মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে ইরানি পার্লামেন্টের বিল

মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে ইরানি পার্লামেন্টের বিল

বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ পেলেন শাহীন

বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ পেলেন শাহীন

যুক্তফ্রন্টভুক্ত বিকল্পধারায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটির নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হলেন সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বিকল্পধারায় যোগ দেওয়ার পর জরুরি সভায় তাঁকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিকল্পধারা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা যায়, ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন হেভিওয়েট নেতা ও বর্তমান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম এম শাহীন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর নেতৃত্বে এ বিকল্পধারা। বিকল্পধারার সবার সহযোগিতায় আগামী দিনে বাংলাদেশের একটি পরিবর্তন আমরা আনতে চাই। গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিকল্পধারার একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। ’

‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ – দোষী সাব্যস্ত...

ম্যানহাটনে বোমা হামলা

ছয় অভিযোগের সবক’টিতেই দোষী সাব্যস্ত আকায়েদ

নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টাকারী বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহ মার্কিন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতের গ্র্যান্ড জুরি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের জন্য আকায়েদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। খবর এএফপি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর টাইম স্কয়ারের নিকটবর্তী পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের নিচের একটি টানেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টা চালান আকায়েদ। কিন্তু তার শরীরে বাঁধা পাইপ বোমাটি ঠিকমতো বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত অবস্থাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আকায়েদ স্বীকার করেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এ হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। তবে মামলার শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আকায়েদ কখনই আইএস সদস্য ছিল না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার জন্যই তিনি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। অন্যদিকে কৌঁসুলিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আদালতে বলেন, আকায়েদ তার শরীরে এমনভাবে বোমা বেঁধেছিলেন, যেন অন্যদেরও ক্ষতি হয়। আর তিনি যে ইন্টারনেটে আইএসের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখতেন, তার কম্পিউটারেই সে বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেন। বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতির চেষ্টাসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার ছয় অভিযোগেই আকায়েদকে দোষী সাব্যস্ত করেন গ্র্যান্ড জুরি। ২৮ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে বাস টার্মিনালের নিচের টানেল ধরে হেঁটে যেতে ও নিজের শরীরে বাঁধা বোমাটি বিস্ফোরণের চেষ্টা চালাতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ঘটনার দিন সকালে আকায়েদ তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ এছাড়া তার বাড়িতে ধাতব পাইপ, তার ও স্ক্রুর পাশাপাশি হাতে লেখা একটি চিরকুটও পাওয়া যায়।
সদ্য বরখাস্ত হওয়া মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসন্স। ছবি: এএফপি।

বরখাস্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল

বরখাস্ত জেফ সেসনস ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থকদের একজন এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসনসকে বরখাস্ত করেছেন। বুধবার ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ জন কেলি সেসনসকে পদত্যাগ করতে বলেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি খবরে বলা হয়েছে। [caption id="attachment_23517" align="alignnone" width="1"]সদ্য বরখাস্ত হওয়া মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসন্স। ছবি: এএফপি। সদ্য বরখাস্ত হওয়া মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসন্স। ছবি: এএফপি।[/caption]ট্রাম্প তার টুইটারে লিখেছেন, "অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসনসকে তার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আর তার মঙ্গল কামনা করছি।" সেসনসকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেসনসের চিফ অব স্টাফ ম্যাথিউ হুইটেকারকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত করেছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, জেফ সেসনস ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থকদের একজন এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি তার পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, "প্রিয় প্রেসিডেন্ট, আপনার অনুরোধেই আমি পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমার সময়ে আমরা আইনের শাসন পুনর্বহাল ও সমুন্নত রাখতে পেরেছি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চে রুশ সংযোগ তদন্ত ঠেকাতে ব্যর্থ হন সেসনস। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে নিজের শীর্ষ আইন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ সালের জুলাইতে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "সেসনস নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না। আর যদি তিনি নিজেকে রক্ষা করতে চান তাহলে আমাকে তার চাকরিটি নিয়ে নিতে হবে এবং আমি অন্য কাউকে বেছে নেব।" উল্লেখ্য, সেসনসের পদে অস্থায়ী দায়িত্ব পাওয়া হুইটেকার ইচ্ছা করলেই নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্ত স্থগিত করে দিতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নাইটক্লাবে হামলা, নিহত ১৩

যুক্তরাষ্ট্রে নাইটক্লাবে হামলা, নিহত ১৩

ছবি :  এএফপি
ছবি : এএফপি
লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত থাউস্যান্ড ওকসে বর্ডারলাইন বার অ্যান্ড গ্রিল ক্লাবে এ ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নাইটক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যসহ হামলাকারীও রয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত থাউস্যান্ড ওকসে বর্ডারলাইন বার অ্যান্ড গ্রিল ক্লাবে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, কালো পোশাক পরে ওই হামলাকারী ক্লাবে প্রবেশ করে। তার কাছে কমপক্ষে একটি বন্দুক ছিল। সেখানে ঢুকেই ওই ব্যক্তি গুলি চালায়। ভেনচুরা কাউন্টি কার্যালয়ের শেরিফ (পুলিশ) কর্মকর্তা জিওফ ডিন জানান, সার্জেন্ট রন হেলাস ঘটনাস্থলের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ওই ভবনে প্রবেশ করা মাত্রই তাকে গুলি করা হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে মারা যান তিনি। তবে হামলাকারী কীভাবে মারা গেছেন তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ডিন জানান, আরো ১০ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের তথ্য জানা যায়নি। ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের অধিনায়ক গারো কুরেদজিয়ান জানান, থাউস্যান্ড ওকসে বর্ডারলাইন বার অ্যান্ড গ্রিলে রাত ১১টা ২০ মিনিটে প্রথম গুলির ঘটনা ঘটে। হামলার সময় শত শত মানুষ এর ভেতরে ছিল। https://twitter.com/Jeremy_Childs/status/1060450655293173760

