Home Authors Posts by Ekush Local Desk

Ekush Local Desk

94 POSTS 0 COMMENTS

মিনায় দুর্ঘটনা ও বিদেশে দুই নেত্রীর অভিযান

মিনায় দুর্ঘটনা ও বিদেশে দুই নেত্রীর অভিযান
কাজী সিরাজ
 এবার হজে গিয়ে কত হাজী নিহত হয়েছেন সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে একরকম তথ্য, তারা বলছেন, নিহতের সংখ্যা ৭৬৯; অন্যদিকে ইরান বলছে, এ সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যাবে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছে। এবার হজে দুইটি দুর্ঘটনা ঘটেছে- একটি ক্রেন দুর্ঘটনা, অন্যটি মিনায় পদদলিত হয়ে নিহতের ঘটনা। হাজী সাহেবদের যাত্রাকাল থেকে শুরু করে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত যেভাবে সংরক্ষিত থাকে বলে শুনেছি, তাতে এটা বলা যায় যে, দুইটি দুর্ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছেন, বিলম্বে হলেও তা পাওয়া যাবে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য আমাদের গভীর শোক এবং নিহতদের পরিবারের জন্য সমবেদনা। বাংলাদেশ থেকে এবার হজ করতে গেছেন ১ লাখ ৫ হাজার হাজী। আমরা উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, আমাদের দেশের কতজন হাজী দুই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য আমরা পাচ্ছি না। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একেক চ্যানেল একেক তথ্য দিচ্ছে। তবে সবাই একটা কমন তথ্য দিচ্ছে যে, ৯৮ জন বাংলাদেশী হাজী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত (২৭-৯-২০১৫) যে ৬ শতাধিক নিহতের ছবি প্রকাশ করেছে তাতে দুইজন বাংলাদেশী শনাক্ত হয়েছেন বলে প্রচার হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন চ্যানেল ভিন্ন পরিসংখ্যান দিলেও নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে দুইয়ের অনেক বেশি বলে প্রচার করেছে। এ ব্যাপারে আমাদের সৌদি দূতাবাস এবং যেসব সরকারি কর্মকর্তা দেশের হাজীদের দেখভাল এবং সংশ্লিষ্টদের হজ ব্যবস্থাপনা তদারকিতে সৌদি আরব 'সফরে' আছেন তারা কি করছেন বোঝা যাচ্ছে না। তবে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে যে, এরা সবাই মিলে যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এ ক'দিনে আমাদের দেশের কতজন হাজী মারা গেছেন তার মোটামুটি একটা স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যেত। সরকারের মধ্যেও তেমন উদ্বেগাকুল মনোভাব যতটা প্রত্যাশা করা গিয়েছিল ততটা দেখা যায়নি। উচিত ছিল দুইটি ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের টিম সেখানে ছুটে যাওয়া। সেখানে দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং 'সফরকারী' সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বাংলাদেশী নিহত হাজীদের শনাক্তকরণ ও সৌদি সহায়তায় তাদের মৃতদেহ হয় দেশে ফেরত আনা অথবা সেখানেই দাফনের ব্যবস্থা করার কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল জরুরি। তেমন কিছু নজরে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই তা আমরা জানি, তিনি এখন ওয়াশিংটনে আছেন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী না থাকলে এমন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি দেখার জন্য কি দেশে আর কেউ নেই? তারা কি বোঝেন না, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এর কী প্রতিক্রিয়া হবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেখানেই যান না কেন সেখানেই তার অফিস। সেখান থেকেও তিনি দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। জানি না তিনি তা দিয়েছেন কিনা। বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এখন বিলেতে। তার পক্ষে মামুলি একটি শোক প্রকাশ ছাড়া নিজের এবং দলেরও কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নজরে পড়েনি। তিনি অনেক দিন সরকার চালিয়েছেন, অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন, সাফল্যও দেখিয়েছেন। হজের মতো একটি পবিত্র ব্রত পালন করতে গিয়ে এতজন হাজীর করুণ মৃত্যুতে তার দলের কোনো করণীয় নেই? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এ মুহূর্তে কী করা উচিত সে ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন না? বিদেশের মাটিতে এটা আমাদের জাতীয় দুর্যোগের মতো একটি ঘটনা। দুর্ভাগ্য, এমন একটি অবিতর্কিত বিষয়েও আমরা জাতীয় ঐক্যের পরিচয় দিতে পারলাম না।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের 'রাজনীতি' চলছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানি একদল হাজীর নিয়ম ভাঙার কারণেই মিনায় পদদলিত হয়ে এত হাজীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কথা। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি এ জন্য সৌদি সরকারকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এটা 'বেস্নইম গেমের' কোনো বিষয় নয়। আবার এটা স্বাভাবিক কোনো ঘটনাও নয়। তাই সবার উচিত হবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা, কেন এমন ঘটনা ঘটল। যারা কয়েকবার হজ করেছেন, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন তারা বলছেন, মিনায় যে ব্যবস্থাপনা তাতে এমন দুর্ঘটনা ঘটার কথা নয়। তবে একটা জটিল পথ আছে, সে পথের গেট খোলাই হয় না। যারা সে পথ ও গেটের বিষয় জানেন, তারা এ অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, সে গেট যদি খোলা হয় বা কেউ খুলে ফেলেন তাহলে সে পথে হুড়াহুড়ি করে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সৌদি সরকারকে 