিলেন ছাত্রলিগকর্মী। পরদিন থেকে জনতার ঢল নামার পর শাহবাগে ছাত্রলীগের কর্মতৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলিগ ও এর হল কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের কর্মীদেরকে শাহবাগে নিয়ে আসেন এবং তাদের স্লোগান-মিছিলও আলাদা করেই চোখে পড়েছে। চোখে পড়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের আন্তরিক কর্মযজ্ঞ। তাকে দেখা গেছে নিজ হাতে স্যালাইনের বোতল জনতার মাঝে বিতরণ করতে, বিশৃঙ্খল জনতাকে নিজ হাতে সুশৃঙ্খল করতে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শিশুতোষ নাচ নেচে-নেচে স্লোগানে অংশ নিতে। ফেব্রুয়ারির সেই উত্তাল দিনগুলোতে আওয়ামি লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন শাহবাগের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে তখন শাহবাগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছিলেন তার মনও শাহবাগে পড়ে আছে, ঘরে বসে মোমবাতি জ্বালিয়ে তিনি শাহবাগের আলোকপ্রজ্বলন কর্মসূচির সাথেও সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। ৬ তারিখ থেকে শাহবাগে শুরু হয়েছিল লীগের শীর্ষনেতাদের উপস্থিতি। অন্তরের টানে হোক কিংবা সময়ের তালে তাল মিলিয়ে নিজেকে বিজ্ঞাপিত করার জন্যই হোক, লিগের শীর্ষনেতাদের প্রায় সবাই অন্তত একবার তখন শাহবাগে এসেছিলেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের শীর্ষনেতাদের রমরমা উপস্থিতি দেখে এবং শাহবাগের ওপর তাদের নিরঙ্কুশ আশীর্বাদছাতা দেখে তখন জামায়াত শাহবাগকে লিগের পাতানো আন্দোলন বলে আখ্যা দিয়েছিল। নানা কারণে শাহবাগ ক্রমশ বিবর্ণ হলো, সুদিন কেটে গিয়ে শাহবাগের দুর্দিন এল। শাহবাগের প্রথম বিভক্তি ঘটল কথিত ব্লগার আহমেদ হায়দার রাজীবের হত্যাকাণ্ডে। ব্রিটিশদের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির মতো এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জামায়াত শাহবাগকে সুকৌশলে আস্তিকতা-নাস্তিকতা ইস্যুতে বিভক্ত করে দিল; এতে দুর্বলচিত্তের ইমানদারেরা শাহবাগ ছেড়ে গেলেন, সবলচিত্তের ইমানদারেরা শাহবাগের মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেন। এক পর্যায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি হলো এবং যে উদ্দেশ্যে শাহবাগে ঐতিহাসিক গণজাগরণ ঘটেছিল, সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেল। কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়ে যাবার পর শাহবাগ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষিত হওয়া কিংবা মঞ্চের কার্যক্রম সংকুচিত করে কেবল রাজাকারদের বিচারসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকাটা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু কী যেন এক রহস্যের প্রভাবে শাহবাগলেবুটিকে অতিরিক্ত কচলাতে-কচলাতে তেতো করে ফেলা হলো। একটি নাগরিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাবার পরও সম্মানজনকভাবে বিদায় না নিয়ে আন্দোলনটিকে অহেতুক প্রলম্বিত করলে যা হবার কথা, শাহবাগের ভাগ্যে ঠিক তা-ই ঘটল। প্রথমে আসা যাক শাহবাগ-লিগের দোস্তিভাঙন প্রসঙ্গে। নিবন্ধের শুরুতেই শাহবাগ আন্দোলনে লিগের অবদানের কথা স্মরণ করা হয়েছে; লিগ সরকার শাহবাগকে সব ধরনের পুলিশি নিরপত্তা দিয়েছে, রাজীবহত্যার পর কতিপয় ব্লগারকে গানম্যানও দিয়েছে বলে শোনা গেছে। আচমকা কোনো এক অলৌকিক কারণে লিগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শাহবাগের ওপর বিরাগভাজন হলো এবং শুরু হলো শাহবাগের প্রতি লিগের বিপিতাসুলভ আচরণ। শাহবাগে তোফায়েল আহমেদের প্রতি অবমাননাকে লিগ প্রায়শই শাহবাগবিরাগের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করে থাকে। বাম ছাত্রনেত্রী লাকি আখতার কর্তৃক তোফায়েল-অবমাননার কথিত অভিযোগটি লিগ, মঞ্চ বা ছাত্র ইউনিয়নের কোনো পক্ষ থেকেই খোলাসা করা হয়নি; ব্যাপারটা বরাবরই ছিল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। অবশ্য গোটা প্রজন্ম চত্বর ও মঞ্চজুড়ে বামদের অতি-উপস্থিতি অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়েছে এবং এই অতি-উপস্থিতি অনেকের কাছে বামদের নিষ্ফল আস্ফালন বলেও গণ্য হয়েছে। বাংলাদেশে বাম আন্দোলনের অবস্থা অতি করুণ, সিংহভাগ বামপন্থি জানেনই না তারা কী উদ্দেশ্যে 'বিপ্লব' ঘটিয়ে যাচ্ছেন; কিংবা জানেন না লাল নিশান আর লাল-কালো-শাদা ব্যানার-পোস্টার-প্লাকার্ড হাতে মুক্তাঙ্গন-প্রেস ক্লাব-জাদুঘর-টিএসসি-রাজু ভাস্কর্যে পৌনে একশো কর্মী নিয়ে আর কত শতাব্দীকাল ধরে সভা-সমাবেশ করলে তাদের বিপ্লবটি শেষ হবে! বাংলাদেশের বামপন্থিরা তাদের সমাবেশে কখনও হাজারো-লাখো জনতার উপস্থিতি দেখতে অভ্যস্ত নন, শাহবাগে লাখ-লাখ জনতা দেখে বামদেরও একটু ইচ্ছে জেগেছিল জীবনে প্রথম ও শেষবারের মতো লাখো জনতার সমাবেশে কিছু-একটা করে দেখাতে এবং এই কিছু-একটা করে দেখাতে গিয়েই অতি জোশে বামদের অর্বাচীন একাংশ শাহবাগে অপমানিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি তোফায়েল আহমেদকে। অবশ্য মঞ্চের শুরুর দিকে বাম নেতাদের ইতিবাচক অবদানও ছিল লক্ষণীয়। যেসব স্লোগানের তালে-তালে শাহবাগ থেকে টেকনাফ-তেঁতুলিয়া তরঙ্গায়িত হয়েছে, সেসব স্লোগানের সিংহভাগের স্রষ্টাই বাম ছাত্রনেতারা এবং সেসব স্লোগান ধ্বনিত হয়েছে তাদের কণ্ঠেই। কিন্তু তোফায়েল-অবমাননার পরও দীর্ঘদিন শাহবাগে ছাত্রলিগের সরব উপস্থিতি এই অভিযোগকে কর্পূরের মতো উবিয়ে দেয়। লিগ এরপর শাহবাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে 'জয় বাংলা'র পর 'জয় বঙ্গবন্ধু' বলা-না-বলা নিয়ে। এটি অভিযোগ নয়, অজুহাত মাত্র। কাদের মোল্লার ফাঁসির পরই শাহবাগের বৃহত্তম অর্জন হচ্ছে 'জয় বাংলা' স্লোগানের পুনরুদ্ধার। 'জয় বাংলা'-কে যে বিভ্রান্ত সাধারণ জনতা বরাবরই লিগের দলীয় স্লোগান ভেবে এসেছে, সেই সাধারণ জনতাই দলনির্বিশেষে শাহবাগে 'জয় বাংলা' ধ্বনিতে ধ্বনিমুখরিত হয়েছে। লিগ নয়, শাহবাগই পেরেছে জনমানুষের মুখে একাত্তরের 'জয় বাংলা'-কে ফিরিয়ে আনতে। অপরপক্ষে লিগ 'জয় বাংলা' ও বঙ্গবন্ধুকে বরাবরই বিবেচনা করেছে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে।

২.