‘একজন মমিনুল হক বাচ্চু’ – লেখা নিয়ে বিতর্ক

সাপ্তাহিক ঠিকানা ১৯ অক্টোবর ২০১৮ সংখ্যায় ৩১ নং পৃষ্ঠায় লস এঞ্জেলেসের মমিনুল হক বাচ্চু ভাইকে নিয়ে 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' নামে ঠিকানার নিজস্ব প্রতিবেদকের নামে একটি ফীচার প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্ট দুই সপ্তাহ পরে নিউইয়র্কের তথা সারা আমেরিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ঠিকানার ওয়েব পোর্টালের http://www.thikana.us/?p=18009 এই লিংকে তা পাবলিশ হয়। লস এঞ্জেলেসে জনপ্রিয় বাচ্চু ভাইকে নিয়ে ঠিকানার ফীচার যাতে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পড়তে পারেন তার জন্য সেই ফীচারটি একুশ পোর্টালে সাপ্তাহিক ঠিকানা থেকে রি-পোষ্ট করা হয়েছে। এখানে লেখার ক্রেডিট সাপ্তাহিক ঠিকানাকেই দেয়া হয়েছে। একুশ ডট ইনফো লস এঞ্জেলেসের একটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল। একুশ পোর্টালে নিজস্ব সংবাদ ছাড়াও বিভিন্ন সোর্স থেকে স্থানীয় ও হ্যান্ড পিকড নির্বাচিত খবর ছাপা হয়। একুশ পোর্টালে প্রচারিত প্রত্যেকটি নিউজ তাদের সোর্সের নাম ও তাদের সরাসরি লিংকসহ পাবলিশ করা হয়। নিউজ সোর্সের নাম ও তাদের সরাসরি লিংকসহ প্রতিবেদন লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় কোন পোর্টালে তো দেয়াই হয় না - জাতীয় অনেক নামকরা পোর্টালেও সেই সূত্র দেখা যায়না। [caption id="attachment_23378" align="alignleft" width="960"] লস এঞ্জেলেসে আনন্দমেলার পক্ষ হতে আজীবন সম্মাননা গ্রহন করছেন মমিনুল হক বাচ্চু।[/caption] ঠিকানার সেই নিজস্ব ফীচার পড়ে কারোই বুঝার উপায় নেই যে কে সেই প্রতিবেদন তৈরী করেছে। সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসের কমিউনিটিতে অজানা এক লেখক ঠিকানার সেই ফীচারকে তার লেখা বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে সে কমিউনিটিতে সুপরিচিত একুশ পোর্টালের এডিটরের নামে অজানা ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কমিউনিটিতে তার সুনাম বিনষ্ট করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়ে ফেসবুকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ঠিকানার নিজস্ব লেখায় তার রেফারেন্স না টানাতে সে স্থানীয়ভাবে প্রচারিত নিউজ পোর্টালের উপর ক্ষেপেছেন। ঠিকানা পত্রিকায় স্থানীয় লেখকের নাম থাকলে একুশ তা অবশ্যই প্রচার করতো। স্থানীয়ভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঠিকানার প্রধান সাধুবাদ জানিয়ে নিউজলিংকে মন্তব্যও করেছেন। কমিউনিটির অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। এতে কমিউনিটিতে সুস্থ্য ডায়ালগ শুরু হয়েছে।  সামাজিক সম্প্রীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাপ্তাহিক ঠিকানা জনপ্রিয় কোন সমাজকর্মীকে তাদের নিজস্ব প্রতিবেদক দিয়ে রিপোর্ট করাতেই পারেন।  ঠিকানার ফীচার আর সেই ব্যক্তির লেখা বিডি প্রতিদিনের ফীচারের সাথে হুবহু কোন মিল নেই। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের  নিয়ে লেখার মাঝে তার জন্মের কথা বা সামাজিক কার্যক্রমের বর্ননায় মিল থাকবেই। তাই অন্যকে আক্রমণ করার আগে লেখকের শিক্ষা ও তার সামাজিক অবস্থান বিচার করা জরুরী। জনপ্রিয় সমাজকর্মীকে নিয়ে অনেক পত্রিকায়ই প্রতিবেদন যেতে পারে - এতে তাকে নিয়ে বিডি প্রতিদিনের লেখা যে তার নিজস্ব তা প্রমানের অপেক্ষা রাখে। একজন এক ব্যক্তিকে নিয়ে লিখলেই সে তার সম্পত্তি বা কপিরাইটেড ব্যক্তিত্ব হয়ে যায়না। লেখকের দৈন্যতা আর প্রফেশন সম্পর্কে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশই ঘটলো স্থানীয় এক অপেশাদার লেখকের ফেসবুকের ম্যাসেজে। এইখানে তার প্রফেশনাল অজ্ঞতাকে নিয়েই কথা হচ্ছে - তার ব্যক্তিগত জীবন-যাত্রা নিয়ে নয়। আর এইখানেই মানুষের শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের পরিচয়। যদি তার লেখা ঠিকানা ছাপাতো ও তাকে লেখক হিসাবে ক্রেডিট দিতো একুশ অবশ্যই তার নাম পাবলিশ করতো। কারন ঠিকানায় ফীচারটা লস এঞ্জেলেসের সেই লেখকের ছিলোনা। তিনি বিডি প্রতিদিনে মিজানুল কবীর নামে লিখে ভেবেছেন যে লস এঞ্জলেসের বাচ্চু ভাইকে নিয়ে কেউ কিছু লিখলে তা তার সম্পদ। যা এখন বুমেরাং হয়ে হাস্যকর অপরিপক্ক সেই ফরমাইসী লেখকের কাছে ফিরে আসছে। এই সকল লেখিয়েদের কথা কমিউনিটির সবাই জানেন। তাদেরকে যে কমিউনিটি কিভাবে দেখেন তা যদি তারা জানতেন তাহলে লজ্জা থাকলে লিখালিখি বন্ধ করে দিতেন।  কমিউনিটিকে বিভ্রান্ত করে তার এই অশুভ উদ্যোগকে অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছেন। প্রতিবেদন দুটি দেখে নিজেরাই যাচাই করুন। 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' আর 'একজন পরোপকারী বাচ্চুর কথা' ফীচারের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে।   [caption id="attachment_23382" align="alignleft" width="2304"] সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপূজার মন্ডপে সবার সাথে কমিউনিটিতে জনপ্রিয় মমিনুল হক বাচ্চু। বাংলাদেশ থেকে ইউএস ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট-এ আমন্ত্রিত সিনিয়র সাংবাদিক দ্যা ডেইলি ষ্টারের স্পেশাল করসপন্ডেন্ট রেজাউল করিম লোটাস ও দৈনিক ইত্তেফাকের ডিপ্লোম্যাটিক করসপন্ডেন্ট মাইনুল আলম ও লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের পূজা টীমের সাথে যোগ দেন।[/caption] মনিনুল হক বাচ্চুকে নিয়ে দুই ধরনের প্রতিবেদন করা হয়েছে। যার শিরোনামও ভিন্ন। স্থানীয় একজন লেখক এই ফীচারকে তার নামে চালিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন এবং বাচ্চু ভাইকে তার নিজের সম্পত্তি হিসাবে নিয়ে নিয়েছেন। এই কারনে একুশ এর নামে মিথ্যা, অসত্য বানোয়াট পোষ্ট দিয়েই যাচ্ছেন। ব্যক্তির অর্জন নিয়ে  এই ধরনের প্রতিবেদনে লেখকের চেয়ে ব্যক্তির কর্ম ও অবদানকেই বড়ো করে দেখা হয়। যেহেতু প্রবাসে লেখকরা সাধারনত সম্মানী পান না - সেখানে নিজের নামের বিনিময়ে তারা লিখে থাকেন যা বিষয়-বস্তুর বিচারে তাদের নাম পাবলিশ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় এডিটর ও পাবলিশারদের নজর এড়িয়ে যায়। কেউ যদি নাম নিয়ে নাজুক হন তার উচিৎ ছিলো সেই পোর্টালে যোগাযোগ করা। সেখানে তার নাম যদি যুক্ত না করা হতো এবং তিনি যদি প্রমান করতে পারতেন যে তার লেখা কপি করা হয়েছে তাহলে তার সংক্ষুদ্ধতা নিয়ে কমিউনিটি সন্দিহান হতোনা।  