একদিনে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু, রেকর্ড আক্রান্ত ১৭৭৩

একদিনে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু, রেকর্ড আক্রান্ত ১৭৭৩

দেশে এ নিয়ে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪০৮ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫১১ জনে দাঁড়াল। এছাড়া বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ১০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। এ নিয়ে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪০৮ জনে দাঁড়াল।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১ হাজার ৭৭৩ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ৫১১ জনে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১০ হাজার ২৬২টি পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ১০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। মোট ৪৭টি ল্যাবে এই নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়।

মৃতদের মধ্যে ১০ জন ঢাকা, ৮ জন চট্টগ্রাম, ৩ জন সিলেট ও ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তাদের মধ্যে ১৬ জন হাসপাতালে ও ৫ জন নিজ বাসায় মারা গেছেন। আরেকজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

মৃত ২২ জনের বয়স:

  • ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী: ২ জন।
  • ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী: ১ জন।
  • ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী: ২ জন।
  • ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী: ১০ জন।
  • ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী: ৩ জন।
  • ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী: ২ জন।
  • ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী: ২ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৯৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৫ হাজার ৬০২ জন প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে সেরে উঠলেন।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ।

এক নজরে বাংলাদেশের করোনাচিত্র: 

  • মোট আক্রান্ত: ২৮ হাজার ৫১১ জন।
  • মারা গেছেন : ৪০৮ জন।
  • মোট সুস্থ : ৫ হাজার ৬০২ জন।
  • মোট নমুনা পরীক্ষা: ২ লক্ষ ১৪ হাজার ১১৪টি।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ ওয়েবসাইট (www.corona.gov.bd) চালু করেছে।

এদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত বৈশ্বিক এ মহামারিতে সারা পৃথিবীতে ৫১ লাখ ৯১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৮ জন সুস্থ হয়ে উঠলেও প্রাণ গেছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৪৯৬ জনের।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে যেসব দেশে:

  • যুক্তরাষ্ট্র: ৯৪ হাজার ৯৪১ জন।
  • যুক্তরাজ্য: ৩৫ হাজার ৭০৪ জন।
  • ইতালি: ৩২ হাজার ৩৩০ জন।
  • ফ্রান্স: ২৮ হাজার ১৩২ জন।
  • স্পেন: ২৭ হাজার ৮৮৮ জন।
  • ব্রাজিল: ১৮ হাজার ৮৯৪ জন।
  • বেলজিয়াম: ৯ হাজার ১৫০ জন।
  • জার্মানি: ৮ হাজার ২৭০ জন।
  • ইরান: ৭ হাজার ১৮৩ জন।
  • মেক্সিকো: ৬ হাজার ৯০ জন।

সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে না

সরকারি কর্মীদের ৮ নির্দেশনা:

সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে না

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট দেওয়া ও লাইক-শেয়ার করতে পারবেন না। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, কেউ নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ প্রণয়ন করেছে। এ নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারীদের করণীয়-বর্জনীয় নির্ধারণ করা এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

জারি করা নির্দেশনার আলোকে সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদফতর/পরিদফতর/সংস্থার কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কতগুলো বিষয় অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, অন্য কোনও রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনও তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনও পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনও পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গবৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। এতে ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকারও কথা বলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনও ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জে জনসমাগম বাড়ছে, অমান্য লকডাউন

নারায়ণগঞ্জে জনসমাগম বাড়ছে, অমান্য লকডাউন

সনদ সাহা, নারায়ণগঞ্জ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিকে ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জের অবস্থান। এই জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া লোকজনের পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে নারায়ণগঞ্জ লকডাউন ঘোষণা করা হলেও এরই মধ্যে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানা খুলে দেওয়ায় জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে সংক্রামণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সিভিল সার্জনসহ সচেতন মহল। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকান বন্ধ থাকলেও ফুটপাতে হকার বসতে শুরু করেছে। প্রতিনিয়ত শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার করছে শত শত মানুষ। কাঁচা বাজারেও মানুষের ভিড় কমছে না। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে রিকশা, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাক চলাচল করছে। পাড়ার রাস্তার মুখে বাঁশ, বালির বস্তা কিংবা ইট ফেলে বন্ধ করে রাখা হলেও ভেতরে চায়ের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতে মানুষ ভিড় করছে। দেদারসে চলছে আড্ডা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের অন্যতম পাইকারি ও খুচরা বিক্রির দিগুবাবু বাজারের কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংস বিক্রির জন্য শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে স্থানান্তর করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই দিগুবাবু বাজারে ভিড় করছেন। এদিকে লকডাউনের শুরুতে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ চেকপোস্ট, টহল, মাইকিংসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে অভিযান দেখা গেলেও এখন ঝিমিয়ে গেছে পুলিশি তৎপরতা। লকডাউন ঘোষণার পর শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়া পারাপার বন্ধ করেছিল প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজনে এক নৌকায় সর্বোচ্চ পাঁচ জন যাত্রী পারাপারের কথা বলা হয়েছিল। অথচ এখন প্রতিটি নৌকা ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে শীতলক্ষ্যা পারাপার করছে। বন্দর থেকে মাছ ঘাটে আসা নৌকার যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনেই এসেছি। আমরা মাঝিদের বলছি কিন্তু তারা কথা শুনে না। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার হতে হচ্ছে।’ খেয়া পার হওয়া আরও একাধিক যাত্রীও বলেছেন একই কথা। নৌকার মাঝি রহিম মুন্সি বলেন, ‘পেটে ভাত নাই বাবা। এক মাস ধরে বসা। পরিবারের পাঁচ-সাত জন মানুষ, একজন কি দুইজন কামায় (আয়) শুধু। আমরা অন্য কাজ জানি না। তাই নৌকা নিয়ে বের হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০ জনের মধ্যে ২০ জন হয়ত জরুরি প্রয়োজনে আসে। কিন্তু সবাই জরুরি প্রয়োজনের অজুহাত দেয়।’ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হাই দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনের অজুহাত দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে মানুষ। তাই ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা সব সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মানুষ সচেতন না হওয়ায় পদক্ষেপ নিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।’ নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘যেভাবে লোক সমাগম বাড়ছে তাতে সংক্রামণ আরও বাড়বে। মানুষ সচেতন না হলে বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুন বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে।’ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, ‘গার্মেন্টস, ইফতার বাজার ও কিছু দোকান খুলে দেওয়ায় পুলিশের কার্যক্রম বেড়েছে। পুলিশের অভিযান কমেনি। আর গার্মেন্টস, খাদ্য দ্রব্যের কারখানা খুলে দেওয়ায় লোকজনের চলাফেরা বহুগুণ বেড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচলও বেড়েছে। যার প্রভাব পরেছে পাড়া মহল্লায়ও। ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাইকিং, অভিযান সবাই চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মানুষকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় আইন প্রয়োগ করে বা কঠোর সাজা দিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব না। উল্লেখ্য, সোমবার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ৩,৫২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১,০৫৩ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে মারা গেছে ৫০ জন ও সুস্থ হয়েছে ৪৮ জন। সুত্রঃ দি ডেইলি নিউজ