'ডিফেইম' করার জন্য, এমনকি হজে যেতে মুসলমানদের নিরুৎসাহিত করার জন্যও কেউ এমন কাজ করে থাকতে পারে। অথবা হতে পারে নিছক দুর্ঘটনাই। যাই হোক, সুচারুভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শুধু নিহতদের পরিবারকে নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানের মধ্যে যে উদ্বেগ, বিশ্বের শান্তপ্রিয় মানুষের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে, তা নিরসন করা দরকার। দুই আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনও বিদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করতে গিয়ে ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ঈদও করেছেন ওয়াশিংটনে। খালেদা জিয়া চিকিৎসা এবং দলীয় কর্মকান্ডের উদ্দেশ্যে বিলেতে গিয়ে ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী-কন্যা এবং প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে দীর্ঘদিন পর একটি আনন্দঘন ঈদ উদযাপন করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতি নিয়েও দুইজন দুই দেশে ঘাটাঘাটি করছেন। প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটা ধন্যবাদ অবশ্যই দিতে হয় এ কারণে যে, এই প্রথম তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার কোনো একটি কাজের স্বীকৃতি দিলেন। আমাদের প্রধান প্রধান দলের শীর্ষ নেতাদের একটা 'দৈন্য' লক্ষণীয় যে, তারা কেউ কারও কোনো ভালো কাজের প্রশংসা করেন না। রাজনীতিবিদদের এই 'বদ খাসলৎ' জনগণের একটা অংশের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে, বিশেষ করে তাদের অনুসারীদের মধ্যে। দুই দলের লোকজন নিজ নিজ নেত্রীর কৃতিত্ব জাহির করতে গিয়ে এমন কথাও প্রায়ই বলেন যে, নেত্রী ছাড়া আর কেউ এত ভালো কাজ অতীতে করেননি। এতে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব ও অবদানকেও অস্বীকার করা হয়, দুই দলের চাটুকার-তোষামোদকারীরা তাও মনে রাখেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম উদাহরণ হলেন। ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন দেশে নারী নেতৃত্ব থাকায় বাংলাদেশে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন হয়েছে। '৯০-পরবর্তীকালে ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী দুই বছরের সংবিধানবহির্ভূত বিশেষ সরকারের আমল ছাড়া বাকি সাড়ে ২১ বছরই সরকার পরিচালনা করেছেন দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। দুইজনের শাসনকাল প্রায় সমান সমান। এই গোটা সময়ের নারী শাসনকালে নারীদের সব ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি খালেদা জিয়ার ১০ বছরাধিককালের নারী উন্নয়ন কর্মকান্ডের ও স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই স্বীকৃতি খালেদা জিয়ার প্রাপ্য। এই স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা উদারতা ও বড় মনের পরিচয় দিয়ে নিজেও বড় হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে বিদেশ বিভুঁইয়ে দুই নেত্রীর পারস্পরিক রাজনৈতিক বৈরিতাও থেমে নেই। দুইজনই অবাস্তব কিছু কথা বলছেন। দুই নেত্রীর দুইটি বক্তব্য নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন জাগতে পারে। শেখ হাসিনার বক্তব্যটা প্রায় এমন যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দেশের মানুষ ঘৃণা করতে শুরু করেছে। আর খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের সব মানুষ এখন বিএনপির পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আসলে কি তাই? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুইজনের কারও বক্তব্যই যথার্থ নয়। প্রধানমন্ত্রী কৌশলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনটি যথার্থ ছিল বলে বোঝাতে চেয়ে বলেছেন, এর বিরোধিতাকারীদের কোনো অবস্থান জনগণের মধ্যে নেই। কিন্তু তার এই বক্তব্য সত্যের কাছাকাছি নেই। ওই নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা সমালোচনা, এমনকি খোদ আমেরিকায়ও। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল এবং তাদের ধামাধরারা ছাড়া দেশে কারও কাছে এবং বাইরের বন্ধুপ্রতিম প্রায় সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, কমনওয়েলথ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এমনকি জাতিসংঘের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। কারণ সে নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক ছিল না। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪২টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটসহ ৩২টি দলই তাতে অংশগ্রহণ করেনি। ৩০০ আসনের সংসদে ১৫৩ আসনে কোনো নির্বাচনই হয়নি। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে 'প্রত্যক্ষ নির্বাচনের' কথা বলা আছে। এরা বিনা ভোটে নির্বাচিত ঘোষিত হয়েছেন ৫ জানুয়ারির ১৫ দিন আগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১৫১ এমপির সমর্থন। আর কী লাগে! ৫ জানুয়ারির ১৪৭ আসনের নির্বাচন কোনো কারণে করা না গেলেও সরকার গঠন করা যেত বিনা ভোটে নির্বাচিত ঘোষিত এমপিদের ভোটে। সরকার পক্ষ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার অতীত উদাহরণ টানা হয়। আমাদের দেশে এর আগে অনেকের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার নজির আছে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে। কিন্তু সেই সংখ্যা ছিল ৪৯। সরকার গঠনের জন্য আরও ১০২ সদস্যের প্রয়োজন ছিল, যা দশম সংসদে পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগে ছিল না। কাজেই