ভয়াল ২১ শে আগস্ট স্মরণে পঙতিমালা

ভয়াল ২১ শে আগস্ট স্মরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত পঙতিমালা image পচাত্তুরের পনেরোই আগষ্ট বেলজিয়ায়ামের একটি ছোট বিমান বন্দরে তুমি সবুজের মাঝে লালসূর্য পতাকা শোভিত বাংলার মানচিত্রে অঁকা একটি ছোট বই হাতে ইমিগ্রেশন অফিসারের সন্মুখে ছিলে যখন দাড়িয়ে বিমানে ওঠার ছাড় পত্রের আশায় বইটি ইমগ্রেশণ অফিসার নিয়ে হাতে করেছিলেন প্রশ্ন তুমি কি বাংলাদেশী? তোমার হ্যাঁ সুচক উত্তর শুনে তিনিই দিয়েছিলেন প্রথম সেই নির্মম ভয়াবহ নিষ্ঠুর সংবাদটি জাতিরজনক বঙ্গমাতা ভাই ভাবীদের রক্তের দৌহিত্রদের হত্যার দু:সংবাদ আর কেউ ছিলানা তোমার পাশে তখন শান্তনা দেবার,কিই বা ছিল শান্তনার কে পারে দিতে তা ঐ দু:সংবাদের একা ! বড় একা ছিলে তুমি ! বড় একা হয়ে গেছিলে তুমি অাপা এই পৃথিবী তখন তোমার কাছে হয়ে গেছিল অচেনা এক গ্রহ বাংলাদেশের মানচিত্র সরে যাচ্ছিল তোমার দুচোখের দুয়ার থেকে দুরে দুরে লালসবুজের পতাকাকে মনে হয়েছিল পিতার মা’র কামাল জামাল রাসেলের রক্তাক্ত লাশ তারপর সব শোনা আর হয়নি তোমার সবশেষ সবহীন সবহারা তুমি কেউ ছিলনা পাশে দিতে শান্তনা সেদিন কেঁদেছিল কি বেলজিয়ামের সেই ছোট বিমান বন্দরের ইট পাথর কেঁদে ছিলো কি সেই ইমিগ্রেশন অফিসার যখন জেনেছিল তুমি জাতির জনকের কন্যা সেই থেকে মরনের সাথে তোমার বসবাস, মৃত্যু আর পারেনি দেখাতে ভয় তোমাকে জনককে করেছিল যারা হত্যা সপরিবারে তারা দেশে দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কেবলই তোমাকে হত্যা করার কৌশলে মত্ত উন্মাদ দানবীয় শক্তিতে কেনো তাদের এই অভিপ্রায় কোনো এতো সাধ তাদের কেনো তোমার মৃত্যু ওদের কাছে এতো অপরিহার্য এতো প্রয়োজন বিনিদ্র রাত্রিদিন কাটে পশুদের শুধু তোমাকে করতে হত্যা তাদের কত উপকার করেছ তুমি, কে জানে কিন্তু ইতিহাস হাসে,ইতিহাস কাঁদে কাঁদে এই বাংলার মাটি বৃক্ষ তরু লতা নদী সাগর ঝর্না দোয়েল শালিক হাজার প্রশ্ন তাদের- কেনো কোনো এই ষঢ়যন্ত্র কেনো সীমাহীন শক্রুতা তোমাকে হত্যা করার জন্যে এতো কেনো তাদের নিষ্ঠুর আয়োজন কি ক্ষতি করেছ তুমি তাদের ঘোরে তারা তোমার সন্মুখে পশ্চাতে হন্তারক দলেদলে গোপনে গোপনে কি তোমার অপরাধ ? অপরাধ কি শুধু এই তোমাকে পাঠাতে পারলে অন্তিম যাত্রায় এই দেশ এই মাটি লুটে পুটে খাবে জল্লাদের দল পশু জানোয়ার দস্যু তস্কর গিলে খাবে পদ্মা মেঘনা যমুনার সব জল তাই নদী কাঁদে সাগর কাঁদে কাঁদে ঝর্নার জল উত্তর তার মেলেনা সেইযে শক্রুরা যাচ্ছে মৃত্যুর জালবুনে উণিশ একাশি সাল থেকে যেদিন এসেছিলে ফিরে বিদেশ বিভূয়ে থেকে হিমালয়সম ব্যাথা শোক দু:খ বুকে নিয়ে সেই থেকে পদে পদে কখনো বন্দুকের গুলি কখানো বোমা কখনো ককটেল করেছে নিশানা তাক তোমার দিকে, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি দিয়েছে পাহারা তোমাকে করেছে জীবনরক্ষা একে একে বারটিবার ভয়াল আক্রন থেকে তোমার জীবন যে স্রষ্টার হাতে সর্মপিত দেখেছে বিশ্ব সে সব ঘটনা বিস্ময়ে হয়েছে অবাক হতবাক শুধুু মাত্র একটি মানুষকে হত্যার এতো কি আয়োজন এতো কি প্রয়োজন পশুদের তারপর সর্বশেষ অাসে গ্রেনেড আক্রমন অাঘাত তোমার উপর একুশে আগষ্ট দুহাজার চারে অদ্যম্য সুপরিকল্পিত নিশ্চিত নিশানা ঠিক করে পাঠাতে তোমাকে অনন্ত অন্তিমে কিন্তু পারেনি ওরা, পারেনি পাশব শক্তি সেই অলৌকীক শক্তি আর কোটি বাঙালির দোয়া করেছিল রক্ষা সেই দিন একুশে আগষ্ট জাতি বেঁচেছিল আরএকটি কলঙ্ক কালিমার ইতিহাস থেকে তুমি যে ছিলে সেদিন মানব প্রাচীরে ঘেরা মানুষের ভালবাসার লৌহ কপাটের ভেতর যদিও দিয়ে গেছেন আত্মাহুতি অনেকেই শুধু জাতির জনকের কন্যার জন্যে আমাদের পরম প্রিয় আপা দেশরত্ন শেখ হাসিনা শুধু কেবল তোমারই জন্যে এইজাতির তুমি যে একমাত্র আশ্রয় স্থল সকল ঝড়ে প্লাবনে গকী সুনামী ঝঞ্ছায় তুমি যে জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা। কথাশিল্পী আজিজুর রহমান আজিজ  