কিন্তু হীনমানসিকতা নিয়ে অন্যের নামে বানোয়াট বিষোদগার করা যার উদ্দেশ্য সে সেই পথে যাবে কেন? ঠিকানাকে আক্রমন না করে একুশ নিয়ে বাজে কথার  বলার উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত আক্রমন আর তাদের দৃষ্টিতে উইকেষ্ট বা দূর্বল লিংক হলো একুশ। তাকে ধরো - কারন ব্যক্তিগত আক্রোশ আছে। একুশের প্রতিবেদনে কোন প্রতিবেদকের নাম উল্লেখ করা হয় নাই। তার সোর্স ও লিংক ফীচারের নীচে ক্রেডিট হিসাবে দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ঠিকানার ফীচারে দেখুন কার নাম দেয়া হয়েছে। মিজানুল কবীর নামে এই লেখক ১৯ শে অক্টোবরে ছাপা সাপ্তাহিকে তার লেখাকে কপি পেষ্ট ও তার নাম ব্যবহার নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেন নাই। কারন লেখাটা সম্পূর্নভাবেই ঠিকানা পত্রিকার। স্থানীয়ভাবে রি-পোষ্ট করার পর তার ফেইক ক্লেইম নিয়ে একুশে প্রচারিত হবার পর তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগের চেষ্টা না করেই ঘেউঘেউ করে যাচ্ছেন। এতে তার পোষ্টে তার নিজস্ব সহচর ১-২ জন ছাড়া কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। যেহেতু বাচ্চু ভাইকে নিয়ে তারা বলছেন আরো লেখা আসুক তার সম্পর্কে কিন্তু বাচ্চু ভাইকে নিয়ে কেউ প্রতিবেদন করলে তাদের নাম নিতে হবে, এই রকম আভাসই তারা দিচ্ছেন। বসন্তের কোকিলের মতো উদয় হওয়া কিছু লেখকের অজ্ঞতা থেকে কমিউনিটি আর বেশী কি আশা করতে পারে? তাই আপনার ফেসবুক পেজে এই ধরনের অসার প্রচারণা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সময় এসেছে। ফেইক প্রচারণা আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে বেমানান।        এই ফীচারের কেন্দ্রবিন্দু ও মানসিকতা ছিলো একজন লস এঞ্জেলেসবাসী কে বিশ্বে তুলে ধরা - কে সেই প্রতিবেদন লিখে তাকে উদ্ধার করলো তাকে গ্লোরিফাইড করলো তা নয়। গত আগষ্টে বিডি প্রতিদিন নিউইয়র্কে এই তথাকথিত লেখকের ফীচার ছাপা হয়। https://www.bd-pratidin.com/northamerica/home/page/2018-08-17 । সাপ্তাহিক ঠিকানায় ১৯ অক্টোবর ২০১৮ সংখ্যায় ৩১ নং পৃষ্ঠায় মমিনুল হক বাচ্চুকে নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন ছাপা হয় যা মিজানুল কবীর তার লেখা হিসাবে দাবী করেছেন নিকৃষ্ট পন্থায়। এতে ফীচার লেখক হিসাবে তার দাবীর যৌক্তিকতা কোনভাবেই প্রমান হয়না। একুশ যখন কোন নিউজ করে তার প্রপার ক্রেডিট সব সময়ই দিয়ে থাকে। এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান জিতু বলেন, 'একুশ প্ত্রিকা আমার নাম দিয়েই সব নিউজ বা সামাজিক আপডেট করে থাকে - এতে একুশ পোর্টালের কোনদিনই কোন অসুবিধা ছিলোনা। স্থানীয় পোর্টাল হিসাবে সবাই এখানে লিখেন বা লিখতে পারেন কমিউনিটির সেবায় - তবে এই প্রতিবেদনে প্রতিবেদক হিসাবে জাহান হাসানের নাম কোথাও ব্যবহৃত হয় নাই - ঠিকানার নাম ও লিঙ্ক দেওয়া আছে। লস এঞ্জেলেসে সামাজিক সম্প্রীতি ও বস্তুনিষ্ঠতার অপর নাম একুশ।' লস এঞ্জেলেসে নিজের লেখা নিয়ে মাঝে মাঝে দেখা যায় প্রবল মাতামাতি। কে সাংবাদিক - কে লেখক - কে ফরমাইশী ফেসবুক লেখক বা কে কোন জনমে কোন পত্রিকায় দুইকলম লিখেছে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা। লেখা নিয়ে যতোটা কথা হয় তার চেয়ে ব্যস্ত থাকে গুছিয়ে সমাজকে বিভ্রান্ত করে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের অপচেষ্টায়। প্রতিপক্ষকে 'বিলো দ্যা বেল্ট' আঘাত করাই তাদের শয়তানী পৈশাচিক বিকৃত মনোবৃত্তি। এখানে নিজেকে প্রচারের জন্য পরিচিত পত্রিকায় কিছু ফরমাইশি লিখে ছাপায় যাতে নিজেদেরকে লেখক মনে হয়। তাদের কাছে সাংবাদিকতার সূত্র হলো হলুদ রঙ। কমিউনিটির উপকারে কিছু করার চেয়ে তারা নিজেদের প্রচারেই ব্যস্ত থাকে। লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি পেজে যদি এই লেখা আগে পাবলিশ হতো তখন সেটা আর একুশ পোর্টালে হয়তো পাবলিশ হতোনা। একুশ পোর্টালের যে নিরপেক্ষতা ও জনপ্রিয়তা আছে তা দেখে তারা মনে করেছে একুশ পত্রিকা  নিজে এই নিউজ করেছে। যে কমিউনিটির জন্য লেখা - সেই কমিউনিটিতেই প্রচার নেই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত কর্পোরেট মালিকানাধীন নতুন কিছু সাপ্তাহিকদের। আর লেখক যদি স্থানীয়দের নিয়ে লিখালিখি করতেন তাহলে এই ফীচার লস এঞ্জেলেসে আলোড়ন তুলতো। তাই অন্যের ফেইসবুক পোষ্টে যারা নিজেদের প্রয়োজনে লিখে, সেইসব খবর বা প্রতিবাদ পাবলিশ করার আগে লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্টের পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করার আগে যাচাই -বাছাই করা উচিৎ ছিলো যাতে কমিউনিটি বিভ্রান্ত না হয়। এখানে যারা লোকালী কিছু করার চেষ্টা করেন তাদেরকে ছোট করা হয়েছে। এইখানেই লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ভূমিকা থাকার দরকার যাতে কেউ কারো বিরূদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদ্গার করার সুযোগ না পায়।  এখানে কেউই প্রফেশনাল সাংবাদিক নন - তারা নিজেদেরভাবে কমিউনিটির নিউজ তুলে ধরেন বিভিন্ন মাধ্যমে। এই লেখকের ক্ষেত্রে তার ক্রিডেনশিয়াল নিয়ে প্রশ্ন উঠাতে লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব তাকে মেম্বারশীপ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলো। তারই সূত্র ধরে এই ধরনের হীনমন্যতা ও আক্রমন। ঠিকানায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে একুশের জানার কোন উপায়ই ছিলোনা যে এই প্রতিবেদন কে করেছে। একুশ স্থানীয় প্রতিবেদনের গুরত্ব দিয়ে তার রি-পোষ্ট করেছে। ঠিকানার প্রতিবেদনে কোন নাম উল্লেখ করা হয় নাই। যদি লেখক ঠিকানার প্রতিবেদনকে নিজের বলে দাবী করতেন তাহলে তিনি প্রথমেই ঠিকানাকে অনুরোধ করতে পারতেন তাদের পোর্টালে তার নাম সংযুক্ত করার জন্য। কারন ঠিকানা পত্রিকা প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পরে পত্রিকার ম্যাটেরিয়াল তাদের পোর্টালে আপডেট করে। আর এখানে একুশ-এর সাথে যোগাযোগ করলেই তার নামটা ফীচারে বসতে পারতো। এখানে কমিউনিটির লোকদের প্রচার কেউ চায় না - চায় শুধু নিজের। বিভেদ ও হেইট প্রচার করে অন্যের অবস্থানকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় - সেই পৈশাচিকতাই অনেক অসুখী আত্মার হ্যালোইন উইস। লস এঞ্জেলেসবাসী সেই সকল লেখকদের তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও অন্যকে ছোট করার মানসিকতাকে ধিক্কার জানায়। তাদেরকে সংবাদকর্মী ভাবতে ঘৃনা হয়। ফেসবুকে লেখা কমেন্টকে বিনীতভাবে মডিফাই করার অনুরোধ জানাচ্ছে একুশ। আর ইউ এস কপিরাইট আইনে কি লিখা আছে দেখুনঃ “No copyright is claimed in [content copied] and to the extent that material may appear to be infringed, I assert that such alleged infringement is permissible under fair use principles in U.S. copyright laws. If you believe material has been used in an unauthorized manner, please contact the poster.” 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' লিংকঃ http://ekush.info/?p=23312