উদাহরণটা যথার্থ নয়। ১৪৭ আসনের নির্বাচনও কেমন হয়েছে তাও দেখেছে দেশ-বিদেশের মানুষ। প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রে একটি ভোটও কাস্ট হয়নি। পর্যবেক্ষকরা বলেন, হার্ডলি ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনটি কোনো অবস্থাতেই আদর্শ নির্বাচন ছিল না। সে নির্বাচন নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। আবার সে নির্বাচনের বিরোধিতা 'কবিরা গোনাহ'র মতো কাজ হয়েছে বলে ধারণা দেয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সততাও নেই। প্রধানমন্ত্রী কথাটা কেন বলেছেন তার বিশ্লেষণটা এভাবে করা যায় যে, বাংলাদেশে একটি অর্থবহ আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে দেশে এবং বিদেশে প্রবল একটা জনমত আছে। সে জনমত দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী হয়তো এমন কথা বলে থাকবেন। এ থেকে বলা যায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বিরূপ জনমত নিয়ে যে কথা বহুদিন ধরে বলা হচ্ছে তাও সত্য বলে ধরে নিতে কোনো বাধা থাকছে না প্রধানমন্ত্রীর তা নিরসনের প্রয়াস থেকে। খালেদা জিয়াও যথার্থ কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ ব্যাকফুটে আছে ঠিক; কিন্তু তাদের একটা বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী আছে। ভালো করুক মন্দ করুক ভোটের বেলায় এরা অধিকাংশই নৌকা ছাড়া অন্য কিছু চেনে না। সমর্থন-বিরোধিতা বিবেচনা করা হয় ১৮ থেকে ২০ ভাগ স্বাধীন ভোটার এবং ভোটার ছাড়াও আরও দেড়-দুই কোটি বয়স্ক ও প্রায়-বয়স্ক মানুষের মনোভাব দিয়ে। হ্যাঁ, এ জায়গায় গত ক'বছরে বিএনপি গেইন করেছে, এমনকি ধারণা করা যায় যে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তেমন ৫ থেকে ৭ ভাগ ভোটারও বিগড়ে গেছে আওয়ামী লীগের ওপর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শিশুহত্যা, নারী ধর্ষণ, গ্যাং রেইপ ও হত্যা, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদাবাজি এবং বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এর কারণ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, দেশের সব মানুষ বিএনপির পিছে লাইন দিয়েছে। এমনকি নানা কারণে যারা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ, এক সময় যারা বিএনপিকে ভোট দিত তাদের অনেকেও নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য রেডি হয়ে আছেন, খালেদা জিয়ার এমন ধারণা দেয়ারও কোনো ভিত্তি নেই। জনগণের এই অংশের সমর্থন পেতে হলে বিএনপিকে বদলে যেতে হবে। ফিরে যেতে হবে জিয়ার বিএনপির 'আদলে'। নৌকার কিছু সমর্থকসহ সাধারণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ভোটার, এমনকি বিএনপিরও অনেক সমর্থক সরকারবিরোধী মনোভাব পোষণ করলেও বিএনপিকেও তাদের চেনা। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্ব যুক্ত হওয়ার পর বিএনপির ভাবমূর্তি অনেক ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযোগ আছে, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জনগণের দল বিএনপিকে তারা পারিবারিক সম্পত্তি বিবেচনা করছেন। রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য না দিয়ে কর্মচারী দ্বারা দল চালাচ্ছেন করপোরেট হাউসের মতো। বিলাতেও তার আশপাশে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা কেউ ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদ নন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ যতটা না রাজনীতিবিদ, তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। আবদুল আউয়াল মিন্টু, তাবিথ আউয়াল- এরা রাজনীতিবিদ ছিলেন কবে? এরা কেন সেখানে গেলেন? দলের অন্য নেতাদের কাউকে যেতে বললেন না কেন? ড. ওসমান ফারুক, সাদেক হোসেন খোকাসহ যারা বিদেশেই আছেন তাদেরও নাকি বিলেত যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কেন? কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমান নাকি আমির খসরু মাহমুদকে দলের মহাসচিব করার কথা ভাবছেন। তাই তাকে প্রজেক্ট করার জন্য সেখানে নিয়ে গেছেন, তার গুরুত্ব বাড়াচ্ছেন। এর আগে নাকি তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের কথা ভেবেছিলেন। গুমের ঘটনা না ঘটলে অনেক আগেই নাকি মির্জা ফখরুল ইসলামের কপাল পুড়ত। এসব ঘটনায় যে আভাস মিলছে তাতে বোঝা যায়, মা-ছেলের দল পুনর্গঠন দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সংগঠক নেতা-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। ফলে আগাম একটি নির্বাচন হলেও বিএনপি জনসমর্থন ক্যাশ করতে পারবে না। যেখানে দলই ঐক্যবদ্ধ নেই, দল ভেঙে দল, দলের ভেতরে দল সেখানে দেশের সব মানুষ বিএনপির পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলা অর্থহীন নয় কি? সুযোগ ও সম্ভাবনা তবুও আছে বিএনপির। সেই জন্য 'করপোরেট হাউস' ভেঙে দিয়ে বিএনপিকে তুলে দিতে হবে প্রকৃত বিএনপি নেতাকর্মী-সংগঠকদের হাতে। মূল্য দিতে হবে ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদদের। সুখে-দুঃখে সারাটা সময় যারা দলের সঙ্গে লেগেই আছেন, সামর্থ্য অনুযায়ী যার যার অবস্থান থেকে দলের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের মর্যাদা দিতে হবে। মাঠ থেকে তুলে আনতে হবে নতুন নেতৃত্ব, আহরণ করতে হবে নতুন শক্তি। দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করলে বলতে হবে, মিথ্যা চর্চা নয়, দুই নেত্রীর সত্য ও সুন্দরের পূজাই তা নিশ্চিত করতে পারে। কাজী সিরাজ : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম-লেখক