আলোদ্বীপ -কাজী রহমান

  [caption id="attachment_11528" align="alignleft" width="300"]Tower of light The Imagaine Peace Tower in memorial to John Lennon is located on Viðey Island near Reykjavík. Courtesy: blipfoto.com Tower of light
The Imagaine Peace Tower in memorial to John Lennon is located on Viðey Island near Reykjavík. Courtesy: blipfoto.com[/caption] আলোদ্বীপ অরোরা বেরিয়ালিসে বর্ণিল বিষন্নতা, কেউ কি দেখেছ সেদিকটায় চেনা জগতের অবয়ব; বিমূর্ত তুলির আচড়ে দেখেছ কি গোয়েন্দা দৃশ্যপট; অচেনা? শাব্দিক কম্পনে দুর্বোধ্য এক আকর্ষণ, ভেবেছ কি কখনো, ক্যামনে টোকা মারে খামোখা? বয়সী গুহায় ঝুলন্ত স্ফটিক থেকে আসে স্বরমিশ্রণ; স্নায়ু শিহরণ? কত অজানারে শুধু একা ভাবনার তরে, একবারো দুরে গিয়ে হারিয়েছ তুমি; শুধু আপনারে নিয়ে? ছুঁড়ে দিয়ে দুরে হিসেবের খাতা; দূষিত আলো-বৃত্তের ওপারে? রোপিত ভাবনায় চেনা ভাবা জীবনেই; রফা করে গেলে; এক দিন প্রতিদিন যাহাদের লাগি; হে বন্ধু, বেঁচে গেলে; না দিয়েই অর্থ ওহে; অর্থহীন জীবনেরে? আলোধরাদের খুঁজে দেখেছ কি তোমরা? আলোদ্বীপে শুনেছি তাদের বাস, নিতান্তই কয়েকটি। আলো-ইটে গাঁথা বাতিঘরে; আগ্রহে তারা, তোমাদের প্রতীক্ষায়। -কাজী রহমান, কবিতা

“গলিত জোছনায় প্লাবিত নগরে ঈশ্বর”: আইরিন সুলতানার প্রথম কাব্যগ্রন্থ

20140212-091029.jpg

“গলিত জোছনায় প্লাবিত নগরে ঈশ্বর” -বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। কাব্যগ্রন্থের নাম: গলিত জোছনায় প্লাবিত নগরে ঈশ্বর প্রচ্ছদ: আইরিন সুলতানা মোট ৮৮টি কবিতা আছে। ছাপামূল্য: ১৫০ টাকা (মেলায় নির্ধারিত ডিসকাউন্ট থাকবে) প্রকাশক: শব্দশৈলী মেলায় স্টল নম্বর: ২৮৪, ২৮৫, ২৮৬ বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে - কাব্য প্রসব হওয়ার নির্দিষ্ট কোন ক্ষণ নেই। তবে কবির নিকট সকল কবিতাই ক্ষণজন্মা। সকল অভিব্যক্তিই কালজয়ী। এক কবি সরবে দুনিয়ার তাবৎ গৎবাঁধা প্রথা বিরুদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু শব্দ আর কবির নৈঃশব্দিক দ্যোতনা অবিচ্ছেদ্য। কবির ক্লান্তিতে, বিরাগে, বিগ্রহে, বিভ্রমে, বেতালে শব্দেরাই উপশম হয়ে আসে। কবির আলাপনে, তালে, তারুণ্যে, জাগরণে শব্দেরাই অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। কবি শব্দাশ্রয়ী হয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ কাব্য গাঁথেন, যা সমর্পিত হয় সবুজে, বিপ্লবে, নিরাশ্রিতে, প্রণয়ে, জলে, জোছনায়। কবির এ অর্চনা পাঠক মাধ্যমে মন্ত্রপাঠে পুনরুচ্চারিত হলে মহাকালে গ্রোথিত হয় অমোঘ সত্ত্বা। কবি আর পাঠক; কখনো সন্নিকটে মুখোমুখি, কখনো দূরত্বে অদৃশ্য। তথাপি দু’পক্ষের যোগাযোগ সূত্র শব্দযোগের কাব্য। ’গলিত জোছনায় প্লাবিত নগরে ঈশ্বর’ কাব্যগ্রন্থটি সেই যোগাযোগ স্থাপনের নিমিত্তে একটি মলাটবদ্ধ প্রয়াস। যে পাঠক কখনো জনতা, কখনো বিপ্লবী, কখনো যোদ্ধা, কখনো সংশয়বাদী, কখনো বিশ্বাসী, কখনো মৌন, কখনো মুখর, কখনো প্রেমী, কখনো বিবাগী, তারই ছাঁচে কবি রচনা করে গেছেন একেকটি কবিতা। অথবা কবির একান্ত চিন্তাজগতই মুদ্রিত হয়েছে নানা ক্ষণে রচিত অনুকাব্যে, দীর্ঘকাব্যে। ’গলিত জোছনায় প্লাবিত নগরে ঈশ্বর’ কাব্যগ্রন্থের শুরু থেকে শেষাবধি কবি ও পাঠক উভয়েই একে অপরের চিন্তা অবয়বকে আবিষ্কৃত করবেন একেকটি পৃষ্ঠায়। কিছু কবিতার অংশ বিশেষ কবিতা: এবারের ছুটি ঘুমিয়ে কাটাবো লেনদেন চুকেবুকে গেলে ছাড়পত্রে সই দিয়েছিলাম জমা, তারপর ভ্রমণ শেষে যোজন যোজন তফাতে রয়েছি দাঁড়িয়ে; এখানটা নিরাপদ। মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে এখানটায় দেহ হয়ে পড়ে নির্ভার। এখানেই ধ্যানস্ত হবো। গণ্ডদেশে পলক লেপ্টে অচেতন ঘুম ঘুমুবো এখানেই..., ...এবারের শেষ ছুটিতে। কবিতা: অভিশপ্ত অমরত্ব মরণশীল মানুষেরা আমাকে ঈর্ষা করে, ভীতশ্রদ্ধাও করে আমার অমরত্বকে। মহাকালের এনসাইক্লোপিডিয়া ধারণ করে আছি বুকে, ওরা ত্রিকালের মর্মার্থ খুঁজে পায় ওতে। অথচ আমার কাছে সবটাই নিরর্থক। সবটাই দুর্বোধ্য। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়নি। আজন্ম বোবা সাক্ষী হয়ে থাকার পরম শাস্তিটাই আমার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ঈশ্বর। কবিতা: আলঝেইমার স্বাস্থ্য বটিকায় আছে আপেল নির্যাস আলঝেইমার রোগের মহৌষধ। নিত্যই এক গ্লাস পান আবশ্যক তাই। টেবিলের উপর ভরা গ্লাস পড়ে থাকে; আমি পানে ভুলে যাই।