স্বাধীনতার চার দশক পরও দেশের মানুষের একটা বিরাট অংশ বঙ্গবন্ধুকে 'বঙ্গবন্ধু' বলে না, 'জাতির জনক' বলে স্বীকার করে না, বঙ্গবন্ধুকে মনে করে লিগের দলীয় নেতা হিসেবে; অতি-শক্তিশালী প্রচার সেল ব্যবহার করেও লিগ বিভ্রান্ত জনগণের ভুল ভাঙাতে পারেনি, পারেনি বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বনেতা কিংবা নিদেনপক্ষে অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে! ব্যর্থতার এই দায়ভার যখন লিগের কাঁধে, শাহবাগ যখন অন্তত 'জয় বাংলা'-কে পুনরুদ্ধার করেছে; তখন লিগ কোনোভাবেই পারে না 'জয় বঙ্গবন্ধু' পুনরুদ্ধারের দায়িত্বও শাহবাগের ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে। শাহবাগে ছুটে-আসা জনতার সবাইই রাজাকারদের বিচায় চায়, কিন্তু সবাই লিগ করে না। গোলাম আজমের ফাঁসি না হয়ে যখন তার নব্বই বছরের রোমান্টিক কারাদণ্ড হলো, তখন ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ ভেবেই বসতে পারে পর্দার আড়ালে হয়তো লিগ-জামায়াতের সমঝোতা চলছে; ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচনের প্রাক্কালে সংঘটিত লিগ-জামায়াতের অলিখিত মিতালি এই সন্দেহের পালে কিছুটা হাওয়াও যোগায় বৈকি। রায়ের পর সেই ক্ষুব্ধক্ষণে মিছিলের অজস্র জনতার ভীড়ে মুখ ফসকে কেউ একবার স্লোগান দিয়ে বসেছিল 'শেখ হাসিনার সরকার রাজাকারের পাহারাদার' এবং সেই স্লোগান মঞ্চের মাইক থেকে উচ্চারিত কোনো আনুষ্ঠানিক স্লোগানও ছিল না, ছিল অজ্ঞাতনামা কোনো বিক্ষুব্ধের সাময়িক ক্ষোভের অভিমানী বহিঃপ্রকাশ। এত জনতার ভীড়ে কে কোথায় কী স্লোগান দিলেন; মঞ্চের তা জানারও কথা না, তদারকি করারও কথা না। অথচ এই তিলটিকে তাল বানিয়ে পরবর্তীকালে আওয়ামি লিগ বারবার জিকির তুলেছে যে, শাহবাগ আওয়ামি লিগ-বিরোধী! আবার লিগের কেউ-কেউ এ কথাও বলে থাকেন যে, শাহবাগের কারণে লিগ গণহারে নাস্তিক খেতাব পেয়েছে। মূলত জামায়াতের বিপক্ষে যারাই অবস্থান নেয়, জামায়াত তাদেরকেই নাস্তিক-অমুসলিম-মুরতাদ খেতাব দিয়ে থাকে; জামায়াতের কাছে শেখ হাসিনা কিংবা খোদ বঙ্গবন্ধুও বহু আগে থেকেই নাস্তিক, জামায়াত একাত্তরেও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নাস্তিক-মালাউন বলে প্রচার করেছিল, পশ্চিম পাকিস্তানিরা চুয়ান্নর নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রচার করেছিল যুক্তফ্রন্টকে ভোট দিলে ঈমান থাকবে না। অতএব লিগের সাথে 'নাস্তিক' খেতাবটা অতি পুরোনো, শাহবাগ লিগকে নতুন করে 'নাস্তিক' বানায়নি। আবার আওয়ামি লিগ এতটা ধার্মিকদের দলও না যে, জামায়াত নাস্তিক বললেই লিগারদের গাত্রদেশে ফোসকা পড়ে যাবে! সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় হেফাজত বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে ভূমিকা রেখেছে এবং সে অনুযায়ী শাহবাগ লিগের পক্ষে ভূমিকা রাখেনি বলেও লিগের পক্ষ থেকে অনুযোগ আছে। হেফাজত নতুন কোনো সংগঠন নয়, শাহবাগ আন্দোলনের আগেও তাদের অখ্যাত অস্তিত্ব ছিল; হেফাজতিরা বরাবরই জামায়াতের ভোটার, শাহবাগের উদ্ভব না ঘটলেও তারা জামায়াতকেই ভোট দিত; লিগকে কখনও না। বরং লিগই বারবার হেফাজতকে তোষণ করে হেফাজতের ভোট পাবার হাস্যকর চেষ্টা করেছে। অপরপক্ষে শাহবাগিদের ভোটের প্রায় পুরোটাই লিগের পক্ষেই পড়ে; লিগ মারুক-কাটুক, শাহবাগিরা শেষতক অশ্রু মুছে লিগকেই ভোট দেয়। লিগের কেউ-কেউ আশা করেছিলেন শাহবাগ লিগের ভোটব্যাংক তৈরি করবে, শাহবাগ লিগকে নির্বাচনী বৈতরণি পার করিয়ে দেবে। কিন্তু লিগ ভুলে গিয়েছিল শাহবাগ কোনো নির্বাচনী বুথ না, কাউকে নির্বাচনে জিতিয়ে আনা শাহবাগের কাজ নয়। লিগ শাহবাগবিরোধী যত অভিযোগ উত্থাপন করেছে; তা নিতান্তই ঠুনকো, হাস্যকর ও শিশুতোষ। লিগ আসলে শাহবাগকে ভেবেছিল নির্বাচনী মঞ্চ কিংবা সোনার-ডিম-পাড়া হাঁস। কিন্তু শাহবাগ নিয়ে লিগের যখন আশাভঙ্গ হলো, যখন লিগ দেখল শাহবাগকে নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না বা শাহবাগের জনতা কোনো নির্দিষ্ট দলের এজন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আসেনি; লিগ তখনই শাহবাগকে ব্যবহৃত পলিথিনের মতো ছুড়ে ফেলে দিল। ওপর-আকাশে সবুজ মেঘ দেখে লিগের ভার্চুয়াল লাঠিয়ালবাহিনী পেল বাঁদরনাচের নতুন মুদ্রা। একগাদা গালিগালাজ আর শূন্য মগজই যাদের সম্বল, শাহবাগকে দেয়া বিশটা গালির শেষে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' লিখেই যারা লিগের প্রতি দায়িত্বপালন শেষ বলে মনে করে, মুক্তিযুদ্ধ বা লিগের পক্ষে যাদের কারোর নেই নিদেনপক্ষে একটি আমলযোগ্য নিবন্ধ; সেই গালিবাজরা হয়ে গেল বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামি লিগার। বাঁশের কেল্লা শাহবাগকে যে-যে ভাষায় আক্রমণ করত, এই চক্রটি শাহবাগকে ঐ একই ভাষায় আক্রমণ করে চলছে; কখনও বা বাঁশের কেল্লাও এই স্বঘোষিত লিগারদের শাহবাগবিরোধী লেখাগুলো শেয়ার করেছে; অর্থাত্‍ ভার্চুয়াল লিগারদের একেকজনই যেন বাঁশের কেল্লার একেকজন ভারপ্রাপ্ত অ্যাডমিন, শাহবাগবিরোধে এখন লিগ-জামায়াত ভাই-ভাই। অন্তত একটি ইস্যুতে লিগ ও জামায়াতকে ভাই বানাতে পারাটাও অবশ্য কম কৃতিত্বের বিষয় না! লিগ বরাবরই মোশতাকদেরকে কাছে টেনে তাজউদ্দিনদেরকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। পঁচাত্তরের মতো লিগ আবারও ভুল করল। শাহবাগের যে কর্মীরা শাহবাগ আন্দোলন শুরুর আগ থেকে এখন পর্যন্ত লিগের পক্ষে অনলাইনে-অফলাইনে নিভৃতে কাজ করে গেছেন, পাননি বা চাননি কাজের স্বীকৃতি-কৃতিত্ব; তারাই আজ আওয়ামি পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটার শিকার হচ্ছেন। আওয়ামি পুলিশের লাঠিপেটায় জর্জরিত মঞ্চকর্মীদের মুখ মনের অজান্তেই জাতীয়তাবাদী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত শহিদজননী জাহানারা ইমামের মুখটিকে মনে করিয়ে দেয়! ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে। ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় শেখ হাসিনা গণআদালতে নিজে হাজির হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন, এখন তারই শাসনামলে পুলিশি পিটুনিতে আহত হন মঞ্চকর্মীরা! সময় ও ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, রাজাকারদের পক্ষ নেয়ায় ইতিহাস বিএনপিকে কালের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। গণজাগরণকর্মীদের ওপর এই নির্মমতার ফলও আওয়ামি লিগ ইতিহাস থেকে একদিন পেয়ে যাবে নিশ্চয়ই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে এত দিন গণজাগরণ মঞ্চকে সমর্থন করে গেছি। মঞ্চের কিছু অহেতুক কীর্তিকলাপে ক্ষুব্ধ হলেও প্রকাশ্যে তা নিয়ে হৈ-হল্লা না করে তা বরং মঞ্চনেতাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছি। আজ এই দীর্ঘ নিবন্ধে মঞ্চের স্বার্থেই মঞ্চ নিয় কিছু কথা বলার তাড়না ও প্রয়োজন বোধ করছি।