কোটি টাকার পিসিআর মেশিন প্যাকেটবন্দি, তবুও চাই আরেকটি

কোটি টাকার পিসিআর মেশিন প্যাকেটবন্দি, তবুও চাই আরেকটি

 আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ
 এপ্রিল ২৮, ২০২০
সিরাজগঞ্জ শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সিরাজগঞ্জের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঢাকা ট্রিবিউন
মেডিকেল কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে পিসিআর ও ভেন্টিলেটর মেশিন
শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজের জন্য প্রায় ১০ মাস আগেই সিরাজগঞ্জ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে কেনা হয়েছিল পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই মেশিনের সাহায্যেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কিন্তু ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দামের মেশিনটিসহ শত কোটি টাকা দামের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে প্যাকেটবন্দি। তা সত্ত্বেও দেশব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অধিদপ্তরের কাছে নতুন একটি মেশিন চেয়ে আবেদন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯ মাস আগেই মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশিত মুল্যায়ন কমিটি পিসিআর মেশিনসহ কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহৃত ৮টি ভেন্টিলেটর যন্ত্র কেনা হয় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে। সেগুলো মেডিকেল কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। এরইমধ্যে রবিবার (২৬ এপ্রিল) অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই তদন্তও চলমান। এ বিষয়ে কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, “১০ মাস আগে পিসিআর মেশিনটি অধ্যক্ষ নিজেই তার সার্ভে কমিটির মাধ্যমে বুঝে নেন। তারপরেও অধ্যক্ষ কর্তৃক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নতুন চাহিদা দেওয়ার বিষয়টি বোধগম্য নয়। ৮টি ভেন্টিলেটরও কলেজ স্টোরেই রয়েছে। অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও ভ্যাকুয়াম মেশিন বসালে সেগুলোও ব্যবহার করা যাবে।” তবে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলামের ভাষ্য, “কলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত পিসিআর মেশিনটির বিষয় আমি অবগত নই। আর থাকলেও সেটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেনা। সেটি ব্যবহার করতে গেলে নতুন করে বুঝে নেয়া বা অনুমতি  পেতে বিড়ম্বনা রয়েছে। তাই নতুন পিসিআর মেশিনের জন্য গত ২৬ এপ্রিল অধিদপ্তর বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে।” এদিকে, শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ছাড়াও সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ৫টি ভেন্টিলেটর গত দুই বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অব্যবহৃত রয়েছে সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের ১৩ ভেন্টিলেটর। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না মঙ্গলবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিরাজগঞ্জসহ অনেক জায়গাতেই ভেন্টিলেটর ও পিসিআরসহ গুরুত্বপুর্ণ অনেক দামি যন্ত্র অপরিকল্পিতভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। অতিসত্বর সেগুলো চালুর জন্য ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।”

করোনায় ঢাকা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত করোনায়, জেলা ভিত্তিক আক্রান্তদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে আইইডিসিআর

শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি জানায় , সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায় ৩৬ জন, তারপরে মাদারীপুর ১০ জন, নারায়ণগঞ্জ ০৬ জন, গাইবান্ধা ০৪ জন, রংপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা ও কক্সবাজার ০১ জন করে নিশ্চিত আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। [৩] আইইডিসিআর আরো জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুর কাজীপারা, বাসাবো, বাংলাবাজার, মগবাজার, হাজারিবাগ, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও সেগুন বাগিচা। এসব এলাকায় ৫ থেকে এক জন করে আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরো পাঁচজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬১ জনে।

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ
মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে করোনাভাইরাস মাথায় নিয়েই ঢাকামুখি হাজার যাত্রীদের নিয়ে বিপাকে প্রশাসন। কোন নির্দেশনাই তাদেরকে থামাতে পারছে ঢাকা যাওয়া। দেশে করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব হতে মুক্ত থাকতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানালেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে তা মানাতে পারছে প্রশাসন। গার্মেন্টস খুলে দেয়া এবং দীর্ঘদিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজন ঢাকা মুখি হচ্ছেন। ফলে মাওয়া ঘাটে এখন ঢাকা মুখি যাত্রীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। যাত্রীদের কোনভাবেই শোনানো যাচ্ছে না করোনা ভাইরাসের উপদেশ। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এভাবে যাত্রীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসনের সকল সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এমন যাওয়ার দৃশ্য সত্যিই দু:খ জনক বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। বিকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিতে করে হাজার লোক পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপই ছিল বেশি। এসব যাত্রী একে অপরের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে ফেরি পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। তারপর বাস না থাকায় বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর মধ্যে নসিমন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ নানা প্রকার ছোট ছোট যানবাহনে যাত্রীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছে। মূলত যাত্রীর চাপেই তা সম্ভব হচ্ছে না। এখনো এ ঘাট দিয়ে হাজার যাত্রী পারাপার হচ্ছে। আর লঞ্চ সিবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হওয়ায় একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা ঘেঁষে থাকায় করোনা সংক্রমিত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলার যোগেও প্রচুর যাত্রী কাঠাদিয়া, শিমুলিয়া থেকে মাওয়া ঘাটে পৌছে ঢাকায় যাচ্ছেন। অপর দিকে সি-বোট ঘাট বন্ধ থাকার সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু সি-বোট মালিক ও চালকরা সি-বোটে যাত্রী পারাপার করছে । ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডলে ডলফিন ট্রেনিং সেন্টারের পাশে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ চেকপোস্টে কোনো গাড়ি আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তা উল্টোদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই মহাসড়কে ঢাকায় যেতে না পেরে যানবহনগুলো লৌহজং-টঙ্গবাড়ী-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। তবে ভেতরের এ সড়কগুলোতে পুলিশ বা ট্রাফিকের কোনো প্রকার বাধা ছাড়ায় যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রীরা ঢাকায় যাচ্ছে। আর এতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত হবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সরকার সচেতনতার কথা বললেও এদের কারণেই হয়তো সরকারের প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়ে করোনা মহামারি আকার ধারণ করে লোকজনের যানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে। শিমুলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির ও মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের ভীড়। ফেরীতে কোন যান বাহন না থাকলেও যাত্রীদের কোন কমতি নেই। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন উপায় ঢাকায় যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছোট ছোট ট্রলার যোগেও যাত্রীদের আসতে দেখা গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে

যানজটে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা। শনিবার আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’র প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯-এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ এবং ২০১৭ সালে যানজটে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়, ২০১৬ সালে তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে ছিল অষ্টম। 'নামবিও'র প্রকাশিত এই তালিকা অনুসারে, যানজটের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, আর তৃতীয় অবস্থানে নয়াদিল্লী, ৪র্থ স্থানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি, ৫ম ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ৬ষ্ঠ শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ৭ম ভারতের মুম্বাই, ৮ম ফিলিপাইনের ম্যানিলা, ৯ম আরব আমিরাতের সারজা এবং ১০ম অবস্থানে আছে ইরানের তেহরান। এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪টি, ভারতের ১১টি, পাকিস্তানের তিনটি, চীনের দুটি আর বাংলাদেশের একটি শহরের নাম উঠে এসেছে। যানজটের জন্য ঢাকার স্কোর হচ্ছে ২৯৭ দশমিক ৭৬। কলকাতার স্কোর ২৮৩ দশমিক ৬৮। ভারতের রাজধানী দিল্লিকে দেওয়া হয়েছে ২৭৭ দশমিক ৮১ স্কোর। নাইরোবির স্কোর ২৭৭ দশমিক ৬৬। আর জাকার্তার স্কোর হচ্ছে ২৭৪ দশমিক ৩৯। এই তালিকা অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের বাসেল। এরপর আছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। গত বছর কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিল ভিয়েনা। বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২১২টি শহরকে বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা প্রণয়ন করেছে নামবিও। এই তালিকা প্রণয়নে নামবিও কয়েকটি উপসূচক ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সময় সূচক, সময় অপচয় সূচক, অদক্ষতা সূচক ও কার্বন-নিঃসরণ সূচক। সময়, সময় অপচয় ও অদক্ষতা উপসূচকেও ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। কার্বন নিঃসরণ সূচকে ঢাকার অবস্থান ১০৯তম, আর কোলকাতা রয়েছে ১১০-এ। সময় সূচকের ক্ষেত্রে কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোকে বোঝানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মস্থল বা স্কুলে যাতায়াত সময়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সময় অপচয় সূচকে যানজটে সময় অপচয়ের কারণে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। অদক্ষতার সূচক মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা নির্দেশ করে। আর যানজটে সময় অপচয়ের কারণে নিঃসরিত অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা নির্দেশ করে কার্বন নিঃসরণ সূচক। অনলাইনভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’ প্রকাশিত তথ্য বিবিসি, ফোর্বস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার, টাইম, দ্য ইকোনমিস্ট, চায়না ডেইলি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য টেলিগ্রাফসহ বিশ্বের খ্যাতনামা সংবাদপত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

|জাহাঙ্গীর শাহ, ঢাকা|

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ • বেশি হতদরিদ্র আছে—এমন ১০ দেশের তালিকা বিশ্বব্যাংকের • যাঁদের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম, তাঁরা হতদরিদ্র • এটা আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা হিসেবে বিবেচিত • বাংলাদেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লাখ • নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বিবেচনায় এই সংখ্যা ৮ কোটি ৬২ লাখ • বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে

অতিধনী বৃদ্ধির হারের দিকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। ধনী বৃদ্ধির হারে তৃতীয়। দ্রুত মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি বা ধনী হওয়ার যাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অতিগরিব মানুষের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। অতিগরিব মানুষের সংখ্যা বেশি এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ২ কোটি ৪১ লাখ হতদরিদ্র মানুষ আছে।

বিশ্বব্যাংক ‘পভার্টি অ্যান্ড শেয়ার প্রসপারিটি বা দারিদ্র্য ও সমৃদ্ধির অংশীদার-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষ আছে, এমন ১০টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে (পিপিপি) যাঁদের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম, তাঁদের হতদরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটা আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বব্যাংক ২০১৬ সালের মূল্যমান ধরে পিপিপি ডলার হিসাবে করেছে। বাংলাদেশে প্রতি পিপিপি ডলারের মান ধরা হয়েছে সাড়ে ৩২ টাকা। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ২ কোটি ৪১ লাখ লোক দৈনিক ৬১ টাকা ৬০ পয়সাও আয় করতে পারেন না। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে। যদিও বাংলাদেশ এখনো নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অতিগরিব মানুষের একটি আলাদা হিসাবও দিয়েছে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে হলে দৈনিক কমপক্ষে ৩ দশমিক ২ পিপিপি ডলার আয় করতে হবে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এভাবে হিসাব করলে বাংলাদেশে অতিগরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮ কোটি ৬২ লাখ। আর দারিদ্র্যের হার হবে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মানে হলো, টেকসইভাবে গরিবি হটাতে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২১ লাখ মানুষকে দ্রুত দৈনিক ৩ দশমিক ২ ডলার আয়ের সংস্থান করতে হবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন ঝুঁকিতে আছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি ১৭ কোটি ৫৭ লাখ হতদরিদ্র আছে। ভারত ছাড়া বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষ বসবাস করে নাইজেরিয়া, কঙ্গো ও ইথিওপিয়ায়। তালিকায় থাকা শীর্ষ ১০–এর অন্য ৫টি দেশ হলো তানজানিয়া, মাদাগাস্কার, কেনিয়া, মোজাম্বিক ও ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগে দারিদ্র্য কমানোর পূর্বশর্ত ছিল প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দারিদ্র্য কমাতে হবে। দেশে ৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। এত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর দেখা যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি যেমন বেড়েছে, বৈষম্যও বেড়েছে। অন্যদিকে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিও কমেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দিয়ে দারিদ্র্য নির্মূল করা যাবে, এটা ঠিক নয়। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধিতে গরিব মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। গরিব মানুষের সম্পদ হলো পরিশ্রম। এই শ্রমের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে গরিব মানুষের মজুরি বাড়াতে হবে। আবার কৃষির বাইরের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের জন্য গরিব মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিতে হবে। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে গেছে। তাই ৩ দশমিক ২ ডলারের দৈনিক আয়ের হিসাবও মাথায় রাখতে হবে। যে বিশাল জনগোষ্ঠী দুই হিসাবের মধ্যবর্তী স্থানে আছে, তাদের দ্রুত আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে হবে। আয়ের বৈষম্য পরিমাপের পদ্ধতি হচ্ছে জিনি (বা গিনি) সহগ। বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মান এখন ০.৪৮৩। জিনি সহগ ০.৫ পেরিয়ে গেলে তাকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ বলা হয়। বাংলাদেশ এর খুব কাছে পৌঁছে গেছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্স বলেছে, অতিধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ প্রথম। গত বুধবার একই প্রতিষ্ঠান আরেকটি প্রতিবেদনে বলেছে, ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ তৃতীয়। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের ধনী মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্যের কোঠায় দারিদ্র্য নামিয়ে আনা। এই সময়সীমার দুই-তিন বছর আগেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। অর্থাৎ আগামী ১০ বছরে হতদরিদ্রের হার ৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, এখন বাংলাদেশে অতিদারিদ্র্য হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০৩০ সালে যখন অতিদারিদ্র্য হার ৩ শতাংশে মধ্যে নেমে আসবে, তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটিতে পৌঁছাবে। এর মানে, তখনো বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ লোক অতিগরিব থেকে যাবে। এই বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূলকে প্রাধান্য দিয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া এখন যে অঞ্চলভিত্তিক দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য আছে, তাতেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের হিসেবে দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার জন্য আয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শামসুল আলম বলেন, বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ২০২১ সালের মধ্যে অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়বে। আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনও আসবে।

কোন দেশে কত গরিব

বিশ্বব্যাংকের তালিকা অনুসারে, শীর্ষ স্থানে থাকা ভারতে অতিগরিব মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ায় ৮ কোটি ২৬ লাখ, তৃতীয় স্থানে থাকা কঙ্গোতে ৫ কোটি ৩২ লাখ ও চতুর্থ স্থানে থাকা ইথিওপিয়ায় ২ কোটি ৬৭ লাখ অতিগরিবের বসবাস। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে থাকা তানজানিয়ায় ২ কোটি ৭ লাখ, কেনিয়ায় ১ কোটি ৭৪ লাখ, মাদাগাস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ, মোজাম্বিকে ১ কোটি ৭১ লাখ ও ইন্দোনেশিয়ায় ১ কোটি ৫১ লাখ অতিগরিব মানুষের বসবাস। সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে এখন ৭৩ কোটি ৬০ লাখ হতদরিদ্র মানুষ আছে। ওই ১০টি দেশেই বাস করে ৪৫ কোটি অতিদরিদ্র মানুষ। এই সংস্থাটি আরও বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে এমন গরিব মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৭ কোটি ৯০ লাখে।

অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমঃ ধনী মানুষের সংখ্যা...

ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন

ধনী বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ

রাজীব আহমেদ, ঢাকা

অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে প্রথম। এখন দেখা যাচ্ছে, ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে, বিশ্বে তৃতীয়। দুটি তথ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের। সংস্থাটি বলছে, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশে ধনী মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে।



১০ থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিককে (সাড়ে ৮ থেকে ২৫ কোটি টাকা) এ তালিকায় রেখেছে ওয়েলথ-এক্স। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উচ্চ সম্পদশালী বা হাই নেট ওর্থ (এইচএনডব্লিউ) বলে অভিহিত করেছে। গত বুধবার ‘গ্লোবাল এইচএনডব্লিউ অ্যানালাইসিস: দ্য হাই নেট ওর্থ হ্যান্ডবুক’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আর অতিধনী বৃদ্ধির প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে।

নতুন প্রতিবেদনে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধনী বৃদ্ধির হারে শীর্ষে থাকবে, এমন ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় শীর্ষে নাইজেরিয়া। এর পরের অবস্থানে মিসর, যেখানে ধনী বাড়বে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে। বাংলাদেশের পরে আছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, পোল্যান্ড, চীন, কেনিয়া, ভারত, ফিলিপাইন ও ইউক্রেন। জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ হলেও নাইজেরিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত।

২০১৮ সালে সম্পদশালী বৃদ্ধির হার ও ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ ধরে এ হিসাব করেছে ওয়েলথ-এক্স। সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদনে বলা ছিল, ৩ কোটি ডলার বা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। ওয়েলথ-এক্সের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ হারে। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ মোট ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।

তবে ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদনে দেশে ধনী ও অতিধনীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির চিত্র উঠে এলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে দরিদ্র মানুষের আয়ে বড় ধরনের বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিপরীত চিত্রও রয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন, এই ধনীদের বড় অংশের উত্থান ঘটছে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বা ক্রোনি ক্যাপিটালিজম, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি কাজ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে।

বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬–এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে দেশে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তাদের মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকায়। বিপরীতে একই সময় সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে ৫৯ শতাংশ। তাদের মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৭৩৩ টাকায়, যা ২০১০ সালে ১ হাজার ৭৯১ টাকা ছিল।