একাকী – কাজী রহমানের কবিতা ও সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যার কিছু ভিডিও হাইলাইটস

IMG_3445062
একাকী
নীলের গর্জন যখন দুর্বোধ্য গম্ভীর হয়ে যায়, উপলব্ধিতে সূর্যটা অপার্থিব আলতো মত আলো ছড়ায়, কালচেবেগুনি রঙ সিঁধুর মিশেলে পোঁচ কাটে ইচ্ছেমত, একসাথে বালুবেলা ছাড়ে বেজায় শব্দে সব গাঙচিলগুলো, নোনাশ্যাওলা গন্ধের ঝিরঝিরে আবেশে চোখ বুজে আসে, জলকণারা বাতাসকে ভারী ক’রে ফের আমাকে জড়ায়, একা হতে পারি তখন; সৈকতটাও আমার হয়।
 
একটা সময় ছিলো; একা হবার আনুষ্ঠানিকতা করতাম, আসলে একা হতামনা; কিসব ঘিরে রাখতো আশপাশ, ভাবতাম ওটাই আমার তৈরী সেই আপনবিলাসী জগৎ, শঙ্কর মোজার্ট কিংবা আরো কোনো উচ্চমার্গীয় সঙ্গীত, আবছা নরম ঘরোয়া আলো, ঘুরন্ত বিজলী বাতাস; ঘিরে থাকতো আরো কত কত আয়েশী আয়োজন, যদিও; তুলনার এই সৈকতটার দেখা পাইনি তখনো।
 
সময় একটু বাড়লেই, সৈকতটা আমায় অধিকার করবে; আমিও, অন্য অনেক রাতের মত, ওতে মিশবো, অনন্তের অচেনা গন্ধ ভাসবে, শব্দগুলো সঙ্গীত হবে, আলো আধারীর খেলাটাও বেশ জমে উঠবে ওখানটায়; আমি একা হবো, বারেবার হারাবো; শূন্য হবো, নবায়নের সেই খেলাটা নতুন করে আবার খেলবো, অনন্তবিন্দুর সৈকতখানা বিদায়ে বলবে, ভুলো না আমায়।
-কাজী রহমান
 
 
কাজী রহমানের কবিতা আবুল কালাম আজাদের সুর আর জাহান হাসানের ভিডিও https://www.youtube.com/watch?v=Yn50tYrm0y8 A Cultural eve in the south of Los Angeles FONTANA - January 2014 https://www.youtube.com/watch?v=f3UK2nmZwvs Classical eve in Fontana - 2014 - A tenor performed in front of Bangladeshi audience @ Abul Kalam Azad's residence http://youtu.be/bZEdcDHlRHE An musical eve in Fontana 2014 http://youtu.be/KhjCA02seog​

বিনোদিনী……আবদুন নুর তুষারঃ কবিতা

Binodiniআর কিছুক্ষন, কিছু সময়, কি ক্ষতি হয়, থাকলে কাছে? আমার কাছে চোখের জলে সাগরবেলা আছে। আমার কাছে দীর্ঘশ্বাসে আছে নীলাকাশ, হৃদয়ঘুড়ি উড়িয়ে নেয়া জোরালো বাতাস। নাহয় আমি পাইনা কাছে তোমার জোড়া ঠোঁট তোমার আমার শত্রুরা সব গড়লো মহাজোট। নাহয় আমার সংগে তোমার হয়না বসবাস, ভাগ করিনা একই চাদর সুখের সর্বনাশ ! তবুও থাকি তোমার আশেপাশে যখন তোমার প্রিয় শিশু হাসে শার্সী জুড়ে আলো ফেলে রোদ জানালাতে চড়ুই পাথী আসে। বৃষ্টিছাটে ভিজলে তোমার চুল লিখতে চিঠি হলে বানান ভুল কামড় দিলে হাতের পেন্সিলে ভেবো তুমি আমায় আদর দিলে। যায় আসে না কিছু ছাড়ব না তো পিছু পুরো শহর, সবাই আমায় ঠেকাক লোভ, সংশয়, ভয় আর ভীতি দেখাক। জেনো আমি তোমার পাশেই থাকি ভীড়ের ভেতর বিষন্ন একাকী। অল্প কিংবা বেশী সবকিছুতেই খুশী, মনের মধ্যে অসম্ভবের স্বপ্ন বিড়াল পুষি। বর্ণমালায় আঁকি তোমার ছবি বিনোদিনী ! এর বেশী আর কিইবা পারে কবি?