৩.

গণজাগরণ যখন কেবলই 'গণজাগরণ' ছিল, তখন সব মানুষ একই ছাতার নিচে ছিল; কিন্তু গণজাগরণ যখন 'মঞ্চ' হয়ে গেল, তখন সেটি আস্তে-আস্তে জনসম্পৃক্ততা হারাল। ফেব্রুয়ারিতে যারা শাহবাগে দিবা-নিশি থেকেছেন, মঞ্চসৃষ্টির পর তাদের অনেকে বাড়িমুখো হলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বড়ই বিচ্ছিন্ন ও ঐক্যহীন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রত্যেকে একেকটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র; ব্যক্তিরূপী এই রাষ্ট্রদেরকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে, ছুঁতে ভিসা লাগে; এই রাষ্ট্রদের সাথে কথা বলতে টিকেট কাটতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দুজন ব্যক্তি কখনোই পরস্পরকে মানেন-গোনেন না। ফলে গণজাগরণ মঞ্চে কখনোই কোনো কর্মী ছিল না, ছিল কেবল নেতা বা নেত্রী। শাহবাগে গেলে কুয়োর ব্যাঙটি কিংবা ছাগলের তৃতীয় ঠ্যাঙটিও নেতা বনে যায়। এ কারণে মঞ্চ কখনোই টেকসই হয়নি বা হবেও না। অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হবার মতো অধিক নেতানেত্রীতে মঞ্চ নষ্ট হয়েছে। মঞ্চকে তবুও খতিয়ে দেখতে হবে কেন ও কী অভিমানে এককালের শাহবাগ-অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিরাও একে-একে মঞ্চ ছেড়ে গেছেন বা যাচ্ছেন এবং সম্ভব হলে ছেড়ে-যাওয়াদের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। কাদের মোল্লার ফাঁসির পর মঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলে তা হতো বীরোচিত প্রস্থান। তা না করে মঞ্চ রীতিমতো দেশোদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে সময়ে-অসময়ে ডজন-ডজন সভা-সমাবেশ-সেমিনার-কনসার্ট ডেকে মঞ্চ নিজেকে খেলো করে ফেলেছে। শাহবাগের যৌবনকালে মঞ্চকে দেখা যেত জামায়াতের হরতাল প্রতিরোধেও মিছিল-মিটিং করতে! সাকুল্যে একশো মানুষ নিয়ে শাহবাগ থেকে শহিদমিনার পর্যন্ত মিছিল করেই জামায়াতের হরতাল প্রতিরোধ করা হয়ে গেছে বলে আত্মতৃপ্তি বোধ হাস্যকর ছিল বটে। আবার গোলাম আজমের রায়ের পর দিন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাথে মঞ্চ হরতালও ডেকেছিল, যেটি কমিটি ও মঞ্চ উভয়ের জন্যই হাস্যস্পদ ছিল! মধ্যবিত্ত আটপৌরে জনতার অংশগ্রহণে গড়ে একটি আন্দোলনপ্রসূত মঞ্চ নষ্টভ্রষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর মতো হরতাল ডাকছে -- ব্যাপারটা নেহায়েত কৌতুককর ও চাঞ্চল্যকর ছিল বটে! আবার মঞ্চকে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে কনসার্ট আয়োজন করতে, যেটা কোনোভাবেই মঞ্চের প্রত্যাশিত কার্যাবলির মধ্য পড়ে না। মঞ্চকে দেখা গেছে পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের জন্য একেবারে বাণিজ্যমেলা অবধি চলে যেতে, আবার বাজারে-বাজারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করতেও দেখা গেছে মঞ্চের নেতাদেরকে। মঞ্চকে দেখে বোঝারই উপায় থাকে না মঞ্চটার স্বভাবধর্ম ঠিক কী -- রাজনৈতিক, সামাজিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক নাকি প্রাত্যহিক? গণজাগরণ মঞ্চ যখনই পাঁচমিশালি-গুরুচণ্ডালি কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলল, মঞ্চ তখন থেকেই গুরুত্ব হারাতে লাগল এবং ক্রমশ হাসির পাত্রেও পরিণত হলো। মঞ্চকে কে বা কারা বুদ্ধি দিয়েছিল পাঁচমিশালি কাজে নেমে ভর্তা হতে? মঞ্চ চালানোর ব্যায়ের পরিমাণ ব্যাপক। একেকটি সভা, সমাবেশ, বেহুদা কনসার্ট ইত্যাদি আয়োজনে খরচের বহর কম নয়। নির্যাতিত হিন্দুদের জন্য মঞ্চ ত্রাণও নিয়ে গিয়েছিল। ইত্যাকার নানা ইশুতে মঞ্চের হাতে কোথাও-না-কোথাও থেকে টাকা এসেছে, জনগণের অংশগ্রহণে বেড়ে-ওঠা আন্দোলন বিধায় সেসব টাকার উত্‍স ও খরচ নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়। মঞ্চ যেহেতু অনলাইনের ফসল, সেহেতু অনলাইনে নিয়মিতভাবে মঞ্চের আয়ব্যয়ের হিসাব হালনাগাদ করলে এখন টাকাপয়সা নিয়ে এত অভিযোগ উত্থাপিত হতো না। মঞ্চ এখন এতটাই জনবিচ্ছিন্ন যে, নিয়মিতভাবে যারা মঞ্চের কার্যক্রমে এখনও যুক্ত, তাদেরকে মঞ্চের পেশাদার কর্মী মনে হয়। বলতে বা শুনতে হয়তো কষ্ট হয় যে, মঞ্চ করাটাও আপাতদৃষ্টিতে যেন এখন একটি বৈতনিক বা অবৈতনিক পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে! মঞ্চের দোষেই গড়ে ওঠা এই ভাবমূর্তি মঞ্চকর্মীদের জন্য নিশ্চয়ই সুখকর কিছু নয়। মঞ্চ এখন এতটাই রাজনৈতিক আচরণ করছে যে এবং দিন-দিন তুচ্ছ বিষয়াদি মঞ্চ এমনই বাহারি-বারোয়ারি-রকমারি রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে যে, মঞ্চটিকে এখন একটি ছোটখাটো রাজনৈতিক দল বলে মনে হয়! গণজাগরণ মঞ্চ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক গণজাগরণের ফসল এবং সেই জাগরণ ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত স্ফুরণ, জনগণের নিরেট আবেগ জড়িত সেই স্ফুরণের সাথে। মঞ্চসংশ্লিষ্ট কেউ যদি রাজনৈতিক দল গঠনের উচ্চাভিলাষ পোষণ করেন, তবে তাকে তা করতে হবে মঞ্চের পরিচয় ঝেড়ে ফেলে, মাঠে নেমে। জনগণের আবেগকে পুঁজি করে গড়ে-ওঠা গণজাগরণ মঞ্চকে মঞ্চসংশ্লিষ্ট যদি কেউ রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করে সেই দলের নেতা হতে চান, তাহলে তা হবে জনগণের সাথে সুস্পষ্ট গাদ্দারি ও প্রতারণা এবং তিনি নিমিষেই নিক্ষিপ্ত হবেন শাহবাগের আস্তাকুঁড়ে। রাজনৈতিক দল গঠন প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে-আসা জনতার আবেগকে বিক্রি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইলে সেই লুটেরার পরিণতি হবে অতি ভয়াবহ ও করুণ। মাত্র একজন রাজাকারের ফাঁসি হয়েছে, অন্য সব রাজাকারের ফাঁসি এখনও বাকি। মঞ্চের এখন উচিত সম্মানজনক বিদায় গ্রহণ কিংবা বেহুদা ও বিতর্কিত কর্মসূচিগুলো ছাঁটাই করে বাকি রাজাকারদের ফাঁসি নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত কর্মসূচি দিয়ে নিজেদেরকে বেহুদা বিতর্ক থেকে দূরে রাখা। সেই সাথে মঞ্চের উচিত চৌদ্দ মাসের আয়-ব্যয়ের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। মঞ্চের ওপর সরকার যেভাবে ক্ষিপ্ত, তাতে মঞ্চনেতাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময়ে দুদকে মামলা হয়ে যেতে পারে। দুর্নীতির মামলা কাঁধে নিয়ে মঞ্চনেতারা আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াবেন, এই দৃশ্য দেখতে আমাদের নিশ্চয়ই কারো ভালো লাগবে না! আওয়ামি লিগ এখনও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির শেষ আশ্রয়স্থল। লিগকে মনে রাখতে হবে যে, মঞ্চ লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। মঞ্চ বরং আওয়ামি লিগের মোশতাক অংশের বিরুদ্ধে জাগ্রত বিবেকের ভূমিকায় অবতীর্ণ আছে বা ছিল। লিগ এই সত্যটুকু বুঝুক এবং মঞ্চও তার এখতিয়ার নির্ধারণ করে এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করে নিজেদেরকে বিতর্কমুক্ত রাখুক -- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন নগণ্য মানুষ হিশেবে এইই আমার প্রত্যাশা! জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

বিভাগ:

‘পরিবারের ১৬০ জনকে নিয়ে ভোট দিলেন চানা’

ভারতের মিজোরামের প্রত্যন্ত গ্রাম বাকতাওয়াংয়ের বাসিন্দা জিয়নঘাকা চানা(৭০)। বিশাল পরিবার নিয়ে বসবাস করেন পাহাড়ের ওপর, একশ কামরার এক বাড়িতে। আর ভারতের নির্বাচন এলেই চানার গুরুত্ব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কারণ তার পরিবার হচ্ছে এক বিশাল ভোট ব্যাংক। ৩৯ জন স্ত্রী আর ১২৭ জন ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-নাতনি পরিবেষ্টিত এক বিশাল পরিবারের কর্তা চানা। তাই স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বারবার তার কাছে ছুটে আসেন এবং তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ভোটার হয়েছেন কিনা সেবিষয়ে জানতে চান। ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচন সম্পর্কে চানা বলেন,গত কয়েকদিন ধরে ভোটের জন্য বহু নেতাই আমার কাছে এসেছেন। আসলে নির্বাচন এলেইই আমার গুরুত্ব বেড়ে যায়। একজন প্রার্থীর জন্য একশর বেশি ভোট কিন্তু কম কথা নয়। ভারতের অন্যান্য ভোটারদের মত চানাও দেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত এবং উন্নয়নমুখী সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চান। তিনি মনে করেন, এ ধরণের সরকার ক্ষমতায় এলে তার পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে। চানা বলেন,আমরা সবাই চাই একটি সৎ সরকার ক্ষমতায় আসুক যাতে আমাদের রাজ্যের উন্নতি হয়। রাজনৈতিক নেতারা আমার পরিবারের কাছ থেকে যে সুবিধাটুকু নিচ্ছেন বিনিময়ে আমরাও কিছুটা সুবিধা চাই। চানার স্ত্রী রিনকমিনি বলেন, আমরা সবসময় একই প্রার্থী বা একটি দলকে ভোট দেই। তাই আমাদের পরিবারের সমর্থন পাওয়ার অর্থ হল, ১৬০টি ভোট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। উনবিংশ শতাব্দির ত্রিশের দশকে চানার দাদা এই বিশাল পরিবারটি গড়ে তুলেছিলেন। গত চার প্রজন্ম ধরে তারা একই ছাদের নিচে বসবাস করে আসছেন, কেউ পৃথক হননি। সবমিলিয়ে চার প্রজন্মের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১৭শ জন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভারতের চতুর্থ দফা নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে মিজোরামে। এবারও ৩৯ স্ত্রীসহ ভোট দিয়েছেন চানা। তবে তারা কাকে ভোট দিয়েছেন এটি অবশ্য জানা যায়নি।

১৩০০ বছর পুরনো মমিতে উল্কি করা মিকাইল (আঃ) –এর নাম!