চূড়ান্ত রায়েও কামারুজ্জামানের ফাঁসি বহাল

ictসর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল রাখায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিকাষ্ঠেই যেতে হবে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করে।বেঞ্চের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে হত্যার দায়ে কামারুজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে আসামি কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে। তবে চতুর্থ অভিযোগে গোলাম মোস্তফাকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় ও সপ্তম অভিযোগে কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায়েও বহাল রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে এক শিক্ষককে নির্যাতনের ঘটনায় এই জামায়াত নেতাকে ট্রাইব্যুনাল ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। আর সপ্তম অভিযোগে গোলাপজান গ্রামের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় আসামিকে দেওয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দুটি সাজাই বহাল থাকবে। প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে শেরপুরের কালীনগর গ্রামের বদিউজ্জামানকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছে। প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে জানানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের আপিল না থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু প্রত্যাশিত বিচার কাজ শুরু হয়। একাত্তরে আল বদরের ময়মনসিংহ জেলা শাখা প্রধান কামারুজ্জামানকে এরপর গত বছর ৯ মে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গত বছরের ৬ জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান। গত ৫ জুন এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালে আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আপিল করেনি। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে কামারুজ্জামান হলেন তৃতীয়ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হলো। এর আগে তার দলেরই আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এরপর গত বছরের ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়। আর চলতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় সর্বোচ্চ আদালত। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু প্রত্যাশিত বিচার কাজ শুরু হয়। ওই বছর ২১ জুলাই কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে একটি মামলায় একই বছর ২৯ জুলাই তাকে গ্রেপ্তারের পর ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ৩১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়। ওই বছর ৪ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানের বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৮ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আর আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন পাঁচজন। স্বাধীনতার পরের বছর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কামারুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে থেকে মাস্টার্স পাস করার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমনের আমলে ১৯৭৮-৭৯ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কামারুজ্জামান মূল দল জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন এবং ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর রুকনের দায়িত্ব পান। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি দলে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বে রয়েছেন।

বদরপ্রধান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড

monitur_rahman_nijami_tribunalমুক্তিযুদ্ধকালে যার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বে বদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল, সেই মতিউর রহমান নিজামীকে যেতে হবে ফাঁসিকাষ্ঠে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রধান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উসকানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার ১৬টি ঘটনার মধ্যে চারটিতে নিজামীকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছে, যদি ফাঁসি না দেওয়া হয়, তাহলে তা হবে বিচারের ব্যর্থতা। জামায়াতের আজকের আমির নিজামী চার দশক আগে ছিলেন জামায়াতেরই ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আলবদর বাহিনীরও নেতা। এছাড়া স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মামলার রায়ে উঠে এসেছে। ৭১ বছর বয়সী নিজামী হলেন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করা চতুর্থ রাজনীতিবিদ, আদালত যাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিল। এর আগে চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়।