ভালোবাসার সংজ্ঞা — রফিক আজাদঃ কবিতা

ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি, পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা; ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া, বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি; ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি খুব করে ঝুঁকে থাকা; ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া; ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে অবিরল কথা বলা; ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও মুখোমুখি বসে থাকা।

স্নান: কবিতা

snan Kobitaস্নান -জয় গোস্বামী সংকোচে জানাই আজ: একবার মুগ্ধ হতে চাই। তাকিয়েছি দূর থেকে। এতদিন প্রকাশ্যে বলিনি। এতদিন সাহস ছিল না কোনো ঝর্ণাজলে লুণ্ঠিত হবার - আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে … জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছো। তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে ব’লে যে-প্রেমিক ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যে বাগদান হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে। আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি আমি সে-পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার? শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে এখনো গোপন ক’রে রেখেছি আমার দগ্ধডানা; সমস্ত যৌবন ধ’রে ব্যধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে, জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোৎস্নার ধারণা দেব ব’লে এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি। দ্যাখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠালো সংকেত - যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে; সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে অন্ধ করো, তার দগ্ধ চোখে ঢেলে দাও অসমাপ্ত চুম্বন তোমার… পৃথিবী দেখুক, এই তীব্র সূর্যের সামনে তুমি সভ্য পথচারীদের আগুনে স্তম্ভিত ক’রে রেখে উন্মাদ কবির সঙ্গে স্নান করছো প্রকাশ্য ঝর্ণায়।

আছে সাগরজল

আছে সাগরজল

ভাবতেই ভালো লাগে,
আমার ছোঁয়া জোসনারা
ছুঁতে পায় তোমায়,
আমার ছোঁয়া রোদ্দূর;
তোমাতে উষ্ণতা ছড়ায়,
রোদরাত এখনো দুজনার।

মেঘেরা তোমায় জড়ায়,
ঝুম বরষার বিশ্রামে
ঘাসপাতার মাতাল গন্ধ,
আজো নাকি ফেরে।
দুজনারই ছিলো যেসব,
ছুঁতে পায় তোমায়,
ভাবতেই ভালো লাগে।

সমুদ্রজলে ভালোবাসা ফেলে,
সৈকত আবেগী উচ্চারণ,
জল ফেটে শুধালাম,
ভালোবাসা কতখানি বলো?
তুমি আমি বললাম,
যদ্দিন আছে সাগরজল।
-কাজী রহমান | ফন্টানা, ক্যালিফোর্ণিয়া

শিল্পের স্বীকৃতি পেল আবৃত্তি

শিল্পের স্বীকৃতি পেল আবৃত্তি

দীপন নন্দী : অবশেষে শিল্পের স্বীকৃতি পেল আবৃত্তি। আবৃত্তিশিল্পীদের দুই দশকেরও অধিক সময়ের আন্দোলন শেষে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে সংযুক্ত হচ্ছে আবৃত্তি। ওইদিন থেকে এই বিভাগটির নতুন নামকরণ হবে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ হিসেবে। গত মাসে সরকারি এক আদেশের মাধ্যমে সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের সঙ্গে আবৃত্তিকে সংযুক্ত করা হয়। এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ বর্তমানকে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল হিসেবে আবৃত্তি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেল। এর মাধ্যমে বলতে পারি, জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটল রাষ্ট্রের স্বীকৃতিতে। একই আবৃত্তিকে বিভাগ হিসেবে সংযুক্ত করায়, এ শিল্পের আরও উত্তরণ ঘটবে আশা করি।’ শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তিকে আলাদা একটি বিভাগ হিসেবে সংযুক্ত করার জন্য প্রস্তাব পেশ করা হয়। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। এরপর এ প্রস্তাবটি শিল্পকলা একাডেমির এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে থাকে। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তত্কালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে পুনরায় আবৃত্তিকে আলাদা বিভাগ হিসেবে সংযুক্ত করার দাবি পেশ করা হয়। সে সময় মন্ত্রী বলেন, আবৃত্তিকে আলাদা বিভাগ করতে হলে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়তে পারে। কারণ এক্ষেত্রে সরকারের অর্থ, জনপ্রশাসন ও সংস্কৃতি— তিন মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। সেজন্য তিনি শিল্পকলার অন্য কোনো বিভাগের সঙ্গে আবৃত্তিকে সংযুক্ত করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে বিষয়টি এক প্রকার হারিয়ে যায়। পরবর্তী মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কামাল লোহানীকে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। ওবায়দুল কাদেরের কথামতো তিনি সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের সঙ্গে আবৃত্তিকে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের কাছে এ প্রস্তাবটি পাস করার জন্য পেশ করা হয়। এরপর আবারও স্থবির হয়ে পড়ে বিষয়টি। অবশেষে গত জুন মাসে শিল্পকলা পরিষদ বিষয়টিকে অনুমোদন দেয় এবং গত মাসে সরকারি এক আদেশের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের সঙ্গে আবৃত্তিকে সংযুক্ত করা হয়। আবৃত্তিকে আলাদা বিভাগ করার আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালনকারী আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম বর্তমানকে বলেন, ‘এটা অনেকটা স্বপ্নপূরণের মতো। আবৃত্তিকে আলাদা বিভাগ করার মধ্য দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হলো। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করার পর আমি অনেকটাই আবেগ আপ্লুত।’ এদিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তি বিভাগের উদ্বোধন করা হবে। ওইদিন সন্ধ্যায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আবৃত্তি বিভাগের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানে থাকবে আবৃত্তির বিশেষ আয়োজন।
সূত্রঃ বর্তমান

কবিতাঃ স্রোত

স্রোত এ কি নেশা, রোমাঞ্চ, নস্টালজিয়া নাকি খামোখা? এ কি শেকড়, নষ্টামি; না’কি বিপজ্জনক স্বপ্নবিলাস? এ কি দেশটা; ভালোবাসা; নাকি শুধুই স্মৃতি? এ কি ছলনা, প্রেম, নাকি কুয়াশায় কল্পনা?