সম্প্রতি প্রায় ৭০০ খৃষ্টাব্দের এক মিশরীয় নারীর মমিতে খুঁজে পাওয়া গেছে একটি ট্যাটু বা উল্কি! মমিটির পরিধেয় কাপড় খুলে যখন এর দেহ স্ক্যান করা হয়েছে, তখন তার উরুতে এক উঁল্কি পাওয়া গিয়েছে যাতে লেখা মুসলিমদের এবং খৃষ্টানদের ধর্মমত অনুযায়ী এক ফেরেশতা, মাইকেল বা মিকাইল (আঃ) –এর নাম! একদল গবেষকবৃন্দ গত ২৩ মার্চ এই আবিষ্কারটি করেন যখন তারা বৃটিশ মিউজিয়ামে উন্নত মেডিকাল স্ক্যান পদ্ধতি নিয়ে একটি গবেষনা কার্জ চালাচ্ছিলেন! এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল Computed Tomography বা সিটি স্ক্যান পদ্ধতি যার সাহায্যে গত বছর যুক্তরাজ্যের এক হাসপাতালে বেশ কিছু মিশরীয় মমি পরীক্ষা করে দেখা হয়! এটি এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর দেহের ভেতরকার হাড় ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে। নারীটির দেহ সমাধিস্থ করার আগে উল এবং লিনেন কাপড়ে মোড়া হয়েছিল, এবং তার দেহাবশেষ মমিতে রূপান্তরিত হয় মরুভুমির ভেতরে সমাধিস্থ হওয়ার কারণে। মমি হওয়া নারীটির বয়স ছিল ২০ থেকে ৩৫ এর মাঝামাঝি যিনি ১৩০০ বছর আগে জীবিত ছিলেন। মিউজিয়ামের কিউরেটর কর্তৃক যে পাঠোদ্ধার করা হয় তা অনুযায়ী, তার উরুতে প্রাচীন গ্রীক হরফে লেখা ছিল Μιχαήλ , যা অনুবাদ করলে হয় M-I-X-A-H-A, অথবা Michael (মিশেল বা মাইকেল)।
মিউজিয়ামের কিউরেটরগণ ধারণা করেন যে এই উঁল্কিটি খোদিত হয়েছে ধর্মীয় এবং আত্মিক রক্ষাকবচ হিসেবে,যদিও তারা বিস্তারিত আনুষাংগিক বর্ণনা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গ্রীক এবং রোমানদের মত, ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের লোকজনদের একটি অংশ যারা শিক্ষিত ছিল, তারা অক্ষরের আকৃতি নিয়ে বেশ আকর্ষিত বোধ করত এবং কোন নামের অক্ষর দিয়ে ডিজাইন তৈরি করতে অনেক পছন্দ করত। তথাপি আমরা একটা অনিয়ত আকৃতির উল্কি পেয়েছি যা অক্ষরের সমন্বয়ে তৈরি ছিল। প্রাচীনকালে কোন শক্তিশালী দৈব রক্ষাকারী সত্ত্বার নাম দেহে উঁল্কির মাধ্যমে খোদাই করা বা কোন কবচে ধারন করা ছিল বহুল প্রচলিত একটি বিষয়। ফক্সনিউজ ডট কমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টিলি (Tilley) বলেন “ যেসমস্ত খৃষ্টান মেয়েরা গর্ভবতী হতেন তারা প্রায়ই দৈব স্বত্বা অথবা অ্যাঞ্জেলদের নাম সম্বলিত কবচ বা কোমরবন্ধনী তাদের পেটে পরতেন, যাতে করে তাদের সন্তান নিরাপদে জন্ম নিতে পারে।“ “যোনির কাছাকাছি উরুর ভেতরের দিকে উল্কির মাধ্যমে নাম খোদাই করা, যেমনটা এই মমিতে দেখা যাচ্ছে, হয়ত সন্তান জন্ম দেয়ার আশায় অথবা যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা পাবার আশায় করা হয়েছিল, অনেকটা আমরা জমিতে যেভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেই, “এই সম্পত্তি অমুকের দ্বারা সুরক্ষিত” সেভাবে! মাইকেল নামটা এমন একধরণের উল্কির জন্য বেশ যুতসই ছিল কেননা তিনি সবচাইতে শক্তিশালী এঞ্জেল বা ফেরেশতা”, টিলি বলেন। মমিটি প্রায় দশ বছর আগে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এটি এতটাই সতেজ ছিল যে প্রত্নতাত্বিকগণ খালি চোখেই এর উরুসন্ধির কাছাকাছি অংকিত উল্কিটি দেখতে পেতেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইনফ্রারেড প্রযুক্তি তাদেরকে এটি পরিষ্কারভাবে দেখতে সাহায্য করেছে। মমিটি আরেকটি বিষয় আমাদেরকে জানায় যে শুধু রাজবংশীয় মানুষই নয়, সাধারণ মানুষকেও প্রাচীন মিশরে মমি করে রাখা হত। এপর্যন্ত সবচাইতে পুরনো যে মমির ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হয়েছিল তার বয়েস ছিল ৫,৫০০ বছর।

নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে কেয়ামত পর্যন্ত আন্দোলন

নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে কেয়ামত পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শফী। তিনি বলেন, ‘হাসিনা সরকার, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সবাই আমাদের বন্ধু। এদের সঙ্গে  কোনো আদাবত (শত্রুতা) নাই।  কেউ যদি বলে হাসিনা সরকার, ছাত্রলীগ আমাদের দুশমন এটা বুঝাটা ভুল হবে। এদের কাউকে  কোনোদিন আমি গালি দেই নাই।’ তবু সরকার অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের উপর বুলড্রোজার চালিয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে হেফাজতে ইসলামের শানে রেসালাত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আল্লামা শফী বলেন, সরকারের ভিতরে নাস্তিকদের একটি শক্তি ঘাপটি মেরে আছে তাদের বের করে দিতে হবে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের এদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে পতন অনিবার্য। তিনি আরও বলেন, সরকার আলেম সমাজের উপর অন্যায় করেছে, নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছে। হেফাজত বিশ্বাস করে সরকারের ভিতর ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের আলেম সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ঢাকার শাপলা চত্বরে পুলিশ দিয়ে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা খুবই ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এতে সারা দেশের আলেম সমাজ মাদ্‌রাসা ছাড়া। এভাবে হেফাজতের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। হেফাজতের আন্দোলন চলবেই। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। আল্লামা শফী বলেন, ‘আমরা ভাল হলে সরকার ভাল হবে। আমরা যদি খারাপ হই সরকার খারাপ হবে। আমাদের ওপর জুলুম অত্যাচার চালাবে।’ হেফাজতের আমীর বলেন, ‘আমরা মুসলমান। আমাদের সঙ্গে কারও আদাবত নাই। একমাত্র আদাবত, যারা আল্লাহ্‌র দেশে থাকে আল্লাহ্‌র  নেয়ামত খাইয়া আল্লাহ্‌কে মানে না, তারা আল্লাহ্‌র দেশে থাকতে পারবে না।’ তিনি সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ্‌র দরবারে তওবা করি। আমরা খারাপ হয়ে গেছি। না হয়তো আমাদের এ দেশ সোনার বাংলা হবে না কেন। আমরা আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া প্রার্থনা করি, বাংলাদেশকে যেন সোনার বাংলা বানাতে পারি। যেসব ব্যবসায়ী ব্যবসা চালাতে পারছে না তাদের জন্য তিনি দোয়া করেন। যে সব গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো যাতে আবার চালু হয়, রাস্তাঘাট ভাল হয় সেজন্য দোয়া করেন।’  হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লোকমান হাকিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, দারুল উলুম মাদ্‌রাসার মুহাদ্দীস মাওলানা ফোরকান আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল লালদিঘী ময়দানে। হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশ স্থল।

বৈশাখে বিশেষ নিরাপত্তা, ৬টার মধ্যে ঘরে ফেরার অনুরোধ

জঙ্গি হামলার কথা মাথায় রেখে পহেলা বৈশাখের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজির আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কাছ থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন্। পুলিশ এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেছে। পুলিশের সামর্থ অনুযায়ী বৈশাখের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এবারে রাজধানীর তিনটি বড় স্থান রমনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ও রবীন্দ্র সরোবরে বড় অনুষ্ঠান হবে। ব্যাপক লোক সমাগম হবে এসব স্থানে। বিভিন্ন স্থানে যে অনুষ্ঠান হবে সেখানে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলবে। অনুষ্ঠানস্থলে কাঁচি, ছুড়ি, দেয়াশলাই, সিগারেট, পটকা, আতশবাজি নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।  এছাড়া নির্দিষ্টস্থানে গাড়ি পার্ক করতে হবে। যেসব স্থানে বৈশাখী অনুষ্ঠানে তা সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থেই সন্ধ্যার মধ্যে সবাইকে বাসায় ফেরার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার বৈশাখের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

৯টি না, ৪০টি খুন করেছি

ঘরভর্তি সব বাঘা বাঘা গোয়েন্দা-পুলিশ। চেয়ারে বসে থাকা ফাঁসির আসামিটিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছে। একটা-দু’টো নয়, সে ন’টা খুনে অভিযুক্ত। কোনও ফিল্মের প্লট নয়। সত্যি ঘটনা। সে কাহিনির মোড় ঘুরল হঠাৎই। খুনি নিজেই বলল, দু’দশকের কেরিয়ারে ৪০টা খুন করেছে সে। ঘরে তখন পিন পড়লেও শোনা যাবে। গত বছর মেক্সিকো থেকে অ্যারিজোনা ঢোকার সময় পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল ৫১ বছর বয়সী হোসে ম্যানুয়েল মার্তিনেজ। তার পরই শুরু হয় তদন্ত। নাম জড়ায় ন’টি খুনের মামলায়। পুলিশের দাবি, একটি মাদক চোরাচালানকারী দলের হয়ে চুক্তিতে খুন করত সে। তদন্তের খাতিরে মার্তিনেজকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে গিয়ে জেরা করা শুরু হয়। এ রকমই এক জেরার মুখে বিস্ফোরণ ঘটাল অভিযুক্ত স্বয়ং। বলল, ৯টা নয়, আরও অনেক বেশি খুন করেছে সে। কম করে ৪০টা। কনট্রাক্ট কিলার মার্তিনেজ গোয়েন্দাদের জানিয়েছিল, ১৬ বছর বয়সে এই পেশায় তার হাতেখড়ি। বলেছিল, “আমার রোজগারেই পরিবারের পেট চলত। আর তা ছাড়া আমি না করলে এই কাজটা অন্য কেউ তো করতই।” ১৯৮০-২০১১ একের পর এক খুন, ডাকাতি, অপহরণ কাণ্ডে জড়িয়েছে মার্তিনেজের। তার মধ্যে পুলিশের খাতায় উঠেছিল ন’টি অপরাধের কথা। টুলারেতেই ছ’জনকে খুন করেছিল মার্তিনেজ। কার্ন-এ সংখ্যাটা এক। ২০০০ সালে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে মেরেছিল ঘুমন্ত মা ও চার সন্তানকে। সে ঘটনার স্মৃতি লোকের মনে টাটকা। ছেলের কুকীর্তির খবর গিয়েছে বৃদ্ধা মায়ের কাছেও। মানতে পারছেন না লোরেটা ফার্নান্ডেজ। বললেন, “ছেলে খুনি, এ কথা মেনে নেওয়া কঠিন। শোনা ইস্তক হাত-পা কাঁপছে।” সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

জাগরণ মঞ্চ থেকে ডা. ইমরানকে অব্যাহতি!

গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান বিরোধী গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন থেকে মূখপাত্রের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ডা. ইমরানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলা হয়েছে মঞ্চের এ অংশের পক্ষ থেকে। আজ দুপুরে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চের সংগঠক কামাল পাশা লিখিত বক্তব্যে বলেন, অচিরেই মঞ্চের পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মুখপাত্র প্যনেল ঘোষণা করা হবে। একটি অন্তর্বর্তী টিম মঞ্চের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করবে যা পরে কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হবে। অবিলম্বে সারা দেশের কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি জাতীয় সম্মেলন করা হবে। শুরু থেকে যেসব সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চে অংশ নিয়েছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ছয় দফার ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে মঞ্চের কার্যক্রম। সংবাদ সম্মেলনে কোন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকে দেখা যায়নি। কামাল পাশা আগামী ১৭ই মার্চ মঞ্চের পক্ষ থেকে মুজিবনগর দিবস পালন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন।

