Home টপ নিউজ

টপ নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ

২৩৩ বাংলাদেশীসহ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ। ২৬ মে মঙ্গলবার রাত ১১টায় প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে নিউইয়র্ক স্টেটে ২৩ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতেই মারা গেছে ১৬ হাজার ৪১০ জন। অর্থাৎ বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটি হচ্ছে করোনাভাইরাসেরও প্রধান টার্গেট।[caption id="attachment_24271" align="aligncenter" width="1024"]Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND[/caption] এ প্রসঙ্গে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞসহ নিউইয়র্কের স্টেট গভর্নর এ্যান্ড্রু ক্যুমো বহুবার অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারিতেই যদি ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে আসা ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হতো তাহলে এমন মহামারির কবলে হয়তো নিউইয়র্ক অঞ্চলের মানুষদের পড়তো হতো না। স্টেট গভর্নর যুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, চীন থেকে এই ভাইরাস ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সব দেশের লোকজন জেএফকে এবং নিউয়ার্ক এয়ারপের্ট হয়ে এ অঞ্চলে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, মার্চের শেষ সপ্তাহে এ দুটি এয়ারপোর্ট বন্ধ করা হয়। আরো উল্লেখ্য, ২১ মার্চ থেকে নিউইয়র্ক অঞ্চলে ‘ঘরে থাকার নির্দেশ’ জারি করা হয় যা এখনও বহাল রয়েছে। এদিকে, ২৬ মে সোমবারও নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে করোনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। হাসপাতাল এবং স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, নিহতরা হলেন হবিগঞ্জের সন্তান এবং ব্রঙ্কসের বাসিন্দা শামসুল ইসলাম জীবন (৫০) এবং মোহাম্মদ আলম (৪৮)। এর একদিন আগে অর্থাৎ ঈদের দিনও দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ৫ চিকিৎসকও রয়েছেন। এদিকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পুনরায় শংকা প্রকাশ করেছেন যে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ একেবারেই থমকে দাঁড়ায়নি, তেমন স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্টভাবে অভিমত পোষণ করেছেন যে, লকডাউন শিথিলের মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তবে এসব আহবানে ন্যুনতম পাত্তা না দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত হবার জন্যে। এমনকি, সোমবার ‘মেমরিয়্যাল ডে’ উইকেন্ডেও চার্চ, আগেরদিন রবিবার মসজিদে ঈদ জামাত করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিছু কিছু মানুষ এতে সাড়া দিলেও অধিকাংশই তা বর্জন করেছে। আর যারা মসজিদে ঈদ জামাত করেছেন তারাও স্বাস্থ্যনীতি মেনেই তা করেছেন। এমনকি প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করার সাংবিধানিক এখতিয়ার হচ্ছে স্টেট গভর্নরদের। একারণে বাস্তবতার আলোকে স্টেট গভর্নররা পদক্ষেপ নিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। নিউইয়র্ক সিটি ছাড়া প্রায় পুরো স্টেটে লকডাউন শিথিলের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। সিটিতেও মৃত্যুর হার এবং হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির হার কমছে গত দেড় সপ্তাহ থেকে। এটি অব্যাহত থাকলে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে লকডাউন শিথিলের পথ সুগম হবে বলে ২৬ মে প্রেস ব্রিফিংকালে আশা পোষণ করেছেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো। অপরদিকে, মিশিগানে মামলা-মোকদ্দমা সত্বেও লকডাউনের মেয়াদ জুনের ১২ তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্টেট গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার। নিউইয়র্কে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ মে বৃহস্পতিবার। জনজীবন এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করার অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে করোনা টেস্টকে বলা হচ্ছে। অথচ এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিসাধিত হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র এক কোটি ৪৬ লাখ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার (৩৩০ মিলিয়ন) শতকরা  ৪.৪ ভাগের টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জোন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে। সোমবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, লকডাউন দ্রুত শিথিলের যে প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যেই অনেক স্টেটে শিথিল করাও হয়েছে, এর ফলে পুনরায় এই ভাইরাস মহামারি আকারে বিস্তৃত হতে পারে। এই সংস্থার হেল্থ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড. মাইক রায়ান ভার্চুয়াল ব্রিফিংকালে আরো বলেছেন, আমরা যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রমণের শংকা প্রকাশ করছি, সে সময়ে চলমান সংক্রমণেরই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তার বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে এই রোগ যে কোন সময় ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। সংক্রমণের হার কমছে বলে এটি মনে করার কোনই কারণ যে, তা দুর্বল হয়ে চলে যাচ্ছে।[caption id="attachment_24273" align="aligncenter" width="1024"] Army Chaplain (Major) Ivan Arreguin leads the procession as military and civilian personnel working at the Javits New York Medical Station, erected at the Jacob Javits Convention Center in New York City, form a cordon to render military honors to a veteran who died of COVID19 while a patient at the medical station on April 19, 2020. Members of the Active military and the New York National Guard Military and civilians with prior service members of the military took part in the recognition.( U.S. Air National Guard photo by Major Patrick Cordova)[/caption] এমন পরিস্থিতিতে সকলকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অর্থাৎ বাসার বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে, ৬ ফুট অন্তর অবস্থান করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই মাস্ক পরতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি, ২৫ মে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যো বাইডেন জনসমক্ষে এলে তাকে মাস্ক পরিহিত দেখে টিটকারি দিয়েছেন ট্রাম্প। উপহাস করেছেন রীতিমত। এর জবাবে বাইডেন বলেছেন যে, নাগরিকেরা সাধারণত: প্রেসিডেন্ট অথবা জাতীয় নেতাকে অনুসরণ করেন। অথচ আমেরিকার দুর্ভাগ্য তাদের প্রেসিডেন্ট তারই প্রশাসনের রীতি অনুসরণ করেন না। করোনা টেস্টিং কিটের সংকট ছিল। তা কেটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেও এখন পর্যন্ত টেস্টিং পরিক্রমা একেবারেই হতাশার পর্যায়ে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা-সরঞ্জাম তথা পিপিইর সংকট লাঘবেও যথাযথ পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত গৃহিত হয়নি। এভাবে ঘরে থাকার নির্দেশ ক্রমান্বয়ে উঠিয়ে নিলে বা শিথিল করা হলে লাখো আমেরিকানের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে বলে আশংকা চিকিৎসা-বিজ্ঞানী এবং সচেতন জনগোষ্ঠির। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

আমাদেরই সবার আগে এই কিট বিশ্ববাসীর সামনে আনার সুযোগ ছিল: ড....

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল। গত কিছুদিন ধরে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন করোনাভাইরাস শনাক্তের ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ কিট উদ্ভাবন করে। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদের গবেষণার সুফল এই কিট।