জানতে চাইলে বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে একটি টেকসই অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে, এটা সত্য। কিন্তু এটার আলোচনা বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার উদ্বেগকে ঢেকে দিচ্ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, এখন গবেষণা হওয়া দরকার, এই ধনীদের উত্থান কি অর্থনীতিতে অবদান রাখার মাধ্যমে হচ্ছে, নাকি অনৈতিক উপায়ে হচ্ছে। কারণ, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ধনী হওয়ার ধারণাটিই সামনে চলে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমনের দিকে জোর দিচ্ছে। হোসেন জিল্লুর রহমানও মনে করেন, সরকারের এই মেয়াদে উন্নয়ন কৌশল পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

অবশ্য অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশে বৈষম্য বেড়ে যায়। অর্থনীতি একটি টেকসই অবস্থানে যাওয়ার পর এই বৈষম্য কমে যায়। পাশাপাশি স্বজনতোষী পুঁজিবাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ চিত্র। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, উন্নয়নের প্রথম দিকে বৈষম্য বাড়তেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। সে ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশে আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারও খানিকটা উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘এটা ভালো দিক যে সরকার এটি অনুধাবন করেন। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছি, যেখানে বৈষম্য কমাতে ব্যাপক জোর দেওয়া হবে।’

শামসুল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বিশ্বের মধ্যে বেশি। এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কারণ সম্পদ তৈরি হচ্ছে। এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা বাড়বেই।

অতিধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারেও প্রথম হয়েছিল বাংলাদেশ। এর বিপরীতে অবশ্য দেশে ধনী-গরিবের আয়ের বৈষম্যও বাড়ছে।

উন্নয়নের শুরুর দিকে বৈষম্য বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী কি না, তা নিয়ে অবশ্য অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে। যেমন, গত ১৫ ডিসেম্বর বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, উন্নয়ন শুরুর দিকে বৈষম্য বাড়তেই হবে, এটা অবশ্যম্ভাবী নয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া। তাঁর মতে, ‘দুর্নীতি ও অন্যায়–অনিয়মের বিরুদ্ধে যদি আমরা কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ তৈরি করতে না পারি, এটা যদি ক্রমাগত বিস্তৃতি লাভ করে, তাহলে এর আর্থিক বোঝা ভবিষ্যতে অর্থনীতি নিতে পারবে না।’

সংখ্যায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বে ধনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখে, যা আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এশিয়ায় গড় প্রবৃদ্ধি আরও কম, মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও আলোচ্য সময়ে চলতি মূল্যে এশিয়ার জিডিপি ৮ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ায় ১০ থেকে ৩০ লাখ ডলারের মালিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৭৩ হাজার।

ধনীর সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৮৬ লাখ ৭৭ হাজার), চীন (১৮ লাখ ৮০ হাজার), জাপান (১৬ লাখ ১৯ হাজার), জার্মানি (১০ লাখ ২৩ হাজার) ও যুক্তরাজ্য ৮ লাখ ৯৪ হাজার। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালি।

গবেষণা যেভাবে

ওয়েলথ–এক্স মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ইনসাইট ভেঞ্চার পার্টনারসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, সম্পদশালীদের সংখ্যা বের করতে তারা সম্পদ ও বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ বা ওয়েলথ অ্যান্ড ইনভেস্টেবল অ্যাসেটস মডেল নামের একটি কৌশল ব্যবহার করেছে। সংস্থাটি বলছে, তাদের কাছে ৫ লাখ ৪০ হাজার উচ্চধনীর তথ্য রয়েছে। সেটা তারা প্রতিবেদনে ব্যবহার করেছে।

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা

|মোর্শেদ নোমান|

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা অধরাই থেকে যাচ্ছেন দেশের ইতিহাসে বড় কেলেঙ্কারির নেপথ্য নায়কেরা। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনের মারপ্যাঁচে আইনের আওতায় তাঁদের আনা যাচ্ছে না।

ব্যাংক খাতে জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত করলেও অদৃশ্য ইশারায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন অনেকে। বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় জালিয়াতির হোতা হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা এখনো দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে ‘ব্যাংকিং সেক্টর ইন বাংলাদেশ: মুভিং ফ্রম ডায়াগনোসিস টু অ্যাকশন’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে বলা হয়, বড় কয়েকটি জালিয়াতির মাধ্যমে গত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বড় কয়েকটি ব্যাংক থেকে এ অর্থ লোপাট হয়। সরকারি-বেসরকারি এসব ব্যাংকে যা হয়েছে, তাকে চুরি নয়, ‘ডাকাতি’ ও ‘হরিলুট’ বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসায়ী নামের কিছু লুটেরা মিলেমিশে ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অর্থ লুটপাট করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নির্মোহভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে তাঁদের বিচার করতে না পারলে এ ধরনের অপরাধ কমবে না।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় ৪০ মাসেও অভিযোগপত্র নেই

বেসিক ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি এবং পরের বছর আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা করার পর ৪০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি। মামলায় ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের আসামি করা হলেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই আসামি করা হয়নি। বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি। মামলা হওয়ার পর তদন্ত–পর্যায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অভিযোগপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় করা মামলাগুলোয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অনেক দিন ধরে কারাগারে। ঋণগ্রহীতা কেউ কেউ ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা জামিনে বেরিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন। যাঁরা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁদের সবাই এখন বাইরে আছেন। বেসিক ব্যাংকের তদন্ত সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, সব আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবেন তাঁরা।