ইভিএম মেশিন হ্যাক করা কত সহজ দেখালেন বিজ্ঞানীরা

ইভিএম মেশিন হ্যাক করা কত সহজ দেখালেন বিজ্ঞানীরা
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কত সহজে ইভিএম হ্যাক করা যেতে পারে তাই হাতেনাতে দেখিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী।
মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী এলেক্স হাল্ডারম্যান দেখিয়েছেন কত সহজে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। এভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হলে কারা ও কিভাবে তা করেছে বা আদৌ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে কিনা তা ধরার কোনো উপায়ও থাকে না তাও দেখিয়ে দিয়েছেন হাল্ডারম্যান। বার্তা সংস্থা এএফপি রোববার জানায় গত মাসে বোস্টনের এক প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি বিষয়টি সবার সামনে স্পষ্ট করেন। হাল্ডারম্যান একটি ছদ্ম নির্বাচনের আয়োজন করেন যেখানে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী তিন জন জর্জ ওয়াশিংটনের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু হ্যাকিংয়ের শিকার মেমোরি কার্ডে ফলাফল আসে জর্জ ওয়াশিংটন পেয়েছেন ১ ভোট আর বেনেডিক্ট আরনল্ড পেয়েছেন ২ ভোট। সামরিক কর্মকর্তা বেনেডিক্ট রেভোল্যুশনারি ওয়ারের সময় গোপন তথ্য বিক্রি করেন। হাল্ডারম্যান যে ভোটিং মেশিনকে সহজেই হ্যাকিং করা যায় বলে দেখালেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে ব্যবহৃত হয়। এই মেশিনের কোনো ব্যালট পেপার নেই। আর তাই ভোটের ফলাফল পাল্টে দিলে তা ধরার বা চ্যালেঞ্জ করার কোনো উপায় থাকে না। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, ভোটিং মেশিন ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুগুলো হ্যাকিং হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দুই বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রুশ এজেন্টরা যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে অন্তত ২০টি রাজ্যে ভোটার রেজিস্ট্রেশন নেটওয়ার্কে হ্যাকিংয়ের চেষ্ট করেছে এবং অন্তত একটিতে তারা সফল হয়েছে। এলেক্স বলেন, রুশদের ভোটিং রেকর্ড নষ্ট বা পরিবর্তন করার সক্ষমতা রয়েছে, যা নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এমনকি সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটির তদন্তেও ‘তারা রুশদের ওই সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেননি।’ সম্মেলনে অন্যান্য গবেষকরা দেখিয়েছেন, ভোটিং মেশিং অথবা নেটওয়ার্কে হ্যাকিং সম্ভব। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটার ভোটিং মেশিনের সাহায্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সম্মেলনে গবেষকরা যেসব নির্বাচনী ব্যবস্থায় পেপার ব্যাকআপ নেই, সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করতে বলেছেন।

ভিয়েনা কনভেনশনের ‘ঐচ্ছিক বিধান’ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার

আরও দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরলো যুক্তরাষ্ট্র

একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটি ইরানের সঙ্গে ১৯৫৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘মৈত্রী চুক্তি’ ও কূটনীতিক সম্পর্ক নিয়ে ১৯৬১ সালে স্বাক্ষরিত ভিয়েনা কনভেনশনের ‘ঐচ্ছিক বিধান’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মূলত মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) ইরান ও ফিলিস্তিনিদের করা অভিযোগের মধ্যেই আরও দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক এ চুক্তিগুলো থেকে সরে আসার পাশাপাশি জাতিসংঘের আইসিজের কড়া সমালোচনাও করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বুধবার জাতিসংঘের এ সর্বোচ্চ ট্রাইব্যুনালকে ‘রাজনীতিকরণের’ দায়ে অভিযুক্ত করে সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের এ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইনি বিরোধ মীমাংসার প্রধান বিচারিক প্রতিষ্ঠান।