ড. বিজন ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া নাটোরের কৃষক পরিবারের সন্তান ড. বিজন সামনে এসে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে জানা যায়, তার সকাল-দুপুর-রাতের অনেকটা সময় কাটে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে। ড. বিজন বনপাড়া সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেটেরিনারি সায়েন্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক পাস করেছিলেন। অণুজীব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। কমলওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ‘শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি’ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তিনি সুপরিচিত গবেষক-অণুজীব বিজ্ঞানী। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বহুল আলোচিত কিট ও করোনাকালে মানুষের করণীয়সহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে এই প্রথম সরাসরি কথা বললেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে। উদ্ভাবনের এতটা সময় পরেও কিটের সুফল মানুষ না পাওয়ায়, একটা কষ্ট হয়ত ভেতরে জমে আছে। যদিও তা প্রকাশ করতে নারাজ। তাকিয়ে আছেন সামনের আলোর দিকে। উদ্ভাবিত কিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতেই ড. বিজন কুমার শীল বললেন- করোনাভাইরাস শনাক্তের ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট কিট’ নিয়ে আমাদের দিক থেকে যা করার ছিল তা আমরা সম্পন্ন করেছি। নিজেরা পরীক্ষা করে অত্যন্ত সন্তোষজনক ফল পেয়েছি। কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্যে বিএসএমইউকে ৪০০ কিট দিয়েছি। তারা ট্রায়াল শুরু করেছে। ধারণা করছি তারা ভালো রেজাল্ট পাচ্ছে। শুরু থেকেই আপনারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, আপনাদের উদ্ভাবিত কিট প্রায় শতভাগ সফল। এতটা আত্মবিশ্বাসের কারণ কী? আমরা অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন দুটি পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছি। এই দুটি পরীক্ষা যদি সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রায় সব রেজাল্ট সঠিক পাওয়া যায়। শতভাগ হয়ত বলা যায় না। সামান্য এদিক সেদিক হতে পারে। যদিও আমরা প্রায় শতভাগ সাফল্য পেয়েছি। যে কথা ডা. জাফরুল্লাহ স্যার বারবার বলেছেন। ডায়াগনস্টিকের দুটি উইন্ডো থাকে। একটি ভাইরাল উইন্ডো, অন্যটি হোস্ট উইন্ডো। হোস্ট মানে মানব শরীর। কোনো ব্যক্তি যখন ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হন, তখন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী যে অঙ্গগুলো থাকে তারা একটি বায়োমার্কার তৈরি করে। এই বায়োমার্কার শরীর থেকে ভাইরাস দূর করে। আমাদের কিট দিয়ে অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন অর্থাৎ দুটি উইন্ডোই পরীক্ষা করা যাবে। আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি বা শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতাম তাহলে সব ভাইরাস শনাক্ত করতে পারতাম না। যেহেতু আমরা দুটি পরীক্ষাই করতে পারছি, সেহেতু আমাদের সাফল্যের হার অনেক বেশি। একটি উদাহরণ দিয়ে বললে হয়ত বুঝতে সুবিধা হবে। গত রোববার একটি ডাক্তার পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাবা-মা-ছেলে তিনজনই ডাক্তার। ছেলে গত ১০ মে হাসপাতাল থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১২ মে পিসিআর পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। তার বাবা-মাও পজিটিভ। তাদের নমুনা আমাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম ছেলের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বাবার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সামান্য, যা শনাক্ত করা যায় না বললেই চলে। কিন্তু তার অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। মায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি, অ্যান্টিজেন তৈরি হয়েছে। এই তিনজনের ক্ষেত্রে আমরা যদি শুধু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতাম, তবে শনাক্ত হতো একজন। যদি শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হতো, তাহলে শনাক্ত হতেন দুইজন। যেহেতু আমরা অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন দুটিই পরীক্ষা করতে পেরেছি বলে তিনজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছি। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্ভাবিত গণস্বাস্থ্যের কিটের বিশেষত্ব। সে কারণেই শতভাগ সাফল্যের প্রসঙ্গ আসছে। আমরা করোনাভাইরাস শনাক্তের পূর্ণাঙ্গ একটি কিট মানে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শনাক্তের একটি পদ্ধতি দেশকে, বিশ্ববাসীকে দিতে যাচ্ছি। এটা হচ্ছে আমাদের আনন্দ। https://youtu.be/VUvtuKUP-M0 কিন্তু দেশের মানুষ বা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে কি একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে? করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা আমরা প্রথম দিয়েছি। আমেরিকা, ইউরোপ আমাদের অনুসরণ করেছে। সেনেগালসহ আরও অনেক দেশ আমাদের পরে শুরু করে কিট তৈরি করে ফেলেছে। তবে সেনেগালেরটা শুধু অ্যান্টিবডি, অ্যান্টিজেন না। আমাদের মতো অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন শুধু আমেরিকার একটি কোম্পানি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা সবার আগে উদ্ভাবন করলেও, বাজারে আনতে পারিনি। অন্যরা বাজারে নিয়ে এসেছে। শুরু থেকে আপনাদের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে বারবার লিখেছি। সে কারণে হয়ত গত দুই-তিন দিনে বেশ কয়েকজন প্রশ্ন করেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের কী হলো? ধন্যবাদ যে আমাদের উদ্ভাবন নিয়ে ইতিবাচকভাবে বারবার লিখেছেন। বাজারে আসতে দেরি হওয়াই হয়ত এই প্রশ্নের কারণ। বেশ দেরি হয়ে গেল। আমাদেরই সবার আগে এই কিট বিশ্ববাসীর সামনে আনার সুযোগ ছিল, সম্ভাবনা ছিল। যাই হোক, এখন বিএসএমএমইউতে কিটের ট্রায়াল চলছে। ধারণা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে তারা রিপোর্ট দিতে পারবে। তাদের হয়ত একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। সময় লাগে। প্রথমে ২০০ অ্যান্টিবডি এবং পরে ২০০ অ্যান্টিজেন কিট দিয়েছি। আরও ৬০০ কিট প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের দেওয়ার জন্যে।আশা করছি ঈদের ছুটির মধ্যে তারা কিট পরীক্ষা অব্যাহত রাখবেন। বিএসএমইউতে জায়গা-সংরক্ষণের স্বল্পতা আছে। সে কারণে সব কিট একবারে দিতে পারছি না। অল্প অল্প করে দিচ্ছি। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ত তারা রিপোর্ট দিয়ে দিবে। বিএসএমইউ’র ট্রায়ালেও ভালো রেজাল্টই আসছে বলে ধারণা করছি। কারণ সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা-জ্ঞান এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের সেই অভিজ্ঞতা কি একটু বলবেন? আমি ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলাম। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তখন সিঙ্গাপুর সরকার সার্স ভাইরাস শনাক্তকরণ, ক্যারেকটারাইজেশন এবং ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব দিয়েছিল আমাদের ল্যাবকে। আমরা ল্যাবে সার্স ভাইরাস তৈরি করি। লক্ষ্য করি ভাইরাসটি অতি দ্রুত তৈরি হয়। ১২ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ভাইরাস তৈরি হয়। আমরা বিস্মিত হয়ে পড়ি, একটি ভাইরাস এত দ্রুত কীভাবে বৃদ্ধি পায়! বুঝতে পারি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের ভেতরে কীভাবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ক্ষতি করছে সার্স ভাইরাস। সিঙ্গাপুর সরকারকে আমরা ভাইরাসটির ভয়াবহতার রিপোর্ট দেই। গবেষণা চলতে থাকে। ভাইরাস শনাক্তকরণের কিট উদ্ভাবন করি। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের খুব একটা পার্থক্য নেই। এখন যে পিসিআর টেস্ট হচ্ছে সেটা তখন আমরা সিঙ্গাপুরে ডেভেলপ করেছিলাম। সর্বশেষে উদ্ভাবন করেছিলাম ডট ব্লট কিট, যেটা এখন গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে করছি। ডট ব্লট কিটে খুব দ্রুত মাত্র ১৫ মিনিটে রেজাল্ট পাওয়া যেত। যেটা আমার নামে পেটেন্ট করা। ডট ব্লট পদ্ধতিতে এখন রেজাল্ট পাওয়া যাবে তিন থেকে পাঁচ মিনিটে। অন্য পদ্ধতির পরীক্ষায় রেজাল্ট পেতে দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগত। সিঙ্গাপুরে যত মানুষ সার্সে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের সবাইকে আমরা পরীক্ষা করেছিলাম। ২০০৩ সালের ৩১ মে পৃথিবী থেকে সার্স ভাইরাস দূর করা হয়েছিল। তারপর এটা নিয়ে আর কাজ করিনি। আপনার গণস্বাস্থ্যে যোগ দেওয়া ও করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াটা নিয়ে জানতে চাই। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে এসেছি। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। তখন চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তখন এটা নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমি তখন ডাক্তার জাফরুল্লাহ স্যারকে বললাম, আমার এই ভাইরাস নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এটা একটা ভয়াবহ ভাইরাস। এই ভাইরাস শনাক্তের কিট বিষয়ে আমি জানি। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তাকে জানালাম। তিনি আমাদের করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করতে বললেন। আমরা গবেষণা শুরু করলাম ফেব্রুয়ারি মাসে। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের আসলে মিল কতটা? মূলত একই ভাইরাস। সার্স ভাইরাসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের মিল প্রায় ৮২ শতাংশ। সার্স ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা গিয়েছিল, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যায়নি। সার্সের বিস্তার রোধ করা না গেলে তখনও এখনকার মতো অবস্থা হতো। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে করোনাভাইরাস নিয়ে তো তেমন আতঙ্ক দেখা দেয়নি। এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আপনি কি তা বুঝতে পেরেছিলেন? চীনে যে সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলছিল, সেই সময়টা ছিল ভাইরাস বিস্তারের জন্যে অত্যন্ত উপযোগী। চীনা নববর্ষের কথা বলছি। এটা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। চীনা নববর্ষে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ কোটি চাইনিজ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়। এভাবে করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আমি ধারণা করছিলাম। এটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে যাচ্ছে তাও অনুধাবন করছিলাম। কারণ পৃথিবীর এমন কেনো দেশ নেই যেখানে চীনারা কাজ করেন না। ২০০৩ সালের পৃথিবীতে মানুষের এতটা যাতায়াত ছিল না। বাজেট এয়ারলাইন্স পৃথিবীতে মানুষের যাতায়াত বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আবার সিঙ্গাপুরে যাই এবং ফিরে আসি ১৭ ফেব্রুয়ারি। ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল করোনাভাইরাসের উপর একটি মিটিংয়ের আয়োজন করে। সেই মিটিংয়ে যোগ দেই। সেখানে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের ডাক্তার, বিশেষজ্ঞদের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। সেই মিটিংয়ে বলেছিলাম, করোনাভাইরাসকে যদি আমরা ছোট করে দেখি তবে ভুল করব। এটা কিন্তু ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়বে। আপনারা এখনই একটি ইমারজেন্সি প্লান নেন, যাতে প্রতিরোধ করা যায়। আসলে হয়েছে কি, খোদ আমেরিকা বা ইউরোপও বুঝতে পারেনি ভাইরাসটি এত দ্রুত ছড়াতে পারে। সবাই হয়ত ধারণা করেছিল ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাসের মতো, এটারও হয়ত বিস্তার ঠেকানো যাবে। আমার সিঙ্গাপুরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় ভয়াবহতার বিষয়টি বুঝতে পারছিলাম। সতর্কও করেছিলাম। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে কিট উদ্ভাবনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর পৃথিবী লকডাউনে চলে গেল। অনেক বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে সহায়তা পেয়েছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সহায়তা পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাতেই আমাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজটি এগিয়েছে। কিন্তু তারপরও এত দেরি হয়ে যাচ্ছে কেন? অনেক বিষয় আছে। এখন আর সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। বিএসএমইউ কিট পরীক্ষা করছে। আমরা গবেষণা অব্যাহত রেখেছি। প্রতিদিন কিছু কিছু উন্নতি করছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কিটের অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাওয়ার আশা করছি। আর পেয়ে গেলে এটা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের কাজে লাগবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্যে এমন একটি কিট অত্যন্ত জরুরি। অনেক মানুষ সম্ভবত আক্রান্ত হয়ে গেছে। পরীক্ষার অভাবে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সেখানে আমাদের কিট দিয়ে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা যাবে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা হয়ত অনেক। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বিচারে সরকারি, বেসরকারি হিসেব মিলিয়েও তো অনেক কম। এর কারণ কী? এ ক্ষেত্রে আশার দিকটি হলো, বাংলাদেশে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই শরীরে ভাইরাসের ক্ষতির দিকটি খুব দুর্বল। যে ডাক্তার পরিবারের কথা বললাম তারাও খারাপভাবে আক্রান্ত হননি। অর্থাৎ জীবনের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শনাক্তের দুর্বলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা কম। কত মানুষ যে আক্রান্ত হয়েছে, আবার সুস্থ হয়ে গেছে-তা হয়ত তারা নিজেরাও জানেন না। তাদের থেকে হয়ত অনেক মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। এ কারণেই শনাক্ত করা খুব জরুরি। যারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। দুই চার বছরের মধ্যে তার আর আক্রান্তের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ায় দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় দফায় আবার সংক্রমণ হচ্ছে। একটি জায়গায় হয়ত ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো গেছে। কিন্তু অন্য আরও বহু জায়গায় তো রয়ে গেছে। আপনি দেয়াল তৈরি করে পানি ঠেকাতে পারবেন। আবার কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় পানি আসতেও পারে। আক্রান্ত কেউ হয়ত সেসব জায়গায় যাচ্ছে। সবার তো আর উপসর্গ থাকে না। তাদের থেকে অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছে। আপনাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা হবে কোথায়? এর জন্য কি ল্যাব দরকার হবে, না যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করা যাবে? এটা নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের কিট দিয়ে পরীক্ষা করা অত্যন্ত সহজ। দেখিয়ে দিলে যে কেউ তা করতে পারবে। এর জন্য ল্যাব জরুরি না। যেকোনো জায়গায় পরীক্ষা করা যাবে। কিন্তু এর একটি ঝুঁকির দিক আছে। যদি খুব সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা না হয়, তবে যারা পরীক্ষা করবেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সে কারণে ভাবছি, অ্যাপ্রুভাল পেয়ে গেলে প্রথমাবস্থায় আমরা ল্যাবেই পরীক্ষা করব। যত্রতত্র পরীক্ষার দিকে শুরুতেই যেতে চাচ্ছি না। পর্যায়ক্রমে আমরা যত্রতত্র পরীক্ষা করব। সেভাবেই পরিকল্পনা করছি। ল্যাবেই যদি পরীক্ষা করা হয়, তবে কি গণহারে পরীক্ষা করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। পিসিআরে একটি পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে দুই দিন লেগে যাচ্ছে। একটি ল্যাবে যদি ৫০০ স্যাম্পল আসে, পরীক্ষা করতে হয়ত ১০ দিন লাগছে। সেখানে আমাদের কিট গিয়ে একদিনেই ৫০০ পরীক্ষা করে রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। একটি ল্যাবে একদিনে কয়েক হাজার পরীক্ষা করা যাবে। একটি পরীক্ষায় সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট। এক্ষেত্রে আরেকটি কথা বলে রাখা দরকার, পরীক্ষায় শনাক্ত করা গেল কিনা তা অনেকটা নির্ভর করে, কে কখন পরীক্ষার জন্যে যাচ্ছেন তার উপর। একজনের হয়ত সামান্য কাশি হলো, প্রথম দিনই তিনি পরীক্ষার জন্যে গেলেন। আরেকজন হয়ত কাশির সাত দিন পরে গেলেন। প্রথম দিন যিনি গেলেন পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক আসবে। সাত দিনের দিন যিনি গেলেন, পিসিআরে তার রেজাল্ট সঠিক নাও আসতে পারে। আমাদের কিটের টেস্টে দুইজনের রেজাল্টই সঠিক আসবে। প্রথম দিনের জনের অ্যান্টিজেন ও সাত দিনের জনের অ্যান্টিবডি টেস্ট সঠিক আসবে। ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমের কারণে গবেষক-বিজ্ঞানী হিসেবে আপনার একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে দেশের মানুষের উদ্দেশে কিছু বলবেন? মানুষ কী করবে বা কী করা উচিত? করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের সবাইকে এর মুখোমুখি হতে হবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই মারা যাওয়া। এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে, তার ক্ষতিকর দিকটি বেশ দুর্বল। আক্রান্তের পর আপনি যদি আতঙ্কিত হয়ে নার্ভাস না হন, ভাইরাস আপনার তেমন ক্ষতি করতে পারবে না। যদি একটু খারাপ লাগতে থাকে, জ্বরজ্বর বা অল্প কাশি অনুভূত হয়, তবে দিনে তিন চারবার হালকা রং চায়ে গোলমরিচ, লং দিয়ে খাবেন এবং তা দিয়ে তিন চারবার গার্গল করবেন। এতে ভাইরাস ফুসফুসে ঢোকা ঠেকানো যাবে। আর ভিটামিন-সি’র কোনো বিকল্প নেই। এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের সকালে ২৫০ রাতে ২৫০ মোট ৫০০ এমজি ভিটামিন সি খাওয়া দরকার। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন সি’র দাম বেশি না। আমলকিসহ এ জাতীয় যা এখন পাওয়া যায়, সেগুলো খেতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র একটি ভিটামিন সি জিঙ্ক তৈরি করছে। এটা খুবই ভালো। জিঙ্ক ট্যাবলেটও এ ক্ষেত্রে উপকারী। সব মানুষের আরেকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখা দরকার, থুথু যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও কেন থুথু বিষয়ে বলছে না, বুঝতে পারছি না। হাঁচি বা কাশির চেয়ে থুথু অনেক বেশি বিপদের কারণ হতে পারে। থুথু শুকিয়ে ডাস্টে পরিণত হয়ে ভাইরাস অনেক দিন টিকে থাকতে পারে। থুথু বা কফ থেকে পানির মাধ্যমে ভয়াবহভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সবার সতর্ক হওয়া দরকার। কোনো আক্রান্ত রোগীর প্রস্রাব বা পায়খানা যদি পানির লাইনে সংমিশ্রণ ঘটে যায়, সেটাও হতে পারে বড় বিপদের কারণ। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। আর সাধারণ সবজি-ফল পরিষ্কার পানি দিয়ে দুইবার ধুয়ে নিলেই চলবে। সতর্ক থাকতে হবে। কোনো কিছু নিয়েই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আতঙ্কিত হলে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। https://youtu.be/xQCyvJSjuU0
  • A new antibody test has been approved by the UK after an independent evaluation showed it had a high degree of accuracy and specificity.
  • The test, developed by Roche, is one of a number approved for use internationally.
  • Such tests are a key feature in many governments’ plans to relax lockdown.
  • But uncertainty remains over how much protection from the virus is provided by past infection.
According to its developer, Swiss pharma giant Roche, the antibody test “has a specificity greater than 99.8% and sensitivity of 100%”, pinpointing antibodies to COVID-19 present in blood samples. After independent testing by Public Health England found the Roche test to be highly specific and accurate it became the first coronavirus antibody test approved in the UK. A second test, from Abbott Laboratories, has since also been approved in the UK. Both also have approval for use from the US Food and Drug Administration.
গোলাম মোর্তোজা
CC Visual Hunt ©