 

শুন্যতা নাকি অতৃপ্তি; যাতে ঘর করে রই? এ কোন অস্থিরতা, কোত্থেকে আসে গভীর গুমগুম? একি বরফ গলা নদী, হিমশীতল জলের বিস্তার? ধাবমান স্রোতের ধাওয়ায় বল্গাহীন, এ কোন আমি

 

বিপুল জলরাশি, পিচ্ছিল পাথর, খসে পড়া আমি; ছিঁড়ে যাওয়া রাশ, অথচ আপাত স্বচ্ছতায় আক্রান্ত, নোনাজলের খোঁজে আমার অনুভব, কখন কি হয়, ভেসে হারাবার আগেই সবটুকু না দেবার ভয়!
-কাজী রহমান

কষ্ট!!!! কষ্টখোর!!

Saidur Rah Milon Ekush InfoSaidur Rahman Milon
কষ্টকে ঘিরে এতো সংশয় ! কষ্টকে ভয় ? কষ্ট লাজ ? কষ্টকে টিপে চিপে বের করে কষ্টের তেলে কষ্ট ভাজ !কষ্টের ভাজি কষ্ট ভর্তা কষ্টের ডাল কষ্ট ঝোল, কষ্টেরে চিবা কষ্ট হজম থামাদেখি তোর কষ্টঢোল ! কষ্টের ডরে ফিরছিস ঘরে কষ্টের মেঘ পিছু তাড়া করে ? ফের ! ফিরে ভেজ কষ্টের ঝড়ে কষ্ট বৃষ্টি ভেজাক মন, কষ্টে ডুবায়ে মন সিজোনিং করে দ্যাখ, কষ্ট কি ধন !! কষ্ট বাদশা শাজাহান আমি ? কষ্ট জাহান ! কষ্ট তোল্‌ কষ্ট সিমেন্ট, কষ্টের ইটে গড়ি “কষ্টের তাজমহল” ! সজত্নে পুষি বুকের খাঁচায় কষ্ট পাখিরে খাঁচা খুলেও , সুখ পাখি যায় পালিয়ে সুযোগে, কষ্টের পাখি যায় ভুলেও ? ইরেজারে মুছি । গেলো ? ফিরে খুঁজি কষ্টের কালি যায় কি তায় ? মুছতে গিয়েই কষ্টের কালি ছড়ালাম পুরো জীবনটায় ! কষ্ট কুকুরে কিঁউ কিঁউ সূরে যেখানেই যাই পিছে পিছে ঘুরে বস্তায় ভরে ফেলেও সুদূরে দেখেছি ও এসে ফের হাজির আদরে কদরে শেষে ডাকি কাছে বড় মায়া, কষ্ট পাজি'র ! এমন দোস্তো কোথা পাবো বলো ? পুরোটা জীবন সাথে পাশে ছিল সাথে সাথ দিলো কাঁধে কাঁধ দিলো সরলো সবে, ও আরও কাছে এলো কে ই বা অমন বন্ধু রয় ? বাহবা বন্ধু, মারহাবা দোস্ত ছিলি তুই, তাই কবিতা হয় ! আহা রে কষ্ট ওহো রে কষ্ট হা হুতাশে সবে, দেয় গালী আমি ভালোবাসি কষ্ট পেতেই কষ্টকে তাই, বুকে পালী ! কষ্ট ছাড়া এ বুক... খালি !! কষ্ট বিলাস নারিকেল শাঁস কুরে স্মৃতি গুড়ে বানাই নাড়ু কষ্ট চন্দ্র মুখী , চূণীলাল , কষ্ট দেবু' দা , কষ্ট পারু ! কষ্ট শাওন কষ্ট ভাদোর ফুল শয্যাতে কষ্ট চাদর বর্ষার রাতে আদরে সোহাগে কষ্টের সুখে কষ্ট কাতর ! কষ্টির ও বাড়া , কষ্টপাথর ! রিনি রিনি সুখে কষ্ট কাঁকন কষ্ট সেতারে বুকেতে কাঁপন কষ্ট বন্ধু ...সবচে আপন । কষ্টকে বেচি কষ্টকে কিনি কষ্টকে বেশী সব থেকে চিনি সুখ পরকীয়া, কষ্ট গৃহিণী ! কষ্ট আকাশে ডানা মেলে উড়ি কুড়াতে কষ্ট, স্মৃতি ছেঁদা করি কষ্ট বালিশ কষ্ট তোষকে কষ্টেই ঘুম, কষ্টে ভোর কষ্ট জানালা খুলে দিয়ে খাই কষ্ট বাতাস... ...'কষ্টখোর' !!
KostoKhor - Ekush Info Los Angeles