বার্নিকাট : বাকস্বাধীনতা দমাতে পারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা দমাতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট। আজ রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বার্নিকাট বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতাকে দমাতে বা অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যবহার হতে পারে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর। বিবৃতিতে বার্নিকাট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইনটি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বৈঠকের আহ্বানের প্রশংসা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের সংগতি এবং মানুষ, সমাজ ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বজার রাখার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা

যৌন হেনস্তা: মার্কিন কমেডিয়ান বিল কসবির কারাদণ্ড

যৌন হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মার্কিন কমেডি অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে ‘সহিংস যৌন শিকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিচারক। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের নরিস্টনের মোন্টগোমারি জেলার আদালত মঙ্গলবার ৮১ বছর বয়সী কসবিকে এ সাজা দেয়। বিবিসি বলছে, এই সাজার ফলে পুলিশের খাতায় কসবির নাম যৌন অপরাধী হিসেবে অন্তভুক্ত হবে এবং আজীবন তাকে বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং করতে হবে। আদালতের বিচারক স্টিভেন ও’নেইল একে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করেছে।বিল কসবি ও অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুন মাসে টেম্পল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড অভিযোগ করেন যে, ২০০৪ সালে কসবি তাকে মাদক সেবন করিয়ে যৌন হেনস্তা করেন। অথচ তিনি তাকে (কসবি) পরামর্শক হিসেবে মানতেন। গত এপ্রিলে মামলার পুনঃবিচারে কসবির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এদিকে, মঙ্গলবার আদালতে কসবির পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আর রায়ের ব্যাপারে কসবির কিছু বলার আছে কি না- তা জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
তবে তার মুখপাত্র অ্যান্ড্রিউ ওয়াট এই বিচার প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বর্ণবাদী ও যৌনবাদী। তিনি (কসবি) ‘যৌন যুদ্ধের’ শিকার বলেও উল্লেখ করেন ওয়াট।লিলি বার্নার্ড ও জেনিস ডিকেসন
প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালের দিকে কসবি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন যে, তাকে ‘আমেরিকার বাবা’ (আমেরিকা’স ড্যাড) বলে ডাকা হতো। উল্লেখ্য, অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড ছাড়াও অন্তত আরো ৬০ জন নারী কসবির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের মধ্যে সাবেক মডেল লিলি বার্নার্ডও রয়েছেন। মঙ্গলবারের রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মডেল জেনিস ডিকেসন এবং হাততালি দিয়ে রায়কে স্বাগত জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপেক্ষায় এস কে সিনহাঃ বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে...

[caption id="attachment_22706" align="alignleft" width="620"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা[/caption]

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা

ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে সিনহা বলেন, ‘এদেশে আমার কোনও স্ট্যাটাস নেই। আমি একজন শরনার্থী। আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি কিন্তু এখনও এর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ [caption id="attachment_22705" align="alignleft" width="300"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] সিনহা দাবি করেন, ‘তিনি লন্ডনের হাউজ অব কমনস, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারছেন না।’ অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এত ভীত থাকি যে, আমি ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে তার বাসা সব সময় মনিটর করে এবং যারা তার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়। বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়। শুধু তাই না, ২০১৪-এর নির্বাচনের পরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।’ [caption id="attachment_22704" align="alignleft" width="400"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের লাভের জন্য সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে সিনহা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে কারণ আওয়ামী লীগ সেখানে ভারত বিরোধী সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে।’ তবে এধরনের সমর্থন ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের ‘দুটি পাকিস্তানের’ মুখোমুখি হতে হবে।” এ সময় তিনি দাবি করেন, বই প্রকাশের জন্য কারও কাছ থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা তিনি নেননি। ৮০০ পৃষ্ঠার বইয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে কেবল নিজের শেষ দিনগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

সিনহার বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে বের করুন:

[caption id="attachment_22709" align="alignleft" width="350"] প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি-যুগান্তর[/caption] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রকাশের পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলব না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এই বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহা ওই বইয়ে তার পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেছেন। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন-ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এর প্রকাশনা উৎসবের কথা ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কি পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো বড় আইনজীবী এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা এর মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার ভাইয়ের নামে একটি বাড়ি কেনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ বাড়ি কিনতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, কে এবং কিভাবে এই বাড়ি কিনেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বইঃ  ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’

https://drive.google.com/file/d/1WknV34NNIjb8EdXkBt6DE78PCZNrLIlC

প্রধানমন্ত্রীর দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ

প্রধানমন্ত্রীর দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করা হয়েছে।
বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা প্রদান করে। খবর: বাসস শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষ ৮’এ অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্বর্ধনায় ডাইরেক্টর জেনারেল অব ইন্টারন্যাশাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর উইলিয়াম লুসি সুইং’র কাছ থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এতে কো-অডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মার্ক লোকক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক কানাডার মন্ত্রী মারী-ক্লাউড বিবেউ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন, আইপিএস ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক ফারহানা হক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে তার অসাধারণ নেতৃত্বে জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ডিনারে সংস্থাটির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকেভা ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণকারী অপর ৩ বিশ্ব নেতা হলেন— নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহমাদু ইসুফি, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট রেজী কেইড এসেবসি ও গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এলেক্স সিপ্রাস। পদক গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের আশ্রয়ে হৃদয় ও ঘরবাড়ি উন্মুক্তকারী আমার দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি। এই মহতী অনুষ্ঠানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি বিশ্বের নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন সকল দায়িত্বশীল জাতির দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। এছাড়া আবাসন গড়ে তোলা ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই সংকটের উৎস ভূমি হচ্ছে মিয়ানমার। এ জন্য এর সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ, মর্যাদপূর্ণ ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও পুনঃএকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুস্পষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে যে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারেই এই সমস্যার সমাধান করা এবং আরো বিতাড়ন বন্ধে দেশটির সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করা। এছাড়া এক্ষেত্রে জবাবদিহিতার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমারে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সে সময় আমি এবং আমার পরিবার ঢাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলাম। ওই বন্দীদশার মধ্যে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, তিন ভাই এবং এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ভাবী ও চাচার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আমাকে ৬ বছর দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার অঙ্গনে অনেক অবদানের জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সম্মানিত করার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ও এর অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমি যে কারণে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি তা কখনো আশা করিনি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্মম নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের প্রতি তাদের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী অন্যান্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Bangladesh point finger at Myanmar for Rohingya ‘genocide’