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!CC Visual Hunt ©

গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ১২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে মারা গেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনায় দিন দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই।

এদিকে যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে, সেসব দেশে শিগগিরই দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

ডাব্লিউএইচও'র জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, সারাবিশ্বজুড়ে প্রথমবার সংক্রমণের মধ্যবর্তী অবস্থায় আছি আমরা। আমরা এমন এক অবস্থায় আছি, যখন এটি যে কোনো সময় ফিরে আসতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এ বছরের শেষের দিকেই আবারো করোনার প্রকোপ দ্বিতীয়বার শুরু হতে পারে। এমনকি যে সব দেশে করোনার প্রকোপ কমে গেছে, সেসব দেশেও দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে যে কোনো সময়।

সে কারণে তিনি বলেছেন, যে কোনো সময় এই ভাইরাসের হানা বেড়ে যেতে পারে। প্রকোপ কমে যাচ্ছে দেখে ভাবলে চলবে না যে, এটি এখন কমেই যাবে। দ্বিতীয়ঝড়ের জন্য বেশ কয়েকমাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সম্ভবত আমরা দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরুর খুব কাছাকাছি রয়েছি।

বিডি-প্রতিদিন  নিউজ লিংক

বেতন কমবে সব সেক্টরের শ্রমিকদের

বেতন কমবে পোশাক শ্রমিকদের

| গোলাম মওলা |
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে দেশের গার্মেন্টস সেকটরসহ বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় কমে গেছে। লকডাউনের কারণে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে আছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পথে। এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারছে না বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, বেতন-ভাতা দিতে না পেরে শ্রমিকদের ছাঁটাই করার ঘটনাও ঘটেছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। গার্মেন্টস মালিকরা বলছেন, যেসব শ্রমিক ঈদে বাড়িতে চলে গেছেন, তারাতো চাকরি হারাবেনই, যারা ঠিক মতো কাজ করেন না, তারাও চাকরি হারাবেন।