ফরমালিনের বিকল্প আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহম্মদ খান

mubarak-khanবাজারে মাছ, ফল, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য সংরক্ষণে যখন হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ফরমালিন, ঠিক তখনই এর বিকল্প আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহম্মদ খান। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তার দীর্ঘ গবেষণায় আবিষ্কার করেছেন, খাদ্য সংরক্ষণে ফরমালিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কাইটোসেন। চিংড়ির ফেলে দেয়া খোসা থেকে প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয় এ কাইটোসেন। এটি ব্যয়সাশ্রয়ী এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকরও নয়। ড. মোবারক এরই মধ্যে বিভিন্ন রকম ফল ও সবজি সংরক্ষণে চিংড়ির খোসা থেকে তৈরি কাইটোসেন ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। এখন তার এ গবেষণা প্রয়োগ করা হবে মাছের ওপর। তার পর শুরু হবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার। তিন বছর ধরে গবেষণার পর তিনি কাইটোসেন ব্যবহার করে আম দুই থেকে তিন সপ্তাহ, লিচু ১২ থেকে ১৩ দিন, আনারস ১০ থেকে ১২ দিন, করলা হিমায়িতভাবে প্রায় ১৮ দিন এবং টমেটো ২১ দিন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে খাদ্যের গুণগত মান, আকৃতি, রঙ ও স্বাদে পরিবর্তন হবে না। গত চার বছরে এক হাজার কেজির বেশি ফরমালিন আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে ড. মোবারক বলেন, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করেই চাহিদা অনুযায়ী কাইটোসেন উৎপাদন সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে প্রতি কেজি আমে এক টাকার কাইটোসেন যথেষ্ট। সবজি সংরক্ষণে খরচ পড়বে ৪০ পয়সা। প্রতি কেজি চিংড়ি থেকে ৬০ গ্রাম খোসা পাওয়া যায়। সে হিসাবে ছয় কেজি চিংড়ির খোসা থেকে এক কেজি কাইটোসেন তৈরি হবে, যা তৈরিতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে রাসায়নিকভাবে কাইটোসেন তৈরিতে এক লাখ টাকা খরচ হয়। এটি তৈরিতে চিংড়ির খোসা ধোয়ার জন্য তিন শতাংশ হারে সোডিয়াম হাইড্রো-অক্সাইড (কস্টিক সোডা) ব্যবহার করা হয়। খোসা ধুয়ে পরিষ্কারের পর তৈরি করা হয় কাইটিন। গবেষণায় তিনি গামা রশ্মির রেডিয়েশনের মাধ্যমে কাইটিন থেকে কাইটোসেন তৈরি করেন। খাদ্য সংরক্ষণে রেডিয়েশন প্রযুক্তি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি্লউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ) অনুমোদিত একটি নিরাপদ প্রক্রিয়া। অন্য রাসায়নিক ব্যবহার হয় না বলে এতে পরিবেশ দূষণ হয় না। ড. মোবারক আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি এক বৈঠকে তার আবিষ্কারের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে এটি বাস্তবায়নে তিনিসহ এ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, দপ্তরের মহাপরিচালক, বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের নিয়ে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের ওপর কাজ শুরু করার জন্যও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে বছরে গড়ে আড়াই টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। এ থেকে খোসা হয় ১৫ হাজার টন। এ থেকে কাইটোসেন উৎপাদন হবে ২৫০ টন। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ওই পরিমাণকে যথেষ্ট মনে করেন বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশে কাইটোসেন তৈরি প্রক্রিয়া পেটেন্ট করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন বলেও জানান ড. মোবারক আহম্মদ খান।

অ্যাভেঞ্জার্সের শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশে!

Avengers-2-Age-of-Ultron-the-avengers-age-of-ultron-37343527-752-1063হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল কিছু ছবির মধ্যে আছে অ্যাভেঞ্জার্স-এর নাম। এ ছবির দ্বিতীয় কিস্তি মুক্তি পাবে আগামী বছর মে মাসে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এ সিরিজের নতুন ছবির ট্রেলার। যাতে বাংলাদেশকেও দেখা গেছে এক ঝলক! এর পর থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে অ্যাভেঞ্জার্স ছবির শুটিং হওয়ার গুঞ্জনটি। সত্যিই কি বাংলাদেশে হয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন ছবির শুটিং?—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনেই। এ প্রশ্নের জবাব হলো, হ্যাঁ। বাংলাদেশেই হয়েছে এ ছবির কিছু অংশের শুটিং। অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন ছবির আইএমডিবি পেজে গেলেই এ বিষয়ের সত্যতা জানা যাবে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির শিপইয়ার্ডে গতবছর অ্যাভেঞ্জার্স ছবির শুটিং হয়। সে সময় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অন্য এক নামে মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্ট ছবির শুটিং করে যায় বাংলাদেশে। ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, ‘নন ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর কারণে কেউই এ বিষয়ে এখন মুখ খুলতে পারবেন না। ২০১৫ সালে মুক্তি পাবে অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন। ছবিতে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওর্থ, স্কারলেট জোহানসন, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, মার্ক র্যাফেলো, জেরেমি রেনার, এলিজাবেথ অলসন, কোবি স্মুলডার্স ও অ্যারন টেইলর জনসন।