জনতা ব্যাংকে জালিয়াতির হোতারা বাইরে

জনতা ব্যাংকের বড় কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদক একের পর এক অনুসন্ধান-তদন্ত চালালেও প্রতিবারই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন হোতারা। দুদক সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিকে নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয় গ্রাহকদের মধ্যে। ওই কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক কিছু ব্যক্তিকে ‘অভিযুক্ত’ করতে পেরেছিল, যদিও তাঁরা পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। কিন্তু অধরাই থেকে যায় ব্যাংকটির তৎকালীন ঋণ প্রদানকারী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। যখনই ব্যাংকটি ওই জালিয়াতির ঘটনার পর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই উদ্‌ঘাটিত হয় অ্যাননটেক্স গ্রুপের পাঁচ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। আলোয় আসে ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের চার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। এসব কেলেঙ্কারির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। ২০১২-১৩ সালে উদ্‌ঘাটিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানেও দেখা যায়, ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির সুযোগটি তৈরি করে দেওয়া ২০০৮ সালে। ঘটনা চাউর হওয়ার আগেই লাপাত্তা হয়ে যান বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলায়মান, পরিচালক আনোয়ার চৌধুরী, নওরীন হাসিবসহ ঋণগ্রহীতারা। ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন জনতা, বেসরকারি যমুনা, প্রিমিয়ার ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কোনো কোনো কর্মকর্তা। সম্প্রতি উদ্‌ঘাটিত অ্যাননটেক্স গ্রুপ, ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গেও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার তথ্য মিলেছে। জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপ্রক্রিয়ায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করে জানান, ব্যাংকটিতে অনেক জালিয়াতির ঘটনাই ঘটেছে, যার দালিলিক প্রমাণ কষ্টসাধ্য। বৃহৎ ঋণগুলোর প্রস্তাব প্রেরণ, একেকটি ধাপ অতিক্রম এবং ঋণ মঞ্জুরের সময়কাল খুব সংক্ষিপ্ত। অর্থাৎ দ্রুতগতিতেই ঋণগুলো মঞ্জুর এবং টাকা ছাড় হয়। এ সময়কালে কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করলে দেখা যায়, আত্মসাতের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। অথচ এটি প্রমাণ করা দুঃসাধ্য। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে দুদকের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সূচনা হয় ২০০৮ সালের দিকে। সে বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এস এম আমিনুর রহমান। ওই সময় অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের মতো ঋণগুলো অনুমোদন পায়। ওই আমলে দেওয়া ঋণের প্রায় পুরোটাই এখন খেলাপি। এসব আত্মসাতের ঘটনায় দুদক এখন অনুসন্ধান শুরু করতে পারছে না। দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের একাধিক ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধান চলমান থাকলেও ঋণ কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের ধরা যাচ্ছে না। দুদকের একাধিক অনুসন্ধানে ওই সময়ের ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীদের নাম এলেও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতি নিয়ে ধীরে চলছে দুদক ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) কয়েকজন ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়। কোনো মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আসামি করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে ব্যাংকটির সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তির অনিয়ম তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহকদের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও বেরিয়ে আসে। ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তাঁরা। জালিয়াতির হোতারা আইনের বাইরে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় জালিয়াতির ঘটনাগুলোয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করেছে, সরকারের কাছে সব তথ্য আছে। নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট। তিনি এ বিষয়গুলো বোঝেন। আমরা চাই সব কটি বিষয়ে যেসব প্রতিবেদন আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

টিআইবির গবেষণা: ৫০টির মধ্যে আগের রাতে ৩৩টিতে সিল, বিচার বিভাগীয় তদন্ত...

ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি। ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে করা গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। নির্বাচনের দিন ৪৭ আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে টিআইবি। অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট; ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা; ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল; ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা; ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট; ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা; ২০টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা; ২২টিতে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া; ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ

সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলা গেলেও ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ বলা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন—সব দলের সভা-সমাবেশ করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিরোধীদের দমনে সরকারের বিতর্কিত ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান নেওয়া, সব দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে সরকারি দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের উপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণ ইত্যাদি। এর ফলে কার্যত নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ছাড়া নির্বাচনের সময়ে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ যেমন—পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা; মোবাইলের জন্য ফোর-জি ও থ্রি-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ; জরুরি ছাড়া মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। টিআইবির গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের কোনো কোনো কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। যেমন- সংসদ না ভেঙে নির্বাচন করায় সরকারের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক ও অন্যান্য প্রণোদনা এবং নির্বাচনমুখী প্রকল্প অনুমোদনসহ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রচারণা; বিরোধী পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া; সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও নির্বাচনের সময় পর্যন্ত ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখা এবং সরকারবিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়াসহ প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব কটি আসনেই নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে এককভাবে সক্রিয় ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। কোনো কোনো আসনে ক্ষমতাসীন দল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সরাসরি প্রচারের জন্য সুবিধা আদায়সহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রচারণার দৃশ্যও দেখা যায়। অন্যদিকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৩৬টি আসনে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেওয়াসহ ৪৪টি আসনে সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশ বা প্রশাসন কর্তৃক হুমকি ও হয়রানি, প্রার্থী ও নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও কর্মী কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানোর তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৯ আসনে সহিংসতাসহ প্রার্থীদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি, সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা, পুড়িয়ে দেওয়ার চিত্র দেখা যায়।

প্রচারে বেশি ব্যয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের, কম স্বতন্ত্ররা

প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সার্বিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রার্থীদের গড় ব্যয় ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ টাকা, যা নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত ব্যয়সীমার (আসনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা) তিন গুণেরও বেশি। প্রচারে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা (গড়ে পাঁচ গুণের বেশি) এবং সবচেয়ে কম ব্যয় করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের একাংশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে, যেটি আইনের লঙ্ঘন এবং নীতিবিবর্জিত। সর্বোপরি আংশিকভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। কারণ একদিকে সব রাজনৈতিক দল প্রার্থিতার মাপকাঠিতে নির্বাচনে ছিল, কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়তার বিবেচনায় বৈষম্য প্রকট ছিল। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা অবাধে ভোট দিতে পারেননি। আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অবশ্যই ব্যাপকভাবে লজ্জাজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকাও ছিল বিতর্কিত। আর এসব কারণেই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ এবং বলা যায়, অভূতপূর্ব একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; যার ফলাফলও অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের নৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এবং সরকারের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘যেভাবে এবারের নির্বাচনটা পরিচালিত হয়েছে তাতে প্রচুর ত্রুটি ছিল। তাই আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিগুলো দেখে, এই ত্রুটিগুলোর সত্যাসত্য বিচার করে পরবর্তী যে নির্বাচনগুলো হবে সেগুলোতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয় সে চেষ্টাই করবেন। কারণ আমরা দেখতে চাই, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পছন্দের মানুষেরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এই উদাহরণ রেখে যায় যে, যদি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকে তাহলে নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, বিতর্কিত হয়ে যায়। আর তখন একটা সংশয় থেকেই যায় যে, যাঁরা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে গেলেন, তাঁরা আমাদের কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করবেন, জনগণের স্বার্থ কতখানি দেখবেন।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে ৬ দফা সুপারিশ:

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে টিআইবির পক্ষ থেকে ৬ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: নির্বাচনে বহুমুখী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে তাদের ব্যর্থতা নিরূপণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে; নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন করার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য, সাহসী ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে; দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ অন্যান্য অংশীজনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে; নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের জন্য অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল/জোট ও প্রার্থী, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজন নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটুকু আইনানুগভাবে অনুসরণ করেছেন, তা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ প্রাক্কলন করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রধান অংশীজনদের ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার জন্য নভেম্বর ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। তবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে শুরু করে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান প্রাথমিক প্রতিবেদনটি প্রণীত হয়েছে। পরবর্তী সময় নির্বাচন-পরবর্তী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গবেষণার জন্য প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, দলীয় নেতা-কর্মী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও ভোটারদের সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরোক্ষ তথ্যের জন্য নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণ সব রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ ও সংগঠন, ভোটার এবং সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। তবে, এ গবেষণা নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভূমিকা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, তাসলিমা আক্তার, বিশ্বজিৎ কুমার দাস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি ‘হাইব্রিড রেজিম’ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে 'গণতান্ত্রিক' কিংবা 'ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক' দেশের তালিকায়ও বাংলাদেশের নাম নেই।

গত বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইআইইউ। খবর বিবিসির। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশক ধরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি 'হাইব্রিড রেজিম' তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর ২০১৮ সালে হয়েছে ৮৮তম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ইআইইউ প্রতিটি দেশকে গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করে। সেগুলো হলো - নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। প্রত্যেকটি মানদণ্ডকে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে হিসেব করে গড় করা হয়। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি ক্যাটেগরিকে ভাগ করা হয় - স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ গণতন্ত্র। এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে "পূর্ণ গণতান্ত্রিক" অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়। ১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে। http://country.eiu.com/bangladesh

দশ টিভি চ্যানেল ব্যবহার করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

দশ টিভি চ্যানেল ব্যবহার করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিনটি চ্যানেলসহ আরও বেসরকারি সাতটি চ্যানেল এখন বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের ট্রান্সমিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।বিটিভির তিন চ্যানেল হলো বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশিন এবং বিটিভি চট্টগ্রাম।অন্যদিকে সাত বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল–সময় টিভি, ডিবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এনটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় বাংলা এবং বৈশাখী টিভি গত কিছুদিন থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ট্রান্সমিশন ব্যবহার করছে। তবে একই সঙ্গে চ্যানেলগুলোতে বিদেশী স্যাটেলাইট অ্যাপস্টারের সংযোগও রয়ে গেছে। কারণ সেবা নেওয়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হয়। জানুয়ারিতেই সেই নোটিশ দিয়ে দেবে এসব বেসরকারি টিভি চ্যানেল।ফলে মার্চ থেকে পুরোদমে শুধু বঙ্গবন্ধু-১ দিয়ে ট্রান্সমিশন করবে এই সাত চ্যানেল-এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বা বিসিএসসিএল।টেলিভিশনের ট্রান্সমিশন বিষয়ে ডিটিএইচ কোম্পানি রিয়ালভিউ’ও সম্প্রতি বিসিএসসিএল-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ৪৮টি টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু করবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।জানা গেছে, এর বাইরে দুটি স্থানীয় ভিস্যাট কোম্পানির সঙ্গেও দ্রুত যুক্তিতে যাবে বিসিএসসিএল। সেটি হলে দ্রুততার সঙ্গে আয় করতে শুরু করবে সরকারি দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট।গত ১১ মে নিজ কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পর নভেম্বরে তা বিসিএসসিএলকে বুঝিয়ে দেয় স্যাটেলাইটটির নির্মাতা কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর সে কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতেই অনেক বিলম্ব হয়ে গেল বলে বলছেন বিসিএসসিএল সংশ্লিষ্টরা।এদিকে বর্তমানে চালু থাকা বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলোর বেলায় তেমন কিছু উল্লেখ না করলেও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তরা সেবায় আসতে হলে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকেই সম্প্রচার করতে হবে।এর মাধ্যমে বিসিএসসিএল-এর একটি নিশ্চিত আয় প্রাপ্তির বিষয়ও নিশ্চিত হয়ে গেল। সম্প্রতি এক কমিশন বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিটিআরসি এটি এখন টেলিভিশনের স্পেকট্রাম বরাদ্দ পাওয়ার শর্ত হিসেবে যুক্ত করে নিয়েছে।টেলিটভিশনগুলো তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স পেলেও স্পেকট্রামের জন্যে তাদেরকে বিটিআরসির কাছে আসতেই হয়। যদিও স্যাটেলাইট কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশ কমিউনেকশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটিড (বিসিএসসিএল) টেলিভিশনগুলোকে স্পেকট্রাম দেবে। কিন্তু তার ছাড়পত্র নিতে হবে বিটিআরসির কাছ থেকে।