By MATTHEW PENNINGTON | Associated Press
Bangladesh's Prime Minister Sheikh Hasina addresses the 73rd session of the United Nations General Assembly, Thursday, Sept. 27, 2018, at the United Nations headquarters. (AP Photo/Frank Franklin II) Bangladesh's Prime Minister Sheikh Hasina addresses the 73rd session of the United Nations General Assembly, Thursday, Sept. 27, 2018, at the United Nations headquarters. (AP Photo/Frank Franklin II)

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বক্তব্য:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
জনাব সভাপতি, আসসালামু আলাইকুম এবং শুভ সন্ধ্যা। জাতিসংঘের ৭৩ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ নারী হিসেবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই। জাতিসংঘের প্রতি আপনার অঙ্গীকার সুরক্ষায় আপনার যেকোনো প্রচেষ্টায় আমার প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে থাকবে অকুণ্ঠ সহযোগিতা। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আমি জাতিসংঘের মহাসচিব জনাব অ্যান্টনিও গুটেরেসকে অভিবাদন জানাই। জনাব সভাপতি, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য আপনার নির্ধারিত প্রতিপাদ্য আমাকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতির পাতায় নিয়ে গেছে। চুয়াল্লিশ বছর আগে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যা বলেছিলেন আমি তা উদ্ধৃত করছি ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার। এই শান্তির মধ্যে সারা বিশ্বের সকল নর-নারীর গভীর আশা-আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে রয়েছে। এই দুঃখদুর্দশা-সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে জাতিসংঘ মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষার  কেন্দ্রস্থল।’ জনাব সভাপতি, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। যেখানে ৯০ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করতো। দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৭১ সালে। এই দীর্ঘ সংগ্রামে প্রায় ১৪ বছরই তিনি কারাগারে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বার বার। স্বাধীনতা অর্জনের পর একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত, অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। দেশের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের জনগণের। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকেরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। একই সঙ্গে তারা আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা, আমার তিন ভাই, যাদের মধ্যে ছোট ভাইটির বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর, নবপরিণীতা দুই ভ্রাতৃবধুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করে। আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। কিন্তু আমরা দেশে ফিরতে পারিনি। সে সময়কার ক্ষমতা দখলকারী সামরিক একনায়ক ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। আমরা এই নৃশংস হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত হারিয়েছিলাম। জনাব সভাপতি, বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক নিপীড়িত ও রোহিঙ্গাদের মত নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার হৃদয়কে ব্যথিত করে। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।  ১৯৭১ সালে  স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের দেশের মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল মিয়ানমারের ঘটনা সে কথাই বার বার মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানীরা ৩০ লাখ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করেছিল। ২ লাখ নারী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। এক কোটি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমার বাবাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়।  আমার মা, ছোট দুই ভাই, বোনসহ আমিও বন্দি হই। সে সময় আমি সন্তান-সম্ভবা ছিলাম। আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বন্দি অবস্থায়। নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে আমাদের থাকতে হত। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে বিবরণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাতে আমরা হতভম্ব। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের উপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার ও অবিচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে। জনাব সভাপতি, একজন মানুষ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশাকে আমরা যেমন অগ্রাহ্য করতে পারি না, তেমনি পারি না নিশ্চুপ থাকতে। আমার পিতামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর আমাকেও দীর্ঘ ছয় বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। আমরা দুই বোন শরণার্থী হিসেবে বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই আপনজন হারানো এবং শরণার্থী হিসেবে পরদেশে থাকার কষ্ট আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারি। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত ও অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমি পাঁচ-দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। আমরা আশাহত হয়েছি, কেননা আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। প্রথম থেকেই আমরা তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার-এর মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে, মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। বাংলাদেশে অবস্থানরত এগার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা সাধ্যমত তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, শিশুদের যত্নের ব্যবস্থা করেছি। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ জন্য আমি তাঁদের সকলের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। রোহিঙ্গারা যতদিন তাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে না পারবেন, ততদিন সাময়িকভাবে তারা যাতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রেখে আমরা নতুন আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে সেখানে যেতে পারেন তার জন্যও আমি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চাচ্ছি। যেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে মিয়ানমারে তাই এর সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারে। জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের যে চুক্তি হয়েছে আমরা তারও আশু বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে চাই। আমরা দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। জনাব সভাপতি, গত ত্রিশ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৫৪টি মিশনে এক লক্ষ আটান্ন হাজার ছয় শ দশ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৪৫ জন শান্তিরক্ষী জীবনদান করেছেন। বর্তমানে ১০টি মিশনে ১৪৪ জন নারী শান্তিরক্ষীসহ বাংলাদেশের মোট সাত হাজারের অধিক শান্তিরক্ষী নিযুক্ত রয়েছেন। আমাদের শান্তিরক্ষীগণ তাদের পেশাদারিত্ব, সাহস ও সাফল্যের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। এ ছাড়া, Peacekeeping Capability Readiness System-এ ২৩টি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য  আমরা অঙ্গীকার করেছি। নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন বিষয়ক Global Compact-এর মূল প্রবক্তা হিসেবে আমরা আরও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং মানবাধিকার কেন্দ্রিক একটি কম্প্যাক্ট প্রত্যাশা করেছিলাম। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অভিবাসন বিষয়ক এই কম্প্যাক্টকে আমরা স্বাগত জানাই এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় এটি একটি ক্রমঃপরিবর্ধনশীল দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদসহ সকল সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমরা পরিচালিত হতে দিব না। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমাদের ‘zero tolerance’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সহিংস উগ্রবাদ, মানবপাচার ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের সমাজের সকল      শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার নীতি বিশেষ সুফল বয়ে এনেছে। এ বিষয়ে  যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গৃহীত Global Call to Action on the Drug Problem-এর সঙ্গে বাংলাদেশ একাত্মতা ঘোষণা করেছে। জনাব সভাপতি, ২০০৯ সাল থেকে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করে চলেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের বিবেচনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরে ছিল শতকরা ৭.৮৬ ভাগ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৫.৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের শতকরা ৪১.৫ ভাগ থেকে শতকরা ২১.৮ ভাগে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে হত দরিদ্রের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারি বিনিয়োগ ২০০৯ সালে ছিল শতকরা ৪.৩ ভাগ। ২০১৮ সালে তা ৮.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০০৯ সালের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হতে ২০১৮ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াটে বৃদ্ধি পেয়েছে। টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কয়লাভিত্তিক সুপারক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। সঞ্চালন লাইনবিহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঁচ দশমিক পাঁচ (৫.৫) মিলিয়ন সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের ৯০ শতাংশ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরুর মাধ্যমে আমরা পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার যুগে প্রবেশ করেছি। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের এই যাত্রাপথ আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিকল্পনার সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত, যা আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নে পুরোপুরি অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক এবং অপরিসীম সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর রেয়াত, দ্বৈতকর পরিহার, শুল্কছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ১০০টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করছি যা প্রায় দশ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। জনাব সভাপতি, জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের যৌথ উদ্যেগে ১১টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে, আমি বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দের কাছে পানির যথাযথ মূল্যায়ন, ব্যবস্থাপনা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাই। অন্যথায় আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকব। সকলের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং এ বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ বাস্তবায়নে আমার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে, বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশন এবং ৮৮ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছেন। জনাব সভাপতি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ছয় দশমিক পাঁচ (৬.