গ্যাংরিনে পা হারাচ্ছেন টেলিসামাদ

Comedy-actor-Tele-samad (1)রূপালি পর্দার কমেডিয়ান টেলিসামাদ গুরুতর অসুস্থ। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এখন চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। জানা গেছে, কিডনি, স্নায়ু, ডায়াবেটিক ও পায়ে গ্যাংরিন-সহ নানাবিধ জটিলতায় ভুগছেন তিনি। গ্যাংরিনের চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হবে। এ কারণে তার পা কেটে ফেলতে হচ্ছে। ডা. কামাল পাশার তত্ত্বাবধানে টেলিসামাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক জানান, টেলিসামাদ আশংকামুক্ত নন। তা পা কাটা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। গ্যাংরিনের অস্ত্রোপচার করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে সংক্রামণ রক্তে ছড়িয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে তখন রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসবে। আবার অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান না ফিরলে একই ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন চিকিৎসক। তার মেয়ে অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিয়েছেন। ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন টেলিসামাদ। প্রথমে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ডিফার্ম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে তার শরীরে প্রথম বাইপাস করা হয়েছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেন তিনি। ১৯৭৩ সালে নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ‘কার বৌ’ ছবির মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় অভিষেক হয় টেলিসামাদের।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন লিমন

limon-rab-wb3র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) দায়ের করা সরকারি কাজে বাঁধা দানের মামলা থেকে অবশেষে অব্যাহতি পেয়েছেন র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন হোসেন। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু শামিম আজাদ এ অব্যাহতির আদেশ দেন। লিমনের আইনজীবী আক্কাস সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৯ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দু’টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুলাই ঝালকাঠির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার অস্ত্র মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

wpid-lotif.jpgধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলায় অপসারিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালত বুধবার এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঢাবিতে ২য় বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া যাবে না

imagesশিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর, ২০১৪)বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সাধারণ সভা শেষে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ তথ্য জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শুধু ওই বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণরা অংশ নিতে পারবে। পুরাতনরা পারবে না। এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দুইবার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিলে অসম প্রতিযোগিতা হয়। কারণ দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিলে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী এক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়ে আর অন্যজন উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেই ভর্তি পরীক্ষায় বসে।' তিনি আরও বলেন, 'আবার অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পুনরায় ভর্তি বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। ফলে যেখানে প্রথমবার ভর্তি হয়েছে, সেখানকার আসন ফাঁকা হয়ে যায়।' এতোদিন এইচএসসি উত্তীর্ণরা টানা দুইবার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেতেন। এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ইংরেজি বিভাগে ভর্তির শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন।

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন জিন টিরোল

jean_tirol_bg_611471567এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ফরাসি নাগরিক জিন টিরোল। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার কিছু সময় পর (স্থানীয় সময় দুপুর ১টা) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স এ নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণা করে। সম্পদের মূল্য নিয়ে প্রায়োগিক বিশ্লেষণের জন্য ২০১৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান তিন মার্কিন নাগরিক ইউজিন এফ ফামা, লার্স পিটার হানসেন ও রবার্ট জে শিলার। অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া একমাত্র নারী হলেন ইলিনর অস্ট্রম। প্রথম কোনো নারী হিসেবে ২০০৯ সালে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন এ মার্কিনী। আলফ্রেড নোবেল তার উইলে নোবেল পুরস্কারের জন্য অর্থনীতির নাম উল্লেখ করেননি। তবে অর্থনীতিশাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা চিন্তা করে সুইডিশ রিক্স ব্যাংকের সৌজন্যে নোবেলের স্মরণে ‘অর্থনীতি বিজ্ঞানে সেরিস রিক্স ব্যাংক প্রাইজ’ শীর্ষক পুরস্কারটি প্রবর্তিত করা হয়। এরপর ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৪৫ দফায় ৭৪ জন অর্থনীতিবিদ এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

নির্মলেন্দু গুণের সফল অস্ত্রোপচার: সরকার নির্মলেন্দু গুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে

সরকার নির্মলেন্দু গুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে ২০১৪ অক্টোবর ১৪ ১৯:২৮:৩০
সরকার নির্মলেন্দু গুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে
নিউজ ডেস্ক, ঢাকা : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কবি নির্মলেন্দু গুণের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সব সময় কবির চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন। কবি নির্মলেন্দু গুণকে দেখতে এসে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মঙ্গলবার বিকেলে তিনি এ সব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ও বিভিন্ন সময়ের লেখালেখি বাঙালির চেতনাকে সব সময় শাণিত করেছে। তাঁর কবিতা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে দৃঢ় ভিত্তি দিতে সাহায্য করেছে। মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কবির লেখার ভক্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই মহান কবির দ্রুত আরোগ্য আমাদের সকলের কাম্য। তিনি কবির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। ল্যাবএইড-এর নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণ কথা বলেন। তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে কবির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ কবির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করবে বলে তারা মন্ত্রীকে অবহিত করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদও কবিকে দেখতে হাসপাতালে যান। তাঁরা দু’জনে কবি ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন। সফলভাবে শেষ হয়েছে কবি নির্মলেন্দু গুণের ওপেন হার্ট সার্জারি। সন্ধ্যা নাগাদ তার জ্ঞান ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফর রহামান। দুপুর সোয়া ১২ টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সার্জারির তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বরেণ চক্রবর্তী এবং ডা. লুৎফর রহামান। সোমবার দুপুর সোয়া তিনটায় নির্মলেন্দু গুণের ওপেন হার্ট সার্জারি শেষ হয়। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে ডা. লুৎফর বলেন, অত্যন্ত সফলভ‍াবে নির্মলেন্দু গুণের অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে। তার হৃদপিণ্ডে তিনটি ব্লক হয়েছিল, তবে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাকে বিপদ মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি একজন গুণী কবি, তার লেখা আমিও পড়েছি। তিনি যেমন যত্ন নিয়ে কবিতা লেখেন, আমরাও চেষ্টা করেছি যত্ন নিয়ে তার অস্ত্রপ্রচার করতে। এক সপ্তাহ পরেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পারবেন। গত শনিবার দুপুরে কবি নির্মলেন্দু গুণ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোববার দুপুর থেকে অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে রাজধানীর ঝিগাতলায় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় বিকেলে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তাকে স্থানান্তর করা হয় আইসিইউতে।

লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ, প্রজ্ঞাপন জারি

wpid-lotif.jpgমন্ত্রিসভা থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করা হয়েছে। অপসারণ সংক্রান্ত ফাইলে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সই করার পর রোববার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের টাঙ্গাইল জেলা সমিতির মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কটূক্তি করেন। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একইসময় যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে নিজে পদত্যাগ না করলে অপসারণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেও রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব হজ পালনে সৌদিতে অবস্থান করায় ওই ঘোষণাটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে তারা দেশে ফেরেন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন মালাল‍া ও কৈলাশ

Malala-Yousafzai1এ বছর শান্তিতে নোবেল পেলেন মালালা ইউসুফজাই ও কৈলাশ সত্যার্থী। শিশু অধিকারের বিষয়ে কাজের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নরওয়ের অসলোয় শান্তিতে নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। নোবেল কমিটি এক ঘোষণা জানায়, শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল বিজয়ীদের একজন হিন্দু ও ভারতের নাগরিক এবং অন্যজন মুসলিম ও পাকিস্তানের নাগরিক। তবে তারা উভয়েই শিশুদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। ২০১৩ সালে শান্তিতে নোবেল প‍ায় ‘অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপন্স (ওপিসিডব্লিউ)’। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষক এ প্রতিষ্ঠানটিকে নোবেল দেওয়া হয়। ১৮৯৫ সালে আলফ্রেড নোবেলের উইলমতে, এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থসহায়তায় ১৯৬৮ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে পুরস্কার সুইডেন থেকে দেওয়া হলেও শান্তিতে নোবেল দেয় নরওয়ে। কৈলাশ সত্যার্থী সম্পর্কে ৫টি অজানা তথ্য ঢাকা: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন পাকিস্তানের শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফজাই ও ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাশ সত্যার্থী। কৈলাশ সত্যার্থীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ১১ জানুয়ারি। তিনি ৮০ হাজারেরও বেশি শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন, তাদের দাসত্বের হাত থেকে মুক্ত করেছেন। পড়াশোনা করেছেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। কৈলাশ সত্যার্থী সম্পর্কে অজানা ৫টি বিষয় পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো- ১. মাদার তেরেসার পর তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি হেসেবে ভারতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন। তবে ভারতে জন্ম নেয়া ব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রথম। দুস্থ ও অসুস্থদের জন্য জীবন উৎসর্গ করা মাদার তেরেসা জন্মেছিলেন আলবেনিয়ায়। ২. শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বউ-বাচ্চা নিয়ে দিল্লিতে বাস করেন। ৩. ছোটবেলা থেকেই শিশুদের অধিকার নিয়ে তার মধ্যে সচেতনতা ছিল। ছয় বছর বয়সে তিনি একদিন জানতে পারেন, তার স্কুলের পাশে তার বয়সী একটি শিশু জুতা পরিষ্কারের কাজ করে। এরপর তিনি বুঝতে পারেন তার বয়সী অনেক শিশুই স্কুলে যেতে পারে না। তখনই তিনি ভেবে নেন, বড় হয়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় তিনি কাজ করবেন। ৪. সারা বিশ্বের শিশু অধিকার কর্মীদের মধ্যে তিনি খুবই পরিচিত একজন মানুষ। এখনও তিনি শিশুদের দাসত্ব থেকে মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে বিশ্বাসী। ৫. তিনি ‘সাউথ এশিয়ান কোয়ালিশন অন চাইল্ড সার্ভিচুড’ (এসএএসিএস) প্রতিষ্ঠার অন্যতম অগ্রগামী কর্মী।  