একদিন আমি হারিয়ে যাব

20131109-102618.jpg

একদিন আমি হারিয়ে যাব একদিন আমি হারিয়ে যাব। সত্যি হারিয়ে যাব, দেখতে। একদিন আমি হারিয়ে যাব। অভিমানে অথবা দুঃখ বিলাসে; তোমারা জানবে না কারণ। কারণ হয়ত তখনই সময়। রাত্রির মরুতারা সাথে নিয়ে একা হয়ে একলা দাঁড়াবো, যাচ্ছেতাই আমি আমার মত। আলো অন্ধকার যেখানে একঘরে; কাছাকাছি বালুঝড়ে অপাংক্তেয় আমি; আমি আমায় মিশে গিয়ে, অন্তত একবার সত্যিই দাঁড়াবো; আমার সমস্ত অনুভব নিয়ে। একাগ্র একান্তে আমাকে নিয়ে। শব্দগুলো যেখানে অনেকটা অপার্থিব, প্রাচীন পৃথিবী যেখানে আপনার, দিগন্তরেখার আদুরে আলো যেদিকে, সেখানটায় একবার, আমার জন্য, আমি একলা দাড়িয়ে দেখব। আমার মত। আমি হতে। একদিন আমি হারিয়ে যাবই। - কাজী রহমান Voice: kazi Rahman Audio compose: Songshoptok Audio video final production: Jahan Hassan http://youtu.be/OJzB27rmDa8

‘কবিরা অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সময়ের শাসক’-কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন

‘কবিরা অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সময়ের শাসক’-কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনRezauddin Stalin ekush info বিচিত্র অনুভবের কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরিনি অবাধ্য আমি’ থেকে সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘স্তব্ধতার শোকবহি’তে তার পরিচয় সুস্পষ্ট। কবিতার রাজনীতি ও রাষ্ট্রের রাজনীতির ভেতরেই তার অধিবাস। রাষ্ট্র, রাজনীতির নানান চড়াই-উৎরাই তাকেও চালিত করে। প্রাণিত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির এই উত্তাপ জানতে আমরা মুখোমুখি হই এই কবির। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জগলুল হায়দার কবিরা বর্তমান নিয়েও তাড়িত থাকে। দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চলছে। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কি? রেজাউদ্দিন স্টালিন : দেখুন রাজনীতির বাইরে কিছু নেই। সবকিছুই রাজনীতি দ্বারা চালিত। আমাদের আবাসভূমি বাংলাদেশ বার বার সামরিক অভ্যুত্থানের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা, ক্ষমতালিপ্সা, দুর্নীতি এবং অসহমর্মিতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। একটা গুজব ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, ওয়ান ইলেভেনের মতো মাইনাস টু মিশন নিয়ে আসছে সেনাসমর্থিত সরকার। কেউ বলছেন জাতীয় সরকার। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন সংবিধানে এই ধরনের সুযোগ যেন না আসে তার বন্দোবস্ত করা আছে। এখন বিরোধী দলের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার দাবি আর বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারে সমাসীন ব্যক্তিবর্গের ওপর। এই অবস্থা চলতে থাকলে তৃতীয় শক্তির উত্থান অর্থাৎ সেনাসমর্থিত জাতীয় সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেনাশাসিত সরকারবিরোধী। যে কারণে অনেক আতঙ্কের মধ্য দিয়ে হলেও একটা গ্রহণযোগ্য জায়গায় দাঁড়িয়ে নির্বাচন করার মানসিকতা দু’দলের আছে। তারা যদি অপরিণামদর্শী হয়ে ওঠেন তবে আবারও আমাদের ভাগ্যে নেমে আসবে নতুন এক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়। আমি মনে করি নির্বাচন হবে বর্তমান বাস্তবতা সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপনি এক সময় বাম রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। বর্তমান বামদের অবস্থান নিয়ে আপনার মতামত কী? রেজাউদ্দিন স্টালিন : বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী করতাম। যশোর এম এম কলেজের অর্থনীতি সংসদের জি এস ছিলাম। আমি এখনও মনে করি একটি উদার, মানবিক, পূর্ণগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো তৈরির জন্য বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক বিপ্লব হওয়া দরকার। আমাদের বামদের মধ্যে অপ্রাপ্তির হতাশা, সোভিয়েত রাশিয়ার পতন, চীনের সমাজতন্ত্রের মোড়কে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণেও বামপন্থিদের হতাশা বেড়েছে। দীর্ঘসময় কবিতার সঙ্গে আছেন। আমাদের কবিতাও ক্ষমতানুযায়ী রাজনীতির সহগামী কবিরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে উচ্চারণ করতে পারে না কেন? রেজাউদ্দিন স্টালিন : কবিতাকে অন্বিষ্ট মনে করি। আমার প্রেম ও প্রতিবাদের ভাষা কবিতা। একথা সত্য ভাষাই কবিতাকে টিকিয়ে রাখে, বিশ্বে ভাষা ও সংস্কৃতিজাত আন্দোলন স্বাধীন জাতির প্রতিষ্ঠা দেয়। প্রকৃত প্রস্তাবে কবি হলেন কোনো দেশের অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজনীতি যেমন দুইভাগে বিভক্ত তেমন সংস্কৃতিও দুইভাগে। যেসব মতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব সেসব ক্ষেত্রেও কেউ দলীয় আনুগত্য ভেঙে কথা বলে না  এ এক বন্ধ্যাত্ব। মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব; কালো যেখানে সাদা হয়ে যায়, সাদা লাল হয়ে ওঠে এবং ধূসর হয়ে যায় হলুদ। এসব দেখে শামসুর রাহমান সামরিক জান্তা এরশাদের সময় লিখলেন  ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। একসময় প্রগতি নামধারী কিছু কবি এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী ছিলেন  এখন এরশাদ রাজনৈতিকভাবে তাদের দলভুক্ত হওয়ায় অধিকাংশ দলদাস কবিরা এরশাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। অর্থাৎ কোনো কোনো কবিদের কাছে সত্যের চেয়ে স্বার্থ বড়, বিবেকের চেয়ে বিত্ত। অশান্ত বিশ্বপরিস্থিতি। কবিরা বলেন কবিতা শান্তি এনে দিতে পারে বিশ্বাস করেন? রেজাউদ্দিন স্টালিন : বিশ্বাস করি। কবিতা এক মানবিক মূল্যবোধ তৈরির অনুশাসন। ধর্ম কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের কিন্তু কবিতা সর্বমানবের। মার্কিন, লাতিন, ফ্রান্স, জার্মান, চীন, ভারত, ইরাক, ইরান সবদেশের কবিদের উচ্চারণ এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়। সেটি হলো অন্যায়ের বিরোধিতা এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা দেয়া। উনিশ ও বিশ শতকে সারা পৃথিবীর কবিতা দেখুন, রবার্ট ফ্রস্ট ওয়াল্ট হুইটম্যান, লুই অঁরাল, পাবলো নেরুদা, মায়াকোভস্কি, নাজিম হিকমত, মাহমুদ দারবিশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের কণ্ঠ একই সূত্রে গাঁথা। বিস্তর উদাহরণ দেয়া যাবে যা সবারই জানা। সুতরাং আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, কবিতা এবং শিল্পকলা অবশ্য সংগীতও, অশান্তির বিরুদ্ধে এক অনন্ত প্রতিবাদ। ধরুন বিশ্বে কবিতা, শিল্পকলা, সংগীত কিছুই নেই। মানুষ কেমন হবে সভ্যতার কী রূপ হবে, পশুদের পদচিহ্ন তাই না? প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র থেকে অনুকারক বিশেষ করে কবি ও অভিনয় শিল্পীদের সবিনয়ে অন্যদেশে পাঠাতে চেয়েছিলেন? রেজাউদ্দিন স্টালিন : প্লেটোকে কাব্য ও কবিবিরোধী বলা হলেও প্লেটো এক সময় নিজে কবিতা লিখতেন। এ পর্যন্ত প্লেটোর ১টি কবিতার সন্ধান মিলেছে। রিপাবলিকের তৃতীয় এবং দশম অধ্যায়ের বাইরে কাব্যকলা সম্পর্কে প্লেটোর তেমন মন্তব্য চোখে পড়ে না। সক্রেটিসকে হেমলক পানে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এই দৃশ্য ও ঘটনা প্লেটোর অন্তরে বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করে যে কবিরা মিথ্যাবাদী তারা আদর্শ রাষ্ট্রে থাকলে সেখানে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করবে ও অন্যায় করবে। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কবির নতুন দিগন্ত তৈরি হয়েছে শুধু কাহিনী নয়, কবি কথা বলেন ইঙ্গিতে, অপ্রকাশ্যে, রূপময়তায় কিংবা উৎপ্রেক্ষায়। কবিরা শাসকের প্রতিদ্বন্দ্বী, কবিরা অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সময়ের শাসক। কখনো কখনো স্বৈরশাসকরা কবিদের নির্বাসনে দিয়েছেন সে তালিকাও দীর্ঘ, ভার্জিলকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল, দান্তেকে। এছাড়া বায়রন, ফেরদৌসী, নাজিম হিকমত, আলেকজান্দার সোলঝেনিৎসিন, জোসেফ ব্রদস্কি, চেসোয়াভ মিয়োস, মাহমুদ দারবিশ, সম্প্রতি চীনের পে তাও প্রমুখ নির্বাসন দণ্ডিত। প্লেটোর কবি নির্বাসন তত্ত্ব এখনও পৃথিবীতে চলছে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কিংবা হত্যার মতো ঘটনা। লোরকাকে হত্যা করা হয়, ববি স্যান্ডস, বেঞ্জামিন মলয়েস কথিত আছে নেরুদাকেও। সুতরাং নিরাপস কবিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কিংবা সংঘের নির্যাতন থাকলেও কবিরাই অমর হয়েছেন। কবিরা সময়ের শাসক। কে কত সুন্দরী ছিল, কে কত রূপবান অভিনেতা, জাদুকর, বিত্তবান ছিল, মন্ত্রী কিংবা ক্ষমতাবান ছিল তার নাম-নিশানাও থাকে না। ইতিহাস হচ্ছে এক নিরাপস অমোঘ সত্যের বিষয়। কেউ কেউ বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন, অনেকে বলেন চলছে কোনটা সত্য? রেজাউদ্দিন স্টালিন : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ একথা হাইপোথেসিস। একটা অবধারণা যেহেতু প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেহেতু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে। জিনডিকসন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, পৃথিবীর ধ্বংসের সন উল্লেখ করেছিলেন  মানব সভ্যতা সে সময় পার করে এসেছে। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যত লোক মৃত্যুবরণ করেছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছিল তার দ্বিগুণ এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার ১০ গুণ মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। পৃথিবী নামক গ্রহটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে, কারণ যে পারমাণবিক শক্তি পরাশক্তিগুলো সঞ্চয় করছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ এবং আতঙ্কজনক। তাছাড়া রাশিয়ার সাম্প্রতিক শক্তিহীনতা ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে। উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া, প্যালেস্টাইন-ইসরাইল, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর এবং ইরানের অবস্থা বার বার হুঁশিয়ার করে যুদ্ধের কথা স্মরণ করায়, স্মরণ করায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আণবিক বর্বরতার কথা। আসলে ছোট ছোট যুদ্ধগুলো সিসটেমেটিক বড় যুদ্ধ শুরু হওয়ার লক্ষণ। এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ ও আমেরিকা সামগ্রিকভাবে জড়িয়ে পড়বে। গৃহযুদ্ধের মতো প্রতিবেশীদের সঙ্গেও যুদ্ধ শুরু হবে, এক ব্যাপক মাৎস্যন্যায় শুরু হবে যা অকল্পনীয়। রাষ্ট্রগুলো তাদের সঞ্চিত সমস্ত অস্ত্র একে একে ব্যবহার করবে এবং প্রযুক্তিশূন্য হয়ে পড়বে তরবারি ও ঘোড়ার যুগ ফিরে আসবে। আদিতে যেমন ছিল। আপনার সময়ের কোন কবিকে আপনি প্রিয়তার দৃষ্টি দিয়ে দেখেন? রেজাউদ্দিন স্টালিন : আমার সঙ্গে খোন্দকার আশরাফ হোসেনের (সম্প্রতি প্রয়াত) একটা অদৃশ্য কাব্য প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু তার কোনো ভালো কবিতা আমার ভালো লাগা আদায় করে নিত। সাজ্জাদ শরীফ যার সঙ্গে আমার বৈরী সম্পর্ক বলতে পারেন, যার কারণে কখনও প্রথম আলোতে লিখিনি। তিনি মাত্র একটি গ্রন্থের লেখক। ঐ বইটিতে ‘প্রতিবেশী’ নামে একটি অপূর্ব কবিতা আছে, আমি অবনতচিত্তে ঐ কবিতাটির স্বীকৃতি দিয়ে বার বার পড়েছি। সুতরাং শত্র“ হলেও ভালো সৃষ্টি অন্তরের স্বীকৃতি আদায় করে নেবে এতে সন্দেহ নেই। ‘কবিতার শত্র“-মিত্র’ আপনার শত্র“-মিত্র কারা? রেজাউদ্দিন স্টালিন : এই সমাজ সংসারে কবিরা সৎ আদর্শবাদী ব্যতিক্রমী নির্লোভ আর রূপময়তাকে মুছে দিতে সমাজের রাষ্ট্রের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল, যারা আত্মা বিক্রি করে দিয়েছে অন্যায়ের কাছে তারাই কবিতার শত্র“। আর মিত্র হলেন পাঠক যারা কবিতা পড়ে বিস্মিত হয় আর পাঠ ও পুনর্পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্নে জেগে ওঠে ও কবিকে প্রাণিত করে। আপনি দুঃসময়কে আশীর্বাদ করতে চেয়েছেন যা সত্যিই একটা ব্যতিক্রম। রেজাউদ্দিন স্টালিন : হ্যাঁ, বলতে পারেন শেক্সপিয়ারের ভাষায় আমরা চলেছি পেছনের অন্ধকার ও সময়ের অতল গহ্বরে। দুঃসময় থেকে উত্তরণের জন্য শুধু সংবেদন তৈরি করে লাভ নেই বরং দুঃসময়ও জরুরি হয়ে ওঠে মানবিক আকাক্সক্ষাকে মূর্ত করার জন্য। যা আমি দেখি তা বীভৎস, যা শুনি তা বিস্ময়কর। যা আমি হতে চাই তা অসম্ভব আর যা পেতে চাই তা পরাহত। এ জন্যে ‘আশীর্বাদ করি আমার দুঃসময়কে’। কবির ক্লান্তি নেই। সে পাওয়া-না পাওয়ার জগতের অধিবাসী স্বপ্নদ্রষ্টা, শব্দব্রহ্ম। (সাপ্তাহিক, ১৯/০৯/২০১৩)