নগ্নপ্রায় দেহে ৪ লাখ ৬০ হাজার মৌমাছি…

মধু বিক্রির জন্য রীতিমতো উদ্ভট এক প্রচারণায় নামলেন মৌমাছি পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত চীনের এক ব্যক্তি। এ ধরনের কাজ তিনি অবশ্য আগেও বেশ কয়েকবার করেছেন। শি পিং নামে ৩৪ বছর বয়সী ওই মধু ব্যবসায়ী ৪ লাখ ৬০ হাজার মৌমাছিতে নিজের শরীর ঢেকে ফেলেছিলেন। পরনে পোশাক প্রায় ছিল না বললেই চলে। ‘বি বিয়ার্ডিং’ কৌশল অবলম্বন করে অবিশ্বাস্য এ কাজটি করেন তিনি। চীনের চংকিং শহরের এ মধু ব্যবসায়ীর শরীরে বসা মৌমাছিগুলোর সম্মিলিত ওজন দাঁড়িয়েছিল ৪৫ কেজি বা ১০০ পাউন্ড। ফ্রান্সের চিত্রগ্রাহকরা শি পিংয়ের ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ভারতের ভিপিন শেঠ মৌমাছি দিয়ে শরীর আবৃত করার ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী। তার গায়ে বসা মৌমাছিগুলোর সম্মিলিত ওজন ছিল ৬১ কেজি ৪০০ গ্রাম বা ১৩৫ পাউন্ড। গিনেস রেকর্ডে তার দখল করা শীর্ষস্থানটি এখনও অক্ষত। হয়তো সেদিক থেকে রেকর্ডটা না করলেও, প্রায় নগ্ন শরীরে মৌমাছি আকৃষ্ট করাটা নতুন রেকর্ড। শি বলেন, সত্যি কথা বলতে কি আমি বেশ ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু, মধু বিক্রির জন্য আমি এমনটা করে থাকি। মৌমাছিতে শরীর ঢেকে ফেলার কৌশলটি তিনি ২২ বছর বয়সেই রপ্ত করেছিলেন।  ১৪ মিনিট স্থায়ী ওই স্টান্টটি করার সময় ২০ বারেরও বেশি হুল ফোটানোর যন্ত্রণা হজম করেছেন শি পিং।

দেড় কোটি রুপির মালিক মোদি, নিজের কোন গাড়ি নেই

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে তার নির্বাচনী এলাকা ভাদোদারা লোকসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তিনি ১ কোটি ৫১ লাখ রুপির সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু, তার নিজের কোন গাড়ি নেই। গতকাল নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা পেশ করেন মোদি। হলফনামায় তিনি তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮২ রুপি বলে উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ পরিমাণ অর্থ রয়েছে তার। এছাড়াও নগদ অর্থ বাবদ তার হাতে রয়েছে ২৯ হাজার ৭০০ রুপি এবং ৪টি আংটির মোট মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার রুপি। গত ২ বছরে মোদি কোন স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করেননি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে গান্ধীনগরে মোদির একমাত্র বাড়িটি রয়েছে, যার দাম প্রায় ১ কোটি রুপি। এছাড়া তার আর কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই। হলফনামায় দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোদির আয় ছিল ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪ রুপি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এর আগে ২০১২ সালের নির্বাচনের আগে তিনি যে হলফনামা পেশ করেছিলেন, তাতে ২০১১-১২ অর্থবছরে তার আয় দেখানো হয়েছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৩০ রুপি। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাবদ তার কাছে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ রুপি ছিল। হাতে নগদ টাকা বলতে ছিল মাত্র ৪ হাজার ৭০০ রুপি। সে সময় তার অস্থাবর সম্পত্তি বাবদ ৩৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৪২ রুপি ছিল। ২০১৪ সালে মোদির সম্পদে আরও ১৮ লাখ রুপি যোগ হয়েছে। আর সেটাও এসেছে ব্যাংকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের ২ বছরের মুনাফা তথা এ জাতীয় আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে।

‘দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ ভুল ছিল’

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একটি ইংরেজি দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কেজরিওয়াল এ কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে জি নিউজ। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৪৯ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে কেজরিওয়াল বলেন, হয়তো দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করাটা সময়োচিত পদক্ষেপ ছিল না। এবং সাধারন মানুষ সিদ্ধান্তটি ভালভাবে নেয়নি। তিনি স্বীকার করেন, তাদের ধারণা ছিল আদর্শের ভিত্তিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়তো জনগণ উদযাপন করবে। তাদের বিশ্বাস ছিল আপামর জনসাধারণ হয়তো বুঝতে পারবে সিদ্ধান্তের পেছনে কারণগুলো কি ছিল। তিনি এ-ও বলেছেন, পদত্যাগের জন্য কোন আক্ষেপ নেই তার। তবে পদত্যাগের কারণ জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করার জন্য আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করেন তিনি। সমাজকর্মী আন্না হাজারের নেতৃত্বে লোকপাল আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ২০১২ সালে জন্ম নেয় আম আদমি পার্টি। গত বছর ডিসেম্বরে দিল্লি রাজ্যসভা নির্বাচনে ২৮টি আসনে জয়ী হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় দলটি। পরবর্তীতে তারা কংগ্রেসের ৮জন এমএলএর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তে কেজরিওয়াল সরকার মাত্র ৪৯ দিন স্থায়ী হয়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ৪০০ টিরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কেজরিওয়াল নিজেই নির্বাচন করছেন। দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আমেথি ও বারানসির আসন জয়ের ব্যপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপি ১৮০টিরও কম আসন পাবে আর মোদি কখনই ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

হিথ্রোতে অবতরণ করেছিল মালয়েশিয়ার বিমান, ছিল না ব্ল্যাকবক্স

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ও এর আরোহীদের সন্ধানে যখন সারা বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অক্লান্ত চেষ্টা চলছে তখন পাওয়া গেল আরেকটি নতুন খবর। এতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের আরেকটি জাম্বো বিমানকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেছিল। তবে পাইলটদের কথোপকথন যে ব্ল্যাক বক্সে রেকর্ড হয় তা ছিল না ওই বিমানে। যুক্তরাজ্যের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারীরা এ তথ্য ফাঁস করেছেন। গতকাল এ খবর দিয়েছে বৃটেনের ডেইলি মিরর অনলাইন। এতে বলা হয় গোয়েন্দারা বলেছেন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছিল। ওই বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৪৭। ওই বিমানটি ২০১২ সালের ১৭ই আগস্ট হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। কিন্তু উড্ডয়নের কিছু পরে এর একটি ইঞ্জিনে বেশ কম্পন সৃষ্টি হয়। লন্ডনের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা এয়ার এক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ বলেছে, বিমানটি ফিরে আসে হিথ্রোতে। তখন ককপিটে আলো জ্বলছিল। তবে বেশ কিছু ত্রুটিও ধরা পড়ে। কোন কোন সিস্টেমে পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তি যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় পাইলট ৩৪০ যাত্রী ও ২২ ক্রুকে নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন। ওই বিমানের ককপিটে ছিল ভয়েস রেকর্ডার। এতে দু’ঘণ্টার কথোপকথন রেকর্ড থাকার কথা। কিন্তু গতকাল প্রকাশিত রিপোর্টে এয়ার এক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ বলেছে, ককপিটের ওই ভয়েস রেকর্ডারটি হারিয়ে গিয়েছিল। বিমানে তা পাওয়া যায়নি। এটা হতে পারতো একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তারা রিপোর্টে আরও বলেছে, তখন মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করার কথা বলেছিল। নিখোঁজ বিমান থেকে সঙ্কেত: ওদিকে মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান বোয়িং ৭৭৭ অনুসন্ধানকারী একটি বিমান থেকে ভারত মহাসাগরে একটি নতুন সঙ্কেত পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা গতকাল এ কথা বলেছেন। জাহাজ থেকে এর আগে পাওয়া সঙ্কেতের মতো এ সঙ্কেতকে ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০-এর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সঙ্কেত নিয়ে আরও বিশ্লেষণের দরকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি এলাকায় ব্ল্যাক বক্সের মতো সঙ্কেত পাওয়ায় সেখানে গতকাল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এখন ধরে নেয়া হচ্ছে ওই এলাকায়ই থাকতে পারে নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্স।