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন ‍আর নেই

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন আর নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। Abdul-Matin-Lead তার স্ত্রী গুলবদন নেছা মনিকা এ খবর নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন মৃত্যুর আগেই শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালকে মরণোত্তর দেহ দান করার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। আর চক্ষু দান করার ঘোষণা দিয়েছেন সন্ধানীকে। গত ১৮ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন ভাষামতিন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নগরীর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হলে গেলে চলতি মাসের ৪ তারিখে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয় ভাষামতিনকে। বিএসএমএমইউ এর ১০ তলায় সম্প্রসারিত আধুনিক আইসিইউ কক্ষের ৯ নাম্বার বেডে শিফট অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা দেখভাল করেন ডাক্তাররা। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও সংগ্রামী আব্দুল মতিনের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলায় এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তিনি ছিলেন তাদের প্রথম সন্তান। ১৯৩০ সালে গ্রামের বাড়ী যমুনায় বিলীন হলে আব্দুল জলিল জীবিকার সন্ধানে সপরিবারে ভারতের দার্জিলিংয়ে চলে যান। সেখানে জালাপাহারের ক্যান্টনমেন্টে সুপারভাইজ স্টাফ হিসেবে চাকরি পান। ১৯৩২ সালে দার্জিলিং-এর বাংলা মিডিয়াম স্কুল মহারাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হন। শুরু হয় তার শিক্ষাজীবন। ১৯৩৩ সালে আব্দুল মতিনের বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখন তার মায়ের মৃত্যু হয় অ্যাকলামশিয়া রোগে। মহারানী গার্লস স্কুলে ৪র্থ শ্রেণি পাশ করে ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন মতিন। ১৯৪৩ সালে এনট্রান্স (Secondary Certificate Examination) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। ছেলে দার্জিলিংয়ে ভাল কোনো কলেজে ভর্তি হোক বাবা তা চাইলেও আব্দুল মতিন ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ২ বছর পর ১৯৪৫ সালে তিনি এইচ এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আব্দুল মতিন ব্রিটিশ আর্মির কমিশন্ড র‌্যাঙ্কে ভর্তিপরীক্ষা দেন। দৈহিক আকৃতি, উচ্চতা, আত্মবিশ্বাস আর সাহসিকতার বলে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশন পান। এরপর তিনি কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর যান। কিন্তু ততদিনে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে তিনি একটি সার্টিফিকেট নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস (পাশ কোর্স) এ ভর্তি হন। ফজলুল হক হলে তাঁর সিট হয়। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস বিভাগ থেকে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলায় তার অবদান অন্যতম। ১৯৫২ সালে আব্দুল মতিনসহ অন্যরা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। তারই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারা বাংলার জন্য আন্দোলনের নানা কর্মসূচি। তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ইমেজের অধিকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

বঙ্গবন্ধুকে মানুষ হত্যাকারী বললেন তারেক

Tarique_rahman_697194112বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার জাতির জনককে মানুষ হত্যাকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বিশ্বনেতা শহীদ জিয়াউর রহমান: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আখ্যা দেন। সভায় যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সম্মানে নামকরণকৃত ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’র নামফলক গ্রহণ করেন তারেক। তার হাতে নামফলকটি তুলে দেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোজাম্মেল নান্টু। তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব একজন হত্যাকারী। তার আমলে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে শেখ মুজিব ভুল করলেও ‘শহীদ’ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সে ভুল করেননি বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে ‘রং হেডেড’ মন্তব্য করে তারেক বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা নেই শেখ হাসিনার। দেশের মানুষকে এই রং হেডেড মহিলার কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চসহ বিভিন্ন সময় সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতা ঘোষণা না করে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিন্তু সেই ভুল করেননি। দেশের মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পেরে ২৫ মার্চ রাতেই তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নামফলক গ্রহণ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের যে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার প্রমাণ এই নামফলক। কিন্তু এই নামকরণ যাতে না হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস এজন্যে ব্যাপক চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হতে পারেনি’। দীর্ঘ বক্তৃতায় তারেক তার সেই পুরনো কথাই নতুন করে শোনান নেতাকর্মীদের। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের নাগরিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে ফিরে এসে শেখ মুজিব অবৈধভাবে প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়েছিলেন। শেখ মুজিবের আমল বাংলাদেশের অন্ধকার যুগ ছিল মন্তব্য করে জিয়াপুত্র তারেক বলেন, এই অন্ধকার থেকে দেশকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও কড়া সমালোচনা করেন তারেক। তিনি বলেন, চোর-ডাকাত-দুর্নীতিবাজরা শেখ হাসিনার আপনজন। সম্প্রতি এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থানের কড়া সামলোচনা করে তারেক বলেন, তাদের মতের বাইরে গেলেই, তারা রাজাকার উপাধি দেয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতির একমাত্র পুঁজি পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বলেও মন্তব্য করেন তারেক। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে সেনা বিদ্রোহের কথা স্মরণ করে তারেক বলেন, ওই সময় খালেদ মোশাররফকে কারা হত্যা করেছিলো হাসানুল হক ইনুকে (তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি) রিমান্ডে এনে তা জিজ্ঞেস করা উচিত। নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে নেই। আওয়ামী লীগ জনগণের ভাষা বোঝে না, একাত্তরেও তারা এটি বোঝেনি। আন্দোলন এখনও টের পাচ্ছে না বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকার। যখন টের পাবে তখন আর পালাবার পথ পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক নেতা।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.