মালিকদের অনেকেই বলছেন, আগামী জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা আরও বাড়বে। আর যারা চাকরিতে থাকবেন, তাদেরও অনেকের বেতন কমে আসবে। এরইমধ্যে গার্মেন্টস মালিকরা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক কমানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএ’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘করোনার এই দুঃসময়ে শিল্প-প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক— এই তিন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, উৎপাদন নেই, এমন কারখানা শুধু বসিয়ে বসিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের শ্রম আইন তিন বছরের জন্য স্থগিত করেছে। আমাদেরও সেই পথেই এগোতে হবে। সিদ্দিকুর রহমান জানান, শ্রমিকরা কত টাকা বেতনে চাকরি করবে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকেই এ ধরনের প্রপোজাল আসতে হবে। তা না-হলে আপনা-আপনিই গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। আর কারখানা বন্ধ থাকলে এমনিতেই শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে অধিকাংশ মালিক শ্রমিকদের বোনাস দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে।’ আগামী জুনের পর থেকে কেবল অতি প্রয়োজনীয় শ্রমিক দিয়েই উৎপাদনে থাকতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন,  ‘উৎপাদন ঠিক রাখার পাশাপাশি শ্রমিকরা যাতে করোনা বিস্তারের কারণ না হয়, সে জন্য এই ঈদে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়িতে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করে কেউ গ্রামে গেলে, তার শাস্তিতো তাকে পেতেই হবে। কোনও মালিকই গ্রাম থেকে ফিরে আসা শ্রমিককে ১৪-১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে বেতন দেবেন না। তবে কে গ্রামে গেছে, আর কে যায়নি, সেটা বের করা কঠিন।’ তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার অংশ হিসেবে কিছু শ্রমিক কমাতে হবে। এছাড়া ক্রয়াদেশ না থাকার কারণেও শ্রমিককে বিদায় দিতে হবে। সেটা আগামী দু-এক মাস থেকেই। সে ক্ষেত্রে যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারাই আগে ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়বেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে আমরা এপ্রিল ও মে— এই দুই মাস শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়েছি। এরপর যারা বাড়ি গিয়ে করোনা নিয়ে আসবেন তাদেরকে ১৪/১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে কেউ বেতন দেবে না।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান বলেন, ‘শ্রমিকরা গার্মেন্টস মালিকদের দাস নয়। বাড়ি থেকে ফিরে কারখানায় জয়েন করতে পারবে না কেন? এটা কোন আইনে আছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ঈদ সবার জন্য। শ্রমিক বলে কি তাদের ঈদ নেই? তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন বন্ধ থাকা কারখানার শ্রমিকরা মজুরি-ভাতা পাননি। কারখানাগুলোর মালিকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র মুখপাত্র কামরুল আলম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বাড়ি যেতে নিষেধ করেছি। যদি কোনও শ্রমিক বাড়ি গিয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এবার শ্রমিকরা হয়তো বাড়ি যাবেন না। যাদের হাতে কাজ আছে, সেসব কারখানা হয়তো ২৬-২৭ তারিখেই খুলবে। ফলে এই তিন-চার দিনের জন্য যাওয়া-আসার চেষ্টা হয়তো কেউ করবেন না। বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকদের বলে দেওয়া আছে— ঈদের তিন দিন কোনও শ্রমিক বাড়ি যাবেন না।’ তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা খোলার দিন সব শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করতে হবে বাড়ি গিয়েছিলেন কিনা। যদি বলেন যে, বাড়ি যাইনি। তাহলে তিনি জয়েন করবেন। বাকিরা জয়েন করতে পারবেন না।’ এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য নির্দেশ ছিল— তারা যেন বাড়িতে না যায়। কিন্তু কারা গেলো, বা কারা গেলো না, তা চিহ্নিত করা মুশকিল।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্যাক্টরি চালাতে হবে। গ্রামে যাওয়া-আসার কারণে করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা থাকে। কাজেই বাড়িতে যাওয়া শ্রমিকের কারণে অন্য শ্রমিকরা যাতে আক্রান্ত না হয়, সেই দিকটা খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দিনগুলোতে কী হবে তা বলা মুশকিল। অর্ডারের কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে শ্রমিকের চাকরি। তার ওপর নির্ভর করছে কারখানার মালিকের টিকে থাকা।  সর্বপরি দেশের অর্থনীতি সচল থাকার বিষয়। শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমানে চালু থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানা এখনও এপ্রিল মাসের মজুরি দেয়নি। পোশাক শ্রমিকদের মজুরি দিতে গত মার্চে মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে সরকার, যেখান থেকে মাত্র দুই শতাংশ সুদে পোশাক শিল্প মালিকদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এপ্রিলে মজুরি কমিয়ে ৬৫ শতাংশ ও ঈদ বোনাস অর্ধেক পরিশোধ করছেন মালিকরা। শুধু গার্মেন্টস নয়, অন্যান্য সেক্টরেও শ্রমিক কমানোর পরিকল্পনা করছেন মালিকরা। জানতে চাইলে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রির মালিক কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমার কারখানা তিন মাস ধরে বন্ধ। এই তিন মাস বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়েছি। কিন্তু অর্থের অভাবে শ্রমিকদের এবার বোনাস দিতে পারিনি। আগামী মাস থেকে হয়তো বেতনও দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে জুন থেকে হয়তো কিছু শ্রমিককে বিদায় দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানের মালিকই এখন অর্থ সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। আর অর্থ সংকটে পড়লে প্রথম আঘাতটা আসে শ্রমিকের ওপর। বিস্তারিত বাংলা ট্রিবিউনের সরাসরি নিউজ লিংক   

৫৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি!

প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি: গত বছরের তুলনায় কেনাকাটা কমেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকার!

গোলাম মওলা

পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পুরো মাস রোজা রাখার পর নিজের সেরা পোশাক পরে, সুগন্ধী ব্যবহার করে, মিষ্টান্ন খেয়ে ঈদের নামাজে অংশ নেওয়ার কথা বলা আছে ধর্মীয় রীতিতে। সংখ্যাগুরু মুসলমান তাই এই ঈদ উপলক্ষে নিজের ও পরিবার সদস্য-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে ভালোবাসে। আর এ কারণেই এই উৎসবে সাধারণত নতুন পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, নারীদের গহনা, প্রসাধনী, অলঙ্কার ও বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, খাদ্যপণ্য সামগ্রী কেনাকাটার ধুম পড়ে। তার সঙ্গে এটা-ওটা দরকারি জিনিস যোগ হতে হতে নাড়াচাড়া পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। তবে এ বছর এর পুরো ব্যতিক্রম। প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার এই ঈদের অর্থনীতি করোনা ভীতিতে এবার প্রায় পুরোটাই স্থবির ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি,  ঈদে কেনাকাটা কমেছে অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকার। অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আরেকটি সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখের সময় বন্ধ থাকার পর এই ঈদ উৎসবেও বন্ধ ছিল দেশের বেশিরভাগ শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট। ফলে যে ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাজার ও দেশের অর্থনীতি চাঙা করতো এবার তার প্রায় কিছুই নেই।  বন্ধ শপিং মল, দোকানপাটগুলোর দিকে চেয়ে এবার শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন সেই ব্যবসায়ীরা- অন্যান্যবার একই জায়গায় বেচাকেনায় যাদের দম ফেলার অবকাশ থাকতো না। যারা দোকানপাট খুলতে পেরেছেন, হতাশ তারাও। করোনা ঝুঁকি নিয়েও সরকারের বিশেষ অনুমতিতে গত ১০ মে থেকে সারা দেশে যেসব শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট খুলেছিল সেগুলোর প্রথম শর্ত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং বিকাল চারটার মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। ফলে বেঁধে দেওয়া সময় থাকায় এসব নিয়মের প্রায় কিছুই পূরণ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ক্রেতাদের ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশ না মানার প্রবণতা। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় খোলার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ জেলার এসব দোকানপাট। সব মিলিয়ে হতাশায় পুড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোতে বেচাকেনা হয়েছিল অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। এবারের ঈদে এই সামান্য সময়ে বেচাকেনা হয়েছে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত রমজানের  ঈদের তুলনায় এবার অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, গত রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল, এবার সে ধরনের ব্যবসা একেবারেই হয়নি। এবার সব ধরনের ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ঈদের আগে সরকার দোকান, মার্কেট খুলে দেওয়ায় সারা দেশের ৫৬ লাখ ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কোনোমতে আত্মসম্মানটা বাঁচাতে পেরেছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের কারণে ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীকে কারও কাছে হাত পাততে হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ১০ মে থেকে সরকার দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার অনুমতি দিলেও তাতে ভোক্তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি মার্কেট চালু করার সুযোগ পেয়েও করোনা সংক্রমণ রোধ করতে বড় বড় শপিং মলগুলো বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় রীতি আর সমাজবদ্ধ জীবনের অভ্যাসগত কারণেই ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা মুসলিম সমাজে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। পরম্পরা ধরে চলে আসা এই রেওয়াজের কারণে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয়-জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে কেনাকাটা করতো সাধারণ মানুষ। ১৫ রোজার পর এই কেনাকাটার মাত্রা বেড়ে যেত বহুগুণ। আগের বছরগুলোয় ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসতো ততই নগরীর মার্কেটগুলোয় ভিড় বাড়তো। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ধারণা, গত বছর পর্যন্ত ঈদের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু, করোনার কারণে এ বছর ঈদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অন্যান্য বছর ঈদ উপলক্ষে অর্থের বড় একটা জোগান আসতো সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস, গতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, জাকাত ও ফিতরা থেকে।  এ ছাড়াও অন্যতম একটি উৎস ছিল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স), যা চাঙা করতো গ্রামীণ অর্থনীতি। তবে এবছর বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বোনাস দিতে পারেনি, অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে অর্ধেক। বেতন বকেয়া রেখেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বোনাস হলেও অনেকে কেনাকাটা করতে পারেননি। আর নিম্ন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় নিত্য দরকারি খাদ্যপণ্য জোগাড়েই ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে তাদের। কেনাকাটার চিন্তাও করতে পারেনি তারা। দরিদ্র ও দুস্থরা তো পুরোপুরি সরকারি বেসরকারি ত্রাণ ও সহায়তার ওপরে এখনও নির্ভরশীল। মার্কেটের সামনে কেনাকাটা নয়, সাহায্য পাওয়ার আশায় ভিড় জমিয়েছিল তারা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে এবার ঈদের অর্থনীতি হতাশার। এ বছর ঈদে শ্রমিক, উদ্যোক্তা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ, এবার কেনাকাটার মানসিকতা ছিল না মানুষের। ফলে এ বছর ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি বহুলাংশে থমকে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিপণিবিতানগুলো। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন | ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

ঈদ: করোনা কালে নেই উৎসবের আমেজ

ঈদ: উদযাপনে নেই উৎসবের আমেজ

রিয়াজুল করিম
25 May, 2020

আপনি নিয়ে যান না কেন রোহিঙ্গাদের?

‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরোধিতার কারণ সেখানে বিলাসবহুল হোটেল নেই’

ইউরোপীয় দূতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের জন্য এত দরদ থাকলে আপনি নিয়ে যান

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে দাতা সংস্থাগুলোর বিরোধিতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, তাদের বিরোধিতা করার একটি কারণ হলো ভাসানচরে কোনো বিলাসবহুল হোটেল সুবিধা নেই। দাতা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কুতুপালংয়ে থাকলে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারের নামীদামী হোটেলে তারা থাকতে পারেন। দায়িত্ব পালন শেষে সেখান থেকে বিকাল ৩টায় কক্সবাজারে চলে এসে বাকি সময় তারা আড্ডা এবং ঘুমিয়ে কাটাতে পারেন।’ রাজধানীতে নিজের বাসবভনে থেকে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা ভাসানচরে নিলে রাখাইনে তারা যে ধরনের কাজ করত, সে ধরনের কাজ করতে পারবে। সেখানে তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজ করা এবং গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি লালন-পালনের মতো অর্থনৈতিক কাজ করতে পারবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভাসানচরে প্রচুর খোলামেলা ও সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ আছে।’ কিন্তু কেন যে দাতা সংস্থাগুলো এ নিয়ে অসন্তুষ্ট তা বুঝতে পারছেন না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একটা সমস্যা আছে, তা হলো যাওয়া-আসায় সমস্যা। সেখানে যেতে এখন সমুদ্রপথে ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে। আমরা বোট সার্ভিস চালু করব। তাদের তো কোনো আর্থিক সমস্যা নেই। চাইলে তারাও তো এ সার্ভিস চালু করতে পারে। তারা এ সার্ভিস চালু করছেন না কেন?’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এখন যেখানে আছে তা নিয়ে আমাদের সবসময়ই চিন্তায় থাকতে হয়। সেখানে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা থাকে। এতে রোহিঙ্গাদের মারা পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো রোহিঙ্গা মারা গেলেও দোষ আমাদের ওপর আসবে।’ তিনি বলেন, ‘আন্দামান ও ভারত মহাসাগরে কোনো সমস্যা হলেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশের দিতে তাকিয়ে থাকে। ভাবখানা এমন যে আমরা যেহেতু আগের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি তাই তাদেরও যেন ঠাঁই দেই।’ ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছি যে আর পারব না। আমাদের আর কোনো জায়গা নেই। অন্য দেশগুলোরও দায়িত্ব আছে। রোহিঙ্গা শুধু আমাদের একারই সমস্যা না, এটা সারাবিশ্বের সমস্যা। সমুদ্র তীরবর্তী অন্য দেশগুলো তাদের নিতে পারে। কিংবা যারা আমাদের আদেশ-উপদেশ দেন তারাও নিতে পারেন। তাদের জায়গার কোনো অভাব নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মাথাপিছু বার্ষিক আয় হলো ২,০০০ ডলার এবং প্রতি বর্গমাইলে ১,২০০ লোক বসবাস করে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক আয় হলো ৫৬ হাজার ডলার এবং সেখানে প্রতি বর্গমাইলে বাস করে মাত্র ১৫ জন। তারা তাদের (রোহিঙ্গা) নিচ্ছেন না কেন? রোহিঙ্গাদের ভালো জীবন দিতে চাইলে আপনারা তাদের নিয়ে যান। রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

ভাসানচরের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাদের আরেকটা অভিযোগ, খাবার-দাবার দিতে গেলে জাহাজে করে নিতে হবে। এতে তাদের খরচ বেশি হবে। তবে, আমি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফও) প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি বলেছেন খরচটা তত বেশি না।’ সূত্রঃ দি ডেইলি নিউজ / ইউএনবি

চীন ছাড়ছে সনি–টয়োটারা, ডাকছে বাংলাদেশ

চীন ছাড়ছে সনি–টয়োটারা, ডাকছে বাংলাদেশ

রাজীব আহমেদ, ঢাকা

জাপানের সনি করপোরেশনকে কে না চেনে। ক্যামেরা, টেলিভিশন, মুঠোফোনসহ বহু ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি করে সনি বিশ্বজুড়ে ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছে।

সনি এখন তাদের ক্যামেরা, প্রজেক্টর ও ভিডিও গেম খেলার প্লে স্টেশন তৈরির কারখানা চীন থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে নিতে চায়। শুধু সনি নয়, চীন থেকে তল্পিতল্পা গোটাতে আগ্রহী জাপানের গাড়ি উৎপাদনকারী টয়োটার যন্ত্রাংশ তৈরির কোম্পানি টয়োটা বশোকু করপোরেশন, ইলেকট্রনিক জায়ান্ট শার্প ও প্যানাসনিক, ঘড়ি উৎপাদনকারী সিকো ও ক্যাসিওর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। জাপান চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিতে ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা) একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব জাপানি কোম্পানি চীন ছাড়বে, তাদের সহায়তা দেওয়া হবে এই তহবিল থেকে। ৩৪টি জাপানি কোম্পানি ইতিমধ্যে কারখানা সরিয়ে চীন থেকে অন্য দেশে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে খবর এসেছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে।

২০০৮ সালের পর থেকেই বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো চীনের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য কেনার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল। নানা কারণে উৎস বৈচিত্র্যকরণ খুব একটা হয়নি। কিন্তু মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ যখন শুরু হলো, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়ে চীন ছাড়ার তোড়জোড় বাড়ে। এবার করোনাভাইরাস দুর্যোগে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণেই চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে জাপানিরা। আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন তো অনেকটা চাপ প্রয়োগ করছে।

জাপানিরা কেন চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের পামির কনসাল্টিং এলএলসি নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্সি এ কুয়োর একটি লেখায়। ৫ মে ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এ লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, অনেক জাপানি কোম্পানিকে বিশ্বব্যাপী ও জাপানে জরুরি ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহে পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভর করতে হয়। করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কী সংকট তৈরি করতে পারে। মার্সি এ কুয়ো বলেন, ‘জাপানকে সেসব পণ্যের উৎস দেশে বৈচিত্র্য আনতেই হবে, যা তার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এটি চীনের জন্য উদ্বেগের। কারণ, জাপানের উদ্যোগ অন্য বিনিয়োগকারীদের বিচলিত করে তুলবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানিগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে মরিয়া। মার্কিন প্রশাসনও এ ক্ষেত্রে সক্রিয়। যেমন ১৬ মে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সির এক খবরে বলা হয়, ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। এরপরই ইন্দোনেশিয়া জাভায় চার হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করা শুরু করেছে। চীনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ উৎপাদকদের বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়ায় কারখানা সরিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, করোনাভাইরাস–পরবর্তীকালে চীন আর বিশ্বের কারখানা থাকছে না। বড়রা উৎপাদন সক্ষমতার একটা অংশ চীনে রেখে বাকিটা অন্য দেশে সরিয়ে নেবে। করোনার প্রাদুর্ভাব যখন চীনের মধ্যে ছিল, তখন (১ মার্চ) বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’ এক প্রতিবেদনে বলেছিল, চীনের জন্য করোনাভাইরাস একটি ‘সোয়ান সং’। সোয়ান সং মানে হলো, একজন শিল্পীর পেশাজীবনের শেষ পরিবেশনা। ‘ফোর্বস’-এর প্রতিবেদকের মতে, চীন আর সস্তা থাকছে না। ট্রাম্প যদি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে, সেটা ভাবতে বাধ্য হবে কোম্পানিগুলো। ওই প্রতিবেদনে বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রিটন উডস রিসার্চের প্রধান ভ্লাদিমির সিগনোরেল্লির একটি মন্তব্য ছাপা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার মডেলটি এ সপ্তাহেই মারা গেছে।’ জাপানের নিক্কি এশিয়ান রিভিউ গত ১৬ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে জানায়, জাপানের নেতৃত্বে চীন থেকে বিনিয়োগকারীদের যে ‘এক্সোডাস’ (সম্মিলিত প্রস্থান) শুরু হয়েছে, তাতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের জন্য আগ্রহের বিষয় হলো এই কারখানাগুলোর গন্তব্য কোথায়। কিছু কিছু কি বাংলাদেশে আনা যাবে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম আশা করছেন, কারখানা স্থানান্তরের সুফল বাংলাদেশ পাবে। ১২ মে এফবিসিসিআই জেট্রোর ঢাকা কার্যালয়কে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাপান বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার যে কৌশল নিয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ খুবই আগ্রহী। এফবিসিসিআই চায়, জাপান কারখানা সরিয়ে বাংলাদেশে আনুক। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা আগ্রহী। সংগঠনটি একই ধরনের চিঠি দিয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (সিএসিসিআই)। জানতে চাইলে শেখ ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ কম। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, পানির মতো পরিষেবার মূল্য কম। আর এসব বিষয় মিলিয়ে বাংলাদেশ অবশ্যই বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় জায়গা। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, সর ধরনের সহযোগিতা করব। তাদের কী দরকার, সেটা আমাদের জানাক।’ কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব জাপানি কোম্পানি চীন থেকে সম্মিলিত প্রস্থানে শামিল হয়েছে, তাদের বড় অংশ টিকিট কেটেছে হ্যানয়ে (ভিয়েতনামের রাজধানী)। জাপানের বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নমুরা হোল্ডিংসের এক জরিপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে ফক্স নিউজ জানায়, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৭৯টি কোম্পানি চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি ভিয়েতনামে, ১১টি তাইওয়ানে, ৮টি থাইল্যান্ডে, ৬টি মেক্সিকোতে ও ৩টি ভারতে গেছে। বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে করোনা-পরবর্তী সময়ে ১৬টি জাপানি কোম্পানির চীন ছাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এসব কারখানার একটির গন্তব্যও বাংলাদেশ নয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী মাজদা মোটরস যেতে চায় মেক্সিকোতে। হোন্ডার সরবরাহকারী কাসাই কোগিও যেতে চায় উত্তর আমেরিকা অথবা ইউরোপে। প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ার যন্ত্র উৎপাদনকারী রিকো করপোরেশন যেতে চায় থাইল্যান্ডে। শার্প যেতে চায় ভিয়েতনাম অথবা তাইওয়ানে। সিকো ও ক্যাসিও থাইল্যান্ডে যেতে চায়, অথবা জাপানেই ফিরতে চায়। টয়োটা তাদের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা জাপান অথবা থাইল্যান্ডে নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ জাপানিদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, যার ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এটি উন্নয়ন করছে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন। এটি ২০২১ সালে কারখানা করার উপযোগী হবে বলে জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আরও ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুততর করা হচ্ছে। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ২ হাজার একর জমি তৈরি রাখা হচ্ছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সহায়তায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এক দরজায় সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করেছে বেজা। যদিও তাতে বেশ কিছু সেবা যুক্ত করা এখনো বাকি। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী মনে করেন, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে আসবে। এ জন্য করোনা-পরবর্তী বিদেশি বিনিয়োগ ও স্থানান্তরিত কারখানাকে বাংলাদেশে আনতে তাঁরা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে বড় বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম নীতির ধারাবাহিকতা ও ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ দরকার।’ বাংলাদেশে এখন জাপানি কোম্পানির সংখ্যা ২৭০-এর মতো। বিগত কয়েক বছরে হোন্ডা মোটর করপোরেশন, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল, নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটাল, মিতসুবিশি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই জাপানি কোম্পানিগুলোর সমস্যা সমাধান হতে দেরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার নীতির হঠাৎ পরিবর্তনও জাপানিদের বিপাকে ফেলে। জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) মহাসচিব তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মরত জাপানি কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখে রয়েছে, সেগুলো সমাধান করলে তারাই বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করবে।’ তিনি আরও তিনটি পরামর্শ দেন। প্রথমত, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ দ্রুত শেষ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। তৃতীয়ত, ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি। বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসাসূচক বা ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ৭০, থাইল্যান্ড ২১ ও ইন্দোনেশিয়া ৭৩তম। ঢাকায় বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘হতে পারে ১৫ বছরে যে বিনিয়োগ পাওয়ার কথা, সেটা আমরা ৪ বছরে পাব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।’

ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

টিবিএস রিপোর্ট
13 May, 2020

কাল ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন...