হেমিংওয়ে মিউজিয়াম ও “দূরাগত ধ্বনি”

20130925-202347.jpg

#সূচীপত্র-এর বই / সুনির্বাচিত বই আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলবর্তী সূর্যালোকিত ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে বিখ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বাড়ি ও মিউজিয়াম দর্শণার্থীদের তো বটেই, লেখক-সাহিত্যিকদেরও এক আকর্ষণ-জাগানিয়া দর্শনীয় স্থান। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক কর্মশালায় যোগদানকালে লেখক-ছড়াকার-কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী এই মিউজিয়াম ভিজিট করেন এবং কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর লেখা ও সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত বিদেশী সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ "দূরাগত ধ্বনি"-র (প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০১০) এক কপি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্যে প্রদান করেন। উল্লেখ্য, উপর্যুক্ত বইটিতে 'হেমিংওয়ে: নতুন করে বিতর্ক' শীর্ষক একটি লেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

20130925-202552.jpg Saeed Bari | FaceBook

রফিক আজাদের কবিতা

20130925-192117.jpg

যাও, পত্রদূত রফিক আজাদ যাও পত্রদূত, বোলো তার কানে-কানে মৃদু স্বরে সলজ্জ ভাষায় এই বার্তা: “কোমল পাথর, তুমি সুর্যাস্তের লাল আভা জড়িয়ে রয়েছো বরতনু; প্রকৃতি জানে না নিজে কতোটা সুন্দর বনভূমি।” যাও, বোলো তার কানে ভ্রমরসদৃশ গুঞ্জরণে, চোখের প্রশংসা কোরো, বোলো সুঠাম সুন্দর শরীরের প্রতি বাঁকে তার মরণ লুকিয়ে আছে, অন্য কেউ নয়, সে আমার আকণ্ঠ তৃষ্ণার জল: চুলের প্রশংসা কোরো, তার গুরু নিতম্ব ও বুক সবকিছু খুব ভালো, উপরন্তু, হাসিটি মধুর! যাও পত্রদূত, বোলো “হে মাধবী, কোমল পাথর, দাঁড়াও সহাস্য মুখে সুদূর মধুর মফঃস্বলে! বিনম্র ভাষায় বোলো, “উপস্থিতি খুবই তো উজ্জ্বল, যুক্তিহীন অন্ধ এক আবেগের মধ্যে, বেড়াজালে, আবদ্ধ হয়েছো উভয়েই, পরস্পর নুয়ে আছো একটি নদীর দিকে—বোলো তাকে, “অচ্ছেদ্য বন্ধন ছিঁড়ে ফেলা সহজ তো নয় মোটে, কোমল পাথর!” যাও পত্রদূত, বোলো—ভালোবাসা গ্রীষ্মের দুপুর? নীরব দৃষ্টির ভাষা-বিনিময়—দিগন্ত সুদূর?

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.