রেকর্ড ভাঙবে বাংলাদেশের গান!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আনন্দযজ্ঞে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘চার ছক্কা হইহই, বল গড়াইয়া গেল কই...’। পুরো দেশ এখন নাচছে এ গানের তালে। শুধু কি বাংলাদেশ? ‘চার ছক্কা’ এখন আছড়ে পড়েছে দেশের সীমানার বাইরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া ফেলেছে গানটি। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘জি-নিউজ’ শিরোনাম করেছে, ‘ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ‘‘বাংলা” গান লোপেজ-পিটবুলের ফুটবল বিশ্বকাপের গানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’ অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘নিউজডটকম’ শিরোনাম করেছে, শুনুন ‘“চার ছক্কা হইহই”’। নিউজডটকম উল্লেখ করেছে, বাংলা ও ইংরেজি ভাষার মিশ্রণে তৈরি গানটির কথায় কিছু উত্সাহব্যঞ্জক বাক্য রয়েছে। যেমন—‘সিক্সটিন ক্রিকেট ক্রেজি নেশনস, হাউ এক্সাইটিং’, ‘বম্ব্যাসটিক রকিং’ ইত্যাদি। মুগ্ধতাজাগানিয়া গানটি জেনিফার লোপেজ, পিটবুল ও ক্লদিয়া লেইতের গাওয়া এবারের ফিফা বিশ্বকাপের গানকে টেক্কা দিতে পারে। অসাধারণ বিট ও লয়ের কারণে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়েছে গানটিকে। গানটির ভিডিওক্লিপস ইউটিউবে যেভাবে ঝড় তুলেছে, তাতে ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপে গাওয়া শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। গানটি মুক্তি পাওয়ার পরই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ‘ফ্ল্যাশমব’। নিউজডটকমের ধারণা, গানটি যেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে, তাতে লন্ডন, মুম্বাই, কেপটাউন ও সিডনির রাস্তায় চার ছক্কার তালে তরুণদের আকস্মিক নৃত্য এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। ওয়েবসাইট।

সিইসির রহস্যময় অনুপস্থিতি কমিশনে নানা গুঞ্জন

উপজেলা নির্বাচন চলছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ দেশে নেই। নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তাঁর ফেরার লক্ষণও নেই। নির্বাচনের মাঝপথে তাঁর এ হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সিইসি ক্লান্ত, তাই ছুটিতে আছেন। অন্য কমিশনাররা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর এ ব্যাখ্যা মানতে চান না নির্বাচন কমিশনাররা। দুজন কমিশনার প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এইচ টি ইমামের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।| কমিশন সচিবালয় থেকে বলা হয়েছে, সিইসি কমিশনকে দুই লাইনের একটি চিঠি দিয়ে গেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ৩ মার্চ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে না ফেরা পর্যন্ত তাঁর অবর্তমানে আবদুল মোবারক সিইসির দায়িত্ব পালন করবেন। কবে ফিরবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি। তবে কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, উপজেলা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এপ্রিলে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা আছে। ৩১ মার্চ নির্বাচন শেষ হওয়ার কথা। প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দফায় কিছুটা এবং তৃতীয় দফায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই, হানাহানি, কেন্দ্র দখল, জালভোটসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সামনেই। এসব ঘটনায় কমিশন তেমন শক্ত পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে সাফাই গাইছে। অথচ ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনের সময় মন্ত্রী-সাংসদদের হস্তক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই সময় কয়েকটি অনিয়মের কারণে দায়ী মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করেছিল কমিশন। কেন্দ্র দখল বা জালভোটের কারণে কমিশন বাদী হয়ে মামলাও করেছিল। এবার সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই কমিশনের। নির্বাচনকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখতেও কোনো তৎপরতা নেই। এসব বিষয়ে যখন গণমাধ্যমে কমিশনের সমালোচনা হচ্ছিল, তখনই হঠাৎ করে বিদেশে চলে যান সিইসি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, সিইসির অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় নির্বাচনে এমন হানাহানির ঘটনা ঘটেই থাকে। সিইসি থাকলেই বা কী হতো। তিনি তো সেটা ঠেকাতে যেতেন না। এপ্রিলে নির্ধারিত সময়েই সিইসি দেশে ফিরবেন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারকের নেতৃত্বে কমিশন কাজ করছে। এ কমিশন তৃতীয় দফা ভোটের সময় সরকারের প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি। প্রথম দফা নির্বাচনে অনিয়মের কারণে শতাধিক লোককে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। জরিমানা করা হয় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জনকে দণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আর তৃতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হলেও কমিশন মাত্র তিনজনকে দণ্ড দিয়েছে। জরিমানা করেছে প্রায় এক লাখ টাকা। দুজন নির্বাচন কর্মকর্তা ও কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সিইসি দেশে না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার প্রথম আলোকে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে সিইসির একটা সমস্যা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা ও সাবেক একজন মন্ত্রীর খবরদারির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ওই উপদেষ্টার কারণে কমিশনকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। সিইসিও তাঁর আচরণে বিরক্ত। ওই কমিশনার বলেন, উপজেলা নির্বাচনের সময় সরকারের প্রশাসন কমিশনের কথা অনেক ক্ষেত্রেই শুনছে না। মূলত প্রশাসনে ওই উপদেষ্টার প্রভাবের কারণে উপজেলা নির্বাচনের সময় কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা নির্বাচন ধাপে ধাপে হচ্ছে। তাই সব রিটার্নিং কর্মকর্তা কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেদের লোক হলে কমিশনের পক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো। কিন্তু সেটা করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনে সমন্বয়ের অভাব ছিল প্রকট। তিনজন নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনাররা তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করেননি। আগের কমিশনের সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারতেন। সমস্যার কথা বলতে পারতেন। ওই কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান কমিশন ভোটের সময় জেলা ও বিভাগে সফর করেনি। জেলা বা বিভাগে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেনি। ফলে তাদের পক্ষে প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এঁরা কমিশনকে মোটেই ভয় করেন না। বিগত সময়ে কমিশন অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। এবার কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কমিশনের উচিত তার কর্মকর্তাদের সাহস দেওয়া। কমিশনারদের জেলাপর্যায়ে যেতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফোন করে কথা বলতে হবে। তা না হলে তাঁরা ভরসা পাবেন কীভাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিইসির দেশে থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর বিদেশে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তির বক্তব্য কমিশনের স্বাধীন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.