কাল ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

টিবিএস ডেস্ক
13 May, 2020
সারা দেশে কোরোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন নির্দেশ

নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন নির্দেশ

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এমন রোগীদের নন কোভিড রোগী বলা হয়ে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সকল হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদেরও চিকিৎসা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩টি জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে: ১. সকল বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিকসমূহে সন্দেহভাজন কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২. চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জরুরি চিকিৎসার জন্য আগত কোন রোগীকে ফেরত দেওয়া যাবে না। রেফার করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘কোভিড হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের’ সাথে যোগাযোগ করে রোগীর চিকিৎসার বিষয়টি সুনিশ্চিত করে রেফার করতে হবে। ৩. দীর্ঘদিন ধরে যেসকল রোগী কিডনি ডায়ালিসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করছেন তারা কোভিড আক্রান্ত না হয়ে থাকলে-তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে উল্লিখিত নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধান অনুসারে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঁচ লাখ টাকার রেমিট্যান্সে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনা

পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জরি করেছে।

প্রসঙ্গত, আগে ১৫০০ মার্কিন ডলার বা  দেড় লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া, প্রণোদনা পেতে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা ছিল।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠনো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ  পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্রাদি ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও  বলেছে, নগদ সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার অধিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে, কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

টিবিএস ডেস্ক
09 May, 2020,
শনিবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৭৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে জনবহুল এ রাজধানী।

করোনাকালে তথ্য আড়ালের এই প্রাণান্ত চেষ্টা কেন?

মতামত

করোনাকালে তথ্য আড়ালের এই প্রাণান্ত চেষ্টা কেন?

কামাল আহমেদ | প্রথম আলো ০৯ মে ২০২০ মহামারির সঙ্গে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা চলে না। বিশেষ করে, যে মহামারিতে শত্রু অদৃশ্য, রোগটা অতিছোঁয়াচে এবং ‍মৃত্যুঝুঁকি হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আমাদের আইনে মহামারির সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকির তথ্য গোপন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে আইনে সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো পার্থক্যও করা হয়নি। অথচ এখন সেই তথ্য আড়ালের প্রাণান্তকর চেষ্টারই প্রতিফলন ঘটছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যসংবলিত কোনো পোস্ট দেওয়া ও সে ধরনের পোস্টে লাইক বা শেয়ার করা থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরত থাকার এক নোটিশ জারি করা হয়েছে ৭ মে। কেউ তা না মানলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নোটিশ জারি করা হলো এমন দিনে, যে দিনে ফেসবুকে সরকার অথবা কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা তাদের কাজের সমালোচনা এবং ভিন্নমত প্রকাশের দায়ে এক দিনে ঢাকায় ১১ জন এবং অন্যান্য জায়গায় আরও অন্তত ৪ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনে মামলার বিষয়টি শহরে সবার মধ্যে আলোচিত হচ্ছিল। এসব আলোচনা বেশির ভাগই সামাজিক মাধ্যমে, কিছুটা টেলিফোনে আর কিছুটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মামলা দেওয়ার আগে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া লেখক, কার্টুনিস্ট, ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনকে সাদা পোশাকের লোকজন বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে গুমের আতঙ্কও দেখা দেয়। যদিও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। টেলিভিশনের কথিত ব্রেকিং নিউজের স্ক্রলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদভিত্তিক অনলাইন পোর্টালগুলোতেও এই হুঁশিয়ারির কথা প্রচার হতে থাকে। কিন্তু হুঁশিয়ারিটি যে শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটা অনেকেরই নজর এড়িয়ে যায়। হয়তো উদ্দেশ্যটাই এমন ছিল। লকডাউনে থাকা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত যখন করোনার চিকিৎসার অব্যবস্থা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বেহাল এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতায় ভুগছেন, তখন ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা-নিন্দা-প্রতিবাদ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। সুতরাং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের হুঁশিয়ারি মোক্ষম বলে বিবেচিত হয়ে থাকতে পারে। তা না হলে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এ রকম নির্দেশনা জারি করতে হবে কেন? সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধিতে অনেক ধরনের বিধিনিষেধ আছে। তাঁরা সাধারণত সরকারবিরোধী মতামত এড়িয়ে চলেন। তা ছাড়া ফেসবুক ব্যবহারের বিষয়ে ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিল। পরে তা আবার হালনাগাদও করা হয়েছে। তবে যথারীতি সরকারের বাইরেও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে তাঁদের অনেকে নানা সময়ে মন্তব্য করলেও কখনো কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে শুনিনি। সরকারবিরোধী কোনো মতামত তাঁরা কখনো করেছেন, এমনটি চোখে পড়েনি। বিরল এ রকম কিছু হলে, তা এত ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার কথা যে সে ধরনের কিছু গণমাধ্যমের চোখের আড়ালে থাকত না। তাহলে হঠাৎ কেন সরকার আবারও এই হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করানো জরুরি মনে করল? এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি। গণ-সমালেচনা বন্ধের জন্য জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এটি বেশ কার্যকর হতে পারে। অন্য আর যে সম্ভাবনাগুলো থাকে, তা হচ্ছে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করা, যাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিবিধির কড়াকড়ি প্রয়োগ তেমন একটা ছিল না। বিশেষত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অনুসারী চিকিৎসকেরা রাজনৈতিক কর্মীর মতো আচার-আচরণ করলেও অতীতে তা কখনোই শৃঙ্খলাবিধির ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়নি। কিন্তু ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে যে অবিশ্বাস্য কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার খেসারত যেহেতু চিকিৎসকদের জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে, সে কারণে তাঁদের ক্ষোভের বিষয়টি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে যথাযথ সরকারি বিধি মেনে যাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের পরিণতি কী ঘটেছে, তা আমরা সবাই জানি। অথচ দেশের প্রচলিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ সুরক্ষা প্রদান আইন ২০১১ অনুসারে তাঁদের সুরক্ষা পাওয়ার কথা। অতএব এই হুঁশিয়ারি চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বন্ধের চেষ্টায় হয়ে থাকতে পারে। তা ছাড়া রোগের বিস্তৃতি বাড়তে থাকা এবং হাসপাতালগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সরকার তাঁদেরও সাবধান করতে চাইছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। বলে রাখা ভালো, আগেকার নির্দেশনাগুলো থেকে নতুন পরিপত্রের একটা পার্থক্য আছে। তা হলো এবারই আলাদা করে কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্যের কথা বলা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তির আইনগত সংজ্ঞা কী বা কোন আইনে আছে, তার কোনো উল্লেখ পরিপত্রে নেই। দেশে খুব গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তি বা ভিআইপি এবং ভিভিআইপিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কারা ভিআইপি, তা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আর প্রচলিত ভিআইপিমাত্রই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তি হবেন, বিষয়টি এমন হওয়ার কথা নয়। অন্যান্য নির্দেশনার মধ্যে জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো লেখা, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না বলেও এতে বলা হয়েছে। পরিপত্রের এই নির্দেশনাতেই সরকারের আসল উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হলে, তা নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না। সরকারি চাকরিবিধির বাইরে আলাদা করে এ ধরনের নির্দেশনা স্বাভাবিক সময়ে জারি করা হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এখন মহামারির অস্বাভাবিক সময়ে তাই এমন নির্দেশনা জারিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা যাচ্ছে না। সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮‘য় বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, এমন তথ্য গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই আইনের ২৪-এর ১ উপধারায় বলা হচ্ছে: যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনেই এই অপরাধের তদন্ত ও বিচার হওয়ার কথা বলা আছে আইনে। খুনের অপরাধে যেমন সরকারি কর্মকর্তা আর সাধারণ নাগরিককে আলাদা করা দেখা হয় না, এ ক্ষেত্রেও তেমনই হওয়ার কথা। সুতরাং চিকিৎসক, নার্স, আয়া, শুচিকর্মী কিংবা প্রশাসক—সবারই সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব আছে। জনস্বাস্থ্যের তথ্য শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তাকেই জানানোর বিষয় নয়, ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে জানানোর বিষয়। আর সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিম্নমানের পিপিই, মাস্ক কিংবা অন্য যেকোনো সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে সহকর্মী, পরিবার ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সজাগ করার মতো তথ্য ও মতামত প্রকাশ নিষিদ্ধ হবে কেন? আবার এই আইনেই আরেকটি ধারা, ২৬ (১) বলছে: যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত যে ধরনের লুকোচুরিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন, তাতে প্রশ্ন তোলাই যায়, তাঁরা আইন লঙ্ঘন করছেন কি না? কামাল আহমেদ: সাংবাদিক

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোরতিনি কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ না হওয়া অবধি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকছেন বলে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সালমান খান ইয়াসিন জানিয়েছেন।  আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, উগ্রবাদী কিছু সংগঠন আর ফেসবুক ইউজার কারও কারও নেগেটিভ কমেন্টে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমাদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া কাজের এত চাপও তিনি সামলাতে পারছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে কাজ করবেন। তারপর তিনি হঠাৎ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও আমরা তার রিজাইন লেটার অ্যাকসেপ্ট করি নাই। কভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তিনি চেয়ারম্যানের পদে বহাল থাকছেন। সালমান আরো বলেন, কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলে যোগ্য কাউকে না পেলে পদটি শূন্য থাকবে। সূত্রঃ কালের কন্ঠ [caption id="attachment_23977" align="aligncenter" width="414"] বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশের স্ট্যাটাস[/caption]

“আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন”

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ছাড়লেন কেন? কিশোর কুমারের উত্তর, ‘আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে প্রিয় কি- আমি বলবো বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। কিন্তু কখনো কখনো মানুষের স্বার্থে, ভালোবাসার স্বার্থে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। আমিও তাই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাচ্ছি। তবে আমি বিদ্যানন্দে আছি। থাকবো।’ গতকাল মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন কিশোর কুমার দাস। বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল তার সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরেই কিশোর কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট্ট দেশ পেরুতে বাস করছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে গতকাল দুপরে এই সাক্ষাতকার দেন। সেই আলাপে উঠে আসে এই সংগঠনের শুরু থেকে নানা উদ্যোগের কথা। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার কারণও বলেন। [caption id="attachment_23984" align="alignnone" width="300"] কিশোর কুমার দাস[/caption] চট্টগ্রামের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক শেষ করা কিশোর বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ পদে চাকুরী করতেন। যেটি থার্ড পার্টি হিসেবে গুগলের কাজ করতো। তবে ওই চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে তিনি উদ্যোক্তা। বিদেশে থেকেই সংগঠনটির কাজে যুক্ত আছেন। কিশোরের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা দিতে ২০১৩ সালে গড়ে তুলেছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এখন সারাদেশে বিদ্যানন্দের ১২টি শাখার মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি পথশিশু মৌলিক শিক্ষা ও খাবার পায়। এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক, শিক্ষা উপকরণ, মাসিক বৃত্তি প্রদান করে থাকে এবং সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে। বিদ্যানন্দের এক টাকায় আহার, এক টাকায় চিকিৎসা, এক টাকায় আইন সেবা কার্যক্রমগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। গরীব ও অসহায় কিন্তু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা আছে। আছে বাংলাদেশের রামু ও রাজবাড়ীতে নিজস্ব জমিতে দুইটি আলাদা এতিমখানা। বিদ্যানন্দ অনাথালয়ে এতিমদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শাখায় বিনামূল্যে গ্রন্থাগার সুবিধা রয়েছে। এসব গ্রন্থাগারে আট হাজারের অধিক বইয়ের সংগ্রহ আছে। এই গ্রন্থাগার গুলো সকাল-সন্ধ্যা খোলা থাকে এবং যে কেউ সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে বই পড়তে পারেন। ৭১ টাকায় নারীদের জন্য আবাসিক হোটেলও করেছে বিদ্যানন্দ। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ঢাকার অলিগলিতে ছেয়ে যাওয়া পোস্টারগুলোকে সংগ্রহ করে শিক্ষা উপাদান বানানোর অভিনব কৌশল নেয় বিদ্যানন্দ। এতো কাজ করেও হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন কেন? কিশোর কুমার বললেন, ‘আমি কখনোই সংগঠনে নিজের পদটা আঁকড়ে ধরে রাখেতে চাইনি। আমি চেয়েছি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আমি বলেছিলাম বয়স ৪০ হয়ে গেলে আমি আর সংগঠনের চেয়ারম্যান থাকবো না। যদিও আমার এখনো ৪০ বছর বয়স হয়নি কিন্তু তরুণ নেতৃত্ব আসুক সেটাই চাইছি। তারা নতুন মেধা দিয়ে সংগঠন এগিয়ে নিক।’ শুধুই তরুণ নেতৃত্ব নাকি আর কোনো কারণ আছে? কিশোর কুমার বললেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত মানুষ একটি কারণে নেয় না। অনেকগুলো কারণ থাকে। আমারও আরও বেশ কিছু কারণ আছে।’ অভিযোগ উঠেছে, কিশোর কুমারের ধর্মীয় পরিচয় তুলে প্রায়শই বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজে তাকে গালিগালাজ করা হতো। বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজের ঘোষণায় বলা হয়, প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম। সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।’ এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানুষ পরিচয়ে বড় হয়ে উঠতে চেয়েছি। বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই ভাবে কারো নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামটি এসেছে। এজন্য আমরা নাম পরিবর্তন করতে চাইলেও স্বেচ্ছাসেবকরা রাজি হননি। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে নানাভাবে আমাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে গালিগালাজ করা হয়েছে। এর কোনো শেষ নেই। করোনা সংকট মোকাবিলায় আমরা যখন মার্চে কাজ শুরু করলাম, তখন এর মাত্রা আরও বাড়লো। কোনো কারণ ছাড়া কিছু মানুষ পেজে ধর্ম তুলে গালি দিচ্ছে, এটা আমাকে আহত করতো। এর ফলে মূল কাজটাও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, কিছু মানুষ দান করার সময়ও হিন্দু পরিচয়টাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করতো। এসব দেখে মনে হলো, আচ্ছা তাহলে আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাই। মানুষের গালিগালাজ বন্ধ হোক। সংগঠনটা এগিয়ে যাক। তবে একটা কথা বলতে চাই। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এতদূর আসা। কিছু মন্দ মানুষ অপপ্রচার করে, সেটা খুবই নগণ্য।’ বাবার সরকারি চাকরিসূত্রে কিশোর বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কিশোর তৃতীয়। নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম বলে অবহেলা, বঞ্চনা আর দারিদ্র্যের সংগ্রামে নিজেদের টিকিয়ে রাখাটাই তাদের কাছে দুঃসাধ্য ছিল। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে কিশোর বলেন, ‘২০১৩ সালে ছোট পরিসরে গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আমাদের বিদ্যানন্দের প্রথম কর্মসূচি ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা। নারায়ণগঞ্জের এক রেলস্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে বিদ্যানন্দের সব আর্থিক জোগান পেরু থেকে আমিই দিতাম। আর সব কার্যক্রম স্বেচ্ছাসেবকরা পরিচালনা করত। পরে সবার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজারসহ আরও ১২টি এলাকায় যাই।’ ২০১৬ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও ষাটোর্ধ কর্মহীন মানুষদের জন্য ‘এক টাকায় আহার’ নামে প্রকল্প চালু করে বিদ্যানন্দ। কিশোর জানালেন, এর আওতায় গত চার বছরে ৪২ লাখ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। এক টাকায় খাবার বিক্রি করার কারণ হিসেবে বললেন, ‘যারা এই খাবার গ্রহণ করছেন তারা যেন খাবারটিকে দান ভেবে নিজেদের ছোট মনে না করেন, সেজন্যই এক টাকা।’ একই ভাবে ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ নামে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে এ সংগঠন। কোভিড-১৯ যখন সারাদেশে আতঙ্ক নিয়ে এলো তখন যেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠে বিদ্যানন্দ। গনপ‌রিবহ‌ন জীবাণুমুক্ত করল, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের জন্য আহার, চল‌তি প‌থে প‌থি‌কের ক্ষুধা নিবারণ, শহ‌রের রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটা‌নো কিংবা রাস্তার অসহায় প্রাণীকে খাও‌য়ানো থেকে শুরু করে নানা কাজে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবকরা। করোনা সংকট মোকাবিলায় এত বিপুল কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাথায় কীভাবে এলো? কিশোর কুমার বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকায় করোনায় কি হতে পারে সেটা বুঝতে পারছিলাম। তাই মার্চেই প্রস্তুতি নেই। শুরুতে বিদ্যানন্দের বাসন্তী গার্মেন্টসে বানানো মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে জীবাণুনাশক ছিটানো শুরু করি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় নয় হাজার লিটার জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছি। এটি বাংলাদেশে জীবাণুনাশক ছিটানোর সবচেয়ে বড় কার্যক্রমগুলোর একটি। এরপর দেখলাম দরিদ্র মানুষের খাবার কষ্ট। আমরা এক লাখ ৮৬ হাজার পরিবারকে এখন পর্যন্ত সাত থেকে দশ দিনের খাবার দিয়েছি। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্নস্থানে ২০ হাজার মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। আরও অনেক কাজ আছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেকোনো ভাবে মানুষের পাশে থাকতে। আমরা মনে করেছি করোনা সংকট মোকাবিলা করা শুধু সরকারের একার কাজ নয়। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিকে মিলেই কাজটি করতে হবে।’ স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা কি আপনার এই পদত্যাগ মেনে নেবে? কিশোর বলেন, ‘আমি জানি না স্বেচ্ছাসেবকরা কেনো আমাকে এতো ভালোবাসে। বিদ্যানন্দকে আজ এই জায়গায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব পুরোটাই তাদের। আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকরাই কোনো না কোনো পেশায় নিয়োজিত; কেউ চাকরিজীবী কিংবা কেউ শিক্ষার্থী। সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন। আমাদের কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়েছে। যেটা দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ সম্মিলিতভাবে বহন করছেন। মানুষ আমাদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। আর বারবার বলতে চাই, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই আমাদের শক্তি। তবে আমি কিন্তু মার্চ মাসেই তাদের বলেছি, আমি চেয়ারম্যান থাকবো না। তবে আমি তো আছি। সবার সঙ্গেই আছি।’ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব কীভাবে রাখা হয় জানতে চাইলে কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের সব টাকার স্বচ্ছ হিসাব রাখা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে এমন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়েও আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়।’ সবাই অনুরোধ করলে চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তটা পুনর্বিবেচনা করবেন কি না জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টো পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচয়ে কখনোই গড়ে তুলতে চাইনি। অনেকেই আমার গল্প নানাভাবে তুলে ধরে। বিষয়গুলো আমি এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। আর পদে কি যায় আসে? আগে চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন নিচের দিকের পদে থাকবো। সাংগঠনিক সম্পাদক। কারণ আমি আসলে গোছানোর কাজটা করতে পারি। কাজেই সবাইকে নিয়ে সেই কাজটা করবো। আর পদে কিছু যায় আসে না। চেয়ারম্যান না থাকলেও কিছু যায় আসে না। সমালোচকরা বলবে, বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু আমি আসলেই মন থেকে বিশ্বাস করে কথাগুলো বলছি। বিদ্যানন্দ কারো একার নয়, এটা আমাদের সবার। এটা ধর্ম-বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের। এই সংগঠনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ করতে রাজি আছি। আবারও বলছি আমি বিদ্যানন্দ ছাড়ছি না, পরিচালনা পর্ষদেই থাকছি। শুধু দায়িত্ব পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি।’ সূত্রঃ দি ডেইলি ষ্টার কিশোর কুমার দাশ চুয়েট থেকে ২০০১ ব্যাচে পাস করা কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি বাংলাদেশে প্রথম গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর ব্যবস্থা করেন।  তিনিই প্রথম এক টাকায় আহার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশু ও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে। এক টাকা চিকিৎসা প্রজেক্টের আওতা এই পর্যন্ত ২৫,০০০ এর বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রেস্ক্রিপশনের পাশাপাশি তিন দিনের ওষুধ পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের। এক গ্লাস দুধ প্রজেক্টের আওতায় বস্তির গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনাথালয় গুলোর যাত্রা শুরু। প্রায় তিন শতাধিক এতিম এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে চারটি অনাথালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরো দুটো অনাথালয়ের কাজ চলছে। আনন্দের সাথে শিক্ষালাভের মন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বর্তমানে স্কুল আছে ৬ টি। বাসন্তী নামে একটি গার্মেন্টসে তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। এছাড়া এক বছরে অনাথালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে বানানো হয়েছে নতুন কাপড়। পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড চালু করা হয়েছে বস্তির দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশু কিশোরীদের জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ২৬ হাজার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। এই খাবার স্বেচ্ছাসেবিদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যা মানুষের কাছে পৌছে দেন। সবকিছু সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্ত কিশোর কুমার দাসের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই। সততা ও স্বচ্ছতা রেখে এ সব কাজ করার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’কে। ২০১৩ সালের আগস্টে বিদ্যানন্দ নিয়ে বোন শিপ্রা দাশের সঙ্গে কথা হয়। এরপর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে বোন শিপ্রা দাশ এই ভাবনায় গতি আনেন। আর ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যানন্দের নারায়ণগঞ্জ শাখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিদ্যানন্দের চট্টগ্রাম শাখা কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের মার্চ। সবশেষে ২০১৪ সালের জুলাইতে বিদ্যানন্দের মিরপুর শাখা খোলা হয়। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার আর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক শিপ্রা দুই ভাইবোন ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঢেলে দেন এই স্কুলের জন্য। https://www.bidyanondo.org/