৫) মিলিয়ন বয়স্ক    নারী-পুরুষ, বিধবা বা স্বামী পরিত্যাক্ত নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। ২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক হতে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি বছর তেতাল্লিশ দশমিক সাত-ছয় (৪৩.৭৬) মিলিয়ন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনশ চুয়ান্ন দশমিক নয়-দুই (৩৫৪.৯২) মিলিয়ন বই বিতরণ করা হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের মাতৃভাষার বই দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক হতে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় কুড়ি দশমিক শূন্য-তিন (২০.০৩) মিলিয়ন শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। চৌদ্দ (১৪) মিলিয়ন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার হার গত সাড়ে ৯ বছরে শতকরা ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বাহাত্তর দশমিক নয় (৭২.৯) শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের অনন্য এবং উদ্ভাবনী আর্থ-সামাজিক পদক্ষেপসমূহ বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সঞ্চয়কারীগণ যে পরিমাণ টাকা জমা করেন, সরকার সমপরিমাণ অর্থ তার হিসাবে জমা করে। আমরা গৃহহীন নাগরিকমুক্ত বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প (shelter project) গ্রহণ করেছি। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধাসমূহ পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জনাব সভাপতি, বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক হলো নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ। নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা নিশ্চিত করছি। সরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনাবেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর অনুপাত ৫৩-৪৭। ২০০৯ সালের শুরুতে যা ছিল ৩৫-৬৫। বাংলাদেশের সংসদই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। বর্তমান সংসদে ৭২ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে প্রায় ২০ মিলিয়ন নারী কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সর্ববৃহৎ উৎস তৈরি পোশাক খাতে প্রায় চার দশিমক পাঁচ (৪.৫) মিলিয়ন কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী। নারী উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়াই ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ব্যাংক ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তহবিলের ১০ শতাংশ এবং শিল্প প্লটের ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনাব সভাপতি, বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাত্র একশ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ভূখণ্ডে ১৬০ মিলিয়নের বেশি মানুষের বসবাস। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রভূত অগ্রগতি অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি ১০০ হাজারে ১৭০ এবং পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ২০০৯ সালের ৬৪ বছর থেকে বর্তমানে ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। গত অর্থবছরে আমাদের জাতীয় বাজেটের পাঁচ দশমিক তিন-নয় (৫.৩৯) শতাংশ আমরা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছি। এ বছর স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অনুযায়ী আমরা যক্ষা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করেছি। যার ফলে গত দুই বছরে যক্ষাজনিত মৃত্যুর হার ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জনাব সভাপতি, অটিজম ও জন্মগত স্নায়ুরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি। এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রমকে জোরদার করতে এ সংক্রান্ত একটি সেল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া অটিজম বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং জাতীয় অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাডভাইজরি প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এ সংক্রান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। জনাব সভাপতি, আমরা জাতিসংঘের মহাসচিব কর্তৃক High Level Panel on Digital Cooperation প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানাই। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ধারণার মূল দর্শন হলো জনগণের কল্যাণ। ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার ব্যাপক প্রচলনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবরূপ ধারণ করেছে। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১” মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আমরা মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করেছি। বস্তুত এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ভূকেন্দ্র স্থাপন করার মাধ্যমে তিনি যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়িত হয়েছে। জনাব সভাপতি, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকির সম্মুখীন পৃথিবীর প্রথম দশটি দেশের একটি। ভূপ্রকৃতি এবং জনসংখ্যার আধিক্য বাংলাদেশকে বিশেষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আমরা প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আমরা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশ ব্যয় করছি এবং জলবায়ু সহায়ক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করছি। আগামী পাঁচ বছরে বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ ২২ শতাংশ হতে ২৪ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য- সুন্দরবন সংরক্ষণে পঞ্চাশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা সৃষ্টিতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহকে একীভূত করে আমরা বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ শীর্ষক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ একটি জলকেন্দ্রিক, বহুমুখী এবং টেকনো-ইকনমিক দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যা কিনা দীর্ঘ ৮২ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনাব সভাপতি, ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন আজও অব্যাহত রয়েছে যা আমাদের মর্মাহত করে। এ সমস্যার আশু নিষ্পত্তি প্রয়োজন। ওআইসির পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আমরা ওআইসির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব। জনাব সভাপতি, মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে তিনটি মৌলিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তা হলো- শান্তি, মানবতা ও উন্নয়ন। তাই মানবসমাজের কল্যাণে আমাদের মানবতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণকে সেবা প্রদান এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। মানবতা ও সৌহার্দ্যই আমাদের টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমস্যা-সঙ্কুল এই পৃথিবীতে আমাদের সম্মিলিত স্বার্থ, সমন্বিত দায়িত্ব ও অংশীদারিত্বই মানব সভ্যতাকে রক্ষা করতে পারে। জনাব সভাপতি, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে আমি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছি। গত সাড়ে নয় বছরে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। যে বাংলাদেশকে বলা হতো দুর্যোগ, বন্যা-খরা-হাড্ডিসার মানুষের দেশ, তা এখন বিশ্বশান্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে চমক সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের ছাপিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আমাদের পথচলা এখনও শেষ হয়নি। এ পথচলা ততদিন চলবে যতদিন না আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। ধন্যবাদ জনাব সভাপতি। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
UNITED NATIONS – Bangladeshi President Sheikh Hasina on Thursday accused Myanmar of failing to honor a verbal commitment to take back Rohingya Muslims who have fled a crackdown she described as tantamount to genocide.
Hasina's remarks at the annual gathering of world leaders at the United Nations came as the U.N. Human Rights Council agreed to set up a team to collect evidence of alleged crimes that one day could be used to prosecute suspected perpetrators. U.N.-backed investigators have already said the reported atrocities could amount to genocide and other war crimes. Myanmar, which barred the investigators from the country, has rejected that reporting as "replete with unverified information."
"We are appalled by what we have seen in U.N. reports about atrocities against the Rohingya who have now taken shelter in Bangladesh, which are tantamount to genocide and crimes against humanity," Hasina told the General Assembly.
She appealed for more international support for the 1.1 million Rohingya refugees now sheltering in Bangladesh, and urged an "early, peaceful solution" to the crisis. Most have arrived since August 2017 when attacks by Rohingya militants on Myanmar security forces triggered a massive retaliation that prompted a massive cross-border exodus of civilians.
"Despite their verbal commitment to take back the Rohingya, in reality the Myanmar authorities are yet to accept them back," Hasina said.
International pressure is mounting on Myanmar, which is to address the General Assembly on Friday. The Organization of Islamic Cooperation on Thursday hosted a ministerial-level meeting on the sidelines of the assembly to address the plight of the Rohingya, following another hosted by Britain earlier in the week. Both were conducted behind closed doors. Also, a U.S. government investigation released Monday concluded that the Myanmar military had targeted Rohingya civilians indiscriminately and often with "extreme brutality" in a coordinated campaign to drive the minority Muslims out of the country. The report provided statistical analysis. It said most of those interviewed had witnessed a killing, and half had witnessed sexual violence, and the military was identified as the perpetrator in 84 percent of the killings or injuries they witnessed.
Human rights groups criticized the Trump administration for not describing the crackdown as "genocide." The U.S. has characterized the gross abuses as "ethnic cleansing," which is not a criminal definition.
Deputy Secretary of State John Sullivan told reporters Thursday that the investigation, based on interviews with more than 1,000 Rohingya refugees, was intended as a forensic description and not to make legal judgements. But he added that the U.S. is working toward accountability for those responsible, and on "characterizing it as a crime against humanity or a genocide."

নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা!

নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা!

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত রবিবার নিউইয়র্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে আসার দিন থেকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিনই তিনি নিউইয়র্কে প্রবাসীদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের সংবর্ধনায় প্রবাসীদের যে কোনো সময়ের উপস্থিতির রেকর্ড ভেঙেছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এরপর স্থানীয় সময় সোমবার খুব সকাল থেকে নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যর্থনাসহ জাতিসংঘের ৬টি গুরুত্বপূণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয়দানের ঘটনায় বিশ্বনেতারা শেখ হাসিনার মহানুভবতার ব্যাপক প্রশংসা করেন। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যর্থনায় যোগ দেন। জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানকারী বিশ্বনেতাদের সম্মানে নিউইয়র্কের অভিজাত প্যালেস হোটেলে এই অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফর এডুকেশন অব উইমেন অ্যান্ড গার্ল’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উদ্যোগে আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনটি প্রস্তাব দেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সহায়তা দিচ্ছে এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আশ্রয় দেওয়া রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে শিশুদের মানসিক আঘাত লাঘবে এবং সামাজিক প্রয়োজন মেটানোর ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সংঘাত ও জাতিগত নিধন থেকে পালিয়ে যাওয়া শিশুরা সাধারণ স্কুলে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যায় পড়তে পারে। তাই তাদের জন্য অনানুষ্ঠানিক এবং দৈনন্দিন জীবনের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এছাড়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুরা এখন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করছে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, জাতিসত্বা এবং ভাষা অনুযায়ী এই শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, রোহিঙ্গা শিশুদের বিষয়ে মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টি বক্তব্যে গুরুত্ব পাওয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের বিষয়ে শেখ হাসিনার মহানুভবতার কথা উল্লেখ করেন। জাস্টিন ট্রুডো বলেন, কানাডা সরকারও সাধ্যমত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং দিচ্ছে। অন্য দেশগুলোকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন। সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাবের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক : এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা উল্লেখ করেন, যা বিশ্বনেতাদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বিশ্বনেতৃবন্দ ব্যাপক করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতেও গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের বিষয়ে শেখ হাসিনার মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ মন্ত্রী। তিনি এসময় রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে সমস্যা কোথায় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। সোমবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সম্মেলনে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জীবন রক্ষা করছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করে বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদেরকে নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উপস্থিত বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাদের অনেকেই টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অভিনন্দিত করেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের একটি সূত্র জানায়, অন্যবারের চেয়ে এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গভীরভাবে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের পর তাদের বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রতি সরকার যে মানবিক নজর দিচ্ছে সে বিষয়টিও উল্লেখ করছেন প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে বিশ্বনেতারা তাদের বক্তব্যেী ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তার প্রশংসা করে বাংলাদেশকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন। সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে দিতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। গত বছর ৭২তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এরপর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: পিআইডি

সব আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও সংঘাত রোধ করুন: প্রধানমন্ত্রী

সব আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও সংঘাত রোধ করুন: প্রধানমন্ত্রী

[caption id="attachment_22530" align="alignleft" width="1024"]প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: পিআইডি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: পিআইডি[/caption]

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের প্রবাহ এবং অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের উৎস বন্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মতো উঠতি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও বিশ্বনেতাদের মোকাবেলা করতে হবে।’

বিফল হতে থাকা বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করার জন্য সব আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও সংঘাত রোধে বিশ্বনেতাদের অবশ্যই অঙ্গীকার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় সোমবার নেলসন ম্যান্ডেলার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ অধিবেশন হলে আয়োজিত নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের প্রবাহ এবং অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের উৎস বন্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মতো উঠতি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও বিশ্বনেতাদের মোকাবেলা করতে হবে।’ শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জন, সহনশীলতার প্রসার, বৈচিত্র্যতা রক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বৈষম্য ও শোষণ থেকে রক্ষার জন্য সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, যে কোনো পরিস্থিতিতে মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসার এবং শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতি লালন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শান্তি এখনও আমাদের অধরা। সংঘাত সমাধানের পথ থেকে অনেক দূরে। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যার জন্য লড়াই করেছিলেন সেই মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। বিশ্বের অনেক অঞ্চলের মানুষ ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে।’ বর্ণবাদ, লোকরঞ্জনবাদ ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সমাজ তাদের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত, নির্যাতন এবং এমনকি গণহত্যার শিকার হচ্ছে। মিয়ানমারে জাতিগত নির্মূলের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গার দুরবস্থার বিষয়টি এ সময় তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বশান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের অনেক জায়গায় জীবন রক্ষায় কাজ করছে। নেলসন ম্যান্ডেলা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতা হিসেবে তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। পরে জনগণের জন্য তার ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সমবেদনা দিয়ে তিনি মানবতার অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেন। শান্তি, স্বাধীনতা ও ঐক্য ছিল তার আজীবনের মন্ত্র। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বাঙালিদের অত্যাচারের হাত থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তারা দুজনই তাদের জীবনের দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন এবং নিজেদের জনগণের জন্য লড়াই করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুকে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালে বার বার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারে থাকাকালে তিনি ডায়েরি ও কয়েকটি বই লিখেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডমের’ মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থে শান্তি এবং জনগণের ন্যায্য অধিকারের জন্য তার লড়াই লিপিবদ্ধ আছে। নেলসন ম্যান্ডেলার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.