নির্বাচনে কালো টাকা ধরতে মাঠে দুদক

নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কমিশনটির ইন্টেলিজেন্সি টিম বিশেষ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য দেন। এসময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কোনো মানুষই চায় না বা আপনারা, আমরা কেউই চাই না যে নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহার হোক। এজন্য আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে একটা গাইডলাইন দিয়েছি। তবে এখন এটি আমি প্রকাশ করতে চাই না। সেক্ষেত্রে ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বলছি- কে কতগুলো গরু জবাই করলেন, কীভাবে ইলেকশনের প্রচারণা শুরু হলো, কতগুলো গরু, কতগুলো খাসি জবাই করলেন, কতগুলো লাল পোস্টার বানালেন; যেটা আইনসিদ্ধ নয়। সেগুলো আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কালেক্ট করে একটি তালিকা তৈরি করবে। পরে আমরা ওই রিপোর্ট নিয়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবো। এ বিষয়টি নিশ্চিত করবো। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট এবং প্লটেও কালো টাকা চলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি দুদক অবহিত। দুদক সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে দুদক প্রত্যাশা করে। তবে কালো টাকা যদি বিনিয়োগ হতো, তাহলে দেশের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারতো। নির্বাচনে হলফনামা নিয়ে দুদকের ব্যবস্থা বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সবকিছু সত্যই বলতে হবে। সত্য সত্যই। পৃথিবীর সব দেশেই জনগণের প্রত্যাশা থাকে নেতার চরিত্র পবিত্র হতে হবে। আমাদের দেশেরও নেতার নেতৃত্বে অবশ্যই সততা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এ জন্য নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম যারা হলফনামায় তথ্য দেবেন, তা যেনো সঠিক হয়। হলফনামা পাবলিক ডকুমেন্ট। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট প্রতিটি হলফনামা ডাউনলোড করছে। তবে কি করবো ভবিষ্যৎ বলবে। আমরা বই আকারে সংরক্ষণ করছি। সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধানশাসিত সংস্থায় জমা দেওয়া প্রার্থীদের স্টেটমেন্টও সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিলিয়ে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাথায় পচন ধরলে শরীর বাঁচানো কঠিন বা সে চেষ্টা বৃথা। তাই রাজনৈতিক স্পষ্টতা, জবাবদিহিতা, কমিটমেন্ট, দূরদর্শিতা ও সততা না থাকলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা কঠিন। ঋণ খেলাপির প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়টি আমাদের না, ব্যাংকের। তবে যদি কেউ জাল-জালিয়াতি করে ঋণ নেন, তাহলে বিষয়টি দুদকের। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই একটি অডিট রিপোর্ট দিতে হবে। অনেকেই আছেন, তাদের কোম্পানিও আছে। যারা এনবিআরকে এক রকম ও ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম অডিট রিপোর্ট দেয়। আমরা এইসব জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা দুর্নীতি নয়। এমনকি টিআইবিও যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা-ও দুর্নীতি নয়। আপনার বিবেক যাতে সাড়া দেয় না, বিবেকের বিরুদ্ধে যা করেন, তা-ই দুর্নীতি। এর আগে লিখিত বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান জানান, কমিশন বিগত ১২ বছরে (২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৮৯টি মামলা দায়ের করেছে। একই সময়ে পাঁচ হাজার ৫২০টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে (বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো আমলের মামলাসহ)। বিগত ১০ বছরে (২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক হাজার ৩২১টি মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে (বিলুপ্ত দুর্নীতি দমনব্যুরো আমলের মামলাসহ)। কমিশনের মামলা সাজার হার ২০১৭ সালে ছিল ৬৮ ভাগ। এ সাজার হার ক্রমাগত বাড়ছে। কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি মামলা মনিটরিং করছে। মামলার বাদী, সাক্ষী এবং প্রসিকিউটরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া কমিশনের অনুসন্ধান/তদন্ত এবং প্রসিকিউসন কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের প্রত্যাশা শতভাগ মামলায় সাজা দেওয়া। এক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতার ঘাটতিকে আমরা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণের পাশাপাশি একটি কারণ হিসেবে মনে করি। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করি না। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে মানুষ প্রতিনিয়তই অভিযোগ জানাচ্ছে। শুধু গত বছরই কমিশন প্রায় ১৮ হাজার লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। এ বছরেও নভেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ২২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ জানাতে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ২২০টি ফোন কল এসেছে। এতে আমাদের মনে হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। মানুষ দুর্নীতি পরায়ণদের মন থেকে ঘৃণা করে। দুর্নীতি এমন অপরাধ যা খুব বেশিদিন লুকিয়েও রাখা যায় না। এ অপরাধ তামাদি হয় না। এটি প্রকাশ হবেই। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে অংশ নেন মাহফুজ আনাম, খায়রুল বাশার মুকুল, এমদাদুল হক মিলন, খ ম হারুন, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আবদুল কাউয়ুম, মোজাম্মেল বাবু, জ ই মামুন, মুস্তাফিজ শফি, শামীমুল হক, রাহুল রাহা, আশিষ সৈকত ও মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপেক্ষায় এস কে সিনহাঃ বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে...

[caption id="attachment_22706" align="alignleft" width="620"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা[/caption]

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা

ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে সিনহা বলেন, ‘এদেশে আমার কোনও স্ট্যাটাস নেই। আমি একজন শরনার্থী। আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি কিন্তু এখনও এর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ [caption id="attachment_22705" align="alignleft" width="300"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] সিনহা দাবি করেন, ‘তিনি লন্ডনের হাউজ অব কমনস, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারছেন না।’ অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এত ভীত থাকি যে, আমি ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে তার বাসা সব সময় মনিটর করে এবং যারা তার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়। বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়। শুধু তাই না, ২০১৪-এর নির্বাচনের পরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।’ [caption id="attachment_22704" align="alignleft" width="400"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের লাভের জন্য সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে সিনহা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে কারণ আওয়ামী লীগ সেখানে ভারত বিরোধী সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে।’ তবে এধরনের সমর্থন ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের ‘দুটি পাকিস্তানের’ মুখোমুখি হতে হবে।” এ সময় তিনি দাবি করেন, বই প্রকাশের জন্য কারও কাছ থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা তিনি নেননি। ৮০০ পৃষ্ঠার বইয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে কেবল নিজের শেষ দিনগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

সিনহার বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে বের করুন:

[caption id="attachment_22709" align="alignleft" width="350"] প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি-যুগান্তর[/caption] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রকাশের পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলব না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এই বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহা ওই বইয়ে তার পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেছেন। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন-ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এর প্রকাশনা উৎসবের কথা ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কি পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো বড় আইনজীবী এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা এর মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার ভাইয়ের নামে একটি বাড়ি কেনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ বাড়ি কিনতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, কে এবং কিভাবে এই বাড়ি কিনেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বইঃ  ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’

https://drive.google.com/file/d/1WknV34NNIjb8EdXkBt6DE78PCZNrLIlC

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.