একনজরে বিদ্যানন্দঃ

পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’

হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী কর্মসূচি। বাজারভিত্তিক অর্থনীতির রূঢ় থাবায় মানবিক বন্ধন যখন শুকিয়ে যায়, এই অন্তর্গত চেতনা তখন মানুষকে ভালোবাসায় আপ্লুত করে। এরই মধ্যে এই কর্মসূচি দেশের সীমানা পেরিয়ে পেরোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই মানবপ্রেমের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কালের কন্ঠ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’
দারিদ্র্যজয়ী কিশোর দরিদ্রদের পাশে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা কিশোর কুমার দাস একটা সময় নিজেই ছিলেন মন্দিরের সামনে ক্ষুধার্তের লাইনে। চুয়েট থেকে পাস করে প্রথমে বিডিকম ও পরে এয়ারটেলে। এর পর ২০১১ সালে পেরুতে। প্রথমে ওএলও এবং পরে গুগলে। সর্বশেষ পেরুস্থ জিগজাগ হোস্টেলের উদ্যোক্তা। বেঁচে থাকার আত্মিক আনন্দের উৎস হিসেবে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ২২ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু করেন বিদ্যানন্দ। সেখানে শিশুদের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও জানা গেল, ক্ষুধার কারণে তারা ঠিকমতো পড়তে আসে না। ফলে ১৫ মে ২০১৬ থেকে শুরু হয় ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এর পর শুধু এগিয়ে যাওয়া। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজবাড়ী, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে বিদ্যানন্দের নানামুখী কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যানন্দের আদলে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতেও গড়ে তুলেছেন ‘এটুজেড’ নামের প্রতিষ্ঠান। খাবার হাতে পথশিশুদের উল্লাস এক টাকায় আহার কর্মসূচিগ্রহীতাদের ভেতর ‘ভিক্ষা’ ও বণ্টনকারীদের মধ্যে ‘দান’ শব্দটি মুছে ফেলার চিন্তা থেকেই ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পেয়ে থাকে ১২ বছরের নিচের সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের হতদরিদ্র বৃদ্ধ। রুটিনমাফিক ঢাকাসহ আটটি জেলায় খাবার বিতরণ করা হয়। খাবারের মেন্যুতে অধিকাংশ সময় ডিম-ভাত বা সবজি-ভাত থাকলেও মাঝেমধ্যে মাংস-পোলাওয়ের মতো ভালো খাবারও জোটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভাগ্যে। গত রমজানে এক লাখ ৩০ হাজার দুঃস্থজনের মধ্যে সাহরি ও ইফতারের আয়োজন করেছিল বিদ্যানন্দ। শুরুর পর কখনোই বন্ধ হয়নি এই কর্মসূচি। অনন্য শিক্ষা কার্যক্রম ‘পড়ব, খেলব, শিখব’ এই স্লোগানে সুবিধাবঞ্চিতদের পড়ানো হয় এখানে। শুধু সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য নয়, সর্বস্তরের পাঠকের জন্য রয়েছে পাঠাগার, যা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় সদস্য না হয়েও। বিনা মূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ। মাসে একদিন বড় পর্দায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হয়। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। এরই মধ্যে এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যানন্দ ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ কার্যক্রম চালু করেছে। এর আওতায় বেদেপল্লী, হরিজনপল্লী, বিহারিপল্লীসহ বেশ কিছু সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনা মূল্যে কিছু ওষুধও দেওয়া হয়। এতিম শিশুর রাজ্য সম্প্রীতি অনাথালয় কক্সবাজার জেলার রামুতে আদিবাসী অনাথদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্প্রীতি অনাথালয়। এক স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের দান করা ১৫০ শতক জমির ওপর এটি গড়ে উঠেছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। নিজের রুটি নিজেকেই বানাতে হয়, নিজেদের সবজি চাষ করতে হয়, এমনকি চুলও কাটতে হয় একে অপরের। এভাবেই এখানকার শিশুদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অনাথালয় না বলে একে আবাসন বললেই বোধ করি অধিকতর যৌক্তিক হবে। শুকনো খাবার হাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনাথ শিশু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন আট হাজার মানুষকে শুকনো খাবার ও তিন হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক শিশুকে দেওয়া হচ্ছে তরল দুধ এবং শতাধিক মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা। স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ এসেছেন কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে, আবার কেউ পড়াশোনার অবসরে। কেউ রাত জেগে সবজি কাটেন, কেউ রাঁধেন, আবার কেউ সহকারী। কিশোরের মুখোমুখি ‘এক টাকায় আহার’ মূলত একটি অনুপ্রেরণার নাম। অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোর এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আবার কিশোরের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো বড় পরিসরে হয়তো শুরু করবেন অন্য কোনো মহত্প্রাণ। কিশোরের ভাষায়, ‘বিদ্যানন্দ’ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি লাইফস্টাইল। সমাজের ভেতর বসবাসকারী সন্ন্যাসীদের জীবনকেই বলে ‘বিদ্যানন্দ’। একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন কিশোর। যেখানে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্য থেকে তুলনামূলক মেধাবীদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অনুদানের উৎস ও স্বেচ্ছাসেবকদের কথা কিশোরের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও বর্তমানে অনুদান আসে বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে। কেউ নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন বাজেটের টাকা দেন। কেউ হয়তো ঈদ বোনাসের টাকা। কেউ টিউশনির জমানো টাকা নিয়ে অভুক্ত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়ান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোলট্রি ফার্মের মালিক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিদ্যানন্দের আহার কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় ডিমের সংস্থান করছেন। শুধু ব্যক্তিগত অর্থায়নেই নয়, স্বনামধন্য বহু প্রতিষ্ঠান অনুদান দিয়েছে, দিচ্ছে। পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন শিপ্রা দাস, নাফিজ চৌধুরী ও ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া রয়েছে ৭৫ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবক। বাজার করা থেকে শুরু করে রান্না, বিতরণ, তদারকি সবই ধৈর্য সহকারে তাঁরা দেখভাল করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ শুধু হৃদয়াবেগ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ডগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ করতে শুরু করেছে। বহুজাতিক কম্পানিতে কর্মরত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে হিসাবায়নের কাজ, যা সুখ্যাত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত হচ্ছে। আইনি সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্বনামধন্য ল ফার্ম। স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং তাঁদের নিজেদের খাবার উপযোগী করেই মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ড বিদ্যানন্দের লড়াইয়ের গল্প অফুরান। রয়েছে বৃত্তি প্রদান, কখনো বা গোবিন্দগঞ্জের অসহায় সাঁওতালদের পাশে, রাঙামাটিতে পাহাড়ধস বিপর্যয়ে, ফ্রেমে বাঁধা শৈশব কর্মসূচিতে, হাওরাঞ্চলে ঈদ উৎসব আয়োজনে, আবার কখনো বা ছিন্নমূল শিশুদের জন্মদিন পালনে। নিয়মিত ভিত্তিতে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এক টাকায় আইনি সহায়তা, এক টাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ছাড়া রয়েছে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর কার্যক্রম, বিনা মূল্যে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন সহায়িকা বিতরণ ও পথশিশুদের গোসল করানো। যেখানেই মনে হয় ভালোবাসা দেওয়া দরকার, সেখানেই বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীরা ছুটে যান আহার, শিক্ষা ও আনন্দ নিয়ে। এই ভালোবাসা শতধারায় প্রবাহিত হোক সেটাই কিশোরের ইচ্ছা।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.